দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর 2026 // Class 10 Life science Chapter 1 Question Answer 2026
দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর 2026
প্রথম অধ্যায় – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
MCQ প্রশ্ন উত্তর
১. ভূণমুকুলাবরণীতে পাওয়া যায় যে হরমোনটি সেটি হল – (ক) GA (খ) IAA (গ) সাইটোকাইনিন (ঘ) ফ্লোরিজেন
উত্তর – (খ) IAA
২. নাইট্রোজেনবিহীন উদ্ভিদ হরমোনটি হল – (ক) ভার্নালিন (খ) অক্সিন (গ) জিব্বেরেলিন (ঘ) সাইটোকাইনিন
উত্তর – (গ) জিব্বেরেলিন
৩. বীজের অঙ্কুরোদগমে সাহায্যকারী হরমোনটি হল – (ক) অক্সিন (খ) সাইটোকাইনিন (গ) ইথিলিন (ঘ) জিব্বেরেলিন
উত্তর – (ক) অক্সিন
৪. কোন জোড়টি সঠিক নয় ?– (ক) অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড-পত্ররন্ধ্রের বন্ধ হওয়া (খ) সাইটোকাইনিন-কোশ বিভাজন (গ) অক্সিন-অগ্রস্থ প্রকটতা (ঘ) জিব্বেরেলিন-পত্রমোচন রোধ
উত্তর – (ঘ) জিব্বেরেলিন-পত্রমোচন রোধ
৫. একটি আজ্ঞাবহ স্নায়ুর উদাহরণ হল – (ক) অডিটরি (খ) অলফ্যাক্টরি (গ) অপটিক (ঘ) অকিউলোমোটর স্নায়ু
উত্তর – (ঘ) অকিউলোমোটর স্নায়ু
৬. একটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর উদাহরণ হল – (ক) অডিটরি স্নায়ু (খ) টক্লিয়ার স্নায়ু (গ) অকিউলোমোটর স্নায়ু (ঘ) ভেগাস স্নায়ু
উত্তর – (ক) অডিটরি স্নায়ু
৭. নীচের কোনটি কারক ? – (ক) রড কোশ (খ) স্বাদকোরক (গ) অন্তর্বাহী স্নায়ু (ঘ) পেশি
উত্তর – (ঘ) পেশি
৮. পর পর অবস্থিত দুটি নিউরোণের সংযোগ স্থলকে বলে – (ক) সাইন্যাপসিস (খ) সাইন্যাপস (গ) গ্যাংলিয়ন (ঘ);স্নায়ুকেন্দ্র
উত্তর – (খ) সাইন্যাপস
৯. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে উপস্থিত তরলকে বলে – (ক) প্লাজমা (খ) সিরাম (গ) সাইনোভিয়াল ফ্লুইড (ঘ) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড
উত্তর – (ঘ) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড
১০. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত হয় মস্তিষ্ক ও – (ক) সুষুম্নাশীর্ষক (খ) সুষুম্নাকাণ্ড (গ) সমবেদী স্নায়ু (ঘ) করোটিয় স্নায়ু দ্বারা
উত্তর – (খ) সুষুম্নাকাণ্ড
১১. প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত করে – (ক) সেরিব্রাম (খ) সেরিবেলাম (গ) সুষুম্নাশীর্ষক (ঘ) সুষুম্নাকাণ্ড
উত্তর – (ঘ) সুষুম্নাকাণ্ড
১২. পরিযায়ী পাখিদের শীতকালে কোলকাতা চিড়িয়াখানায় উড়ে আসার চালিকা শক্তি – (ক) খাদ্য অন্বেষণ (খ) ছড়িয়ে পড়া (গ) প্রজনন (ঘ) আশ্রয় বা বাসস্থান খোঁজা
উত্তর – (ঘ) আশ্রয় বা বাসস্থান খোঁজা
১৩. অক্সিন হল – (ক) উৎসেচক (খ) প্রাণী হরমোন (গ) রেচন পদার্থ (ঘ) উদ্ভিদ হরমোন
উত্তর – (ঘ) উদ্ভিদ হরমোন
