বহুরূপী গল্প প্রশ্ন উত্তর // Class 10 bahurupi golpo question answer

বহুরূপী গল্প প্রশ্ন উত্তর // Class 10 bahurupi golpo question answer // WBBSE

বহুরূপী গল্প প্রশ্ন উত্তর

প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, এই পোস্টটিতে আমি তোমাদের দেখিয়েছি পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) মাধ্যমিক / দশম শ্রেণীর বাংলা সুবোধ ঘোষের লেখা বহুরূপী গল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষায় কমন পাওয়ার মতো প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন । আর হ্যাঁ, একটা কথা মনে রাখবে যে প্রশ্নগুলির পাশে বেশি স্টার মার্ক (*) সেই প্রশ্নগুলির খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সাজেশনের অন্তর্ভুক্ত । এতো সব প্রশ্নের উত্তর যদি তোমরা না পড়তে পারো , তবে স্টার মার্ক (*) প্রশ্ন উত্তরগুলি পড়লেই হবে । কিন্তু সবচেয়ে বেশি স্টার মার্ক (*) প্রশ্ন উত্তরগুলি আগে পড়বে ।

মার্ক – 1 ( MCQ )

. ‘বহুরূপী’ গল্পটির রচয়িতা হলেন

(ক) সুবোধ ঘোষ

(খ) সুবোধ সরকার

(গ) রাজশেখর বসু

(ঘ) শ্রীপান্থ

উত্তর (ক) সুবোধ ঘোষ

. ‘বহুরুপী’ গল্পের বহুরুপী হলেন

(ক) হরিদা

(খ) জগদীশবাবু

(গ) ভবতোষ

(ঘ) সন্ন্যাসী

ত্তর (ক) হরিদা

. কার বাড়িতে সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে ?

(ক) জগদীশবাবুর

(খ) হরির

(গ) কাশীনাথের

(ঘ) ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেবের

উত্তর (ক) জগদীশবাবুর

. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীটি থাকেন

(ক) কৈলাশে

(খ) তিব্বতে

(গ) হিমালয়ে

(ঘ) হিমগিরিতে

উত্তর (গ) হিমালয়ে

. জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর সারা বছরের খাদ্য

(ক) শুধু একটি সুপারি

(খ) শুধু একটি আপেল

(গ) শুধু একটি নারকেল

(ঘ) শুধু একটি হরীতকী

উত্তর (ঘ) শুধু একটি হরীতকী

. জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে আসা সন্ন্যাসীর বয়স, আনুমানিক

(ক) একশো বছরের বেশি

(খ) হাজার বছরের বেশি

(গ) পাঁচশো বছরের বেশি

(ঘ) দুশো-হাজার বছরের বেশি

উত্তর (খ) হাজার বছরের বেশি

. হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু তাকে কত টাকা দিয়েছিলেন ?

(ক) একশো

(খ) একশো এক

(গ) পাঁচশো

(ঘ) পাঁচশো এক

উত্তর (ক) একশো

. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস। দুর্লভ জিনিসটি কী ?

(ক) কাঠের খড়ম

(খ) পায়ের ধুলো

(গ) একশো টাকার নোট

(ঘ) সন্ন্যাসীর হাসি

উত্তর (খ) পায়ের ধুলো

১০. সন্ন্যাসী পায়ের ধুলো দিয়েছিলেন একমাত্র

(ক) হরিদাকে

(খ) জগদীশবাবুকে

(গ) অনাদিকে

(ঘ) ভবতোষকে

উত্তর (খ) জগদীশবাবুকে

bahurupi golpo question answer

১১. হরিদার ঘরে আড্ডা চলত

(ক) সকালে

(খ) সন্ধ্যায়

(গ) সকাল-সন্ধ্যায়

(ঘ) দুপুরে

উত্তর (গ) সকাল-সন্ধ্যায়

১২. পাগলবেশী হরিদার গলায় ছিল

(ক) মণিমুক্তার মালা

(খ) সোনার হার

(গ) কৌটোর মালা

(ঘ) ছেঁড়া ট্যানা

উত্তর (গ) কৌটোর মালা

১৩. জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর কাঠের নতুন খড়মে লাগিয়ে দেন

(ক) সোনার রং

(খ) সোনার বোল

(গ) সোনার তারকা

(ঘ) সোনার পালক

উত্তর (খ) সোনার বোল

. সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু কী দিয়েছিলেন ?

(ক) কাঠের খড়ম

(খ) সোনার আংটি

(গ) একটা ধর্মগ্রন্থ

(ঘ) একশো টাকার নোট

উত্তর (ঘ) একশো টাকার নোট

বহুরূপী গল্প প্রশ্ন উত্তর

. অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। কে ?

(ক) হরিদা

(খ) কথক

(গ) জগদীশবাবু

(ঘ) সন্ন্যাসী

উত্তর (ক) হরিদা

উত্তর (ক) বাইজির

. ভাতের হাঁড়ির দাবি মেটায় হরিদা

(ক) নাটকে অভিনয় করে

(খ) বহুরূপীর সাজ দেখিয়ে

ত্তর (খ) পাগল

(গ) সার্কাসে খেলা দেখিয়ে

(ঘ) যাত্রা আসরে গান গেয়ে

উত্তর (খ) বহুরূপীর সাজ দেখিয়ে

১৭. কথকদের চার বন্ধুর সকালসন্ধের আড্ডার স্থান

(ক) চায়ের দোকান

(খ) চকের বাসস্ট্যান্ড

(গ) কথকের বাড়ি

(ঘ) হরিদার ঘর

উত্তর (ঘ) হরিদার ঘর

১৮. জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী ছিলেন

(ক) পাঁচদিন

(খ) তিনদিন

(গ) সাতদিন

(ঘ) নয়দিন

উত্তর (গ) সাতদিন

১৯. ‘বড়ো মানুষের কান্ডের খবরবড়ো মানুষ বলতে বোঝানো হয়েছে

(ক) জগদীশবাবুকে

(খ) নিমাইবাবুকে

(গ) শ্রীপান্থকে

(ঘ) এঁদের কাউকেই নয়

উত্তর (ক) জগদীশবাবুকে

২০. “থাকলে একবার গিয়ে পায়ের ধুলো নিতাম।– যিনি পায়ের ধুলো নিতেন তিনি হলেন

(ক) জগদীশবাবু

(খ) হরিদা

(গ) অনাদি

(ঘ) ভবতোষ

উত্তর (খ) হরিদা

. চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে হরিদা কী সেজে আতঙ্কের হল্লা তুলেছিলেন ?

(ক) ভূত

(খ) পাগল

(গ) পুলিশ

(ঘ) বাইজি

. “খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো। অন্যদিকে যাও।”- এ কথা বলেছে

(ক) ভবতোষ

(খ) অনাদি

(গ) কাশীনাথ

(ঘ) জনৈক বাসযাত্রী

ত্তর (গ) কাশীনাথ

. “একদিন চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল।”- যাকে কেন্দ্র করে সে হল

(ক) উন্মাদ পাগল

(খ) রূপসি বাইজি

(গ) বিরাগী সন্ন্যাসী

(ঘ) ছদ্মবেশী পুলিশ।

উত্তর (ক) উন্মাদ পাগল

২৪. হরিদা চকের বাসস্ট্যান্ডে কোন সময়ে পাগল সেজেছিল ?

(ক) সকালবেলায়

(খ) দুপুরবেলায়

(গ) বিকালবেলায়

(ঘ) সন্ধ্যাবেলায়

উত্তর (খ) দুপুরবেলায়

২৫. ‘বহুরূপী’ গল্পে কাশীনাথ হল

(ক) বাসের ড্রাইভার

(খ) দোকানদার

(গ) গল্পকথকের বন্ধু

(ঘ) সন্ন্যাসী

উত্তর (ক) বাসের ড্রাইভার

২৬. ‘গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন’- কে ?

(ক) জগদীশবাবু

(খ) বিরাগী

(গ) হরিদা

(ঘ) গল্পকথক

ত্তর (গ) হরিদা

২৭. সন্ধ্যার আলো-আঁধারে হরিদা সজ্জিত হন কোন সাজে ?

(ক) পাগলের

(খ) বাইজির

(গ) সন্ন্যাসীর

(ঘ) কাপালিকের

উত্তর (খ) বাইজির

২৮. হরি নকল পুলিশ সেজে দাঁড়িয়েছিলেন

(ক) একটি স্কুলের ভিতর

(খ) দয়ালবাবুর ময়দানে

(গ) আমবাগানের ভিতর

(ঘ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানের ভিতর

উত্তর (ঘ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানের ভিতর

২৯. পুলিশের কবল থেকে স্কুলের ছাত্রদের রক্ষা করতে মাস্টারমশাই বহুরূপীকে কী দিয়েছিলেন ?

(ক) ঘুস প্রদানের প্রতিশ্রুতি

(খ) পাঁচ টাকা ঘুস

(গ) আট আনা ঘুস

(ঘ) বারো আনা ঘুস

উত্তর (গ) আট আনা ঘুস

৩০. নকল পুলিশকে ঘুস দিয়েছিল

(ক) হরিদা

(খ) কাশীনাথ

(গ) স্কুলের মাস্টারমশাই

(ঘ) এদের কেউই নয়

উত্তর (গ) স্কুলের মাস্টারমশাই

৩১. নকল পুলিশ সেজে হরিদা ঘুস নিয়েছিলেন

(ক) আট আনা

(খ) চার আনা

(গ) একটাকা

(ঘ) দু-টাকা

উত্তর (ক) আট আনা

৩২. ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি।-ছদ্মবেশটি ছিল

(ক) বাইজির

(খ) পুলিশের

(গ) পাগলের

(ঘ) ভিখারির

উত্তর – (ক) বাইজির

৩৩. হরিদা বাইজি সেজে পথে বেরিয়েছিলেন

(ক) সকালে

(খ) সন্ধ্যায়

(গ) দুপুরে

(ঘ) বিকেলে

উত্তর (খ) সন্ধ্যায়

৩৪. “এবার মারি তো হাতি, লুটি তো__________” –

(ক) খনি

(খ) ব্যাংক

(গ) ভাণ্ডার

(ঘ) কোশাগার

উত্তর (গ) ভাণ্ডার

৩৫. বাইজি বেশে হরিদার হাতে ছিল–

(ক) বীণা

(খ) ফুলসাজি

(গ) ফুলের তোড়া

(ঘ) পানের ডিবে

উত্তর (খ) ফুলসাজি

৩৬. বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল (ক) আট টাকা (খ) আট টাকা দশ আনা (গ) দশ টাকা (ঘ) দশ টাকা আট আনা

উত্তর (খ) আট টাকা দশ আনা

[অথবা], বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল–

(ক) আট টাকা দশ আনা

(খ) আট টাকা আট আনা

(গ) দশ টাকা চার আনা

(ঘ) দশ টাকা দশ আনা

উত্তর (ক) আট টাকা দশ আনা

৩৭. “কিন্তু দোকানদার হেসে ফেলে-হরির কাণ্ড।” – দোকানদার হরির যে সাজ দেখে হেসে ফেলেছিল সেই সাজটি হল–

(ক) পাগলের

(খ) রূপসি বাইজির

(গ) পুলিশের

(ঘ) বাউলের

উত্তর (খ) রূপসি বাইজির

৩৮. যার লিচুবাগানে হরিদা পুলিশ সেজে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি

(ক) কয়ালবাবু

(খ) অনাদিবাবু

(গ) নকুলবাবু

(ঘ) দয়ালবাবু

উত্তর (ঘ) দয়ালবাবু

৩৯. লিচুবাগানে নকল পুলিশ স্কুলের যে ক-টি ছেলেকে ধরেছিলেন, তাদের সংখ্যা হল –

(ক) চার

(খ) পাঁচ

(গ) ছয়

(ঘ) আট

উত্তর (ক) চার

৪০. সপ্তাহে হরিদা বহুরুপী সেজে বাইরে যান–

(ক) একদিন

(খ) দু-দিন

(গ) চারদিন

(ঘ) পাঁচ দিন

উত্তর (ক) একদিন

৪১. হরিদা কী সাজ দেখিয়ে সবচেয়ে বেশি পয়সা পেয়েছিলেন? –

(ক) রূপসি বাইজি

(খ) রাক্ষস

(গ) হনুমান

(ঘ) দেবী কালী

উত্তর (ক) রূপসি বাইজি

৪২. পুলিশ সেজে হরিদা দাঁড়িয়েছিলেন –

(ক) জগদীশবাবুর বাড়িতে

(খ) চকের বাসস্ট্যান্ডে

(গ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে

(ঘ) চায়ের দোকানে

উত্তর (গ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে

৪৩. ভবতোষ-অনাদিদের অনুমানে জগদীশবাবু বকশিশ দিতে পারেন –

(ক) চার আনা

(খ) পাঁচ আনা

(গ) একশো টাকা

(ঘ) দশ টাকা

উত্তর (খ) পাঁচ আনা

৪৪. ভবতোষ-অনাদিরা হরিদাকে বকশিশ হিসেবে দিতে পারে –

(ক) টাকা

(খ) পয়সা

(গ) বিড়ি

(ঘ) সিগারেট

উত্তর (ঘ) সিগারেট

৪৫. ভবতোষ-অনাদিরা জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিল –

(ক) দেখা করতে

(খ) ‘স্পোর্টের চাঁদা নিতে

(গ) আড্ডা দিতে

(ঘ) হুমকি দিতে

উত্তর (খ) স্পোর্টের চাঁদা নিতে

৪৬. বহুরূপী সেজে সারাদিনে হরিদার উপার্জন হয়–

(ক) এক-দু টাকা

(খ) দু-তিন টাকা

(গ) চার-পাঁচ টাকা

(ঘ) দশ টাকা

উত্তর (খ) দু-তিন টাকা

৪৭. “মোটা মতন কিছু আদায় করে নেব।”- কীভাবে ?

