প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর ( কাজী নজরুল ইসলাম ) । Class 10 proloyollas kobita question answer
প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর
Class 10 proloyollas kobita question answer
মার্ক – 1 ( MCQ )
১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন –
(ক) স্বামী বিবেকানন্দ
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) কাজী নজরুল ইসলাম
(গ) শঙ্খ ঘোষ
উত্তর – (গ) কাজী নজরুল ইসলাম
২. প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন মূল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ? –
(ক) ফণীমনসা
(খ) অগ্নিবীণা
(গ) সঞ্চিতা
(ঘ) সাম্যবাদী
উত্তর – (খ) অগ্নিবীণা
৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ? –
(ক) মোসলেম ভারত
(খ) বিচিত্রা
(গ) ভারতবর্ষ
(ঘ) প্রবাসী
উত্তর – (ঘ) প্রবাসী
৪. প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ কী ? –
(ক) উদ্দাম আনন্দ
(খ) ধ্বংসের আনন্দ
(গ) ভয়ংকরের রুদ্ররূপ
(ঘ) অট্টরোলের হট্টগোল
উত্তর – (খ) ধ্বংসের আনন্দ
৮. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’- বাক্যটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে –
(ক) ১৭ বার
(খ) ১৮ বার
(গ) ১৯ বার
(ঘ) ২০ বার
উত্তর – (গ) ১৯ বার
৯. “ওই নূতনের কেতন ওড়ে”- ‘কেতন’ শব্দের অর্থ –
(ক) জয়টীকা
(খ) পতাকা
(গ) শিখা
(ঘ) ওড়না
উত্তর – (খ) পতাকা
১০. ‘আসছে এবার’ – কে আসছে ? –
(ক) বর্গির দল
(খ) শাসক ইংরেজ
(গ) প্রলয়ংকর শিব
(ঘ) পাঠানের দল
উত্তর – (গ) প্রলয়ংকর শিব
১১. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ কাকে বলা হয়েছে ? –
(ক) ইউরোপকে
(খ) অস্ট্রেলিয়াকে
(গ) ভারতকে
(ঘ) আমেরিকাকে
উত্তর – (ক) ইউরোপকে
১২. কবি প্রদীপ তুলে ধরতে বলেছেন –
(ক) নবীনদের
(খ) বধূদের
(গ) শিশুদের
(ঘ) ইংরেজদের
উত্তর – (খ) বধূদের
১৩. অনাগত কীসের নেশায় উন্মত্ত ? –
(ক) মদের নেশায়
(খ) শিল্পচর্চার নেশায়
(গ) সৃষ্টির নেশায়
(ঘ) প্রলয় নেশায়
উত্তর – (ঘ) প্রলয় নেশায়
১৪. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ কীভাবে অর্গলমুক্ত করা হয়েছে ? –
(ক) লাথি মেরে
(খ) ধমক হেনে
(গ) কামান দেগে
(ঘ) ধাক্কা মেরে
উত্তর – (খ) ধমক হেনে
১৫. ‘নৃত্য পাগল’ কে ? –
(ক) ব্রহ্মা
(খ) বিরু
(গ) মহেশ্বর
(ঘ) দেবী কালী
উত্তর – (গ) মহেশ্বর
১৬. মহাকালের রূপ হল –
(ক) চণ্ডরূপ
(খ) শান্তরূপ
(গ) বরাভয়রূপ
(ঘ) আনন্দরূপ
উত্তর – ক) চণ্ডরূপ
১৭. বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে –
(ক) শংকর
(খ) ভয়ংকর
(গ) দিগম্বর
(ঘ) শুভংকর
উত্তর – (খ) ভয়ংকর
১৮. “হাসছে ভয়ংকর।” – ভয়ংকরের হাসির কারণ কী ? –
(ক) স্বাধীনতা আসার জন্য
(খ) সিন্ধুপারের সিংহদ্বার ভেঙে যাওয়ার জন্য
(গ) মৃত্যুকে জয় করার জন্য
(ঘ) বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসার জন্য
উত্তর – (খ) সিন্ধুপারের সিংহদ্বার ভেঙে যাওয়ার জন্য
১৯. ‘ঝামর তাহার কেশের দোলায়…’– ‘ঝামর’ শব্দটির অর্থ কী ? –
(ক) ঝামাপাথর
(খ) বুক্ষ
(গ) ঝামার মতো বিবর্ণ
(ঘ) ঝাঁকড়া
উত্তর – (গ) ঝামার মতো বিবর্ণ
Click Here – বাংলা ব্যাকরণ: সমাস
২০. কেশের ঝাপটা মেরে কী দোলায় ? –
(ক) বাতাস
(খ) গগন
(গ) গাছের পাতা
(ঘ) চরাচর
উত্তর – (খ) গগন
২১. ‘সর্বনাশী জ্বালামুখী’ কাকে বলা হয়েছে ? –
(ক) সূর্যকে
(খ) আগ্নেয়গিরিকে
(গ) ধূমকেতুকে
(ঘ) চন্দ্রকে
উত্তর – (গ) ধূমকেতুকে
২২. বিশ্ব পাতার বক্ষ কোলে কী ঝোলে ? –
(ক) তির ধনুক
(খ) মুক্তাহার
(গ) পতাকা
(ঘ) কৃপাণ
উত্তর – (ঘ) কৃপাণ
২৩. অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ –
(ক) চরাচর
(খ) মহাশূন্য
(গ) জনজীবন
