অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর // মাইকেল মধুসূদন দত্ত // Abhishek Kobita Class 10 Question Answer

অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর // মাইকেল মধুসূদন দত্ত // Abhishek Kobita Class 10 Question Answer

অভিষেক কবিতা

প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, এই পোস্টটিতে আমি তোমাদের দেখিয়েছি পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) মাধ্যমিক / দশম শ্রেণীর বাংলা মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা অভিষেক কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষায় কমন পাওয়ার মতো প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন । আর হ্যাঁ, একটা কথা মনে রাখবে যে প্রশ্নগুলির পাশে বেশি স্টার মার্ক (*) সেই প্রশ্নগুলির খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সাজেশনের অন্তর্ভুক্ত । এতো সব প্রশ্নের উত্তর যদি তোমরা না পড়তে পারো , তবে স্টার মার্ক (*) প্রশ্ন উত্তরগুলি পড়লেই হবে । কিন্তু সবচেয়ে বেশি স্টার মার্ক (*) প্রশ্ন উত্তরগুলি আগে পড়বে ।

মার্ক – 1 ( MCQ )

১. ‘অভিষেক’ কবিতাটির কবি হলেন –

(ক) রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

(খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

(গ) নবীনচন্দ্র সেন

(ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

উত্তর – (ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

২. ‘অভিষেক’ কবিতাটি কোন মূল গ্রন্থ থেকে নেওয়া? –

(ক) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য

(খ) বীরাঙ্গনা কাব্য

(গ) মেঘনাদবধ কাব্য

(ঘ) ব্রজাঙ্গনা কাব্য ***

উত্তর – (গ) মেঘনাদবধ কাব্য

৩. ‘অভিষেক’ শীর্ষক কাব্যাংশটি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-র কোন সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে? –

(ক) প্রথম সর্গ

(খ) তৃতীয় সর্গ

(গ) নবম সর্গ

(ঘ) পঞ্চম সর্গ ****

উত্তর – (ক) প্রথম সর্গ

৪. ‘বীরেন্দ্রকেশরী’ কে? –

(ক) বীরবাহু

(খ) রামচন্দ্র

(গ) মেঘনাদ

(ঘ) রাবণ

উত্তর – (গ) মেঘনাদ

৫. “প্রণমিয়া ধাত্রীর চরণে।”-ধাত্রী কে? –

(ক) প্রভাষা

(খ) প্রমিলা

(গ) মন্দোদরী

(ঘ) লক্ষ্মীদেবী ***

উত্তর – (ক) প্রভাষা

৬. “গতি তব আজি/এ ভবনে?”- কোন ভবনের কথা বলা হয়েছে? –

(ক) অশোক কানন

(খ) রাবণের রাজসভা

(গ) ইন্দ্রজিতের প্রমোদ-উদ্যান

(ঘ) দেবী লক্ষ্মীর আলয়

উত্তর – (গ) ইন্দ্রজিতের প্রমোদ-উদ্যান

৭. “গতি তব আজি/এ ভবনে?” – এখানে ‘গতি’ শব্দের অর্থ কী ? –

(ক) গমন

(খ) আগমন

(গ) নির্গমন

(ঘ) স্মরণ

উত্তর – (খ) আগমন

৮. “কহ দাসে লঙ্কার কুশল।” – ‘দাস’বলে কে, কাকে অভিহিত করেছেন ? –

(ক) ইন্দ্রজিৎ নিজেকে

(খ) ইন্দ্রজিৎ লক্ষণকে

(গ) ইন্দ্রজিৎ বিভীষণকে

(ঘ) কাউকে নয়

উত্তর – (ক) ইন্দ্রজিৎ নিজেকে

৯. “শির:চুম্বি, ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা/উত্তরিলা;” -‘অম্বুরাশি-সুতা কে ? –

(ক) সীতাদেবী

(খ) লক্ষ্মীদেবী

(গ) প্রভাষাদেবী

(ঘ) চিত্রাঙ্গদা দেবী *****

উত্তর – (খ) লক্ষ্মীদেবী

১০. “শির: চুম্বি, ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা/উত্তরিলা;” -অম্বুরাশি সুতা কী জানালেন ? –

(ক) রাবণের মৃত্যুসংবাদ

(খ) বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ

(গ) রামচন্দ্রের মৃত্যুসংবাদ

(ঘ) রামচন্দ্রের পুনর্বার বেঁচে ওঠার কথা

উত্তর – (খ) বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ

১১. “তার শোকে মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি,”- কীসের শোক ? –

(ক) স্বর্ণলঙ্কা ভস্মীভূত

(খ) পুত্র বীরবাহু হত

(গ) মৃত্যুবাণ হৃত

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর – (খ) পুত্র বীরবাহু হত

১২. “সসৈন্যে সাজেন আজি যুঝিতে আপনি।”- কে সাজেন ? –

(ক) লঙ্কার রাজা রাবণ

(খ) ইন্দ্রজিৎ

(গ) বীরবাহু

(ঘ) তরণীসেন

উত্তর – (ক) লঙ্কার রাজা রাবণ

১৩. “সসৈন্যে সাজেন আজি যুঝিতে আপনি।” – ‘যুঝিতে’শব্দের অর্থ –

(ক) যোজনা করতে

(খ) যুদ্ধ করতে

(গ) ঘোষণা করতে

(ঘ) জিজ্ঞাসা করতে

উত্তর – (খ) যুদ্ধ করতে

১৪. “জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া;”- ‘মহাবাহু’ কে ? –

(ক) ইন্দ্রজিৎ

(খ) বীরবাহু

(গ) অর্জুন

(ঘ) কার্তিক ****

উত্তর – (ক) ইন্দ্রজিৎ

১৫. ইন্দ্রজিৎ কখন রঘুবরকে সংহার করেছিলেন ? –

(ক) দ্বিপ্রাহরিক রণে

(খ) প্রাতঃরণে

(গ) প্রকাশ্য রণে

(ঘ) নিশা-রণে

উত্তর – (ঘ) নিশা-রণে

১৬. “খণ্ড খণ্ড করিয়া কাটিনু…”- ইন্দ্রজিৎ কাকে খন্ড খন্ড করে কেটেছেন ? –

(ক) দেবরাজ ইন্দ্রকে

(খ) রামচন্দ্রকে

(গ) লক্ষ্মণকে

(ঘ) বৈরীদলকে

উত্তর – (ঘ) বৈরীদলকে

১৭. “এ অদ্ভুত বারতা,”- ‘অদ্ভুত বারতা’-টি কী ? –

(ক) লঙ্কেশ্বর রাবণ হত

(খ) প্রিয় ভাই বীরবাহু হত

(গ) খুল্লতাত বিভীষণ হত

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর – (খ) প্রিয় ভাই বীরবাহু হত

১৮. “রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী উত্তরিলা” – ‘রত্নাকর রত্নোত্তমা’ কে ? –

(ক) সীতা

(খ) প্রমীলা

(গ) সরমা

(ঘ) লক্ষ্মী ****

উত্তর – (ঘ) লক্ষ্মী

১৯. “তব শরে মরিয়া বাঁচিল।” – কে মরে বেঁচে উঠল ? –  

(ক) ভরত

(খ) রাম

(গ) কুম্ভকর্ণ

(ঘ) সুগ্রীব

উত্তর – (খ) রাম

২০. “যাও তুমি ত্বরা করি;” – কোথায় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে ? –

(ক) প্রমিলা-সকাশে

(খ) গহন কাননে

(গ) কালসমরে

(ঘ) পবন-পথে

উত্তর – (গ) কালসমরে

২১. “এ কালসমরে, রক্ষ: চূড়ামণি।”- রক্ষ: চূড়ামণি কে ? –

(ক) ইন্দ্রজিৎ

(খ) বীরবাহু

(গ) রাবণ

(ঘ) রামচন্দ্র ****

উত্তর – (ক) ইন্দ্রজিৎ

২২. “ফেলাইলা _________ দূরে;”- কী ফেলার কথা বলা হয়েছে ? –

(ক) পুষ্প মাল্য

(খ) কনক বলয়

(গ) তরবারি

(ঘ) ধনুর্বাণ

উত্তর – (খ) কনক বলয়

২৩. মেঘনাদের পদতলে পড়ে শোভা পেয়েছিল –

(ক) মুক্তাহার

(খ) স্বর্ণ মুকুট

(গ) স্বর্ণ বলয়

(ঘ) কুণ্ডল

উত্তর – (ঘ) কুণ্ডল

২৪. ‘দশাননাত্মজ’কে ? –

(ক) রাম

(খ) ইন্দ্রজিৎ

(গ) বিভীষণ

(ঘ) লক্ষ্মণ ****

উত্তর – (খ) ইন্দ্রজিৎ

২৫. ‘আন _________ত্বরা করি;’ – কী আনার কথা বলা হয়েছে ? –

(ক) তরবারি

(খ) ধনুর্বাণ

(গ) রথ

(ঘ) হস্তী

উত্তর – (গ) রথ

২৬. ‘হৈমবতীসুত’ হলেন –

(ক) কার্তিক

(খ) মেঘনাদ

(গ) লক্ষ্মণ

(ঘ) অর্জুন ****

উত্তর – (ক) কার্তিক

২৭. হৈমবতীসুত নাশ করেছিলেন –

(ক) বৃত্রাসুরকে

(খ) মহিষাসুরকে

(গ) শুম্ভ-নিশুম্ভকে

(ঘ) তারকাসুরকে

উত্তর – (ঘ) তারকাসুরকে

২৮. ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটী’কে ? –

(ক) কর্ণ

(খ) অর্জুন

(গ) দ্রোণ

(ঘ) ইন্দ্রজিৎ *****

উত্তর – (খ) অর্জুন

২৯. অর্জুন কী উদ্ধার করেছিলেন ?

