কোনি বড় প্রশ্ন উত্তর 2026 (মতি নন্দী) ।। Koni Question Answer Class 10 in bengali।। WBBSE
কোনি বড় প্রশ্ন উত্তর
Koni Question Answer
Mark – 5
১. “আজ বারুণী।” – ‘বারুণী’ কী ? বারুণীর দিনের গঙ্গার ঘাটের দৃশ্যের বিবরণ দাও। ১+৪ [ অথবা], বারুণীর দিন গঙ্গার ঘাটের যে বর্ণনা আছে সেটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর – বারুণী: হিন্দুদের একটি ধর্মীয় উৎসব হল বারুণী। হিমালয় কন্যা গঙ্গার অপর নাম বারুণী। চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে বারুণী বা গঙ্গাস্নান করলে মহাপুণ্য লাভ হয় বলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস। এদিন কাঁচা আম দিয়ে মা গঙ্গার পুজো করা হয়।
গঙ্গার ঘাটের দৃশ্য : কথাসাহিত্যিক মতি নন্দী তাঁর লেখা ‘কোনি’ উপন্যাসে বারুণী তিথিতে গঙ্গার ঘাটের এক অনুপুঙ্খ স্নানদৃশ্য অঙ্কন করেছেন। চৈত্রমাসের বিশেষ ত্রয়োদশী তিথিতে বারুণী উপলক্ষ্যে গঙ্গার ঘাটে বয়স্ক স্নানার্থীদের ভিড় জমে বেশি। এমনই এক পুণ্য দিনে তারা ওই তিথিতে গঙ্গার জলে ফলদান হিসেবে সদ্য ওঠা কাঁচা আম ফেলে দিচ্ছেন। ছোটো ছোটো ছেলেরা হুড়োহুড়ি করে জল তোলপাড় করে সাঁতরে গিয়ে সেই আম সংগ্রহ করছে। তারপর তাদের পকেট ভরতি হয়ে গেলে সেইসব সংগৃহীত কাঁচা আম ঘাটের উপরে কোথাও রেখে আসছে। পরে সুযোগমতো সেই আমগুলি পথের ধারে বসা বাজারে তারা কম দামে বিক্রি করে দেয়।
এদিকে গঙ্গার জল ভাটার ফলে ঘাট থেকে দূরে সরে গেছে। ফলে ঘাটের সিঁড়ি পলিমাটিতে পূর্ণ, কর্দমাক্ত। সে কারণে স্নানার্থীদের সেই কাদা মাড়িয়ে বিরক্ত মুখে ঘাট থেকে উঠে আসতে হচ্ছে। তারপর তাদের কেউ কেউ ঘাটের উপরে বসে থাকা বামুনদের কাছে যায়, যেখানে বামুনরা অর্থের বিনিময়ে স্নানার্থীদের জামাকাপড় রাখেন, তাদের স্নানের নিমিত্ত তেল দেন এবং ইচ্ছুকদের কপালে চন্দনের ছাপও আঁকেন।
২. “খাওয়ায় আমার লোভ নেই। ডায়েটিং করি।” – বক্তা কে? তাঁর ডায়েটিং-এর পরিচয় দাও। ১+৪ [ MP ’20 ] [ অথবা ], ‘এত কেচ্ছাসাধন করেন, বাঁচবেন কী করে ? ’ – বক্তা কে ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কেচ্ছাসাধনের পরিচয় দাও। ১+৪
উত্তর – বক্তা : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে খাওয়ায় যাঁর লোভ নেই তিনি হলেন বিষ্ণুচরণ ধর ওরফে বেষ্টাদা।
ডায়েটিং / কেচ্ছাসাধনের পরিচয় : বিষ্ণুধর একালের দামোদর শেঠ। তবে ইদানিং ডায়েটিং-এ আছেন। এমন ডায়েটিং ভূ-ভারতে কেউ দেখেনি, শোনেনি। আগে তিনি জলখাবারে কুড়িটা লুচি খেতেন, এখন নামিয়ে এনেছেন পনেরোটায়। আধ কেজি ক্ষীরের বদলে এখন খান মাত্র তিনশো গ্রাম। ভাত খান মেপে আড়াইশো গ্রাম চালের। রাতে তো পাখির আহার-বারোখানা রুটি! ঘি খাওয়া তো ছেড়েই দিয়েছে-গরম ভাতের সঙ্গে চার চামচের একবিন্দু বেশি নয়। বিকেলে দু-গ্লাস মিছরির সরবত আর চারটি কড়াপাক। মাছ-মাংসের বালাই নেই। বাবা গেছেন সত্তরটা ফুলুরি খেয়ে কলেরায়, জ্যাঠা অম্বলে। তাই এই সংযম, তাই এই কঠোর কৃচ্ছসাধন! বিষ্ণুর স্ত্রী তো রীতিমতো চিন্তিত-“এত খাটুনির পর এইটুকু খাদ্য!” বিন্টুর এই ‘কেচ্ছাসাধন’ রামগরুড়ের ছানাদের মুখেও হাসির ঝিলিক তোলে।
Click Here – Father`s help question answer
৩. “বিষ্টুধরের বিরক্তির কারণ, হাত পনেরো দূরের একটা লোক ”- বিষ্টুধরের পরিচয় দাও। দূরের লোকটির পোশাক – পরিচ্ছদ ও চেহারার বর্ণনা দাও। ২+৩
উত্তর – বিষ্টুধরের পরিচিতি : বিষ্টু ধর বেশ পরিচিত মানুষ। তিনি পাড়ার মানুষের কাছে বেষ্টাদা নামেই পরিচিত। তিনি আই. এ. পাস। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন বনেদী বংশে। তাঁর খান সাতেক বাড়ি ও বড়োবাজারে ঝাড়ন মশলার কারবার। তাঁর দেহের ওজন বেশ বেশি; সর্বোপরি সাড়ে তিন মণ। একটি অস্টিন গাড়িতে তিনি ঘুরে বেড়ান। সপ্তাহে একদিন গঙ্গার ঘাটে মালিশওয়ালাকে দিয়ে শরীরটা মালিশ করাতে আসেন।
পোশাক-পরিচ্ছদ ও চেহারার বর্ণনা : বিষ্টুধরের চোখে পড়েছিল হাত পনেরো দূরে থাকা একটি লোক। সেই লোকটি ছিলেন ক্ষিতীশ সিংহ। তিনি সাদা লুঙ্গি আর গেরুয়া পাঞ্জাবি পরেছিলেন। তাঁর কাঁধে ছিল রঙিন ঝোলা, চোখে ছিল পুরু লেন্সের চশমা। নুন আর গোলমরিচের গুঁড়ো মেশালে যেমন দেখায়, তেমনি ছিল তাঁর মাথার কদমছাঁট চুলের রং। বয়সটা পঞ্চাশের এধারে বা ওধারে বছর পাঁচেকের ধুলোমাখা পোড়া মাটির মতো। তাঁর চোখের ধূসর মণি দুটো দেখলে মনে হবে বোধহয় সূর্যের দিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে তাকিয়ে থেকেই মণির কালো রঙ ফিকে হয়ে গেছে। আর চাহনিটাও ছিল অদ্ভুত। তাঁর চাহনি দেখলে মনে হয় মনের সঙ্গে মেলে না সেইসব ব্যাপারগুলো ব্লোটর্চের মতো পুড়িয়ে দিয়ে ভিতরে সেঁধিয়ে যাবে। আর চোয়াল দুটোকে যেন শক্ত করে ধরে আছে জেদ।
৪. জুপিটার ক্লাবে ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছিল ? তার উত্তরে ক্ষিতীশ কী বলেছিল তা লেখো। ৩+২
[ অথবা ] “ওর বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ উঠেছে সেগুলো তাহলে বলুন” – বক্তা কার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি কী ছিল ? ১+৪
উত্তর – অভিযোগ : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে জুপিটারের সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহকে যেসব কারণে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, সেগুলি হল –