(ঘ) জগতের প্রাণীকুল
উত্তর – (ক) চরাচর
২৪. দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা’ – ‘দ্বাদশ রবি’ হল –
(ক) বারোটি সূর্য
(খ) দুপুরের সূর্য
(গ) শক্তিশালী নক্ষত্র
(ঘ) বিশেষ একটি নক্ষত্র
উত্তর – (ক) বারোটি সূর্য
২৫. “দিগন্তরের কাঁদন লুটায়…” – দিগন্তরের কাঁদন কোথায় লুটায় ? –
(ক) নয়নকটায়
(খ) ত্রস্ত জটায়
(গ) কেশের দোলায়
(ঘ) প্রলয় নেশায়
উত্তর – (খ) ত্রস্ত জটায়
২৬. ত্রস্ত জটায় দেখা যায় যে বর্ণ –
(ক) লাল
(খ) নীলাভ
(গ) পিঙ্গল
(ঘ) হরিদ্রা
উত্তর – (গ) পিঙ্গল
২৭. সপ্ত মহাসিন্ধু’ কোথায় দোলে ? –
(ক) জটাজালে
(খ) পদতলে
(গ) নয়ন জলে
(ঘ) কপোল তলে
উত্তর – (ঘ) কপোল তলে
প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর
২৮. “হাঁকে ওই…” – কী বলে হাঁকে ? –
(ক) জয় নিরংকার
(খ) জয় প্রলয়ংকর
(গ) জয় বুদ্রশংকর
(ঘ) জয় দিগম্বর
উত্তর – (খ) জয় প্রলয়ংকর
২৯. ‘মাভৈঃ মাভৈঃ ’শব্দের অর্থ হল –
(ক) রণে ভঙ্গ দেওয়া
(খ) ভয় পেয়ো না
(গ) উপেক্ষা করা
(ঘ) ভয় করো না
উত্তর – (ঘ) ভয় করো না
৩০. ‘এবার মহানিশা শেষে’ – কী আসবে ? –
(ক) সর্বনাশী জ্বালামুখী
(খ) মহাকাল-সারথি
(গ) ঊষা
(ঘ) চির সুন্দর
উত্তর – (গ) ঊষা
৩১. দিগম্বর কে ? –
(ক) বিষু
(খ) ব্রহ্মা
(গ) অগ্নি
(ঘ) শিব
উত্তর – (ঘ) শিব
৩২. দিগম্বরের জটায় কে হাসে ? –
(ক) ধূমকেতু
(খ) শিশু চাঁদ
(গ) নবীনের দল
(ঘ) স্বর্গের গঙ্গা
উত্তর – (খ) শিশু চাঁদ
৩৩. রক্ত-তড়িৎ চাবুক হানে’ – কে রক্ত-তড়িৎ চাবুক হানে ? –
(ক) দিগম্বরের জটা
(খ) মহাকাল সারথি
(গ) কালবৈশাখী ঝড়
(ঘ) জ্বালামুখী ধূমকেতু
উত্তর – (খ) মহাকাল সারথি
৩৪. “রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন” – ‘হ্রেষা’ কী ? –
(ক) কুকুরের ডাক
(খ) বিড়ালের ডাক
(গ) ময়ূরের ডাক
(ঘ) ঘোড়ার ডাক
উত্তর – (ঘ) ঘোড়ার ডাক
৩৫. হ্রেষার কাঁদন কোথায় রণিয়ে ওঠে ? –
(ক) বজ্রগানে ঝড় তুফানে
(খ) নীল খিলানে
(গ) অন্ধকূপে
(ঘ) ত্রস্ত জটায়
উত্তর – (ক) বজ্রগানে ঝড় তুফানে
৩৬. ‘ক্ষুরের দাপট’নীল খিলানে কী ছোটায় ? –
(ক) উল্কা
(খ) ধূমকেতু
(গ) বজ্রবিদ্যুৎ
(ঘ) রক্ত কৃপাণ
উত্তর – (ক) উল্কা
৩৭. “দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যুপে” – এই দেবতা আসলে কে ? –
(ক) দেবাদিদেব মহাদেব
(খ) পরমপিতা ব্রহ্মা
(গ) দেশমাতৃকা
(গ) দেশ নেতা
উত্তর – (গ) দেশমাতৃকা
৩৮. “এই তো রে তার আসার সময়” – কার আসার সময় ? –
(ক) স্বাধীনতার
(খ) ব্রিটিশ শক্তির
(গ) মহাকাল সারথির
(ঘ) চির সুন্দরের
উত্তর – (গ) মহাকাল সারথির
৩৯. অসুন্দরকে ছেদন করতে কে আসছে ? –
(ক) ভয়ংকর
(খ) প্রলয়ংকর
(গ) শুভংকর
(ঘ) নবীন
উত্তর – (ঘ) নবীন
৪০. “তাই সে এমন কেশে বেশে” – ‘সে’ কে ? –
(ক) প্রলয়
(খ) মহাকাল
(গ) নবীন
(ঘ) প্রবীণ
উত্তর – (গ) নবীন
৪১. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর।” -‘চিরসুন্দর’ কে ? –
(ক) স্বর্গের অপ্সরা
(খ) মর্ত্য মানবী
(গ) স্বয়ং কবি
(ঘ) মহাকাল
উত্তর – (ঘ) মহাকাল
৪২. কবি সবাইকে কী করতে আহ্বান জানিয়েছেন ? –
(ক) বিদ্রোহ করতে
(খ) সব কিছু মেনে নিতে
(গ) সব কিছুর প্রতিবাদ করতে
(ঘ) জয়ধ্বনি করতে
উত্তর – (ঘ) জয়ধ্বনি করতে
৪৩. কবি কাদের প্রদীপ তুলে ধরতে বলেছেন ? –
(ক) সন্তানদের
(খ) বধূদের
(গ) পিতাদের
(ঘ) কন্যাদের
উত্তর – (খ) বধূদের
৪৪. সুন্দরের আগমন কোন বেশে হবে বলে কবি মনে করেন ? –
(ক) কাল ভয়ংকরের বেশে
(খ) মহানুভবতার বেশে
(গ) গৈরিক বেশে
(ঘ) ভয়ংকরের বেশে
উত্তর – (ক) কাল ভয়ংকরের বেশে
৪৫. কাল ভয়ংকরের বেশে কে আসে ? –
(ক) কালবৈশাখী
(খ) বিশ্ব মাতা
(গ) সুন্দর
(ঘ) মহাকালের চণ্ড
উত্তর – (গ) সুন্দর
SAQ
১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির কবি কে?