(ক) গোধন

(খ) গুপ্তধন

(গ) বিরাটকন্যা

(ঘ) বিরাট রাজ্যকে

উত্তর – (ক) গোধন

৩০. বৃহন্নলারূপী কিরীটীর সঙ্গী কে ছিলেন ? –

(ক) পবন পুত্র

(খ) বিরাট পুত্র

(গ) রাবণ পুত্র

(ঘ) চিত্রাঙ্গদার পুত্র

উত্তর – (খ) বিরাট পুত্র

৩১. ‘সাজিলা শুর, শমীবৃক্ষমূলে।’ – ‘শূর’বলতে বোঝানো হয়েছে –

(ক) ইন্দ্রজিৎকে

(খ) রাবণকে

(গ) অর্জুনকে

(ঘ) কার্তিককে

উত্তর – (গ) অর্জুনকে

৩২. ইন্দ্রজিৎ যে রথে যুদ্ধে অগ্রসর হয়েছিলেন তার বর্ণ হল –

(ক) রক্তিম

(খ) হরিদ্রাভ

(গ) নীলাভঘ

(ঘ) মেঘবর্ণ

উত্তর – (ঘ) মেঘবর্ণ

৩৩. মেঘনাদের রথ যে বেগে যাচ্ছিল তা হল –

(ক) অশ্বের বেগে

(খ) হরিণের বেগে

(গ) সিংহের বেগে

(ঘ) চিতার বেগে

উত্তর – (ক) অশ্বের বেগে

৩৪. “হেন কালে প্রমীলা সুন্দরী…”- ‘হেনকাল’বলতে কোন্ সময়কে বোঝানো হয়েছে ? –

(ক) বীরবাহুর মৃত্যুকাল

(খ) রাবণের যুদ্ধসজ্জার কাল

(গ) লঙ্কার ধ্বংসের কাল

(ঘ) ইন্দ্রজিতের যুদ্ধযাত্রার কাল

উত্তর – (ঘ) ইন্দ্রজিতের যুদ্ধযাত্রার কাল

৩৫. ইন্দ্রজিতের স্ত্রীর নাম কী ? –

(ক) ইন্দিরা

(খ) সরমা

(গ) নিকষা

(ঘ) প্রমীলা *****

উত্তর – (ঘ) প্রমীলা

৩৬. “ত্যজ কিঙ্করীকে আজি?” – ‘কিঙ্করী’কাকে বলা হয়েছে ? – 

(ক) সীতাদেবীর চেরীবৃন্দকে

(খ) ইন্দ্রজিতের সখীবৃন্দকে

(গ) ইন্দ্রজিতের মাতাকে

(ঘ) ইন্দ্রজিতের স্ত্রীকে

উত্তর – (ঘ) ইন্দ্রজিতের স্ত্রীকে

৩৭. ইন্দ্রজিৎকে কে জয় করেছিলেন ? –

(ক) রামচন্দ্র

(খ) লক্ষ্মণ

(গ) প্রমীলা

(ঘ) প্রভাষা

উত্তর – (গ) প্রমীলা

৩৮. “ত্বরায় আমি আসিব ফিরিয়া”- বক্তা কে ? –

(ক) মেঘনাদ

(খ) কার্তিক

(গ) অর্জুন

(ঘ) রাবণ

উত্তর – (ক) মেঘনাদ

৩৯. “সমরে নাশি, তোমার কল্যাণে রাঘবে।” – এখানে ‘তোমার’পদটির মাধ্যমে যাঁকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনি হলেন –

(ক) রাবণ

(খ) প্রমীলা

(গ) প্রভাষা

(ঘ) ইন্দিরা

উত্তর – (খ) প্রমীলা

৪০. “বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখী।“ – বিধুমুখী কে ? –

(ক) হৈমবতী

(খ) লক্ষ্মীদেবী

(গ) প্রভাষা

(ঘ) প্রমীলা ****

উত্তর – (ঘ) প্রমীলা

৪১. ‘হৈমপাখা বিস্তারিয়া যেন’ – ‘হৈম পাখা’কী ? –

(ক) হিমের পাখা

(খ) হিমালয়ের পাখা

(গ) সোনার পাখা

(ঘ) হৈমবতীর পাখা

উত্তর – (গ) সোনার পাখা

৪২. “উড়িলা মৈনাক-শৈল, অম্বর উজলি।” -মৈনাক কে ?

(ক) মেনকার পুত্র

(খ) পার্বতীর পুত্র

(গ) মনুর পুত্র

(ঘ) মনসার পুত্র

উত্তর – (ক) মেনকার পুত্র

৪৩. টঙ্কারিলা ধনুঃ’ – টঙ্কার’ শব্দের অর্থ কী ? – 

(ক) বজ্রের গর্জন

(খ) মেঘের গর্জন

(গ) সমুদ্রের গর্জন

(ঘ) ধনুকের ছিলার শব্দ

উত্তর – (ঘ) ধনুকের ছিলার শব্দ

৪৪. “কাঁপিলা লঙ্কা, কাঁপিলা জলধি।”-কম্পনের কারণ কী ? –

(ক) রাবণের রণসজ্জা

(খ) প্রাকৃতিক বিপর্যয়

(গ) সুনামির উত্থান

(ঘ) ইন্দ্রজিতের ধনুকের টংকার

উত্তর – (ঘ) ইন্দ্রজিতের ধনুকের টংকার

৪৫. “উড়িছে কৌশিক-ধ্বজ;”- ‘কৌশিক-ধ্বজ’কথাটির অর্থ কী ? –

(ক) কুশ নামাঙ্কিত পতাকা

(খ) চক্র চিহ্নিত পতাকা

(গ) সাদা রঙের পতাকা

(ঘ) রেশমি কাপড়ের পতাকা

উত্তর – (ঘ) রেশমি কাপড়ের পতাকা

৪৬. ‘হেন কালে তথা/ দ্রুতগতি উতরিলা’- কার কথা বলা হয়েছে ? –

(ক) রাবণ

(খ) লক্ষ্মণ

(গ) মেঘনাদ

(ঘ) মাতঙ্গ

উত্তর – (গ) মেঘনাদ

৪৭. ‘নাদিলা কর্বুররদল’- ‘কর্বুর’শব্দের অর্থ কী ? –

(ক) সৈন্য

(খ) রাক্ষস

(গ) বানর

(ঘ) যোদ্ধা ****

উত্তর – (খ) রাক্ষস

৪৮. “নমি পুত্র পিতার চরণে,”- পিতা-পুত্র কে ? –

(ক) দুষ্মন্ত ও ভরত

(খ) শিব ও কার্তিক

(গ) হিমালয় ও মৈনাক

(ঘ) রাবণ ও ইন্দ্রজিৎ

উত্তর – (ঘ) রাবণ ও ইন্দ্রজিৎ

৪৯. “শুনেছি, মরিয়া নাকি বাঁচিয়াছে পুনঃ/ রাঘব?” – উক্তিটি কার ? –

(ক) ইন্দ্রজিতের

(খ) প্রমীলা দেবীর

(গ) রাবণের

(ঘ) কালনেমির ****

উত্তর – (ক) ইন্দ্রজিতের

৫০. “সমূলে নির্মূল/করিব পামরে আজি।”- ‘পামর’শব্দের অর্থ কী ?

(ক) রামচন্দ্র

(খ) পাপিষ্ঠ

(গ) বানর সেনা

(ঘ) চাকর

উত্তর – (খ) পাপিষ্ঠ

৫১. মেঘনাদ কাকে নির্মূল করতে চেয়েছিলেন ? –

(ক) বিভীষণকে

(খ) লক্ষ্মণকে

(গ) রামচন্দ্রকে

(ঘ) হনুমানকে

উত্তর – (গ) রামচন্দ্রকে

৫২. শত্রু নিধনের জন্য ইন্দ্রজিৎ কোন অস্ত্র প্রয়োগ করার কথা বলেছেন ? –

(ক) ব্রহ্মাস্ত্র

(খ) অগ্নিবাণ চক্র

(গ) সুদর্শন

(ঘ) বায়ু-অস্ত্র

উত্তর – (ঘ) বায়ু-অস্ত্র

৫৩. ‘আলিঙ্গি কুমারে,’- ‘কুমার’কে ? –

(ক) কুম্ভকর্ণ

(খ) ইন্দ্রজিৎ

(গ) বীরবাহু

(ঘ) তরণীসেন

উত্তর – (খ) ইন্দ্রজিৎ

৫৪. “উত্তর করিলা তবে স্বর্ণ-লঙ্কাপতি;”- কী উত্তর করেছেন ?

(ক) রক্ষঃ চূড়ামণি তুমি

(খ) রাক্ষস-কুল-রত্ন তুমি

(গ) রাক্ষস-কুল-শেখর তুমি

(ঘ) কর্বুরদল প্রধান তুমি

উত্তর – (গ) রাক্ষস-কুল-শেখর তুমি

৫৫. “রাক্ষস-কুল-শেখর তুমি,”- এখানে কার কথা বলা হয়েছেয়? –

(ক) ঘজীরবাহু

(খ) রাবণ

(গ) রাম

(ঘ)ইন্দ্রজিৎ ****

উত্তর – (ঘ)ইন্দ্রজিৎ

৫৬. “উত্তরিলা বীরদর্পে অসুরারি-রিপু;” – ‘অসুরারি-রিপু’কাকে বলা হয়েছে ? –

(ক) লক্ষ্মণকে

(খ) বীরবাহুকে

(গ) ইন্দ্রজিৎকে

(ঘ) রাবণকে

উত্তর – (গ) ইন্দ্রজিৎকে

৫৭. “কি ছার সে নর, তারে ডরাও আপনি”- ‘সে নর’বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে ? –

(ক) লক্ষ্মণ

(খ) রামচন্দ্র

(গ) সুগ্রীব

(ঘ) জাম্বুবান

উত্তর – (খ) রামচন্দ্র

৫৮. “থাকিতে দাস, যদি যাও রণে/তুমি,”- ‘দাস’বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? –