১৪. একটি কৃত্রিম হরমোন হল – (ক) ইনডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড (খ) ন্যাপথলিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড (গ) জিব্বেরেলিক অ্যাসিড (ঘ) জিয়াটিন
উত্তর – (খ) ন্যাপথলিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড
১৪. সঠিক জোড়টি নির্বাচন করো – (ক) গুরুমস্তিষ্ক-দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে (খ) হাইপোথ্যালামাস-বুদ্ধি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে (গ) লঘু মস্তিষ্ক-দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে (ঘ) সুষুম্মাশীর্ষক – হৃদস্পন্দন ও খাদ্য গলাধঃকরণ নিয়ন্ত্রণ করে
উত্তর – (ঘ) সুষুম্মাশীর্ষক – হৃদস্পন্দন ও খাদ্য গলাধঃকরণ নিয়ন্ত্রণ করে
১৫. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল মাটির উপরে উঠে আসাকে বলে – (ক) আলোক অনুকূলবর্তী (খ) জল অনুকূলবর্তী (গ) আলোক প্রতিকূলবর্তী (ঘ) অভিকর্ষ অনুকূলবর্তী
উত্তর – (ক) আলোক অনুকূলবর্তী
১৬. বৃদ্ধিজ চলন নয় এমন একটি উদাহরণ হল – (ক) আলোর দিকে কান্ডের চলন (খ) জলের দিকে মূলের চলন (গ) অবলম্বনকে জড়িয়ে ধরে আকর্ষের চলন (ঘ) লজ্জাবতীর পাতা মুড়ে যাওয়া
উত্তর – (ঘ) লজ্জাবতীর পাতা মুড়ে যাওয়া
১৭. চোখে দমকা হাওয়ার জন্য ধুলোবালি পড়ার উপক্রম হলেই চোখ দুটি কন্ধ হয়ে যায়। এটি যে ধরনের ক্রিয়া – (ক) চলন (খ) গমন (গ) আত্মরক্ষা (ঘ) প্রতিবর্ত ক্রিয়া
উত্তর – (ঘ) প্রতিবর্ত ক্রিয়া
১৮. নিশাচর প্রাণীরা রাতে ভালো দেখতে পায় কারণ চোখের রেটিনায় আলোকগ্রাহী কোশ থাকে – (ক) রড কোশ (খ) কোণ কোশ (গ) রড কোশ বেশি কোণ কোশ কম (ঘ) কোণ কোশ বেশি রড কোশ কম
উত্তর – (গ) রড কোশ বেশি কোণ কোশ কম
১৯. বীজবিহীন ফল সৃষ্টি করতে প্রয়োগ করা হয় – (ক) 2,4-D (খ) ফ্লোরিজেন (গ) অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড (ঘ) NAA
উত্তর – (ঘ) NAA
২০. গুরু মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোবটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষের যে কাজটি ব্যাহত হবে – (ক) শ্রবন (খ) দর্শন (গ) স্পর্শ (ঘ) কথা বলার ক্ষমতা
উত্তর – (খ) দর্শন
২১. অগ্ন্যাশয় রসে উপস্থিত প্রোটিন-ভঙ্গক উৎসেচকটি চিহ্নিত করো – (ক) ইরেপসিন (খ) ট্রিপসিন (গ) অ্যামাইলেজ (ঘ) পেপসিন
উত্তর – (খ) ট্রিপসিন
২২. গমনে অক্ষম একটি প্রাণী হল – (ক) অ্যামিবা (খ) স্পঞ্জ (গ) হাইড্রা (ঘ) তারা মাছ
উত্তর – (খ) স্পঞ্জ
২৩. মাছের গমন অঙ্গ হল – (ক) পাখনা ও পটকা (খ) পাখনা ও মায়াটম পেশি (গ) আঁশ ও পটকা (ঘ) আঁশ ও ফুলকা
উত্তর – (খ) পাখনা ও মায়াটম পেশি
২৪. পায়রার ডানার বড়ো পালককে বলে – (ক) রেমিজেস (খ) রেকট্রিসেস (গ) পেকটোরালিস মেজর (ঘ) বাইসেপস