উত্তর – ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির কবি হলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।
২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত ?
উত্তর – বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ থেকে ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি গৃহীত।
৩. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”– কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন ?
উত্তর – পরাধীন ভারতবর্ষের প্রেক্ষিতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ব্রিটিশ শাসনের নাগপাশ জর্জরিত মুক্তিকামী ভারতবাসী তথা তরুণদের কবি ‘জয়ধ্বনি’ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
৪. কবি কালবৈশাখী ঝড়কে নূতনের কেতন বলেছেন কেন ?
উত্তর – বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কালবৈশাখীকে নূতনের কেতন বলেছেন কারণ, কালবৈশাখী ঝড় রুদ্ররূপে সমস্ত জীর্ণ পাতা ঝরিয়ে, ধুলো সরিয়ে আগামী বৈশাখের জন্য নব কিশলয়পুঞ্জের আগমনের পথ প্রস্তুত করে দেয়। অর্থাৎ ধ্বংসের মধ্য দিয়েই সৃষ্টির বার্তা আনে।
৫. “আসছে এবার অনাগত” – অনাগত কীভাবে আসছে ?
উত্তর – ‘অনাগত’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল যা এখনও এসে পৌঁছায়নি। এখানে কবি কল্পনা করেছেন যে, প্রলয় নেশায় নৃত্য পাগল মানুষের বহু অপেক্ষার পর রুদ্রমূর্তিতে আবির্ভূত হচ্ছেন।
Click Here – জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর
৬. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর – ‘সিন্ধুপার’ বলতে সাগরপারের ইউরোপ তথা ইংল্যান্ডকে আর ‘সিংহদ্বার’ বলতে সাম্রাজ্যবাদের অকুস্থল ইংল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের প্রবেশদ্বারকে বোঝানো হয়েছে। বিশ্বে উপনিবেশবাদের প্রসারের ভূমিকা তাদেরই সবচেয়ে বেশি ছিল।
৭. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”- কেন জয়ধ্বনি করতে বলা হয়েছে?
উত্তর – ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম কালবৈশাখীর তাণ্ডব মূর্তি দেখে জয়ধ্বনি করতে বলেছেন। কারণ, সমস্ত জীর্ণতা ও পুরাতনকে প্রচন্ড বেগে আঘাত করে নতুনের আবির্ভাবে পথকে প্রশস্ত করে।
৮. ‘মৃত্যুগহন অন্ধকূপে’ – ‘মৃত্যুগহন অন্ধকূপ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তর – মৃত্যুকে কবি এখানে অন্ধগহ্বরের চিত্রকল্পে ফুটিয়ে তুলে বলতে চান যে, মৃত্যুর পরে আমরা কোথায়, কোনো অন্ধকার গহ্বরে অদৃশ্য নিয়তির হাতছানিতে হারিয়ে যাই, তার অস্তিত্ব জানা নেই।
৯. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় “তোরা সব জয়ধ্বনি কর” – কথাটি কতবার আছে ?
উত্তর – ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম “তোরা সব জয়ধ্বনি কর” শব্দবন্ধটি উনিশ বার ব্যবহার করেছেন।
১০. “ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর!”– ভয়ংকরের হাসির কারণ কী ?
উত্তর – কবি নজরুল ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ভয়ংকরের হাসির মধ্যে পৈশাচিকতার আভাস পেয়েছেন যেখানে নির্মমভাবে ভয়ংকর বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে সমস্ত পুরাতনকে এক লহমায় ধ্বংস করে দেবে। এটাই হাসির কারণ।
১১. “ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর!” – ‘চরাচর’ স্তব্ধ কেন ? [MP’18]
উত্তর – রুদ্রতাণ্ডবের মধ্য দিয়ে ভয়ংকরের বেশে ধ্বংসের দেবতার আবির্ভাবে সমগ্র চরাচর ভীতসন্ত্রস্ত ও বিভ্রান্ত। আসন্ন বিনাশের যেন তারা প্রহর গুনছে। তাই চরাচর স্তব্ধ।
১২. “দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা” – দ্বাদশ রবির নাম লেখো ।
উত্তর – কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় পুরাণের অনুষঙ্গে দ্বাদশ রবি হল-অর্যমা, মিত্র, বরুণ, অংশ, ভগ, ইন্দ্র, বিবস্বৎ, পৃষা, ত্বষ্টা, সবিতা, পর্জন্য, বিষু প্রমুখ।
১৩. ‘বিশ্বমায়ের আসন’ কোথায় বলেছেন কবি ?
উত্তর – কবিতায় কবি যে ভয়ংকরের আহ্বান করেছেন, সেই শিব-সত্তার বিপুল বাহুর উপর বিশ্বমায়ের আসন পাতা; অর্থাৎ, অশুভ শক্তির পতনে স্বাধীনতার শুভ মহরত হবে বলে কবি নিশ্চিত।
১৪. “হাঁকে ওই জয় প্রলয়ঙ্কর!”– এখানে কার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর – কবি এখানে প্রলয়ের দেবতা তান্ডবলীলারত মহাদেবকে ‘প্রলয়ঙ্কর’ বলে নির্দেশিত করেছেন। কবির দৃঢ় বিশ্বাস যে, প্রলয়দেব তাই তারুণ্যের মূর্তি ধরে অত্যাচারী শাসকের বিনাশ ঘটাবেন।
১৫. “জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে” – প্রলয় ঘনিয়ে আসার কারণ কী ?
