কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর // নবম শ্রেণী // Class 9 Kolingadeshe Jhorbristi Kobitar Krosno Uttor
কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর
MCQ প্রশ্ন উত্তর
১. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটির রচয়িতা হলেন – (ক) মুকুন্দ চক্রবর্তী (খ) ভারতচন্দ্র রায় (গ) দ্বিজমাধব চক্রবর্তী (ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর -(ক) মুকুন্দ চক্রবর্তী
২. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটি কোন কাব্যের অন্তর্গত ? – (ক) অন্নদামঙ্গল (খ) চন্ডীমঙ্গল (গ) মনসামঙ্গল (ঘ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর – (খ) চন্ডীমঙ্গল
৩. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশের কবি মুকুন্দের উপাধি হল – (ক) খেলনকবি (খ) রায়গুণাকর (গ) কবিকঙ্কণ (ঘ) কেতকাদাস
উত্তর – (গ) কবিকঙ্কণ
৪. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটি চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন খণ্ডের অন্তর্গত ? – (ক) দেব খণ্ড (খ) আখেটিক খণ্ড (গ) বন্দনা খন্ড (ঘ) বণিক খণ্ড
উত্তর – (খ) আখেটিক খণ্ড
৫. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।।”- ‘আপনার’ বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে ? – (ক) গুজরাতবাসীর (খ) কলিঙ্গবাসীর (গ) অযোধ্যাবাসীর (ঘ) ধর্মনগরবাসীর
উত্তর – (খ) কলিঙ্গবাসীর
৬. “ ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।”– ‘চিকুর’ শব্দের অর্থ হল – (ক) মেঘ (খ) বৃষ্টি (গ) বিদ্যুৎ (ঘ) মেঘের গর্জন
উত্তর – (গ) বিদ্যুৎ
৭. “ঈশানে উড়িল মেঘ”- ‘ঈশান কোণ’ বলতে বোঝায় – (ক) উত্তর-পূর্ব কোণ (খ) দক্ষিণ-পূর্ব কোণ (গ) দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ (ঘ) উত্তর কোণ
উত্তর – (ক) উত্তর-পূর্ব কোণ
৮. “নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল।”- ‘নিমিষেকে’ শব্দটির অর্থ হল – (ক) মুহূর্তের মধ্যে (খ) কালো বর্ণে (গ) এক দিনে (ঘ) শেষকালে
উত্তর – (ক) মুহূর্তের মধ্যে
৯. “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।”- কোন প্রজাদের কথা বলা হয়েছে ? – (ক) গুজরাতবাসী (খ) কলিঙ্গবাসী (গ) ধর্মনগরবাসীঘ (ঘ) কৃষ্ণনগরবাসী
উত্তর – (খ) কলিঙ্গবাসী
১০. “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।”- প্রজাদের বিষাদের কারণ কী ? – (ক) কলিঙ্গে ঝড়বৃষ্টি (খ) কলিঙ্গে ভূমিকম্প (গ) কলিঙ্গে অগ্নিসংযোগ (ঘ) কলিঙ্গে খরা
উত্তর – (ক) কলিঙ্গে ঝড়বৃষ্টি
১১. “ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।” – যে কারণে এ কথা বলা হয়েছে, তা হল –(ক) আনন্দে (খ) বিপাকে (গ) দুঃখে (ঘ) ভয়ে
উত্তর – (খ) বিপাকে
১২. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।”- ‘রড়’ শব্দটির অর্থ হল – (ক) পালানো বা দৌড় (খ) কাঁদা (গ) হাসি (ঘ) দুঃখ
উত্তর – (ক) পালানো বা দৌড়
১৩. কলিঙ্গে ঝড়বৃষ্টিতে ধুলায় আচ্ছাদিত হল – (ক) বাড়িঘর (খ) মানুষ (গ) সবুজ মাঠ ও গাছ বা হরিত (ঘ) জলাশয়
উত্তর – (গ) সবুজ মাঠ ও গাছ বা হরিত
১৪. চারিদিকে মেঘে জল দিয়েছিল – (ক) অষ্ট গজরাজ (খ) অষ্ট বালিকা (গ) সপ্তহস্তী (ঘ) মেঘ বালিকারা
উত্তর – (ক) অষ্ট গজরাজ
