আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারা প্রশ্ন উত্তর / Class 11 / 2nd semester / একাদশ শ্রেণী বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার / bangla sahityer itihas question answer
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারা প্রশ্ন উত্তর
(১) বাংলা সাহিত্যের ধারায় বঙ্গদর্শন নামক পত্রিকার গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো । 5
উত্তর – বাংলা সাময়িক পত্রের ধারায় বঙ্গদর্শন নামক মাসিক সাময়িক পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। এটির প্রথম আত্মপ্রকাশ হয় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দের ১ বৈশাখ আসে। এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন প্রথম চার বছর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।এরপর অনিয়মিতভাবে কিছুদিন শ্রীশচন্দ্র মজুমদার এবং কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯০২-১৯০৫ পর্যন্ত এই পত্রিকা নতুন নাম ‘নবপর্যায় বঙ্গদর্শন’ নামে সম্পাদনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
গুরুত্ব: উনিশ শতকের বাঙালির প্রাণের ক্ষুধা ও হৃদয়ের পিপাসা নিবৃত্ত করে এই সাময়িক পত্রিকা পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি শিক্ষাকে মাতৃভাষার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। ইতিহাস, জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিবন্ধ সৃষ্টির সূচনা হয় বঙ্কিমবাবুর উদ্যোগে। ‘বিষবৃক্ষ’, ‘আনন্দমঠ’-সহ বহু বিখ্যাত বঙ্কিমি সৃষ্টি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ উপন্যাস নবপর্যায়ে প্রকাশিত হয়। ভারত আত্মার শাশ্বত মহিমা উপলব্ধিতে ও পরম সংকটে দেশপ্রেমের উদ্বোধনে বঙ্গদর্শন-এর ভূমিকা চিরস্মরণীয়। সমকালীন শিক্ষিত বাঙালির ঘরে ঘরে ও মনে-মননে নবযুগের প্রথম বাণী পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব নিয়েছিল এই পত্রিকা। বিশেষত বাংলা সাহিত্যের বাঁক বদলের পালাগানের বৈশিষ্ট্যগুলি এই পত্রিকা চিহ্নিত করেছিল স্পষ্ট দাগে।
(২) বাংলা সাময়িক পত্রের ধারায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো ।
উত্তর – বাংলা সাময়িক পত্রের ইতিহাসে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা নামক মাসিক পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। এই পত্রিকাটি ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল।
সম্পাদক: প্রথমে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পত্রিকার মুখপত্র ও সম্পাদক ছিলেন। তারপর ১৮৪৩ থেকে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর সম্পাদনা করেন অক্ষয় কুমার দত্ত মহাশয়। তারপর ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষিতিন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ গুণীজনও সম্পাদনা করেছেন।
গুরুত্ব: প্রথম দিকে দেবেন্দ্রনাথের ব্রাহ্মধর্মমত প্রচারের প্রাধান্য থাকলেও পরবর্তীকালে অক্ষয়কুমার দত্তের মননশীল প্রতিভার আলোকে সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, জীবনী, পুরাতত্ত্ব, সমাজনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয় সংবলিত জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার সুবাদে এই পত্রিকা ক্রমেই আধুনিক বাঙালির যথার্থ আত্মদর্শন হয়ে ওঠে। বিশেষত এই পত্রিকার জ্ঞানবাদী মননধর্মী তত্ত্বজ্ঞ চিত্তজাগরণী প্রবন্ধ উনিশ শতকে বাঙালির মানস মুক্তিকে ত্বরান্বিত করেছিল।
এই পত্রিকার লেখকগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম নাম হল দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অক্ষয় কুমার দত্ত, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজনারায়ণ বসু প্রমুখ। এই সমস্ত প্রাতঃস্মরণীয় লেখকদের লেখা সমৃদ্ধ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা উনিশ শতকের বাঙালির রুচি গঠনে ও প্রগতিশীল মানসিকতা গঠনে প্রভূত সহায়তা করেছিল।
(৩) বাংলা সাহিত্যের ধারায় সমাচার দর্পণ এর গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো । ৫
উত্তর – বাংলা সাময়িক পত্রের ধারায় প্রথম সাপ্তাহিক সাময়িক পত্র হল সমাচার দর্পণ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মে, শনিবার। এই পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন মার্শম্যান। সেই সঙ্গে আনুসঙ্গিক কাজকর্ম করতেন পণ্ডিত মুন্সিরাই। এই পত্রিকাটি শ্রীরামপুর প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হত।