উত্তর – কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কল্পনা করেছেন, মহারুদ্র দেবাদিদেব যেন ধ্বংসলীলায় মাতোয়ারা হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বুনিয়াদ বিনষ্ট করবেন। তাই প্রলয়ের কথা প্রাসঙ্গিক।
১৬. “মাভৈঃ মাভৈঃ”- ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কী ?
উত্তর – ‘মাভৈঃ’ সংস্কৃত শব্দ; এর অর্থ হল – অভয় সূচক বাণী অর্থাৎ, ‘ভয় কোরো না’। স্বাধীনতা যুদ্ধযাত্রার প্রাকলগ্নে কবি পরাধীন ভারতের সৈনিকদের অভয় প্রদান করেছেন।
প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর
১৭. “এবার মহানিশার শেষে” – মহানিশার শেষে কী ঘটবে বলে কবি আশা করেন ?
উত্তর – কবি নজরুল পরাধীনতার নাগপাশে জর্জরিত ভারতবর্ষকে অন্ধকারের রাত্রিযাপনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাই স্বাধীনতা, মহানিশার পর, নতুন প্রভাতের সূচনা ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।
১৮. “আলো তার ভরবে এবার ঘর!” – কার আলো, কোন ঘর ভরাবে ?
উত্তর – কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের আলো ভারতভূমিকে ভরিয়ে তুলবে, এই আশাদীপ্ত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
১৯. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ – কবি এখানে জয়ধ্বনি করতে বলেছেন কেন ?
উত্তর – নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিনের পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের শুভলগ্নে সেই আনন্দ উল্লাসঘন মুহূর্তকে স্বাগত জানাতে জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
২০. “রক্ত-তড়িৎ চাবুক হানে” – কে রক্ত-তড়িৎ চাবুক হেনেছেন ?
উত্তর – যিনি মহাকালের নিয়ন্তা, জন্ম-মৃত্যুর নির্ণায়ক সেই পরমপুরুষ মহাকাল সারথি রক্ত-তড়িৎ চাবুক হেনেছেন ।
২১. “রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন” – ‘হ্রেষার কাঁদন’ কেন রণিয়ে ওঠে ?
উত্তর – মহাকাল সারথি তাঁর রথের অশ্বদের যে নির্মম চাবুক হানেন, তাতে তীব্র বেদনায় তারা অধীর হয়ে চিৎকার করে কাঁদে-এটাই কবির কল্পিত চিত্রকল্প।
২২. ‘দেবতা বাঁধা’ – দেবতা কোথায়, কীভাবে বাঁধা ?
উত্তর – কবিকল্পনায় অন্ধকারার বন্ধ কূপে দেবতা যজ্ঞ-যুপে ও পাষাণ- স্তূপে বাঁধা পড়ে আছেন। ব্রিটিশ কর্তৃক ভারতমাতার শৃঙ্খলের কথাই এখানে ব্যঞ্জিত।
২৩. “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?” – কবি এ প্রশ্ন কাদের উদ্দেশে করেছেন ? [ MP’20 ]
উত্তর – পরাধীন ভারতবর্ষে অগ্নিপথের অগ্রপথিক কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যু-ধ্বংস-বিনাশের ভয়ে ভীত সরল দেশবাসীর প্রতি এই প্রশ্ন করেছেন।
২৪. ‘আসছে নবীন’ – নবীন কী করতে আসছে ?
উত্তর – ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি-কথিত নবীন আসছেন জীবনহারা অ-সুন্দরকে ছেদন করতে। অর্থাৎ যা-কিছু জীর্ণ পুরাতন, তার শুভ সমাপ্তি ঘটিয়ে, বিনাশ ঘটিয়ে নতুনের আসার পথ নির্মাণ করবে সে।
২৫. “আসছে নবীন-জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!”- এই নবীন কারা ?
উত্তর – স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত নবীন-সাধক কবি নজরুল ভারতবর্ষ তথা বঙ্গদেশের অফুরন্ত শক্তির আধার তরুণ সম্প্রদায়কে ‘নবীন’ অভিধায় ভূষিত করেছেন।
২৬. “প্রলয় বয়েও আসছে হেসে” – প্রলয় বহন করেও হাসির কারণ কী ? [ MP’19 ]
উত্তর – কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয়-কারক মহাকালকে হাসতে দেখেছে কারণ, প্রলয়ের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টির পথ-নির্মাণের ইশারা রয়েছে।
২৭. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর!” – এখানে কার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর – কবি নজরুল মহাকাল অর্থাৎ তাণ্ডবলীলারত নটরাজ শিবের কথা বলেছেন, যিনি শুধু ভাঙন নয়, ভাঙনের ওপর নতুনভাবে গঠনের কথাও ভেবেছেন।
২৮. “সে চিরসুন্দর!” – কেন তাঁকে চিরসুন্দর বলা হয়েছে ?
উত্তর – স্বয়ং মহাকাল সত্যম শিবম সুন্দরম। অর্থাৎ জীর্ণ পুরাতনের ধ্বংসের প্রশস্ত পথে তিনি সুন্দর নূতনের উদ্বোধন ঘটান। নিজের সুন্দর রূপ তাঁর সৃষ্টিতে ফুটে ওঠে। তাই তিনি চিরসুন্দর।
২৯. “বধূরা প্রদীপ তুলে ধর।” – বধূরা প্রদীপ তুলে ধরবে কেন ?