১৫. “.. বেঙ্গ-তড়কা বাজ।” – ‘তড়কা’ শব্দের অর্থ কী ? – (ক) উড়ে বেড়ানো (খ) লাফিয়ে পড়া (গ) থেমে থাকা (ঘ) বন্ধ থাকা
উত্তর – (খ) লাফিয়ে পড়া
১৬. “করি-কর সমান বরিষে জলধারা।” – ‘করি-কর’ শব্দটির অর্থ হল – (ক) হাতির শুঁড় (খ) বাঘের ডাক (গ) ঘোড়ার ডাক (ঘ) বিড়ালের ডাক
উত্তর – (ক) হাতির শুঁড়
১৭. ‘জলে মহী একাকার’ হওয়ার ফলে কী হল ? – (ক) পথ হারাল (খ) বাড়ি ভাঙল (গ) মানুষ ডুবে গেল (ঘ) বাজ পড়ল
উত্তর – (ক) পথ হারাল
১৮. “কারো কথা শুনিতে না পায় কোনো জন।” – কারও কথা কেউ শুনতে না পাওয়ার কারণ কী ? – (ক) মেঘের গর্জন (খ) বৃষ্টির শব্দ (গ) হাতির গর্জন (ঘ) ঘোড়ার রব
উত্তর – (ক) মেঘের গর্জন
১৯. ঝড়বৃষ্টির বিপদে কলিঙ্গবাসী যাঁকে স্মরণ করেছে – (ক) মহাদেব (খ) জৈমিনি (গ) ইন্দ্র (ঘ) চন্ডী
উত্তর – (খ) জৈমিনি
২০. “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।” – কলিঙ্গের মানুষ জৈমিনিকে স্মরণ করেছেন, কারণ – (ক) তিনি বজ্রকে নিবারণ করতে পারেন (খ) তিনি বৃষ্টি বন্ধ করার বিদ্যা আয়ত্ত করেছেন (গ) তিনি তাঁদের অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন (ঘ) জৈমিনি তাঁদের রাজা, বিপদে তিনিই সাহায্য করতে পারেন
উত্তর – (ক) তিনি বজ্রকে নিবারণ করতে পারেন
২১. “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।” – ‘সোঙরে’ শব্দের অর্থ – (ক) স্মরণ করা (খ) ভুলে যাওয়া (গ) অভিশাপ দেওয়া (ঘ) গান করা
উত্তর – (ক) স্মরণ করা
২২. “… ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে।” – ভুজঙ্গ যেখানে ছিল – (ক) গাছের ডালে (খ) উঠোনে (গ) গর্তে (ঘ) সসবুজ মাঠে
উত্তর – (গ) গর্তে
২৩. গর্ত ছেড়ে জলে ঘুরে বেড়িয়েছে – (ক) ইঁদুর (খ) পোকা (গ) ব্যাংঘ (ঘ) সাপ
উত্তর – (ঘ) সাপ
২৪. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে একটানা কতদিন ঝড়বৃষ্টি চলেছিল ? – (ক) সাত দিন (খ) পাঁচ দিন (গ) দশ দিন (ঘ) দু’দিন
উত্তর – (ক) সাত দিন
২৫. ঘরের চাল ভেদ করে বৃষ্টির সঙ্গে আর কী পড়েছে ? – (ক) পাথর (খ) শিল (গ) মাটি (ঘ) কাদা
উত্তর – (খ) শিল
২৬. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে শিল পড়াকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ? – (ক) ভাদ্র মাসের তাল (খ) বৈশাখ মাসের আম (গ) শীতের শিউলি (ঘ) শরতের কাশ
উত্তর – (ক) ভাদ্র মাসের তাল
২৭. “আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর।” – এখানে ‘হেজ্যা’ শব্দের অর্থ হল – (ক) ভেসে যাওয়া (খ) ডুবে যাওয়া (গ) জলে ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়া (ঘ) ভেঙে যাওয়া
উত্তর – (ক) ভেসে যাওয়া
২৮. “চন্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান।” – বীর হনুমান হলেন – (ক) ইন্দ্রের পুত্র (খ) ভীমের পুত্র (গ) চন্ডীর পুত্র (ঘ) পবনের পুত্র
উত্তর – (ঘ) পবনের পুত্র
২৯.. চন্ডীর আদেশে কে মঠ অট্টালিকা ভেঙেছেন ? – (ক) রাম (খ) হনুমান (গ) রাবণ (ঘ) লক্ষ্মণ
উত্তর – (খ) হনুমান
৩০. বীর হনুমান কার আদেশে মঠ অট্টালিকা ভেঙেছেন ? – (ক) চণ্ডী (খ) সীতা (গ) মনসা (ঘ) অন্নদা
উত্তর – (ক) চণ্ডী
৩১. “… আদেশ পান বীর হনুমান।” – দেবী চণ্ডী হনুমানকে যে আদেশ দিয়েছেন, তা হল – (ক) কলিঙ্গদেশে বৃষ্টিবাদল বন্ধ করা (খ) কলিঙ্গদেশে বড়ো বড়ো ঢেউ সৃষ্টি করা (গ) কলিঙ্গদেশে ঘরে ঘরে অগ্নিসংযোগ করা (ঘ) কলিঙ্গদেশের মঠ, অট্টালিকা চূর্ণবিচূর্ণ করা