(ক) বিভীষণকে

(খ) হনুমানকে

(গ) বীরবাহুকে

(ঘ) ইন্দ্রজিৎকে

উত্তর – (ঘ) ইন্দ্রজিৎকে

৫৯. কার দেহ, কোথায় ভূপতিত ? –

(ক) বীরবাহুর দেহ যুদ্ধক্ষেত্রে

(খ) রামচন্দ্রের দেহ শিবির মধ্যে

(গ) কুম্ভকর্ণের দেহ সিন্ধুতীরে

(ঘ) বিভীষণের দেহ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে

উত্তর – (গ) কুম্ভকর্ণের দেহ সিন্ধুতীরে

৬০. রাবণ ইন্দ্রজিৎকে রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করার সময় নির্দেশ করেছেন –

(ক) প্রদোষ কালে

(খ) দ্বিপ্রহরে

(গ) অপরাহ্ণে

(ঘ) প্রভাতে

উত্তর – (ঘ) প্রভাতে

৬১. ‘আগে পূজ ইষ্টদেবে,- ‘ইষ্টদেব’কে ? –

(ক) অগ্নিদেব

(খ) মহাদেব

(গ) বরুণ দেব

(ঘ) পরম পিতা ব্রহ্মা

উত্তর – (ক) অগ্নিদেব

৬২. রাবণ ইন্দ্রজিৎকে কোন পদে বরণ করেছিলেন ? –

(ক) সেনাপতি পদে

(খ) যুবরাজ পদে

(গ) রাজাধিরাজ পদে

(ঘ) রাজবৈদ্য পদে

উত্তর – (ক) সেনাপতি পদে

৬২. “অভিষেক করিলা কুমারে।” – ‘কুমার’হলেন – ****

(ক) বীরবাহু

(খ) ইন্দ্রজিৎ

(গ) বিভীষণ

(ঘ) কুম্ভকর্ণ

উত্তর – (খ) ইন্দ্রজিৎ

মার্ক – 1 ( SAQ )

১. “কনক-আসন ত্যজি” – কে কেন কনকাসন ত্যাগ করেছিলেন ? ****

উত্তর – প্রমোদকাননে বিলাসব্যসনে রত বীরেন্দ্রকেশরী ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীবেশী লক্ষ্মীদেবীর আগমনে তাঁর প্রতি সম্মান জানাবার নিমিত্ত কনকাসন ত্যাগ করেছিলেন।

২. “প্রণমিয়া, ধাত্রীর চরণে,”ধাত্রীর প্রকৃত পরিচয় কী ?

উত্তর – রাজ অন্তঃপুরের প্রমোদকাননে বিলাসিতায় মত্ত ইন্দ্রজিৎ ধাত্রী প্রভাষাকে আসতে দেখেছিলেন, যিনি আসলে ছিলেন ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী।

৩. “প্রণমিয়া, ধাত্রীর চরণে,”- কে, কেন ধাত্রীর চরণে প্রণাম করেছেন ? ***

উত্তর – রক্ষ: চূড়ামণি ইন্দ্রজিৎ ছদ্মবেশী ধাত্রী প্রভাষাকে প্রণাম করেছেন। কারণ, শৈশব থেকেই মাতৃস্নেহে প্রভাষা ইন্দ্রজিৎকে পালন করেছিলেন। তাই তার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপনের জন্য ইন্দ্রজিৎ প্রণাম করেছেন তাঁকে।

৪. “কি হেতু, মাতঃ, গতি তব আজি” – হেতুটি উল্লেখ করো

উত্তর – লঙ্কার কুললক্ষ্মী যখন দাসী মুরলার কাছে রাবণ পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনেছেন, তখন অত্যন্ত বিচলিত হয়ে ইন্দ্রজিতের সমীপে উপস্থিত হয়েছেন। কারণ, তিনি জানতেন, একমাত্র ইন্দ্রজিতেরই ক্ষমতা আছে রামচন্দ্রকে পরাস্ত করার।

৫. “কহ দাসে লঙ্কার কুশল।” – উদ্দিষ্ট ব্যক্তি লঙ্কার কী সংবাদ দিয়েছিলেন ? *****

উত্তর – ‘কুশল’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ- মঙ্গল বা শুভ সংবাদ। ইন্দ্রজিতের কাছে শুভ সংবাদ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু ধাত্রীরূপিণি লক্ষ্মীদেবী বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ও মহামতি রাবণের রণসজ্জার সংবাদ দিয়েছিলেন।

৬. ‘ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা’ কেন ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন ?

উত্তর – রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে যখন বীরপূর্ণ সোনার লঙ্কা বীরশূন্য হয়ে পড়ছে এবং যুদ্ধে বীরবাহু মারা গিয়েছে, তখন কুললক্ষ্মী ভেবেছেন যে, এই সংবাদ ইন্দ্রজিৎকে প্রদানের মাধ্যমে তাকে যুদ্ধে উত্তেজিত করা সম্ভব। তাই তিনি তাঁর কাছে এসেছিলেন।

৭. “হায়! পুত্র, কি আর কহিব/কনক-লঙ্কার দশা।” কনক লঙ্কার দশা কী ?

উত্তর – রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে রাবণের রাজ্য স্বর্ণলঙ্কা আজ ধ্বংসের সম্মুখীন। বীরপূর্ণ রাজ্য বীরশূন্য হতে বসেছে। প্রবল পরাক্রমশীল বীরবাহ মারা গিয়েছেন এবং মহামতি রাবণ চতুরঙ্গে রণরঙ্গে সজ্জিত হচ্ছেন।

৮. “হত প্রিয় ভাই তব বীরবাহু বলী।”– বীরবাহুর পরিচয় দাও

উত্তর – লঙ্কেশ্বর রাবণের অন্যতম বীরপুত্র এবং ইন্দ্রজিতের ভ্রাতা বীরবাহু ব্রহ্মার বর পেয়েছিলেন যে, তাঁর হস্তীবাহন জীবিত থাকলে তাঁর মৃত্যু হবে না। রামচন্দ্র হস্তীনিধন করে তাকে হত্যা করেন।

৯. “তার শোকে মহাশোকী”- উদ্দিষ্ট ব্যক্তি মহাশোকী কেন ? ****

উত্তর – মহামতি রাবণ লঙ্কার বীরপুত্রদের উপস্থিতিতে গর্বিত ছিলেন। কিন্তু রামচন্দ্রের হাতে বীরবাহুর মতো বীরপুত্রের মৃত্যুতে তিনি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন। তাই তাঁকে ‘মহাশোকী’ বলা হয়েছে।

১০. “কে বধিল কবে/প্রিয়ানুজে?”- ‘প্রিয়ানুজ’কে ? তাকে কে বধ করেছিল ? **

উত্তর – প্রিয়ানুজ হলেন ইন্দ্রজিতের ভ্রাতা বীরবাহু। রামচন্দ্র তাঁর হস্তীকে হত্যা করে অবশেষে তাঁর শিরশ্ছেদ করেছিলেন।

১. “রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী উত্তরিলা;”ইন্দিরা কী উত্তর দিয়েছিলেন ?

উত্তর – দেবী ইন্দিরা মহাবাহু ইন্দ্রজিৎকে বলেছিলেন যে, ইন্দ্রজিতের শরাঘাতে মৃত রামচন্দ্র পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছেন এবং তাঁকে আদেশ করেছেন, শীঘ্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে কালসমর থেকে রক্ষ: কুলকে শত্রু নিধনের মাধ্যমে রক্ষা করতে।

১২. “মায়াবী মানব/সীতাপতি;”- সীতাপতিকে ‘মায়াবী মানব’বলা হয়েছে কেন ? ****

উত্তর – ইন্দ্রজিতের শরাঘাতে মৃত ব্যক্তি পুনরায় জীবন ফিরে পায়, এটা অবিশ্বাস্য। কিন্তু, বিশল্যকরণী গুণে রামচন্দ্র পুনর্জীবন লাভ করেছেন। দেবীর মতে, ইন্দ্রজাল বা মায়ার প্রভাব ছাড়া এটা সম্ভব নয়। তাই তিনি এ কথা বলেছেন।

৩. “যাও তুমি ত্বরা করি;”কার প্রতি, কে এই নির্দেশ দিয়েছেন ?

উত্তর – প্রভাষার ছদ্মবেশধারী দেবী লক্ষ্মী বীরচূড়ামণি ইন্দ্রজিৎকে রাক্ষস বংশের মানমর্যাদা রক্ষার জন্য শীঘ্র আসন্ন ধ্বংস থেকে স্বর্ণলঙ্কাকে বাঁচানোর নিমিত্তে কালসমরে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

৪. “রক্ষ রক্ষ: কুলমান,”- বক্তা কেন এই নির্দেশ দিয়েছেন ?

উত্তর – রাক্ষসকুলের বংশমর্যাদা ত্রিভুবনখ্যাত। কিন্তু আজকে বীরপূর্ণ রাজ্য রামচন্দ্রের মতো একজন সামান্য মানবের আক্রমণে বীরশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে রক্ষ: কুলের বংশমর্যাদা ও অস্তিত্ব সংকটাপন্ন। এই সংকট থেকে উদ্ধারের ক্ষমতা রাখেন একমাত্র ইন্দ্রজিৎ। তাই দেবী তাকে এই নির্দেশ দিয়েছেন।

৫. “রক্ষ: চূড়ামণি” কাকে বলা হয়েছে ও কেন ?