উত্তর – প্রদীপ তুলে ধরার ব্যঞ্জনার্থ হল-সাদর আমন্ত্রণ করা। বধূরা মহাপ্রলয়ের দেবতাকে আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে পক্ষান্তরে নবসৃষ্টি উন্মোচনের পথ নির্মাণ করেছেন।
৩০. “ওই আসে সুন্দর।” – সুন্দরের আগমন কীভাবে ঘটে ?
উত্তর – নজরুল প্রলয় দেবতাকে ‘সুন্দর’ আখ্যা দিয়ে মানসচক্ষে “কাল ভয়ংকরের বেশে” আসতে দেখেছেন। এই ভয়ংকরতা শুধু ধ্বংসের দ্যোতক নয়, সৃষ্টির আহ্বায়ক।
Mark – 3
১. হাসছে ভয়ংকর!’ – ভয়ংকর কীরূপে হাসছে ? হাসির কারণ কি ? ১+২
উত্তর – ভয়ংকরের হাসি: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ভয়ংকরের আরাধনা করেছেন। নটরাজ শিব তার তান্ডবলীলার সময় যে অট্টরোল-এ পৃথিবী কম্পিত করেছিলেন সেই পৈশাচিক হাসির কথাই কবি এখানে উল্লেখ করেছেন।
হাসির কারণ: এখানে ‘হাসি’ শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই হাসি নিতান্ত কোনো সুখবিলাস নয়, অনাবিল আনন্দের উচ্ছ্বাস নয়। এই হাসির মধ্যে ধ্বংসকামী এক পৈশাচিক আনন্দ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ধ্বংসকর্তা যখন তার ধ্বংসলীলায় সফলতা পাচ্ছেন, তখন সেই চরম উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ হাসির মাধ্যমে ধ্বনিত হচ্ছে। কবি ভারতবর্ষ তথা বঙ্গদেশের তরুণ সমাজের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ধ্বংসের উন্মত্ত উত্তেজনার মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এই হাসি মৃত্যুর দ্যোতক। এই হাসি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অশনিসংকেত। স্বয়ং মহাদেবের ধ্বংসকারী সত্তার অংশ হয়ে মৃত্যুকে জীবনপানে টেনে এনে পৈশাচিক উল্লাসে মাতোয়ারা হয়েছিলেন সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবী বৃন্দ। আলোচ্য পঙ্ক্তিতে কবি এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২. “এবার মহানিশার শেষে/ আসবে ঊষা অরুণ হেসে” – ‘মহানিশা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর – ‘মহানিশা’ শব্দের অর্থ হল: ‘মহা যে নিশা’ অর্থাৎ মধ্যরাত্রি। এখানে পরাধীন ভারতবর্ষের সাম্রাজ্যবাদী শাসনের কালো অধ্যায়টি সূচিত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকের মাধ্যমে জাতির সৌভাগ্য সূর্যকে অস্তমিত করে দিয়েছিল চিরতরে। কবি একেই ‘মহানিশা’ বলেছেন।
তাৎপর্য: নজরুল যে সময় বাংলা কাব্যের আকাশে জ্যোতিষ্কের অগ্নি ছটা নিয়ে প্রবেশ করেন, সেসময় একদিকে অসহযোগ আন্দোলন স্তিমিতপ্রায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণের পর পুরস্কারের বদলে রাওলাট আইন পাস, জালিয়ানওয়ালাবাগের মতো নারকীয় হত্যাকাণ্ড-এই সমস্ত নজরুলের স্বাধীন বিদ্রোহী কবি সত্তাকে উদ্বেলিত করেছিল। কবি তারুণ্য শক্তির কাছে আহ্বান রেখেছেন মৃত্যুঘাতী সশস্ত্র সংগ্রামের। এবং তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় এই যে, এর মাধ্যমেই নিশাবসানের পর নবোদিত সূর্যের, নবলব্ধ স্বাধীনতার পূর্ণ আনন্দ ভারতবাসীর জন্য অপেক্ষিত। এ কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।
৩. ‘দিগম্বরের জটায় হাসে, শিশু-চাঁদের কর’ – ‘দিগম্বর’ কাকে বলা হয়েছে ? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর – দিগম্বর: ‘দিগম্বর’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল-‘দিক অম্বর যাহার’ অর্থাৎ দেবাদিদেব মহাদেব। ব্যাঘ্রচর্ম, পরিহিত ও যজ্ঞোপবীত ছাড়া শিবের বস্ত্রসম্ভারের স্বল্পতাহেতু তাকে এই নামে ডাকা হয়।
তাৎপর্য: শিশু-চাঁদ অর্থাৎ নতুন চাঁদ বা নবোদিত চাঁদ। অমাবস্যার নিকষ কালো অন্ধকারের অবসানে পবিত্র জ্যোৎস্নার শুভ উন্মীলনকেই শিশু চাঁদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পুরাণ মতে, স্বর্গের গঙ্গা যখন মর্ত্য পৃথিবীকে ধ্বংসের অভিপ্রায়ে প্রচণ্ড বেগে পতিত হচ্ছিলেন, তখন তিনি শিবের উন্মুক্ত জটাজালে আবদ্ধ হয়ে যান। শিব তাঁকে তাঁর মস্তকোপরি ধারণ করেন। আলোচ্য অংশে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, নবযুগের অর্থাৎ পূর্ণ স্বাধীনতার বার্তা পেয়ে দেশবাসীর মনে জ্যোৎস্না পুলকিত ছন্দে আনন্দের দোলা লাগে। শিশু-চাঁদ যেন হেসে ওঠে। স্নিগ্ধ আলোয় মনের অন্ধকার দূরীভূত হয়।
Click Here – অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
৪. “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর ?”- ধ্বংসকে ভয় না পাওয়ার কারণটি বুঝিয়ে দাও ।