উত্তর – (ঘ) কলিঙ্গদেশের মঠ, অট্টালিকা চূর্ণবিচূর্ণ করা
৩২. ‘অম্বিকামঙ্গল গান’ গেয়েছেন – (ক) দেবকীনন্দন (খ) রবিকঙ্কণ (গ) শ্রীহরিকঙ্কণ (ঘ) শ্রীকবিকঙ্কণ
উত্তর – (ঘ) শ্রীকবিকঙ্কণ
SAQ
১. কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’কাব্যাংশটি কার লেখা, কোন কাব্যের অন্তর্গত ?
উত্তর – ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটি কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘চন্ডীমঙ্গল’ কাব্যের অন্তর্গত ।
২. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন খণ্ডের অন্তর্গত ?
উত্তর – ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটি ‘চন্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত ।
৩. শ্রীকবিকঙ্কণ কার উপাধি ?
উত্তর – শ্রীকবিকঙ্কণ ‘চন্ডীমঙ্গল’ কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি ।
৪. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।” – কলিঙ্গবাসী নিজেদেরঅঙ্গ দেখতে পাচ্ছে না কেন ?
উত্তর – চারদিকের আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন হওয়ায় সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে গেছে, ফলে কলিঙ্গবাসী নিজেদের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছেন না ।
৫. “চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।” -‘চারিমেঘ’ কী কী ?
উত্তর – ‘চারি মেঘ’ হল – সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর এবং দ্রোণ ।
৬. উচ্চনাদে কলিঙ্গে কীসের ডাক শোনা গিয়েছে ?
উত্তর – ঘন মেঘে ঢাকা কলিঙ্গের আকাশে জোরে জোরে মেঘের ডাক শোনা গিয়েছে ।
৭. “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – মন্তব্যটির অর্থ লেখো। [অথবা], কলিঙ্গের প্রজাদের মন বিষাদগ্রস্ত কেন ?
উত্তর – চারদিক মেঘে ঢাকা অবস্থায় মুশলধারে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঘনঘন মেঘের ডাকে প্রজারা ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কায় বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ।
৮. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।” – কোন বিপাকে পড়ে প্রজারা পালিয়েছিল ?
উত্তর – মুশলধারায় বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ভয়ংকর ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হওয়ায় আসন্ন বিপদের কথা ভেবে প্রজারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল ।
৯. “ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত” – লাইনটির অর্থ লেখো।
উত্তর – উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটির অর্থ হল সবুজ শস্যখেত ধুলোয় ঢেকে গেল ।
১০. “… প্রজা চমকিত।”– কোথাকার প্রজা কেন চমকিত হল ?
উত্তর – বিধ্বংসী ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে সমগ্র কলিঙ্গদেশ ধুলোয় ঢেকে যায় এবং প্রবল দুর্যোগে শস্যখেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখানকার প্রজারা চমকিত হয়।
১১. চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।” – ‘চারি মেঘ’- এর নাম লেখো।
উত্তর – ‘চারি মেঘ’ হল সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর এবং দ্রোণ ।
১২. চারদিকে মেঘে জল দেয় কারা ?
