নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) //  Nodir Bidroho Question Answer Class 10 // WBBSE

নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) //  Nodir Bidroho Question Answer Class 10 // WBBSE

নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর

Nodir Bidroho Question Answer

মার্ক – 1 ( MCQ )

. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির লেখক হলেন –

(ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

(খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

(গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

(ঘ) বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

ত্তর – (গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

২. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি যে গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে, তার নাম –

(ক) প্রাগৈতিহাসিক

(খ) হলুদ পোড়া

(গ) ফেরিওয়ালা

(ঘ)  সরীসৃপ

ত্তর – (ঘ)  সরীসৃপ

৩. ‘আমি চললাম হে।’কথাগুলি বলেছিল –

(ক) নূতন সরকারী

(খ) নাদেরচাঁদ

(গ) নিমাইচাঁদ

(ঘ) বলাইচাঁদ

উত্তর (খ) নাদেরচাঁদ

৪.নাদেরচাঁদ রাওনা করাইয়া দেয় –

(ক) চারাটা চল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন

(খ) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন

(গ) সাড়ে পাঁচটার মেইল ট্রেন

(ঘ) চারটা পাঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন

উত্তর (ঘ) চারটা পাঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন

৫. নাদেরচাঁদ কতটা রাস্তা নদীর উপরকার ব্রিজ ধরে হাঁটতে লাগল ?

(ক) দুই মাইল

(খ) চার মাইল

(গ) এক মাইল

(ঘ) তিন মাইল

উত্তর (গ) এক মাইল

৬. নাদেরচাঁদ লাইন ধরে কোনদিকে হাঁটতে লাগাল ?

(ক) কোয়ার্টারের দিকে

(খ) খেলার মাঠের দিকে

(গ) হোটেলের দিকে

(ঘ) নদীর উপরকার ব্রিজের দিকে

উত্তর (ঘ) নদীর উপরকার ব্রিজের দিকে

৭. স্টেশন থোকে নদীর দূরত্ব ছিল –

(ক) আধ মাইল

(খ) এক মাইল

(গ) দু-মাইল

(ঘ) তিন মাইল

উত্তর (খ) এক মাইল

৮. “আজ এই বিকেলের দিকে বর্ষন থামিয়য়াছে।” -কতদিন পরে ?

(ক) চারদিন

(খ) পাঁচদিন

(গ) ছয়দিন

(ঘ) সাতদিন

উত্তর (খ) পাঁচদিন

৯. নদেরচাঁদ কতদিন নদীকে দেখেনি ?

(ক) চারদিন

(খ) পাঁচদিন

(গ) ছয়দিন

(ঘ) সাতদিন

উত্তর (খ) পাঁচদিন

১০. “পাঁচদিন নদীকে দেখা হয়নাই।” –এইনা দেখার কারণা কী ?

(ক) নদেরচাঁদের জ্বর হয়েছিল

(খ) নাদেরাচাঁদ এখানে অনুপস্থিত ছিল

(গ) এই সময়ে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছিল

(ঘ) নাদেরাচীর কাজে ব্যস্ত ছিল

উত্তর (গ) এই সময়ে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছিল

নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর

১১. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে অবিরত বৃষ্টি হয়েছিল –

(ক) দু-দিন

(খ) তিনদিন

(গ) পাঁচদিন

(ঘ) সাতদিন

উত্তর – (গ) পাঁচদিন

১২. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।” – নদেরচাঁদের ঔৎসুক্যের কারণ হল –

(ক) ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে

(খ) পাঁচদিন পর সে আবার নদীকে দেখবে

(গ) নদীর স্রোত ফুলে ফেঁপে উঠেছে

(ঘ) নদীকে সে চিরবিদায় জানাতে চলেছে

উত্তর (খ) পাঁচদিন পর সে আবার নদীকে দেখবে

১৩. নদেরচাঁদ কাকে কেবল বোঝাতে পারে না ?

(ক) অন্যকে

(খ) নিজেকে

(গ) বড়োদের

(ঘ) ছোটোদের

উত্তর (খ) নিজেকে

১৪. ‘এমনভাবে পাগলা হওয়া কি তার সাজে ?’ – এখানে কার জন্য পাগলামির প্রসঙ্গ এসেছে ?

(ক) স্ত্রীর

(খ) নদীর উপরকার ব্রিজের

(গ) নদীর

(ঘ) নিজের কাজের

উত্তর (গ) নদীর

১৫. নদেরচাঁদের বয়স – [MP ‘20]

(ক) পঁচিশ বছর

(খ) ত্রিশ বছর

(গ) পঁয়ত্রিশ বছর

(ঘ) চল্লিশ বছর

উত্তর (খ) ত্রিশ বছর

১৬. নদেরচাঁদ ছিলেন –

(ক) পোস্টমাস্টার

(খ) হেডমাস্টার

(গ) স্টেশনমাস্টার

(ঘ) রেলমাস্টার

উত্তর (গ) স্টেশনমাস্টার

১৭. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।” – এখানে কার কথা বলা হয়েছে ?

(ক) নদের ঠাকুরের

(খ) রাখালের

(গ) নদেরচাঁদের

(ঘ) সহকারীর

উত্তর (গ) নদেরচাঁদের

১৮. নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল –

(ক) ভরা যৌবনা

(খ) নৃত্যচঞ্চলা

(গ) উচ্ছ্বসিত বেগবতী

(ঘ) ক্ষীণস্রোতা নির্জীব

উত্তর (ঘ) ক্ষীণস্রোতা নির্জীব

১৯. ‘দেখিয়া সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল;’ – কী দেখে কাঁদছিল ?

(ক) নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা দেখে

(খ) নদীর জল শুকিয়ে যাওয়া দেখে

(গ) নদীর চাঞ্চল্য দেখে

(ঘ) নদীর নির্জীব অবস্থা দেখে

উত্তর (খ) নদীর জল শুকিয়ে যাওয়া দেখে

২০. ‘নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।’ – নদেরচাঁদের এমন আচরণের কারণ হল

(ক) ট্রেনে একটি মানুষ কাটা পড়েছে

(খ) রেললাইনে ফাটল দেখা দিয়েছে

(গ) একই লাইনে দুটি ট্রেন চলে এসেছে

(ঘ) পাঁচদিনের বৃষ্টিতে নদী পরিপুষ্ট হয়ে উঠেছে

উত্তর (ঘ) পাঁচদিনের বৃষ্টিতে নদী পরিপুষ্ট হয়ে উঠেছে

Click Here – আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর

২১. পাঁচদিন আগে নদেরচাঁদের দেখা নদীটির মধ্যে চাঞ্চল্য ছিল তাতে প্রকাশ পেয়েছিল –

(ক) বেদনা

(খ) ক্রোধ

(গ) প্রবলতা

(ঘ) পরিপূর্ণতার আনন্দ

উত্তর (ঘ) পরিপূর্ণতার আনন্দ

২২. নদেরচাঁদ কর্মস্থলের কাছের নদীটিকে কত বছর চেনে ?

(ক) তিন বছর

(খ) চার বছর

(গ) পাঁচ বছর

(ঘ) ছয় বছর

উত্তর (খ) চার বছর

২৩. ব্রিজের ধারকস্তম্ভটি তৈরি হয়েছিল –

(ক) সিমেন্ট, বালি, খোয়া দিয়ে

(খ) ইট, সিমেন্ট, বালি দিয়ে

(গ) ইস্পাত দিয়ে

(ঘ) ইট, সুরকি আর সিমেন্ট দিয়ে

উত্তর (ঘ) ইট, সুরকি আর সিমেন্ট দিয়ে

২৪. “আজও সে সেইখানে গিয়া বসিল।” – এখানে কোন স্থানের কথা বলা হয়েছে ?

(ক) খেলার মাঠের

(খ) নদীর ঘাটের

(গ) স্টেশনের

(ঘ) নদীর ব্রিজের ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে

উত্তর (ঘ) নদীর ব্রিজের ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে

২৫. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” – নদেরচাঁদের আমোদ হওয়ার কারণ –

(ক) নদীকে দেখার জন্য সে অফিস থেকে ছুটি পেয়েছে

(খ) নদীর জলস্তর তার নাগালের মধ্যে এসে গেছে

(গ) একটা পুরোনো চিঠি সে খুঁজে পেয়েছে

(ঘ) পাঁচদিন পর বৃষ্টি থেমেছে

উত্তর (খ) নদীর জলস্তর তার নাগালের মধ্যে এসে গেছে

২৬. বউকে পাঁচ পাতার চিঠি লিখতে নদেরচাঁদের সময় লেগেছিল –

(ক) পাঁচদিন

(খ) সাতদিন

(গ) একদিন

(ঘ) দু-দিন

উত্তর (ঘ) দু-দিন

২৭. ‘সে স্রোতের মধ্যে ছুড়িয়া দিল।’ – এখানে কী ছোড়ার প্রসঙ্গ এসেছে ? [ অথবা], পকেট থেকে যা বের করে নদেরচাঁদ নদীর স্রোতের মধ্যে ছুড়ে দিয়েছিল, তা হল –

(ক) নিজের লেখা একটা কবিতা

(খ) একখানা ঠোঙা

(গ) বাজে কাগজের একটা দলা

(ঘ) একখানা পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠি

উত্তর (ঘ) একখানা পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠি

২৮. ‘একটু মমতা বোধ করিল বটে,’- কীসের প্রতি মমতা বোধের কথা বলা হয়েছে ?