(ক) কথকদের খেলা দেখিয়ে

(খ) সন্ন্যাসী সেজে

(গ) বাইজি সেজে

(ঘ) জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখিয়ে

উত্তর (ঘ) জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখিয়ে

৪৮. জগদীশবাবু ধনী হলেও –

(ক) অসৎ

(খ) কৃপণ

(গ) দাম্ভিক

(ঘ) বিনয়ী

উত্তর (খ) কৃপণ

৪৯. হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন –

(ক) বিকেলবেলায়

(খ) সন্ধ্যাবেলায়

(গ) দুপুরবেলায়

(ঘ) সকালবেলায়

উত্তর (খ) সন্ধ্যাবেলায়

৫০. কথকরা জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত থাকবে, কারণ তারা জগদীশবাবুর বাড়ি যাবে –

(ক) মজা দেখার অজুহাতে

(খ) স্পোর্টের চাঁদা তুলতে

(গ) পুজোর চাঁদা তুলতে

(ঘ) জগদীশবাবুকে নিমন্ত্রণ করতে

উত্তর (খ) স্পোর্টের চাঁদা তুলতে

৫১. “চমকে উঠলেন জগদীশবাবু” -জগদীশবাবু চমকে উঠলেন, কারণ –

(ক) তিনি ভূত দেখেছিলেন

(খ) তিনি অদ্ভুত সাজের এক বিরাগী দেখেছেন

(গ) বিরাগী তার কাছ থেকে টাকা নিতে চাইছেন না

(ঘ) হিমালয় যে থেকে আগত সন্ন্যাসী তাকে পদধূলি দিয়েছেন

উত্তর (খ) তিনি অদ্ভুত সাজের এক বিরাগী দেখেছেন

৫২. হরিদা যেদিন বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন সেদিন সন্ধ্যার চেহারা ছিল –

(ক) বড়ো অপূর্ব

(খ) বড়ো চমৎকার

(গ) ঘন অন্ধকার

(ঘ) দুর্যোগপূর্ণ

উত্তর (খ) বড়ো চমৎকার

৫৩. বিরাগীবেশী হরিদার পায়ে ছিল –

(ক) জুতো

(খ) খড়ম

(গ) চটি

(ঘ) ধুলো

উত্তর (ঘ) ধুলো

৫৪. বিরাগীর মতে পরম সুখ হল –

(ক) সংসার ত্যাগ না করা

(খ) ঈশ্বর সাধনা করা

(গ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া

(ঘ) পরমাত্মার দর্শন লাভ

উত্তর (গ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া

৫৫. ‘সেটা পূর্বজন্মের কথা।’ -বক্তার পূর্বজন্মে ছিল –

(ক) রাগ

(খ) ঘৃণা

(গ) ঈশ্বরভক্তি

(ঘ) ভালোবাসা

উত্তর (ক) রাগ

৫৬. বিরাগীর ঝোলার ভিতর যে বই ছিল তা হল –

(ক) গীতা

(খ) মহাভারত

(গ) কোরান

(ঘ) উপনিষদ

উত্তর (ক) গীতা

৫৭. “আমি মহারাজ নই, আমি এই সৃষ্টির মধ্যে…” –

(ক) এক বিস্ময়

(খ) এক মহা বিপর্যয়

(গ) এক ইতিহাস

(ঘ) এককণা ধূলি

উত্তর (ঘ) এককণা ধূলি

৫৮. “ওসব হলো সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা।” -এখানে ‘ওসব’হল –

(ক) ধন জন যৌবন

(খ) সংসারের মায়া

(গ) বাড়িঘর

(ঘ) টাকার থলি

উত্তর (ক) ধন জন যৌবন

৫৯. “… রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই।” – ‘রিপু’ শব্দের অর্থ –

(ক) শত্রু

(খ) হিংসা

(গ) বন্ধু

(ঘ) মায়া

উত্তর (ক) শত্রু

৬০. ‘সেটা পূর্বজন্মের কথা।’ – পূর্বজন্মের কথাটি হল –

(ক) বিরাগীর সংসার জীবন

(খ) বিরাগী নির্মোহ নন

(গ) বিরাগী রাগের অধীন

(ঘ) বিরাগী কাউকে পদধূলি দেন না

উত্তর (গ) বিরাগী রাগের অধীন

৬১. বিরাগী জগদীশবাবুর কাছে প্রার্থনা করেন –

(ক) অর্থ

(খ) নিশাযাপনের স্থান

(গ) জল

(ঘ) খাদ্য

উত্তর (গ) জল

৬২. বিরাগী ছদ্মবেশী হরিদাকে জগদীশবাবু সেধেছিলেন –

(ক) একশো টাকা

(খ) একশো এক টাকা

(গ) একশো দশ টাকা

(ঘ) একশো পঁচিশ টাকা

উত্তর (খ) একশো এক টাকা

৬৩. জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল –

(ক) বারো লক্ষ টাকা

(খ) কুড়ি লক্ষ টাকা

(গ) আঠারো লক্ষ টাকা

(ঘ) এগারো লক্ষ টাকা

উত্তর (ঘ) এগারো লক্ষ টাকা

৬৪. “আমার অপরাধ হয়েছে’ – বক্তা হলেন  –

(ক) স্কুলের মাস্টারমশাই

(খ) হরিদা

(গ) ভবতোষ

(ঘ) জগদীশবাবু

উত্তর (ঘ) জগদীশবাবু

৬৫. “আমি এই সৃষ্টির মধ্যে এককণা ধূলি।” -এ কথা বলেছেন –

(ক) হরিদা

(খ) মহারাজ

(গ) জগদীশবাবু

(ঘ) কেউ নয়

উত্তর (ক) হরিদা

৬৬. “আপনার কাছে এটা আমার প্রাণের অনুরোধ।”-অনুরোধটি হল –

(ক) পায়ের ধুলো চাওয়া

(খ) বিরাগীকে নিজের বাড়িতে রাখতে চাওয়া

(গ) উপদেশ শুনতে চাওয়া

(ঘ) হরীতকী চাওয়া

উত্তর (খ) বিরাগীকে নিজের বাড়িতে রাখতে চাওয়া

৬৭. “ না না, হরিদা নয়। হতেই পারে না।” –উক্তিটি করেছেন –

(ক) ভবতোষ

(খ) সুবোধ

(গ) জগদীশবাবু

(ঘ) অনাদি

উত্তর (ক) ভবতোষ

৬৮. বিরাগীর মতে ‘ধন-জন-যৌবন’হল –

(ক) মিথ্যা

(খ) অনর্থের মূল

(গ) অর্থহীনতার নামান্তর

(ঘ) এক-একটি বঞ্চনা

উত্তর (ঘ) এক-একটি বঞ্চনা

৬৯. “আমাদের দেখতে পেয়েই লজ্জিতভাবেহাসলেন।”-কে হাসলেন ? –

(ক) ভবতোষ

(খ) জগদীশবাবু

(গ) হিমালয়বাসী সন্ন্যাসী

(ঘ) হরিদা

ত্তর (ঘ) হরিদা

৭০. “এটা কী কান্ড করলেন, হরিদা?”-বক্তা হলেন –

(ক) ভবতোষ

(খ) অনাদি

(গ) পরিতোষ

(ঘ) অতীন

উত্তর (খ) অনাদি

৭১. হরিদার ঘরে আড্ডা দিত –

(ক) পাঁচ জন

(খ) চার জন

(গ) তিন জন

(ঘ) ছয় জন

উত্তর – (খ) চার জন

৭২. হরিদা যে ধরনের খেলা দেখাবেন বলেছিলেন, তা হল –

(ক) ভয়ংকর

(খ) দারুণ

(গ) চমৎকার

(ঘ) জবর

ত্তর (ঘ) জবর

৭৩. হরিদার উনুনের উপর বসানো হাঁড়িতে কী ফুটছিল ? –

(ক) জল

(খ) চাল

(গ) ভাত

(ঘ) তরকারি

ত্তর (খ) চাল

৭৪. “আপনি তাহলে সত্যিই বের হয়েছিলেন। আপনিই বিরাগী?”- উক্তিটির বক্তা কে ? –

(ক) শিবতোষ

(খ) ভবতোষ

(গ) অনাদি

(ঘ) লেখক

ত্তর  (খ) ভবতোষ

৭৮. বিরাগীবেশী হরিদার সাদা উত্তরীয়টা পড়ে ছিল –

(ক) তক্তপোশের উপর

(খ) আলনায়

(গ) বাক্সের ওপর

(ঘ) মাদুরের উপর

উত্তর (ঘ) মাদুরের উপর

৭৯. “হরিদার একথার সঙ্গে তর্ক চলে না।” – কোন কথা ? –

(ক) গিয়ে অন্তত বকশিশটা তো দাবি করতে হবে ?

(খ) খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরুপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে ?

(গ) একজন বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা-ফাকা কী করে স্পর্শ করি বল ? তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।

(ঘ) আমি… অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি।

উত্তর (গ) একজন বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা-ফাকা কী করে স্পর্শ করি বল ? তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।

৮০. “যাবই তো। না গিয়ে উপায় কী?”-কোথায় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে ? –

(ক) বাসস্ট্যান্ডে

(খ) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে

(গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে

(ঘ) তীর্থভ্রমণে

উত্তর (গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে

৮১. হরিদা কী কারণে পুনরায় জগদীশবাবুর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন ? –

(ক) ক্ষমা চাইতে

(খ) বকশিশ দাবি করতে

(গ) ভিক্ষা চাইতে

(ঘ) ফেলে যাওয়া খড়ম নিতে

উত্তর (খ) বকশিশ দাবি করতে

৮২. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।”- এখানে হরিদার ভুল হল –

(ক) বহুরূপী সাজা

(খ) হিমালয় থেকে আসা সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো না নেওয়া

(গ) জগদীশবাবুর বাড়ি যাওয়া

(ঘ) বিরাগীর ঢং রক্ষার জন্য জগদীশবাবুর দেওয়া টাকা অবহেলা করা

উত্তর (ঘ) বিরাগীর ঢং রক্ষার জন্য জগদীশবাবুর দেওয়া টাকা অবহেলা করা

৮৩. জগদীশবাবুর বাড়িতে বকশিশ চাইতে গেলে বড়ো জোর আট আনা কিংবা দশ আনা পাওয়া যেতে পারে-এ কথা ভেবেছিল –

(ক) গল্পকথক

(খ) অনাদি

(গ) ভবতোষ

(ঘ) কাশীনাথ

উত্তর (গ) ভবতোষ

মার্ক – 1 ( SAQ )

১. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।”-দুর্লভ জিনিসটি কী ?

উত্তর দুর্লভ জিনিসটি হল – হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো

২. “শুনেছেন, হরিদা, কী কাণ্ড হয়েছে?”- কোন ঘটনাকে এখানে ‘কাণ্ড’ বলা হয়েছে ?

উত্তর কথকদের শহরে বসবাসকারী প্রতিপত্তিসম্পন্ন বিত্তশালী ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে বছরে একটি হরীতকী ভক্ষণের দ্বারা জীবনধারণকারী হিমালয়ের গুহাবাসী এক সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে। তিনি দীর্ঘ সাত দিনা জগদীশবাবুর বাড়িতে অবস্থানও করেন। এই ঘটনাকেই এখানে ‘কাণ্ড বলা হয়েছে।

৩. “ খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী।”-কার সম্পর্কে এই ধারণা তৈরি হয় ?

উত্তর জগদীশবাবুর বাড়িতে সাতদিন অতিবাহিত করা হিমালয়ের গুহাবাসী এক সন্ন্যাসী সম্পর্কে কথকদের মনে এই ধারণা তৈরি হয়।

৪. সন্ন্যাসী জগদীশবাবুকে পদধূলি প্রদানে বাধ্য হন কেন ?