উত্তর – রাক্ষসকুলের গর্ব রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎকে ‘রক্ষ: চূড়ামণি’ বলা হয়েছে। কারণ, পরম পরাক্রমশালী এই বীরের কাছে স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র পরাস্ত হয়েছিলেন। মেঘের অন্তরাল থেকে যুদ্ধ করার অস্বাভাবিক ক্ষমতা রাক্ষস বংশের কারও ছিল না। তাই তাকে ‘রক্ষ: চূড়ামণি’ বলা হয়েছে।

১৬. “ছিঁড়িলা কুসুমদাম রোষে মহাবলী মেঘনাদ;”- মেঘনাদের এরূপ আচরণের কারণ কী ? ****

উত্তর – মেঘনাদ যখন প্রভাষারূপী লক্ষ্মীদেবীর কাছে প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনেছেন, তখন ভ্রাতৃঘাতক রামচন্দ্রের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে, প্রতিহিংসার আগুনে দগ্ধ হয়ে ফুলমাল্য ছিঁড়ে ফেলেছেন।

১৭. “ধিক মোরে’কহিলা গম্ভীরে/কুমার,”- বক্তাকেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন ? ****

উত্তর – মেঘনাদ দেবী লক্ষ্মীর কাছে প্রিয়ানুজ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে উপলব্ধি করেছেন, যেখানে লঙ্কার এরূপ দুর্দশা, স্বয়ং বৃদ্ধ রাজা যুদ্ধসাজে প্রবৃত্ত, সেই সময়ে বিলাসিতায় মত্ত থাকা তাঁর মতো বীরের অসমীচীন। এই জন্য তিনি নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন।

৮. “হেথা আমি বামাদল মাঝে?”কে কেন এই উক্তি করেছেন ?

উত্তর – উদ্ধৃত আত্মজিজ্ঞাসাটি স্বয়ং মেঘনাদের, যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, তাঁর মতো বীর প্রমোদ-উদ্যানে বিলাসিতায় মগ্ন থাকার জন্য তাঁর ভাইকে রাঘবের মতো একজন সামান্য নরের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং পুত্রহত্যার প্রতিশোধের জন্য বৃদ্ধ রাজাকে যুদ্ধসাজে প্রণোদিত করেছে।

৯ “সাজিলা রথীন্দ্রর্যভ বীর-আভরণে” – রথীন্দ্রর্ষভ কেন সেজেছেন ?

উত্তর – বীরবাহুর মৃত্যুর পর সেই সংবাদ যখন দেবী লক্ষ্মীর মুখে ইন্দ্রজিৎ শুনেছেন, তখন তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ভ্রাতৃঘাতকের নিধনের মাধ্যমে লঙ্কার শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এইজন্য তিনি যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়েছেন।

২০. ইন্দ্রজিতের যুদ্ধসাজকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন ? ****

উত্তর – কবি মধুসুদন রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিতের যুদ্ধসজ্জাকে হৈমবতীসুতের তারকাসুর বধ এবং বৃহন্নলারূপী কিরীটীর গোধন উদ্ধারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

২১. বৃহন্নলারূপী কিরীটী কে ? *****

উত্তর – উর্বশীর অভিশাপে ক্লীবত্বপ্রাপ্ত অর্জুন অজ্ঞাতবাস কালে বৃহন্নলারূপে বিরাট রাজার কন্যা উত্তরা ও তার সহচরীদের নৃত্যগীত অনুশীলনের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

২২. ‘হেন কালে প্রমীলা সুন্দরী,’- প্রমীলা কে ? ****

উত্তর – প্রমীলা হলেন মেঘনাদের স্ত্রী বা সহধর্মিণী। মূল রামায়ণে প্রমীলা দেবীর কোনো কথা বলা নেই, তাই চরিত্রটি মধুসূদন সৃষ্ট।

৩. ‘ধরি পতি-কর-যুগ’ পতির কর-যুগ ধরে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন ?

উত্তর – পতির অর্থাৎ ইন্দ্রজিতের দুই হাত ধরে প্রমীলা দেবী বলেছিলেন যে, তাঁর মতো অভাগীকে ত্যাগ করে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে গেলে তাঁর বিরহে তিনি প্রাণ ধারণ করতে সক্ষম হবেন না।

৪. ‘রাখি এ দাসীরে,’কে, কাকে, কোথায় রেখে গিয়েছিলেন ?

উত্তর – যুদ্ধে উদ্যত মেঘনাদ তাঁর স্ত্রী প্রমীলা দেবীকে লঙ্কার রাজ-অন্তঃপুরে রেখে রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হতে চেয়েছিলেন।

৫. “কেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে এ অভাগী?”-বক্তা নিজেকে ‘অভাগী’ বলেছেন কেন ?

উত্তর –  বক্তা অর্থাৎ ইন্দ্রজিৎপত্নী প্রমীলা নিজেকে অভাগী বলেছেন কারণ, তাঁর প্রেমের বন্ধন ছিন্ন করে তাঁকে নিঃসঙ্গতায় বন্দি করে যুদ্ধের উন্মত্ত আবেগে ইন্দ্রজিৎ ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রামচন্দ্রের সঙ্গে আসন্ন যুদ্ধে অগ্রসর হয়েছেন।

৬. ‘মন না দিয়াঃ,’কে, কীসে মন দেন না ?

উত্তর – অরণ্য মধ্যে ছুটন্ত হস্তীর পায়ে যদি বন্য লতা জড়িয়ে ধরে, তাহলে মত্ত হস্তী সেই বাঁধনকে উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হওয়ার ধারা অব্যাহত রাখে। উক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

. “তবু তারে রাখে পদাশ্রমে”কে, কাকে পদাশ্রমে রাখে ?

উত্তর – অরণ্যচারী মত্ত হস্তী যেমন পায়ে জড়ানো লতাপাতাকে পদাশ্রমে রাখে অর্থাৎ সঙ্গে নিয়েই অগ্রসর হয়, তেমনি ইন্দ্রজিৎ প্রমীলা দেবীর প্রেমের বন্ধনডোরকে সঙ্গে নিয়েই রাঘববিরোধী যুদ্ধে অগ্রসর হতে পারেন।

২৮. “হাসি উত্তরিলা/মেঘনাদ,”- মেঘনাথ হেসে কী উত্তর দিয়েছিলেন ? ****

উত্তর – সহাস্য সপ্রেম ভঙ্গিতে ইন্দ্রজিৎ স্ত্রীকে বলেছিলেন যে, প্রমীলা দেবী প্রেমের যে দৃঢ় বন্ধনে তাঁকে আবদ্ধ করেছেন, সেই বাঁধন ছিন্ন করার ক্ষমতা তাঁর নেই। তাই তিনি শীঘ্রই যুদ্ধান্তে তাঁর কাছে ফিরে আসবেন।

৯. “বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখী।”- বিধুমুখী কে ?

উত্তর – ‘বিধু’ শব্দের অর্থ চাঁদ। ইন্দ্রজিৎ সপ্রেম ভঙ্গিতে তাঁর স্ত্রীর তুলনাহীন রূপসৌন্দর্যের বর্ণনা প্রসঙ্গে চাঁদের সঙ্গে তাঁর সাদৃশ্য সন্ধান করে তাঁকে বিধুমুখী বলেছেন।

০. “উঠিল পবন-পথে, ঘোরতর রবে, রথবর,”– ‘রথবর’ কাকে বলা হয়েছে ?

উত্তর – ‘রথবর’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল- ‘শ্রেষ্ঠ রথ’; এখানে শ্রেষ্ঠ রথী ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, রক্ষ বংশে তিনিই ছিলেন প্রধানতম রথী।

৩১. “হৈমপাখা বিস্তারিয়া যেন”- কার কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর – হিমালয় পুত্র মৈনাক সমুদ্র-লঙ্ঘন-রত হনুমানকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সমুদ্রগর্ভ থেকে স্বর্ণপক্ষ বিস্তার করে উত্থিত হয়েছিলেন। কবি এখানে সেই পৌরাণিক উপাখ্যানকেই স্মরণ করেছেন।

২. ‘শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে,’– ‘শিঞ্জিনী’ শব্দের অর্থ কী ?

উত্তর – ‘শিঞ্জিনী’ শব্দের অর্থ হল- ‘ধনুকের ছিলা’। প্রাক্যুদ্ধ মুহূর্তে বীর যোদ্ধাদের তির সংযোগের আগে ধনুকের ছিলা ধরে টানার মহড়া দেওয়ার প্রথা এখানে বর্ণিত।

৩. ’হুঙ্কারিছে পদাতিক,’পদাতিক কারা এবং কেন তারা হুংকার দিচ্ছিল?

উত্তর – সৈন্যবাহিনীর সর্বাগ্রে পায়ে হেঁটে যে বাহিনী যুদ্ধ করে, তাদেরকেই পদাতিক বলা হয়। যুদ্ধমদে মাতোয়ারা হয়ে তারা হুংকার দিয়েছিল।

৩৪. “হেন কালে তথা/দ্রুতগতি, উতরিলা মেঘনাদ রথী।” – মেঘনাদের আসার কারণ কী ?

উত্তর – রাবণ-সেনাবাহিনীর মধ্যে মেঘনাদের অকস্মাৎ আগমনের কারণ দ্বিবিধ। যথা-১। বীরবাহু ঘাতক রাঘবকে সম্মুখসমরে হত্যা করা, ২। বৃদ্ধ রাজা রাবণকে যুদ্ধ থেকে বিরত করা।

৫. “নাদিলা কর্তৃরদল হেরি বীরবরে/মহাগর্বে।”- মহাগর্বের কারণ কী ?

উত্তর – মেঘনাদের বীরত্ব, জগৎজোড়া খ্যাতি রাক্ষস সৈন্যদের গর্বের কারণ ছিল। তাই, তাঁকে আসতে দেখে তারা উৎফুল্ল হয়ে উচ্চনাদে অভিবাদন জানিয়েছিল।

৬. “এ মায়া, পিতঃ, বুঝিতে না পারি!” – কোন মায়া ?

উত্তর – নিশারণে ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে সংহার করেছিলেন । কিন্তু সঞ্জীবনী সুধার মায়াবলে তিনি পুনর্জীবন লাভ করেছেন। এটাই ছিল মায়া।

৭. ইন্দ্রজিৎ কীভাবে রামচন্দ্রকে পরাস্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ?

উত্তর – পিতৃ-সম্মুখে ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে দ্বিবিধ উপায়ে পরাস্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যথা-১। বায়ু-অস্ত্রে উড়িয়ে দেওয়া, ২। বন্দি করে রাজপদে আনা।

৮. “লঙ্কারাজ রাবণ ইন্দ্রজিৎকে কী বলে প্রশংসা করেছেন ?