(ক) নদীর প্রতি

(খ) পালিত টিয়া পাখির প্রতি

(গ) স্ত্রীকে লেখা চিঠির প্রতি

(ঘ) স্ত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্ত চিঠির প্রতি

উত্তর (গ) স্ত্রীকে লেখা চিঠির প্রতি

২৯. নদেরচাঁদ বউকে সে চিঠিখানি লিখেছিল, তার পৃষ্ঠা সংখ্যা

(ক) পাঁচ

(খ) তিন

(গ) এক

(ঘ) দুই

উত্তর (ক) পাঁচ

৩০. “সে কী মুশলধারায় বর্ষণ।” – পাঁচদিনের বর্ষণের পর কতক্ষণ বর্ষণ থেমেছিল ? [ অথবা], ‘নদীর বিদ্রোহ’গল্পানুযায়ী কতক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার মুশলধারে বৃষ্টি নেমেছিল ?

(ক) তিন ঘণ্টা

(খ) চার ঘণ্টা

(গ) পাঁচ ঘণ্টা

(ঘ) ছয় ঘণ্টা

উত্তর (ক) তিন ঘণ্টা

৩১. ‘তারপর সে অতিকষ্টে উঠিয়া দাঁড়াইল।’ – ‘সে’ বলতে বোঝানো হয়েছে –

(ক) নদেরচাঁদকে

(খ) সহকারীকে

(গ) সনাতন মিশ্রকে

(ঘ) ইকবালকে

উত্তর (ক) নদেরচাঁদকে

৩২. জলপ্রবাহকে কেন নদেরচাঁদের জীবন্ত মনে হয়েছিল ?

(ক) ক্ষীণ স্রোতের জন্য

(খ) প্রবল স্রোতের জন্য

(গ) উন্মত্ততার জন্য

(ঘ) ফেনোচ্ছ্বাসের জন্য

উত্তর (গ) উন্মত্ততার জন্য

৩৩. “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের” – ভয়ের কারণ ছিল –

(ক) অধিকার

(খ) বৃষ্টি

(গ) নদীর প্রতিহিংসা

(ঘ) নদীর স্ফীতি

উত্তর (গ) নদীর প্রতিহিংসা

৩৪. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” – এখানে কোন কারণের কথা বলা হয়েছে ?

(ক) পাঁচদিনের বর্ষণ

(খ) নদীর ক্ষীণস্রোতা হয়ে পড়া

(গ) নদীর উপর বাঁধ দিয়ে তার গতি রোধ করা

(ঘ) নদীর উপর মাছের ভেড়ি তৈরি করা

উত্তর (গ) নদীর উপর বাঁধ দিয়ে তার গতি রোধ করা

৩৫. অন্ধকারে অতি সাবধানে লাইন ধরিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে নদেরচাঁদ’ –

(ক) বাড়ি যাচ্ছিল

(খ) নদীর দিকে যাচ্ছিল

(গ) স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল

(ঘ) গ্রামে ফিরছিল

উত্তর (গ) স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল

৩৬. ‘এই ভীষণ মধুর শব্দ শুনিতে শুনিতে সর্বাঙ্গ অবশ, অবসন্ন হইয়া আসিতেছে।’ – এখানে কোন শব্দের কথা বলা হয়েছে ?

(ক) পাহাড়ের ঝরনার

(খ) রেললাইনে চলমান গাড়ির

(গ) নদীর প্রবাহের ও বৃষ্টির

(ঘ) সাঁওতালদের মাদলের

উত্তর (গ) নদীর প্রবাহের ও বৃষ্টির

৩৭. নদেরচাঁদ চিরদিন কাকে ভালোবেসেছ ?ে?

(ক) নদীকে

(খ) সাগরকে

(গ) নদীর উপরকার ব্রিজকে

(ঘ) স্ত্রীকে

উত্তর (ক) নদীকে

৩৮. ‘চিঠি পকেটেই ছিল।’ – এখানে কোন চিঠির কথা বলা হয়েছে ?

(ক) উপর মহলকে লেখা চিঠি

(খ) সহকর্মীকে উদ্দেশ করে লেখা চিঠি

(গ) নিজের স্ত্রীকে লেখা চিঠি

(ঘ) নদীকে উদ্দেশ করে লেখা চিঠি

উত্তর (গ) নিজের স্ত্রীকে লেখা চিঠি

৩৯. এতকাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।’ –

(ক) চাকরির জন্য

(খ) দেশের জন্য

(গ) নির্জীব নদীটির জন্য

(ঘ) নূতন রং করা ব্রিজটির জন্য

উত্তর (ঘ) নূতন রং করা ব্রিজটির জন্য

৪০. ‘নদেরচাঁদকে পিষিয়া দিয়া চলিয়া গেল’ – [MP ‘19]

(ক) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার

(খ) ৫ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার

(গ) ৭ নং আপ প্যাসেঞ্জার

(ঘ) ৫ নং আপ প্যাসেঞ্জার

উত্তর (ক) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার

৪১. নদেরচাঁদ স্টেশনমাস্টারি করেছে –

(ক) ৪ বছর

(খ) ৫ বছর

(গ) ৬ বছর

(ঘ) ৭ বছর

উত্তর (ক) ৪ বছর

৪২. নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল –

(ক) দুরারোগ্য ব্যাধিতে

(খ) বাসের ধাক্কায়

(গ) ট্রেনের ধাক্কায়

(ঘ) ট্রামের ধাক্কায়

উত্তর (গ) ট্রেনের ধাক্কায়

SAQ ( 1 Mark )

১. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির রচয়িতা কে ?

উত্তর ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির রচয়িতা হলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

২. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?

উত্তর ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি ‘সরীসৃপ’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ।

৩. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী ? [ MP ’19 ]

উত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ।

৪. ‘নদেরচাঁদ নূতন সহকারীকে ডাকিয়া বলিল,’- নদেরচাঁদ সহকারীকে ডেকে কী বলেছিল ?

উত্তর নদেরচাঁদ তার সহকারীকে ডেকে বলেছিল যে, ‘আমি চললাম হে’।

৫. “আমি চললাম হে!”- বক্তা কখন কথাগুলি বলেছে ?

ত্তর চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করে দেওয়ার পর নদেরচাঁদ তার সহকারীকে কথাগুলি বলেছে ।

৬. “আর বৃষ্টি হবেনা, কী বলো ?”- উদ্ধৃতাংশের বক্তা ও শ্রোতা কে ?

উত্তর আলোচ্যাংশের বক্তা হল নদেরচাঁদ এবং সে তার সহকারীকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেছিল ।

৭. বৃষ্টির জন্য নদেরচাঁদ কতদিন নদীকে দেখেনি ?

উত্তর বৃষ্টির জন্য নদেরচাঁদ পাঁচদিন নদীকে দেখেনি ।

৮. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।” – নদেরচাঁদ কীসের জন্য ঔৎসুক্য বোধ করছিল ?

উত্তর ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ দীর্ঘ পাঁচদিন পর নদীকে দেখতে চলেছিল। বর্ষার জলধারায় পুষ্ট সেই নদী কতটা মোহময় হয়ে উঠেছে তা জানার জন্যই সে ঔৎসুক্য বোধ করছিল।

৯. ‘না দেখিলে সে বাঁচিবে না।’ – কেন এমন বলা হয়েছে ?

উত্তর নদেরচাঁদের সঙ্গে নদীর আজন্ম সম্পর্ক। নদী তার জীবনের সঙ্গেও জড়িত। নদীকে ছেড়ে সে এক মুহূর্তও থাকেনি। ভাগ্যক্রমে কর্মক্ষেত্রেও সে নদীকে কাছে পেয়েছে। নদীর প্রতি আকর্ষণ ত্রিশ বছর বয়সি নদেরচাঁদের পাগলামিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং, এ জন্যই নদীকে না দেখলে নদেরচাঁদ বাঁচবে না।

১০. ‘আজ কী অপরূপ রূপ দিয়াছে ?’ – এখানে কার রূপের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প থেকে সংগৃহীত আলোচ্যাংশে নদেরচাঁদের কর্মস্থলের এক মাইল দূরে অবস্থিত নদীর সৌন্দর্যের কথা এখানে বলা হয়েছে।

১১. ‘রেলের উঁচু বাঁধ ধরিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে’ – নদেরচাঁদ কী ভেবেছিল ?