উত্তর জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর জন্য একজোড়া কাঠের খড়ম সংগ্রহ করে তাতে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেন। তখন তিনি নতুন খড়ম পরার জন্য পা বাড়াতে বাধ্য হন, যা জগদীশবাবুকে তাঁর পদধূলি গ্রহণে সহায়তা করে।

. সেটাই যে হরিদার জীবনের পেশা।” হরিদার পেশা কী ?

উত্তর –  হরিদার পেশা হল-বহুরূপী সেজে রোজগার করা ।

.  “… এক সন্ন্যাসী এসে জগদীশবাবুর বাড়িতে ছিলেন।” – এতে সন্ন্যাসীর কী পরিচয় পাওয়া যায় ?

উত্তর – সব নাশ করেন যিনি তিনিই সন্ন্যাসী। তাঁর আসক্তি থাকে না, তাঁর কাছে রাজপ্রাসাদ আর শ্মশান-দুই সমান। কিন্তু জগদীশবাবুর বাড়িতে আশ্রিত সন্ন্যাসী গৃহীর বাড়িতে থেকেছেন, ভোগে আসক্ত হয়েছেন। তাই তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসী নন।

. “গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা।” গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গেলেন কেন ?

উত্তর – সন্ন্যাসী জগদিশবাবুর বাড়িতে সাতদিন থেকেছেন, সোনার বোল দেওয়া খড়ম পরে একশো টাকা প্রণামি নিয়ে বিদায় হয়েছেন -এসব শোনার পর সন্ন্যাসীর ভণ্ডামির কথা বুঝতে পেরে হরিদা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন।

. “হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না।” – কেন এমন উক্তি ?

উত্তর – হরিদা কাজ করেন না। তিনি বহুরূপী সেজে সপ্তাহে একদিন বাইরে বেরিয়ে যা উপার্জন করেন তাতেই খাওয়া-পরার দাবি মেটানোর চেষ্টা করেন। তাই সব দিন তাঁর ভাত জোটে না।

. হরিদা কে ?

উত্তর – ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরি অর্থাৎ কথকের হরিদা। সে পেশাগত দিক থেকে বহুরূপী বৃত্তি অবলম্বী হলেও অপরাপর বহুরুপীদের মতো বহুরূপ ধারণ শুধু তার পেশা নয়, নেশাও বটে। একজন প্রকৃত শিল্পীর মতো অভিনয়কে তিনি সাধনা হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

. ‘বহুরূপী’ গল্প অনুসারে লেখো সারা বছর সন্ন্যাসী কী খান ?

উত্তর – ‘বহুরূপী’ গল্পে উল্লেখিত সন্ন্যাসী সারা বছরে শুধুমাত্র একটি হরীতকী খান, অন্য কিছু খান না।

. “বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার!”– কোন ব্যাপারকে ‘মজার’ বলা হয়েছে ?

উত্তর – জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেন। তখন বাধ্য হয়ে সন্ন্যাসী নতুন খড়ম পরেন। সেই ফাঁকে জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে নেন। একেই হরিদা ‘বেশ মজার ব্যাপার’ বলেছেন।

. সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু কী দিয়েছিলেন ?

ত্তর সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু একশো টাকার একটা নোট জোর করে তাঁর ঝোলায় ফেলে দিয়েছিলেন।

bahurupi golpo question answer

. “চা চিনি আর দুধ আমরাই নিয়ে আসি।” – ‘আমরা’ বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে ?

উত্তর – চা, চিনি আর দুধ নিয়ে যান গল্পকথক, ভবতোষ, অনাদি ও তাদের আর-এক সঙ্গী। এরা হরিদার বাড়িতে আড্ডা দিতে যাওয়ার সময় চায়ের উপকরণ নিয়ে যায়।

১৪. জগদীশবাবু কীভাবে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পেয়েছিলেন ?

উত্তর – জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেন। তখন সন্ন্যাসী বাধ্য হয়ে নতুন খড়ম পরেন। সেই ফাঁকে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নেন।

. জগদীশবাবু হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসীকে কী কী উপহার দেন ?

উত্তর – জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পদধূলি গ্রহণের জন্য তাঁকে একজোড়া সোনার বোল লাগানো খড়ম উপহার দেন। পরে সন্ন্যাসীর বিদায় গ্রহণকালে জগদীশবাবু তাঁকে জোর করে একশো টাকার একটা নোট প্রদান করেন।

. ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার বাড়িতে কারা আড্ডা দিতে আসত ?

উত্তর – ‘বহুরূপী’ গল্পে গল্পকথক, অনাদি, ভবতোষ ও তাদের আর-এক সঙ্গী হরিদার বাড়িতে আড্ডা দিতে আসত।

. “আক্ষেপ করেন হরিদা”হরিদার আক্ষেপের কারণ কী ?

উত্তর – সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিতে না পারার জন্য হরিদা আক্ষেপ করেছিলেন।

. হরিদা কোথায় থাকতেন ?

উত্তর – শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতর দিকের একটি ছোট্ট ঘরে থাকতেন হরিদা ।

. একঘেয়ে কাজ করতে ভয়ানক আপত্তি।” – ‘একঘেয়ে কাজ’ বলতে কোন কোন কাজকে বলা হয়েছে ?

উত্তর – অফিসের কাজ কিংবা ব্যাবসায়িক কোনো কাজ যা ঘড়ি ধরে সময় বেঁধে আর নিয়ম করে রোজই করতে হয় সেসব কাজকেই ‘একঘেয়ে কাজ’ বলা হয়েছে।

. “একদিন চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল।” – কেন ?

উত্তর – বহুরূপী হরিদার পাগলের ছদ্মবেশে ভীতি প্রদর্শনের প্রাবল্য চকের বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের হল্লা সৃষ্টি করে ।

. ‘বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দেয়।’ বাসের ড্রাইভার কাশীনাথের ধমকে বাসযাত্রীদের কী প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ?

উত্তর – বাসের ড্রাইভার কাশীনাথের ধমক শুনে বাসযাত্রীরা অবাক হয়ে যায়। পাগলবেশী লোকটা আসলে বহুরূপী এ কথা বুঝে তারা কেউ হাসে, কেউ-বা বিরক্ত হয়। কেউ আবার বিস্মিত হয়ে ভাবে, ‘চমৎকার পাগল সাজতে পেরেছে তো লোকটা’।

. “কিন্তু দোকানদার হেসে ফেলে হরির কাণ্ড।” কী কাণ্ড ?

উত্তর – একদিন সন্ধ্যায় হরি রূপসি বাইজির সজ্জায় সজ্জিত হয়ে পথের উপর দিয়ে ঘুঙুরের মিষ্টি শব্দ সৃষ্টি করে চলে যান। সেখানে উপস্থিত শহরের নবাগত ব্যক্তিগণ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকে দেখতে থাকে। এই মোহময় আবেগপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করাকে লক্ষ করে তার সম্পর্কেই এক দোকানদার এ কথা বলে।

২৩. হরিদা পুলিশ সেজে কাদের ধরেছিলেন ?

উত্তর – হরিদা পুলিশ সেজে স্কুলের চারটি ছেলেকে ধরেছিল ।

. স্কুলের ছাত্রদের পুলিশবেশী হরির প্রকোপ থেকে বাঁচানোর জন্য মাস্টারমশাই কী করেছিলেন ?

উত্তর – স্কুলের ছাত্রদের পুলিশ বেশধারণকারী হরির প্রকোপ থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য প্রথমে মাস্টারমশাই বিনীত অনুরোধ জানান, কিন্তু তাতে কোনো ফল না হওয়ায় আট আনা ঘুস দিয়ে তিনি ছাত্রদের মুক্তির ব্যবস্থা করেন।

. “হরিদার জীবন এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে।” কীরকম খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে ?

উত্তর – কখনও বদ্ধ পাগল, বাইজি, বাউল, কাপালিক; কখনও বুড়ো কাবুলিওয়ালা, কেরামিন সাহেব, পুলিশ, বিরাগী-এই রকম বহুরূপের খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে।

. কোন সাজে হরির রোজগার ভালো হয়েছিল ?

উত্তর –  বহুরূপী হিসেবে বাইজির সাজে হরির রোজগার ভালো হয়েছিল ।

. দোকানদার বাইজিবেশী হরিদাকে কী বকশিশ দিয়েছিল ?

উত্তর –  দোকানদার বাইজিবেশী হরিদাকে একটি সিকি বকশিশ দিয়েছিল ।

. ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেবের ছদ্মবেশে হরিদার পরনে কী থাকত ?

উত্তর –  ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেবের ছদ্মবেশে হরিদার পরনে থাকত হ্যাট-কোট-প্যান্টালুন।

. কাবুলিওয়ালার ছদ্মবেশ কেমন ছিল ?

উত্তর – কাবুলিওয়ালার ছদ্মবেশে হরিদার কাঁধে থাকত বোঁচকা। বুড়ো কাবুলিওয়ালার ছদ্মবেশ ধরেছিলেন হরিদা ।

. “বরং একটু তারিফই করলেন,” কে, কী তারিফ করলেন ?

ত্তর স্কুলের মাস্টারমশাই পুলিশবেশী হরিদার ছদ্মবেশের তারিফ করে বলেছিলেন যে, সত্যি খুব চমৎকার পুলিশ সেজেছিল হরিদা।

. “এবারের মতো মাপ করে দিন ওদের।” কে, কাকে এ কথা বলেছিল ?

উত্তর – দয়ালবাবুর লিচুবাগানে লিচু চুরি করতে গিয়ে পুলিশবেশী হরিদার হাতে ধরা পড়েছিল স্কুলের চারটি ছেলে। তাদের হয়ে ক্ষমা চাইতে গিয়ে স্কুলের মাস্টারমশাই এ কথা বলেছিলেন।

. “ভয়ে কেঁদে ফেলছিল ছেলেগুলো;” – ছেলেগুলোর ভয়ে কেঁদে ফেলার কারণ কী ছিল ?

উত্তর – দয়ালবাবুর লিচুবাগানে লিচু চুরি করতে গিয়েছিল স্কুলের চারটি ছেলে। সেসময় পুলিশবেশী হরিদার হাতে তারা ধরা পড়ে। চুরি করার অপরাধে শাস্তি পাওয়ার ভয়ে তারা কেঁদে ফেলেছিল।

৩২. পুলিশ সেজে হরিদা কী করেছিল ?

উত্তর – পুলিশ সেজে প্রথমে হরি দয়ালবাবুর লিচুবাগানের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকে, পরে স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরে। শত অনুরোধ সত্ত্বেও ছেলেগুলিকে না ছেড়ে মাস্টারের কাছ থেকে আট আনা ঘুস নিয়ে তারপর তাদের অব্যাহতি দেয়।

. “সপ্তাহে বড়োজোর একটা দিন বহুরূপী সেজে পথে বের হন হরিদা।” – ‘বহুরূপী’ কাকে বলে ?

উত্তর – যাঁরা বহুরূপ ধারণ করে পথে পথে ঘুরে মানুষকে আনন্দ দিয়ে কিংবা বিস্মিত করে অর্থ উপার্জন করেন, তাদের বহুরুপী বলে ।

. “এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন বহুরূপী হরিদা।” – চমৎকার ঘটনাটি কী ?

উত্তর – একদিন সন্ধ্যায় শহরের দোকানে দোকানে যখন আলো জ্বলে উঠেছে, তখন লোকজনের ব্যস্ততা আর মুখরতার মাঝখানে হঠাৎ শোনা যায় ঘুঙুরের মিষ্টি রুমঝুম আওয়াজ। এক রূপসি বাইজি চলে যাচ্ছে নাচতে নাচতে- শহরের নবাগতরা মুগ্ধ চোখে দেখে সেই দৃশ্য। একেই ‘চমৎকার ঘটনা’ বলা হয়েছে।

. “আমাদের সন্দেহ মিথ্যে নয়।”– কোন সন্দেহে ?

উত্তর – জগদীশবাবুর বাড়িতে আশ্রিত সন্ন্যাসীর কীর্তিকলাপ শুনে হরিদার মনে নতুন কোনো মতলব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে-এই সন্দেহের কথা বলা হয়েছে।

৩৬. “… তোমরা সেখানে থেকো। তাহলে দেখতে পাবে…।” কী দেখতে পাবে ?

উত্তর – জগদীশবাবুর বাড়িতে গল্পকথক, অনাদি, ভবতোষরা থাকলে বহুরূপীবেশী হরিদার জবর খেলা দেখতে পাবে।

. “কিন্তু ওতেই বা কি হবে?” – কীসের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর – বাইজি বেশে পথে বেরিয়ে হরিদার রোজগার হয়েছিল আট টাকা দশ আনা। কিন্তু তাতে তো আর অনন্তকাল চলতে পারে না। এখানে ওই সামান্য উপার্জনের কথাই বলা হয়েছে।

. ‘একেবারেই যা ঝেলে নেব’কার কাছ থেকে কী ঝেলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর – বহুরূপী বেশ ধারণ করে জগদীশবাবুর কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা ঝেলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

৩৯. ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ কত ?