উত্তর – ভূমিকা: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বংস, বিনাশ এবং প্রলয়কে সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কবি জানেন, নিরুদ্বেগ জনগণ স্বাভাবিকভাবেই ধ্বংসের প্রচণ্ডতাকে সহ্য করতে পারে না। ধ্বংস তাদের কাছে বিভীষিকা, জীবনের ঋণাত্মক দিক। ধ্বংস শ্মশানভূমির জন্ম দেয়, ধ্বংস মৃত্যুর সমার্থক। ধ্বংস নাড়া দিয়ে যায় অচঞ্চল মানবসত্তাকে। এইজন্য স্বভাবভীরু মানুষের কাছে ধ্বংস ভয়ের সৃষ্টি করে।
ধ্বংসকে ভয় না পাওয়ার কারণ: কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ধ্বংস না থাকলে সৃষ্টির মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হবে। ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য দিয়েই সৃষ্টি নব উদ্ভাসন। প্রাচীনত্বকে সমূলে বিনাশ করে নতুনত্বের আবির্ভাবের শর্তই ধ্বংস। ধ্বংসের বহিঃপ্রকৃতির নির্মোক খসিয়ে দিলে নতুন সৃষ্টির আলো রক্তিম ঊষার জন্ম দেবে। পরাধীন ভারতবর্ষের প্রেক্ষিতে কবি নজরুল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সমূল ধ্বংস চেয়েছিলেন । ধ্বংস চেতনার উন্মেষ ঘটায়, নবচেতনা বিপ্লব আনে, বিপ্লব স্বাধীনতার সূর্য ফোটায়। তাই ধ্বংস ও সৃষ্টি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। এইজন্য ধ্বংসকে, কবির মতে, ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
৫. “আসছে নবীন-জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন।” – উদ্ধৃতিটি তাৎপর্য লেখো । [ MP ’17 ]
উত্তর – ভূমিকা: কাজী নজরুল ইসলাম দ্রোহের কবি, ভাঙনের কবি, শান্তরসের দেশে রৌদ্ররসের কবি।
তাৎপর্য : ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বনিরূপময় চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে তিনি প্রলয়ংকরের রুদ্রমূর্তির অশান্ত রূপ অঙ্কন করেছেন। যা কিছু জীর্ণ ও পুরাতন, গতানুগতিকতার ধারাস্রোতে ভাসমান, কখনও বা স্থবিরতার অচলাসনে অচঞ্চল, তাকে প্রচণ্ড আঘাতের মধ্য দিয়ে চিরসুন্দর আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। ভয়ংকর প্রকট, সুন্দর প্রচ্ছন্ন। বিশ্বসৃষ্টির রহস্যে তাই ভয়ংকরের জয়জয়কার। পরম সৃষ্টিকর্তা চিরসুন্দর। আপন সৃষ্টির মধ্য দিয়েই তাঁর সৌন্দর্যের বিকাশ। অ-সুন্দরকে নির্মম আঘাতে তিনি ধ্বংস করেন। জীবনহারাকে পুনর্জীবনে প্রত্যাবর্তন করেন। সৃষ্টি দেবতার এই বিনাশকারী রূপের মধ্যেই বিরাজ করছেন।
৬. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর।” – চিরসুন্দর কে ? ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ? ১+২
উত্তর – চিরসুন্দর : ‘অগ্নিবীণা’-র অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত কবি নজরুল তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘চিরসুন্দর’ বলতে ভাঙনদেব মহাদেবকে চিহ্নিত করেছেন।
‘ভেঙে আবার গড়তে জানে’ : পরমপিতা ব্রহ্মা যেমন সৃষ্টিকর্তা, স্থিতি; তেমনি মহাদেব ধ্বংসের দেবতা, গতির প্রতীক। স্থিতি-গতি নিয়েই এ বিশ্বসংসার। ভাঙন আমাদের কাছে ভয়ংকর বিভীষিকাময়; সেই ভয়ংকরের রক্তচক্ষু আমাদের হৃদকম্প ঘটায়। কিন্তু, এই ভাঙনই শেষ কথা নয়। ভগ্নস্তূপের ওপর নতুন ইমারতের যেমন ভিত্তিপ্রস্তর গাঁথা হয়, তেমনি যুগ যুগ ধরে ভাঙন নতুনের আহ্বান করেছে, জীবন কেড়েছে, জীবন দিয়েছে। ভাঙা-গড়া, জন্ম-মৃত্যু, ধ্বংস-সৃষ্টি এদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। মহাকালও সেইরূপ নূতনের শুভজন্ম ঘটায়। এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন কবি।
৭. “কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর!” – সুন্দর কে ? তিনি কাল-ভয়ংকরের বেশে আসেন কেন ? উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর – সুন্দর: উপনিষদে বলা হয়েছে, “ভগবান শিব সচ্চিদানন্দঘন লীলাময় পরম প্রভু। তিনি সর্বশক্তিমান, শাশ্বত, নিরঞ্জন।” প্রলয়ংকররূপে মহাকাল শিব সুন্দরেরই প্রতীক।
কাল ভয়ংকরের বেশে আসার কারণ: পৃথিবীতে যখন ধর্মনাশ হয়, প্রেমের ধ্বংসযজ্ঞ সমাধা হয়, আসুরিক শক্তির বিকাশ ঘটে, তখনই ভয়ংকর বেশে সমস্ত কিছু ধ্বংস করে আবার ‘আনন্দরূপম্ অমৃতম্’-কে প্রতিষ্ঠার জন্য ঈশ্বরের আগমন হয়। এইজন্যই ভয়ংকরের বেশে পরমেশ্বরের আবির্ভাব ঘটে।
তাৎপর্য: ব্রিটিশের ভারতবর্ষে স্বৈরাচারের উদ্ধত বিকাশে জনগণের যে করুণ অবস্থা হয়েছিল, তা থেকে একমাত্র মুক্তির উপায় ছিল সশস্ত্র বিপ্লব। বিদ্রোহের রুদ্রবীণার ধ্বনিঝংকারে শান্তিময় স্বাধীনতার প্রভাত উন্মোচিত হবে বলেই কবির দৃঢ় ধারণা ছিল। অফুরন্ত তারুণ্য শক্তির অন্তরালে তিনি মহাকালের দীপ্ত তেজ পরিলক্ষিত করেছিলেন। মৃত্যু আনে জীবন, রাত্রি আনে প্রভাত, ধ্বংস আনে সৃষ্টি এবং তাই ভয়ংকরের প্রচ্ছন্নে লুক্কায়িত সুন্দরকে আবিষ্কার করার শুভবুদ্ধি থেকেই কবি এ কথা বলেছেন।
৮. “অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর” – ‘অট্টরোলের হট্টগোল’ কী ? চরাচর স্তব্ধ কেন ?