(ক) ক্ষিতীশ সুইমারদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মিশতে পারেননি, আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল রেখে চলতে পারেননি।
(খ) সুইমারদের মনমেজাজ বোঝার ক্ষমতা তাঁর নেই।
(গ) জুনিয়র ছেলেদের সামনেই ক্ষিতীশ শ্যামলকে তার টাইম আর আমেরিকার বারো বছরের মেয়েদের টাইমের তুলনা করে অপমান করেছেন।
(ঘ) ব্রেস্ট স্ট্রোকে বেঙ্গল রেকর্ড হোল্ড করলেও গোবিন্দকে ক্ষিতীশ কান ধরে ক্লাব থেকে বার করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
(ঙ) ইনফ্লুয়েঞ্জায় অসুস্থ হয়ে দিন দশেক আসতে পারেনি বলে ক্ষিতীশ সুহাসের বাবাকে যা তা বলেছেন।
(চ) ক্ষিতীশের জন্যই অমিয়া আর বেলা জুপিটার ছেড়ে অ্যাপোলোয় চলে গেছে। কারণ ক্ষিতীশ তাদের চুল কাটতে চেয়েছিলেন, ওদের সাজ নিয়ে খিটখিট করতেন, ছেলেদের মতো ওদেরও বারবেল নিয়ে এক্সারসাইজ করার জন্য ঝগড়া করতেন।
(ছ) ট্রেনার হিসেবে ক্ষিতীশের ওপর ছেলেমেয়েদের শ্রদ্ধা বা আস্থা নেই।
(জ) ক্ষিতীশ কখনও কোনো কম্পিটিশনে নামেননি, মেডেলও পাননি।
ক্ষিতীশের জবাব : অভিযোগের জবাবে ক্ষিতীশ জানান যে, তিনি জুপিটারকে ভালোবাসেন। জুপিটারকে ভারতসেরা দেখার স্বপ্ন তাঁরও। জুপিটারের সুইমারদের উন্নতির জন্যই তিনি কঠোর হয়েছেন, গালিগালাজ করেছেন। সাঁতারুদের ডিসিপ্লিনড লাইফ লিড করতে হবে, নিয়মিত কঠোর ট্রেনিং করতে হবে। ট্রেনার হতে গেলে নামকরা সাঁতারু হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।
Click Here – আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
৫. “প্রথম দিকে লীলাবতী বিদ্রোহী হয়েছিল”- লীলাবতী কে ? সে কার প্রতি কেন বিদ্রোহী হয়েছিল এবং তার ফল কী হয়েছিল ? ১+৪
উত্তর – মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসে উল্লেখিত লীলাবতী হল সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী।
লীলাবতীর বিদ্রোহের কারণ ও ফল : ক্ষিতীশ বাঙালি কিন্তু রান্নার ক্ষেত্রে বাঙালিয়ানায় তাঁর বিশ্বাস বা আস্থা ছিল না। তিনি মনে করতেন বাঙালি রান্নায় পেটের অবস্থা ভালো থাকে না, শরীরে জোর পাওয়া যায় না; যার জন্য কোনো খেলাতেই বেশি উঁচুতে উঠতে পারে না। তাই তিনি সেদ্ধ রান্নার পক্ষপাতি ছিলেন। তাতে সর্বাধিক প্রোটিন ও ভিটামিন দুই-ই খাদ্যে বজায় রাখা সম্ভব হয়। ক্ষিতীশ বাড়িতে সেই রকম রান্নার ব্যবস্থা করার জন্য স্ত্রী লীলাবতীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশের প্রতিই লীলাবতী বিদ্রোহী হয়েছিলেন। কারণ রান্নায় সরষে বাটা, শুকনো লঙ্কা বাটা, পাঁচফোড়ন, জিরে, ধনে থাকবে না তা লীলাবতী কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। লীলাবতী স্বামীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করতে থাকেন, এমনকি তিনদিন না খেয়ে থাকেন। তবে স্ত্রীর এই অনশনে ক্ষিতীশের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন হল না। ক্ষিতীশ বলতে থাকলেন ‘শরীরের নাম মহাশয় যা সহাবে তাই সয়।’ তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষিতীশ স্ত্রী লীলাবতীকে একটি দিন সরষে ও লঙ্কাবাটা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন তাও কেবল নিজের খাবারের জন্য। ক্ষিতীশ যে কারণে কোনো নিমন্ত্রণ বাড়ি পর্যন্ত যান না। বরং তিনি তাঁর ক্লাবের ছেলেমেয়েদের ডাঃ রায়ের কথা বলে শোনান যে, বিয়ে বাড়ির একটা নেমন্তন্ন খাওয়া মানে এক বছরের আয়ু কমে যাওয়া।
৬. “… চার বছরের মধ্যেই ‘প্রজাপতি’ ডানা মেলে দিয়েছে।” – ‘প্রজাপতি’ সম্পর্কে কী জেনেছ ? ‘প্রজাপতি’-কে ঘিরে ক্ষিতীশ সিংহের পরিবারের কোন ছবি ধরা পড়েছে ? ২+৩
উত্তর- প্রজাপতি : ‘প্রজাপতি’-হল একটি টেলারিং শপ। গ্রে স্ট্রিটে ট্রামলাইন ঘেঁষে ছোট্ট একফালি ঘরে ছিল দোকানটি। তবে আগে এর নাম ছিল ‘সিনহা টেলারিং’। দুজন দর্জি জামা-প্যান্ট তৈরি করত। দেয়াল আলমারিতে থাকত কিছু সিন্থেটিক কাপড়। তখন দোকান চালাতেন ক্ষিতীশ।কিন্তু ক্ষিতিশের অবহেলার কারণে দোকানে লোকসান শুরু হয়, চারমাসের ভাড়া বাকি পড়ে, আলমারির কাপড় অর্ধেকের বেশি অদৃশ্য হয়ে যায়।
এবার হাল ধরেন লীলাবতী, ক্ষিতীশের স্ত্রী। গয়না বন্ধক দিয়ে তিনি দোকানটি ঢেলে সাজান। টেলারিং ডিপ্লোমা পাওয়া দুটি মেয়েকে নিযুক্ত করেন। নতুন নাম হয়- ‘প্রজাপতি’। ছেলেদের পোশাক তৈরি বন্ধ করে শুধুমাত্র মেয়ে ও বাচ্চাদের পোশাক তৈরি করা শুরু হয়। চারবছরের মধ্যেই ‘প্রজাপতি’ নবজীবন পেয়ে উড়তে শুরু করে। ব্যস্ত এই দোকানে এখন ব্লাউজ তৈরি করাতে দিয়ে অপেক্ষা করতে হয় দিন দশেক।
‘প্রজাপতি’-কে ঘিরে ক্ষিতীশ সিংহের পরিবারের ছবি : ‘প্রজাপতি’ ঘিরে ক্ষিতীশ সিংহের পারিবারিক জীবনযাপনের ছবিতেও কিছুটা বদল ঘটেছে। লীলাবতী তাঁর বন্ধক দেওয়া গয়নাগুলির অধিকাংশই ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছেন। ক্ষিতীশের কাছে তাঁর সমীহও বেড়ে যায়। পাঁচ হাজার টাকা সেলামি দিয়ে হাতিবাগানে একটি ঘর নেওয়ার ব্যবস্থাও পাকা করে ফেলেন লীলাবতী। লীলাবতী শক্ত হাতে ‘প্রজাপতি’-র হাল ধরায় ক্ষিতীশ সাঁতারের প্রশিক্ষণে বেশি সময় দেওয়ার অবকাশ পান। কোনিকে কঠোর অনুশীলনে দক্ষ সুইমার গড়ে তুলতে সমর্থ হন। কোনির দাদা কমল মারা গেলে তিনি কোনিকে নিজের বাড়িতে খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করে দেন এবং তাকে ‘প্রজাপতি’-তে কাজে নিযুক্ত করে মাসিক চল্লিশ টাকা বেতনের ব্যবস্থা করেন ‘প্রজাপতি’-র সমৃদ্ধির কারণেই। লীলাবতীও নিছক গৃহবধূ থেকে ব্যস্ত বিজনেস ওম্যানে পরিণত হন ‘প্রজাপতির’ কল্যাণেই।