উত্তর – কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সময় চারদিকে মেঘে জল দিয়েছিল ‘অষ্ট গজরাজ’ বা আটটি শ্রেষ্ঠ হাতি ।
১৩. “করি-কর সমান বরিষে জলধারা” – ‘করি-কর’ শব্দের অর্থ কী ?
উত্তর – ‘করি’ শব্দের অর্থ হাতি’ ও ‘কর’ অর্থ হাত । কিন্তু ‘করি-কর’ এই শব্দবন্ধে উল্লিখিত অংশে হাতির শুঁড় বুঝিয়েছে ।
১৪. “কারো কথা শুনিতে না পায় কোনো জন।” – কারও কথা শুনতে না পাওয়ার কারণ কী ?
উত্তর – প্রবল বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বারবার মেঘের প্রবল গর্জনে কলিঙ্গবাসীরা কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছিল না ।
১৫. মেঘ ঝড়বৃষ্টির থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী কার কথা স্মরণ করেছেন ? [ অথবা], কলিঙ্গবাসী জৈমিনিকে স্মরণ করে কেন ?
উত্তর – মেঘ ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বজ্রপাতেরও হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী ঋষি জৈমিনির কথা স্মরণ করেছেন ।
১৬. জৈমিনি কে ?
উত্তর – ঋষিপুরুষ জৈমিনি হলেন মীমাংসা দর্শনের রচয়িতা এবং ব্যাসদেবের শিষ্য ।
১৭. “না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ।” – রবির কিরণ দেখতে না পাওয়ার কারণ কী ?
উত্তর – ভয়ংকর কালো মেঘে চারদিক ঢেকে গিয়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কেউ সূর্যরশ্মি দেখতে পাচ্ছিল না ।
১৮. গর্ত ছেড়ে কারা জলে ভেসে বেড়াচ্ছে ?
উত্তর – প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় গর্ত ছেড়ে সাপ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে ।
১৯. কলিঙ্গদেশে কত দিন টানা বৃষ্টিপাত হয়েছিল ?
উত্তর – কলিঙ্গদেশে টানা সাত দিন প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছিল ।
২০. সাত দিনের বৃষ্টিতে কৃষিকাজ ও ঘরবাড়ির কী ক্ষতি হল ?
উত্তর – সাত দিনের বৃষ্টিতে শস্যখেত জলে ডুবে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়ে গেল এবং প্রবল শিলাবৃষ্টিতে বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেল ।
২১. “ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।”- কবি কোন বিষয়ের সঙ্গে এমন তুলনা করেছেন ?
উত্তর – প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে ঘরের চাল ভেদ করে যে শিল মেঝেতে এসে পড়ে তার সঙ্গে ভাদ্র মাসের পাকা তালের তুলনা করা হয়েছে ।
২২. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে শিল পড়াকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ?
উত্তর – ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে বড়ো আকারের শিল পড়াকে ভাদ্র মাসে তাল পড়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ।
২৩. “চন্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান।”- আদেশ পেয়ে হনুমান কী করেছিল ?
উত্তর – দেবী চন্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান মঠ, অট্টালিকা ভেঙে খানখান করেছিল ।
২৪. “উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল।” -এর কারণ কী ?
উত্তর – পর্বতের সমান নদীর ঢেউয়ের দাপটে কলিঙ্গদেশের বাড়িঘর জলে ভাসতে ভাসতে টলমল করছিল ।
২৫. চন্ডীর আদেশে নদনদী কী করে ?