গুরুত্ব: এই পত্রিকা প্রকাশের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্মের কর্মপ্রণালীর ও হিন্দু সমাজের নিন্দা প্রচার ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ধীরে ধীরে তা সমকালীন বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম ইত্যাদি বহুমুখী বিকাশের দিকে কৌতূহলী প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে। নারীশিক্ষা, সতীদাহ নিবারণ চেষ্টা-এই রকমের নানারকম রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পরিচয়ও এতে মুদ্রিত হত। এই সমাচার দর্পণ পত্রিকাটির দ্বারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালি সমাজ বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। দেশীয় সমাজে কোথায় কী ঘটছে, কোথায় সমাজের উৎকর্ষ-অপকর্ষ দেখা দিচ্ছে, সমাজের সামগ্রিক শিক্ষা-সংস্কার, গ্রন্থ পরিচয় ইত্যাদি বিষয়ে এই পত্রিকা আদর্শ সাংবাদিকতার ধারা মেনে চলেছিল। এই সাময়িক পত্র প্রথমে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে প্রকাশিত হলেও পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে প্রগতিশীল সাময়িক পত্রিকা রূপে সুনাম কুড়িয়েছিল।
(৪) বাংলা সাহিত্যের ধারায় সম্বাদ প্রভাকর নামক সাময়িক পত্রের গুরুত্ব লেখো । ৫
উত্তর – বাংলা সাময়িক পত্রের ধারায় সম্বাদ প্রভাকর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম। যোগেন্দ্র মোহন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় কবি ঈশ্বর গুপ্তের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি প্রথমে সাপ্তাহিক, তারপর বারত্রয়িক অর্থাৎ সপ্তাহে তিনদিন, ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে এটি মাসিক সংস্করণ রূপে প্রকাশিত হত। এর আগে ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুন থেকে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে বেশ কিছুদিন প্রকাশিত হয়েছিল।
গুরুত্ব: বাংলা সাময়িক পত্রপত্রিকার ধারায় প্রথম সংবাদ পরিবেশনের নিয়মনীতি মেনেই সংবাদ, সাহিত্য, রাজনীতি, শিক্ষা, সমাজ, ধর্ম সব কিছু নিয়ে সুচারুরূপে পরিবেশিত হত। এই প্রথম ধর্মকেন্দ্রিকতা বা সংস্কারাচ্ছন্নতার গণ্ডি ছিন্ন করে সংবাদ ও সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটাল এই ‘সম্বাদ প্রভাকর’ পত্রিকাটি। এই পত্রিকায় লিখতেন স্বয়ং ঈশ্বর গুপ্ত, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ দিপাল ব্যক্তিত্ব। সামাজিক, রাজনৈতিক বা অন্যান্য সংবাদ পরিবেশনের চাইতে এই পত্রিকা সাহিত্য বিষয়ক চর্চা বেশি করে করত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘ঈশ্বর গুপ্তের জীবনচরিত ও কবিত্ব’ গ্রন্থে সুন্দর বলেছেন: “এই প্রভাকর ঈশ্বর গুপ্তের অদ্বিতীয় কীর্তি। মধ্যে একবার প্রভাকর মেঘে ঢাকা পড়িয়াছিলেন বটে। কিন্তু আবার পুনরুদিত হইয়া অদ্যাপি কর বিতরণ করিতেছেন। বাংলা সাহিত্য এই প্রভাকরের নিকট বিশেষ ঋণী।”
(৫) বাংলা সাময়িক পত্রের ধারায় ভারতী-র গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো । ৫
উত্তর – বাংলা সাময়িক পত্রিকার ধারায় ভারতী নামক মাসিক পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দের শ্রাবণ মাসে এই পত্রিকা প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। এই পত্রিকার কর্ণধার ছিলেন জ্যোতিরিন্দ্র নাথ ঠাকুর। এই পত্রিকার ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট সাতজন সম্পাদক ছিলেন। যথা-দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বর্ণকুমারী দেবী, হিরন্ময়ীদেবী ও সরলাদেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় ও সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়।