৭. “হঠাৎ কোনির দু’চোখ জলে ভরে এল।” – কোনির দু-চোখ জলে ভরে এল কেন ? [ অথবা], “হঠাৎ কোনির দু’চোখ জলে ভরে এল।” – কোনির দু-চোখ জলে ভরে ওঠার কারণ কী ? এর থেকে কোনি চরিত্রের কোন দিকটি প্রকাশিত হয়েছে ? ২+৩
উত্তর- চোখ জলে ভরে ওঠার কারণ : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের পঞ্চম পরিচ্ছেদের শুরুতেই লক্ষিত হয় রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতার পঁচিশজন প্রতিযোগীর মধ্যে একজন ছিল শ্যামপুকুর বস্তির বাসিন্দা কনকচাঁপা পাল ওরফে কোনি। চরম দারিদ্র্য সত্ত্বেও সে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। শুধু তাই নয়, সে তার দাদা কমল পালের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল যে সে প্রতিযোগিতায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করবে। কোনির প্রতি অগাধ বিশ্বাস তথা আস্থাবশত কমল ধার করে তাকে একটি কস্টিউমও কিনে দেয়। কিন্তু বাস্তব ছিল সততই স্বতন্ত্র। প্রথাগত প্রশিক্ষণহীন অপুষ্টদেহী কোনি স্বাভাবিকভাবেই পরাজিত হয় ধনী-নন্দিনী প্রশিক্ষিত হিয়া মিত্রের কাছে। শুধু তাই নয়, সে-ই সকলের শেষে প্রতিযোগিতা শেষ করে। পরাজয় ও দাদাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের ব্যর্থতা কোনির অন্তরে এক চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপের সঞ্চার ঘটায়। সেই সঙ্গে ওরই সমবয়সি দুটি ছেলের কাছে পাওয়া গঞ্জনা তাকে আরও বেশি মর্মাহত করে তোলে। এমতাবস্থায় ক্ষিতীশ সিংহের স্নেহাদ্র কণ্ঠস্বর, সাঁতারের প্রশিক্ষণ দানের প্রসঙ্গ উত্থাপন ও এ কথা বলা যে- “লাল কস্ট্যুমপরা মেয়েটি সাঁতার শিখেছে তাই তোমাকে হারাল। তুমিও ওকে হারাতে পারবে যদি শেখো।“ কোনির অন্তরস্থ ক্ষোভ, ব্যথা, অভিমানকে অশ্রুতে রূপান্তরিত করে।
কোনি চরিত্রের প্রকাশিত দিকটি কোনি অভিমানী, কোনি একগুঁয়ে, কোনি হার মানতে জানে না। গঙ্গার ঘাটে আম কুড়োনোর জন্য ভাদুর সঙ্গে লড়াই কিংবা কুড়ি ঘণ্টা অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় নিজেকে অজেয় রেখে সে তা প্রমাণ করেছে। কিন্তু এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় সে হেরে গেছে হিয়া মিত্রের কাছে। কোনির আত্মাভিমান অপরাজেয় কিশোরী সত্তায় সজোরে আঘাত দিয়েছে। দাদাকে দেওয়া কথা রাখতে না পারার যন্ত্রণাও তাকে বিহ্বল করে দিয়েছে।
Click Here – বাংলা ব্যাকরণ: সমাস
৮. “বুকের মধ্যে প্রচণ্ড একটা মোচড় সে অনুভব করল। চিকচিক করে উঠল চোখ দুটো।” – কার সম্বন্ধে এ কথা বলা হয়েছে ? তার এই ধরনের অনুভূতির কারণ ব্যাখ্যা করো। ১+৪
উত্তর- উদ্দিষ্ট ব্যক্তি : কথাসাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহ সম্বন্ধে আলোচ্য কথাটি বলা হয়েছে।
উক্ত অনুভূতির কারণ: জুপিটারপ্রেমী ক্ষিতীশ দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জুপিটার ও সাঁতারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রেমের কারণে তাঁর ব্যাবসাও প্রবল ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সেই ক্ষিতীশই পদ ও ক্ষমতার কারণে গোষ্ঠীদ্বন্দুের শিকার হন ও একপ্রকার বাধ্য হয়েই জুপিটারের চিফ ট্রেনারের পদ থেকে ইস্তফা দেন। কিন্তু তাঁর এই পদত্যাগ জুপিটারের প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ হতে দেয়নি। আবার, অন্যদিকে একজন যোগ্য ও চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু তৈরি করার দীর্ঘদিন লালিত স্বপ্নও ক্ষিতীশের অন্তর থেকে মুছে যায়নি। ফলে জুপিটার থেকে সরে গেলেও তিনি তাঁর জীবনের ব্রতকে চিরতরে বিদায় জানাতে পারেননি। বিশেষত, কোনির মতো একজন যোগ্য শিষ্যা পাওয়ার পর তিনি তাকে হেলায় হারিয়ে যেতে দেননি। ক্ষিতীশের দক্ষ দৃষ্টি ও প্রতিভা চিনে নেওয়ার ক্ষমতা ভিড়ের মধ্য থেকে কোনিকে বেছে নিতে সহায়তা করে। এমতাবস্থায় জুপিটারের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তিনি বাধ্য হয়েই জুপিটারের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপোলোতে চলে যান। তিনি যদিও এক্ষেত্রে অ্যাপোলোর ভাইস প্রেসিডেন্ট নকুল মুখার্জিকে জানিয়ে দেন যে, তিনি কোনোদিনই অ্যাপোলোকে নিজের ক্লাব হিসেবে গ্রহণ করবেন না, তা সত্ত্বেও একটা চাপা বেদনা তাঁর অন্তরে জমাট বাঁধতে থাকে। তিনি জুপিটারের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ, অথচ সেই জুপিটারকেই ছেড়ে তিনি তার প্রতিপক্ষ অ্যাপোলোর সঙ্গে যুক্ত হন যা একপ্রকার জুপিটারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার নামান্তর বলে তাঁর মনে হয়। জুপিটারকে বিদায় জানানোর বেদনা ও তার প্রতিপক্ষদের শরণার্থী হওয়ার পাপবোধ তাঁর মর্মে আঘাত করতে থাকে এবং সেই বোধই অন্তরের মোচড়কে আশ্রয় করে তাঁর দু-চোখে প্রকাশ লাভ করে। অন্তরের বেদনা ও দোলাচলতাই তাঁর চোখ দুটিকে চিকচিকে করে তোলে।
৯. “ক্ষিতীশের একটা হাত তোলা। চোয়াল শক্ত” – ক্ষিতীশ সিংহের এই রকম প্রতিক্রিয়ার কারণ কী ?
