এডুকেশন সপ্তম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (2 মার্ক) // দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার // Class 12 Education Chapter 7 Short Question Answer – 4th Semester

এডুকেশন সপ্তম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (2 মার্ক) // দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার // Class 12 Education Chapter 7 Short Question Answer – 4th Semester

এডুকেশন সপ্তম অধ্যায়

সপ্তম অধ্যায় – শিক্ষাগত প্রযুক্তিবিদ্যার ধারণা

Mark – 2

() Technology বা প্রযুক্তি কথাটির অর্থ কী ?

উত্তর Technology কথাটির অর্থ হল কলা বা দক্ষতার বিজ্ঞান। এটি গ্রিক শব্দ Technic থেকে এসেছে Technic Logic থেকে Technology. Technic-এর অর্থ শিল্প বা দক্ষতা এবং Logic হল বিজ্ঞান। সুতরাং প্রযুক্তি হল কোনো বিশেষ ব্যাবহারিক উদ্দেশ্য বা সমস্যাসমাধানের জন্য বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগ।

() শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা  কী ? [ WBCHSE 23 ]

উত্তর শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা = প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ + প্রযুক্তিকরণ। শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা হল শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার উন্নতির জন্য যথোপযুক্ত সিস্টেম, কৌশল-সহায়ক উপকরণ তৈরি করা ও তার যথাযথ প্রয়োগ ও মূল্যায়ন করার সামগ্রিক কৌশল।

() শিক্ষায় প্রযুক্তিবিদ্যার দুটি পরিধি উল্লেখ করো [ WBCHSE 22 ]

উত্তর শিক্ষায় প্রযুক্তিবিদ্যার পরিধি যথাক্রমে-পরিবেশের পরিকল্পনা করা এবং করা। শিক্ষামূলক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলি চিহ্নিত

() শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা কটি M-এর সমন্বয় ? এগুলি কী কী ?

উত্তর শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা 5টি M-এর সমন্বয়। যেগুলি হল Man, Material, Machine, Method এবং Media। এগুলি শিক্ষার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপূরণে একত্রে কাজ করে।

() প্রযুক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো

উত্তর প্রযুক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য হল –

() উদ্দেশ্যমূলক: প্রযুক্তি হল মানুষের তৈরি করা একধরনের নকশা বা পদ্ধতি, যা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপূরণে সাহায্য করে।

() বৈজ্ঞানিক ভিত্তি: সাধারণত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে প্রযুক্তি তৈরি করা হয়।

() প্রযুক্তির দুটি ব্যবহার লেখো

উত্তর প্রযুক্তির 2টি ব্যবহার হল –

() শিক্ষাক্ষেত্র: শিক্ষাদানের সময় অর্থাৎ শিখনের ক্ষেত্রে, স্বয়ংশিখনের ক্ষেত্রে এবং শিক্ষণের ক্ষেত্রে কম্পিউটার, বেতার, টেলিভিশন ইত্যাদির মতো শিক্ষাসহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়, যা শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

() মহাকাশ গবেষণা: মহাকাশ গবেষণা, মহাশূন্যের ছবি তোলা, স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, মহাকাশযানকে নিয়ন্ত্রণ করে তার মাধ্যমে তথ্য গ্রহণ সবকিছুই প্রযুক্তিবিদ্যা ছাড়া অসম্ভব।

() প্রযুক্তিবিদ্যার দুটি সমস্যা উল্লেখ করো

উত্তর প্রযুক্তিবিদ্যা ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুটি সমস্যা হল –

() আর্থিক দৈন্যতা: প্রযুক্তিবিদ্যার ব্যবহার ব্যয়বহুল হওয়ায় আমাদের দেশে তা এখনও সর্বজনীন করা সম্ভব হয়নি। আধুনিক যন্ত্রপাতির দাম অনেক বেশি হওয়ায়, তা কেনা সম্ভব হয় না।

() মানবিক মিথস্ক্রিয়ার অভাব: প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাদান করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে মানবিক মিথস্ক্রিয়ার অভাব দেখা যায়। প্রযুক্তির সাহায্যে শিক্ষণে শিক্ষার্থীরা আনন্দ পায় কিন্তু শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে যে মানবিক মিথস্ক্রিয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সম্ভব হয় না।

() প্রযুক্তিবিদ্যার সমস্যাসমাধানের জন্য দুটি উপায় লেখো

উত্তর প্রযুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য দুটি উপায় হল –

() আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা: সরকারকে প্রযুক্তিবিদ্যার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নত যন্ত্রপাতির জোগান দিতে হবে। আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর চাহিদাভিত্তিক শিখন উপযোগী সামগ্রী মোতায়েন রাখতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে।

() দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ: প্রযুক্তিবিদ্যায় দক্ষ শিক্ষকের অভাব দূর করার জন্য উপযুক্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার জোগান বাড়াতে হবে সরকারকে। এর পাশাপাশি শিক্ষক-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।

() শিক্ষাগত প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য কী ?

