পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ) // Pather Dabi Golpo Question Answer Class 10
পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর
Pather Dabi Golpo Question Answer
প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, এই পোস্টটিতে আমি তোমাদের দেখিয়েছি পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) মাধ্যমিক / দশম শ্রেণীর বাংলা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লেখা পথের দাবী গল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষায় কমন পাওয়ার মতো প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন । আর হ্যাঁ, একটা কথা মনে রাখবে যে প্রশ্নগুলির পাশে বেশি স্টার মার্ক (*) সেই প্রশ্নগুলির খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সাজেশনের অন্তর্ভুক্ত । এতো সব প্রশ্নের উত্তর যদি তোমরা না পড়তে পারো , তবে স্টার মার্ক (*) প্রশ্ন উত্তরগুলি পড়লেই হবে । কিন্তু সবচেয়ে বেশি স্টার মার্ক (*) প্রশ্ন উত্তরগুলি আগে পড়বে ।
মার্ক – 1 ( MCQ )
১. ‘পথের দাবী’ গল্পের রচয়িতা হলেন –
(ক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
(খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(গ) সুবোধ ঘোষ
(ঘ) পান্নালাল প্যাটেল
উত্তর – (খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
২. পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট’ কে ছিল ?–
(ক) সব্যসাচী মিত্র
(খ) সব্যসাচী মৌলিক
(গ) সব্যসাচী মল্লিক
(ঘ) সব্যসাচী মজুমদার
উত্তর – (গ) সব্যসাচী মল্লিক
৩. সব্যসাচী মল্লিক পেশায় ছিলেন –
(ক) শিক্ষক
(খ) ডাক্তার
(গ) পুলিশ
(ঘ) কেরানি
উত্তর – (খ) ডাক্তার
৪. ‘পোলিটিক্যাল’ সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিকের বয়স –
(ক) পঁচিশ-ত্রিশ-এর বেশি নয়
(খ) চল্লিশ-পঞ্চাশের বেশি নয়
(গ) আটাশ-উনত্রিশের মধ্যে
(ঘ) ত্রিশ-বত্রিশের অধিক নয়
উত্তর – (ঘ) ত্রিশ-বত্রিশের অধিক নয়
৫. বাবুটির স্বাস্থ্য গেলেও শখ কত আনা বজায় আছে ? –
(ক) পনেরো আনা
(খ) তেরো আনা
(গ) দশ আনা
(ঘ) ষোলো আনা
উত্তর – (ঘ) ষোলো আনা
৬. “কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি।”-সদাশয় ব্যক্তিটি হলেন –
(ক) জগদীশবাবু
(খ) নিমাইবাবু
(গ) অপূর্ব
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তর – (ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
৭. ‘কেবল আশ্চর্য’-আশ্চর্য বিষয়টি কী ? –
(ক) শক্ত সবল শরীর
(খ) দুটি হাতের শক্তি
(গ) দুটি চোখের দৃষ্টি
(ঘ) বার্নিশ করা পাম্পশু
উত্তর – (গ) দুটি চোখের দৃষ্টি
৮. পুলিশস্টেশনে আটক ভারতীয়রা চাকরির উদ্দেশ্যে চলে এসেছে –
(ক) বর্মাতে
(খ) রেঙ্গুনে
(গ) নাগপুরে
(ঘ) সিঙ্গাপুরে
উত্তর – (খ) রেঙ্গুনে
৯. পুলিশস্টেশনে আটক লোকেদের বর্মা থেকে চাকরি ছেড়ে আসার কারণ –
(ক) ইংরেজ পুলিশের অত্যাচার
(খ) প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব
(গ) জলহাওয়া সহ্য না হওয়া
(ঘ) মাইনে কম পাওয়া
উত্তর – (গ) জলহাওয়া সহ্য না হওয়া
১০. বর্মা অয়েল কোম্পানি অবস্থিত ছিল –
(ক) ভামো শহরে
(খ) রেঙ্গুনে
(গ) উত্তর ব্রহ্মদেশে
(ঘ) তিব্বতে
উত্তর – (গ) উত্তর ব্রহ্মদেশে
১১. “বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো।” – বুড়ো মানুষটি হলেন –
(ক) জগদীশ
(খ) অপূর্ব
(গ) গিরীশ মহাপাত্র
(ঘ) নিমাইবাবু
উত্তর – (ঘ) নিমাইবাবু
১১. “সংসারের মিয়াদ বোধ করি বেশি দিন নাই ” – যার মিয়াদ বেশি দিন নাই –
(ক) জগদীশবাবুর
(খ) নিমাইবাবুর
(গ) তলওয়ারকরের
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্রের
উত্তর – (ঘ) গিরীশ মহাপাত্রের
১২. গিরীশ মহাপাত্রের পরনে কী পোশাক ছিল ? –
(ক) উত্তরীয়
(খ) সাধারণ ধুতি-পাঞ্জাবি
(গ) জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি
(ঘ) সাধারণ শার্ট
উত্তর – (গ) জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি
১৩. গিরীশ মহাপাত্রের রুমালে কীসের ছবি আঁকা ছিল ? –
(ক) বাঘ
(খ) সিংহ
(গ) রামধনু
(ঘ) ফুল
উত্তর – (ক) বাঘ
১৪. কীসের গন্ধে থানাসুদ্ধ লোকের মাথা ধরে গেল ? –
(ক) বাদাম তেলের
(খ) নারকেল তেলের
(গ) সরষের তেলের
(ঘ) লেবুর তেলের
উত্তর – (ঘ) লেবুর তেলের
১৫. গিরীশ মহাপাত্রের পায়ে কী রঙের ফুলমোজা ছিল ? –
(ক) হলুদ
(খ) সবুজ
(গ) লাল
(ঘ) সাদা
উত্তর – (খ) সবুজ
১৬. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক থেকে গন্ডা ছয়েক পয়সার সঙ্গে বেরোল –
(ক) একটি টাকা
(খ) দুটি টাকা
(গ) তিনটি টাকা
(ঘ) দশটি টাকা
উত্তর – (ক) একটি টাকা
১৭. “দয়ার সাগর। পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে।” – বক্তা হলেন – [MP’18]
(ক) জগদীশবাবু
(খ) নিমাইবাবু
(গ) অপূর্ব
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তর – (ক) জগদীশবাবু
১৮. অপূর্বর পিতার বন্ধু হলেন – [MP’19]
(ক) জগদীশবাবু
(খ) রামদাস
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তর – (গ) নিমাইবাবু
Click Here – জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর
১৯. “সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য।” – উক্তিটির বক্তা হলেন –
(ক) জগদীশবাবু
(খ) নিমাইবাবু
(গ) তলওয়ারকর
(ঘ) অপূর্ব
উত্তর – (খ) নিমাইবাবু
২০. “কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়োবাবু।” – এখানে ‘জানোয়ার’ বলা হয়েছে –
(ক) জগদীশবাবুকে
(খ) গিরীশ মহাপাত্রকে
(গ) অপূর্বকে
(ঘ) কেউই নয়
উত্তর – (খ) গিরীশ মহাপাত্রকে
২১. “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”- বস্তুটি হল –
(ক) সিগারেট
(খ) দেশলাই
(গ) গাঁজার কলিকা
(ঘ) কম্পাস
উত্তর – (গ) গাঁজার কলিকা
২২. সব্যসাচী অসাধারণ পারদর্শী ছিলেন –
(ক) আইনশাস্ত্রে
(খ) চিকিৎসাশাস্ত্রে
(গ) গণিতশাস্ত্রে
(ঘ) ন্যায়শাস্ত্রে
উত্তর – (খ) চিকিৎসাশাস্ত্রে
২৩. নিমাইবাবু জগদীশকে যে দিকে নজর দিতে বলেছিলেন –
(ক) বন্দরের দিকে
(খ) স্টেশনের দিকে
(গ) জাহাজঘাটের দিকে
(ঘ) রাত্রের মেল ট্রেনটার দিকে
উত্তর – (ঘ) রাত্রের মেল ট্রেনটার দিকে
২৪. জগদীশবাবু পেশায় ছিলেন –
(ক) পুলিশ
(খ) কেরানি
(গ) ডাক্তার
(ঘ) অ্যাকাউন্ট্যান্ট
উত্তর – (ক) পুলিশ
২৫. “এদের যিনি কর্তা তিনি আমার আত্মীয়” – কর্তা কে ? –
(ক) জগদীশবাবু
(খ) নিমাইবাবু
(গ) রামদাস
(ঘ) তলওয়ারকর
উত্তর – (খ) নিমাইবাবু
২৬. “আচ্ছা, তুমি এখন যেতে পারো মহাপাত্র।” – কথাটি বলেছেন –
(ক) জগদীশবাবু
(খ) অপূর্ব
(গ) তলওয়ারকর
(ঘ) নিমাইবাবু
উত্তর – (ঘ) নিমাইবাবু
২৭. গিরীশ মহাপাত্র পুলিশস্টেশন থেকে বের হয়ে কোন দিকের রাস্তা দিয়ে প্রস্থান করলেন ? –
(ক) দক্ষিণ
(খ) পূর্ব
(গ) পশ্চিম
(ঘ) উত্তর
উত্তর – (ঘ) উত্তর
২৮. “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল ।” – অপূর্ব কোন ব্যাপারে রাজি হয়েছিল ? –
(ক) সব্যসাচী মল্লিককে দেখতে যেতে
(খ) বর্মা নাচ দেখতে যেতে
(গ) রামদাসের স্ত্রীর হাতের মিষ্টান্ন প্রত্যহ গ্রহণ করতে
(ঘ) ভামোর অফিসে চলে যেতে
উত্তর – (গ) রামদাসের স্ত্রীর হাতের মিষ্টান্ন প্রত্যহ গ্রহণ করতে
২৯. “তা ছাড়া এত বড়ো বন্ধু।” – এখানে কাকে ‘এত বড়ো বন্ধু’ বলা হয়েছে ? –
(ক) নিমাইবাবুকে
(খ) রামদাসকে
(গ) খ্রিস্টান মেয়েটিকে
(ঘ) জগদীশবাবুকে
উত্তর – (গ) খ্রিস্টান মেয়েটিকে
৩০. কার ঘরে চুরি হয়েছিল ? –
(ক) সব্যসাচী
(খ) অপূর্ব
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) রামদাস
উত্তর – (খ) অপূর্ব
৩১. অপূর্ব জাতিতে ছিল –
(ক) ব্রাহ্মণ
(খ) ক্ষত্রিয়
(গ) বৈশ্য
(ঘ) শূদ্র
উত্তর – (ক) ব্রাহ্মণ