উত্তর – ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ এগারো লক্ষ টাকা ।

. বিরাগীর হাতে কী ছিল ?

উত্তর – বিরাগীর ধূলিমলিন হাতে ছিল একটি ঝোলা। সেই ঝোলার ভিতরে আবার একটিমাত্রই বই ছিল ‘শ্রীম‌দ্ভাগবত গীতা’।

. ‘পরম সুখ’ বলতে বিরাগী কী বুঝিয়েছেন ?

উত্তর – বিরাগীর মতানুযায়ী ‘পরম সুখ’ হল অনন্ত শান্তি ও মুক্তি। সকল জাগতিক সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে অনন্তের সাধনায় আত্মনিয়োগ করতে পারলেই ‘পরম সুখ’ লাভ করা যায়।

. “চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।” জগদীশবাবুর চমকে ওঠার কারণ কী ?

উত্তর – আদুর গায়ে সাদা উত্তরীয়, পরনে সাদা থান, মাথায় শুকনো সাদা চুল, ধুলো মাখা পা, হাতে ঝোলা নিয়ে হঠাৎ আবির্ভূত হওয়া এক বিরাগীকে দেখে চমকে উঠেছিলেন জগদীশবাবু।

. “আমরাও চমকে উঠেছি বইকি।” লেখকরা চমকে উঠেছিলেন কেন ?

উত্তর – নগ্ন গায়ে সাদা উত্তরীয়, পরনে সাদা থান, মাথায় শুকনো সাদা চুল, ধুলো মাখা দুটি পা, হাতে একটা ঝোলা নিয়ে হঠাৎ আবির্ভূত হওয়া এক বিরাগীকে দেখে চমকে উঠেছিলেন লেখকেরা।

. “.. জগদীশবাবুর দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল।” কী দেখে জগদীশবাবুর এমন অবস্থা হল ?

উত্তর – বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে সাদা থান, সাদা উত্তরীয়, সাদা চুল, ধুলো মাখা পা, হাতে ঝোলা নিয়ে যেন জগতের ওপর পার থেকে হেঁটে আসা অশরীরী চেহারার অদ্ভুত উদাত্ত, শান্ত ও উজ্জ্বল দৃষ্টির আগন্তুকে দেখে জগদীশবাবুর দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল।

৪৫. জগদীশবাবুর বাড়িতে যে বিরাগী এসেছিলেন, তাঁর পোশাক কেমন ছিল ?

উত্তর – জগদীশবাবুর বাড়িতে যে বিরাগী এসেছিলেন তার শরীরের ঊর্ধ্বাংশ ছিল অনাবৃত। সাদা উত্তরীয়তে আবৃত ছিল শরীর। পরনে ছোটো বহরের সাদা থান, মাথায় ফুরফুরে শুকনো সাদা চুল, ধুলো মাখা পা, হাতে একটা ঝোলা, আর তাতে একটিমাত্র বই-গীতা।

. ‘ব্যাকুল স্বরে প্রার্থনা করেন জগদীশবাবু ’ – জগদীশবাবু কার কাছে কী প্রার্থনা করেন ?

উত্তর – জগদীশবাবু বিরাগীবেশী হরিদার কাছে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা গ্রহণ করে শান্তিদানের প্রার্থনা করেন।

. “তারপর নিজের মনেই হাসলেন।” – কে ?

উত্তর – জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত বিরাগীবেশী হরিদা নিজের মনে হেসেছিলেন ।

. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” – কেন এই উক্তি ?

উত্তর – জগদীশবাবু বারান্দা থেকে নেমে এসে বিরাগীকে অভ্যর্থনা জানাননি। তিনি এগারো লক্ষ টাকা সম্পত্তির অহংকারে নিজের স্বরূপ ভুলতে বসেছেন ভেবে বিরাগীবেশী হরিদা এই উক্তি করেন।

. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?”- বক্তা এ কথা কাকে বলেছিলেন ?

উত্তর – সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের আলোচ্য অংশের বক্তা বিরাগীবেশী হরিদা এ কথা বলেছিলেন জগদীশবাবুকে।

. এটা আমার প্রাণের অনুরোধ।’ বক্তা কোন অনুরোধকে প্রাণের অনুরোধ বলেছেন ?

উত্তর – জগদীশবাবু বিরাগীবেশী হরিদাকে তাঁর বাড়িতে কয়েকটা দিন থাকতে বলেছিলেন। একেই তিনি ‘প্রাণের অনুরোধ’ বলেছেন।

. জগদীশবাবু বিরাগীর জন্য কিছু করতে চাইলে বিরাগী কী বলেন ?

উত্তর – জগদীশবাবু বিরাগীর জন্য কিছু করার নিবেদন জ্ঞাপন করলে বিরাগী জানান যে, বিরাগী যাঁর অধীন, যাঁর কাছে তিনি পড়ে আছেন তিনি অর্থাৎ ঈশ্বর, জগদীশবাবুর চেয়ে কম বড়ো দাতা নন। তাই জগদীশবাবুর কাছে চাওয়ার মতো তাঁর কিছুই নেই।

. ‘ কিছু উপদেশ শুনিয়ে যান বিরাগীজি,’বিরাগীজি কী উপদেশ দিয়েছিলেন ?

উত্তর – বিরাগীবেশী হরিদা বলেন ধন-জন-যৌবন কিছুই নয়। ওসব হল সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা। মনপ্রাণের সব আকাঙ্ক্ষা নিয়ে একজনের আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাঁকে অর্থাৎ ভগবানকে পেলেই সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া হয়ে যায়।

৫৩. “ পরম সুখ কাকে বলে জানেন?” – বক্তা ‘পরম সুখ’ বলতে কী বুঝিয়েছেন ? [ অথবা], বিরাগীর মতে পরম সুখ আসলে কী ? [অথবা], বিরাগী ‘পরম সুখ’ বলতে জগদীশবাবুকে কী বলেছিলেন ?

উত্তর – বিরাগীবেশী হরিদার মতে, পরম সুখ হল জাগতিক সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া ।

. বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা জগদীশবাবুর কাছে কী চেয়েছিলেন ?

উত্তর – বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা জগদীশবাবুর কাছে ঠান্ডা জল চেয়েছিলেন ।

. “আমার অপরাধ হয়েছে।” – কোন অপরাধের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর – জগদীশবাবু তাঁর বাড়ির বারান্দা থেকে নেমে এসে বিরাগীকে অভ্যর্থনা করেননি। একেই অপরাধ ভাবা হয়েছে।

. জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য কত টাকা বিরাগীকে দিতে চেয়েছিলেন ?

উত্তর – তীর্থভ্রমণের জন্য জগদীশবাবু বিরাগীকে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন ।

. “আমার এখানে কয়েকটা দিন থাকুন বিরাগীজি।” -জগদীশবাবুর এই প্রস্তাবের জবাবে বিরাগী কী বলেছিলেন ?

উত্তর – জগদীশবাবু তাঁর বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দিলে বিরাগী জানান যে, বাইরের খোলা আকাশ থাকতে, পৃথিবীর মাটিতে জায়গা থাকতে তিনি বিষয়ীর দালান বাড়িতে থাকতে চান না।

. “বলতে বলতে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলেন বিরাগী।” -কী বলতে বলতে নেমেছিলেন ?

উত্তর – বিরাগীবেশী হরিদা যেমন ধুলো মাড়িয়ে চলে যান, তেমনি অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারেন-এই কথা বলতে বলতে তিনি সিঁড়ি দিয়ে নেমে যান।

. “আমাদের দেখতে পেয়েই লজ্জিতভাবে হাসলেন।”  কেন ?

উত্তর – হরিদা বিরাগীবেশে জগদীশবাবুর বাড়ি গিয়ে যে অভিনয় প্রদর্শন করেন তাতে তিনি আপন অভিনেতার সত্তাকে পরিতৃপ্তি প্রদানে সমর্থ হন। এমনকি এই ঘটনা সম্বন্ধে অভিজ্ঞাত কথকরাও তাকে চিনতে পারেনি। নিজের কৃতিত্ব ও কথকদের হতবাক অবস্থা দুই প্রত্যক্ষ করেই তিনি লজ্জিতভাবে হাসেন।

. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।– োন ুলের থা বলা হয়েছে ?  [অথবা], “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।” হরিদার কোন্ ভুলের কথা এখানে বলা হয়েছে ?

উত্তর – জগদীশবাবু বিরাগীকে তীর্থযাত্রার জন্য একশো এক টাকা প্রণামি দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু বিরাগীবেশী হরিদা তা গ্রহণ করেননি। একেই প্রশ্নোক্ত অংশে ‘ভুল’ বলা হয়েছে।

. কী করলে হরিদার ঢং নষ্ট হবে বলে সে নিজেই জানিয়েছে ? [অথবা], “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।” – হরিদার কোন্ ভুলের কথা এখানে বলা হয়েছে ?

উত্তর – বিরাগীর ছদ্মবেশ ধরেছিলেন হরিদা। এই অবস্থায় জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামির টাকা গ্রহণ করলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

. “গিয়ে অন্তত বকশিশটা তো দাবি করতে হবে?” -হরিদা কত বকশিশ দাবি করবে বলেছিল ?

উত্তর – কত বকশিশ চাইবেন সে ব্যাপারে হরিদা কোনো কথাই বলেননি। ভবতোষ অনুমান করেছিল, তিনি বড়োজোর আট আনা কিংবা দশ আনা বকশিশ পেতে পারেন।

. “এটা কী কাণ্ড করলেন, হরিদা?” হরিদা কী কাণ্ড করেছিলেন ?

উত্তর – জগদীশবাবু একশো এক টাকা গ্রহণ করার জন্য বিরাগীরূপী হরিদাকে অনেক সেধেছিলেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। একেই ‘কাণ্ড’ বলা হয়েছে।

. “কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা।” অদ্ভুত কথাটি কী ?

উত্তর – ‘অদ্ভুত’ কথাটি হল-“তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।” অর্থাৎ, বিরাগী হয়ে সংসার-সুখ, লোভ-লালসাকে প্রাধান্য দিলে তাতে হরিদার ছদ্মবেশ নষ্ট হয়ে যায়।

. “হরিদার একথার সঙ্গে তর্ক চলে না।” কথাটি কী ?

উত্তর – হরিদার যে কথাটির সঙ্গে তর্ক চলে না সেটি হল – “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।”

. হরিদা জগদীশবাবুর কাছ থেকে প্রণামির টাকা না নেওয়ার কী কারণ শোনান ?

উত্তর –  হরিদা বহুরূপী পেশাবলম্বী হলেও একজন প্রকৃত শিল্পীর মতোই তিনি নিজের অভিনীত চরিত্রটির যথাযথ রূপায়ণের প্রতি বিশেষ রূপে সচেতন। তাই বিরাগীবেশে টাকা স্পর্শ করলে যে তার ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন। তাই তিনি জগদীশবাবুর কাছ থেকে প্রণামির টাকা নেননি।

. “যাবই তো। না গিয়ে উপায় কী?” না গিয়ে উপায় নেই কেন ?

উত্তর – বহুরূপ ধারণ করাই হরিদার পেশা। বিভিন্ন রূপ ধারণ করে মানুষের মনোরঞ্জন করে যা আয় হয় তাতেই হরিদার অন্নসংস্থান হয়। তাই বিরাগী বেশে কোনো কিছু গ্রহণ না করলেও পরে গ্রাসাচ্ছাদনের তাগিদে জগদীশবাবুর কাছে গিয়ে তাকে বকশিশ আদায় করতেই হবে।

. “কী আশ্চর্য! চমকে ওঠে ভবতোষ।”- ভবতোষের চমকানোর কারণ কী ?