উত্তর শিক্ষাগত প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণকে আরও ফলপ্রসূ ও দক্ষ করে তোলা। এটি শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুযায়ী কন্টেন্ট প্রদান করে, যার ফলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও শিখনকেন্দ্রিক শিক্ষা বাস্তবায়িত হয়। এ ছাড়া এটি শিক্ষার গুণমান বৃদ্ধি, সময় ও শক্তি সাশ্রয়, এবং শিক্ষকের কাজকে সহজ করতেও সাহায্য করে।

(১০) শিক্ষাপ্রযুক্তির প্রয়োজন কেন ?

উত্তর আধুনিক সমাজে শিক্ষার চাহিদা ও পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষাগত প্রযুক্তি অত্যাবশ্যক। এটি শিক্ষাকে গতিশীল, উদ্দীপনামূলক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলে। এ ছাড়া কোভিড-পরবর্তী যুগে অনলাইন শিক্ষার বিস্তারের ফলে শিক্ষাগত প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বহুগুণে বেড়েছে। এটি শিক্ষাকে আকর্ষণীয়, মিথস্ক্রিয়ামূলক এবং উদ্ভাবনী করে তোলে, যা শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জনের আগ্রহ বাড়ায়। এ ছাড়াও এটি শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ করে, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করে, শিক্ষণ উপকরণ সহজলভ্য করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

(১১) শিক্ষাগত প্রযুক্তির প্রকারভেদ কী কী ?

উত্তর – শিক্ষাগত প্রযুক্তি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত –

() হার্ডওয়্যার প্রযুক্তি: টিভি, কম্পিউটার, প্রোজেক্টর ইত্যাদি।

() সফটওয়্যার প্রযুক্তি: শিক্ষণ সফটওয়্যার, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট।

() ব্যবস্থাপনাগত প্রযুক্তি: পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষণ কৌশল, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া।

এই তিনটি একত্রে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষ করে তোলে।

(১২) শিক্ষাগত প্রযুক্তির পরিসর কী কী ক্ষেত্রে বিস্তৃত ?

উত্তর শিক্ষাগত প্রযুক্তির পরিসর শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, দূরশিক্ষণ, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে মোবাইল অ্যাপ, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS), এআই-ভিত্তিক টুল ইত্যাদিও এর অংশ।

(১৩) শিক্ষাগত প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষকের ভূমিকা পরিবর্তন করেছে ?

উত্তর আগে শিক্ষক ছিলেন তথ্যের একমাত্র উৎস। এখন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গাইড বা ফ্যাসিলিটেটরের ভূমিকায় কাজ করেন। শিক্ষাগত প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক পাঠের পরিকল্পনা করেন, উপস্থাপনা দেন, মূল্যায়ন করেন এবং শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। এর ফলে শিক্ষককে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিপরিচিত ও উদ্ভাবনী হতে হয়।

(১৪) শিক্ষাগত প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেমন ?

উত্তর শিক্ষাগত প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। AI (Artificial Intelligence), AR (Artificial Reality), ভার্চুয়াল রিয়‍্যালিটি, ব্লেন্ডেড লার্নিং, এবং গেমিফিকেশন শেখার ধারাকে বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক, দক্ষ ও নমনীয় শিক্ষা বাস্তবায়নে শিক্ষাগত প্রযুক্তি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। এ জন্য প্রযুক্তিতে শিক্ষকের দক্ষতা বৃদ্ধিও জরুরি।

(১৫) শিক্ষাগত প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের কী কী উপকারে আসে ?