উত্তর – পুত্র ইন্দ্রজিতের বীরত্বের জন্য গর্বিত লঙ্কারাজ রাবণ পুত্রকে ‘রাক্ষস-কুল-শেখর’ ও ‘রাক্ষস- কুল-ভরসা’ বলে প্রশংসা করেছেন।

৯. ‘নাহি চাহে প্রাণ মম’-কার, কীসে প্রাণ চায় না ?

উত্তর – পুত্রস্নেহ-কাতর লঙ্কারাজ রাবণের পিতৃহৃদয়ের আর্তি থেকেই পুত্র ইন্দ্রজিৎকে রাবণ রাজ কালসমরে পাঠাতে বারবার অস্বীকৃত হয়েছেন।

৪০. “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।“-বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী ? ****

উত্তর – গ্রিক ট্র্যাজেডির নিয়তি লাঞ্ছিত নায়কের মতো লঙ্কারাজ রাবণ অনুভব করেছেন যে, বিড়ম্বিত ভাগ্যের জন্যই তাঁর স্বর্ণলঙ্কা আজ বীরশূন্য। তাই এই মন্তব্য।

১. “কে কবে শুনেছে পুত্র, ভাসে শিলা জলে,”- বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী ?

উত্তর – বক্তা অর্থাৎ স্বর্ণ লঙ্কাপতি রাবণ বিমুঢ় বিস্ময় থেকেই পুত্রকে বলেছেন যে, শিলা জলে ভাসে বা মরা লোক বেঁচে ওঠে- এরকম অদ্ভুত ঘটনা শুধু তাঁর নয়, সকলেরই অশ্রুতপূর্ব।

৪২. “উত্তরিলা বীরদর্পে অসুরারি-রিপু;-“- ‘অসুরারি-রিপু’ কাকে বলা হয়েছে ? *****

উত্তর – আলোচ্য পঙ্ক্তিতে ‘অসুরারি-রিপু’ বলতে বোঝানো হয়েছে লঙ্কেশ্বর রাবণের বীরপুত্র ইন্দ্রজিৎকে।

৩. “কি ছার সে নর,”- বক্তা কার সম্পর্কে, কেন এই মন্তব্য করেছেন ?

উত্তর – আলোচ্য অংশের বক্তা অর্থাৎ ইন্দ্রজিতের সীতাপতি রামচন্দ্রের সম্পর্কে এরূপ মন্তব্যের কারণ তিনি তাঁকে অবতার রূপে দেখেননি, দেখেছেন সামান্য মানুষ রূপে।

৪. “তারে ডরাও আপনি,/রাজেন্দ্র?”- কার উদ্দেশে, কেন বক্তা এ কথা বলেছেন ?

উত্তর – দেবভূমি-জয়ী লঙ্কেশ্বর রাবণ সামান্য নর রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে আশঙ্কিত-এ কথা ইন্দ্রজিতের কল্পনাতীত। তাই পিতাকে তিনি এ কথা বলেছেন।

৫. “এ কলঙ্ক, পিতঃ, ঘুষিবে জগতে।” – কোন বিষয়কে কলঙ্ক বলা হয়েছে ?

উত্তর – প্রমোদকাননে ক্রীড়ারত বীরপুত্র ইন্দ্রজিৎ থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধ পিতা লঙ্কেশ্বর রাবণ শত্রুনিধনে যুদ্ধযাত্রা করলে পুত্রের কলঙ্ক রটবে বলে মনে করেছেন ইন্দ্রজিৎ।

৬. “রুষিবেন দেব/অগ্নি।” অগ্নিদেব রুষ্ট হবেন কেন ?

উত্তর –  হিরণ্ময় জ্যোতি তুল্য অগ্নিদেব তাঁর প্রিয় শিষ্যকেও বীরত্বের পরাকাষ্ঠা হিসেবে দেখতে চান। তাই, ইন্দ্রজিতের মতো ভক্তের কাপুরুষতা -ও যুদ্ধবিমুখতা দেখলে তিনি রুষ্ট হবেন।

৭. “দেহ আজ্ঞা মোরে;”বক্তা কীসের আজ্ঞা চেয়েছেন ?

উত্তর – বক্তা অর্থাৎ ইন্দ্রজিৎ পিতা রাবণের কাছ থেকে রামচন্দ্রের সঙ্গে। তৃতীয়বার যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আজ্ঞা চেয়েছেন।

৮. যুদ্ধে যাওয়ার আগে পিতা রাবণ পুত্রকে কী কার্য সম্পন্ন করতে বলেছেন ?

উত্তর – রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রায় বদ্ধপরিকর ইন্দ্রজিৎকে পিতা রাবণ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে অগ্নিযজ্ঞ সম্পন্ন করে প্রভাতে যুদ্ধযাত্রার আজ্ঞা দিয়েছেন।

৯. সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করে রাবণ মেঘনাদকে কী বলেছিলেন ?

উত্তর – লঙ্কারাজ রাবণ তাঁর প্রিয়তম পুত্র ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে বরণ করে বলেছিলেন যে, যেহেতু দিননাথ অস্তাচলগামী, তাই প্রভাতে উঠে যুদ্ধ করাই সমীচীন।

০. “অভিষেক করিলা কুমারে।”- কুমারের অভিষেক কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল ?

উত্তর – নিষ্ঠাচারী রাজা রাবণ ঈশ্বরের সাক্ষ্য মেনে যথাবিধি গঙ্গোদক সহযোগে প্রিয়পুত্র ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেছিলেন।

মার্ক – 3 প্রশ্ন উত্তর

১. “ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা উত্তরিলা;”- ‘অম্বুরাশি-সুতা’কে ? তিনি কোন প্রশ্নের উত্তরে কী বলেছিলেন ? ১+২ ****

উত্তর – ‘অম্বুরাশি-সুতা’: ‘অম্বুরাশি-সুতা’ হলেন দেবী লক্ষ্মী। ‘অম্বুরাশি’ হল সমুদ্র, আর ‘সুতা’ অর্থ কন্যা। সমুদ্রমন্থনের সময় সমুদ্রগর্ভথেকেই দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাব ঘটেছিল। সেইজন্যই তাঁকে ‘অম্বুরাশি-সুতা’ বলা হয়।

প্রশ্ন ও ত্তর : আলোচ্য ‘অভিষেক’ কবিতায় ইন্দ্রজিতের প্রমোদকাননে যখন প্রভাষাদেবীর রূপ ধরে দেবী লক্ষ্মী প্রবেশ করেছেন, তখন উৎকণ্ঠিত ইন্দ্রজিৎ তাঁর কাছে লঙ্কার কুশল সংবাদ জানতে চেয়েছেন। তারই উত্তরে দেবী কনকলঙ্কার দুর্দশার বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেছেন। তিনি হতাশা ও হাহাকারের উৎকণ্ঠা নিয়ে বলেছেন যে, স্বর্ণলঙ্কা আজকে তার গৌরব ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। অর্থাৎ বীরবাহুর মতো বীরপুরুষ আজ রামচন্দ্রের হাতে মৃত এবং স্বয়ং মহামতি রাবণ পুত্রহত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য যুদ্ধসাজে সজ্জিত হচ্ছেন।

২. “জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া;” – কাকে ‘মহাবাহু’বলা হয়েছে ? তার বিস্ময়ের কারণ কী ? ১+২ [MP ‘17] *****

উত্তর – ‘মহাবাহু’: ‘মহাবাহু’ কথার আক্ষরিক অর্থ হল মহান অর্থাৎ প্রকান্ড বাহু যার। ইন্দ্রজিতের হস্তে প্রচণ্ড শক্তি ছিল, তাই তাঁকে এরূপ বলা হয়েছে।

বিস্ময়ের কারণ: রামচন্দ্রের মতো নগণ্য মানুষ ত্রিভুবনখ্যাত রাক্ষস বংশের সন্তানদের আঘাত কিংবা হত্যা করতে পারে- এ ধারণা ইন্দ্রজিতের কল্পনার অতীত ছিল। শুধু তাই নয়, প্রিয়ানুজ বীরবাহুর মতো বীর, যিনি ব্রহ্মার বরে বলীয়ান, অমরত্বের অধিকারী, তার মৃত্যুসংবাদ ইন্দ্রজিতের কাছে অবিশ্বাস্য। এরই সঙ্গে তাঁর মনের গোপন কোণে যেন সংশয়ের একটা ক্ষীণ রেখা দেখা দিয়েছে। এই জন্যই তিনি বিস্মিত।

৩. “হা ধিক্ মোরে!”-বক্তা কে ? তিনি নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন কেন বুঝিয়ে দাও । ১+২ *****

উত্তর – বক্তা: উদ্ধৃত উক্তিটি রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিতের। ইন্দ্রজিৎ যখন প্রভাষারুপী রাজলক্ষ্মীর মুখে ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনেছেন, তখন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে আত্মধিক্কার দিয়েছেন।

আত্মধিক্কারের কারণ: বীরবাহু ত্রিভুবন জয়ী বীর। তিনি স্বয়ং ইন্দ্রকে বন্দি করেছিলেন যুদ্ধে। তাঁর মনে হয়েছে যে, তাঁর মতো বীর থাকতে বীরপূর্ণ স্বর্ণলঙ্কা বীরশূন্য হয়ে যেতে পারে না। লঙ্কার এই দুঃসময়ের প্রহরে প্রমোদকাননে বিলাসিতায় মত্ত থেকে সময় অতিবাহিত করা তাঁর কাছে নিতান্ত অসমীচীন। সমগ্র জগৎ না হলেও, তিনি যেন নিজের প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন অস্থিরভাবে। সেইজন্যই উপাত্ত ধিক্কারের ক্ষুব্ধ বহিঃপ্রকাশ। প্রসঙ্গত বলা যায় যে, একমাত্র ইন্দ্রজিৎই জানতেন রামচন্দ্রকে পরাজিত করার মূলমন্ত্রটি।