উত্তর – বিরাগী বেশে হরিদাই গিয়েছিলেন জগদীশবাবুর বাড়ি। এ কথা জানতে পেরে আশ্চর্য হয় ভবতোষ।

মার্ক – 3 প্রশ্ন উত্তর

১. ‘আক্ষেপ করেন হরিদা’ – হরিদা কে ? তাঁর আক্ষেপের কারণ কী ? ১+২

উত্তর – হরিদার পরিচয়: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন হরিদা। তিনি খুব গরিব। তাঁর পেশা বহুরূপ ধারণ করে অর্থ উপাজন।

আক্ষেপের কারণ: হরিদার বাড়িতে আড্ডা দিতে আসা অনাদি-ভবতোষের দল হরিদাকে জানিয়েছে সাতদিন হল এক সন্ন্যাসী এসেছিলেন জগদীশবাবুর বাড়িতে। তিনি খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী, হিমালয়ের গুহাতে থাকেন। সারা বছরে তাঁর আহার একটিমাত্র হরীতকী। তাঁর বয়সও হাজার বছরের বেশি বলেই অনুমান করা হয়। এমন সন্ন্যাসীর কথা শুনে হরিদা কৌতূহলী হন, তাঁর পায়ের ধুলো নিতে চান। কিন্তু শেষে যখন তিনি শোনেন যে, সন্ন্যাসী চলে গেছেন তখনই আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

. “বড়ো মানুষের কাণ্ডের খবর আমি কেমন করে শুনব ?’বক্তা কে ? কোন কাণ্ডের কথা এখানে বলা হয়েছে ? ১+২

উত্তর – বক্তা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে উদ্ধৃত আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন হরিদা।

কাণ্ড: ‘বড়ো মানুষ’ বলতে এখানে জগদীশবাবুকে বোঝানো হয়েছে। জগদীশবাবুর বাড়িতে সাতদিন আগে এক সন্ন্যাসী এসেছিলেন-খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী, হিমালয়ের গুহায় থাকেন, সারা বছরে শুধু একটি হরীতকী খান। তাঁর বয়সও হাজার বছরের বেশি বলেই অনেকের অনুমান। সেই সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নেওয়ার জন্য জগদীশবাবু সোনার বোল দেওয়া খড়ম পরিয়ে দিয়েছিলেন, একশো টাকা প্রণামিও দিয়েছিলেন। একেই উদ্ধৃতাংশে বড়ো মানুষের কান্ড বলা হয়েছে।

. “খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী।” উঁচু দরের সন্ন্যাসীর পরিচয় দাও

উত্তর – সন্ন্যাসীর পরিচয়: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে সাতদিন ধরে ছিলেন যে সন্ন্যাসী, তাঁকেই উঁচু দরের বলা হয়েছে। তিনি থাকেন হিমালয়ের গুহাতে। সারা বছরে খান শুধু একটিমাত্র হরীতকী। এ ছাড়া আর কিছুই খান না। তাঁর বয়সও হাজার বছরের বেশি বলে অনেকের অনুমান।

‘উঁচু দরের’ এই সন্ন্যাসী গৃহীর বাড়িতে ভোগসুখে দিনের পর দিন কাটান। তাঁর পায়ের ধুলো বড়োই দুর্লভ, শুধু জগদীশবাবুই তার স্পর্শ পেয়েছেন। সোনার বোল দেওয়া কাঠের খড়ম পায়ের কাছে এগিয়ে দিলে বাধ্য হয়ে সন্ন্যাসী তাতে পা গলিয়ে দিয়েছেন। সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু যখন তাঁর ঝোলায় জোর করে একশো টাকার একটা নোট ফেলে দেন তখন সন্ন্যাসী সামান্য হেসেছেন মাত্র। তাঁর আচরণ দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় তিনি বিরিঞ্চিবাবার উত্তরসূরি।

. “হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না।”- হরিদার জীবিকা কী ? কেন তার হাঁড়িতে শুধু জলই ফোটে ? ১+২

উত্তর – জীবিকা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদার জীবিকা হল বহুরূপী সেজে অর্থ উপার্জন।

হাঁড়িতে শুধুই জল ফোটার কারণ: হরিদা গরিব কিন্তু খামখেয়ালি। প্রতিদিন একইরকম কাজ করায় তাঁর ঘোরতর অনীহা। অফিসের কাজ কিংবা দোকানের বিক্রিওয়ালার কাজ তিনি অনায়াসে পেয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে নিয়মমাফিক রোজ একই চাকরি করে যাওয়া হরিদার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাঁর উনুনের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধুই জল ফোটে, ভাত ফোটে না।

. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।” দুর্লভ জিনিসটি সম্পর্কে লেখো । [অথবা], “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।” – কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে ? তা দুর্লভ কেন ? ১+২

উত্তর – দুর্লভ জিনিস: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে ‘দুর্লভ জিনিস’ বলতে হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোকে বোঝানো হয়েছে।

দুর্লভ হওয়ার কারণ: কাঞ্চন মূল্যে যাকে পাওয়া যায় তাকে তো দুর্লভ বলতেই হয়। হিমালয় থেকে আগত, সারা বছরে একটিমাত্র হরীতকী সেবনকারী, হাজার বছরের বেশি পরমায়ুর অধিকারী সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো কেউ পাননি। একমাত্র জগদীশবাবু কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের সামনে ধরলে তিনি বাধ্য হয়ে পা এগিয়ে দেন। সেই ফাঁকে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের অমূল্য ধুলো নেন। কাজেই তা দুর্লভ বস্তু।

. “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।”- হরিদা কে ? এমন বলার কারণ কী ? ১+২

উত্তর – হরিদার পরিচয়: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান তথা কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা হলেন পেশায় একজন বহুরুপী।

এমন কথা বলার কারণ : নাটকে থাকে ঘটনার ঘনঘটা । অনেকে জীবনেও সেই নাটকীয় বৈচিত্র্য চায়। হরিদা সেরকমই একজন। একঘেয়ে কাজ তার পছন্দ নয়। তিনি জীবনে টুইস্ট চান। তাই তিনি বেছে নিয়েছেন বহুরূপীর জীবন। কখনও পাগল, বাইজি, বাউল, কাপালিক কখনো-বা কাবুলিওয়ালা, কেরামিন সাহেব, পুলিশ সেজে সপ্তাহে একদিন তিনি বেরিয়ে পড়েন অর্থ উপার্জনে। তার এই বহুরুপীর জীবনকেই নাটকীয় বৈচিত্র্য মণ্ডিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৭. “… একঘেয়ে কাজ করতে ভয়ানক আপত্তি।” – কার কথা বলা হয়েছে ? এ কথা বলার কারণ কী ? ১+২

উত্তর – আলোচ্য অংশে গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদার কথা বলা হয়েছে।

যাঁর কথা বলা হয়েছে: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে

এ কথা বলার কারণ: তাসের দেশের ছকে বাঁধা জীবন হরিদার নয়। তিনি জীবনে টুইস্ট চান, রোমাঞ্চ চান। নাটকীয় বৈচিত্র্য ছাড়া তার কাছে জীবন অচল। তাই অফিসের কাজ কিংবা দোকানে বিক্রিওয়ালার কাজ নিয়ে ঘড়ির কাঁটা ধরে নিয়ম করে রোজ একই চাকরি করে যাওয়া তার পছন্দ নয়। একঘেয়ে কাজ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই তিনি বেছে নিয়েছেন বহুরূপীর অনিশ্চিত জীবন। এতে বাঁধা রোজগার নেই, কিন্তু বৈচিত্র্য আছে।

৮. “একদিন চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল।” – ‘আতঙ্কের হল্লা’বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে কী ঘটনা ঘটেছিল ? ১+২

উত্তর – আতঙ্কের হল্লা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে ‘আতঙ্কের হল্লা’ বলতে বাসযাত্রীদের ভীত-সন্ত্রস্ত চিৎকারকে বোঝানো হয়েছে।

চকের বাসস্ট্যান্ডের ঘটনা: একদিন চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলায় হঠাৎ এসে হাজির হয় এক বদ্ধ পাগল। তার মুখ থেকে লালা ঝরছিল, চোখ দুটো কটকটে লাল। তার কোমরে জড়ানো একটা ছেঁড়া কম্বল, গলায় টিনের কৌটোর মালা। একটা থান ইঁট তুলে পাগলটা তেড়ে যাচ্ছিল বাসের উপরে বসা যাত্রীদের দিকে। ভয়ে, আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠছিল যাত্রীরা, দুটো-একটা পয়সাও ছুঁড়ে দিচ্ছিল কেউ কেউ। বাস ড্রাইভার কাশীনাথের ধমকে যাত্রীরা বুঝতে পারে পাগল নয়, সে আসলে বহুরূপী হরির ঢং। হাসি, বিরক্তি, বিস্ময়ে আবিষ্ট হয় পড়ে বাসের উপরে বসে থাকা দর্শকেরা।

. “খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো।” বক্তা কে ? কখন তিনি হরিকে সরে পড়ার কথা বলেছিলেন ? ১+২

উত্তর –  বক্তা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হল বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ।

একদিন চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে – ঠিক দুপুরবেলায় চিৎকার-চেঁচামেচি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়- একটা বদ্ধ পাগলের আবির্ভাব ঘটে। তার মুখ থেকে লালা ঝরছিল, চোখ দুটো কটকটে লাল। তার কোমরে ছেঁড়া কম্বল জড়ানো, গলায় টিনের কৌটোর মালা। সে একটা থান ইট তুলে নিয়ে তেড়ে যাচ্ছিল বাসের উপরে বসে – থাকা যাত্রীদের দিকে। তাই ভয়ে চেঁচিয়ে উঠছিল যাত্রীরা, ফেে ফেলে দিচ্ছিল – দুটো-একটা পয়সা। ঠিক সেই সময়েই ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দিয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

. “হরিদার জীবন এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে।” হরিদার জীবনের বহুরূপের খেলার পরিচয় দাও

উত্তর – বহুরূপের খেলার পরিচয়: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন হরিদা। তাঁর পেশা বহুরূপ ধারণ করে অর্থ উপার্জন। কখনও বাউল, কাপালিক, কখনো-বা বুড়ো কাবুলিওয়ালা কিংবা ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব সেজে তিনি পথে বেরিয়ে পড়েন। একবার দুপুরবেলায় চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে বদ্ধ পাগল সেজে তিনি যাত্রীদের ভীত ও বিস্মিত করেছিলেন, আবার একদিন বাইজি সেজে ঘুঙুরের ঝুমঝুম শব্দ ছড়িয়ে সন্ধ্যায় শহরের রাস্তায় তিনি যখন হেঁটে গিয়েছিলেন তখন অনেকেই মোহমুগ্ধ হয়েছিল। পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়ে তিনি স্কুলের চারটি ছেলেকেও একবার ধরেছিলেন। মাস্টারমশাই আট আনা ঘুস দিয়ে তাদের মুক্ত করেন। এভাবেই বহুরূপের খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন কেটে যায়।

. “কিন্তু দোকানদার হেসে ফেলে-হরির কাণ্ড।” – হরি কে ? তার কী কাণ্ডের কথা এখানে বলা হয়েছে ? ১+২

উত্তর –  হরির পরিচয়: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা হলেন একজন বহুরুপী ।

হরির কান্ড: শহরের রাস্তায় তখন সবেমাত্র সন্ধ্যা নেমেছে, জ্বলে উঠেছে আলো। দোকানে দোকানে লোকজনের ব্যস্ততা ও মুখরতা। হঠাৎ শোনা যায় ঘুঙুরের মিষ্টি রুমঝুম। জনতার মোহমুগ্ধ চোখের সামনে দিয়ে হেঁটে যায় এক রূপসি বাইজি। প্রায় নাচতে নাচতে চলে যায় সে। এক-একটা দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আর মুচকি হেসে চোখ টিপে ফুলের সাজি এগিয়ে দেয়। দোকানদার হেসে ফেলে একটা সিকি বকশিশ দেয় আর বলে ‘হরির কান্ড’। অর্থাৎ, শহরের মাঝে মুগ্ধতার বাতাবরণ সৃষ্টিই হল ‘হরির কান্ড’।

. “… সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি।” – সেদিন হরিদার রোজগার কত হয়েছিল ? কী কারণে হরিদার সেদিন ভালো রোজগার হয়েছিল ? ১+২

উত্তর –  রোজগারের পরিমাণ: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বাইজি সেজে হরিদার রোজগার হয়েছিল মোট আট টাকা দশ আনা।

ভালো রোজগারের কারণ: সান্ধ্য শহরের রাস্তায় যখন জ্বলে উঠেছে আলো, দোকানে দোকানে লোকজনের ব্যস্ততা ও মুখরতা, ঠিক সেই সময় শোনা গেছে ঘুঙুরের মিষ্টি রুমঝুম আওয়াজ। মুগ্ধ জনতা দেখে রাস্তা দিয়ে প্রায় নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছে এক রূপসি বাইজি। এক-একটা দোকানের সামনে সে দাঁড়াচ্ছে, মুচকি হেসে চোখ টিপে এগিয়ে দিচ্ছে তার ফুলের সাজি। মোহমুগ্ধ দোকানদার তুলে দিচ্ছে সিকি-আনা। হরিদার বাইজি বেশ শহরের নবাগতদেরও অভিভূত করেছিল। তাই সেদিন তার রোজগার বেশি হয়েছিল।

. ‘সত্যি, খুব চমৎকার পুলিশ সেজেছিল হরি!’ -উক্তিটির বক্তা কে ? তিনি কখন এই উক্তি করেছিলেন ? ১+২

উত্তর –  বক্তা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে আলোচ্য উক্তিটির বস্তা হলেন স্কুলের মাস্টারমশাই।