৩২. “আপনাকেই হয়তো আর একদিন তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।” – কাকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে ? –
(ক) নিমাইবাবুকে
(খ) অপূর্বকে
(গ) সব্যসাচীকে
(ঘ) রামদাসকে
উত্তর – (খ) অপূর্বকে
৩৩. রামদাস পেশায় ছিল –
(ক) কেরানি
(খ) সাংবাদিক
(গ) পেশকার
(ঘ) অ্যাকাউন্ট্যান্ট
উত্তর – (ঘ) অ্যাকাউন্ট্যান্ট
৩৪. “টিফিনের সময় উভয়ে একত্র বসিয়া জলযোগ করিত।” – ‘উভয়ে’ বলতে বোঝানো হয়েছে –
(ক) অপূর্ব ও রামদাসকে
(খ) অপূর্ব ও আরদালিকে
(গ) অপূর্ব ও তেওয়ারিকে
(ঘ) অপূর্ব ও নিমাইবাবুকে
উত্তর – (ক) অপূর্ব ও রামদাসকে
৩৫. “তাহার দুই চোখ ছলছল করিয়া আসিল।” – কার ?-
(ক) অপূর্বর
(খ) রামদাসের
(গ) তেওয়ারির
(ঘ) দেশপ্রেমিকের
উত্তর – (খ) রামদাসের
৩৬. তেওয়ারি বর্মা নাচ দেখতে যে স্থানে গিয়েছিল, তার নাম –
(ক) এনাঞ্জং
(খ) ফয়া
(গ) মিক্সিলা
(ঘ) ভামো
উত্তর – (খ) ফয়া
৩৭. “তাকে আপনার নয় বলবার সাধ্য আর যার থাক আমার নেই” – ‘তাকে’ বলতে বোঝানো হয়েছে –
(ক) স্বদেশপ্রেমীদের
(খ) নিমাইবাবুকে
(গ) জগদীশবাবুকে
(ঘ) রামদাসকে
উত্তর – (ক) স্বদেশপ্রেমীদের
৩৮. রামদাস-অপূর্বর কথোপকথনের সময় ঘড়িতে ক-টা বাজে ? –
(ক) ১টে
(খ) ২টে
(গ) ৩টে
(ঘ) ৪টে
উত্তর – (গ) ৩টে
৩৯. “বুনো হাঁস ধরাই যে এদের কাজ;” – কথাটি বলেছেন –
(ক) রামদাস
(খ) অপূর্ব
(গ) লীলাবতী
(ঘ) হরিদা
উত্তর – (ক) রামদাস
৪০. চুরি না করুক, সাহায্য করেছে –
(ক) তেওয়ারি
(খ) রামদাস
(গ) অপূর্ব
(ঘ) মেয়েটি
উত্তর – (ঘ) মেয়েটি
৪১. “গভর্নমেন্টের কত টাকাই না এরা বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি করে অপব্যয় করলে!” – এখানে ‘বুনো হাঁস’ বলতে বোঝানো হয়েছে –
(ক) রাষ্ট্রদ্রোহীদের
(খ) বর্মাবাসীদের
(গ) ভারতীয় শ্রমিকদের
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর – (ক) রাষ্ট্রদ্রোহীদের
৪২. “বাবাই একদিন এঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন।” – বস্তার বাবা কাকে চাকরি করে দিয়েছিলেন ? –
(ক) তেওয়ারিকে
(খ) নিমাইবাবুকে
(গ) জগদীশবাবুকে
(ঘ) রামদাসকে
উত্তর – (খ) নিমাইবাবুকে
৪৩. বাবুজি, এ-সব কথা বলার দুঃখ আছে।” – কথাটি বলেছিল –
(ক) রামদাস
(খ) জগদীশবাবু
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) অপূর্ব
উত্তর – (ক) রামদাস
৪৪. “কিন্তু তাই বলে আমার দেশের চেয়ে তো তিনি আপনার নন।” – এখানে অপূর্ব কাকে দেশের চেয়ে আপনার বলে মেনে নিতে পারেনি ? –
(ক) নিমাইবাবুকে
(খ) জগদীশবাবুকে
(গ) সব্যসাচী মল্লিককে
(ঘ) রামদাসকে
উত্তর – (ক) নিমাইবাবুকে
৪৫. “তোমার মতো সাহস আমার নেই, আমি ভীরু,” -ভীরু কে ? –
(ক) জগদীশবাবু
(খ) অপূর্ব
(গ) নিমাই
(ঘ) রামদাস
উত্তর – (খ) অপূর্ব
Click Here – অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
Click Here – আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
৪৬. এই সুখবরে তারা সব খুশি হয়ে গেল – ‘সুখবর’-টি হল –
(ক) স্টেশনমাস্টারের অপূর্বকে স্টেশন থেকে বের করে দেওয়া দেখে
(খ) ফিরিঙ্গি ছোঁড়াদের অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দেওয়া দেখে
(গ) গিরীশ মহাপাত্রের ধরা না পড়ার খবর শুনে
(ঘ) লাথির চোটে অপূর্বের হাড়-পাঁজরা ভেঙে না যাওয়ার খবর শুনে
উত্তর – (ঘ) লাথির চোটে অপূর্বের হাড়-পাঁজরা ভেঙে না যাওয়ার খবর শুনে
৪৭. “মনে হল দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।” -এখানে যার কথা বলা হয়েছে, সে হল –
(ক) রামদাস
(খ) অপূর্ব
(গ) তেওয়ারি
(ঘ) বড়োসাহেব
উত্তর – (খ) অপূর্ব
৪৮. ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল –
(ক) অপূর্বকে
(খ) রামদাসকে
(গ) গিরীশকে
(ঘ) তলওয়ারকরকে
উত্তর – (ক) অপূর্বকে
৪৯. অপূর্বর অন্যমনস্কতা লক্ষ করেছিল –
(ক) রামদাস তলওয়ারকর
(খ) তেওয়ারি
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর – (ক) রামদাস তলওয়ারকর
৫০. অপূর্বর কোথায় এক মুহূর্ত মন টিকছিল না ? –
(ক) বাংলাদেশে
(খ) জাপানে
(গ) চিনে
(ঘ) রেঙ্গুনে
উত্তর – (ঘ) রেঙ্গুনে
৫১. “তোমার চিন্তা নেই ঠাকুর,” – ঠাকুর বলা হয়েছে –
(ক) অপূর্বকে
(খ) ঈশ্বরকে
(গ) রামদাসকে
(ঘ) তেওয়ারিকে
উত্তর – (ঘ) তেওয়ারিকে
৫২. “কোনো কিছু হলেই আফিসে গিয়ে আমাকে সংবাদ দিয়ো।” – এখানে, ‘আমাকে’ বলতে বোঝানো হয়েছে –
(ক) তেওয়ারিকে
(খ) গিরীশ মহাপাত্রকে
(গ) তলওয়ারকরকে
(ঘ) অপূর্বকে
উত্তর – (গ) তলওয়ারকরকে
৫৩. বড়োসাহেব অপূর্বকে পাঠিয়েছিল –
(ক) ভামোতে
(খ) ম্যানডালে
(গ) রেঙ্গুনে
(ঘ) ব্রহ্মদেশে
উত্তর – (ক) ভামোতে
৫৩. “আপাতত ভামো যাচ্চি।” -বক্তা হলেন –
(ক) তলওয়ারকর
(খ) নিমাইবাবু
(গ) বড়োসাহেব
(ঘ) অপূর্ব
উত্তর – (ঘ) অপূর্ব
৫৪. অপূর্বর সঙ্গে ভামোতে গিয়েছিল –
(ক) আরদালি
(খ) একজন ব্রাহ্মণ পিয়াদা
(গ) আরদালি ও একজন ব্রাহ্মণ পেয়াদা
(ঘ) তেওয়ারি
উত্তর – (গ) আরদালি ও একজন ব্রাহ্মণ পেয়াদা
৫৫. “লল্লাটের লেখা তো খণ্ডাবে না।” – উক্তিটি করেছেন –
(ক) জগদীশবাবু
(খ) গিরীশ মহাপাত্র
(গ) অপূর্ব
(ঘ) রামদাস
উত্তর – (খ) গিরীশ মহাপাত্র
৫৬. “আমি বাবু ধর্মভীরু মানুষ।” – ধর্মভীরু মানুষটি হলেন –
(ক) তেওয়ারি
(খ) অপূর্ব
(গ) গিরীশ মহাপাত্র
(ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর – (গ) গিরীশ মহাপাত্র
৫৭. “আশ্চয্যি নেহি হ্যায় বাবু সাহেব,” – বাবুসাহেবটি হলেন –
(ক) অপূর্ব
(খ) সব্যসাচী মল্লিক
(গ) তলওয়ারকর
(ঘ) বড়োবাবু
উত্তর – (গ) তলওয়ারকর
৫৮. “সে হাত বাড়াইয়া বন্ধুর করমর্দন করিল।” -বন্ধুটি হল –
(ক) নিমাইবাবু
(খ) অপূর্ব
(গ) গিরীশ মহাপাত্র
(ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর – (খ) অপূর্ব
৫৯. “কিন্তু এই হাসিতে তলওয়ারকর যোগ দিল না।” – কার হাসিতে তলওয়ারকর যোগ দেয়নি ? –
(ক) নিমাইবাবুর
(খ) সব্যসাচীর
(গ) অপূর্বর
(ঘ) জগদীশবাবুর
উত্তর – (গ) অপূর্বর
৬০. ভামো যাত্রাকালে অপূর্ব কোন শ্রেণির ট্রেন যাত্রী ছিল ? –
(ক) প্রথম শ্রেণি
(খ) দ্বিতীয় শ্রেণি
(গ) তৃতীয় শ্রেণি
(ঘ ) কোনোটিই নয়
উত্তর – (ক) প্রথম শ্রেণি
৬১. “দুজন বন্ধু নোক আসার কথা ছিল,” –
(ক) ম্যানডালে থেকে
(খ) ভামো থেকে
(গ) মিথিলা থেকে
(ঘ) এনাঞ্ঝাং থেকে
উত্তর – (ঘ) এনাঞ্ঝাং থেকে
৬২. গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে অপূর্বর পুনরায় কোথায় দেখা হয়েছিল ? –
(ক) পুলিশস্টেশনে
(খ) জাহাজঘাটায়
(গ) রেলস্টেশনে
(ঘ) বিমানবন্দরে
উত্তর – (গ) রেলস্টেশনে
৬৩. অপূর্ব ট্রেনে যে পাত্রে তার আহার সম্পন্ন করল –
(ক) মাটির পাত্রে
(খ) পিতলের পাত্রে
(গ) লোহার পাত্রে
(ঘ) স্টিলের পাত্রে
উত্তর – (খ) পিতলের পাত্রে
৬৪. অপূর্বর কামরায় লোক ছিল –
(ক) সে একা
(খ) দুজন
(গ) তিনজন
(ঘ) চারজন
উত্তর – (গ) তিনজন
৬৫. আরদালি অপূর্বর জন্য আগে থেকে কী রেখে গিয়েছিল ? –
(ক) বদলানোর জামাকাপড়
(খ) স্নানের জল
(গ) শয্যা প্রস্তুত করে
(ঘ) জল ও পান
উত্তর – (ঘ) জল ও পান
৬৬. ভামো যাত্রাকালে পুলিশ অপূর্বর নাম –ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেছিল –
(ক) চারবার
(খ) দুইবার
(গ) তিনবার
(ঘ) একবার
উত্তর – (গ) তিনবার
২০. ‘ইচ্ছা করিলে আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি।” – বলেছিল –
(ক) পুলিশ কর্মচারী
(খ) নিমাইবাবু
(গ) রামদাস
(ঘ) স্টেশনমাস্টার
উত্তর – (ক) পুলিশ কর্মচারী
মার্ক – 1 ( SAQ )
SAQ
১. “মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল” – কে, কেন হাসি গোপন করেছিল?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত অসংগতিপূর্ণ পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে অপূর্ব মুখ ফিরিয়ে হাসি গোপন করল।
২. “পুলিশ-স্টেশনে প্রবেশ করিয়া দেখা গেল,”- কে কী দেখল ?