৪. ‘সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ’ – ‘রথীন্দ্রর্ষভ’ কে ? তিনি কেমনভাবে সাজলেন ? ১+২

উত্তর – রথীন্দ্রর্ষভ: ‘রথীন্দ্রর্ষভ’ কথাটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ করলে – হয়-রথী ইন্দ্র রথীন্দ্র বা শ্রেষ্ঠ রথী, তাদের মধ্যে ঋষভ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ – মানী, এখানে রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎকে কবি শ্রীমধুসূদন উক্ত অভিধায় ভূষিত – করেছেন।

সাজার পদ্ধতি: কবি মধুসুদন দত্ত ইন্দ্রজিতের যুদ্ধসাজকে দুটি উপমার সাহায্যে সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন-১। হৈমবতীসুত = কার্তিকেয়ের তারকাসুর বধের প্রস্তুতি, ২। বৃহন্নলারূপী কিরীটি অর্থাৎ অর্জুনের বিরাট পুত্রসহ গোধন উদ্ধারের প্রচেষ্টা। মেঘনাদের রথ ছিল মেঘবর্ণ, রথের চাকা থেকে উল্কার মতো বিজলির ছটা বেরোচ্ছিল, ধ্বজা ছিল ইন্দ্রচাপের মতো আর গতি ছিল তুরঙ্গম তুল্য। এইরকম বিভীষণ প্রতাপে তিনি যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়েছিলেন।

৫. “কহিলা কাঁদিয়া ধনি,” – ‘নি’ কে ? তিনি কী বলেছিলেন ? ১+২

উত্তর –  ধনি: ‘ধনি’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল সুন্দরী রমণী। ইন্দ্রজিৎ পত্নী প্রমীলা দেবীর অপরূপ রূপমাধুর্যের জন্য কবি তাঁকে ‘ধনি’ বিশেষণে বিশেষিত করেছেন। চিরায়িত সংস্কার অনুযায়ী রাক্ষসকুলকে আমাদের শাস্ত্র যে যে কুৎসিত ও কদর্যতার আবিল দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করেছিল, মধুসূদনের দৃষ্টিভঙ্গি তার থেকে সম্পূর্ণ পৃথক- এটাই প্রমাণিত।

ধনির বক্তব্য: প্রমীলা চরিত্রের মধ্যে সনাতন হিন্দুশাস্ত্রীয় পত্নীর আদর্শ লক্ষণীয়। স্বামীগতপ্রাণা প্রমীলা সুন্দরী স্বামীর বিরহে একদন্ডও নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন না। স্বামীর ক্ষণিকের অনুপস্থিতিও তাঁর কাছে মৃত্যুস্বরূপ। তাই তিনি বলেছিলেন, “কেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে এ অভাগী?”-তিনি সুন্দর উপমা দিয়ে বুঝিয়েছেন যে, উন্মত্ত বন্য হস্তী যখন অমোঘ গতিধারায় অরণ্যে ছুটে চলে, তখন তার পায়ে ব্রততী বাধা দিলেও সে সেগুলি ছিন্ন করে চলে যায়। কিন্তু কিছু লতা হস্তীর পায়ে যেমন জড়িয়ে থাকে, তেমনি তিনি ইন্দ্রজিতের পদাশ্রয়ে থাকতে চেয়েছেন।

৬. “এই কলঙ্ক, পিতঃ, ঘুষিবে জগতে।” কার উক্তি ? তিনি কেন এ কথা বলেছিলেন ? ১+২

উত্তর –  বক্তা: আলোচ্য উদ্ধৃতাংশের বস্তা হলেন রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ।

এইরূপ উক্তির কারণ: লঙ্কা-কুল-রত্ন ইন্দ্রজিৎ ছিলেন প্রকৃত বীর এবং আধুনিক যুক্তিবাদী চেতনার আলোকে উদ্ভাসিত এক অজেয় যোদ্ধা। বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ তাঁকে রাঘবের বিরুদ্ধে পুনরায় অস্ত্রধারণে উত্তেজিত করেছে। তিনি জানেন যে, সাবালক পুত্র বর্তমানে বৃদ্ধ পিতা পুত্রহত্যার প্রতিবাদে যদি যুদ্ধে প্রবৃত্ত হন, তাহলে বীরপুত্রের কলঙ্ক রটবে জগৎজুড়ে। আত্মগরিমায় বলীয়ান এবং আত্মসচেতন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ইন্দ্রজিতের শক্তি রাঘবের মতো সামান্য মানুষের শক্তির তুল্য নয়। যিনি স্বয়ং দেবরাজকে পরাস্ত করতে পারেন, যিনি দেব-দৈত্য-নর রণে অজেয়, তাঁর প্রমোদকাননে কোনো স্থান নেই। তা ছাড়া, তাঁর যুদ্ধবিমুখ কাপুরুষতায় স্বয়ং দেবরাজ উপহাস করবেন; আর ইষ্টদেব অগ্নি ক্রুদ্ধ হবেন। এই কারণেই তাঁর এই উক্তি ।‌

৭. “হাসিবে মেঘবাহন,”- ‘মেঘবাহন’ কে ? তিনি হাসবেন কেন ? ১+২

উত্তর – মেঘবাহনের পরিচয়: আলোচ্য ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে রাবণ পুত্র মেঘনাদ দেবরাজ ইন্দ্রকে ‘মেঘবাহন’ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, মেঘের উপর ভর করে তিনি বিচরণ করতেন।

তার হাসার কারণ: লঙ্কেশ্বর রাবণ দিগ্বিজয় করার কালে বীরপুত্র মেঘনাদ দেবরাজ ইন্দ্রকে পরাস্ত করে বন্দি করেন। পরে ব্রহ্মা তাকে ‘ইন্দ্রজিৎ’ আখ্যা দিয়ে সন্তুষ্ট করেন এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ীই অগ্নিযজ্ঞ সমাধার মাধ্যমে যুদ্ধে অজেয় হওয়ার বর পান মেঘনাদ। এইজন্য দেবরাজ ইন্দ্র ছিলেন তাঁর চিরশত্রু। শত্রুর ন্যূনতম ত্রুটি বা দুর্বলতা দেখলেই তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের কশাঘাত জর্জরিত করবে ইন্দ্রজিতের বীরসত্তাকে। বক্র হাসি আর উপহাসের পাত্র হয়ে উঠবেন ইন্দ্রজয়ী বীর মেঘনাদ। আত্মসচেতন ইন্দ্রজিৎ আপন ভবিষ্য-কল্পনা দিয়ে অদূর ভবিষ্যতের পরিণাম অনুমান করতে পেরেছিলেন। এটা মেঘনাদের কাছে পরাভবের চেয়ে কিছু মাত্র কম লজ্জার বিষয় নয়। এই জন্যই তিনি ই পিতাকে সতর্ক করে বলেছিলেন- “হাসিবে মেঘবাহন”।

মার্ক – 5 প্রশ্ন উত্তর

১. “অভিষেক করিলা কুমারে।” – ‘কুমার’কে ? পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে কুমারের চরিত্র আলোচনা করো । ১+৪ [MP ‘20] *****

[অথবা], ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ইন্দ্রজিৎ চরিত্রের পরিচয় দাও

উত্তর – কুমারের পরিচয়: হোমারের ‘ইলিয়ড’ কাব্যের ধারণার ছায়াপাতে লেখা মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর অন্তর্গত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে লঙ্কেশ্বর রাবণ আপন প্রিয়পুত্রকে ‘কুমার’ বলে সম্বোধন করেছেন।

কুমারের / ন্দ্রজিতের চরিত্র : ইন্দ্রজিতের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলি হল –

(ক) বীর: ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশে লঙ্কার কুললক্ষ্মী যখন প্রমোদকাননে বিলাসরত ইন্দ্রজিৎকে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ দিয়েছেন, তখন বামাসঙ্গ পরিত্যাগ করে, পুষ্পমাল্য-অলংকার দূরে নিক্ষিপ্ত করে আত্মধিক্কারে প্রতিহিংসার আগুন জ্বেলে মেঘনাদ বলেছেন, “ঘুচাব ও অপবাদ, বধি রিপুকুলে।” বীর ইন্দ্রজিতের এই উপলব্ধি বিপন্নতার দ্বারপ্রান্তে রাক্ষসকুলের ভরসা।

(খ) স্বদেশপ্রেমী : ইন্দ্রজিতের স্বদেশপ্রেম তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও বীরত্ব সঞ্জাত। শত্রুর সঙ্গে আপস মীমাংসা নয়, যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের সমূলে নির্মূল করতে চান তিনি। তিনি পিতাকে বলেছেন, “কি ছার সে নর, তারে ডরাও আপনি,/ রাজেন্দ্র?”।

(গ) গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল: কুললক্ষ্মী দেবী ধাত্রীমাতা প্রভাষার রূপে আবির্ভূত হলে তিনি স্বর্ণ-সিংহাসন ছেড়ে তাঁর কাছে প্রণত হয়েছেন। আবার, পিতৃসমক্ষে উপস্থিত হয়ে তাঁকেও তিনি নমস্কার করেছেন ও হাতজোড় করে নিজের বক্তব্য নিবেদন করেছেন।

(ঘ) প্রেমিক: আসন্ন যুদ্ধের উদগ্র উত্তেজনায় তিনি যখন তুরঙ্গমের বেগে ধাবমান, সেই মুহূর্তে স্ত্রী প্রমীলা দেবী তাঁর পথরোধ করলে তিনি সহধর্মিণীর প্রেমের বন্ধন অস্বীকার করতে পারেননি। উপরন্তু সান্ত্বনার সুরে বলেছেন, “ইন্দ্রজিতে জিতি তুমি,সতি,/ বেঁধেছ যে দৃঢ় বাঁধে, কে পারে খুলিতে/ সে বাঁধে?” এবং তাঁরই কল্যাণে রাঘবের বিনাশ করে তিনি শীঘ্রই ফিরে আসবেন-এরূপ কথাও দিয়েছেন।