উত্তর – চন্ডীর আদেশে নদনদীরা ছুটে যায়, আর চারদিকে তারা পর্বতের সমান ঢেউ তোলে ।
মার্ক – ৩ প্রশ্ন উত্তর
১. “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।” – জৈমিনি কে ? কলিঙ্গবাসীর জৈমিনিকে স্মরণের কারণ কী ? ১+২
উত্তর – জৈমিনির পরিচয়: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে উল্লিখিত জৈমিনি হলেন এক ঋষি। এই ঋষি পূর্ব মীমাংসাদর্শন-এর রচয়িতা । বেদের কর্মকান্ডের সূত্রগুলিকে সুসংবদ্ধ ও সংশোধন করা তাঁর প্রধান কৃতিত্ব।
কলিঙ্গবাসীর জৈমিনিকে স্মরণের কারণ: কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎ ঘন কালো মেঘ জমে ওঠে। আকাশভাঙা মেঘ থেকে বৃষ্টি নামে মুশলধারায়। মেঘের গম্ভীর গর্জন, ঘনঘন বজ্রপাত, ঝড়ের প্রবল তান্ডবে কলিঙ্গবাসী ভীত হয়ে পড়ে। এই ভীষণ বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার আশায় তারা ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।
২. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।” – কখন এবং কেন এরকম হয়েছিল ? ১+২
উত্তর – প্রসঙ্গ: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর আলোচ্য কবিতায় কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে এই ঘটনা ঘটেছিল ।
কারণ: হঠাৎই কলিঙ্গদেশে ভয়ংকর প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দেয়। আকাশ ‘ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায়। ফলে সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। কালো মেঘের বুক চিরে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। অন্ধকার এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে, তা ভেদ করে প্রজাদের নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখার উপায় থাকে না।
৩. “চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।” – মুশলধারে জলবর্ষণের কারণ কী ? ১+২
উত্তর – জলবর্ষণের কারণ: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে কলিঙ্গদেশের আকাশ হঠাৎ ঘন কালোমেঘে ছেয়ে যায়। গাঢ় অন্ধকারে নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখতে পান না কলিঙ্গবাসী। ঈশান কোণে ঘন মেঘের জমায়েতে চারদিক অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায়। প্রবল মেঘের গর্জন, ঘনঘন বিদ্যুতের ঝিলিকে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর আওয়াজ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সারা আকাশ ঢেকে যায় কালোমেঘে। তারপরই মেঘে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয় কলিঙ্গদেশে।
৪. “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রজাদের বিষাদের কারণ আলোচনা করো। ১+২
উত্তর – প্রসঙ্গ: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিটিতে কলিঙ্গদেশের প্রজাদের কথা বলা হয়েছে।
বিষাদের কারণ: কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎ প্রচুর মেঘ জমাট বাঁধে। ঈশান কোণে জমাটবাঁধা মেঘ সারা আকাশ ঢেকে ফেললে সর্বত্র অন্ধকার নেমে আসে। উত্তরের প্রবল বাতাসে দূর থেকে মেঘের গম্ভীর আওয়াজ ভেসে আসে। মেঘের প্রবল গর্জন ও ঘনঘন বিদ্যুৎচমকের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাত। মহাপ্লাবনের আশঙ্কায় প্রজারা আতঙ্কিত ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
৫. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।” -‘রড়’ শব্দের অর্থ কী ? কোথাকার প্রজারা কী কারণে বিপাকে পড়েছিল ? ১+২
উত্তর – ‘রড়’ শব্দের অর্থ: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত ‘রড়’ শব্দের অর্থ ‘পালিয়ে যাওয়া’ ।
বিপাকে পড়ার কারণ: দেবী চণ্ডীর ইচ্ছা অনুযায়ী কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টি বিপর্যয় ডেকে আনে। আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যায়। ঘন অন্ধকারে প্রজাদের নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখার উপায় থাকে না। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের গম্ভীর গর্জন ও ঝড়ের তাণ্ডবে সেখানকার প্রজারা বিপদের | আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
৬. “না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ।” – কারা, কেন রবির কিরণ দেখতে পায়নি ? ১+২
উত্তর – উদ্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ: উদ্ধৃতাংশটিতে ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলিঙ্গবাসীদের কথা বলা হয়েছে ।
রবির কিরণ দেখতে না পাওয়ার কারণ: কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎই প্রচুর মেঘ জমাট বাঁধে। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর আওয়াজের সঙ্গে শুরু হয় মুশলধারায় বৃষ্টি। কালো মেঘে চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় কলিঙ্গবাসীর পক্ষে দিনরাত্রির পার্থক্যও বোঝা সম্ভব হয় না। সাত দিন – একটানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে তারা একেবারেই সূর্যের আলো দেখতে পায় না।
৭. “ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।” – কীসের কথা বলা হয়েছে ? মন্তব্যটির প্রসঙ্গ আলোচনা করো। ১+২
উত্তর – উদ্দিষ্ট বিষয়: কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টির ফলে যে শিল পড়েছিল, এখানে তার কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গ: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে বর্ণনা করা হয়েছে যে আকাশ কালো-করা বিপুল মেঘরাশির সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা সৃষ্টি হয় কলিঙ্গে। টানা সাত দিনের একটানা বৃষ্টির সঙ্গে অনবরত শিলও পড়তে শুরু করে। ভাদ্র মাসে তাল পেকে যেমন গাছ থেকে পড়ে যায় ঠিক তেমনিভাবে অত্যন্ত বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ে প্রজাদের ঘরবাড়ি সব নষ্ট করে দেয়।
৮. “চন্ডীর আদেশে ধায় নদনদীগণ।” – এর ফলে কী হয়েছে ?