উত্তর – পুলিশস্টেশনে প্রবেশ করে অপূর্ব দেখল, সামনের হল ঘরে জন-ছয়েক বাঙালি মোটঘাট নিয়ে বসে আছে। জগদীশবাবু তাদের টিনের তোরঙ্গ ও ছোটো-বড়ো পুঁটলি খুলে তদারকি শুরু করেছেন।
৩. “নিমাইবাবু হাসিয়া… কহিলেন” – নিমাইবাবু হেসে কী বললেন?
উত্তর – নিমাইবাবু হেসে বলেন- গিরীশ মহাপাত্র কতটা সদাশয় ব্যক্তি সে নিজে গাঁজা খায় না কিন্তু পথে কুড়িয়ে পেয়ে একটি গাঁজার কলকে পকেটে রেখেছে যদি কারও কাজে লাগে এই ভেবে।
৪. “কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়োবাবু।” – কথাটি কে বলেছে ?
উত্তর – কিন্তু জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়োবাবু”-কথাটি বলেছেন ব্রিটিশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিমাইবাবুর সহকারী জগদীশবাবু।
৫. গিরীশ মহাপাত্রের দুটি চোখের দৃষ্টি দেখে অপূর্বর কী মনে হয়েছিল ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্রের দুটি চোখের দৃষ্টি দেখে অপূর্বর মনে হয়েছিল সেখানে রয়েছে গভীর জলাশয়ের রহস্য। ওই দৃষ্টির অতলে তার প্রাণশক্তিটি লুকোনো রয়েছে এবং মৃত্যুও সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পাবে।
৬. “তার আমি জামিন হতে পারি।” – বক্তা কেন জামিন হতে চেয়েছেন ?
উত্তর – পলিটিকাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিকের সঙ্গে গিরীশ মহাপাত্রের কালচার অর্থাৎ বেশভূষা, আচার-আচরণ, চেহারার বৈশিষ্ট্য একদমই বেমানান, তাই অপূর্ব পুলিশ কর্তা নিমাইবাবুকে বলে গিরীশকে ছেড়ে দিতে এবং প্রয়োজনে সে তার জামিন হতেও সম্মত আছে।
৭. “নিমাইবাবু চুপ করিয়া রহিলেন।” – নিমাইবাবু কেন চুপ করে থাকলেন ?
উত্তর – অপূর্ব সব্যসাচী মল্লিক হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিটির আপাদমস্তক বারবার নিরীক্ষণ করে সন্দেহের নিরসন করে জানায়, যে লোকটিকে নিমাইবাবু খুঁজছেন এ ব্যক্তি সে কোনো প্রকারে হতে পারে না-এ কথা শুনেই নিমাইবাবু চুপ করে থাকলেন।
৮. গিরীশ মহাপাত্রের বুক পকেটে কী ছিল ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্রের বুক পকেটে ছিল, লোহার কম্পাস, মাপ নেওয়ার কাঠের একটি ফুটবুল, কয়েকটি বিড়ি, একটি দেশলাই ও একটি গাঁজার কলিকা।
Click Here – আফ্রিকা কবিতা প্রশ্ন উত্তর
Click Here – হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর
৯. “অপূর্ব মুগ্ধ হইয়া সেইদিকে চাহিয়া ছিল”- কোন দিকে চেয়েছিল ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্রের রোগা মুখের অদ্ভুত চোখের দৃষ্টির দিকে অপূর্ব মুগ্ধ হয়ে চেয়েছিল।
১০. “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন ? – কোন ‘বস্তুটি’ পকেটে ছিল ?[MP’18]
উত্তর – ‘এ বস্তুটি’ বলতে গাঁজার কলিকাটির কথা বলা হয়েছে।
১১. “জগদীশবাবু চটিয়া উঠিয়া কহিলেন, দয়ার সাগর!” – জগদীশবাবু কাকে, কেন ‘দয়ার সাগর’ বলেছেন ?
উত্তর – জগদীশবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে ‘দয়ার সাগর’ বলে বিদ্রুপ করেছেন। গিরীশ মহাপাত্রের হাতে গাঁজা সাজার লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে, সে সাফাই দেয় যে ইয়ার বন্ধুরা কেউ সেজে দিতে বললে সে তা করে, নিজে খায় না। এ কথা শুনে অভিজ্ঞ পলিশকর্মী জগদীশবাবু অবিশ্বাসের ঢঙে উক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
১২. “বড়োবাবু হাসিতে লাগিলেন।” – বড়োবাবুর হাসির কারণ কী ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্রের মাথার লেবুর তেলের গন্ধে থানাসুদ্ধ সবার মাথা ধরার উপক্রম হওয়ার কথা জগদীশবাবুর মুখে শুনে বড়োবাবু হাসতে শুরু করেন।
১৩. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট ও ট্যাক থেকে কী কী বস্তু পাওয়া গিয়েছিল ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক থেকে একটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা এবং পকেট থেকে একটি লোহার কম্পাস, মাপ করার কাঠের একটি ফুটবুল, কয়েকটি বিড়ি, একটি দেশলাই ও একটি গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল।
১৪. “লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল” – লোকটি কে ?
উত্তর – লোকটি হল গিরীশ মহাপাত্র। তবে আসলে এটি ছিল ‘পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট’ সব্যসাচী মল্লিকের ছদ্মবেশ।
১৫. “কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি” – কাকে কেন ‘সদাশয় ব্যক্তি’ বলা হয়েছে ?
উত্তর – নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে ‘সদাশয় ব্যক্তি’ বলেছেন। কারণ সে নিজে গাঁজা খায় না কিন্তু পথে কুড়িয়ে পেয়ে একটি গাঁজার কলকে পকেটে রেখেছে যদি কারও কাজে লাগে এই ভেবে।
১৬. “মিথ্যাবাদী কোথাকার!” – তাকে মিথ্যাবাদী বলার কারণ কী ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্র পরকে গাঁজা সেজে দেয়, কিন্তু নিজে খায় না-এ কথা জগদীশবাবুর বিশ্বাস হয়নি। তাই তিনি গিরীশ মহাপাত্রকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেছেন।
১৭. “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।” – বুড়োমানুষের কোন্ কথা শুনতে বলা হয়েছে ? [MP ‘20]
উত্তর – বুড়ো মানুষটি অর্থাৎ নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তাকে আর গাঁজা খেতে নিষেধ করেছিলেন।
১৮. নিমাইবাবু জগদীশবাবুকে কেন রাত্রের মেলট্রেনের প্রতি দৃষ্টি রাখতে বলেছেন ?
উত্তর – নিমাইবাবু জগদীশবাবুকে রাতের মেলট্রেনের প্রতি দৃষ্টি রাখতে বলেছেন সব্যসাচী মল্লিককে ধরার অভিপ্রায়ে। কারণ, সব্যসাচী মল্লিক বর্মায় এসেছে এবং রাত্রের অন্ধকারের সুযোগে তার গমনাগমনের সম্ভাবনা। তাই তাকে গ্রেফতার করার জন্য রাত্রের মেলট্রেনের দিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন।
১৯. “কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়োবাবু।” – এখানে কে, কাকে ‘জানোয়ার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ?
উত্তর – এখানে জগদীশবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে ‘জানোয়ার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০. “আজ বাড়ি থেকে কোনো চিঠি পেয়েছেন নাকি?” – তলওয়ারকর এ প্রশ্ন করেছিল কেন?
উত্তর – অপূর্ব সব্যসাচীর চিন্তায় বিভোর হয়ে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল। তাই তলওয়ারকরের মনে হয়েছিল বাড়ি থেকে চিঠি পেয়েই হয়তো অপূর্ব আনমনা হয়ে পড়েছে।
২১. “টিফিনের সময় উভয়ে একত্রে বসিয়া জলযোগ এ করিত” – উভয়ে বলতে কে কে ?