উত্তর – মতি নন্দীর লেখা ‘কোনি’ উপন্যাসের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ থেকে উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত হয়েছে।
ক্ষিতীশের এরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ : ক্ষিতীশ অনেক অপমান সহ্য করে তাঁর দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের সম্পর্কযুক্ত জুপিটার ক্লাব ত্যাগ করেছিলেন। একটা নাড়ির সম্পর্ক ছিল ক্ষিতীশের এই ক্লাবের সঙ্গে। কিন্তু হরিচরণ মিত্তির, ধীরেন ঘোষ ও অন্যান্যদের দুরভিসন্ধিতে ক্ষিতীশকে জুপিটার ক্লাব ত্যাগ করতে হয় বাধ্য হয়েই। কিন্তু কোথায় যেন একটা ভালোবাসা, মমত্ব থেকেই গিয়েছিল। তাই সমস্ত রকম অপমান মেনে নিয়েও কোনিকে ভরতি করানোর জন্য সেই জুপিটার ক্লাবেই গিয়েছিলেন। বিশ্বাস ছিল তাঁর কথা ফেলবে না জুপিটার ক্লাব। কিন্তু হরিচরণ, প্রফুল্ল সামান্য অজুহাত দেখিয়ে ক্ষিতীশকে ফিরিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে অ্যাপোলো ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট নকুল ‘মুখুজ্জেকে বলে কোনিকে সেখানে ভরতি করান। তবে মনের যন্ত্রণাটা ক্ষিতীশ ভুলতে পারেন না। মনে হয়েছে জুপিটারের সঙ্গে বুঝি নেমকহারামি করা হল। রাতে ঘুম হল না ক্ষিতীশের। অ্যাপোলোতে যাওয়া উচিত হল না অনুচিত কাজ হল এই ভাবনায় তাঁকে দংশিত হতে হয়। সকালে উত্তেজিত ভেলো উপস্থিত হয় ক্ষিতীশের বাড়িতে। সে বলে যে, ক্ষিতীশদার অ্যাপোলোতে যোগ দেওয়া ঠিক কাজই হয়েছে। এটা যুদ্ধ। আর যুদ্ধে ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু নেই, শত্রু-মিত্র বাছবিচার করেও লাভ নেই। জুপিটারকে শায়েস্তা করা দরকার। আর নাড়ির সম্পর্ক-টম্পর্কগুলো একটু ভুলে যাও। এই কথা শুনেই ক্ষিতীশের মনে এরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।
১০. “ক্ষিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?”- বক্তা কে ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে তাদের সাহায্য করেছেন ? ১+৪ [MP ’20]
উত্তর – বক্তা: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনি হল উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা।
উদ্দিষ্ট ব্যক্তির সাহায্য: পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী কোনির দাদা কমলের মৃত্যুর পর ক্ষিতীশ ওরফে ক্ষিদ্দা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বিনা পারিশ্রমিকে কোনিকে সাঁতার শেখানোর দায়িত্ব তো ক্ষিতীশ আগেই নিয়েছিলেন। কমলের মৃত্যুর পর তিনি কোনিকে তাঁর স্ত্রী লীলাবতীর টেলারিং শপ ‘প্রজাপতি’-তে মাসিক চল্লিশ টাকা বেতনে কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন। কোনির খাবারদাবারের ব্যবস্থা করেছেন নিজের ঘরে। দর্জির দোকান থেকে কাপড়ের ছাঁট কিনে এনে তা থেকে সমান মাপের টুকরো কাপড় কেটে লন্ড্রির দোকানে সরবরাহ করে অর্থ উপার্জনের কাজে কোনির মা-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শামিল করেছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই কোনির পরিবার খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অনুভব করেছে- “আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভুবন ভরা।“
১১. “এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।” – কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে? কী কারণে এই পুষে রাখা ? ২+৩ [MP ’19]
[ অথবা], “এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক”- এটা বলতে কোনটা ? কেন তা বুকে পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে ? ২+৩
[ অথবা] , “এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।” – বুকের মধ্যে কী পুষে রাখার কথা এখানে বলা হয়েছে ? ক্ষিদ্দা কেন এটা পুষে রাখার কথা ভাবছেন ? ২+৩
[ অথবা], “এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।” – বুকের মধ্যে কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে ? এরকম ভাবনার কারণ সম্বন্ধে লেখো। ২+৩
উত্তর – যা পুষে রাখার কথা : মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের নবম অধ্যায়ে ক্ষিতীশ কোনিকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। ঘণ্টা তিনেক সেখানে ঘোরার পর কোনি আর ক্ষিতীশ বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া খাবার খেতে শুরু করেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে জল না থাকায় কোনি তাদের পাশে খেতে বসা ছাত্রীদলের কাছে জল চাইতে যায়, কিন্তু একজন দিদিমণি তাকে ফিরিয়ে দেন। পরে ওই দলের হিয়া মিত্র নামের একটি মেয়ে কোনিকে জল দিতে এলে কোনি আগের সাঁতার। প্রতিযোগিতায় করা অপমানের জবাব হিসেবে ওই জলের গ্লাস ফেলে দেয়। হিয়ার প্রতি কোনির যে আক্রোশ জলের গ্লাস ফেলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ পায়-সেটাকেই পুষে রাখার কথা আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে বলা হয়েছে।
বুকে পুষে রাখার কারণ : কোনি হিয়া মিত্রকে চিনত না, কিন্তু ক্ষিতীশ তাকে জানতেন। তিনি এও জানতেন যে হিয়া সাঁতারে কোনির থেকে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ক্ষিতীশ মনে করেছেন- “হিয়াই যে কোনির ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী।” তাই হিয়ার হাতের জলের গ্লাস ফেলে দেওয়াতেও ক্ষিতীশ কোনিকে কিছু বলেননি। কারণ, হিয়ার প্রতি ওই হিংস্র আক্রোশটাই সাঁতার প্রতিযোগিতার সময় কোনিকে হিয়ার থেকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই হিয়াকে হারিয়ে অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার বাসনা জাগিয়ে রাখার জন্যই ক্ষিদ্দা এটা পুষে রাখতে চেয়েছেন।
Click Here – জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর
১২. “তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে।”- কোন প্রসঙ্গে কার এই মন্তব্য ? মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।২+৩
উত্তর- প্রসঙ্গ : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিতীশ ওরফে ক্ষিদ্দা কোনিকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন। কোনি শ্যামপুকুর বস্তির মেয়ে। হতদরিদ্র, তার গায়ের রঙ কালো। এজন্য সভ্যসমাজের মুখোমুখি হতে সে সংকোচবোধ করে। তার কাছে বড়োলোক মাত্রই নাক উঁচু-“বড়োলোকরা গরিবদের ঘেন্না করে।”
কমলের মৃত্যুর পর ক্ষিতীশ কোনিকে ‘প্রজাপতি’-তে কাজে বহাল করেছিলেন। সেখানেই একদিন অমিয়া আসে ব্লাউজ করাতে। কোনিকে দেখে সবার সামনেই জানতে চায়, সে ওখানে ঝিয়ের কাজ করে কিনা। কোনি ভীষণ লজ্জা পেয়েছিল। এরপর কোনি ক্ষিতীশকে অনুরোধ করে বৌদিকে বলে তাকে খাতায় মাপ লেখার কাজটা দিতে। তাহলে সে রোজ হাতের লেখা প্র্যাকটিস করবে। ক্ষিতীশ তাতে সম্মতি জানিয়ে বলেন যে, এভাবে কাউন্টারের ওধারে বসে সে হয়তো খানিকটা লজ্জা জয় করতে পারে, কিন্তু পুরোটা তাকে জিততে হবে ক্ষমতা দিয়ে। এরপরই ক্ষিতীশ উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন।