উত্তর – (ক) রেমিজেস
২৫. যে অঙ্গটি মানব দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে তা হল – (ক) গুরুমস্তিষ্ক (খ) লঘু মস্তিষ্ক (গ) মেরুদণ্ড (ঘ) চোখ
উত্তর – (খ) লঘু মস্তিষ্ক
২৬. যে পেশি সংলগ্ন দুটি অস্থিকে কাছাকাছি আনতে সাহায্য করে তা হল – (ক) ফ্লেক্সর (খ) এক্সটেনসর (গ) অ্যাডাকটর (ঘ) রোটেটর
উত্তর – (ক) ফ্লেক্সর
২৭. হাঁটু ও কনুইতে থাকে – (ক) বল ও সকেট সন্ধি (খ) কৌণিক সন্ধি (গ) কবজা সন্ধি (ঘ) স্যাডল সন্ধি
উত্তর – (গ) কবজা সন্ধি
২৮. সচল অস্থি সন্ধি দেখা যায় – (ক) মাথার খুলির সুচারে (খ) সিমফাইসিস ও পিউবিস অস্থিসন্ধিতে (গ) মেরুদন্ডের কশেরুকায় (ঘ) হাতের কবজিতে
উত্তর – (ঘ) হাতের কবজিতে
২৯. নীচের বক্তব্যগুলি পড়ো এবং সঠিক বক্তব্যটি বেছে নাও – (ক) প্রজেস্টেরণ গর্ভাবস্থায় ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু উৎপাদন ও রজঃচক্র বন্ধ করে (খ) থাইরক্সিনের প্রভাবে রক্তচাপ, শ্বাসহার ও হৃৎস্পন্দন হার হ্রাস পায় (গ) নর অ্যাড্রিনালিন হৃৎস্পন্দন, রক্তবাহ ও শ্বাসতন্ত্রের উপর ক্রিয়া করে (ঘ) ইনসুলিন রক্তবাহের সংকোচন ঘটিয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে
উত্তর – (ক) প্রজেস্টেরণ গর্ভাবস্থায় ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু উৎপাদন ও রজঃচক্র বন্ধ করে
৩০. হাতের কনুই ভাঁজ করতে সংকুচিত হয় – (ক) ট্রাইসেপস পেশি (খ) বাইসেপস পেশি (গ) ডেলটয়েড পেশি (ঘ) ল্যাটিসিমাস ডরসি পেশি
উত্তর – (খ) বাইসেপস পেশি
SAQ প্রশ্ন উত্তর
১. একটি অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের নাম লেখো।
উত্তর – প্রাণীদেহে খিদে পাওয়া
২. সামগ্রিক চলন বা গমনে সক্ষম একটি উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর – ভলভক্স
৩. ক্রেস্কোগ্রাফ যন্ত্রের আবিষ্কারক কে ?
উত্তর – জগদীশচন্দ্র বসু
৪. শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের পত্রফলকে কী ধরনের চলন দেখা যায় ?
উত্তর – নিকটি ন্যাস্টিক
৫. একটি নাইট্রোজেনযুক্ত আম্লিক উদ্ভিদ হরমোনের নাম লেখো।
উত্তর – অক্সিন
৬. একটি কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোনের সম্পূর্ণ রাসায়নিক নাম লেখো।
উত্তর – ইনডোল প্রোপিয়নিক অ্যাসিড ( IPA )
৭. জিব্বেরেলিনের রাসায়নিক নাম কী ?
উত্তর – জিব্বেরেলিক অ্যাসিড ( GA )
৮. তোমাদের বিদ্যালয়ের বাগানে অনেক আগাছা হয়েছে, সেগুলি মেরে ফেলার জন্য তুমি কোন প্রকার হরমোন প্রয়োগ করবে ?
উত্তর – 2,4-D
৯. ফুলদানিতে রাখা কোনো ফুলকে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে কোন হরমোন ব্যবহৃত হয় ?
উত্তর – সাইটোকাইনিন
১০. কোন হরমোনকে “অ্যান্টি জিব্বেরেলিন’ বলা হয় ?