উত্তর রেলের উঁচু বাঁধ ধরে হাঁটতে হাঁটতে নদেরচাঁদ নদীর বর্ষণ-পুষ্ট মূর্তিটি কল্পনা করার চেষ্টা করছিল ।

১২. নদেরচাঁদের বয়স কত ?

উত্তর নদেরচাঁদের বয়স ছিল ত্রিশ বছর ।

১৩. ‘নিজেকে কেবল বুঝাইতে পারে না।’ – নিজেকে কী বোঝাতে পারে না নদেরচাঁদ ?

উত্তর নদেরচাঁদ একজন স্টেশনমাস্টার, দিনরাত্রি মেল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন আর মালগাড়িগুলি নিয়ন্ত্রণ করাই তার কাজ। তাই নদীর জন্য এভাবে পাগলের মতো ঔৎসুক্য বোধ করা তার সাজে না।

Click Here – বাংলা ব্যাকরণ: সমাস

১৪. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।” – কার কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদের কথা আলোচ্যাংশে বলা হয়েছে ।

১৫. “নদেরচাঁদ সব বোঝে, নিজেকে কেবল বুঝাইতে পারেনা।” – কী প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর নদেরচাঁদ একজন স্টেশনমাস্টার, দিনরাত্রি মেল, প্যাসেঞ্জার আর মালগাড়ি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব তাকে সামলাতে হয়। তাই নদীর জন্য পাগলের মতো ঔৎসুক্য বোধ যে তার মতো মানুষের সাজে না তা সে বোঝে কিন্তু তার নদীপ্রেমী মনকে এ কথা সে বোঝাতে পারে না। এ প্রসঙ্গেই আলোচ্য কথাটি বলা হয়েছে।

১৬. “নদেরচাঁদ সব বোঝে,” – নদেরচাঁদ কী বোঝে ? [MP’18]

উত্তর নদেরচাঁদের মধ্যে নদীর প্রতি এক অস্বাভাবিক ভালোবাসা, এক অদম্য পাগলামি বর্তমান। নদেরচাঁদের মতো স্টেশনমাস্টার, যার তত্ত্বাবধানে একটি রেলস্টেশনে অসংখ্য ট্রেনের গতাগতি নির্ভরশীল তার ক্ষেত্রে এমন পাগলামি সততই বেমানান। এ কথাই সে বোঝে।

১৭. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।”- এখানে কোন পাগলামির কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর নদেরচাঁদ আশৈশব নদীকে খুব ভালোবেসেছে। তাই কর্মস্থলের নিকটবর্তী নদীটিকে দেখার জন্য তার হৃদয়ে ঔৎসুক্য বোধের সঞ্চার হয়। পাঁচদিনের ভারী বর্ষণে নদী কেমন রূপ লাভ করেছে তা জানার জন্য সে ব্যাকুল। তাই একটু-বৃষ্টি থামতেই সে সেখানে সময় কাটাতে ছুটে যায়। এক্ষেত্রে নদীকে নিয়ে তার এই ব্যাকুল হওয়ার পাগলামির কথা বলা হয়েছে।

১৮. ‘যেন আনন্দই উপভোগ করে।’ – কে, কীসে আনন্দ উপভোগ করে ?

উত্তর ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদ নদীর প্রতি তার অন্তরের আকর্ষণ হেতু সৃষ্ট উন্মত্ততায় আনন্দ উপভোগ করে।

১৯. নদীকে ভালোবাসার পিছনে নদেরচাঁদের কী কৈফিয়ত ছিল ? [ অথবা], ‘নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।’ – কৈফিয়তটি কী ?

উত্তর নদেরচাঁদ নদীর ধারে জম্নগ্রহন করেছে, নদীর ধারে মানুষ হয়েছে আর নদীকে ভালোবেসেছে, আর এটাই ছিল তার কৈফিয়ত ।

২০. নদেরচাঁদের দেশের নদীটি কীরূপ ছিল ?

উত্তর নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।

২১. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে অনাবৃষ্টির বছরে কী ঘটেছিল ?

উত্তর ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে অনাবৃষ্টির বছরে নদেরচাঁদের দেশের নদীটির ক্ষীণ স্রোতধারা প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, যা দেখে নদেরচাঁদ প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।

২২. ‘সেই ক্ষীণস্রোতা নির্জীব নদীটি’ – কোন নদীর কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা নির্জীব নদীর কথা বলা হয়েছে।

২৩. ‘সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল;’ – তার প্রায় কেঁদে ফেলার কারণ কী ? [ অথবা], “…সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল’ – কে, কখন এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল ?

উত্তর নদেরচাঁদের ছেলেবেলায় তার বাড়ির নিকটের ক্ষীণস্রোতা নদীটির একবার অনাবৃষ্টিতে জলধারা প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। তাই সে কেঁদে ফেলেছিল।

২৪. ‘নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।’ – স্তম্ভিত হল কেন ?

উত্তর নদেরচাঁদের স্তম্ভিত হওয়ার কারণ হল – পাঁচদিন আগে যে নদী ঘোলা জলে চঞ্চল ছিল আজ সেই নদী যেন পাগল হয়ে উঠেছে। তার চারিদিক গাঢ়তর ঘোলা জল এবং ফেনায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে।

২৫. ‘কিন্তু সে চাঞ্চল্য যেন ছিল পরিপূর্ণতার আনন্দের প্রকাশ।’ – কোন পরিপূর্ণতার কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর পাঁচদিন আগে বর্ষার জলে পরিপুষ্ট নদী পঙ্কিল জলস্রোতে চাঞ্চল্য সৃষ্ট করে যেভাবে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এখানে সেই পরিপূর্ণতার কথাই বলা হয়েছে ।

২৬. ‘আজ যেন সেই নদী খেপিয়া গিয়াছে,’ – নদীর খেপে যাওয়ার কারণ কী ?

উত্তর  – পাঁচদিন টানা বৃষ্টিতে নদী খেপে গিয়েছিল ।

২৭. ‘সে প্রতিদিন নদীকে দেখে।’ – কোথায় বসে সে নদীকে দেখে ?

উত্তর নদেরচাঁদের কর্মস্থল থেকে এক মাইল দূরে অবস্থিত নদীর উপরকার ব্রিজের ধারকস্তম্ভের উপর বসে সে নদীকে দেখে ।

২৮. “আজও সে সেইখানে গিয়া বসিল।” – কে, কোথায় গিয়ে বসল ?

উত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের অন্যতম চরিত্র নদেরচাঁদ নদীর উপরকার ব্রিজের ধারকস্তম্ভের উপর গিয়ে বসেছিল।

২৯. “আজও সে সেইখানে গিয়া বসিল।” -আজও বলার কারণ কী ?

উত্তর আজও বলার কারণ হল সে অর্থাৎ নদেরচাঁদ প্রতিদিনের মতো সেদিনও ব্রিজের ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে গিয়ে বসেছিল।

৩০. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” – কেন আমোদ বোধ হয়েছিল ?

উত্তর তার আমোদের কারণ হল নদীর জলের নৈকট্য। নদীর উপরকার ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে দীর্ঘ পাঁচদিন বাদে বর্ষার জলে পরিপূর্ণ নদীর উন্মত্ততা দেখতে দেখতে তার মনে হয়েছে, একটুখানি হাত বাড়ালেই সে জলের স্পর্শ পাবে। আর এই ফেনাযুক্ত জল স্পর্শের যে মাদকতা তার মধ্যেই নদেরচাঁদ আমোদ অনুভব করেছে।

৩১. ‘পাঁচপৃষ্ঠাব্যাপী বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠি লিখিয়াছে,’ – কে, কাকে চিঠি লিখেছে ?

উত্তর স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে চিঠি লিখেছে ।

৩২. “এক একখানি পাতা ছিঁড়িয়া দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া জলে ফেলিয়া দিতে লাগিল।” -উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কীসের পাতা জলে ফেলতে লাগল ? [ MP ’17 ]

[ অথবা], পকেট থেকে কী বের করে নদেরচাঁদ স্রোতের মধ্যে ছুঁড়ে দিয়েছিল ?

উত্তর ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ স্ত্রীকে বিরহবেদনাপূর্ণ যে পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী চিঠি লিখেছিল তা তার পকেটে ছিল। সে সেটারই এক-একটি পৃষ্ঠা জলে ফেলছিল।

৩৩. ‘চিঠি পকেটেই ছিল।’ – কোন চিঠি ?

উত্তর নদেরচাঁদের তাঁর স্ত্রীকে লেখা একটি পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠি ।

৩৪. “একটু মমতা বোধ করিল বটে,” – কখন নদেরচাঁদের মমতা বোধ হয়েছিল ?