তাৎপর্য: খেলোয়াড়েরাও তাদের খেলার জগতে স্বচ্ছন্দ। তাদের গর্ব, লজ্জা খেলাকে ঘিরেই আবর্তিত। কোনি একজন সাঁতারু। সাঁতারে জয়-পরাজয় তার জীবনে গর্ব কিংবা লজ্জা ডেকে আনবে। সে যদি কম্পিটিশন জেতে তাহলে গর্বে ফুলে উঠবে বুক, যদি হেরে যায় তাহলে লজ্জিত হতে হবে তাকেই। ব্যক্তিজীবনে কিংবা সমাজজীবনে সে কী কাজ করছে, তাতে তার লজ্জা কিংবা গর্বের কোনো ব্যাপার নেই। ক্রীড়াঙ্গনে গিয়ে সে কেমন পারফর্ম করছে তার ওপরেই নির্ভর করছে তার লজ্জা এবং গর্ব। ডাঙায় নয়, জলেই কোনির লজ্জা এবং গর্ব।
১৩. “অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।” – কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল তা সংক্ষেপে লেখো। [MP ’18]
উত্তর – প্রতিভা, পরিশ্রম ও প্রতিবন্ধকতা : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে বাংলা সাঁতার দলে কোনির জায়গা হয়েছে বহু প্রতিকূ লতা পেরিয়ে। কোনি যে প্রতিভাবান তা ক্ষিতীশ গঙ্গার ঘাটে কোনিকে সাঁতার কাটতে দেখেই বুঝেছিলেন। তার একরোখা একাগ্রতার আভাস পেয়েছিলেন অবিরাম কুড়ি ঘণ্টা হাঁটা প্রতিযোগিতায়। তাই তিনি কোনিকে বিনা পারিশ্রমিকে প্রশিক্ষণ দিতে রাজি হয়েছেন। জুপিটারে জায়গা না হওয়ায় অ্যাপোলোতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। মাঝখানে মারা গেছে কোনির দাদা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। ক্ষিতীশ কোনি ও তার পরিবারের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। কড়া অনুশীলনে কোনিকে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু ক্ষিতীশের ছাত্রী হওয়ার জন্য জুপিটারের কর্মকর্তাদের আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে কোনিকে। অশিক্ষা, দারিদ্র্যও তার প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছে। স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। ফ্রেন্ড, ফিলোজফার এবং গাইড ক্ষিতীশ কিন্তু তাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
প্রণবেন্দু বিশ্বাসের সহযোগিতা বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের প্রশিক্ষক এবং হিয়ার কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কোনির দিকে। সংকীর্ণ দলাদলি, ব্যক্তিগত প্রতিশোধস্পৃহার ঊর্ধ্বে উঠে তিনিই ঘোষণা করেছেন-“বেঙ্গলের স্বার্থেই কনকচাঁপা পালকে টিমে রাখতে হবে।“ তাঁর জহুরির চোখ কোনির প্রতিভাকে সহজেই চিনে নিয়েছে। তিনি পরিষ্কার বুঝতে পেরেছেন, মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে থামাতে এবং স্প্রিন্ট ইভেন্টে সোনা পেতে গেলে কোনিই হবে তুরুপের তাস। তাই কোনিকে দলে না নিলে তিনি নিজের ক্লাবের সাঁতারুদের নাম তুলে নেওয়ারও হুমকি দেন। প্রতিভা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রণবেন্দুর আন্তরিক প্রচেষ্টা কোনিকে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা করে দেয়।
১৪. স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত হয়েছিল, তার পরিচয় দাও ।
উত্তর – বাঙালিদের সম্পর্কে সবচেয়ে বড়ো অভিযোগ-তারা নাকি কাঁকড়ার জাত। কাউকে টেনে নামাতে ওস্তাদ। সমগ্র বাঙালি জাতি সম্পর্কে না হোক, অন্তত ধীরেন ঘোষ, হরিচরণদের সম্পর্কে এ অভিযোগ অক্ষরে অক্ষরে সত্য। বস্তির এক হতদরিদ্র মেয়ে আর ক্ষিতীশের শিষ্যা বলে কোনিকে সহ্য করতে হয়েছে অজস্র লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অখেলোয়াড়োচিত আচরণ আর প্রতারণা। অন্য ব্যাপারে শত বিরোধ থাকলেও এ ব্যাপারে ক্ষিতীশ বিরোধীরা সবাই হাতে হাত মিলিয়েছে।
স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে চক্রান্ত: স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয় । –
(ক) ব্রেস্ট স্ট্রোকের ১০০ মিটারে কোনি ও হিয়া একই সঙ্গে টার্ন নেয়। কিন্তু বদু চাটুজ্জে লাল ফ্ল্যাগ নেড়ে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করেছেন। কারণ কোনি নাকি টার্ন করেই আন্ডার ওয়াটার ডাবল কিক নিয়েছে।
(খ) ফ্রি স্টাইল ইভেন্টে কোনি ফিনিশিং বোর্ড ছোঁয় প্রথমে। তারপরে হাত ছোঁয়ায় অমিয়া। অথচ প্রথম হিসেবে ঘোষিত হয় অমিয়ার নাম।
(গ) ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে ব্যাক স্ট্রোকে অমিয়াকে ধরে ফেলে কোনি টার্ন নিতে যজ্ঞেশ্বর ভাজ ফলটি টার্ন নেওয়ার অভিযোগে লাল ফ্ল্যাগ তোলেন। কোনির পদক জেতার আশা সফল হয় না।
(ঘ) পরের দিন হান্ড্রেড মিটারে কোনি আর অমিয়ার মাঝখানে রাখা হয় ইলাকে। বোর্ড ছুঁয়ে সবার আগে টার্ন নেয় কোনি। কিন্তু ইলা কোনির লেনে ঢুকে পড়ে ধাক্কা মারে তাকে। কয়েক সেকেন্ড নষ্ট হওয়ার পর কোনি অবিশ্বাস্য সাঁতার কেটেও বেলার সঙ্গে তৃতীয় হয়। ইলাকে কোনির লেনে ঢুকিয়ে দেওয়ার মধ্যেও ক্ষিতীশ চক্রান্তের গন্ধ পেয়েছেন।
১৫. “কোনি তুমি আনস্পোরটিং”- কোনিকে আনস্পোরটিং বলার কারণ কী ? কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ২+৩
উত্তর- কোনিকে আনস্পোরটিং বলার কারণ : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে হিয়া কোনিকে ‘আনস্পোরটিং’ বলেছে। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে কৌশলে কোনির নাম বাদ দিয়ে তাকে বসিয়ে রেখেছিল ধীরেন ঘোষ, হরিচরণরা। রিলে রেসের আগে অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে প্রণবেন্দু বিশ্বাসের চাপে কোনিকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হিয়া কোনিকে ডাকতে আসে। কোনি রিলে রেসে নামতে অস্বীকার করে। অভিমানিনী কোনির বক্তব্য, জোচ্চুরি করে তাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে তাকে ডাকতে আসা হয়েছে। সে বেঙ্গলকে ভালোবাসে না আর হিয়া এসেছে তার নিজের আর একটা গোল্ড পাওয়ার জন্য-যাতে সে রমা যোশিকে টপকে যায়। এই কথা শুনে হিয়া কোনিকে ‘আনস্পোরটিং’ বলেছে।
কথাটির তাৎপর্য: ‘আনস্পোরটিং’ শব্দের অর্থ হল-‘অখেলোয়াড়সুলভ’। খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত লাভালাভের কথা ভুলে গিয়ে দলের জন্য মরণপণ লড়াই করতে হয়। একেই বলে ‘স্পোর্টিং স্পিরিট’। কোনির কাছে চড় খাওয়ার পরেও হিয়া বেঙ্গলের স্বার্থে সেই স্পিরিট দেখিয়েই কোনিকে ডাকতে এসেছে। কিন্তু হিয়ার এই ভাবাবেগের মূল্য ক্ষুব্ধ, অভিমানী কোনির কাছে সেই মুহূর্তে ছিল না। তাই হিয়া তাকে ‘আনস্পোর্টিং’ বলেছে, যদিও পরে কোনি সমস্ত মান-অভিমান ভুলে জলে নেমে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে ‘আনস্পোরটিং’ বদনামকে আছাড় মেরে ফেলে দিয়েছে চিপকের সুইমিং পুলে।
Click Here – অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
১৬. “ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।” – বক্তা কে ? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর – বক্তা: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন ক্ষিতীশ সিংহ ওরফে ক্ষিদ্দা।