(ঙ) দায়িত্ববোধসম্পন্ন: সাবালক, কর্মঠ, বীরপুত্রের বর্তমানে বৃদ্ধ পিতা শত্রুনাশ হেতু যুদ্ধে যাবেন, এটা ইন্দ্রজিতের কাছে চারিত্রিক কলঙ্কও বলে মনে হয়েছে। তিনি জানেন তার যুদ্ধবিমুখতায়- “হাসিবে মেঘবাহন; রুষিবেন দেব/অগ্নি।”

২. “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।”- কে, কাকে উদ্দেশ করে উক্তিটি করেছেন ? বক্তার এরূপ আক্ষেপের কারণ কী ? ২+৩ ****

উত্তর – বক্তা ও শ্রোতা: উদ্ধৃত আক্ষেপোক্তিটি প্রৌঢ়ত্বের আঙিনায় উপনীত লঙ্কারাজ রাবণের। তিনি রাক্ষসকুলের গর্ব পুত্র ইন্দ্রজিতের উদ্দেশে উদ্ধৃতিটি করেছেন।

আক্ষেপোক্তির কারণ: কবি মধুসূদন এই কাব্যাংশে গ্রিক ট্র্যাজেডির অদৃশ্য নিয়তির প্রভাব সঞ্চারিত করেছেন রাবণ চরিত্রের মধ্যে। রাবণের ট্র্যাজেডি এখানেই যে, তিনি তাঁর কৃতকর্মের ত্রুটি ধরতে পারছেন না। কিন্তু, অমোঘ নিয়তির টানে ধীরে ধীরে ধ্বংসের স্রোতে বিলীয়মান হয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মনে হয়েছে যে, বিধি বা ভাগ্য তাঁর প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করছে। তার জন্য, বীরপূর্ণ সোনার লঙ্কা আজ বীরশূন্যপ্রায়। মায়াবী রামচন্দ্রের ক্রিয়াকর্ম তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি মানতে পারছেন না যে, শিলা জলে ভাসে, মরা মানুষ বেঁচে ওঠে। অনির্দেশ্য এক কুহেলিকা জালে তিনি বিমুঢ়-বিভ্রান্ত। হৃদয়ের এই গোপন কুজঝটিকা-তাড়িত অনুভূতিই তিনি তাঁর পরম প্রিয় পুত্রের কাছে ব্যক্ত করেছেন।

৩. “নমি পুত্র পিতার চরণে, করযোড়ে কহিলা;”- পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও । পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা ও পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো । ১+৪ [MP’18] *****

উত্তর – পিতা ও পুত্রের পরিচয়: মাইকেল মধুসুদন বিরচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গের অন্তর্গত কবিতার ‘অভিষেক’ শীর্ষক পাঠ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃত অংশে পিতা হিসেবে রাক্ষসরাজ রাবণ এবং পুত্র হিসেবে রাবণাত্মজ মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পিতা ও পুত্রের কথোপকথন: মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে পিতা-পুত্রের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন বীরত্বের অগ্নিকটাহের দীপ্তি বিচ্ছুরিত করেছেন, তেমনি অপরদিকে করুণ রসের বিগলিত অশ্রুধারা স্রোতে প্লাবিত করেছেন পাঠকের হৃদয়।

কথোপকথনের সারমর্ম: লঙ্কেশ্বর রাবণ যখন চতুরঙ্গে রণসজ্জায় বীরমদে মাতোয়ারা, সেই মুহূর্তে সেখানে দ্রুত প্রবেশ করেছেন রথারোহী ইন্দ্রজিৎ। তিনি পিতার চরণযুগল স্পর্শ করে আশীর্বাদ নিয়েছেন এবং করজোড়ে সবিস্ময়ে প্রশ্নের মাধ্যমে সত্যতা জানতে চেয়েছেন যে, রাঘব পুনর্জীবন পেয়েছেন কিনা। তিনি নিজেও হতভম্ব মায়াবী শত্রুর ছলনাতে। কিন্তু এই ক্ষণিকের দুর্বলতা অচিরেই জয় করে তিনি পিতাকে বীরদর্পে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, সমূলে নির্মূল করবেন শত্রুদলকে। আর স্বয়ং রাঘবকে হয় বায়ু-অস্ত্রে উড়িয়ে দেবেন, নচেৎ বেঁধে এনে রাজপদে নিক্ষিপ্ত করবেন।

এই আবেগঘন উন্মত্ততায় শঙ্কিত রাজা রাবণ তাঁকে ‘রাক্ষস-কুল-শেখর’ এবং ‘রাক্ষস-কুল-ভরসা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বাৎসল্যের আতিশয্যহেতু বলেছেন যে, বারংবার তাকে যুদ্ধে পাঠাতে তাঁর মন সায় দেয় না। বিশেষত যখন রামের স্পর্শে শিলা জলে ভাসছে, তিনি নিজে যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েও পুনর্জীবন লাভ করেছেন তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পিতৃহৃদয় প্রিয় পুত্রকে সেখানে পাঠাতে আশঙ্কিত বোধ করছেন। তখন বীর ইন্দ্রজিৎ তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে প্রকৃতপক্ষে রামচন্দ্র সামান্য মানব, সুতরাং তাকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। উপরন্তু ইন্দ্রজিৎ যদি . যুদ্ধে না যান, তাহলে দেবরাজ উপহাস করবেন আর অগ্নিদেব রুষ্ট হবেন। এরপর তিনি পিতার কাছ থেকে আরও একবার রাঘবের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চাইলেন। কিন্তু বৃদ্ধ পিতা লঙ্কেশ্বর রাবণ কুম্ভকর্ণের মতো বীরের অকাল মৃত্যুর কথা স্মরণ করেছেন এবং অসম যুদ্ধের পরিণতির দৃষ্টান্ত দেখাতে চেয়েছেন পুত্রকে। তবুও পুত্রের বীরত্বে আস্থাশীল হয়ে তিনি তাকে সেনাপতি পদে বরণ করে নিয়েছেন এবং নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে অগ্নিদেবের পূজা সমাপন করতে বলেছেন এবং তারপর প্রভাতে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি দিয়েছেন। এইভাবে পিতা-পুত্রের কথোপকথনে একদিকে যেমন পুত্রের আদর্শ বীরত্বের প্রকাশ, তেমন অপরদিকে স্নেহবৎসল পিতৃহৃদয়ের আকুল রূপটি ধরা পড়েছে।

৪. “বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখী।”- বক্তা কার কাছে বিদায় চেয়েছেন ? এর পূর্ববর্তী ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করো । ১+৪ *****

উত্তর –  বক্তা যার কাছে বিদায় চেয়েছেন: আলোচ্য উদ্ধৃতির বক্তা হলেন রক্ষঃ কুল-মানবর্ধক ইন্দ্রজিৎ। তিনি রাঘববিরোধী যুদ্ধের প্রাক্সগ্নে তাঁর সহধর্মিণী প্রমীলা দেবীর কাছে বিদায় চেয়েছেন।

পূর্ববর্তী ঘটনার বর্ণনা: প্রমোদকাননে বামাক্রীড়ারত ইন্দ্রজিৎ প্রভাষারুপী লক্ষ্মীদেবীর কাছে যখন প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ পেলেন এবং তার শোকে স্বয়ং মহামতি পিতা রাবণের যুদ্ধসাজে সজ্জিত হওয়ার কথা জানতে পারলেন, তখন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধের আগুনে প্রজ্বলিত হয়ে এরপর তিনি পুষ্পমাল্য ছিঁড়ে ফেলেছেন; দূরে নিক্ষিপ্ত করেছেন অলংকাররাজি আর আত্মধিক্কারের মধ্য দিয়ে তুরঙ্গমের বেগে রথারোহণ পূর্বক রাঘববিরোধী যুদ্ধের জন্য গমনোদ্যত হন। এই সময়েই স্ত্রী প্রমীলা দেবী তাঁর পথরোধ করেছিলেন। স্বামীগতপ্রাণা প্রমীলা দেবীর অনুযোগ ছিল যে, স্বামী বিরহে তিনি এক দন্ডও প্রাণধারণে সমর্থ হবেন না। প্রমীলা সুন্দরী সুন্দর উপমা দিয়ে বুঝিয়েছেন যে, অরণ্যচারী মত্ত হস্তী যখন দ্রুতবেগে ধেয়ে চলে, তখন তার পা-কে বনলতা জড়িয়ে ধরলেও তার গতি রুদ্ধ হয় না ঠিকই কিন্তু সেই উদ্দাম উন্মত্ত হাতির পায়ে গুল্মলতার অংশবিশেষ থেকে যায়। অর্থাৎ ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধে যাওয়ার প্রাক্লগ্নে প্রমীলা দেবীর প্রেমের বন্ধনকে অস্বীকার করতে পারেননি। তিনি বলেছেন যে, ইন্দ্রজিৎকে প্রমিলা দেবী প্রেমের শক্তিতে জয় করেছেন। ইন্দ্রজিতের বীরত্ব, গৌরব, খ্যাতি ও ক্ষত্রিয় তেজ সমস্ত কিছুই হার মেনে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর স্ত্রী প্রমীলা দেবীকে চাঁদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁরই কল্যাণে তিনি দেশবৈরী রাঘবকে বধ করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধযাত্রায় প্রবৃত্ত হয়েছেন। বিদায়কালীন বিরহবিধুর লগ্নে তিনি কথা দিয়েছেন যে, শীঘ্রই যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সফলতার সঙ্গে তিনি প্রত্যাবর্তন করবেন। এইভাবে মধুসূদন একটি নাটকীয় দৃশ্যসজ্জার মাধ্যমে ইন্দ্রজিতের দাম্পত্যজীবনের একটি রোমান্টিক আবেশজড়িত অনুভবের বাণীমূর্তি সৃষ্টি করেছেন।