উত্তর প্রবল জলরাশি নদীখাতে প্রবাহিত হতে দেখে আনন্দে আত্মহারা নদেরচাঁদ নদীর সঙ্গে খেলা করার জন্য স্ত্রীকে লেখা চিঠির পৃষ্ঠাগুলি দুমড়ে-মুচড়ে যখন নদীস্রোতে ফেলছিল তখন সেই চিঠিটির প্রতি তার মনে মমত্ব উদিত হয়।

Click Here – জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর

৩৫. “একটু মমতা বোধ করিল বটে,”- কীসের মমতাবোধের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর নদেরচাঁদের স্ত্রীকে লেখা একটি পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠির প্রতি মমতাবোধের কথা বলা হয়েছে।

৩৬. ‘লোভটা সে সামলাইতে পারিল না,’ – কোন লোভের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পাতার চিঠি থেকে এক-একটি পাতা ছিঁড়ে দুমড়ে-মুচড়ে জলে ফেলে নদীর সঙ্গে খেলা করার লোভের কথা বলা হয়েছে।

৩৭. ‘আজ তাহার জীবন্ত মনে হইতেছিল,’ – কাকে, কেন জীবন্ত মনে হয়েছিল ?

উত্তর স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের কর্মস্থল থেকে এক মাইল দূরে অবস্থিত নদীটির জলপ্রবাহকে তার উন্মত্ততার জন্য জীবন্ত মনে হয়েছিল ।

৩৮. ‘এই ভীষণ মধুর শব্দ শুনিতে শুনিতে’ – কোন শব্দের কথা এখানে বলা হয়েছে ?

উত্তর পাঁচদিনের অবিরাম বর্ষায় খেপে যাওয়া নদী থেকে একটা অশ্রুতপূর্ব শব্দ উঠছিল, তার সঙ্গে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ মিশে যে ভীষণ মধুর শব্দ সৃষ্টি হয়েছিল এখানে সেই শব্দের কথাই বলা হয়েছে।

৩৯. “নদেরচাঁদের মন হইতে ছেলেমানুষি আমোদ মিলাইয়া গেল,” – কখন নদেরচাঁদের এমন অবস্থা হয়েছিল ?

উত্তর পাঁচদিনের অবিরাম বর্ষায় খেপে ওঠা নদী থেকে যখন একটা অশ্রুতপূর্ব শব্দ উঠেছিল, আর তার সঙ্গে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ মিশে হঠাৎ একটা সংগত সৃষ্টি করছিল তখন নদেরচাঁদের এমন অবস্থা হয়েছিল।

৪০. “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।” – নদেরচাঁদের কেন ভয় করতে লাগল ? [ MP’20 ]

উত্তর ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নদেরচাঁদের মনে হয়েছে নদী একটি জীবন্ত সত্তা। সে যেন জলে পরিপুষ্ট হয়ে উন্মাদিনী হয়েছে। নদীর এই অবস্থাই তার মনে ভয়ের সঞ্চার ঘটিয়েছে।

৪১. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” – নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ছিল ?

উত্তর নদীর বক্ষে মানুষের তৈরি ব্রিজের ধারকস্তম্ভ এবং দু-পাশের বাঁধ নদীর স্বাভাবিক চলার ছন্দে বাধা দিয়েছে। তাই অবিরাম বৃষ্টির জলে অসীম শক্তিসম্পন্ন নদী বিদ্রোহী হয়ে সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

৪২. ‘তাহাকে বিশ্বাস নাই।’ – কাকে, কেন বিশ্বাস নেই ? [ অথবা], ‘তাহাকে বিশ্বাস নাই।’ – কাকে, কী বিশ্বাস নেই বলে এ কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর নদেরচাঁদের কর্মস্থল থেকে এক মাইল দূরে অবস্থিত নদীটিকে বিশ্বাস নেই। পাঁচদিনের প্রবল বর্ষণে নদীটির জলরাশি স্ফীত হয়ে উঠেছিল। তার ফলে মনে হচ্ছিল সেই উন্মাদ নদী যেন মানুষের তৈরি ব্রিজকে ভেঙে দিয়ে ছুটে যেতে চাইছিল। তাই তার কর্মকাণ্ডের ওপর বিশ্বাস করা যায় না বলে নদেরচাঁদের মনে হয়েছে।

কোনি বড় প্রশ্ন উত্তর

৪৩. “কিন্তু পারিবে কি ?” – কার, কী পারার কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর গতিপথের বাধাস্বরূপ ব্রিজটিকে নদী ভেঙে ফেলতে পারবে কি না বা তার পূর্বের গতিলাভ করতে পারবে কি না, সেই প্রসঙ্গে নদেরচাঁদের মনে এই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

৪৪. “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে ?” – কেন এমন বলা হয়েছে ?

উত্তর নদেরচাঁদের মনে হয়েছে যে, নদী তার উপরকার বাধাস্বরূপ ব্রিজটিকে তার গতিময় জলস্রোতে ভাঙতে পারলেও মানুষ আবার তা গড়ে নেবে। তাই মানুষের হাত থেকে নদীর রেহাই নেই।

৪৫. ‘এতকাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।’-কার প্রতি এই গর্ব ?

উত্তর  নদীর উপরকার রং করা ব্রিজটির প্রতি এই গর্ব।

৪৬. ‘এতকাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।’- কীসের জন্য নদেরচাঁদ এতকাল গর্ব করেছে ?

উত্তর নদেরচাঁদ নদীর সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর জন্য নদীর ব্রিজের যে ধারকস্তম্ভের উপর গিয়ে বসত সেই রং করা ব্রিজটির জন্য তার গর্ব অনুভব হত।

৪৭. “আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের ?”- বক্তা তার এই প্রশ্নের জবাব পেয়েছিলেন কীভাবে ?

উত্তর নদেরচাঁদের পিছন থেকে ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি তাকে পিষে দিয়ে চলে গেলে যন্ত্রের হাতে তার অপমৃত্যুর মধ্য দিয়ে সে উক্ত প্রশ্নের জবাব পেয়েছিল।

৪৮. “আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের ?” – এরূপ মনে হওয়ার কারণ কী ?

উত্তর – নদেরচাঁদের চোখে নদী যেন প্রাণময় সত্তা। ক্ষীণস্রোতা নদী দেখে তার যেমন কান্না আসে, তেমনি দুরন্ত নদীর ফেনোচ্ছ্বাসিত প্রবাহ দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে, তার সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠে। এই প্রাণময় নদীর সামনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সে চায়নি। তাই ব্রিজের অপ্রয়োজনীয়তার কথা তার মনে এসেছিল।

৪৯. ‘আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন…….. ‘- কী মনে হয়েছিল ?

উত্তর স্টেশনের কাছে নূতন রং করা ব্রিজটির প্রয়োজন নেই বলে স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল

৫০. ‘ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষিয়া দিয়া চলিয়া গেল’ – কোন ট্রেন নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে গেল ?

উত্তর ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে গেল ।

৫১. নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে কোন ট্রেনটি, কোন্ দিকে চলে যায় ?

উত্তর নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ছোটো স্টেশনটির দিকে চলে যায় ।

৫২. কীভাবে নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল ?

উত্তর অন্ধকারে রেললাইন ধরে স্টেশনের দিকে ফেরার সময় ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিলে তার মৃত্যু হয়।

৫৩. নদেরচাঁদ কত বছর স্টেশনমাস্টার পদে কর্মরত ?

উত্তর নদেরচাঁদ চার বছর ধরে স্টেশনমাস্টার পদে কর্মরত ।

৫৪. নদেরচাঁদ কীসের চাকরি করত ?