তাৎপর্য: কষ্ট না করলে অভীষ্ট মেলে না। সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। পরিশ্রম করো, ঘাম ঝরাও, একাগ্র হও-সাফল্য আসবেই। তবে কোনির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একটু অন্যরকম। বস্তির হতদরিদ্র মেয়ে আর ক্ষিতীশের শিষ্যা বলে শ্রম, একাগ্রতার পাশাপাশি, তাকে লড়াই করতে হয়েছে দারিদ্র্য, বঞ্চনা, বড়োলোকের অপমানের বিরুদ্ধেও। জুপিটার তাকে সাঁতার কাটতে দেয়নি, কম্পিটিশনে নামতে দেয়নি, স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজে এসেও সহ্য করতে হয়েছে কোনো ইভেন্টে নামতে না পারার যন্ত্রণা, সঙ্গী-সাথীদের নিপীড়ন আর গঞ্জনা। তা-ও অমিয়ার পরিবর্ত হিসেবে নেমে অসীম যন্ত্রণা বুকে চেপেও সে সিদ্ধিলাভ করেছে। বেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করেছে।
অন্যদিকে জুপিটার থেকে নির্বাসিত হয়ে কোনিকে সাঁতার শেখাতে গিয়ে ক্ষিতীশকে সহ্য করতে হয়েছে অপরিসীম যন্ত্রণা। তিনি সংসার ভুলেছেন, বিসর্জন দিয়েছেন বিলাসব্যসন। অমিয়ার কোনিকে ঠেস দিয়ে বলা পা ধোয়া জল খাওয়ানোর কথা তো আসলে ক্ষিতীশকেই বিদ্ধ করেছে। গঙ্গা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটার সঙ্গে ডন ফ্রেজারের তুলনা টেনে বদু চাটুজ্জের টিপ্পনীও তাকে রক্তাক্ত করেছে। এর সঙ্গে মিশেছে স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির সঙ্গে ঘটা চক্রান্তের যন্ত্রণা। এই যন্ত্রণাই তাঁকে আরও একাগ্র করেছে, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করেছে। একটু একটু করে তিনি কোনিকে ইস্পাতে পরিণত করেছেন।
১৭. “জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছ আমার কাছে”- কোনির এই অভিমানের কারণ কী ? এর পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করো। ২+৩ [MP’ 17]
উত্তর – অভিমানের কারণ : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে অনেক বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত কোনি জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় রাজ্যদলে নির্বাচিত হয়। কিন্তু ধীরেন ঘোষ, হরিচরণের মতো যারা ক্ষিতীশ সিংহের বিরোধী ছিলেন তারা কোনিকে কোনো প্রতিযোগিতায় না নামিয়ে বসিয়ে রাখেন। তবে ৪×১০০ রিলের আগে অমিয়ার পেটে ক্র্যাম্প ধরায় রিলে দলে একজন লড়াকু মেয়ের প্রয়োজন হয়েছিল। সেই সময় কোনিকে হিয়া তৈরি হয়ে রিলেতে নামতে বললে, কোনির প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছিল সে বিষয়ে কোনি নিজের অভিমান উগরে দিয়ে প্রশ্নোদ্ভূত কথাটি বলে।
হিয়ার অনুরোধ সত্ত্বেও কোনি যখন রিলেতে নামতে সম্মত হয়নি তখন হিয়া কোনিকে ‘আনস্পোরটিং’ বললে কোনির খেলোয়াড় সত্তায় আঘাত লাগে। হিয়ার কস্টিউম পরে সে রিলে দলে নামে। রিলে দলে কোনি ছিল চতুর্থ সদস্য সুতরাং তার ওপরে দলের জেতা-হারা অনেকটাই নির্ভর করছিল। অন্যদিকে বাংলার প্রতিদ্বন্দ্বী মহারাষ্ট্র দল যথেষ্ট দক্ষ ছিল।
পরবর্তী ঘটনার বর্ণনা : যদিও কোনির আগের তিনজন সদস্য-হিয়া, সাধনা ও বেলা কোনিকে সুবিধাজনক জায়গায় শুরু করবার সুযোগ করে দিল তবুও কোনি নিজের মধ্যের সমস্ত ক্ষমতাকে একত্রিত করে ঝাঁপিয়ে পড়ল জলে। ঠিক সেই মুহূর্তে ক্ষিতীশ সেখানে পৌঁছানোতে সে মনে নতুন বল পেয়েছিল। সে টাইমকিপারদের ঘড়ির সময়কে তাড়া করে যেন কালো প্যান্থারের মতো এগিয়ে চলে। রমা যোগীর সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে শেষ দশ মিটারে সে নিজের যন্ত্রণাকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ফিনিশিং বোর্ড স্পর্শ করে রমা যোশীর আগেই। বাংলা দল চ্যাম্পিয়ন হয় কোনির এই দুরন্ত পারফর্মেন্সের কারণেই।
১৮. ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য যে কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন, তার পরিচয় দাও ।
[ অথবা], ক্ষিদ্দা কীভাবে কোনির জীবনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল সে সম্পর্কে আলোচনা করো। [MP ’17]
[ অথবা ], কোনির জীবনে প্রশিক্ষক ক্ষিতীশের ভূমিকা আলোচনা করো । [ MP’18 ]
উত্তর – কোনিকে সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য তিনি কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছেন। যেমন –
(ক) ট্রেনিং শিডিউল: ক্ষিতীশের জহুরির চোখ কোনির মধ্যে সুপ্ত সম্ভাবনার আঁচ পেয়েছে। তাই চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাকে তৈরি করার জন্য প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছ-টা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করেছেন। দু-সপ্তাহের মধ্যে তিনি কোনিকে সাঁতারের বিভিন্ন নিয়ম শিখিয়ে দিয়েছেন।
(খ) কৌশল: ক্ষিতীশ বুদ্ধিমান, কুশলী। তাই কোনিকে আরও এক ঘণ্টা জলে রাখার জন্য তিনি মোক্ষম উপায় বার করেছেন। কোনিকে তিনি প্রতিদিন দুটো ডিম, দুটো কলা আর দুটো টোস্টের লোভ দেখিয়েছেন। কস্টিউম কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে খাটানো অমানবিক জেনেও তিনি কোনির ভবিষ্যতের স্বার্থেই এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।
(গ) কঠোরতা: পরিশ্রমে, যন্ত্রণায় কোনি কাতর হয়ে পড়লেও ক্ষিতীশ কোনির প্র্যাকটিসে অবহেলাকে প্রশ্রয় দেননি। বাঁশের লগা নিয়ে কোনির দিকে তেড়ে গেছেন। তার মাথা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। শীতকালেও কোনির অনুশীলন অব্যাহত রেখেছেন। ফ্রি স্টাইল, বাটার ফ্লাই, ব্যাকস্ট্রোক এবং ব্রেস্ট-স্ট্রোক-এই চাররকমের স্টাইল মিলিয়ে কোনিকে প্রতিদিন দু-মাইল হাড়ভাঙা সাঁতার কাটতে বাধ্য করেছেন। ফ্রি স্টাইল হান্ড্রেড মিটার সত্তর সেকেন্ডে কমপ্লিট করার জন্য কোনির সামনে কড়া টার্গেট দিয়েছেন।
(ঘ) কোমলতা: কোনির অনুশীলনে ক্ষিতীশ কখনো ‘বজ্রাদপি কঠোরানি’, কখনো ‘মৃদুনি কুসুমাদপি’। কোনির স্বাস্থ্যের দিকেও তিনি কড়া নজর রেখেছেন। কোনি যাতে পুষ্টিকর খাবারদাবার পায়, তার জন্য নিজের বাড়িতে তার খাবারের ব্যবস্থা করেছে। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, ওয়েট ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করেছেন। ক্ষিতীশের তত্ত্বাবধানেই কোনির কঞ্চির মতো শরীরের ওজন বেড়ে দাঁড়িয়েছে পঞ্চাশ কেজি।
(ঙ) মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর: চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মনের পুষ্টিও জরুরি। ক্ষিতীশ তার ব্যবস্থাও করেছেন। তিনি কোনিকে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে নিয়ে গেছেন। মানুষের ইচ্ছাশক্তি, সময়কে হার মানানোর মরিয়া প্রচেষ্টার কথা বলে কোনিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। রাত জেগে যাত্রা দেখার আমোদ থেকে তাকে বিরত করেছেন।
এভাবেই শাসনে, সোহাগে ক্ষিতীশ কোনিকে ইস্পাতের মতো মজবুত করে তুলেছেন। বস্তির কালো মেয়ে কোনি হয়ে উঠেছে ভারতের আলো।
১৯. দারিদ্র্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই তা সংক্ষেপে আলোচনা করো। ৫
[ অথবা], কোনির সাঁতার শুধু জলে নয়, দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধেও – ‘কোনি’ উপন্যাস অবলম্বনে মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ৫
[ অথবা], “ফাইট, কোনি ফাইট”- সাধারণ সাঁতারু থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠতে গিয়ে কোনিকে কী ধরনের ‘ফাইট’ করতে হয়েছিল, নিজের ভাষায় লেখো। [MP ’20]