উত্তর – অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড (ABA)
১১. মস্কিষ্কের গহ্বরকে কী বলে ?
উত্তর – নিলয় বা ভেন্ট্রিকল
১২. সুষুম্নাকাণ্ডের গহ্বরকে কী বলে ?
উত্তর – নিউরোসিল
১৩. চোখের কোন স্তরে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় ?
উত্তর – রেটিনা
১৪. চক্ষুর কোন অংশ তারারন্ধ্রকে ছোটো বড়ো করে উপযোজন-এ সাহায্য করে ?
উত্তর – আইরিশ
১৫. গমন পদ্ধতির একটি চালিকা শক্তির উল্লেখ করো ।
উত্তর – খাদ্য খোঁজা ও সংগ্রহ
১৬. চোখের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুটির নাম লেখো ।
উত্তর – অপটিক স্নায়ু
১৭. কোন পেশির সঞ্চালন মানুষের গমনের জন্য দায়ী ।
উত্তর – কঙ্কাল বা অস্থিপেশি
১৮. হাইপোথ্যালামাস-জাত কোনহরমোনটি দূরে গিয়ে কার্যকরী হয় ?
উত্তর – ADH / অক্সিটোসিন
১৯. স্নায়ুতন্ত্রের একটি ধারণ কোশের নাম লেখো ।
উত্তর – নিউরোগ্লিয়া
Mark – 2 প্রশ্ন উত্তর
১. টবসহ একটি চারা গাছকে শুইয়ে দিলে কোন অংশ আলোর দিকে ও কোন অংশ অভিকর্ষের দিকে বৃদ্ধি পাবে ?
উত্তর – টবসহ একটি চারাগাছকে অনুভূমিকভাবে শুইয়ে দিলে (i) গাছের কান্ড অংশ আলোর দিকে অর্থাৎ ধনাত্মক ফটোট্রপিক চলনের ফলে সোজা হয়ে উপরের দিকে উঠতে চেষ্টা করবে। (ii) গাছের মূল অংশ অভিকর্ষের টানে ধনাত্মক জিওট্রপিক চলনের ফলে নিচের অভিকর্ষের দিকে বৃদ্ধি পাবে।
২. পুকুরের জল সূর্যোদয়ে সবুজ ও সূর্যাস্তের পর স্বচ্ছ হয় কেন ?
উত্তর – কারণ : পুকুরে উপস্থিত শৈবালগুলি সালোকসংশ্লেষের জন্য আলোর প্রয়োজন মেটাতে উপরের দিকে অর্থাৎ আলোর দিকে সাঁতার কেটে উঠে আসে ফলে জলের রং সবুজ হয়ে যায়। আবার সূর্যাস্তের পর আলোর তীব্রতা কমে যাওয়ায় শৈবালগুলি নিচের দিকে নেমে গেলে জল পুনরায় স্বচ্ছ হয়ে যায় অর্থাৎ এক্ষেত্রে শৈবালের ফটোট্যাকটিক চলনের জন্য এরূপ হয়।
৩. হরমোনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো ।
উত্তর – হরমোনের দুটি বৈশিষ্ট্য হল –
(ক) উৎস : হরমোন নির্দিষ্ট অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা নির্দিষ্ট কলাকোশ থেকে উৎপন্ন হয় এবং প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড বা স্টেরয়েডধর্মী হয় ।
(খ) কাজ : উৎসস্থলের দূরবর্তী স্থানে খুব অল্পমাত্রায় ক্রিয়াশীল হয় এবং কাজের শেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় ।
৪. হরমোনকে রাসায়নিক বার্তাবহ বলে কেন ?