উত্তর – ‘অট্টরোলের হট্টগোল’: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় দেবী চণ্ডীর রুদ্রপ্রকৃতির বর্ণনা দিয়েছেন। কোপনস্বভাব দেবী প্রলয়-নেশায় মাতোয়ারা ধ্বংসযজ্ঞের অগ্নিশিখার প্রজ্জ্বলনে যে প্রচন্ড অট্টহাসি হেসেছেন, তাকেই কবি ‘অট্টরোলের হট্টগোল’ বলেছেন।
স্তব্ধতার কারণ: আলোচ্য পঙ্ক্তিতে দানবদলনী দেবী কালিকার দানব-নিধন-মুহূর্তের ভয়ংকর পৈশাচিক অট্টহাসি, যার প্রচণ্ড শব্দে সমগ্র চরাচর ভীতসন্ত্রস্ত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, তার উল্লেখ করেছেন। সর্বনাশের প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে মর্মর জীব এক আশঙ্কিত রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে মূক-বধিরতা অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছিল। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের প্রেক্ষিতে কবি সেই উগ্রচণ্ডা শক্তিদেবীর আহ্বান ও আরাধনা করেছেন। কবির কল্পনায় সেই দোদুল্যমান রক্তস্নাত খঙ্গে ব্রিটিশ শাসকদের স্তম্ভিত-শঙ্কিত-নিস্তব্ধ-নিস্পন্দ দশাকেই এখানে ব্যঞ্জিত করা হয়েছে। সমগ্র জগৎ যেন মূহ্যমান হয়ে পড়েছে দেবীর আগমনে-কবি এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
Mark – 5
১. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর ? – এখানে ‘তোরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ? তাদের বারবার কেন জয়ধ্বনি করতে বলা হয়েছে ? [ অথবা ], ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ – কবির এই কথা বলার কারণ সংক্ষেপে লেখো । ২+৩ (মাধ্যমিক ২০২২)
উত্তর – উদ্ধৃত অংশটি নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার অংশবিশেষ। ‘তোরা’ বলতে কবি পরাধীন ভারতের সেইসব মানুষদের বুঝিয়েছেন, যারা ইংরেজদের হাতে অত্যাচারিত, অশিক্ষা, কুংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং চেতনাহীন। তাই তাদের চেতনা জাগ্রত করতে এবং পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য ও বিপ্লবী সত্তাকে উজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে কবির এই আহ্বান।
কবির আহ্বানের উদ্দেশ্য : অনুনয়-বিনয় নয়, পরাধীন ভারতকে স্বাধীন করতে চাই তীব্র আন্দোলন। তাই তো তাঁর বিদ্রোহী সত্তা বারবার উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করে কারাগারের লৌহকপাট ভেঙে ফেলতে। কখনও-বা কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা যে দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত সে-কথা জানিয়ে তিনি জয়োল্লাস করতে বলেছেন। আশাবাদী কবি তাই বারে বারে প্রলয়কে আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রলয়ই পারে কালবৈশাখীর ঝড় বা মহাকালের চণ্ডরূপে সিন্ধুপারের সিংহদ্বারের আগল ভেঙে বিপ্লবীদের মুক্তি দিতে, জরাগ্রস্ত মুমূর্ষু জাতির মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করতে। কবি মহাপ্রলয়ের এই ধ্বংসলীলা দেখে ভয় না-পেতে বলেছেন। কেন-না রুদ্ররূপ মহাপ্রলয় একইসঙ্গে ধ্বংস ও সৃষ্টিরও। সেই-ই পারে ধ্বংসের ওপর নতুন সমাজ স্থাপন করতে। তাই কবি তাকে বরণ করে নিয়ে জয়োল্লাস করতে বলেছেন। কবিতায় ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ চরণটি আঠারোবার উচ্চারণের কারণ, এর গীতিময়তা এবং পরাধীন ও প্রায় স্থবিরত্বপ্রাপ্ত অসহায় ভারতবাসীর হৃদয়ে উজ্জীবনের অনুরণন জাগানো।
প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর
২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘ভয়ংকর’ আর ‘সুন্দর’-এর সহাবস্থান কবি কীভাবে উপস্থাপন করেছেন ? ৫
[ অথবা ], ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় একদিকে ধ্বংসের চিত্র আঁকা হয়েছে আবার অন্যদিকে নতুন আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে। বিষয়টি কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো। ৫