উত্তর নদেরচাঁদ স্টেশনমাস্টারির চাকরি করত।

Mark – 3

১. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।”- কার জন্য এমন অনুভব হয়েছিল ? তার ওই রকম ঔৎসুক্য বোধের কারণ কী ? ১+২

উত্তর যার জন্য অনুভূতি: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদের নদীকে দেখার জন্য ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য জন্মেছিল।

ঔৎসুক্য বোধের কারণ: নদেরচাঁদের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক জন্ম থেকে। তাই তার কর্মস্থল স্টেশনের পাশের নদীটিকে সে প্রতিদিন দেখতে যেত, রেলব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে সে আপন মনে নদীর সঙ্গে কথা বলত। এমতাবস্থায় টানা পাঁচদিন বৃষ্টির জন্য সে নদীটিকে দেখতে যেতে পারেনি। বিকেলের দিকে বৃষ্টি একটু বন্ধ হওয়ায় সে রেললাইন ধরে রেলব্রিজের দিকে হাঁটতে শুরু করেছিল। টানা বৃষ্টির জলে পুষ্ট এক তেজময়ী নদীর রূপ কল্পনা করে সে তা চাক্ষুস দর্শন করার আকাঙ্ক্ষায় সেদিকে ছুটে চলে। নদীর প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণেই তার এরূপ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ হয়েছিল।

২. ‘নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না’ – এখানে ‘সে’ বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে ? নদীকে না দেখলে ‘সে’বাঁচবে না কেন ? ১+২

উত্তর –  ‘সে’ অর্থাৎ উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়ীর অন্যতম মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের মুখ্য চরিত্র নদেরচাঁদ নদীকে না দেখলে বাঁচবে না বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ‘সে’ বলতে এখানে নদেরচাঁদকে বোঝানো হয়েছে।

না বাঁচার কারণ: নদেরচাঁদের সঙ্গে নদীর আজন্মকালের সম্পর্ক। নদী তার জীবনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদীকে ছেড়ে সে এক মুহূর্তও থাকেনি। ভাগ্যক্রমে কর্মক্ষেত্রেও সে নদীকে কাছে পেয়েছে। নদীর প্রতি আকর্ষণ ত্রিশ বছর বয়সি নদেরচাঁদের পাগলামিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং, এ জন্যই নদীকে না দেখলে নদেরচাঁদ বাঁচবে না।

৩. “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।” – নদেরচাঁদের পেশা কী ছিল ? নদীকে ভালোবাসার কী কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিয়েছিল ? ১+২

উত্তর –  পেশা: নদেরচাঁদের পেশা ছিল স্টেশনমাস্টারি।

নদেরচাঁদের কৈফিয়ত: নদেরচাঁদের কৈফিয়ত ছিল-যেহেতু জন্ম থেকেই নদীর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তাই শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের প্রতিটি পর্বেই নদী ছিল তার জীবনের প্রধান আকর্ষণ। নদীর পাড়েই তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব অতিবাহিত হওয়ায় নদীকে সে পাগলের মতো ভালোবাসে।

৪. ‘সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল;’ কার কথা বলা হয়েছে ? সে কেন কেঁদে ফেলেছিল ? ১+২

উত্তর –  উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের কথা আলোচ্যাংশে বলা হয়েছে।

কাঁদার কারণ: নদেরচাঁদের ছেলেবেলায় দেখা তার বাড়ির নিকটের ক্ষীণস্রোতা নদীটি একবার অনাবৃষ্টিতে প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। তা দেখে তার মনে হয়েছিল যেন তার কোনো পরমাত্মীয়া দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগতে ভুগতে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই সে কেঁদে ফেলেছিল।

৫. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” উদ্ধৃতাংশটিতে কার কথা বলা হয়েছে ? তার আমোদ হওয়ার কারণ কী ? ১+২

উত্তর – উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের আলোচ্যাংশে একজন সাধারণ স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের কথা বলা হয়েছে।

আমোদের কারণ : তার আমোদের কারণ হল নদীর জলের নৈকট্য। নদীর উপরকার ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে দীর্ঘ পাঁচদিন বাদে বর্ষার জলে পরিপূর্ণ নদীর উন্মত্ততা দেখতে দেখতে তার মনে হয়েছে, একটুখানি হাত বাড়ালেই সে জলের স্পর্শ পাবে। আর এই ফেনাযুক্ত জল স্পর্শের যে মাদকতা তার মধ্যেই নদেরচাঁদ আমোদ অনুভব করেছে।

৬. ‘একটু মমতা বোধ করিল বটে,’ কীসের প্রতি, কে মমতাবোধ করেছিল ? তার মমতাবোধের কারণ কী ? ১+২

উত্তর –  মমতাবোধকারী ও বোধের বিষয়: এখানে নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে লেখা দীর্ঘ চিঠি সম্পর্কে মমতাবোধ করেছিল।

মমতাবোধের কারণ: বাড়ি থেকে দূরবর্তী স্থানে সে কর্মসূত্রে আবদ্ধ। আর তার এই বিরহবেদনা সে নদীর সঙ্গে ভাগ করে নিত। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচদিন বর্ষার জন্য সে বের হতে না পারায় স্ত্রীকে তার মনের ব্যথাবেদনা চিঠিতে লিখে প্রকাশ করেছিল। আর সেই কারণেই চিঠিটির প্রতি সে মমতা অনুভব করেছিল।

Click Here – অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর

৭. “তারপর সে অতিকষ্টে উঠিয়া দাঁড়াইল।” – এখানে ‘সে’এ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? তার এমন অবস্থার কারণ উল্লেখ করো । ১+২

উত্তর –  উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: এখানে ‘সে’ বলতে ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদকে বোঝানো হয়েছে।

এমন অবস্থার কারণ: ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নীচে নদীর জল এবং উপরের বৃষ্টির শব্দ তার মনে এক ভাব-প্লাবন সৃষ্টি করে। সে যেন এই জগৎ থেকে অন্য কোথাও হারিয়ে যায়। আর এই অনুভূতির মধ্যে কত সময় সে অতিবাহিত করে তাও বুঝতে পারে না। হঠাৎ ট্রেনের শব্দে তার বাহ্যজ্ঞান ফিরলে উঠে দাঁড়াতে তার কষ্ট হয়। এখানে সেই প্রসঙ্গই ধরা পড়েছে।

৮. “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।” – নদেরচাঁদের ভয়ের কারণ কী ?

উত্তর –  নদেরচাঁদের পরিচয়: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র হল স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ।

তার ভয় পাওয়ার কারণ: যে নদী জলধারায় পরিপুষ্ট হয়ে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে, তাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। যদিও নদেরচাঁদ ইট, সুরকি, সিমেন্ট, লোহালক্কড়ের ব্রিজের উপর নিশ্চিন্তে বসে থেকেছে তবুও এই নদীকে আজ সে আর বিশ্বাস করতে পারছে না। আর এই কারণেই তার হৃদয়ে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে।

৯. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”- কে বুঝতে পেরেছে ? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কী বোঝাতে চেয়েছে ? ১+২ [ MP’17 ]

উত্তর – উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: চারটে পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করিয়ে দিয়ে নদেরচাঁদ নদীকে দেখার জন্য রেলব্রিজের দিকে যাত্রা করে। টানা পাঁচদিন বৃষ্টির পর নদীর পরিপূর্ণ রূপ দেখে নদেরচাঁদ তার বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পেরেছিল।

নদীর বিদ্রোহ’ : সে দেখে, পূর্ণ শক্তিতে পঙ্কিল জলস্রোত ফুলে-ফেঁপে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলেছে নদীটি। সেই জলস্রোত রেলব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে নদীস্রোত ফেনিল ঘূর্ণি সৃষ্টি করেছে। এই সময় নদীর ভয়াবহ রূপটি দেখেই নদেরচাঁদের মনে হয় নদী খেপে গিয়ে ব্রিজ কিংবা দু-পাশের বাঁধ নিশ্চিহ্ন করে নিজের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে চায়।

বোঝাতে চাওয়া বিষয়টি : নদেরচাঁদ বুঝতে পেরেছিল যে, মানুষ নিজের প্রয়োজনে নদীবক্ষে যে ব্রিজ তৈরি করেছে কিংবা দু-পাশে বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক চলার ছন্দকে যে ভঙ্গ করেছে তা থেকে নদী যেন মুক্তি পেতে চাইছে, তাই তার এই বিদ্রোহী রূপ।

০. ‘নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।’ – কীসের জন্য নদেরচাঁদের গর্ব অনুভব হয়েছে এবং কেন ? ১+২

উত্তর – নদেরচাঁদের গর্বের বিষয়: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের নায়ক নদেরচাঁদ নদীর বুকে আধুনিক প্রযুক্তির চিহ্ন ব্রিজটির জন্য গর্ব অনুভব করত।

গর্বের কারণ: নদেরচাঁদও আধুনিক সভ্যতার প্রতিনিধি। যন্ত্রসভ্যতা তথা প্রযুক্তির উন্নতিতে সেও মনে মনে খুশি ও গর্বিত। নদীর উদ্দাম জলধারাও মানুষের গতিপথকে রুদ্ধ করতে পারেনি। নদীর উপর নির্মিত ব্রিজ মানুষের প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে জয় করে তার জীবনযাত্রাকে অনুকূল করার অভিপ্রায়। এতে মানুষ সফল। তাই তা নিয়েই নদেরচাঁদের গর্ব হয়েছিল।

১১. “আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?” – এখানে কোন ব্রিজের কথা বলা হয়েছে ? বক্তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী ছিল তা লেখো । ১+২

উত্তর – উদিষ্ট ব্রিজের: আলোচ্যাংশে যে ব্রিজের প্রসঙ্গ এসেছে তা হল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের অন্যতম চরিত্র নদেরচাঁদের কর্মস্থলের এক মাইল দূরে অবস্থিত নদীর উপরকার ব্রিজ।

নদেরচাঁদের এমন মনে হওয়ার কারণ: বক্তা অর্থাৎ নদেরচাঁদের এমন মনে হওয়ার কারণ হল প্রকৃতি তথা নদীর প্রতি তার ভালোবাসা। নদেরচাঁদের চোখে নদী যেন প্রাণময় সত্তা। ক্ষীণস্রোতা নদী দেখে তার যেমন কান্না আসে, তেমনি দুরন্ত নদীর ফেনোচ্ছ্বাসিত প্রবাহ দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে, তার সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠে। এই প্রাণময় নদীর সামনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সে চায়নি। তাই নদীর বিদ্রোহ দেখে ব্রিজের অপ্রয়োজনীয়তার কথা তার মনে এসেছিল।

১২. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদীর বিদ্রোহী হয়ে ওঠার কারণ কী ?