উত্তর – উভয়ে বলতে অপূর্ব ও রামদাস তলওয়ারকরের কথা বলা হয়েছে।
২২. “বাবুজি, এ-সব কথা বলার দুঃখ আছে।” – কী কথা বলার দুঃখ আছে বলে বলা হয়েছে ?
উত্তর – নিমাইবাবু অপূর্বর কাকা, আত্মীয়, শুভাকাঙ্ক্ষী হলেও রাজদ্রোহী সব্যসাচী তার কাছে অনেক বেশি আপনার। অপূর্বর মুখে এ কথা শুনে তলওয়ারকরের মনে হয়েছিল, এসব কথা বললে দুঃখ পেতে হবে।
২৩. “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল।” – অপূর্ব কী বিষয়ে রাজি হয়েছিল ?
উত্তর – যতদিন পর্যন্ত অপূর্বর মা কিংবা বাড়ির কোনো আত্মীয়া মহিলা এসে বাসা ও খাওয়া-দাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা না করেন, ততদিন ছোটো বোনের হাতের তৈরি যৎসামান্য মিষ্টান্ন প্রতিদিন তাকে গ্রহণ করতে হবে-তলওয়ারকরের স্ত্রীর এই প্রস্তাবে অপূর্ব রাজি হয়েছিল।
২৪. “গভর্নমেন্টের কত টাকাই না এরা বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি করে অপব্যয় করলে।” – এখানে ‘বুনো হাঁস’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর – পুলিশের চোখে যারা রাজদ্রোহী রূপে সন্দেহভাজন অপূর্ব তাদেরই ‘বুনো হাঁস’ আখ্যা দিয়েছে।
২৫. নিমাইবাবুর চাকরি কে করে দেন ?
উত্তর – নিমাইবাবুর চাকরি করে দেন অপূর্বর পিতা।
২৬. “রামদাস হাসিয়া কহিল,” – রামদাস হেসে কী বলেছিল ?
উত্তর – রামদাস হেসে বলেছিল যে, বুনো হাঁস অর্থাৎ রাজদ্রোহী ধরাই ব্রিটিশ পুলিশের কাজ। গৃহস্থের অর্থাৎ অপূর্বর চোর ধরে দেওয়ার জন্য এরা নেই।
২৭. “আফিসের একজন ব্রাহ্মণ পিয়াদা এই-সকল বহিয়া আনিত।” – কী বয়ে আনার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর – রামদাসের স্ত্রীর নিজের হাতে বানানো খাবার অফিসের ব্রাহ্মণ পেয়াদার বয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।
২৮. “তা ছাড়া এত বড়ো বন্ধু!” – এখানে বন্ধু বলে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে ?
উত্তর – অপূর্ব রেঙ্গুনে যে বাড়িটিতে ভাড়ায় থাকত সেই বাড়ির উপরের তলায় যে খ্রিস্টান মেয়েটি থাকত তাকে এখানে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বন্ধু বলা হয়েছে।
২৯. “ইত্যবসরে এই ব্যাপার”। – কোন ব্যাপারের কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর – অপূর্বর বাড়িতে তার সঙ্গে থাকা তেওয়ারির ফয়ায় বর্মা নাচ দেখতে যাওয়ার অবসরে তাদের ঘরে চুরি হয়ে গিয়েছিল। এখানে ব্যাপার বলতে অপূর্বর ঘরে সংঘটিত সেই চুরির কথাই বলা হয়েছে।
৩০. “তিনি আমার আত্মীয়,” – কোন সূত্রে আত্মীয় ?
উত্তর – নিমাইবাবু হলেন অপূর্বর বাবার বন্ধু। অপূর্ব তাঁকে কাকা কাকা বলে ডাকে। অপূর্বর বাবাই তাঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন। এই সূত্রেই নিমাইবাবু অপূর্বর আত্মীয়।
৩১. “… আজ থেকে মাথায় তুলে নিলাম।” – বক্তা কী মাথায় তুলে নিয়েছেন ?
উত্তর – অপূর্ব অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানায় যে, মা-ভাইবোনতুল্য যেসব স্বদেশিরা ব্রিটিশ শাসকদের ‘সহস্রকোটি অত্যাচার’ থেকে দেশবাসীদের উদ্ধার করতে চান তাঁদের আপনজন বলে সম্বোধন করার জন্য যত দুঃখই সহ্য করতে হোক না-কেন তা তিনি মাথা পেতে নেবেন।
৩২. “কৈ এ ঘটনা তো আমাকে বলেন নি?” – এখানে কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর – বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে স্টেশনমাস্টারের কাছে গেলে তিনিও দেশি লোক বলে তাকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। এখানে সেই ঘটনার কথা বলা হয়েছে।
৩৩. অপূর্ব কোন ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল ?
উত্তর – বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। সে এই অন্যায় ঘটনারই প্রতিবাদ করেছিল।
৩৪. অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য অপূর্বকে কী ফল ভোগ করতে হয়েছিল ?
উত্তর – অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে অপূর্ব স্টেশনমাস্টারের কাছে গেলে তিনিও দেশি লোক বলে তাকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন।
৩৫. “এমন তো নিত্য-নিয়তই ঘটচে” – কোন ঘটনা নিত্য-নিয়তই ঘটার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর – পরাধীন ভারতবর্ষে বিদেশি সাহেবদের হাতে দেশীয় মানুষদের অপমানিত, অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনা নিত্য-নিয়তই ঘটার কথা বলা হয়েছে।
৩৬. “তারপর সকালে গেলাম পুলিশকে খবর দিতে।” – কে, কেন পুলিশকে খবর দিতে গিয়েছিল ?
উত্তর – অপূর্বর ঘরে চুরি হওয়ার কারণে সে পুলিশে খবর দিতে গিয়েছিল ।
৩৭. “মনে হল দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।” – কোন কথা মনে করে অপূর্বের এই মনোবেদনা ?
উত্তর – অপূর্বকে রেঙ্গুনের স্টেশনে বিদেশিদের হাতে অত্যাচারিত হতে দেখেও নির্লিপ্ত কিছু দেশীয় মানুষ কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। এই ঘটনাই অপূর্বর মনে তীব্র বেদনা জাগায়।
৩৮. ভামো যাত্রাপথে ট্রেনে অপূর্ব বিরক্ত হয়েছিল কেন ?
উত্তর – ভামো যাত্রাপথে অপূর্ব ছিল প্রথম শ্রেণির যাত্রী। সে ভেবেছিল রাত্রে কেউ তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে না। কিন্তু সে রাতে পুলিশের লোক বার তিনেক তার ঘুম ভাঙিয়ে নাম-ধাম-ঠিকানা লিখে নেয়। এতে অপূর্ব বিরক্ত হয়।
৩৯. “সব-কটা আফিসেই গোলযোগ ঘটচে।” – ‘সব-কটা আফিস’ কী কী ?
উত্তর – ‘সব-কটা আফিস’ হল-ভামো, ম্যান্ডাল, শোএবো, মিক্সিলা ও প্রোমে অবস্থিত অপূর্বদের অফিস।
৪০. ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বের কে কে সঙ্গী হয়েছিল ? [MP ‘19]
উত্তর – ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বর সঙ্গী হয়েছিল অফিসের একজন হিন্দুস্থানি ব্রাহ্মণ পেয়াদা এবং একজন আরদালি।
৪১. অপূর্বকে রাত্রে পুলিশ কতবার জাগিয়েছিল ?
উত্তর – নাম, ধাম ও ঠিকানা লেখার জন্য রাত্রে পুলিশ অপূর্বকে বার-তিনেক জাগিয়েছিল।
৪২. অপূর্ব ভামোর উদ্দেশ্যে ট্রেন যাত্রায় ট্রেনের কোন্ শ্রেণির যাত্রী ছিল ?
উত্তর – অপূর্ব ভামোর উদ্দেশ্যে ট্রেন যাত্রায় ট্রেনের প্রথম শ্রেণির যাত্রী ছিল।
৪৩. গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে অপূর্বর দ্বিতীয় বার কোথায় দেখা হয়েছিল ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে অপূর্বর দ্বিতীয়বার দেখা হয়েছিল ভামো যাত্রার আগে রেঙ্গুন রেলস্টেশনে।
৪৪. “আমারও তো তাই বিশ্বাস।” – বক্তার কী বিশ্বাস ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্র অপূর্বকে যখন বলে ললাটের লেখা খণ্ডন করা যাবে না তখন এ কথা বক্তা অর্থাৎ অপূর্ব তার বিশ্বাসের কথা জানায়।
৪৫. “ইহা যে কত বড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।” – ‘ভ্রম’-টি কী ?[MP ‘17]
উত্তর – ভামো যাত্রাকালে অপূর্ব ট্রেনের প্রথম শ্রেণির যাত্রী ছিল। সে মনে মনে ভেবেছিল প্রথম শ্রেণির যাত্রী হওয়ায় রাতে কেউ তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাবে না। কিন্তু তার এই ভাবনা ভ্রমে পরিণত হয় যখন পুলিশ তিনবার তার ঘুম ভাঙিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
৪৬. “কিন্তু তোমার বাপু একটা ভুল হয়েছে,” – কার, কোন ভুলের কথা এখানে বলা হয়েছে ?
উত্তর– প্রথমবার পুলিশস্টেশনে অপূর্বকে দেখে গিরীশ মহাপাত্রের তাকে পুলিশ বলে ভুল ভাবার কথা দ্বিতীয়বার সাক্ষাতে অপূর্ব জানায়।
৪৭. ‘কিন্তু এই হাসিতে তলওয়ারকর যোগ দিল না।’ – কেন যোগ দিল না ?
উত্তর – রেলস্টেশনে গিরীশ মহাপাত্রকে প্রথমবার এক ঝলক দেখেই তলওয়ারকরের তাকে সন্দেহভাজন বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক বলে সন্দেহ। হয়। তাই তাকে নিয়ে অপূর্ব পরিহাস করলে তলওয়ারকর সেই হাসিতে। – যোগ দেয়নি।
৪৮. “ও নিয়ম রেলওয়ে কর্মচারীর জন্য,” – নিয়মটা কী ?