উতর শিক্ষাগত প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলে। এটি শিক্ষার্থীকে ভিজ্যুয়াল, অডিয়ো ও ইনটারঅ্যাকটিভ কনটেন্টের মাধ্যমে শেখার সুযোগ দেয়। এতে বিমূর্ত ধারণা সহজে বোঝা যায় এবং বাস্তব জীবনের উদাহরণে শিক্ষা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এ ছাড়া নিজস্ব গতিতে শেখার সুযোগও শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

(১৬) শিক্ষাগত প্রযুক্তি কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাকে সহায়তা করে ?

উত্তর শিক্ষাগত প্রযুক্তি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক। ব্রেইল সফটওয়্যার, টেক্সট-টু-স্পিচ, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ভিডিয়ো এবং বিশেষ অ্যাপ ব্যবহারে দৃষ্টিহীন, শ্রবণ প্রতিবন্ধী কিংবা পাঠদানে – অসুবিধাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের উপকার হয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থী একই পরিবেশে উপযুক্ত সহায়তা পায়।

(১৭) শিক্ষাগত প্রযুক্তি ও প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য কী ?

উত্তর প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষাদান বেশি শিক্ষককেন্দ্রিক ও – বক্তৃতাভিত্তিক। শিক্ষাগত প্রযুক্তি এই পদ্ধতিকে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, অংশগ্রহণমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলে। এতে শিক্ষা হয় আরও বাস্তবধর্মী, দৃশ্যমান এবং অভিজ্ঞতানির্ভর। ফলে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও শেখার মান বাড়ে।

(১৮) শিক্ষাগত প্রযুক্তি মূল্যায়নের পদ্ধতিকে কীভাবে আধুনিক করেছে ?

উত্তর অনলাইন কুইজ, গুগল ফর্ম, AI-ভিত্তিক মূল্যায়ন টুল এবং লার্নিং অ্যানালিটিক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীর প্রগতি সহজে নিরূপণ করা যায়। মূল্যায়ন এখন শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শেখার অংশগ্রহণ, গতি ও ফিডব্যাকের ভিত্তিতেও মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে।

(১৯) শিক্ষাগত প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি করে ?

উত্তর প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজের গতিতে এবং নিজের ইচ্ছামতো সময়ে শিখতে পারে। এতে শিক্ষার্থীর মধ্যে সমস্যাসমাধান দক্ষতা, তথ্য অনুসন্ধানের অভ্যাস এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীকে আত্মনির্ভর ও স্বশিক্ষিত করে তোলে।

(২০) শিক্ষাগত প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না হলে, কী কী সমস্যা হতে পারে ?

উত্তর প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতা শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা কমাতে পারে। শিক্ষার্থীরা ভুল বা ভুয়ো তথ্যের ব্যবহার করতে পারে। স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন-চোখের সমস্যা, প্রযুক্তি আসক্তি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারে পাঠের গুণমান কমে যেতে পারে। তাই সঠিক তত্ত্বাবধান ও পরিমিত প্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।

(২১) গ্রামীণ শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষাগত প্রযুক্তির ভূমিকা কী হতে পারে ?

উত্তর গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষাগত প্রযুক্তি পৌঁছোতে পারলে মানসম্পন্ন শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব। অনলাইন ক্লাস, মোবাইল অ্যাপ ও রেডিয়ো বা টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষাদান হতে পারে। তবে এজন্য সরকার ও এনজিও-দের যৌথ উদ্যোগ দরকার, যাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।

(২২) শিক্ষাগত প্রযুক্তি কীভাবে নতুন শিক্ষানীতিএর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ?

উত্তর ভারতের নতুন শিক্ষানীতি (NEP 2020) প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এতে ডিজিটাল লার্নিং, ই-রিসোর্স, অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম (যেমন: DIKSHA, SWAYAM), এবং AI-এর ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে। শিক্ষাগত প্রযুক্তি এই নীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

(২৩) শিক্ষাপ্রযুক্তিতে নৈতিকতার পাঠ গুরুত্বপূর্ণ কেন ?

উত্তর শিক্ষা প্রযুক্তিতে নৈতিকতার পাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ নীতি নৈতিকতাই পারে প্রযুক্তির মাধ্যমে ডেটা বিশ্লেষণের গোপনীয়তা বজায় রাখতে, ডেটা সুরক্ষিত রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে।

(২৪) অনলাইন কোর্সের সুবিধাগুলি কী কী ? প্রযুক্তির সাহায্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা কী ?