উত্তর – ফলশ্রুতি: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গের নদনদীগুলি ফুলে ফেঁপে উঠে প্রবাহিত হয়েছে। দেবীর আদেশেই কলিঙ্গে কালো ঘন মেঘের রাশির সঙ্গে বিদ্যুতের ঝলকানি ডেকে আনে প্রচণ্ড বৃষ্টি। সাত দিনের একটানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয় সমগ্র কলিঙ্গদেশ, জল-স্থল সব একাকার হয়ে যায়। দেবীর নির্দেশেই আবার কলিঙ্গের সমস্ত নদনদী ফুলেফেঁপে ধেয়ে আসে। নদনদীর পাহাড়সমান ঢেউয়ের আঘাতে কলিঙ্গদেশের ঘরবাড়ি সব ভেসে গিয়ে ঢেউয়ের মাথায় টলমল করতে থাকে।
মার্ক– ৫ প্রশ্ন উত্তর
১. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় প্রকাশিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র কতটা বাস্তবতার সঙ্গে চিত্রিত হয়েছে আলোচনা করো। [ অথবা]
‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছিল তা কীভাবে কলিঙ্গবাসীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল বুঝিয়ে দাও।
উত্তর – প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছবি: মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চন্ডী তাঁর কৃপাধন্য ব্যাধ কালকেতুর তৈরি গুজরাট নগরে বসতি প্রতিষ্ঠার জন্য কলিঙ্গদেশে প্লাবন ঘটান।কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর ধ্বনির সঙ্গে শুরু হয় মুশলধারায় বৃষ্টি। বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে সবুজ শস্যখেত নষ্ট হয়ে যায়। আটটি দিকের আটটি হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রবল বর্ষণে পথঘাট জলে ডুবে যায়। ঘোর অন্ধকারে দিন-রাত্রির পার্থক্য মুছে যায়। জলমগ্ন রাস্তায় সাপ ভেসে বেড়াতে থাকে। ভীত প্রজারা এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে নিস্তার পেতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। সাত দিন ধরে অবিরাম বর্ষণের ফলে কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে সমস্ত নদনদী কলিঙ্গের দিকে ছুটে আসে। পর্বতের মতো উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায় প্রজারা শঙ্কিত হয়ে ওঠে।
২. “নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর।” – কলিঙ্গবাসীদের জীবনে এর কী প্রভাব পড়েছিল আলোচনা করো ।
উত্তর – বৃষ্টির প্রভাব: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে বর্ণিত কলিঙ্গদেশে সাত দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতের সঙ্গে চলে ঝড়ের তাণ্ডব। সারা দেশ বন্যায় ডুবে যাওয়ায় শস্যখেতের বিপুল ক্ষতি হয়। বৃষ্টিতে প্রজাদের ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জল-স্থল একাকার হয়ে গিয়ে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ে। সাপ আশ্রয় হারিয়ে জলে ভেসে বেড়ায়। কলিঙ্গদেশের স্থলভূমি জলে পূর্ণ হয়। প্রজারা শঙ্কিত হয়ে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। ঘন কালো মেঘের আড়ালে সূর্য মুখ লুকোয়, ফলে প্রজাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে ওঠে। প্রবল বৃষ্টিপাতের সঙ্গেই অসংখ্য শিল পড়তে থাকে। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো শিলের আঘাতে ঘরের চাল ভেঙে যায়। দেবী চণ্ডীর আদেশে পবনপুত্র বীর হনুমান ঝড়ের বেশে কলিঙ্গদেশ জুড়ে ধ্বংসলীলা চালান। তাঁর দাপটে মঠ, অট্টালিকা সব ভেঙে খানখান হয়ে যায়। দেবীর আদেশে নদনদী একজোট হয়ে কলিঙ্গদেশের দিকে ধেয়ে আসে। বিরাট বিরাট ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। সাত দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে ভীত এবং বিপদগ্রস্ত কলিঙ্গদেশের প্রজাদের দুর্দশা চরমে ওঠে।