উত্তর – প্রথম শ্রেণির যাত্রীর ঘুমের ব্যাঘাত কেউ ঘটাতে পারে না-এই নিয়মের কথা এখানে বলা হয়েছে।
Click Here – বহুরূপী গল্প প্রশ্ন উত্তর
Click Here – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন 2026
৪৯. “আমি বাবু ধর্মভীরু মানুষ।” – বক্তা কে ?
উত্তর – “আমি বাবু ধর্মভীরু মানুষ” -উক্তিটির বক্তা হল গিরীশ মহাপাত্র।
৫০. “বাবুজি, ম্যয় নে আপকো তো জরুর কঁহা দেখা” – কে, কাকে এ কথা বলেছেন ?
উত্তর – রামদাস তলওয়ারকর গিরীশ মহাপাত্রকে এ কথা বলেছেন।
৫১. “আজ্ঞে, তা হলে নমস্কার।” – কে, কাকে, কেন নমস্কার জানিয়েছে ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্র অপূর্বকেও নিজের মতো ব্রাহ্মণ জানার পর তাকে নমস্কার জানিয়েছে।
৫২. গিরীশ মহাপাত্র নিজেকে কী ধরনের মানুষ বলেছে ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্র নিজেকে খুবই ধর্মভীরু মানুষ বলেছে।
৫৩. “আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি।” – কাকে, কে এ কথা বলেছে ?
উত্তর – বর্মার জনৈক সাব-ইনস্পেকটর সাহেব অপূর্বকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে ।
মার্ক – 3 প্রশ্ন উত্তর
Mark – 3
১. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে” – কে, কার সম্পর্কে এ কথা বলেছেন ? তার সম্পর্কে বক্তার এরূপ উক্তির কারণ কী ? ১+২
উত্তর – বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক রচনাংশে নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে এ কথা বলেছেন।
উক্তিটির কারণ: গিরীশ মহাপাত্র অসুস্থ, ক্ষয়রোগে আক্রান্ত। সে কাশতে কাশতে সামনে এসেছে। কাশির দমকে হাঁফিয়ে উঠেছে। তাকে দেকে আশঙ্কা হয়েছে, যে-কোনোদিন সে মারা যেতে পারে। তা সত্ত্বেও তার শখ কিছু কম ছিল না।
স্বাস্থ্য খারাপ হলেও শখকে সে বজায় রেখেছে। গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা ও পোশাক-পরিচ্ছদ সেই অসংগতিপূর্ণ শৌখিনত্বেরই সমর্থক। সেখানে তার অদ্ভুতভাবে চুল কাটা, মাথায় লেবুর তেল মাখা, কিংবা রংবাহারি জামাকাপড় পরা ছাড়া নানা বিচিত্র জিনিসের ব্যবহার আছে। তাই নিমাইবাবু তার সম্পর্কে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
২. “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো” – এখানে বুড়ো মানুষটি কে ? তিনি কাকে, কোন্ কথা শুনতে বলেছেন ? ১+২
উত্তর – বুড়ো মানুষের পরিচয়: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে ‘বুড়োমানুষ’ বলতে এখানে ব্রিটিশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিমাইবাবুকে বোঝানো হয়েছে।
যাকে যে কথা শুনতে বলা হয়েছে: নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা খেতে নিষেধ করেছিলেন। গিরীশের স্বাস্থ্য ছিল ভঙ্গুর। দেখে মনে হয়েছিল, সে আর বেশিদিন বাঁচবে না। তাই তার পকেট থেকে গাঁজার কলকে বার হওয়ায় এবং তার মধ্যে গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণ বর্তমান থাকায় নিমাইবাবু তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে চিন্তিত হয়ে তাকে গাঁজা খেতে বারণ করেছিলেন এবং সে কথা শুনতে বলেছিলেন।
৩. “লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল।” – লোকটি কে ? লোকটির পায়ের মোজা ও জুতোর বিবরণ দাও । ১+২
উত্তর – লোকটি: ‘পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত অংশে লোকটি হল গিরীশ মহাপাত্র।
মোজা ও জুতোর বিবরণ: লোকটি অর্থাৎ গিরীশ মহাপাত্রের পায়ে ছিল সবুজ রঙের ফুল মোজা যা ছিল তার হাঁটুর উপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা। আর তার জুতো ছিল বার্নিশ করা পাম্পশু, যার তলাটা মজবুত ও টেকসই করতে আগাগোড়া লোহার নাল বাঁধানো হয়।
৪. “কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি।” -এই মন্তব্যের কারণ কী ?
উত্তর – সদাশয় ব্যক্তি বলার কারণ: পুলিশের খানাতল্লাশিতে গিরীশ মহাপাত্রের বুক পকেট থেকে একটি গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল। নিমাইবাবু গাঁজা খাওয়ার কথা জানতে চাইলে গিরীশ তা অস্বীকার করে। তাহলে কলকে পকেটে কেন তা জানতে চাইলে গিরীশ জানায় যে সে ওটা পথে কুড়িয়ে পেয়েছে। যদি কারও কাছে লাগে, তাই তুলে রেখেছে।
এ কথা শুনে নিমাইবাবু বিশ্বাস করতে পারেননি। তাই জগদীশের কাছে ব্যঙ্গাত্মক সুরে গিরীশ মহাপাত্রকে ‘সদাশয় ব্যক্তি’ বলেছেন।
৫. “কেবল আশ্চর্য সেই রোগা মুখের অদ্ভুত দুটি চোখের দৃষ্টি।” – কার চোখ ? সে চোখের বর্ণনা দাও । ১+২
উত্তর – চোখ যার: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে উদ্ধৃতাংশ গিরীশ মহাপাত্রের চোখের কথা বলা হয়েছে।
চোখের বর্ণনা: গিরীশ মহাপাত্রের রোগা মুখের দুটি চোখের দৃষ্টি অপূর্বর কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছিল। সেই চোখ ছোটো না বড়ো, টানা না গোল, দীপ্ত না প্রভাহীন-তার বিবরণ দিতে যাওয়া বৃথা। গভীর জলাশয়ের মতো সেই চোখদুটিতে কী যে আছে, ভয় হয় এখানে খেলা চলবে না। সাবধানে দূরে দাঁড়ানোই উচিত। এই দুটি চোখের কোনো অতল তলে তার ক্ষীণ প্রাণশক্তিটুকু লুকোনো আছে, মৃত্যুও সেখানে প্রবেশ করতে সাহস করে না। কেবল এই জন্যই যেন সে আজও বেঁচে আছে।
অপূর্ব সেই চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে গেল।
৬. “আর যাই হোক, যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচরের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।“ – বক্তার এরূপ কথা বলার কারণ কী ?
উত্তর – উক্ত কথা বলার কারণ: অপূর্বর হৃদয়ে অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মতো দেশপ্রেমের স্রোত চির প্রবহমান। তাই একজন স্বদেশপ্রেমী হিসেবে সব্যসাচীর কালচার সম্বন্ধে তার ধারণা ছিল। ফলত, ধৃত গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক-আশাক কালচারের সঙ্গে কোনোমতেই যে সব্যসাচীর সাদৃশ্য থাকতে পারে না, এ কথা নিমাইবাবুর কাছে সে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেছে। সব্যসাচী একদিকে উন্নতমনা তথা উৎকৃষ্ট সংস্কৃতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবেই অপূর্বর মনের মণিকোঠায় স্থান লাভ করেছে। ফলে ধৃত গিরীশ মহাপাত্রের সাজপোশাক তথা কথাবার্তার মধ্য দিয়ে কালচারের যে নিদর্শন মিলেছে তা সব্যসাচীর কালচারের ধারে কাছেও পৌঁছোতে পারে না। অপূর্ব তাই পুলিশের বড়োকর্তাকে বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে।
৭. “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে।” -উক্তিটির বক্তা কে ? তিনি কাকে, কেন এ কথা বলেছেন ? ১+২
উত্তর – উক্তির বক্তা: “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে”-উক্তিটির বক্তা হলেন ব্রিটিশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা নিমাইবাবুর সহকারী জগদীশবাবু।
যাকে যে কারণে এ কথা বলা: জগদীশবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে এ কথা বলেছেন। গিরীশের পকেট থেকে গাঁজা খাওয়ার কলকে পাওয়া গেছে। গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণও তার শরীরে দৃশ্যমান। অথচ গিরীশ বলেছে, পরকে সেজে দেয়, নিজে খায় না। ইয়ার বন্ধু কেউ তৈরি করে দিতে বললে দেয়।
জগদীশবাবু এ কথা স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাস করেননি। তাই স্বভাবসুলভপুলিশি হুংকারে তিনি গিরীশকে ব্যঙ্গ করে ওই কথা বলেছেন।
৮. “অপূর্ব তাহার পরিচ্ছদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল।” – অপূর্বর হাসি গোপন করার কারণ কী ?