উত্তর – হরমোন জীবদেহে নির্দিষ্ট কলাকোশ বা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে অন্যত্র লক্ষ্যকোশে পৌঁছায় এবং লক্ষ্যকোশের কোশপর্দার নির্দিষ্ট গ্রাহক দ্বারা গৃহীত হয়ে কোশে রাসায়নিক বার্তা প্রেরণা করে ও লক্ষ্যকোশের কার্যকারিতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য হরমোনকে রাসায়নিক বার্তাবহ বলা হয় ।
৫. জিব্বেরেলিন ও সাইটোকাইনের একটি করে কাজ লেখো ।
উত্তর – জিব্বেরেলিনের কাজ : মুকুল ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে।
সাইটোকাইনিনের কাজ : কোশের সাইটোপ্লাজমে বিভাজনে সাহায্য করে এবং কোশ বিভাজন ত্বরান্বিত করে।
৬. জাইলেম কলার মাধ্যমে অক্সিন-এর পরিবহন সম্ভব নয় কেন ?
উত্তর – জাইলেম কলার মাধ্যমে অক্সিন-এর পরিবহন সম্ভব নয় কারণ – (i) জাইলেমে রসের ঊর্ধ্বমুখী পরিবহন ঘটে কিন্তু অক্সিন হরমোন অগ্রস্থ ভাজক কলা থেকে নিঃসৃত হয়ে ‘নিম্নমুখে পরিবাহিত হয়। (ii) অক্সিন-এর পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয় পরিবহনকারী কলা কোশ। জাইলেমের পরিবহনকারী বেশিরভাগ উপাদানগুলি মৃত হওয়ায় প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করতে পারে না।
৭. উদ্ভিদের কাণ্ডের অগ্রভাগ কেটে নিলে প্রচুর শাখা-প্রশাখা বের হয় কেন ?
উত্তর – সাইটোকাইনিন উদ্ভিদ কোশবিভাজনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। উদ্ভিদের কান্ডের অগ্রভাগ কেটে নিলে সেই স্থানের সাইটোকাইনিন ক্ষরণের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং এর প্রভাবে প্রচুর শাখা-প্রশাখা বের হয়।
৮. উদ্ভিদের জরুরিকালীন হরমোন কোন হরমোনকে বলা হয় এবং কেন ?
উত্তর – অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড (ABA) নামক হরমোনকে জরুরিকালীন হরমোন বা খরা প্রতিরোধী হরমোন বলা হয়।
প্রতিকূল পরিবেশে অত্যন্ত কম উন্নতায় উদ্ভিদদেহে জলের অভাব দেখা দিলে অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড (ABA) নামক হরমোনটি বাষ্পমোচন প্রতিরোধ করে দেহে জল সংরক্ষণ করে উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড (ABA) হরমোনকে জরুরিকালীন হরমোন বলে।
৯. স্থানীয় হরমোন কাকে বলে ?
উত্তর – স্থানীয় হরমোন : যে সমস্ত হরমোন উৎপত্তিস্থলে কোনো বিপাকীয় কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের স্থানীয় হরমোন বলে। যেমন-গ্যাস্ট্রিন, সিক্রিটিন, কোলেসিস্টোকাইনিন প্রভৃতি।
১০. FSH-এর কাজগুলি লেখো ।
উত্তর – FSH-এর কাজ :
(ক) স্ত্রীদেহে: (i) FSH ডিম্বাশয়ের উপর ক্রিয়া করে আদি ডিম্বথলিকে পরিণত ডিম্বথলি বা গ্রাফিয়ান ফলিকলে পরিণত করে। (ii) FSH গ্রাফিয়ান ফলিকল থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে।
(খ) পুরুষদেহে: শুক্রাশয়ে শুক্রাণু উৎপাদক নালিকার পরিস্ফুরণ ও শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে।
১১. ADH বা ভেসোপ্রেসিন এর ক্ষরণ স্থান ও কাজ লেখো।
উত্তর – পশ্চাৎ পিটুইটারি মিশ্রিত পলিপেপটাইডধর্মী যে হরমোন মূত্রে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে তাকে ADH (অ্যান্টি ডাই-ইউরেটিক হরমোন) বলে।
ADH-এর ক্ষরণ স্থান: ADH নিউরো হাইপোথ্যালামাসের সেক্রেটারি কোশ থেকে নিঃসৃত হয়ে পশ্চাত পিটুইটারিতে আসে ও রক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে বাহিত হয়।
ADH এর কাজ: দূরসংবর্ত বৃক্কীয় নালিকাতে গ্লোমেরিওলার পরিশ্রুত তরল থেকে জলের ফ্যাকালটেটিভ পুনঃশোষণ ত্বরান্বিত করে এবং অসমোরেগুলেশনে সাহায্য করে রক্তবাহের অমসৃণ পেশির সংকোচন ঘটিয়ে (ভেসোপ্রেসিন) রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
(প্রসঙ্গতঃ পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত অপর একটি প্রোটিন ধর্মী হরমোন হল অক্সিটোসিন, যা স্তনগ্রন্থি থেকে দুগ্ধক্ষরণের ও সন্তান প্রসবের সময় জরায়ু সংকোচনে সাহায্য করে।)
১২. অ্যাড্রিনালিন হরমোনকে জরুরিকালীন হরমোন বলা হয় কেন ?