[ অথবা], “সব পারে, মানুষ সব পারে… ফাইট, কোনি ফাইট” -এই মন্ত্র কোনির জীবনে কীভাবে কাজ করেছে, তা লেখো।
[ অথবা] , “মানুষের ক্ষমতার সীমা নেই রে, ওরা বলছে, বলুক”- ক্ষিদ্দার এই বক্তব্য কোনির জীবনের ক্ষেত্রে কতখানি সত্য হয়েউঠেছিল, তা আলোচনা করো।
উত্তর – মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের নাম চরিত্রটির ক্ষেত্রে উপরোক্ত কথাগুলি অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। সত্যিই কোনি জাত ফাইটার। কেউ কেউ বিখ্যাত হয়েই জন্মায়, ভাগ্য কাউকে বিখ্যাত করে। এদের গল্প ততটা হৃদয় আকর্ষণ করে না। যারা প্রবল প্রতিকূলতাকে দুপায়ে দলিত মথিত করে বিখ্যাত হয়ে ওঠে, তারাই হয় পাঠকের নয়নের মণি। সেরকমই এক চরিত্র কোনি।
(ক) আম কুড়োনোর লড়াই: বারুণী তিথিতে গঙ্গাস্নানে গিয়ে ক্ষিতীশ প্রথম দেখে কোনিকে। আমের দখল নিয়ে সে সমানে সমানে লড়াই করেছে ভাদুর সঙ্গে। আম হাসিল করেই সে দম নিয়েছে। গঙ্গার ঘাটের পুণ্যার্থী বৃদ্ধ তাকে সঠিক অভিধায় ভূষিত করেছে- ‘মেয়েমদ্দানি’। ক্ষিতীশেরও অবচেতন মনে দাগ কেটেছে কোনির এই ফাইট। তাই সে আপনমনেই বিড়বিড় করেছে – “কোনি। কো ও ও নি।”
(খ) হাঁটা প্রতিযোগিতা: কুড়ি ঘণ্টা অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতাতেও বৈশাখের ভয়ংকর রোদ উপেক্ষা করে কোনি শেষ পর্যন্ত টিকে থেকেছে। হাতে কিছু নিয়ে না গেলে মা মেরে ফেলবে-এই তাগিদ তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে।
(গ) রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার প্রতিযোগিতা: সাঁতারের ব্যাকরণ না জেনেই কোনি এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই সবার শেষে পৌঁছেছে। মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে হিয়া মিত্র। হেরে যাওয়ার যন্ত্রণায় কোনি কেঁদে ফেলেছে।
(ঘ) জুপিটার ক্লাবের অসহযোগিতা : অসহায়, অজ্ঞ কোনি এবার সান্নিধ্য পেয়েছে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশের। কিন্তু জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতায় তার সাঁতার শেখায় বাধা এসেছে। বাধ্য হয়ে ক্ষিতীশ তাকে অ্যাপোলোয় এনেছে। জুপিটারের কম্পিটিশনেও কৌশলে কোনির নামটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
(ঙ) সীমাহীন দারিদ্র্য: কোনি বস্তির মেয়ে। তার লড়াই সীমাহীন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধেও। তাদের পরিবারে মা ছাড়াও সাত ভাইবোন। মেজো ভাই মারা গেছে ইলেকট্রিক শক খেয়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বড়ো ভাই কমলও মারা গেছে যক্ষ্মায়। কোনির হৃদয় নিংড়ানো আর্তি-“ক্ষিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?” যার পেটে ভাত নেই, ডিম-কলা তো তার কাছে বিলাসিতা। কোনি তাই টিফিনের পরিবর্তে ক্ষিতীশের কাছে প্রতিদিন এক টাকা করে চেয়ে নিয়েছে।
(চ) স্টেট ও ন্যাশনাল চ্যাম্পয়নশিপে প্রতারণা: স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে চক্রান্তের শিকার হয়ে কোনি দু-বার ডিসকোয়ালিফাই হয়েছে। প্রথম হয়েও দ্বিতীয় বলে ঘোষিত হয়েছে। হান্ড্রেড মিটারে কোনির পাশে ইলাকে নামিয়ে তাকে দিয়ে কোনিকে আহত ও ট্র্যাকচ্যুত করার চেষ্টা হয়েছে। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজে তাকে কৌশলে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
(ছ) সতীর্থদের লাঞ্ছনা: অ্যাপোলো ক্লাবে প্র্যাকটিসের সময় কোনিকে দেখে অমিয়া ব্যঙ্গের হাসি হেসে বলেছে- “কম্পিটিশনে পড়লে মেয়েটা তো আমার পা ধোয়া জল খাবে।” ক্রিম চুরির অপরাধে বেলা কোনিকে চড় মেরেছে, ‘তুই মস্তো লেখক হবি’ বলে ব্যঙ্গ করেছে।
(জ) কোনির ফাইট: ছাই দিয়ে আগুন চাপা যায় না, সাত পরত কাপড় চাপা, দিয়েও হীরের দ্যুতিকে ম্লান করা যায় না। সবার অলক্ষে ক্ষিতীশের কঠোর অনুশীলন কোনিকে লোহা থেকে ইস্পাতে পরিণত করেছে। জুপিটারের কম্পিটিশনে অ্যাপোলোর প্ল্যাটফর্ম থেকে সাঁতার কেটেই সে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছে। ন্যাশনাল মিটে অমিয়ার পরিবর্ত হিসেবে নেমে নিশ্চিত হারের মুখ থেকে বাঁচিয়ে বেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ভারতসেরা রমা যোশিও তার কাছে হার মেনেছে।
Click Here – পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর
২০. ‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিতীশের চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর – ‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিতীশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মধ্য দিয়েই ক্ষিতীশের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের চোখে ধরা পড়ে।
(ক) স্বাস্থ্য সচেতন : ক্ষিতীশ শরীরস্বাস্থ্য সম্পর্কে খুবই সচেতন। তিনি নিজেও যেমন খাওয়া দাওয়া বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন তেমনি অপরের শরীর যেমন স্ত্রী লীলাবতী ও হঠাৎ গঙ্গার ধারে দেখা বিষ্টু ধরকে শরীর সম্পর্কে নানান নির্দেশ দিয়েছেন।
(খ) যোগ্য প্রশিক্ষক : ক্ষিতীশ ছিলেন যোগ্য সাঁতার প্রশিক্ষক। জহুরী যেমন জহর চেনে, তেমনি ক্ষিতীশ চিনেছিলেন কোনিকে। তাঁরই হাতে তৈরি হয়ে কোনি বাংলা জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতাকে শীর্ষে তুলে দিয়েছিল।
(গ) স্পষ্টবাদী : ক্ষিতীশ স্পষ্টবাদী, মর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ। জুপিটার ক্লাব তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সভা করলে ক্ষিতীশ মাথা উঁচু করে ক্লাবের সভ্যদের যোগ্য জবাব দিয়ে ক্লাব ছেড়ে ছিলেন।
(ঘ) মানবিকচিত্তের মানুষ : ক্ষিতীশ এক মানবিক চিত্তের মানুষ। কোনিদের পরিবারের কোনিকে নিজের দোকানে কাজ দিয়ে কিছু অর্থের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন।
(ঙ) জেদি প্রকৃতির : ক্ষিতীশ ছিলেন একটু জেদি প্রকৃতির। তবে সে জেদ ভালো কিছু করার। তার জেদই কোনিকে কঠোর অনুশীলন করিয়ে বাংলার ও নিজের সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
(চ) তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী : ক্ষিতীশ তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী। কৌশলে বিষ্টধরকে নিজের অনুকূলে আনা তারই দৃষ্টান্ত ।
(ছ) উন্নত মানের মানুষ : ক্ষিতীশ সহজ সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত উন্নত মনের ও মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার ও অন্যকে বেঁচে থাকতে সাহায্যকারী উদার মনের এক মানুষ।
২১. ‘কোনি’ উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে স্বামীর যোগ্য সহধর্মিণী রূপে লীলাবতীর পরিচয় দাও। [MP ’19]
[ অথবা], ‘কোনি’ উপন্যাসে লীলাবতীর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর – প্রত্যেক সফল পুরুষের পিছনে থাকেন একজন নারী-কথাটা মিথ্যে নয়। লীলাবতী তার দর্শনীয় নিদর্শন। প্রশিক্ষক হিসেবে ক্ষিতীশের সাফল্যে তাঁর অবদান নেহাত কম নয়।