উত্তর – গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা পোশাক-পরিচ্ছদ ছিল রীতিমতো অসংগতিপূর্ণ। তার ঘাড় ও কানের দিকের চুল ছোটো করে ছাঁটা হলেও সামনের দিকে ছিল লম্বা চুল। সেই চুলে ছিল লেবুর তেলের উৎকট গন্ধ। গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার-পাঞ্জাবি। তার বুক পকেট থেকে দেখা যাচ্ছিল বাঘ আঁকা রুমালে উঁকিঝুকি। পরনে বিলাতি মিলের কালো ঝলমল পাড়ের সুক্ষ্ম শাড়ি, পায়ে সবুজ রঙের ফুল মোজা-হাঁটুর ওপর লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা। বার্নিশ করা পাম্পশু। তলাটা মজবুত ও টেকসই করার জন্য আগাগোড়া নাল দিয়ে বাঁধানো। হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি।
এই অদ্ভুত ও অসংগতিপূর্ণ পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে অপূর্বর হাসি পেয়েছিল এবং ভদ্রতাবশত সে তা গোপন করেছিল।
৯. “রাত্রের মেল ট্রেনটার প্রতি একটু দৃষ্টি রেখো”, – কে, কাকে এ কথা বলেছে ? কেন বলেছে ? ১+২
উত্তর – বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক রচনাংশে নিমাইবাবু জগদীশবাবুকে এ কথা বলেছেন।
কারণ: নিমাইবাবু জগদীশবাবুকে রাতের মেল ট্রেনের প্রতি দৃষ্টি রাখতে বলেছেন সব্যসাচী মল্লিককে ধরার অভিপ্রায়ে। কারণ, সব্যসাচী মল্লিক বর্মায় এসেছে এবং রাত্রের অন্ধকারের সুযোগে তার গমনাগমনের সম্ভাবনা। তাই তাকে গ্রেফতার করার জন্য রাত্রের মেল ট্রেনের দিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন।
১০. “তা ছাড়া এত বড়ো বন্ধু!” – এখানে ‘বন্ধু’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? বন্ধু হয়ে বন্ধুর প্রতি তার কৃতকর্তব্যের পরিচয় দাও । ১+২
[ অথবা ] , “বাস্তবিক, এমন তৎপর, এতবড়ো কার্যকুশলা মেয়ে আর যে কেহ আছে মনে হয় না হে তলওয়ারকর।” – মেয়েটি কে ? তাকে কার্যকুশলা বলার কারণ কী ? ১+২
উত্তর – ‘বন্ধু’ হল: অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে ‘বন্ধু’ বলতে অপূর্ব তার বাসার উপরের তলার বাসিন্দা খ্রিস্টান মেয়েটিকেই নির্দেশ করেছে।
বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা: খ্রিস্টান মেয়েটি অপূর্বর ঘরকে সমূহ চুরির হাত থেকে বাঁচিয়েছে। সে নিজের সাহস ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের জোরে চোর তাড়িয়ে অপূর্বর ঘরকে নিজের তালা দিয়ে বন্ধ করেছে। এমনকি অপূর্ব বাসায় এসে পৌঁছোলে চাবি খুলে দিয়ে একেবারে অনাহূত অবস্থায় তার ঘরে ঢুকে ছড়ানো জিনিসপত্র সব গুছিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া সমস্ত কিছুর ফর্দ করে কোন্ জিনিস আছে আর কোন্ জিনিস খোয়া গেছে তার হিসেব দিয়েছে। এমন কর্মনৈপুণ্যের দ্বারা সেই খ্রিস্টান মেয়েটি অপূর্বর সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
১১. “বাবাই একদিন এঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন।” – বক্তা কে ? তাঁর বাবা কাকে কী চাকরি করে দিয়েছিলেন ?১+২ [MP ‘18]
উত্তর – বক্তা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হল অপূর্ব।
যাঁকে যে চাকরি করে দিয়েছিলেন: নিমাইবাবু হলেন অপূর্বর বাবার বন্ধু। অপূর্ব তাঁকে কাকা বলে ডাকে। তার বাবা নিমাইবাবুকে পুলিশ বিভাগে চাকরি করে দিয়েছিলেন।
১২. “আমি ভীরু, কিন্তু তাই বলে অবিচারের দণ্ডভোগ করার অপমান আমাকে কম বাজে না” – বক্তা কাকে এ কথা বলেছিলেন ? কোন্ অবিচারের দণ্ডভোগ তাঁকে ব্যথিত করেছিল ? ১+২
উত্তর – উদ্দিষ্ট ব্যক্তিঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে অপূর্ব তার বন্ধু ও সহকর্মী রামদাস তলওয়ারকরকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছে।
যে অবিচারের দন্ডভোগ ব্যথিত করেছিল: বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। এই অন্যায়ের প্রতিবিধান চেয়ে স্টেশনমাস্টারের কাছে গেলে সাহেব স্টেশনমাস্টার দেশি লোক হওয়ার অপরাধে তাকে দেশের স্টেশন থেকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। এই অবিচারের যন্ত্রণাই অপূর্বকে ব্যথিত করেছিল।
১৩. “মনে হল দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।” – কাকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি? বক্তার কেন এমন মনে হয় ? ১+২
উত্তর – যাকে উদ্দেশ্য করে যার উক্তি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে বন্ধু ও সহকর্মী রামদাস তলওয়ারকরকে উদ্দেশ্য করে অপূর্ব উক্তিটি করেছে।
এমন মনে হওয়ার কারণ: বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। স্টেশনমাস্টারের কাছে অন্যায়ের প্রতিবিধান চাইতে গেলে তিনিও দেশি লোক বলে তাকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। দেশের অর্থাৎ হিন্দুস্থানের লোক সেখানে কম ছিল না। কিন্তু অপমান তাদের গায়ে ঠেকে না। অপমানিত হতে হতে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। বরং লাথির চোটে অপূর্বর যে হাড়-পাঁজরা ভেঙে যায়নি এই সুখবরেই তারা খুশি হয়ে উঠেছিল। এই কথা ভেবেই অপূর্ব দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় মাটির সঙ্গে মিশে যেতে চেয়েছে।
১৪. “বাবুজি, এ-সব কথা বলার দুঃখ আছে।” – বক্তা কে ? তার কথার মধ্য দিয়ে কোন্ সত্যটি প্রকাশ পেয়েছে ?১+২
উত্তর – বক্তা: ‘পথের দাবী’ গদ্যাংশে রামদাস তলওয়ারকর অপূর্বকে উক্ত উক্তিটি করেছেন।
কথার মধ্যে প্রকাশিত সত্য: অপূর্ব ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক, দেশের মুক্তি সংগ্রামে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লিপ্ত তাদের প্রতি তার আন্তরিক শ্রদ্ধা ছিল। নিমাইবাবু যে বিপ্লবীদের ধরবার জন্য তাড়া করে বেড়াচ্ছেন-এটাও তার পছন্দ নয়। তাই তিনি আত্মীয় হলেও অপূর্বর কাছে বেশি আপন রাজদ্রোহীরা।
কিন্তু অপূর্বর এ ধরনের কথা বলা সরকার সুনজরে দেখবে না-এটাই রামদাসের অভিমত। অর্থাৎ সেই সময়ে রাজদ্রোহীদের সমর্থনে কিছু বলাটাও ব্রিটিশ সরকার পছন্দ করত না।
১৫. “কৈ এ ঘটনা তো আমাকে বলেন নি?” – কোন ঘটনা ? যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি তা বলতে পারেননি কেন ? ১+২
উত্তর – ঘটনা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে উল্লেখিত হয়েছে অপূর্বর নিগ্রহের কথা। বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছেলেরা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দেয়। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য যখন সে সাহেব স্টেশনমাস্টারের কাছে যায় তখন তিনি শুধুমাত্র দেশি লোক বলে দেশের স্টেশন থেকে তাকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। এখানে সেই ঘটনার কথাই বলা হয়েছে।
বলতে না পারার কারণ: এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অপূর্বর স্বজাতীয় হিন্দুস্থানের মানুষেরা কোনো প্রতিবাদ করেনি। বরং লাথির চোটে তার যে হাড়-পাঁজর ভেঙে যায়নি-এই সুখবরেই তারা খুশি হয়ে গিয়েছিল। দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল অপূর্ব। তাই এ কথা সে কারও কাছে প্রকাশ করতে পারেনি।
১৬. ‘তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম জ্বলে না’ – কে, কাকে, কোন্ লাঞ্ছনা করেছিল ? ১+১+১
উত্তর – লাঞ্ছিত ও লাঞ্ছনাকারী: ‘পথের দাবী’ গদ্যাংশে ফিরিঙ্গি যুবকরা অপূর্বকে লাঞ্ছনা করেছিল।
লাঞ্ছনাটি: পরাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অপূর্বর মনে যে যন্ত্রণা, তা বন্ধু রামদাসের কাছে ব্যক্ত করে। কিছু ইংরেজ যুবক অপূর্বকে বিনা দোষে স্টেশন থেকে লাথি মেরে বের করে দেয়। অপূর্ব প্রতিকার চেয়ে স্টেশনমাস্টারের কাছে নালিশ জানালে ইংরেজ স্টেশনমাস্টার কোনোরকম বিচার না করেই অপূর্বকে স্টেশন থেকে কুকুরের মত দূর করে দেয়। অপূর্ব এ সকল লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিল কেবল ভারতীয় হওয়ার কারণে এবং সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা হল উপস্থিত ভারতীয়রা কেউ অপূর্বর হয়ে প্রতিবাদ করেনি
১৭. “ও নিয়ম রেলওয়ে কর্মচারীর জন্য,” – কোন নিয়ম ? সে নিয়ম কোন ব্যবস্থার পরিচয় দেয় ?