উত্তর – শারীরিক পরিশ্রম (যেমন নাচ, দৌড়ানো প্রভৃতি) এবং ভয়, রাগ, উদ্বেগ প্রভৃতি মানসিক উত্তেজনায় অ্যাড্রিনালিন হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণে ক্ষরিত হয়ে দ্রুত ক্রিয়াশীল হয় এবং সেই মুহূর্তে দেহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জরুরি অবস্থার উপযোগী করে তোলে। এজন্য অ্যাড্রিনালিনকে জরুরিকালীন বা সংকটকালীন বা আপৎকালীন হরমোন বলে।
১৩. ‘হরমোন প্রাণীদেহে দ্বৈত নিয়ন্ত্রকরূপে কাজ করে’ – ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – প্রাণীদেহে কোনো কোনো বিপাকীয় কাজের ক্ষেত্রে একটি হরমোন সহায়ক ভূমিকা গ্রহণ করলেও অপর একটি হরমোন ওই কাজে বাধা দেয়। যেমন- গ্লুকাগন রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়, আবার ইনসুলিন এই বেড়ে যাওয়া শর্করার পরিমাণ কমায়। এইভাবে হরমোন দ্বৈত নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে ।
১৪. নর-অ্যাড্রিনালিন হরমোনের উৎস ও কাজ লেখো ।
উত্তর – নর-অ্যাড্রিনালিন হরমোনের উৎস: অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির মেডালা অঞ্চল।
কাজ: (i) এই হরমোন সকল সময়ই দেহে ক্রিয়াশীল থাকে। (ii) হৃদস্পন্দন কমায় ও হার্দ উৎপাদ এর পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধি করে। (iii) রক্তনালির পেশির সামান্য সংকোচন ঘটিয়ে অল্প রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। (iv) শ্বাসক্রিয়াকে সামান্য উদ্দীপিত করে।
১৫. দৌড়ানোর কাজটিতে স্নায়ুতন্ত্রের সমন্বয়ক ভূমিকার ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর – দৌড়ানোর ফলে পায়ের পেশি কোশে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও অক্সিজেনের চাহিদা ফুসফুসের দ্রুত শ্বাস গ্রহণ, হৃদপিন্ডে অক্সিজেন প্রেরণ ও হৃদপিন্ডে দ্রুত সংকোচন ক্রিয়া দ্বারা গ্লুকোজ ও অক্সিজেন পেশি কোশে প্রেরণ, রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইড-এর মাত্রা দ্বারা মস্তিষ্কে উদ্দীপনা সৃষ্টি ও মস্তিষ্ক দ্বারা পেশি সংকোচন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনে হৃদপিন্ডের প্রয়োজনীয় স্নায়বিক স্পন্দন প্রেরণ সামগ্রিক কাজের সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধতা স্নায়ুতন্ত্রের দ্বারা সংঘটিত হয়।
১৬. অগ্রমস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অংশের নাম ও কাজ লেখো ।
উত্তর – গুরুমস্তিষ্কের কাজ: স্মৃতিশক্তি, বিচারবিবেচনা, চিন্তাশক্তি প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, স্বাদ প্রভৃতি অনুভূতিগুলির বিশ্লেষণ করা।
থ্যালামাসের কাজঃ রিলে কেন্দ্ররূপে, স্থূল অনুভূতির (যেমন স্পর্শ, চাপ, তাপ, যন্ত্রণা প্রভৃতি) বিশ্লেষণ কেন্দ্ররূপে কাজ করে।
১৭. অক্ষিগোলকের মধ্য আবরকের অংশগুলির নাম ও কাজ লেখো ।