গুরুত্ব: ভারতী পত্রিকা মূলত ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে হলেও বহু বিশিষ্ট সাহিত্য ব্যক্তিত্বদের সংস্পর্শে বিদ্যার দুই অঙ্গ জ্ঞানোপার্জন ও ভাবস্ফূর্তির অসাধারণ স্ফুরণ ঘটেছিল। গদ্যরীতির বিবর্তনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্মারক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাষ্ট্রনৈতিক প্রবন্ধগুলি প্রামাণ্য দলিল। তাঁর প্রচুর ছোটোগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা যেমন এইখানে প্রকাশিত, তেমনি প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও গদ্যশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মপ্রকাশের প্ল্যাটফর্ম এই পত্রিকা। বিশেষত স্বদেশী ভাষার আলোচনা, জ্ঞানোপার্জন, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধি ইত্যাদি ইতিবাচক উদ্দেশ্য নিয়ে পত্রিকাটি জনপ্রিয় হয়েছিল। এই পত্রিকাতেই প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ছোটোগল্প ‘ভিখারিনী’ ও ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’-র কবিতা গুচ্ছ। প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয়তেই লেখা হয়েছিল- “বাণীচ্ছল স্বদেশীর ভাষার আলোচনাই আমাদের উদ্দেশ্য।“
(৬) বাংলা সাহিত্যে সবুজপত্র পত্রিকার গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো । ৫
উত্তর – বাংলা সাহিত্যের ধারায় যে সাময়িক পত্রের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে সবুজপত্র এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ‘বীরবল’ ছদ্মনামের আড়ালে প্রমথ চৌধুরী। এই পত্রিকার প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ বৈশাখ। এই পত্রিকার মুখ্য উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং।
গুরুত্ব: বিজ্ঞাপন বা পাঁচমিশালি সংবাদ আলোচনা বাদ দিয়ে এই পত্রিকা মননশীল সাহিত্য সৃষ্টির মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এই পত্রিকাই সর্বপ্রথম চলিতভাষাকে মার্জিত পরিশীলিত বিদগ্ধ মনের প্রতিফলক হিসেবে এক নতুন পর্বের দিকনির্দেশক। বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য ইত্যাদি নানা বিষয়ে মননশীলতা, প্রকাশভঙ্গির বক্রতা, বৈদগ্ধ্য এ পত্রিকার বিশিষ্টতা। এখানে প্রকাশিত হয়েছিল রবি ঠাকুরের ‘সবুজের অভিযান’ কবিতা, ‘কালান্তর’ প্রবন্ধ, ‘অপরিচিতা’, ‘হৈমন্তী’ গল্প, অতুলচন্দ্র গুপ্তের ‘কাব্যজিজ্ঞাসা’র মতো অনন্য সৃষ্টি। এই পত্রিকায় যাঁদের লেখা প্রকাশিত হত তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অতুলচন্দ্র গুপ্ত, কিরণশংকর রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এই সবুজপত্র পত্রিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যটি হল চলিত ভাষার একছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে এই চলিত ভাষার মধ্যে ছিল মার্জিত পরিশীলিত বিদগ্ধ মনের প্রতিফলন। যৌবনের প্রাণধর্মই ছিল সবুজপত্রের চালিকাশক্তি ।
(৭) বাংলা সাহিত্যের ধারায় কল্লোল পত্রিকার গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করো । ৫
উত্তর – বাংলা সাহিত্যের ধারায় যে-কয়টি সাময়িক পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল তার কল্লোল নামক মাসিক পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ এবং সহ-সম্পাদক ছিলেন গোকুল চন্দ্র নাগ। এই পত্রিকার প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১ বৈশাখ।
গুরুত্ব: কল্লোল ছিল রবীন্দ্রনাথ থেকে সরে এসে উদ্ধত যৌবনের ফেনিল, উদ্দামতা, সমস্ত বাধা বন্ধনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত বিদ্রোহ, স্থবির সমাজের পচা গলা ভিত্তিকে উৎখাত করার আলোড়ন। নবীনতর আধুনিক নিম্নগত মধ্যবিত্তের এই ঘরসংসারী সাহিত্যিকদের মূল বৈশিষ্ট্যই ছিল বিদ্রোহ, প্রতিবাদ, অবদমিত কামনা-বাসনা আর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই। শক্তিশালী নবীন লেখকদের সচেতন রবীন্দ্র বিরোধিতা একমাত্র লক্ষ্য না হলেও অনেকের লেখায় তা স্পষ্ট। এই পত্রিকা যাঁদের লেখায় সমৃদ্ধ হত তাঁরা কল্লোল ত্রয়ী নামে সুপরিচিত ‘অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত-প্রেমেন্দ্র মিত্র-বুদ্ধদেব বসু’, মোহিতলাল মজুমদার, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, নজরুল ইসলাম, যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, বিষ্ণু দে, জগদীশচন্দ্র গুপ্ত, জীবনানন্দ দানা, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। বাংলা সাহিত্যের পালাবদলের দিকটিকে এই কল্লোল পত্রিকা স্পষ্ট দাগে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও রবীন্দ্র প্রভাব মুক্তি এই পত্রিকার মূল সুর, তথাপি স্বতন্ত্র ধারাস্রোত সৃষ্টিতে এই পত্রিকা অন্যতম সফল একটি দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন –
বই কেনা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর
লালন শাহ ফকিরের গান প্রশ্ন উত্তর
ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্প প্রশ্ন উত্তর
YouTube – Samim Sir