উত্তর – কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় যেমন একদিকে ধ্বংস বা প্রলয়ের চিত্র আঁকা হয়েছে, অন্যদিকে আবার এক গভীর আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে। একদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের দাপটের চিত্র, অন্যদিকে আসন্ন প্রলয়ের পরেই নতুন দিনের প্রতীক্ষার অবসান-সবমিলিয়ে বিনাশ ও সৃষ্টির চমৎকার মেলবন্ধনে প্রাণিত নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা। প্রথম কয়েকটি স্তবকে অনাগত প্রলয়ের তান্ডবের বর্ণনা পাঠককে ভয়ে বিবশ করে তোলে। সেখানে ‘ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর’ অথবা, ‘জয় প্রলয়ংকর’ ইত্যাদি বাক্যাংশ ব্যবহার করে কবি খুব সচেতনভাবে প্রলয়ের ধ্বংসকারী রূপকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। একদিকে “দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায়”, অন্যদিকে “বিন্দু তাহার নয়নজলে সপ্তমহাসিন্ধু দোলে”-আগুন ও জলের সহাবস্থান একই নয়নে দেখিয়ে কবি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে, অন্ধকারের সঙ্গেই আলো, কালোর সঙ্গেই সাদা ওতপ্রোত ও একাকার। ঠিক এই বার্তাই রূপ পায়, যখন কবি উল্লসিত আবেগে বলে ওঠেন, “এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে” অথবা “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?-প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!” কবি জানেন সৃষ্টির বেদনা। তাই মহাপ্রলয়ের শেষে যে নতুন দিনের উদয় অবশ্যই হবে সে-সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত। আশা ও ভীতির দোলাচলে ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি একটি ছন্দময় আবেগগীতি।
৩. ‘আসছে নবীন-জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন।’ – ‘জীবনহারা অ-সুন্দর’-কে ছেদন করতে নবীনের আসার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও । [ অথবা ], ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর! –ভেঙে আবার গড়া বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? ৩+২
উত্তর – চলাই জীবন, থেমে থাকা মরণ। কালের অগ্রগমন ঘটে নতুনের হাত ধরে, এমত শাশ্বত। নজরুল তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় নবীনকে বলেছেন ‘জরায় মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ-লুকানো ওই বিনাশে!’ কবি এই কবিতায় যা-কিছু প্রাচীন, জরাগ্রস্ত, অগ্রগমনের পথে বাধাস্বরূপ সেসব কিছুকে বিনাশ করতে ধ্বংসকারী মহাকালকে আহ্বান জানিয়েছেন।
নবীনের আসার তাৎপর্য কিছুকে ধ্বংস করে নতুনের আগমনকে সূচিত করা। আশাবাদী কবি পরাধীন ভারতীয়দের জীবনহারা অসুন্দর জীবনের ছেদন অর্থাৎ ইতি চেয়ে নবীনকে আহ্বান জানিয়েছেন। কবির বিশ্বাস জীবনহারা অসুন্দরকে ছেদন করতে নবীন আসছে।
প্রকৃতিতে সৃষ্টি ও ধ্বংস পাশাপাশি চলে। ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির বীজ লুকিয়ে থাকে। পুরাতনের ওপরই সঞ্চারিত হয় নতুন প্রাণের। হিন্দু পুরাণ ভেঙে আবার গড়া অনুসারে এসব কিছুই ঘটে চলেছে সৃষ্টি-লয়ের দেবতা শিবের ইচ্ছানুসারে। এই চিরসুন্দরের ভাঙাগড়ার খেলা যুগযুগ ধরে চলে আসছে। কবি মহাকালের এই খেলাকেই ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে’ বলে মনে করেছেন।
Click Here – আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
৪. ‘কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর!’ –‘কাল-ভয়ংকর’ কে ? তার ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দাও ও তাকে সুন্দর বলা হয়েছে কেন তা ব্যাখ্যা করো । ১+৪
[ অথবা ], ‘কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর’ – ‘কাল-ভয়ংকর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? কবি তাকে সুন্দর বলেছেন কেন ? ১+৪
উত্তর – উদ্ধৃতিটি নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার অংশবিশেষ। বিদ্রোহী কবি বিপ্লবের পথেই যে ভারতবাসীর মুক্তি সে-কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন এবং তাঁর লেখনীতে তা বেশ স্পষ্ট। কিন্তু প্রায় ‘কাল-ভয়ংকর’-এর জীবনহারা অচল-অসাড় একটা জাতিকে উজ্জীবিত বর্ণনা করতে চাই একটা মহাপ্রলয়। সেই প্রলয় ঘটাতে পারে একমাত্র রুদ্ররূপী কাল-ভয়ংকর। যদিও এক্ষেত্রে কবি দেশের যুবশক্তিকে কাল-ভয়ংকররূপে আখ্যা দিয়েছেন।
কবি রুদ্ররূপী কাল-ভয়ংকর অর্থাৎ যুবশক্তির বিভিন্ন রূপ বর্ণনা করেছেন। কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো প্রলয়-নেশার নৃত্যপাগল মহাকালের চণ্ডরূপে সামাজিক অসংগতিকে দূর করতে তাঁর আগমন ঘটে। কখনও তাঁর ঝামর কেশের দোলায় গগন দুলে যায় এবং তাঁর অট্টহাস্যে চরাচর স্তব্ধ হয়ে যায়। দু-চোখে দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা নিয়ে বিশ্বমায়ের আসনকে সে আগলে রাখে। মাভৈঃ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এই কাল-ভয়ংকর মুমূর্ষুদের প্রাণ ফিরিয়ে দেয়। মহাকালের রথের সারথি হয়ে সে দেবতারূপ বিপ্লবীদের বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। কবি এই কাল-ভয়ংকরকে ভয় পেতে বারণ করেছেন। কেন-না এই ধ্বংসের শেষেই সৃষ্টির নতুন দিগন্ত আমাদের সামনে খুলে যাবে। তাই কবি এই ভয়ংকরকে সুন্দর বলেছেন।