উত্তর – (ক) কোরয়েড: স্কেলেরার নীচে অক্ষিগোলকের পশ্চাৎ অংশে থাকে যা অক্ষিগোলকে পুষ্টি, অক্সিজেন সরবরাহ করে।
(খ) আইরিশ বা কনীনিকা: কর্নিয়া ও লেন্সের মাঝে অবস্থিত থাকে তারারন্দ্রের ব্যাস ছোটো-বড়ো করে দেখতে সাহায্য করে।
(গ) সিলিয়ারি বডি: সিলিয়ারি পেশি ও সিলিয়ারি প্রসেসেস দ্বারা গঠিত অংশ।
১৮. মাছের গমন পদ্ধতির নাম কী ? গমনে পাখনার ভূমিকা উল্লেখ করো। [ যে কোনো একটি নির্দিষ্ট করে আসতে পারে। ]
উত্তর – মাছের গমন পদ্ধতির নাম-সন্তরণ।
মাছের গমনে পাখনার ভূমিকা: (i) বক্ষপাখনা ও শ্রোণি পাখনা = জলের গভীরে ওঠা-নামা ও ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে ও জল কেটে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। (ii) পৃষ্ঠপাখনা = দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। (iii) পুচ্ছ পাখনা = গমনের সময় দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে। (iv) পায়ু পাখনা = গমনে বিশেষ ভূমিকা নেই।
১৯. স্নায়ুগ্রন্থি বা গ্যাংলিয়ন কাকে বলে ? গ্যাংলিয়ন এর অবস্থান ও কাজ লেখো।
উত্তর – কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে কয়েকটি নিউরোণের কোশদেহ মিলিত হয়ে যে গোলাকার বা ডিম্বাকার স্ফীত অংশ গঠন করে, তাকে স্নায়ুগ্রন্থি বা গ্যাংলিয়ন বলে।
গ্যাংলিয়নের অবস্থান: অমেরুদন্ডী প্রাণীদেহে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অবস্থান করলেও গ্যাংলিয়ন সর্বদা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে অবস্থান করে।
গ্যাংলিয়নের কাজ: (i) নিউরোণের কোশ দেহগুলিকে ধারণ করে, (ii) নিউরোসিক্রেটরি পদার্থ ক্ষরণ করে।
২০. মানুষের গমন পদ্ধতি আলোচনা করো । [ অথবা ], মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি বর্ণনা করো ।
উত্তর – মানুষের দ্বিপদ গমন: মানুষের গমন দুটি পা ও হাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঞ্চালন ও মেরুদন্ডের নমনীয়তা এবং কঙ্কাল পেশির সক্রিয়তা দ্বারা সম্পন্ন হয়। দাঁড়ানোর সময় পা দুটি সমগ্র দেহের ভার বহন করে এবং এই দুটি পা মানবদেহের গমনে (হাঁটা বা দৌড়ানোর সময়) মুখ্য ভূমিকা পালন করে বলে মানুষের গমনকে দ্বিপদ গমন বলে।
মানুষের গমন পদ্ধতি: (i) স্থিরভাবে দাঁড়ানোর সময় মানুষের পা দুটি তার দেহের ভার বহন করে। কিন্তু হাঁটার সময় এই ভার পায়ের পাতার উপর পড়ে। (ii) চলা শুরু করার মুহূর্তে বাম বা ডান পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে বিচ্যুত হয়। সঙ্গে সঙ্গে দেহকান্ড সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। (iii) এই সময়ে দেহের সমস্ত ভার অপর পায়ের (মাটি সংলগ্ন) উপর থাকে। (iv) মাটি থেকে বিচ্যুত পা মাটি স্পর্শ করা মাত্র অপর পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে আলগা হয় এই সময় দেহের ভার একই পায়ে সরে আসে। (v) এইভাবে ডান ও বাম পা পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যায় ও গমন ঘটে।