৩. “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – কী দেখে প্রজাদের প্রলয় মনে হয়েছিল ? এই প্রলয়ের ফলে কী হয়েছিল ? ১+৪
উত্তর – উদ্দিষ্ট দৃশ্য: মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ নামক কাব্যাংশে কলিঙ্গদেশের আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। উত্তর-পূর্ব কোণে মেঘের সঙ্গে দেখা দেয় বিদ্যুৎচমক। চারদিকে মুশলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। এইসব দেখেই প্রজাদের মনে প্রলয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রলয়ের ফল: কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর আওয়াজের সঙ্গে শুরু হয় মুশলধারায় বৃষ্টি। বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে শস্যখেত এবং সবুজ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। প্রবল বৃষ্টিতে পথঘাট জলে ডুবে যায়। ঘোর অন্ধকারে দিন-রাত্রির পার্থক্য মুছে যায়। জলমগ্ন রাস্তায় সাপ ভেসে বেড়াতে থাকে। ভীত প্রজারা এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। সাত দিন ধরে একটানা বৃষ্টির ফলে কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে সমস্ত নদনদী কলিঙ্গের দিকে ছুটে আসে। পর্বতের মতো উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায়, ভীত প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় শেষপর্যন্ত কলিঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়।
৪. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।” – এখানে কোন অঞ্চলের প্রজাদের কথা বলা হয়েছে ? কী কারণে তারা বিপাকে পড়েছিল ? তাদের পরিণতি কী হল ? ১+২+২
উত্তর – উদ্দিষ্ট অঞ্চলের প্রজা: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটিতে কলিঙ্গদেশের প্রজাদের কথা বলা হয়েছে।
বিপাকে পড়ার কারণ: কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। কলিঙ্গের আকাশ ছেয়ে যায় ঘন কালো মেঘরাশিতে। মেঘের গম্ভীর গর্জনের সঙ্গে বিদ্যুতের চমকে কেঁপে ওঠে আকাশ। উত্তরের প্রবল বাতাসে দূর থেকে মেঘের গম্ভীর শব্দ শোনা যায়। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের প্রবল তাণ্ডব শুরু হয়। এর ফলে ওখানকার প্রজারা বিপাকে পড়ে।
পরিণতি: সাত দিন ধরে ঝড়বৃষ্টির প্রবল তাণ্ডবে কলিঙ্গবাসীর অবস্থা হয় শোচনীয়। প্রাণ বাঁচাতে প্রজারা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে সবুজ মাঠ এবং গাছপালা ধুলায় ঢেকে যায়। ঝড়ে-খেতের শস্য উপড়ে যাওয়ায় প্রজারা ভয় পায়। রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়। মেঘের ভয়ংকর আওয়াজে প্রজারা কেউ কারও কথা শুনতে পায় না। আতঙ্কিত প্রজারা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। প্রবল বর্ষণে দিন-রাতের পার্থক্য দূর হয়, প্রজারা সূর্যের আলোও দেখতে পায় না। ভাদ্র মাসের তালের মতো অসংখ্য শিল চাল ভেদ করে ঘরের মধ্যে পড়তে থাকে। ঝড়বৃষ্টির এই প্রবল তাণ্ডব কলিঙ্গদেশের জনজীবন বিপন্ন করে তোলে।