৫. “এই কি সাজে আমারে, দশাননাত্মজ/ আমি ইন্দ্রজিৎ,”কোন প্রসঙ্গে বক্তা কথাটি বলেছেন ? উদ্ধৃত কথায় বক্তার চারিত্রিক কোন্ গুণের পরিচয় মেলে ? ২+৩

উত্তর –  প্রসঙ্গ: আলোচ্য অংশটি ঊনবিংশ শতাব্দীর মহাকবি শ্রীমধুসুদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর অন্তর্গত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিতের ক্রুদ্ধ-গর্বিত উচ্ছ্বাস। প্রিয় ভাই বীরবাহু যখন রামচন্দ্রের হাতে নিহত হন, তখন প্রমোদকাননে বিলাসিতার আবেশমগ্ন ইন্দ্রজিৎ সে সংবাদ পাননি। কিন্তু প্রভাষারূপী লক্ষ্মীদেবী তাঁকে যখন এই সংবাদ জানান তখন তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছেন, এই কারণে যে, তিনি স্বয়ং রামচন্দ্রকে নিশারণে সংহার করেছিলেন। দেবীর কাছে তিনি যখন শুনলেন যে, মায়াবী মানব রামচন্দ্র দৈববলে পুনর্জীবন লাভ করেছেন, তখন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে পুষ্পমাল্য ছিঁড়ে ফেলেছেন। কনক বলয়, কুণ্ডল দূরে নিক্ষিপ্ত করেছেন এবং আত্মধিক্কারের সঙ্গে উদ্ধৃত কথাগুলি বলেছেন।

বক্তার চরিত্র: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষাদর্শের সমন্বয়ী রূপ প্রতিভাত হয়েছে ইন্দ্রজিতের চরিত্রের মধ্যে। মেঘনাদের মধ্যে তাই কোনো চারিত্রিক দুর্বলতার ভাব লক্ষিত হয়নি। বিনম্র শ্রদ্ধা, দেশপ্রীতি, ক্ষত্রিয় তেজ এবং বীরত্বের সুউচ্চ মহিমা বস্তার উদ্ধৃত বক্তব্যের মধ্যে পরিস্ফুট হয়েছে। বস্তুত, মেঘনাদ হলেন রাবণের অংশ শক্তি। পিতার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অগাধ ও অবাধ। কিন্তু সে পাপী নয়। বীরের ধর্ম হল শত্রু বিনাশ করা। যে ইন্দ্রজিৎ একদিন দেবরাজ ইন্দ্রকে যুদ্ধে পরাস্ত করে বন্দি করেছিলেন, তাঁর কাছে রামচন্দ্র নিতান্তই দুর্বল মানব। কিন্তু নিয়তির অমোঘ তাড়নায় সোনার লঙ্কা আজ শ্মশান-ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। দেশহিতৈষী ইন্দ্রজিতের কাছে এটা অসহ্য। পুত্র হিসেবে পিতার কর্মের সমালোচনা তাঁর কর্তব্য নয়; বরং পিতার গুণাবলিকে আদর্শ করে নিয়েই তিনি জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে চান। বিলাসিতা, বামাসঙ্গ, পুষ্প ক্রীড়া-এ সমস্তই তাঁর ক্ষণিকের দুর্বলতা ও বিভ্রান্তি। প্রবল পরাক্রমশালী যোদ্ধা হিসেবে তিনি এই দুর্বলতাকে অচিরেই কাটিয়ে উঠেছেন এবং জাতির সম্মান রক্ষার্থে তুরঙ্গমের গতিতে যুদ্ধযাত্রা করেছেন।

৬. “জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া;”– ‘মহাবাহু’ কাকে বলা হয়েছে ? তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন কেন ? মহাবাহু বিস্মিত হয়ে কী বলেছিলেন ? ১+২+২

উত্তর –  ‘মহাবাহু’: মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর অন্তর্গত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে কবি ইন্দ্রজিতকে ‘মহাবাহু’ বলে সম্বোধন করেছেন।

মহাবাহুর বিস্ময়ের কারণ: ইন্দ্রজিৎ হলেন মধুসুদনের মানস-আদর্শ। বিশেষত দেব-দৈত্য-নর রণে তিনি ছিলেন ত্রাসস্বরূপ এবং রাক্ষসকুলের ভরসা। বীরবাহুর মৃত্যু ইন্দ্রজিতের কাছে অদ্ভুত বিস্ময়ের ব্যাপার। কারণ, ইন্দ্রজিৎ তাঁর শক্তিবলে রঘুসৈন্যকে ধরাশায়ী করেছিলেন নিশারণে। যুদ্ধে তিনি অজেয়। শত্রুর কাছে সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত। তাই যে রামচন্দ্রকে তিনি হত্যা করেছিলেন, তিনি আবার কীভাবে পুনর্জীবন ফিরে পেয়ে প্রিয় ভাই বীরবাহুকে হত্যা করলেন, এটা তাঁর কাছে ঘোর বিস্ময়ের ঘটনা। আসলে এই বিস্ময়ের মধ্য দিয়েই কোথাও যেন তাঁর অন্তর্গত সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রাচীরে ফাটল ধরিয়েছিল।

মহাবাহুর বক্তব্য: মহাবাহু ইন্দ্রজিৎ প্রভাষারূপিণী লক্ষ্মী দেবীকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, কবে এবং কে তাঁর প্রিয়ানুজকে হত্যা করেছে। কেন-না তিনি নিশারণে রাঘবকে সংহার করেছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রচণ্ড শরে বৈরীদলে খন্ড খন্ড করে কেটেছিলেন। তাই, রামচন্দ্র কর্তৃক বীরবাহুর মৃত্যু তাঁর কাছে একাধারে বিস্ময়, দুঃখ ও ক্রোধের জন্ম দিয়েছিল। তিনি ছদ্মবেশী লক্ষ্মী দেবীকে সংশয়-দ্বিধা জর্জরিত উৎকণ্ঠায় প্রশ্ন করেছেন, “এ বারতা, এই অদ্ভুত বারতা, জননী/ কোথায় পাইলে তুমি, শীঘ্র কহ দাসে।“

৭. “এ বারতা, এ অদ্ভুত বারতা, জননি/কোথায় পাইলে তুমি, শীঘ্র কহ দাসে।” – কোন বার্তার কথা বলা হয়েছে ? তাকে অদ্ভুত বলার কারণ কি ? উক্ত প্রশ্নের উত্তরে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন ? ১+২+২ ****

উত্তর – কোন বার্তা: নবজাগ্রত যুক্তিবাদ, মানবতাবোধ ও স্বাদেশিক চেতনার পথিকৃৎ কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর অন্তর্গত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ছদ্মবেশী লক্ষ্মীদেবী রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিতকে কনকলঙ্কার দুর্দশাবিড়ম্বিত দুটি সংবাদ প্রদান করেছিলেন। সেগুলি হল-(১) রঘুবর রামচন্দ্রের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু; (২) স্বয়ং লঙ্কেশ্বর রাবণ রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ। ইন্দ্রজিতের কাছে এই বার্তাটিই ছিল অদ্ভুত।

অদ্ভুত বলার কারণ: ত্রিভুবনজয়ী বীর রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ ছদ্মবেশী দেবীর কাছ থেকে যে প্রিয়ানুজের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছিলেন তার সঙ্গে তার বাস্তব বুদ্ধির সংঘর্ষ বেঁধেছিল। তার কারণ-

প্রথমত: তিনি নিশারণে রামচন্দ্রের সৈন্যবাহিনীকে প্রচণ্ড শরে জর্জরিত করে খন্ড খন্ড করে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন, যা থেকে তাঁর দৃঢ় ধারণা জন্মেছিল যে, রাঘব সৈন্যের পরাভব সুনিশ্চিত।

দ্বিতীয়ত: তিনি স্বয়ং রাঘবকে নাগপাশে বন্দি করে তাঁকে মৃত্যু দান করেছিলেন। সেই রামচন্দ্রের পুনর্জীবনলাভ তাঁর কাছে অপার বিস্ময়।

তৃতীয়ত: বীরবাহু বীরত্বের দিক থেকে রাঘব সেনাপতিদের চেয়ে অনেক উঁচুতে। তাঁর নিদারুণ পরাজয় ও মৃত্যু অবিশ্বাস্য ঘটনা।

এই সমস্ত কারণেই প্রভাষা ধাত্রী-ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মীর প্রেরিত সংবাদ তার কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছে।

উদ্দিষ্ট ব্যক্তির উত্তর: বিস্ময়বিমূঢ় ইন্দ্রজিতের সংশয় ও দ্বিধার অবসান ঘটিয়ে দেবী লক্ষ্মী উত্তরে জানিয়েছিলেন যে, সীতাপতি রামচন্দ্র আসলে মায়াবী মানব। অদ্ভুত ঐন্দ্রজালিক শক্তিতে তিনি বলীয়ান। মায়াবলে রামচন্দ্র মৃত সঞ্জীবনী সুধা পান করে পুনর্জীবন লাভ করেছেন এবং পুনরায় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। যে যুদ্ধের পরিণতি বীরবাহুর মতো বীরের অকালমৃত্যু। শুধু তাই নয়, দেবী নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রাচুর্যের প্রাকার স্বর্ণলঙ্কাকে আসন্ন ধ্বংসের হাত থেকে একমাত্র রক্ষ: চূড়ামণি ইন্দ্রজিৎ উদ্ধার করতে সমর্থ। তাই তাঁর উচিত শীঘ্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে মৃত্যুমিছিলের গতি রোধ করা এবং স্বর্ণলঙ্কার অস্তিত্বকে পুনরুদ্ধার করা।

আরও পড়ুন –

জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর

আফ্রিকা কবিতা প্রশ্ন উত্তর

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর

বহুরূপী গল্প প্রশ্ন উত্তর

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন 2026

বাংলা ব্যাকরণ: সমাস

প্রতিবেদন ও সংলাপ রচনা সাজেশন 2026

রচনা লেখার নিয়ম

YouTube –Samim Sir

Leave a Comment