২১. মাছের গমনে মায়োটোম পেশির ভমিকা আলোচনা করো ।
উত্তর – মাছের গমনে মায়োটোম পেশির ভূমিকা : (ক) মাছের দেহে মেরুদন্ডের দুপাশে ‘V’ আকৃতির খন্ডিত মায়োটোম পেশি সমস্ত দেহকান্ড জুড়ে বিস্তৃত থাকে। (খ) দেহের একপাশের পেশিগুলির সংকোচন ঘটলে বিপরীত দিকের পেশিগুলি প্রসারিত হয়। ফলে দেহে তরঙ্গের আকারে আন্দোলন তৈরি হয়। (গ) ক্রমান্বয়ে পেশি সংকোচন ও প্রসারণ এর মাধ্যমে মাছের দেহ এঁকেবেঁকে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। (ঘ) মায়োটোম পেশির সংকোচনের ফলে লেজ ডানদিকে বেঁকে গেলে জলের প্রতিরোধী বলের জন্য দেহ বামদিকে এবং লেজ বাম-দিকে বেঁকে গেলে মাছের দেহ ডানদিকে এগিয়ে যায়।
২২. মানুষের গমনের সময় দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে লঘুমস্তিষ্কের ও অন্তঃকর্ণের ভূমিকা আলোচনা করো ।
উত্তর – দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে লঘুমস্তিষ্কের ভূমিকা : লঘুমস্তিষ্ক দেহের বিভিন্ন পেশির সক্রিয়তা দ্বারা ঐচ্ছিক গমনকে নিয়ন্ত্রণ করে। হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, লাফানো, নাচ প্রভৃতি ক্ষেত্রে লঘুমস্তিষ্ক ঐচ্ছিক পেশির ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের দ্বারা দেহভঙ্গিমা ও দেহের ভারসাম্য লক্ষ্য করে।
ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে অন্তঃকর্ণের ভূমিকা : (i) ক্যালকেরিয়াস দানা বা অটোলিথ যুক্ত এন্ডোলিম্ফ নামক তরল পদার্থ দ্বারা পূর্ণ অর্ধ-বৃত্তাকার নালি ও ইউট্রিকিউলাস গমনের সময় দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। (ii) অন্তঃকর্ণের অটোলিথ নামক যন্ত্র সেন্সরি রোম-এর উপর চাপ সৃষ্টি করে দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
২৩. টিকা লেখো – (i) সিলিয়ারিগমন(ii) ফ্ল্যাজেলীয়গমন
উত্তর – (i) সিলিয়ারি গমন: এককোশী প্যারামেসিয়ামের গমন অঙ্গ সিলিয়া। সিলিয়ার সাহায্যে প্যারামেসিয়ামের গমন পদ্ধতিকে সিলিয়ারি গমন বলে। প্যারামেসিয়ামের দেহের চারপাশে অসংখ্য সিলিয়া থাকে। এই সিলিয়ার সঞ্চালনে উৎপন্ন সক্রিয় ঘাত ও প্রত্যাবর্তন ঘাতের ফলে সিলিয়ারি গমন সম্পন্ন হয়।
(ii) ফ্ল্যাজেলীয় গমন: এককোশী ইউগ্লিনার গমন অঙ্গ ফ্ল্যাজেলা। ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ইউগ্লিনার গমন পদ্ধতিকে ফ্ল্যাজেলীয় গমন বলে। ইউগ্লিনার দেহের চারপাশে চাবুকের মতো ফ্ল্যাজেলাম থাকে। এই ফ্ল্যাজেলাম নৌকার দাঁড়ের মতো সঞ্চালনে উৎপন্ন সক্রিয় ঘাত ও প্রত্যাবর্তন ঘাতের ফলে ফ্ল্যাজেলীয় গমন সম্পন্ন হয় ।
২৪. মানুষের গমনে সহায়ক চারটি অস্থির নাম লেখো।
উত্তর – ফিমার, টিবিয়া-ফিবিউলা, টারসাল, মেটাটারসাল, ফ্যালেনজেস, ভার্টিব্রা ।