উত্তর : নদীর বিদ্রোহের কারণ: মানুষ যত বেশি আধুনিক হচ্ছে প্রকৃতিকে সে ততো বেশি করে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ও সুযোগসুবিধা দানের তাগিদে প্রকৃতির সহজ সুন্দর রূপ আজ নিঃশেষ হতে চলেছে। আলোচ্য ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে এই নিঃশেষিত প্রকৃতির অঙ্গ স্বরূপ মনুষ্যসৃষ্ট ব্রিজের ধারকস্তম্ভে নদীর সহজ পথও তাই আবদ্ধ। এর ফলে নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা পেয়ে ক্রমে ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। বারংবার বাধা পেয়ে নদীও যেন মানুষের অহংকারের পরিচয়বাহী ব্রিজের ওপর বিদ্রোহ করে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে আছড়ে পড়ছে। পাঁচদিনের প্রবল বর্ষণে প্লাবিত, কর্দমাক্ত জলরাশিতে পূর্ণ নদী ভয়ংকর রূপ লাভ করেছে। সে চায় স্বাভাবিক ধারায় বয়ে চলতে। কিন্তু মানুষ তার গতিপথকে সংকীর্ণ করে তুলেছে। এই কারণেই তার বিদ্রোহ। মনুষ্যসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাকে প্রতিহত করার জন্যই সে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে।

Mark – 5

১. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।” কার পাগলামির কথা বলা হয়েছে ? গল্প অনুসারে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির পাগলামির পরিচয় দাও ১+৪

উত্তর – উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের অন্যতম চরিত্র অখ্যাত স্টেশনের স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের কথা এখানে বলা হয়েছে।

পাগলামির পরিচয়: নদেরচাঁদ আশৈশব নদীকে খুব ভালোবেসেছে। নদীর সঙ্গে যেন তার হৃদয়ের বন্ধন। এই নদীকে কয়েকদিনের অদর্শনে সে অন্তরে বিরহ জ্বালা অনুভব করে। তার কাজকর্ম সব অগোছালো হয়ে যায়। এই নদীকে দেখার জন্যই তার হৃদয়ে ঔৎসুক্য বোধের সঞ্চার হয়। পাঁচদিনের ভারি বর্ষণে নদী কেমন রূপ লাভকরেছে তা জানার জন্য সে ব্যাকুল। তাই একটু বৃষ্টি থামতেই সে অগ্রসর হয়েছে নদীর দিকে, নদীর সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আকাঙ্ক্ষায়। ত্রিশ বছরের প্রাপ্ত বয়স্ক একজন ব্যক্তির নদীকে নিয়ে এমন ব্যাকুল হয়ে ওঠাকে নিজেরই পাগলামি বলে মনে হয়েছে। তারা তাই এখানে নদীকে নিয়ে তার বাড়াবাড়ি মনোভাবকে সে নিজেই ‘পাগলামি’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

পরিণতি: এই নদীকে ভালোবাসার কারণ হিসেবে সে নিজের মতন একটা যুক্তি তৈরি করেছে। সে জানিয়েছে যে, নদীর তীরে তার জন্ম, নদীর তীরে তার বড়ো হওয়া, সে কারণেই নদীর প্রতি তার অন্তরে আকর্ষণবোধ কাজ করে। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও সে এই নদীর তীরে সময় কাটাতে পছন্দ করে। সে যেন এই নদীর কাছ থেকে জীবনীশক্তি আহরণ করে নেয়। নদীর সঙ্গে সে অন্তরের ভাবের আদানপ্রদান করে, নদীও যেন নিজের স্রোতধারার মধ্য দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে, তার সঙ্গে খেলায় মাতে। তাই তো ধারকস্তম্ভে বসে নদীর জলস্রোতের প্রচন্ডতা লক্ষ করে সে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে। সে পৌঁছে যায় এক ভাবলোকে। নদীকে সে জীবন্ত সত্তা মনে করে। নদীর বিদ্রোহী সত্তাও সে অনুভব করতে পারে। এই ভাবনার সূত্র ধরে সে যখন কর্মস্থলের দিকে পুনরায় ফিরতে শুরু করে তখন ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় তার জীবনাবসান ঘটে। তাই বলতে হয়, নদীকে নিয়ে তার যে পাগলামি তার মাশুল তাকে দিতে হয় নিজের জীবন দিয়ে।

২. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অবলম্বনে নদীর প্রতি নদেরচাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় দাও । [MP’19]

[ অথবা ], “ত্রিশ বছর বয়সে নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক।” নদেরচাঁদের নদীর প্রতি এত ভালোবাসার কারণ কী ? সেই ভালোবাসার পরিচয় দাও ২+৩

ত্তর –  ভালোবাসার পরিচয়:

একাত্মতা : প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের আদ্যোপান্ত প্রকাশিত হয়েছে নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের হৃদ্যতার মধুর সম্পর্ক। গল্পের সূচনাতেই আমরা দেখতে পাই, দীর্ঘ পাঁচদিনে প্রচণ্ড বর্ষার জন্য নদীকে না দেখতে পেয়ে সে একপ্রকার পাগলের মতন হয়ে উঠেছে। তাই বৃষ্টি সামান্য থামলেই সহকারীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সে যাত্রা করেছে নদীর দিকে। নদী যেন তার কাছে একান্ত আপনজন।

ভালোবাসার কারণ: নদীকে নিয়ে নিজের এই পাগলামির একটা কারণ সে খুঁজে পেয়েছে। সে জানিয়েছে-নদীর তীরেই তার জন্ম হয়েছে। নদীর কাছেই সে বড়ো হয়ে উঠেছে। তার শৈশব, কৈশোর, প্রথম যৌবন নদীর তীরবর্তী জগতেই অতিবাহিত হয়েছে। নদীকে সে প্রাকৃতিক বিষয় হিসেবে না দেখে নিজের পরমাত্মীয়া মনে করেছে। তাই নদীর সঙ্গে তার একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

সঙ্গী: কর্মব্যস্ত জীবনেও নদীর তীরে কিছু সময় কাটাতে না পারলে তার দিন অপূর্ণ থেকে যায় বলে মনে হয়। সেই কারণেই কয়েকদিন বাদে নদীকে দেখতে যাওয়ার সময় ছেলেমানুষের মতন সে ঔৎসুক্য বোধ করেছে। সে যেন কালিদাসের ‘মেঘদূতম্’ কাব্যের বিরহকাতর যক্ষের মতো নদীকে তার দূত হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাই খেলার ছলে নিজের পত্নীকে লেখা দীর্ঘ চিঠির পাতাগুলি নদীর তীব্র স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে হয়তো তার দীর্ঘ বিরহ নদীর স্রোতে ভেসে সমাহিত হয়ে গেছে, নতুবা এই নদীই যেন তার দূর দেশবাসী পত্নীর বিরহজ্বালা মিটিয়ে দিয়েছে।

পরমাত্মীয়া নদী: নদেরচাঁদ পাগলের মতো, নিজের পরমাত্মীয়ার মতো নদীকে ভালোবেসেছে। সে এই নদীর ব্যথাবেদনা যেন অনুভব করতে পেরেছে। সে বুঝতে পেরেছে নদীর গতিপথে সৃষ্ট বাঁধের জন্যই নদীর – বিদ্রোহ। সে এই বাধা অতিক্রম করতে চায় কিন্তু হয়তো সে তাতে সফল – হবে না। এই সকল ভাবনার মধ্য দিয়ে ধরা পড়েছে নদীর প্রতি তার আন্তরিক ভালোবাসার চিত্র।

৩. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” –  নদেরচাঁদ কে ? তার আমোদ বোধ হওয়ার কারণ বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করো ১+৪

উত্তর – নদেরচাঁদের পরিচয়: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদ। নদেরচাঁদ ত্রিশ বছর বয়সি একজন স্টেশনমাস্টার। নদীকে নিয়ে তার যথেষ্ট পাগলামি ছিল।