(ক) সহধর্মিণী: ক্ষিতীশের যোগ্য সহধর্মিনী লীলাবতী। স্বামীর জীবন দর্শনকেই তিনি মেনে নিয়েছেন। সপ্তাহে ছ-দিন সিদ্ধ খাবার খেয়েছেন। কাজের উপযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বামীর পরামর্শেই কোনিকে ‘প্রজাপতি’-তে নিযুক্ত করেছেন।
(খ) দৃঢ়চেতা: ‘ছোট্টখাট্ট, গৌরবর্ণা এবং গম্ভীর’ লীলাবতীর মানসিক দৃঢ়তা অসাধারণ। স্বামীর এঁটো থালায় খাওয়ার ব্যাপারে ক্ষিতীশ আপত্তি জানালেও লীলাবতী তা মানেননি। অনমনীয় একাগ্রতায় নিজের গহনা বন্দক রেখে তিনি ‘প্রজাপতি’-কে ডানা মেলতে সাহায্য করেছেন। সংসারে কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্য এনেছেন।
(গ) মাতৃসত্তা: লীলাবতী সন্তানহীন। তাই তাঁর সমস্ত স্নেহ তিনি ঢেলে দিয়েছেন পোষা বেড়াল বিশু ও খুশির ওপর। আবার ধীরে ধীরে কোনির উপরেও তিনি মাতৃস্নেহে আবিষ্ট হয়েছেন।
(ঘ) সংবেদনশীল: দোকান খুলতে দেরি হলে কোনির ওপর রেগে উঠে ‘বেরিয়ে যাও’ বললেও সেই রাগ তাঁর স্থায়ী হয়নি। খাওয়া-দাওয়া ছাড়াও লীলাবতী দোকানে কাজ করার জন্য কোনিকে মাসিক চল্লিশ টাকা বেতনও দেন। জুপিটার ক্লাবের কম্পিটিশনে কোনির পারফরমেন্স তিনি আড়াল থেকে দেখেছেন। কোনির ওপর খুশি হয়ে ফ্রক বানিয়ে দিয়েছেন। ইন্ডিয়া রেকর্ড করলে সিল্কের শাড়ি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবার ভেলোকে খেয়ে যাওয়ার কথা বলার মধ্য দিয়েও তাঁর সংবেদনশীলতা স্পষ্ট।
(ঙ) পরিশ্রমী: সাঁতার-পাগল ক্ষিতীশের হাতে পড়ে যে ‘প্রজাপতি’ ধুঁকতে শুরু করেছিল, শক্ত হাতে হাল ধরে চার বছরের মধ্যে লীলাবতী তাকে নতুন প্রাণ দিয়েছেন। হাতিবাগানে একটা ঘর নেওয়ার জন্য সেলামির পাঁচ হাজার টাকা জোগাড় করেছেন। ক্ষিতীশের তাঁকে সমীহ করে চলার মধ্যেও পরিশ্রমী, নিজের লক্ষ্যে স্থির এই মেয়েটির প্রতি নিঃশব্দ কুর্নিশ ঝরে পড়েছে।
২২. “কোনি’ উপন্যাসে কোনির চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর – মতি নদীর ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
(ক) ফাইটার: জীবন একটা বক্সিং রিঙের মতো। প্রতিকূলতা সেখানে প্রতিপক্ষ। তাকে ঘুসি মেরে কাত করতে পারলেই জেতা সম্ভব। কোনি তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছে। গঙ্গায় আম কুড়োনো, কুড়ি ঘণ্টা অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতা, জুপিটারের কর্মকর্তাদের তীব্র অসহযোগিতা, সীমাহীন দারিদ্র্য, স্টেট ও ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতারণা, সতীর্থদের লাঞ্ছনা, গঞ্জনা-কোনো কিছুই কোনিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। জাত ফাইটারের মতোই সে এই সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। জয়ী হয়েছে।
(খ) সহিষ্নুতা : মা, সাত ভাইবোনের চরম অভাবের সংসারে কোনি তাই ডিম-কলার পরিবর্তে চাল কেনার জন্য ক্ষিতীশের কাছে টাকা চেয়েছে। যন্ত্রণা, তা সে শরীরের হোক বা মনের, কোনি তাকে জয় করেছে। ক্ষিতীশ তাকে শিখিয়েছে, যন্ত্রণাকে পুষে রেখে তাকে দিয়েই বাজিমাত করার মন্ত্র।
(গ) একাগ্রতা: কুড়ি ঘণ্টা হাঁটা থেকে শুরু করে সাঁতারের সমস্ত স্কিল একটু একটু করে আয়ত্ত করে নেওয়া-কোনির সমস্ত কাজেই আছে সুনিবিড় একাগ্রতা। সারা বছর ধরে সে ক্ষিদ্দার তত্ত্বাবধানে কমলদীঘির জল তোলপাড় করেছে। চার রকমের স্ট্রোক মিলিয়ে প্রতিদিন দু’মাইল করে সাঁতার কেটেছে। কঞ্চির মতো শরীরের ওজন বাড়িয়েছে পঞ্চাশ কেজি। যাত্রার মতো মনোরঞ্জনের গলি থেকে সরে এসেছে।
(ঘ) অভিমানী : প্রতিভাবান আর পাঁচজন মানুষের মতো কোনিও তীব্র অভিমানী। রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় হিয়ার কাছে হারের স্মৃতি কোনি জীবনে ভোলেনি। তাই হিয়ার দেওয়া জলের গ্লাস সে ছুড়ে ফেলেছে। মাদ্রাজে সবার কাছে চুরির অপবাদ শুনে সে চুপ করে থেকেছে কিন্তু হিয়াকে চড় মেরে প্রতিশোধ নিয়েছে।
(ঙ) যোদ্ধা: কোনি-একটি প্রতিজ্ঞার নাম। কোনি-একজন যোদ্ধার নাম, গ্ল্যাডিয়েটরের মতোই আমরণ সংগ্রামের নাম। জুপিটার ক্লাবের কম্পিটিশনে সুযোগ না পেয়ে অ্যাপোলোর প্ল্যাটফর্ম থেকেই সে বাজিমাত করেছে। স্টেট মিটে হান্ড্রেড মিটারে ইলার কাছে বাধা পেয়েও শেষ চল্লিশ মিটার সে যেভাবে শেষ করেছে তাতে প্রণবেন্দুর জহুরীর চোখ বুঝে নিয়েছে ‘স্প্রিন্ট ইভেন্টে ওর সমকক্ষ এখন বাংলার কেউ নেই’। মাদ্রাজে তাকে বসিয়ে রাখার যন্ত্রণা সে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করেছে।
(চ) কোনি কি আনস্পোরটিং? : হিয়া কোনিকে ‘আনস্পোরটিং’ বলেছে। কিন্তু এ কথা সত্য নয়। তাহলে স্টেট মিটে প্রতারণার শিকার হয়ে সে চুপ করে থাকত না। ন্যাশনাল মিটে তাকে বসিয়ে রাখার যন্ত্রণাও মুখ বুজে মেনে নিত না। সে জানে খেলোয়াড়দের জীবনে হার-জিত আছেই, লবিবাজিও সত্য।
২৩. কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচয় দাও । [ MP’17 ]
উত্তর – সমাজে যাদের স্থান নীচের তলায়, তথাকথিত ভদ্ররা যাদের গুরুত্ব দিয়ে পছন্দ করে না কোনি তাদেরই একজন। সে বস্তির মেয়ে। শ্যামপুকুর বস্তির এঁদো গলিতে তার বাস।
(ক) সদস্য সংখ্যা: কোনির বাবা মারা গেছেন যক্ষ্মায়। কোনির পরিবারের সদস্য সংখ্যা তার মাকে নিয়ে আটজন। মেজো ভাই মারা গেছে ইলেকট্রিক শক খেয়ে। সেজো ভাই থাকে পিসির বাড়িতে। কোনির পরেও দু-বোন এবং এক ভাই আছে। বড়ো ভাই হিসেবে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব কমলের ওপর।
(খ) অর্থনৈতিক অবস্থা ও পরিবেশ: কোনিদের পারিবারিক অবস্থা শোচনীয়। শ্যামপুকুর বস্তিতে গিয়ে ক্ষিতীশ দেখেছে, কোনিরা আহারে ব্যস্ত। খাবার বলতে কয়েকটা কাঁচা লংকা, কাঁচা পেঁয়াজ, ফ্যান, তার মধ্যে কিছু ভাত আর তেঁতুল। পাঁচটি প্রাণী কলাই আর অ্যালুমিনিয়ামের থালা নিয়ে বসে। ঘরে একটা তক্তপোশ। তাতে তোশক নেই, তেলচিটচিটে কয়েকটা বালিশ। দেয়ালে টাঙানো দড়িতে কয়েকটা ময়লা জামা-প্যান্ট। খোলার চালের ঘরে একটিমাত্র জানালা। তার নীচেই থকথকে পাঁকে ভরা নর্দমা।
(গ) পারিবারিক উপার্জন: কোনির বাবা প্যাকিং কারখানায় কাজ করতেন। বড়ো সাঁতারু হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও বাবার মৃত্যুর পর কমল রাজাবাজারে মোটর গ্যারেজে কাজে যোগ দিয়েছিল। ওভারটাইম করে শ-দেড়েক টাকা উপার্জন করত। তাতেই সংসার চলত। এক ভাইকে কমল চায়ের দোকানে পনেরো টাকা বেতনে কাজে লাগিয়েছিল। কোনিকেও সুতো কারখানায় ষাট টাকা বেতনে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। কমলের মৃত্যুর পর কোনিরা যখন অসহায়, তখন ক্ষিতীশ তাদের সংসারের হাল ধরেন।
(ঘ) ক্ষিতীশের সহায়তা ও উত্তরণ: ক্ষিতীশ তাঁর স্ত্রী লীলাবতীর টেলারিং শপ ‘প্রজাপতি’-তে কোনিকে মাসিক চল্লিশ টাকা বেতনে কাজে লাগিয়েছেন। কোনির খাবারদাবার ব্যবস্থা করেছেন নিজের ঘরে। দর্জির দোকান থেকে কাপড়ের ছাঁট কিনে এনে তা থেকে সমান মাপের টুকরো কাপড় কেটে লন্ড্রির দোকানে সরবরাহ করে অর্থোপার্জনের কাজে কোনির মা-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সামিল করেছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই কোনির পরিবার খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কোনিও চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন –
নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর
YouTube –Samim Sir