যখন এই উক্তি: বহুরূপী হরিদা একবার পুলিশ সেজেছিলেন, দাঁড়িয়ে ছিলেন দয়ালবাবুর লিচু বাগানে। সেসময় স্কুলের চারটি ছেলে লিচু চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় তার হাতে। ভয়ে কেঁদে ফেলে তারা। স্কুলের মাস্টারমশাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে নকল পুলিশ হরিদার কাছে তাদের হয়ে ক্ষমা চান, আট আনা ঘুষ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। পরের দিন অবশ্য তিনি জানতে পারেন আসল সত্য। কিন্তু তাতে তিনি রাগ করেননি, বরং হরিদার তারিফ করেই উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন।

. “হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ? তিনি কীভাবে মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিলেন ? ১+২

উত্তর : যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বহুরূপী হরিদা একবার পুলিশ সেজেছিলেন। পুলিশের বেশে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন দয়ালবাবুর লিচু বাগানে।

ছলনা: পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়ে থেকে হরিদা স্কুলের চারটি ছেলেকে লিচু চুরির সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ভয়ে কেঁদে ফেলে তারা। ফলে স্কুলের মাস্টারমশাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলেগুলির হয়ে নকল পুলিশ হরিদার কাছে ক্ষমা চান, সেবারের মতো তাদের ক্ষমা করে দিতে বলেন। কিন্তু তাতেও তিনি হরিদাকে তুষ্ট করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আট আনা ঘুষ দিয়ে তিনি তাকে খুশি করেন।

এভাবেই নকল পুলিশ সেজে হরিদা মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে ছলনা করেছিলেন।

. “বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা।” – কোন সন্ধ্যার কথা বলা হয়েছে ? সন্ধ্যার চেহারার যে বর্ণনা গল্পে পাওয়া যায় তা লেখো ১+২

উত্তর – উদ্ধৃত সন্ধ্যা: স্বনামধন্য সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ নামক ছোটোগল্পে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরি যে সন্ধ্যায় তাদের শহরের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখাতে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন সেই সন্ধ্যার কথা আলোচ্যাংশে বলা হয়েছে।

সন্ধ্যার চেহারার বর্ণনা : নির্দিষ্ট সন্ধ্যায় বহুরূপী হরি জগদীশবাবুসহ কথক ও তার তিন বন্ধুকে এক ‘জবর খেলা’ দেখানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে কথকরা সেই সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে স্পোর্টের চাঁদা সংগ্রহের অজুহাতে উপস্থিত হয়। সেই সন্ধ্যাটি ছিল অত্যন্ত মনোরম। কথকের মনে হয় সেদিনের চন্দ্রপ্রভায় যে স্নিগ্ধতা ও শান্ত উজ্জ্বলতা ছিল তা পূর্বে কখনও প্রভাসিত হয়নি। চারিদিকের ফুরফুরে বাতাস আর জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানের সব গাছের পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ বারান্দার আলোর সঙ্গে মিশে এক অনন্য পরিমণ্ডল সৃষ্টি করেছিল।

১৬. “তবে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যান…” – কে, কার কাছে উপদেশ শুনতে চেয়েছিলেন ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন উপদেশ শুনিয়েছিলেন ? ১+২

উত্তর – যে, যাঁর কাছে উপদেশ শুনতে চেয়েছিলেন: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে উপদেশ শুনতে চেয়েছিলেন।

উদ্দিষ্ট ব্যক্তির উপদেশ: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ বিরাগীবেশী হরিদা উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন-ধন-জন-যৌবন কিছুই নয়, ওসব হল সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা। মনপ্রাণের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুধু সেই পরমাত্মার আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাঁকে পেলেই এই সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া হয়ে যায়।

১৭. “আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই।”-কে, কেন এরূপ মন্তব্য করেছিল ?

উত্তর – যিনি এই মন্তব্য করেন: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগীবেশী হরিদা প্রশ্নোক্ত এই মন্তব্য করেন।

মন্তব্যের কারণ: কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ এবং মাৎসর্য-এই ছ-টি হল ষড়রিপু। এরা মানুষকে আসক্তির পাঁকে নিমজ্জিত করে। যিনি এই ষড়রিপুকে বশ মানাতে পেরেছেন তিনিই বিরাগী। ক্রোধ বা রাগ নামক দ্বিতীয় রিপুটিকে হরিদা দেহমন থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন, সংযম ও কঠোর কৃচ্ছসাধনের বাঁধনে বেঁধেছেন নিজেকে। তাই তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।

. “আপনার কাছে এটা আমার প্রাণের অনুরোধ।” – ‘প্রাণের অনুরোধ’ কী ? যার কাছে অনুরোধ ছিল তিনি প্রত্যুত্তরে কী বলেছিলেন ? ১+২

উত্তর – প্রাণের অনুরোধ: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর ‘প্রাণের অনুরোধ’ ছিল, বিরাগী যেন তাঁর বাড়িতে কয়েকটা দিন থাকেন।

প্রত্যুত্তর : জগদীশবাবুর এই অনুরোধের উত্তরে বিরাগী জানান যে, বাইরের খোলা আকাশ থাকতে, ধরিত্রীর মাটিতে জায়গা থাকতে তিনি এক বিষয়ীর দালান বাড়িতে কখনোই থাকবেন না।

. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো ?”-কাকে এ কথা বলা হয়েছে ? তাঁকে এ কথা বলা হয়েছে কেন ? [অথবা], “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” কে, কাকে, কেন কথাগুলি বলেছে ? ১+২

উত্তর –  উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুকে এ কথা বলেছেন বিরাগীবেশী হরিদা।

কারণ: এক মনোরম সন্ধ্যায় স্পোর্টের চাঁদা নেওয়ার জন্য গল্পকথক ও তার সঙ্গীরা জগদীশবাবুর বাড়ির বারান্দায় অপেক্ষা করছিল। সেসময় এক সৌম্যকান্ত বিরাগী সেখানে উপস্থিত হন। প্রাথমিক চমক সামলে জগদীশবাবু বারান্দা থেকেই বিরাগীকে স্বাগত জানালে বিরাগী জগদীশবাবুকে উদ্দেশ করে উক্ত উক্তিটি করেন। কারণ, জগদীশবাবু শুধু উঠে দাঁড়িয়ে উঁচু বারান্দা থেকেই বিরাগীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে নীচে নেমে আসেননি।

২০. “তারপর নিজের মনেই হাসলেন।”-কে, কেন নিজের মনে হাসলেন ? ১+২

উত্তর যিনি হাসলেন: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগীবেশী হরিদা নিজের মনেই হাসলেন।

হাসার কারণ: মানুষ সৃষ্টির মাঝে এক-একটি ধূলিকণা মাত্র। ধন-জন-যৌবন সব এক-একটি সুন্দর বঞ্চনা। তাই বিত্তের অহংকার জলে সৃষ্টি হওয়ার বুদ্‌দুদের মতোই ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু মানুষ তা জানে না কিংবা মানেও না। তাই এগারো লক্ষ টাকার সম্পত্তির অহংকারে জগদীশবাবুও বিরাগীকে অভ্যর্থনা করার জন্য আগ্রহ দেখাননি। জগদীশবাবুর এই মূঢ়তা দেখে বিরাগী মনে মনে হেসেছিলেন।

২১. “আমার অপরাধ হয়েছে। আপনি রাগ করবেন না।”- বক্তা কে? সে কী অপরাধ করেছে বলে তাঁর মনে হয়েছে ? ১+২

উত্তর অপরাধকারী: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু অপরাধ করেছেন।

অপরাধের স্বরূপ: জগদীশবাবু তাঁর বাড়ির বারান্দায় মস্ত বড়ো একটি আলোর কাছে চেয়ারের উপর বসে ছিলেন। সেই সময় অবির্ভূত হন বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা। সেসময় জগদীশবাবু সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে বিরাগীকে অভ্যর্থনা জানাননি। বিত্তের অহংকারে তিনি তাঁর চিত্তের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগুলির পথ রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। একেই অপরাধ বলা হয়েছে।

. “হরিদার জীবনের ভাতের হাঁড়ি মাঝে মাঝে শুধু জল ফুটিয়েই সারা হবে।”- বক্তার এ কথা মনে হওয়ার কারণ কী প্রসঙ্গসহ ব্যাখ্যা করো

উত্তর প্রসঙ্গ: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা বিরাগী বেশে উপস্থিত হয়েছিলেন জগদীশবাবুর বাড়িতে। একমাত্র ঠান্ডা জল ছাড়া তিনি আর কিছুই গ্রহণ করেননি। সেই প্রসঙ্গেই উদ্ধৃত বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে।

কারণ: জগদীশবাবু বিরাগীবেশী হরিদাকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা গ্রহণ করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু যে বিরাগী তার তো কোনো রাগ বা আসক্তি থাকতে পারে না। তাই বিরাগী বেশ ধারণ করে হরিদাও সেই টাকার থলি স্পর্শ করতে পারেননি।

সপ্তাহে একদিন কোনো-না-কোনো সাজে সজ্জিত হয়ে পথে পথে ঘুরে যা উপার্জন হয় তাতেই হরিদার অন্নসংস্থান হয়। তাতেও কোনো কোনো দিন তাকে উপোস করতে হয়। জগদীশবাবুর দেওয়া টাকার থলি না নেওয়ায় উপোস করে থাকাই পুনরায় হরিদার নিয়তি হয়ে ওঠে। তার ভাতের হাঁড়িতে যে চাল নয়, জলই ফুটবে এটাই ভবিতব্য নির্ধারিত হয়।

২৩. “অনাদি বলে-এটা কী কাণ্ড করলেন, হরিদা?”- কোন কাণ্ডের কথা বলা হয়েছে? কাণ্ডটি বিস্ময়কর কেন ? ১+২

উত্তর হরিদার কান্ড: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগী বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়ে একশো এক টাকা প্রণামির থলি স্পর্শ না করেই ফিরে এসেছিলেন হরিদা। এখানে সেই কান্ডের কথাই বলা হয়েছে।

বিস্ময়কর হওয়ার কারণ: হরিদা যখন জগদীশবাবুর বাড়িতে ছদ্মবেশে যাওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেন, তখন তিনি জগদীশবাবুর কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করে নেওয়ার মতলব এঁটেছিলেন। কিন্তু বিরাগীবেশে জগদীশবাবুর দেওয়া ঠান্ডা জল ছাড়া তিনি আর কিছুই গ্রহণ করেননি। তাই ভবতোষ অনাদিদের কাছে ব্যাপারটা বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

২৪. “কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা।” -কোন প্রসঙ্গে, কোন ‘অদ্ভুত কথা’ হরিদা বলেছিলেন ?

উত্তর প্রসঙ্গ: জগদীশবাবুর বাড়িতে যেদিন বিরাগী গিয়েছিলেন তার পরদিন গল্পের কথক ও তার বন্ধুরা হরিদার ঘরে গিয়ে বিরাগীর উত্তরীয়, ঝোলা ও গীতা পড়ে থাকতে দেখে নিশ্চিত হয় যে হরিদাই গতকাল বিরাগী সেজেছিলেন। কথকের বন্ধুদের মধ্যে অনাদি জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে হরিদা উক্ত ‘অদ্ভুত কথা’-টি বলেছিলেন।

অদ্ভুত কথা: অদ্ভুত কথাটি হল-একজন বিরাগী সন্ন্যাসীর সাজে তিনি টাকা স্পর্শ করতে পারেন না; তাতে তার ‘ঢং নষ্ট হয়ে যায়’। হরিদার জগদীশবাবুর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল একসঙ্গে বেশি উপার্জন করা। কিন্তু বিরাগীর সাজ গায়ে তোলার পর হরিদা সেই টাকাই হেলায় তুচ্ছ করে চলে আসেন।

২৫. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।”—কী করলে ঢং নষ্ট হবে? কেন হবে ? ১+২

উত্তর যা করলে ঢং নষ্ট হবে: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুর দেওয়া টাকার থলি স্পর্শ করলে তার ঢং নষ্ট হয়ে যেত।

ঢং নষ্ট হওয়ার কারণ: বিরাগী মানে সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্ত। ভোগাসক্তির আকর্ষণ বিরাগীর পক্ষে শোভা পায় না। হরিদা বিরাগীবেশে আবির্ভূত হয়েছিলেন জগদীশবাবুর বাড়িতে। বহুরুপী হলেও তিনি জাতশিল্পী। তিনি যখন যে বেশে থাকেন তখন তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান। তাই বিরাগীর বেশে জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামির একশো এক টাকা তিনি নেননি। কারণ তা নিলে বিরাগীর ঢং অর্থাৎ আদর্শ থেকে তিনি বিচ্যুত হতেন।

২৬. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।”-‘ঢং’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কীসে ঢং নষ্ট হয়ে যাবে ? ১+২  [অথবা], “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।”-‘ঢং’ বলতেকী বোঝো? কার ঢং কীসে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বলাহয়েছে ?১+২