আমোদ হওয়ার কারণ: শৈশব থেকেই নদীর সঙ্গে অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক ছিল নদেরচাঁদের। কর্মজীবনে প্রবেশের পর সৌভাগ্যক্রমে সেখানেও নদীকে কাছে পেয়েছে সে। তাই তাদের সম্পর্কে ছেদ পড়েনি। গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ কর্মভার সামলেও নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের সখ্য বজায় ছিল। পাঁচ দিনের বর্ষায় নদী ভয়াবহ চেহারা নিয়েছিল। স্টেশন থেকে একমাইল দূরে যে ব্রিজ ছিল পাঁচদিন টানা বৃষ্টির পর তা থামলে নদেরচাঁদ সেখানে গিয়ে পৌঁছোয় বিকেলবেলায়। বর্ষণস্ফীত নদী তখন ভযংকর। নদীর ফেনোচ্ছ্বাসিত জল ব্রিজের ধারকস্তম্ভের এত উঁচুতে উঠেছিল যে নদেরচাঁদের মনে হচ্ছিল হাত বাড়ালেই তাকে স্পর্শ করা যাবে। নদীর এই চেহারায় নদেরচাঁদ প্রাথমিকভাবে খুব খুশিই হয়েছিল। নিজের পকেট থেকে একটা চিঠি সে খুঁজে পেয়েছিল। এই চিঠিটা তার স্ত্রীর প্রতি লেখা। পাঁচদিন ধরে যখন একটানা বৃষ্টি চলছিল তখন নদেরচাঁদ বিরহ-ব্যথা ভরা পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী ওই চিঠিটি লিখেছিল। কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে নদীর সঙ্গে খেলার লোভ সে সংবরণ করতে পারেনি। তাই সে ওই চিঠি ছিঁড়ে ছিঁড়ে নদীর জলে ভাসিয়ে নদীর সঙ্গে আমোদ করে খেলতে থাকে।

৪. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” – নদেরচাঁদের কখন এরূপ অবস্থা হয়েছিল ? তারপর সে কী করেছিল ? ১+৪

উত্তর –  নদেরচাঁদের আমোদিত অবস্থা: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নায়ক নদেরচাঁদের নদীর প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণ ছিল। পাঁচদিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর নদীকে দেখার জন্য সে যারপরনাই আকুল হয়েছিল। তাই নতুন সহকারীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সে হাঁটতে হাঁটতে ব্রিজ ও নদীর কাছে এসে উপস্থিত হয়। ব্রিজের কাছে গিয়ে নদীকে দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। বৃষ্টির পর নদীর রূপ অতি ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল। তার বাল্যকালের দেশের নদীর সঙ্গে এর কোনোরূপ তুলনা চলে না। এমনিতেই নদী প্রকাণ্ড, তারপর বর্ষায় যেন খেপে উঠেছিল। প্রাত্যহিক অভ্যাসমতো নদেরচাঁদ ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে বসে নদীকে দেখছিল। জলস্তর এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে মনে হচ্ছিল সেখান থেকে হাত দিলেই যেন স্পর্শ করা যাবে। এইসব কারণেই নদেরচাঁদ আমোদিত হয়েছিল।

পরবর্তী কার্যকলাপ : আমোদিত নদেরচাঁদের অবস্থা তখন শিশুসুলভ। সে খেলার ছলে স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠিটা ছিঁড়ে ছিঁড়ে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছিল। এরপর প্রায় ঘণ্টা তিনেক সময় অতিক্রান্ত হয়েছিল। আবার আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। সেই বৃষ্টির শব্দ আর নদীর জলের গর্জন মিশে তাকে আতঙ্কিত করে তোলে, ক্লান্তি ও অবসন্নতা তার শরীরকে গ্রাস করে। ধীরে ধীরে তার ছেলেমানুষি উধাও হয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়েই সে স্টেশনের দিকে একই পথে যাত্রা শুরু – করল। কারণ, প্রতিমূহূর্তে তার মনে হচ্ছিল নদী বোধহয় যে-কোনো সময়ে – ব্রিজ ভেঙে নিজেকে মুক্ত করতে চায়। আর তারপরই ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার তাকে পিষে দিয়ে চলে যায় আর তাকে মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।

৫. “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।” নদেরচাঁদ কে ? তার ভয় পাওয়ার কারণ কী ?

উত্তর – নদেরচাঁদ: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে অন্যতম চরিত্র হল স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ।

নদেরচাঁদের ভয় পাওয়ার কারণ: নদেরচাঁদ এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। নদীর সঙ্গে তার আত্মিক বন্ধন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বলাই চরিত্রের শিমুল গাছের প্রতি যে নিগূঢ় ভালোবাসা ছিল ঠিক তেমনই নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের সম্পর্ক ছিল বিনি সুতোর মালায় গাঁথা। নদীপ্রেমিক নদেরচাঁদকে নদীও তাই ছাড়েনি। শৈশব-বাল্যে দেশের বাড়ির পাশ দিয়েই নদী প্রবাহিত হত। সেই ক্ষীণকায়া নদীকে সে বুগ্মা পরমাত্মীয়ার মতো, ভালোবেসেছিল।

কর্ম উপলক্ষ্যে স্টেশনমাস্টার হিসেবে দূরদেশে গিয়ে সেখানের স্রোতবতী নদীর সঙ্গেও নদেরচাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বর্ষণপুষ্ট নদী ভীষণা হয়ে ওঠার আগে নদেরচাঁদের সঙ্গে তার নির্মল আনন্দের ও সুখের খেলা চলে। নদীর সঙ্গে ছেলেমানুষির খেলায় মাতে নদেরচাঁদ। তারপর প্রকৃতি আরও ঘোরালো হয়। তুমুল বৃষ্টি নামে। নদীর গর্জন, তীব্র জলস্রোত, মুশলধারায় বৃষ্টির সম্মিলিত রূপ নদেরচাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড ত্রাসের সঞ্চার করে। উন্মাদিনী, ঘোরতরা নদী কখন প্রাণঘাতিনী হয়ে উঠবে এই ভয়ে নদেরচাঁদ আকুল হয়ে উঠে স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করে।

৬. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” – নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ছিল ? ‘সে’ কীভাবে তা বুঝতে পেরেছিল ? ২+৩

উত্তর – নদীর বিদ্রোহের কারণ: এখানে ‘নদীর বিদ্রোহ’ বলতে আধুনিকতার সঙ্গে প্রকৃতির বিদ্রোহের প্রসঙ্গ এসেছে। আধুনিক মানুষ নিজের প্রয়োজনে প্রকৃতির নানা উপকরণ ব্যবহার করছে। নদীও তার থেকে দূরে নয়। মানুষ নদীর স্বাভাবিক গতিপথকে নানাভাবে সংকীর্ণ করে তুলেছে। আর এখানেই নদীর বিদ্রোহ বলে নদেরচাঁদের মনে হয়েছে। মানুষের সঙ্গেই তার বিদ্রোহ। নদী তার উপরকার ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বিপুল জলরাশি আছড়ে ফেলে যেন তার হৃদয়ের ক্ষোভ প্রকাশ করতে চেয়েছে।

নদীর বিদ্রোহের কারণ উপলব্ধি: দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘সে’ অর্থাৎ নদেরচাঁদ বুঝতে পেরেছে নদী কেন আজ বিদ্রোহী রূপ ধারণ করেছে। তার মনে হয়েছে যে, মানুষ যত বেশি আধুনিক হচ্ছে প্রকৃতিকে সে ততো বেশি করে নিঙড়ে নিচ্ছে। প্রকৃতির নানা সহজতাকে সে পদানত করতে চেয়েছে। সে চেয়েছে তার সেবায় সবকিছুকে ব্যবহার করতে। নদীও তার থেকে দূরে থাকতে পারেনি। নদীর উপর তৈরি হয়েছে বাঁধ, গড়ে উঠেছে ব্রিজ। আর এর ফলস্বরূপ নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। বারংবার বাধা পেয়ে নদীও যেন মানুষের এই অহংকারের পরিচয়বাহী ব্রিজের প্রতি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। পাঁচদিনের প্রচণ্ড বৃষ্টিতে নদী আজ ভয়ংকর রূপ লাভ করেছে। সে আজ পূর্ণ ধারায় প্রবাহিত হতে চায়। কিন্তু মানুষের তৈরি বাঁধ তার গতিপথকে করে তুলেছে সংকীর্ণ। আর এখানেই তার বিদ্রোহ। সে চায় স্বাভাবিক ধারায় প্রবাহিত হতে। তাই তার সমগ্র শক্তি সে নিয়োজিত এই বাধা সরানোর কাজে-এমনটাই নদেরচাঁদ মনে করেছে।

৭. “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?”- কাকে রেহাই দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ? এই জিজ্ঞাসার গভীরতর অর্থটি পরিস্ফুট করো । ১+৪ [ অথবা ], “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?”-কার, কী পারার কথা বলা হয়েছে ? মানুষ কেন তাকে রেহাই দেবে না ? ১+৪