উত্তর – নিয়ম: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে উল্লিখিত প্রথম শ্রেণির যাত্রীর ঘুমের ব্যাঘাত কেউ ঘটাতে না পারার নিয়মের কথা এখানে বলা হয়েছে।
ব্যবস্থা: ট্রেনে প্রথম শ্রেণির যাত্রী হওয়ার সুবাদে প্রাপ্ত সুযোগসুবিধা ভোগের নিয়ম শুধুমাত্র রেলওয়ে কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ থাকায় আইন শৃঙ্খলায় পক্ষপাতের ব্যবস্থাটি ফুটে ওঠে। এই নিয়মে ব্রিটিশ শাসিত ভারতে সরকারি রেলওয়ে কর্মচারী ও ভারতীয়দের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা কার্যকর ছিল। প্রথম শ্রেণির যাত্রী হয়েও শুধুমাত্র ভারতীয় হওয়ার কারণে তারা সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হত।
১৮. “তুমি তো ইউরোপিয়ান নও।” – এ কথা কে, কী কারণে বলেছিল ? ১+২
উত্তর – বক্তা: ‘পথের দাবী’ রচনাংশে বর্মার সাব-ইনস্পেকটর সাহেব এ কথা বলেছিল।
এ কথা বলার কারণ: অপূর্ব তার অফিসের কাজে প্রথম শ্রেণির যাত্রী রূপে ভামো শহরে যাচ্ছিল। সকাল পর্যন্ত তার নিদ্রায় কেউ ব্যাঘাত করবে না এমন বিশ্বাস নিয়ে সে ঘুমোতে গেলেও ব্রিটিশ পুলিশের লোক তিনবার তার নিদ্রাভঙ্গ করে নাম-ধাম ও ঠিকানা লিখে নেয়। প্রথম শ্রেণির যাত্রী রূপে সে এই অনাবশ্যক জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিবাদ করলে বর্মার সাব-ইনস্পেকটর কটু কণ্ঠে জবাব দেয়- “তুমি তো ইউরোপিয়ান নও।”
মার্ক – 5 প্রশ্ন উত্তর
Mark – 5
১. “তাহার পরিচ্ছদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল।” – কে হাসি গোপন করল ? তার হাসি পাওয়ার কারণ কী ? ১+৪ [MP ‘20]
উত্তর – যে হাসি গোপন করল: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে অপূর্ব হাসি গোপন করেছিল।
হাসি পাওয়ার কারণ: “পাচ্ছে হাসি, হাসছি তাই”। বাস্তবে হাসি তো এমনি এমনি আসে না। অসংগতি থেকেই হাসি পায়। আর মানুষই অসংগতি ধরতে পারে। কেউ কি ঘাড় ও কানের দিকে ছেঁটে সামনের দিকে লম্বা চুল রাখে? তাতে উৎকট লেবুর তেল মাখায়? গিরীশ মহাপাত্রের চুল ছিল এমনি বিসদৃশ। সাতরঙা জামা সার্কাসের ক্লাউন ছাড়া আর কি কেউ পরে? গিরীশের পরনে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। ধুঁকতে থাকা গিরীশের বুকপকেট থেকে দেখা যাচ্ছিল বাঘ আঁকা রুমালের উঁকিঝুঁকি। কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়িকে ধুতি হিসেবে পরেছিল গিরীশ।
আমরা সাধারণত সাদা কিংবা কালো মোজা পরি। গিরীশের মোজা ছিল সবুজ, মোজা যেখানে সবুজ, সেখানে তার বাঁধন ফিতেও সবুজ হওয়া উচিত। তবেই ম্যাচিং হবে। গিরীশের ফিতে সেখানে লাল। পাম্পশুগুলি বার্নিশ করা। আবার তলাটা মজবুত ও টেকসই করার জন্য আগাগোড়া লোহার নাল দিয়ে বাঁধানো। যে আজ আছে, কাল নেই, তার জুতোর প্রতি এত যত্ন সত্যিই অদ্ভুত। আবার হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি! এই অসংগতিপূর্ণ সাজসজ্জা ও পোশাক-পরিচ্ছদই অপূর্বর হাসি পাওয়ার অন্যতম কারণ।
২. “যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচরের কথাটা একবার ভেবে দেখুন” – কে, কাকে এ কথা বলেছেন ? লোকটির কালচারের পরিচয় দাও । ২+৩
উত্তর – যে যাকে বলেছে: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে অপূর্ব নিমাইবাবুকে এ কথা বলেছে। গিরীশ মহাপাত্রকে দেখার পর সব্যসাচী আর তার মধ্যে যে তফাত তাকে স্পষ্ট করে তোলার জন্যই সে ব্রিটিশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিমাইবাবুকে ওই কথা বলেছে।
কালচারের পরিচয়: ব্রিটিশ পুলিশ যাঁকে খুঁজছিল তিনি হলেন মোস্ট ওয়ান্টেড সব্যসাচী। তিনি বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অসাধারণ পারদর্শী বিলেতের উপাধিধারী রাজশত্রু। মহাভারতের সব্যসাচী অর্জুনের মতোই তাঁর দু-হাত সমানে চলে। শিক্ষা, রুচি, বল, বীর্য-সবেতেই তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এসব কথা অপূর্ব নিমাইবাবুর মুখেই শুনেছে। কিন্তু পুলিশস্টেশনে সব্যসাচী সন্দেহে আটক হওয়া যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে তার সাজসজ্জা, পোশাক-পরিচ্ছদ চূড়ান্ত অসংগতিপূর্ণ ও হাস্যকর। তার চুল, রামধনুরঙা পাঞ্জাবি, সবুজ মোজা, লোহার নাল লাগানো বার্নিশ করা পাম্পশু-সবেতেই চূড়ান্ত বৈসাদৃশ্য। কোথায় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রখর ক্ষমতাসম্পন্ন সব্যসাচী আর কোথায় এই নাটুয়া, সার্কাসের ক্লাউনের মতো হাস্যকর গিরীশ মহাপাত্র। এ যেন চাঁদ আর চাঁদা মাছের পার্থক্য। এ যেন উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুর ব্যবধান। একেই অপূর্ব নিমাইবাবুর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছে।
৩. “কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়োবাবু।” – ‘জানোয়ারটা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? তাকে ওয়াচ করার দরকার নেই কেন লেখো । ১+৪
উত্তর – ‘জানোয়ার’-এর পরিচয়: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে ‘জানোয়ার’ বলতে গিরীশ মহাপাত্রকে বোঝানো হয়েছে।
ওয়াচ করার দরকার নেই বলার কারণ: কোনো চরিত্র ভালো-এটা প্রকাশ করার জন্য সাহিত্যিকেরা তার পাশে একটা কালো বা খারাপ চরিত্র সৃষ্টি করেন। ঠিক তেমনি ছদ্মবেশ নেওয়ার সময় একজনের যে ভাবমূর্তি বা ইমেজ তার ঠিক উলটো চরিত্র হিসেবে নিজেকে সজ্জিত করতে পারলে অন্যকে বোকা বানানো সহজ হয়। সব্যসাচী সেটাই করেছেন। মহাপ্রতিভাধর সব্যসাচী মল্লিক কিনা গিরীশ মহাপাত্র! এই নাটুয়া, সার্কাসের ক্লাউন সদৃশ লোকটা! গিরীশ মহাপাত্রের চরণে-আচরণে -পরিধানে-বিলাস-ব্যসনে অসংগতির পাহাড়।
৪. “পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।” -‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায় ? তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয় ? ১+৪
উত্তর – যা জানা যায়: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে শুধুমাত্র দুটি তথ্য জানা যায়-(১) সে পলিটিকাল সাসপেক্ট (২) তার কালচার গিরীশ মহাপাত্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আসলে পাঠ্যাংশের প্রথম অংশ জুড়ে সব্যসাচীর ছদ্মবেশ গিরীশ মহাপাত্রের চিত্র ও চরিত্র বর্ণনাই প্রধান হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি: গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক-পরিচ্ছদ ও চেহারা যেমন অসংগতিপূর্ণ, তার কথাবার্তা, আচার-আচরণও তেমনি হাস্যকর। তার নাম-গিরীশ মহাপাত্র। ‘গিরীশ’ শব্দের অর্থ হিমালয়। ‘মহাপাত্র’ শব্দের অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কোথায় মহামান্য ব্যক্তি আর কোথায় ধুঁকতে থাকা নাটুয়া এই লোকটা! নিমাইবাবু তাই ব্যঙ্গ করে ‘একদম মহাপাত্র!’ বলেছেন। গিরীশের পকেট থেকে পাওয়া গেছে গাঁজার কলকে। নিমাইবাবুর প্রশ্নের উত্তরে সে জানিয়েছে, গাঁজা সে খায় না। পথে কুড়িয়ে পেয়েছে, তাই কলকেটি পকেটে রেখেছে। বন্ধু-বান্ধবেরা কেউ তৈরি করে দিতে বললে দেয়। গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণ যার শরীরে, তার এই যুধিষ্ঠির সুলভ কথা শুনে জগদীশবাবু রেগে গেছেন। তাকে ‘দয়ার সাগর’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন, ‘মিথ্যেবাদী’ বলেছেন। আর নিমাইবাবু তার স্বাস্থ্যের দিকে তাকিয়ে গাঁজা খেতে বারণ করেছেন।
মোটকথা, গিরীশ মহাপাত্রের চিত্র ও চরিত্রে হাস্যকর অসংগতি ফুটে উঠেছে-যা তাকে সব্যসাচী মল্লিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিয়েছে। তার মাথার লেবুর তেলের গন্ধ যেমন থানাসুদ্ধ সবার মাথা ধরিয়েছে, তেমনি তার হাস্যকর আচরণ ও কথাবার্তা বাঘা বাঘা পুলিশের মাথা গুলিয়ে দিয়েছে।
Click Here – বাংলা ব্যাকরণ: সমাস
Click Here – প্রতিবেদন ও সংলাপ রচনা সাজেশন 2026
৫. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ যোলোআনাই বজায় আছে” – বাবুটি কে ? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও । ১+৪ [MP’17]
উত্তর – শীর্ষক পাঠ্যাংশে উদ্ধৃতাংশে বাবুটি হল গিরীশ মহাপাত্র। বাবুটির পরিচয়: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’
বাবুটির স্বাস্থ্য: গিরীশ মহাপাত্র অসুস্থ, ক্ষয়রোগে আক্রান্ত। সে কাশতে কাশতে সামনে এসেছে। কাশির দমকে হাঁফিয়ে উঠেছে। তাকে দেখে আশঙ্কা হয়েছে, যে-কোনোদিন মারা যেতে পারে। কেবল তার চোখের দৃষ্টিতে অপূর্ব দেখেছে এক অদ্ভুত জীবনীশক্তি।