উত্তর ঢং-এর স্বরূপ: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে ‘ঢং’ বলতে বেশবাস বা ছদ্মবেশকে বোঝানো হয়েছে। তবে শব্দটি হরিদার জীবনের আদর্শেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ঢং নষ্ট হয়ে যাবে যাতে: হরিদা যখন বহুরুপী সাজেন তখন সেই চরিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যান। পাগল সাজলে তার মুখ থেকে লালা ঝরে, পুলিশ সেজে তিনি ঘুস নিতে দ্বিধা করেন না আবার বাইজি সেজে চোখ টিপে পয়সা আদায় করেন। যিনি প্রকৃত শিল্পী, শিল্পকর্মের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া তাঁর স্বভাব বৈশিষ্ট্য। বিরাগীর ধর্ম হল নিরাসক্তি। তাই বিরাগী বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়ে তীর্থভ্রমণের জন্য প্রণামি বাবদ একশো এক টাকা পেয়েও তিনি তা গ্রহণ করেননি। কারণ তা গ্রহণ করলে বিরাগীর ধর্ম-আদর্শ থেকে তিনি বিচ্যুত হতেন, তার ঢং নষ্ট হয়ে যেত।

মার্ক – 5 প্রশ্ন উত্তর

. “গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা।” গল্পটি কী ছিল ? হরিদার গম্ভীর হয়ে যাওয়ার কারণ কী ? ৩+২

উত্তর –  গল্পটির পরিচয়: সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে কথক ও তার বন্ধুরা তাদের পাড়ার সম্ভ্রান্ত ধনী জগদীশবাবুর বাড়িতে সাতদিন আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন যে উঁচুদরের সন্ন্যাসী তার গল্প হরিদাকে বলেছিল। হাজার বছরের বেশি বয়সের এই সন্ন্যাসী হিমালয়ের গুহায় থাকেন এবং সারাবছরে একটা হরীতকী ছাড়া আর কিছু খান না। তিনি জগদীশবাবু ছাড়া কাউকে পায়ের ধুলোও দেননি। জগদীশবাবু অবশ্য তা পেয়েছিলেন কৌশল করে। একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেন। সন্ন্যাসী বাধ্য হয়ে যখন পা এগিয়ে দেন তখন জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে নেন। বিদায় নেওয়ার সময় জগদীশবাবু তাঁর ঝোলার মধ্যে একটা একশো টাকার নোট ফেলে দিলে তিনি হেসে সেখান থেকে চলে যান।

গম্ভীর হওয়ার কারণ: জগদীশবাবুর বাড়ির গল্প শুনে হরিদা হঠাৎই গম্ভীর হয়ে যান। কিছুক্ষণ তিনি যেন অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। কথক ও তার সঙ্গীরা হরিদার এই গাম্ভীর্যের কারণ খুঁজে পান না। নতুন কোনো মতলব হরিদার মাথায় এসেছে কিনা তারা তা ভাবতে থাকে। এই সময় হরিদা তাদেরকে জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ধ্যায় উপস্থিত থেকে খেলা দেখার আমন্ত্রণ জানান। কৃপণ জগদীশবাবুর কাছ থেকে সারাবছরের সংসার খরচের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই তিনি সেখানে ‘জবর খেলা’ দেখাবেন বলে জানান। জগদীশবাবুর ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তিনি কীভাবে তাঁর উদ্দেশ্যে সফল করবেন সেই ভাবনা ভাবতে গিয়েই হরিদা গম্ভীর হয়ে যান।

. “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।” – ‘হরিদা’ কে ? তাঁর নাটকীয় বৈচিত্র্যময় জীবনের ছবি নিজের ভাষায় আঁকো ১+৪

উত্তর – হরিদার পরিচয়: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন হরিদা। তিনি গরিব। বহুরূপী সেজে অর্থোপার্জন তাঁর পেশা ও নেশা।

নাটকীয় বৈচিত্র্য: হরিদার পেশা বহুরুপী সেজে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো। বহুরুপী বেশে সপ্তাহে একদিন পথে বেরিয়ে হরিদা যা উপার্জন করেন, তাতেই তিনি তার ভাতের হাঁড়ির দাবি মিটিয়ে নেন। এতে অবশ্য তার চলে না। তাই মাঝে মাঝে উপোসও করতে হয়। যেদিন খেয়াল হয় সেদিন হঠাৎ সকালে কিংবা সন্ধ্যায় বিচিত্র ছদ্মবেশে অপরূপ হয়ে হরিদা বেরিয়ে পড়েন পথে। কেউ চিনতে পারে না। যারা পারে তারা এক-দু-আনা বকশিশ দেয়; যারা পারে না, তারা হয়তো কিছুই দেয় না, কিংবা বিরক্ত হয়ে দুটো-একটা পয়সা ফেলে দেয়।

এভাবেই হরিদা কখনও বন্ধ পাগল, বাইজি, কাপালিক, বাউল, বুড়ো কাবুলিওয়ালা; কখনো-বা ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব, পুলিশ, বিরাগী সেজে নিজের এবং শহরের জীবনে বৈচিত্র্য আনেন। কখনও ভরপেট খাবার কখনও উপবাস; কখনও মানুষের মনে বিস্ময়-মুগ্ধতা, কখনও আবার বিরক্তি বা ভয় সঞ্চার করে হরিদা শহরজীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য আনেন।

. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।” – ‘দুর্লভ জিনিস’-টি কী ? তাকে কে, কীভাবে পেয়েছিলেন তা পাঠ্যাংশ অনুসরণে লেখো । ১+৪

উত্তর – দুর্লভ জিনিস: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বর্ণিত ‘দুর্লভজিনিস’-টি হল-হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো।

যে, যেভাবে ‘দুর্লভ জিনিস’-টি পেয়েছিলেন: হিমালয়ের গুহাবাসী, হাজার বছরের বেশি বয়সি, সারাবছরে একটিমাত্র হরীতকী সেবনকারী উঁচু দরের সন্ন্যাসী কাউকেই পায়ের ধুলো দেন না। একমাত্র জগদীশবাবুই বহু সৌভাগ্যে তা অর্জন করতে পেরেছেন। এ জন্য অবশ্য তাঁকে দামও দিতে হয়েছে অনেক। জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেন। তখন বাধ্য হয়ে সন্ন্যাসী তাঁর দুটি পা এগিয়ে দেন। সন্ন্যাসী নতুন খড়ম পরেন আর সেই ফাঁকে জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো নেন। কাজেই বলা যায়, কাঞ্চন মূল্যে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো ক্রয় করেন।

. ‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে হরির বিভিন্ন রূপ ধারণ প্রসঙ্গে আলোচনা করো [অথব, “এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন বহুরূপী হরিদা।”- যে চমৎকার ঘটনাগুলি হরি ঘটিয়েছিলেন তা উল্লেখ করো

উত্তর ভূমিকা: বিশ শতকের মধ্যভাগের অন্যতম খ্যাতনামা সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পে হরি চরিত্রটিকে বহুরূপী বৃত্তি অবলম্বনকারী হিসেবে লক্ষ করা যায়। অত্যন্ত পারংগমতার সঙ্গে তিনি বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন সজ্জায় সজ্জিত হয়ে উঠতেন।

উন্মাদ পাগল রূপ: গল্পে হরির প্রথম অন্যরূপ ধারণের পরিচয় হিসেবে এক উন্মাদের চিত্র ফুটে উঠেছে। চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে তার সেই লালা ঝরা মুখ আর কটকটে লাল চোখ যাত্রীদের মধ্যে ‘আতঙ্কের হল্লা’ সৃষ্টি করেছিল। “তার কোমরে একটা ছেঁড়া কম্বল জড়ানো, গলায় টিনের কৌটার একটা মালা।” এই অভিনব বেশে তিনি যখন একটা থান ইট হাতে নিয়ে যাত্রীদের আক্রমণ করার অভিনয় করে যাচ্ছিলেন তখন তাদের পক্ষে ভীতিগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাসচালক কাশীনাথ তার প্রকৃত সত্য সকলের সামনে উদ্‌ঘাটন না করা পর্যন্ত হরির রহস্যোন্মোচন করা কারও পক্ষেই সম্ভব ছিল না।

রূপসি বাইজি রূপ: হরির বাইজির বেশ ধারণ শুধু তাকে সুনাম-ধন্যই করেনি বরং কিঞ্চিৎ বেশি অর্থোপার্জনেও সহায়তা করে। কথক জানায়- “বাইজির ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি। মোট আট টাকা দশ আনা পেয়েছিলেন।” সন্ধ্যার মোহময় পরিবেশে নূপুরের ঝংকারে পরিবেশকে মোহিত করে তুলে নিজের সম্মোহনী প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন রূপসি বাইজিবেশী হরিদা। তার ছদ্মবেশ এতটাই ত্রুটিহীন হয়েছিল যে, শহরের নবাগত ব্যক্তিদের হরির প্রকৃত সত্যটুকু স্বীকার করতে বেশ মনোবেদনা অনুভূত হয়েছিল।

ঘুসখোর পুলিশ রূপ: একবার পুলিশের বেশ ধারণ করে এক স্কুলের চারটে ছাত্রের সঙ্গে সঙ্গে একজন মাস্টারমশাইয়ের ওপরও হরি আপন অভিনয়ের মায়াজাল বিস্তার করেছিলেন। তবে দয়ালবাবু লিচু বাগানের ভিতরে দাঁড়িয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তিনি আট আনা ঘুস আদায় করলেও পরের দিনই মাস্টারমশাইয়ের কাছে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটিত করেন। অর্থাৎ, সততা ও ছদ্মবেশ দুইয়ের যথাযথ মিশ্রণেই গড়ে ওঠে অভিনেতা হরির চরিত্র।

বিরাগী সাধুরূপ: গল্পের এক বিশেষ অংশ জুড়ে আমরা বিরাগী সাধুর বেশধারী হরির অসামান্য অভিনয় কুশলতার পরিচয় পাই। শুভ্রবসন, আদুড় দেহ, দিব্যকান্তি হরিকে কথক ও তার বন্ধুরাও চিনতে পারেনি। তার অভিনয়ের নিখুঁত পরিবেশন ও সাজসজ্জার অনবদ্য সৌকর্যে নির্মোহ, ঈশ্বরের প্রতি সমর্পিতপ্রাণ যে বিরাগী চরিত্রটিকে আমরা লাভ করি তার সঙ্গে প্রকৃত হরির কোনো সংযোগই ছিল না।

অন্যান্য রূপ: কয়েকটি বিস্তৃত বর্ণনা ছাড়াও প্রসঙ্গক্রমে গল্পে হরির বাউল, কাপালিক, বোঁচকাধারী বৃদ্ধ কাবুলিওয়ালা, ‘হ্যাট-কোট-পেন্টলুন-পরা ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব’ ইত্যাদি বিবিধ বেশধারণ প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। অন্নসংস্থানের তাগিদে সপ্তাহে একবার এই সকল বেশ হরি ধারণ করলেও তা নিঃসন্দেহে তার শিল্পীসত্তার পরিচয় বহন করে।

. “… আজ তোমাদের একটা জবর খেলা দেখাব।” -আলোচ্য উক্তিটি কে, কাদের বলেছেন ? ‘জবর খেলা’-র বর্ণনা সংক্ষেপে দাও ২+৩

উত্তর –  যে, যাদের বলেছিলেন: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা গল্পকথক, অনাদি, ভবতোষদের উদ্দেশ করে আলোচ্য – উক্তিটি করেছেন।

জবর খেলা’-র বর্ণনা: বিরাগীর বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন হরিদা। উদ্দেশ্য ছিল মোটা কিছু আদায় করে নেওয়া। হরিদার পরনে ছিল ছোটো বহরের সাদা থান, ধবধবে সাদা উত্তরীয়-অনাবৃত শরীর। মাথায় ফুরফুর করে উড়ছিল শুকনো সাদা চুল। ধুলো মাখা পা, হাতে একটা ঝোলা, তাতে একটিমাত্র বই-গীতা।

জগদীশবাবু তাঁকে দেখে চমকে উঠেছিলেন। বিরাগী তাঁর কাছে চেয়ে পান করেন ঠান্ডা জল। উপদেশ দেন-সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়াই হল পরম সুখ। জগদীশবাবুর বাড়িতে থাকার অনুরোধ এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানান, বাইরের খোলা আকাশ থাকতে পৃথিবীর মাটিতে জায়গা থাকতে তিনি বিষয়ীর দালানবাড়িতে আশ্রয় নেবেন কোন্ দুঃখে।

বিরাগী জগদীশবাবুকে জানান, ধন-জন-যৌবন কিছুই নয়। ওসব সুন্দর সুন্দর বঞ্চনা। মন-প্রাণের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা দিয়ে শুধুমাত্র পরমাত্মার আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাঁকে পেলেই সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া হয়ে যায়। বিরাগীরূপী হরিদার গমনকালে তাঁর তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার প্রণামি দিতে চেয়েছেন জগদীশবাবু। কিন্তু বিরাগী তাকে স্পর্শমাত্র না করে চলে গেছেন। তাঁর যুক্তি মানুষের বুকের ভিতরেই থাকে সব তীর্থ। ভ্রমণ করে দেখার তাই প্রয়োজন নেই। একেই ‘জবর খেলা’ বলা হয়েছে।