উত্তর –  উদ্দিষ্ট ও তার মনোবাঞ্ছা: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের মানুষের তৈরি ব্রিজ আর দু-পাশের মনুষ্যসৃষ্ট বাঁধ ভেঙে ফেলে যান্ত্রিক সভ্যতার বিরুদ্ধে নদীর জেহাদ ঘোষণা করতে পারার কথা বলা হয়েছে।

রেহাই না দেওয়ার কারণ: যন্ত্রের ক্ষমতা সম্পর্কে নদেরচাঁদ জ্ঞাত। তাই তার মনে সন্দেহ জাগে-“কিন্তু পারিবে কি?” অর্থাৎ, মানুষের – বুদ্ধি আর যন্ত্রের কৌশল একসঙ্গে নদীর স্বাভাবিক চলার ছন্দকে যেভাবে রুদ্ধ করেছে, তা নদী অতিক্রম করতে পারবে না। আর যদিও পারে মানুষ তাকে রেহাই দেবে না। আবারও নিজের সুবিধার্থে গড়ে তুলবে ব্রিজ, শক্ত করে বাঁধবে নদীবাঁধ। তাই বর্ষার অনন্ত জলরাশি নদীকে যতই বন্দিদশা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখাক না কেন যন্ত্র সভ্যতায় বলীয়ান মানুষ পুনরায় তাকে বেঁধে ফেলবে নিজের সুবিধামতো। এভাবেই প্রকৃতির বুকে গভীর-প্রশস্ত রূপে স্বাভাবিক ছন্দে বহমান নদীর রূপ নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা রুগ্ম নদীর মতো হতে বেশিদিন সময় লাগবে না। আধুনিক সভ্যতা প্রকৃতির ওপর যেভাবে নিজের অন্যায় কর্তৃত্ব জাহির করে চলেছে তার আস্ফালন দেখেই নদেরচাঁদের এই উদ্বেগ প্রকাশ।

৮. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অবলম্বনে নদেরচাঁদ চরিত্রটির মূল্যায়ন করো ।

উত্তর –  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র হল নদেরচাঁদ। আলোচ্য গল্পে তার যে বৈশিষ্ট্যসমূহ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তা হল-

কাজের প্রতি একাগ্রতা: আমরা গল্পের আরম্ভে লক্ষ করি নদেরচাঁদ তার কাজের প্রতি অবিচল ও একাগ্র। সে চারটে পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ঠিক মতন পার করিয়ে তবে কর্মস্থল থেকে বের হয়েছে। এ ছাড়া সে নিজেই বলেছে, “ছোটো হোক, তুচ্ছ হোক, সে তো একটা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার, দিবারাত্রি মেল, প্যাসেঞ্জার আর মালগাড়িগুলির তীব্রবেগে ছুটাছুটি নিয়ন্ত্রিত করিবার দায়িত্ব যাহাদের সেও তো তাহাদেরই একজন,…”।

নদীর প্রতি আকর্ষণ ও আত্মীয়তা: নদেরচাঁদের সব থেকে বড়ো যে গুণটি এখানে উঠে এসেছে তা হল, নদীর প্রতি তার তীব্র আকর্ষণ। নদীকে সে তার মিত্র, সখা হিসেবেই যেন দেখেছে। তার অদর্শন জনিত তীব্র বেদনা তার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। নদীর জন্য তার চোখের জলও ঝরেছে-“বড়ো হইয়া একবার অনাবৃষ্টির বছরে নদীর ক্ষীণ স্রোতধারাও প্রায় শুকাইয়া যাইবার উপক্রম করিয়াছে দেখিয়া সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল; …”।

শিশুসুলভ কৌতূহল প্রবণতা: নদী প্রসঙ্গে যেন তার শিশুসুলভকৌতূহল প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচদিন ধরে বৃষ্টির মধ্যে বেদনাপূর্ণ যে পত্র নিজের প্রিয়াকে লিখেছে, তাও অবলীলায় সে নদীর স্রোতে ছুড়ে ছুড়ে দিয়েছে, শিশুর মতন নদীর স্রোতের সঙ্গে খেলা করার আনন্দে। এখানে যেন তার বিরহ-মিলনপূর্ণ ভালোবাসা নদীকে কেন্দ্র করে একাকার হয়ে গেছে।

দার্শনিক সুলভ মানসিকতা: গল্পের অন্তিমে আমরা দেখি তার মধ্যে এক দার্শনিক সুলভ ভাবের উদয় হয়েছে। সে নদীর এমন বেগবান জলধারার পথে বাধার কারণ হিসেবে মানুষের সুখ-সুবিধার জন্য নির্মিত বাঁধকে দায়ী করেছে। সে মনে করেছে, নদী আজ সর্বশক্তি দিয়ে তার উপরকার বাধাকে দূর করে দিয়ে প্রবাহিত হবে। কিন্তু পর মুহূর্তেতার মনে হয়েছে- “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?”-মানুষ আবার তার প্রয়োজনে ব্রিজের বাঁধ গড়ে তুলবে। নদী ক্ষীণ হতে হতে একদিন হারিয়ে যাবে। এখানে তার কবিত্বময়তারও প্রকাশ ঘটেছে। এরই ফলস্বরূপ সেও হারিয়ে গেছে ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের নীচে।

শেষ কথা: তাই বলতে হয় নদেরচাঁদ এক ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে এখানে উপস্থিত হয়েছে। গল্পের অগ্রগতিতে ও সার্থকতায় তার ভূমিকা সর্বাগ্রে স্বীকার করতে হয়-আর এখানেই তার সার্থকতা।

৯. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদীর প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান কীভাবে নদেরচাঁদ পেয়েছিল, তা গল্প অনুসারে বিশ্লেষণ করো । [ অথবা ], নদেরচাঁদের মর্মান্তিক পরিণতির কথা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প অবলম্বনে লেখো

উত্তর – প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের সঙ্গে নদী তথা প্রকৃতির সম্পর্কের এক নব পর্যায় উদ্‌ঘাটিত করেছেন। এই গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদের জন্ম থেকে তার শৈশব, কৈশোর, যৌবন অতিবাহিত হয়েছে নদীকে কেন্দ্র করে। নদীর সঙ্গে এমনই তার নাড়ির টান যে বিধাতা তার কর্মক্ষেত্রেও নদীর সঙ্গে জীবনের যোগ অব্যাহত রেখেছেন।

নদেরচাঁদ ও তার কর্মস্থলের নদী: তার গ্রামের নদীর মতো সে নদী ক্ষীণস্রোতা নয়। নদীটি তার স্টেশনের থেকে এক মাইল দূরে অবস্থিত। পূর্ণযৌবনা নদীটির উপর রয়েছে ইট, সুরকি, সিমেন্টে গড়া রেলব্রিজ আর দু-পাশে মানুষের তৈরি বাঁধ যা নদীর বিস্তারকে সংকুচিত করে রেখেছে। দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা মেল-প্যাসেঞ্জার কিংবা মালগাড়িগুলিকে নিয়ন্ত্রণের গুরুদায়িত্ব পালন করার ফাঁকে প্রতিদিন নদেরচাঁদ ছুটে যায় রেলব্রিজের কাছে এই নদীটিকে দেখতে।

নদীর প্রতি নদেরচাঁদের গভীর আকর্ষণ: পাঁচদিন অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদীকে না দেখতে পেয়ে বৃষ্টি শেষে ছটফট করতে করতে নদেরচাঁদ ছুটে যায়; রেলব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে বসে সে নদীকে দু-চোখ ভরে দেখে। কিন্তু পাঁচদিনের বর্ষায় পুষ্ট এই নদীর রূপ তার কাছে পরিচিত নয়-“…এই নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল।“ নদীর উদ্দাম জলরাশি, স্ফীত-ফেনিল স্রোত ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে যেভাবে আবর্ত সৃষ্টি করছিল তা দেখেই নদেরচাঁদের মনে হয় নদী যেন বিদ্রোহী হয়ে সব ভেঙে চুরমার করে দিতে চায়। এমতাবস্থায় নদীর বন্দিদশা উপলব্ধি করেই মানুষের তৈরি ব্রিজ আর দু-পাশের বাঁধকে তার অপ্রয়োজনীয় মনে হয়।

যন্ত্রের হাতে অপমৃত্যু: এসব কথা ভাবতে ভাবতেই নদীর মুক্তি কামনা করে সে যখন রেললাইন ধরে স্টেশনের দিকে ফিরছিল তখনই ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে যায়। মানুষের অযথা পেষণ থেকে নদীর বদ্ধ রূপকে মুক্ত করার আন্তরিক বাসনাই যেন কাল হয় নদেরচাঁদের জীবনে। তাই নদীকে ভালোবাসার চরম মূল্য তাকে দিতে হয় নিজের জীবন দিয়েই।

আরও পড়ুন –

Click Here – পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর

YouTube –Samim Sir

Leave a Comment