বাবুটির শখ: গিরীশ মহাপাত্র শৌখিন মানুষ। তার চেহারা পোশাক-পরিচ্ছদ সেই অসংগতিপূর্ণ শৌখিনত্বের সমর্থক। তার চুলের বাহার অদ্ভুত-সামনে বড়ো, ঘাড় ও কানের দিকে নেই বললেই চলে। মাথায় চেরা সিঁথি। চুল লেবুর তেলে জবজবে। গায়ে জাপানি সিল্কের সাত রঙা চুড়িদার পাঞ্জাবি। বুক-পকেট থেকে উঁকি দিচ্ছে বাঘ আঁকা রুমাল। পরনে বিলিতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি। পায়ে সাদা-কালো নয়, সবুজ রঙের ফুল মোজা। হাঁটুর উপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা। পাম্পশু বার্নিশ করা এবং তলাটা মজবুত ও টেকসই করার জন্য আগাগোড়া লোহার নাল দিয়ে বাঁধানো। হাতে একগাছি হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি।
মহাপাত্রের বুক-পকেটে বাঘ আঁকা রুমাল উঁকি দিচ্ছিল। সেই পকেট থেকেই পাওয়া গেল গাঁজার কলকে। শরীরে গাঁজা খাওয়ার লক্ষণ আর পকেটে কলকে দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় মহাপাত্র রীতিমতো নেশাড়ু। এ ছাড়া বিড়ি খাওয়ার শখও তার আছে।
৬. “যাঁকে খুঁজছেন সে যে এ নয়, তার আমি জামিন হতে পারি।” – বক্তা কে ? কার সম্পর্কে এই উক্তি? তার এমন উক্তির কারণ কী ? ১+১+৩
উত্তর- বক্তা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে আলোচ্য উক্তিটি অপূর্বর।
যার সম্পর্কে উক্তি: ‘পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট’ সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে এই উক্তি।
এমন উক্তির কারণ সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন বহুভাষা ও বিষয়ে সুপণ্ডিত। বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী বিলেতের ডাক্তার উপাধিধারী রাজশত্রু। তাঁর শারীরিক সক্ষমতাও অসাধারণ। শিক্ষা, বুচি, বল, বীর্য-সবেতেই তিনি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। কিন্তু সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে যাকে আটক করা হয়েছিল তার চেহারা, বেশবাস ও আচার-আচরণ কোনোভাবেই সব্যসাচীর সঙ্গে খাপ খায় না। কোথায় চাঁদ আর কোথায় চাঁদা মাছ! এ তো উত্তর আর দক্ষিণ মেরুর তফাত। সব্যসাচী যেখানে প্রবল প্রতাপান্বিত রাজদ্রোহী, গিরীশ মহাপাত্র সেখানে হীনবল, মুমূর্ষু সং সাজা এক নাটুয়া। তার বচনে, আচরণে, পোশাক চয়নে অসংগতি স্পষ্ট। তাই দুজনের বৈপরীত্য বুঝতে পেরেই অপূর্ব ওই মন্তব্য করেছে।
৭. ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশ অবলম্বনে অপর্ব চরিত্রটি আলোচনা করো ।
উত্তর – ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র অপূর্বকেও আবিষ্ট করেছে। সে সৎ, আদর্শবাদী, সংবেদনশীল এবং বুদ্ধিমান। তার চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্যগুলি আমাদের নজর কাড়ে, সেগুলি হল –
(ক) বুদ্ধিমত্তা: অপূর্ব বুদ্ধিমান। পুলিশের দুদে অফিসাররা সব্যসাচীর ছদ্মবেশ ধরতে না পারলেও অপূর্ব তা অনায়াসে বুঝে ফেলেছে। অতল জলাশয়ের মতো চোখ দুটি আর তাতে জীবনীশক্তির আভাস দেখেই অপূর্ব পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে, আর যাই হোক, গিরীশ মহাপাত্র সং-সাজা নাটুয়া নয়। আবার গিরীশের প্রতি নিমাইবাবু অযাচিত উপদেশ বর্ষণ আর জগদীশবাবুর ‘মিথ্যেবাদী’ বলে তর্জন-গর্জন শুনেই সে বুঝেছে, ফাঁড়া কেটে গেছে। সব্যসাচী বিপদমুক্ত। তাই সে পুলিশস্টেশন ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছে।
(খ) সংবেদনশীলতা: অপূর্ব সংবেদনশীল। ফিরিঙ্গি ছেলেরা লাথি মেরে তাকে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দিলে সে স্টেশনমাস্টারের কাছে প্রতিকার চেয়েছে। অগণিত সাধারণ ভারতবাসীর মতো তাকে বিধির বিধান বলে নীরব থাকেনি। ভামো যাত্রার সময় ট্রেনে পুলিশের উৎপাতও তাকে প্রতিবাদী করে তুলেছে।
(গ) আবেগপ্রবণতা: আবেগের বেগ অপূর্বকেও আন্দোলিত করে। তাই অনাত্মীয় সব্যসাচী তার সমস্ত হৃদয়কে দখল করে নিয়েছে। সে অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। আবার আত্মীয় হলেও পুলিশ নিমাইবাবুর চেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি তার একাত্মতার কথা বিপদ হবে জেনেও সে মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেছে।
(ঘ) দেশপ্রেম: “মুক্তির মন্দির সোপানতলে” যাঁরা বলিপ্রদত্ত, অপূর্ব তাঁদের ভালোবাসে হৃদয় দিয়ে। তাঁদের মত ও পথের প্রতি তার নিরুচ্চার সমর্থনও রয়েছে।
(ঙ) শ্রদ্ধাবোধ: অপূর্ব শান্ত, নিরীহ যুবক। নিমাইবাবুকে তার ‘কাকাবাবু’ বলে সম্বোধনে আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধা ফুটে উঠেছে। আবার দেশপ্রেমিক সব্যসাচীর প্রতিও তার অন্তরের শ্রদ্ধা গোপনে ঝরে পড়েছে।
(চ) আন্তরিকতা: অপূর্ব আদর্শ সুজন। তাই বিদেশ-বিভুঁয়ে এসেও সে রামদাসের মতো বন্ধু খুঁজে পেয়েছে। রামদাসের স্ত্রীর আতিথেয়তা পেয়েছে। অফিসের বড়োসাহেবেরও আস্থাভাজন হয়ে উঠতে তার দেরি হয়নি।
(ছ) দায়িত্ববোধ: বড়োসাহেবের নির্দেশ মেনে অপূর্ব সঙ্গে সঙ্গে ভামো যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। অফিসের বিভিন্ন শাখায় শৃঙ্খলা আনার জন্য এবং কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য অপূর্বর তৎক্ষণাৎ ভামো যাত্রা তার দায়িত্ববোধেরই পরিচায়ক।
(জ) রসবোধ: অপূর্ব রসিক। গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা ও পোশাক-পরিচ্ছদে অসঙ্গতি দেখে সে হাসি গোপন করেছে। খ্রিস্টান ভাড়াটিয়া মেয়েটির অযাচিত উপকার করার মানসিকতা দেখে সে তাকে ‘বন্ধু’ বলে শ্লেষ হেনেছে। আবার ব্রিটিশ পুলিশের দেশদ্রোহী ধরার কাজকে সে ‘বুনো হাঁসের পিছনে ছোটাছুটি’ বলে ব্যঙ্গ করে স্যাটায়ারিক্যাল কমেডির অবতারণা করেছে।
৮. “তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম জ্বলে না” – বক্তা কে ? তাঁর এরূপ উক্তির কারণ কী ? ১+৪
উত্তর – বক্তা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হল অপূর্ব।
এরূপ উক্তির কারণ: সাহেবদের জুতোর ঘায়ে বাঁকা, তাই বঙ্কিম-বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন এ কথা আর সৃষ্টি করেছিলেন স্বাদেশিকতাবোধের সঞ্জীবনী মন্ত্র- ‘বন্দেমাতরম্’। আসলে আঘাত পেতে পেতে যখন মানুষের পিঠ ঠেকে যায় দেয়ালে, তখন সে নেয় প্রতিবাদের রাস্তা। অপূর্বও তাই সহ্য করেছে এতদিন। বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছেলেরা তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে সাহেব স্টেশনমাস্টার দেশি লোক বলে তাকে দেশের স্টেশন থেকে কুকুরের মতো দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
অপূর্বও তা মর্মে মর্মে বিশ্বাস করে। তাই কালো চামড়ার মানুষের প্রতি সাদা চামড়ার মানুষদের এই বর্ণবিদ্বেষ তাকে মর্মাহত করেছে। তার কালো চামড়ার নীচে এই যন্ত্রণা আগুনের মতো জ্বালা সৃষ্টি করেছে।
৯. “বাবুজি, এ-সব কথা বলার দুঃখ আছে” – বক্তা কে ? কোন্ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ? তাতে দুঃখ আছে কেন ?১+২+২
উত্তর – বক্তা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ শীর্ষক পাঠ্যাংশে আলোচ্য উক্তিটি রামদাস তলওয়ারকরের।
প্রসঙ্গ: অপূর্বর বাবা নিমাইবাবুর চাকরি করে দিয়েছেন শুনে তলওয়ারকর বলেছে, হয়তো অপূর্বকেই একদিন এই কাজের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। কিন্তু আত্মীয়ের সম্পর্কে এমন মন্তব্য অশোভন বুঝতে পেরে সে অপ্রতিভ হয়ে চুপ করে গেছে। তখন অপূর্ব জানিয়েছে, নিমাইবাবু তাদের আত্মীয় শুভাকাঙ্ক্ষী হলেও এবং তাঁকে সে কাকা বলে ডাকলেও তিনি দেশের থেকে বেশি আত্মীয় নন। বরং যাঁকে তিনি দেশের টাকায় দেশের লোক দিয়ে শিকারের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছেন, সেই সব্যসাচী তার কাছে অনেক বেশি আপন। এ কথা শুনে রামদাস উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছে।
দুঃখ থাকার কারণ: কথায় বলে-যার খাই নুন তার গাই গুণ। আর একটি প্রচলিত প্রবচন হল-যে ডালে বসে আছো সে ডাল কেটো না। যেহেতু দেশটা তখন ব্রিটিশদের অধীন তাই তাদের খোশামুদি করে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাদের বিরুদ্ধাচরণ করা মানে তো নিজের পায়ে কুড়ুল মারা। তাই ব্রিটিশ পুলিশের কর্মচারী নিমাইবাবুকে অনাত্মীয় বলে দূরে ঠেলে দিয়ে দেশদ্রোহী সব্যসাচীকে আত্মার আত্মীয় বলে অপূর্বর সগর্ব প্রচার তার দুঃখের কারণ হতে পারে বলে মনে করেছে রামদাস।