. জগদীশবাবুর বাড়ি হরিদা বিরাগী সেজে যাওয়ার পর যে ঘটনা ঘটেছিল তা বর্ণনা করো

উত্তর – সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন বহুরুপীরবেশে বিরাগী সেজে। তাকে দেখে চমকে ওঠেন জগদীশবাবু ও স্পোর্টের চাঁদা আদায় করতে যাওয়া ভবতোষ-অনাদির দল।

চেহারা ও পোশাক-পরিচ্ছদ: বিরাগীবেশী হরিদার পরনে ছিল ছোটো বহরের সাদা থান। আদুড় গায়ে একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয়। মাথায় ফুরফুর করে উড়ছিল শুকনো সাদা চুল। ধুলো মাখা পা, হাতে একটা ঝোলা। তাতে একটিমাত্র বই-গীতা। আগন্তুক যেন জগতের অপর পার থেকে অশরীরী চেহারা আর শান্ত-উজ্জ্বল দৃষ্টি নিয়ে হেঁটে এসেছেন বলে মনে হচ্ছিল।

বিনম্রতা: এগারো লক্ষ টাকার মালিক জগদীশবাবু অহংকারের বশে হয়তো বিরাগীকে অভ্যর্থনা করতে ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তাঁকে ‘মহারাজ’ বলে সম্বোধন করলে বিরাগী তা অস্বীকার করে জানান সৃষ্টির মধ্যে এক কণা ধুলো ছাড়া তিনি আর কিছুই নন।

যথার্থ বিরাগী: রাগ নামের কোনো রিপু বিরাগীর থাকতে নেই। ঠান্ডা জল পান করে বিরাগী জগদীশবাবুর সেবা গ্রহণ করেছেন। তবে বাড়িতে থাকার অনুরোধ তিনি উপেক্ষা করেছেন এবং জানিয়েছেন, বাইরের খোলা আকাশ, পৃথিবীর মাটিতে জায়গা থাকতে তিনি কোনো বিষয়ীর দালান বাড়িতে থাকতে রাজি নন।

উপদেশ: বিরাগীর মতে, সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়াই পরম-সুখ। উপদেশ শুনতে চাইলে বিরাগী জগদীশবাবুকে জানান, ধন-জন-যৌবন কিছুই নয়, তা বঞ্চনা মাত্র। সব আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পরমাত্মার আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাঁকে পেলেই সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া যাবে।

ত্যাগী: তীর্থভ্রমণের জন্য জগদীশবাবু বিরাগীকে একশো এক টাকার থলি দিতে চাইলে বিরাগী জানিয়েছেন যে, তাঁর বুকের ভিতরেই সব তীর্থ আর ধুলোর মতোই তিনি সোনাও মাড়িয়ে যেতে পারেন। এরপর টাকার থলি গ্রহণ না করেই তিনি চলে যান।

৭. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?”-কে, কাকে এ কথা বলেছিলেন? এ প্রসঙ্গে তিনি আর কী বলেছিলেন ? ২+৩

উত্তর বক্তা ও উদ্দিষ্ট: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুকে উদ্দেশ করে আলোচ্য উক্তিটি করেন।

বক্তার বক্তব্য: বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুকে যেসব কথা বলেছিলেন, সেগুলি হল-১. তিনি মহারাজ নন, সৃষ্টির মধ্যে এক কণা ধুলো মাত্র। ২. রাগ নামে কোনো রিপু তাঁর নেই। যা ছিল তা পূর্বজন্মে ছিল। ৩. সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়াই হল পরম সুখ। ৪. বাইরের খোলা আকাশ, পৃথিবীর মাটিতে জায়গা থাকতে তিনি কোনো বিষয়ীর দালান বাড়িতে আশ্রয় নিতে পারেন না। ৫. তিনি যাঁর কাছে পড়ে আন্নে ছন, জগদীশবাবুর চেয়ে তিনি কম কিছু নন। তাই জগদীশবাবুর কাছে তাঁর কিছু চাওয়ার দরকার নেই। ৬. ধন-জন-যৌবন কিছুই নয়। ওসব হল সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা। মনপ্রাণের সব আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুধু একজনের আপন হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাঁকে পেলেই সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া হয়ে যায়। ৭. তাঁর বুকের ভিতরেই সব তীর্থের অবস্থান। তাই ভ্রমণ করে ঈশ্বরকে দেখার কোনো দরকার তাঁর হয় না। ৮. তিনি যেমন ধুলো মাড়িয়ে যান তেমনি অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারেন।

৮. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।” – কোন ভুল ক্ষমা করবে না? কেন এমন বলা হয়েছে ?[অথব], “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না” – হরিদা কী ভুল করেছিলেন ? অদৃষ্ট ক্ষমা না করার পরিণাম কী ? ৩+২

উত্তর – হরিদার ভুল: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা প্রণামির টাকা না নিয়ে যে ভুল করেছিলেন, এখানে তার কথাই বলা হয়েছে।

বিরাগীর বেশে হরিদা গিয়েছিলেন জগদীশবাবুর বাড়ি। তার বচনে ও আচরণে মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য প্রণামি হিসেবে একশো এক টাকার একটি থলি দান করেন। কিন্তু হরিদা তা স্পর্শ না করেই চলে যান। এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখে ভবতোষ-অনাদিদের মনে হয় অদৃষ্ট কখনোই হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।

এমন কথা বলার কারণ বা, অদৃষ্ট ক্ষমা না করার পরিণাম: হরিদা বহুরূপী। সপ্তাহে একদিন বিভিন্ন রূপ ধারণ করে পথে পথে ঘুরে বেড়িয়ে তিনি যা উপার্জন করেন, তাতেই তার অন্নসংস্থান হয়। দু-তিন টাকার বেশি উপার্জন হয় না। কাজেই মাঝে মাঝে তাকে উপোস করতে হয়। জগদীশবাবুর কাছে বিরাগীবেশে তিনি গিয়েছিলেন মোটা কিছু আদায় করার জন্য, যাতে তার অবস্থা ফেরে। কিন্তু প্রণামির টাকা না নেওয়ায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে। এখন আগামী দিনে উপবাসে দিন কাটানোই হরিদার নিয়তি।

. “খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?” বক্তা কে ? খাঁটি মানুষ নয় বলার তাৎপর্য কী ? ১+৪

উত্তর – বক্তা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ গল্পে আলোচ্য উক্তিটির বস্তা হলেন এই কাহিনির প্রধান চরিত্র হরিদা।

তাৎপর্য: হরিদা বহুরুপী। বহুরূপ ধারণ করে পথে পথে ঘুরে অর্থ উপার্জন করেন তিনি। জগদীশবাবুর বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন বিরাগীর ছদ্মবেশে। উদ্দেশ্য ছিল মোটা কিছু আদায় করে নেওয়া। সুযোগও এসেছিল। বিরাগীর তীর্থভ্রমণের জন্য জগদীশবাবু একশো এক টাকা প্রণামি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিরাগীবেশী হরিদা তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলেছেন, ধুলোর মতো সোনা মাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তিনি রাখেন। টাকার থলি স্পর্শ না করে তিনি সেই কথার সত্যতার প্রমাণ রেখেছেন।

হরিদার বক্তব্য, তিনি খাঁটি মানুষ নন অর্থাৎ খাঁটি বিরাগী নন, একজন গৃহী মানুষ মাত্র। তাই জগদীশবাবুর দেওয়া টাকার থলি তিনি গ্রহণ করতে পারেন না। বহুরুপীকে তো আর কেউ একশো এক টাকা বকশিশ দিতে পারে না। তার বকশিশ খুব জোর আট আনা কিংবা দশ আনা হতে পারে।

হরিদার বক্তব্য আংশিক সত্য। বহুরুপীকে কেউ শতাধিক টাকা প্রণামি দেবে না। কিন্তু টাকার থলি গ্রহণ না করে হরিদা প্রকৃত বিরাগীর স্তরে উন্নীত হয়েছেন। সন্ন্যাসী বা বিরাগীর পোশাক পরলেই দেহে-মনে তা হওয়া যায় না। তার জন্য চাই সাত্ত্বিক মন, সর্বত্যাগী মানসিকতা। হরিদা গৃহী হয়েও মানসিকতায় সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী-বিরাগী হয়ে উঠেছেন; সেই সঙ্গে বজায় রেখেছেন শিল্পীর সততা ও জাত্যাভিমান। তাই তিনি যথাথই ‘খাঁটি মানুষ’।

. ‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে হরিদা চরিত্রটির পরিচয় দাও । [অথবা], ‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে হরিদার চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো

উত্তর – সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা সেই বিশ্বাসেই অটল থেকে হয়ে উঠেছেন ব্যতিক্রমী চরিত্র।সেগুলি হল –

() আবেগপ্রবণ: আবেগের বেগ হরিদাকে নিয়ন্ত্রিত করেছে। তাই অফিস কিংবা দোকানে বিক্রিওয়ালার কাজ তার পছন্দ হয়নি। বহুরুপী সেজে পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েই তার আনন্দ, সে উপার্জন হোক আর নাই হোক। আবেগপ্রবণতার জন্যই হরিদা উপোস করেছেন, কিন্তু প্রণামির টাকা স্পর্শ করেননি ।

() সত্যিকারের শিল্পী : হরিদা প্রকৃত শিল্পী। তাই সততা, জাত্যাভিমান, একগুঁয়েমি তার স্বভাব বৈশিষ্ট্য। তিনি যখন যা সাজেন তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান। পাগল সাজলে তার মুখ থেকে লালা ঝরে, বাইজি সেজে ছলনায় ভুলিয়ে চোখ টিপে তিনি পয়সা আদায় করেন আবার পুলিশ সেজে ঘুস খেতেও তার দ্বিধা নেই। কিন্তু যখন তিনি বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে গেছেন তখন একশো এক টাকার প্রলোভনও অনায়াসে উপেক্ষা করেছেন। সত্যিকারের শিল্পীর মতোই নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে জগৎ-জীবনকে দেখেছেন হরিদা।

() সততা: হরিদা বহুরূপী সাজেন কিন্তু গিরগিটির মতো রং পালটান না। তিনি সৎ। না খেয়ে মরবেন কিন্তু শঠতা তার স্বভাব বৈশিষ্ট্য নয়। পুলিশ সেজে ঘুস নিলেও পরের দিন তিনি ঘুস প্রদানকারী মাস্টারমশাইয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। মোটা টাকা আদায় করার জন্য বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে গেলেও প্রণামির টাকা তিনি স্পর্শ করেননি। কারণ তাতে তার ঢং অর্থাৎ শিল্পীর সততা নষ্ট হয়ে যাবে।

() একগুঁয়েমি: সপ্তাহে হরিদার রোজগার দু-তিন টাকার বেশি নয়। মাঝে মাঝেই চলে হরিমটর। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনো বাঁধা আয়ের কাজ তিনি খোঁজেননি। তাঁর একগুঁয়ে মন বহুরূপীর সাজে আনন্দ খোঁজে।

() বিরাগী: হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসী ভন্ড। হরিদা সত্যিকারের বিরাগী। ষড়রিপুর বন্ধন থেকে তিনি মুক্ত। ভোগাসক্তি তার নেই। শহরের সবচেয়ে সরু গলির ছোট্ট ঘরে তার বাস। তবে বিত্ত না থাকলেও তার চিত্ত বড়ো। একঘেয়ে কাজে তার অনীহা। আবার নকল পুলিশ সেজে মাত্র আট আনা লাভ করেই তার আনন্দ। বিরাগী বেশে মোটা টাকার প্রণামি উপেক্ষা করেই তার শিল্পী জীবনের চরিতার্থতা।

() আশাবাদী: হরিদাও আশাবাদী। উপোস করে দিন কাটলেও বহুরূপী সাজতে তার ক্লান্তি নেই। মানুষকে আনন্দ দিয়েই তিনি অনাহারের দহনজ্বালাকে শান্ত করেন। চাল না থাকলেও ভাতের হাঁড়িতে জল ফুটিয়েই তার ইতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন ঘটান। বিরাগীর বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েও সেই পজিটিভিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তিনি শূন্য হাতে ফিরে এসেছেন। সত্যিই তিনি খাঁটি মানুষ। বাইরে বহুরূপী হলেও অন্তরে তিনি একরূপী। সে রূপ সত্যিকারের এক শিল্পীর, নির্লোভ এক তাপসের।

আরও পড়ুন –

জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর

আফ্রিকা কবিতা প্রশ্ন উত্তর

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন 2026

বাংলা ব্যাকরণ: সমাস

প্রতিবেদন ও সংলাপ রচনা সাজেশন 2026

রচনা লেখার নিয়ম

YouTube – Samim Sir

Leave a Comment