উত্তর অনলাইন কোর্স শিক্ষার্থীদের সময় ও স্থান নির্বাচনে যেমন নমনীয়তা দেয়, তেমনই স্বল্প খরচে গুণগত মানের শিক্ষা প্রদান করে, যা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক।

শিক্ষাপ্রযুক্তি যেমন-টেক্সট-টু-স্পিচ সফটওয়‍্যার, ব্রেইল রিডার এবং ভয়েস কমান্ড টুল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়া সহজ করে।

(২৫) ডিসট্যান্স এডুকেশনে শিক্ষাপ্রযুক্তির গুরুত্ব কী ? শিখনের ক্ষেত্রে ডিপ লার্নিং-এর ভূমিকা কী ?

উত্তর শিক্ষাপ্রযুক্তি ডিসট্যান্স এডুকেশনে শিক্ষার্থীদের ইনটারনেটের মাধ্যমে পাঠগ্রহণ এবং মূল্যায়নের সুযোগ দেয়। বিশেষত এটি গ্রামীণ অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে সহায়ক। তবে, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে এখনো ডিসট্যান্স এডুকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ডিপ লার্নিং শিক্ষার্থীদের শেখার ধরনকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে এবং শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তোলে।

(২৬) শিক্ষায় প্রযুক্তির প্রয়োগে নৈতিকতার বিষয়টি কীভাবে যুক্ত ? শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যর্থতার কারণ কী ?

উত্তর শিক্ষায় প্রযুক্তির প্রয়োগে নৈতিকতার বিষয়টি প্রধানত তথ্যের সঠিক ব্যবহার ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা সুনিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত।

পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে প্রযুক্তি ব্যর্থ হতে পারে।

(২৭) প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করে ? শিক্ষার উপকরণ তৈরি করতে প্রযুক্তি কীভাবে সাহায্য করে ?

উত্তর অনলাইন শিক্ষা মাধ্যম প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগকে বৃদ্ধি করে, যদিও তা ব্যয়বহুল এবং একই সঙ্গে তা পরিকাঠামোগত উন্নতিও দাবি করে।

প্রযুক্তি শিক্ষকদের জন্য শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের জন্য ইনটারঅ্যাকটিভএবং কাস্টমাইজড উপকরণ তৈরি সহজ করে।

(২৮) ই-লার্নিং কী ? অনলাইন শিক্ষার সুবিধাগুলি কী কী ?

উত্তর ই লার্নিং: ই-লার্নিং হল অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণের প্রক্রিয়া। এতে ভিডিয়ো লেকচার, ই-বুক, কুইজ ও ভার্চুয়াল ক্লাসের মাধ্যমে পড়াশোনা করা যায়। এটি শিক্ষাকে যে-কোনো স্থানে সহজলভ্য করে তুলেছে।

অনলাইন শিক্ষা সময় ও স্থানের সীমাবদ্ধতা দূর করে। শিক্ষার্থীরা নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে। এটি আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী এবং বিভিন্ন কোর্সে সহজ প্রবেশাধিকার দেয়।

(২৯) ভার্চুয়াল রিয়‍্যালিটি শিক্ষায় কী ভূমিকা পালন করে ? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কীভাবে শিক্ষায় ব্যবহৃত হয় ?

উত্তর ভার্চুয়াল রিয়‍্যালিটি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করে। এটি বিজ্ঞান, ইতিহাস বা মেডিকেল বিষয়ে বাস্তবসম্মত ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে, যা তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কার্যকর করে।

AI শিক্ষার্থীদের নিজ গতিতে শিক্ষার সুযোগ করে দেয়। এটি অটো-গ্রেডিং, শিক্ষককে শিক্ষার্থীর দুর্বল দিক চিহ্নিত করতে সাহায্য করে এবং সেইমতো তিনি শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

(৩০) গুগল ক্লাসরুম কী ? মোবাইল অ্যাপ কীভাবে শিক্ষায় সহায়তা করে ?

উত্তর গুগল ক্লাসরুম: গুগল ক্লাসরুম একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিক্ষকরা ক্লাস পরিচালনা, অ্যাসাইনমেন্ট শেয়ার এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন। এটি শিক্ষার ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মোবাইল অ্যাপ শিক্ষার্থীদের দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, অনুশীলন এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে কুইজ, ভিডিয়ো টিউটোরিয়াল, ই-বুক ইত্যাদি সহজলভ্য হয়।

(৩১) অনলাইন শিক্ষা কি অফলাইন শিক্ষার বিকল্প হতে পারে ? ই-বুকের সুবিধা কী ?

উত্তর অনলাইন শিক্ষা সুবিধাজনক হলেও অফলাইন শিক্ষার মতো এটিতে সরাসরি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সম্ভবপর নয়। দুটি পদ্ধতি মিলেমিশে শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে পূর্ণাঙ্গ করে তুলতে পারে।

এই বুকের সুবিধা: ই-বুক পোর্টেবল, সাশ্রয়ী এবং সহজে অ্যাক্সেসযোগ্য। এটি প্রচুর পরিমাণে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে এবং এটি পরিবেশবান্ধবও বটে।

(৩২) Technology in Education’ বলতে কী বোঝায় ?

উত্তর ‘Technology in Education’ বলতে শিক্ষার কাজে প্রযুক্তির ব্যবহারকে বোঝানো হয়। এর অর্থ হল-পাঠদানের সময় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম যেমন প্রোজেক্টর, স্মার্টবোর্ড, কম্পিউটার, ইনটারনেট, মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদি ব্যবহার করে শিক্ষাকে আরও কার্যকর, আকর্ষণীয় এবং বাস্তবসম্মত করে তোলা। এটি একটি বাহ্যিক পদ্ধতি, যা শিক্ষার পরিবেশকে আধুনিক করে তোলে এবং পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর আগ্রহ বাড়ায়।

(৩৩) Technology of Education’ বলতে কী বোঝায় ?

উত্তর ‘Technology of Education’ বলতে শিক্ষাবিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্ব, নীতি, কৌশল এবং পদ্ধতির সাহায্যে শিক্ষাদান প্রক্রিয়াকে নিয়মতান্ত্রিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচালনা করাকে বোঝায়। এটি শুধুমাত্র যন্ত্র বা প্রযুক্তি নয়, বরং শিক্ষাদান ও শিখন পদ্ধতিকে গঠনমূলক ও বিশ্লেষণাত্মকভাবে পরিচালনা করার কৌশল। উদাহরণস্বরূপ-শিক্ষণের উদ্দেশ্য নির্ধারণ, বিষয়বস্তু নির্বাচন, মূল্যায়ন পরিকল্পনা এবং প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে শিক্ষার কৌশল পরিবর্তন-সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

(৩৪) Technology in Education এবং Technology of Education-এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী ?

উত্তর Technology in Education এবং Technology of Education -এর মধ্যে মূল পার্থক্য হল, ‘Technology in Education’ হল শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার (যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম), আর ‘Technology of Education’ হল শিক্ষার পদ্ধতিগত পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রয়োগ। প্রথমটি বাহ্যিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার পরিবেশকে আধুনিক করে তোলে, দ্বিতীয়টি হল শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে কার্যকর করে এমন কৌশল ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ।

(৩৫) একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো Technology in Education এবং Technology of Education কীভাবে কাজ করে ?

উত্তর ধরো, একজন শিক্ষক ক্লাসে একটি বিজ্ঞানের পাঠ পড়াচ্ছেন। তিনি যদি প্রোজেক্টর ও অ্যানিমেটেড ভিডিয়ো ব্যবহার করে পাঠ বোঝান, সেটি ‘Technology in Education’। আবার, যদি তিনি শিক্ষার্থীদের স্তর অনুযায়ী, পাঠের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে, ধারাবাহিক মূল্যায়ন করে এবং শেখার প্রতিবন্ধকতা বিশ্লেষণ করে পাঠ পরিকল্পনা করেন, সেটি ‘Technology of Education’I

(৩৬) শিক্ষায় প্রযুক্তি এবং শিক্ষার প্রযুক্তিকরণ-একসঙ্গে কীভাবে শিক্ষাকে সমৃদ্ধ করতে পারে ?

উত্তর Technology in Education’ ও ‘Technology of Education’ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শিক্ষার গুণমান অনেক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। পরিকল্পিত শিক্ষার (Technology of Education) ওপর আধুনিক প্রযুক্তি (Technology in Education) প্রয়োগ করলে পাঠ আরও কার্যকর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়। এতে শিক্ষার্থী শুধু বিষয়বস্তুর তথ্য পায় না, বরং কার্যকরভাবে তা বোঝে ও প্রয়োগ করতে শেখে। এই দুটি যৌথভাবে শিক্ষাদানকে গঠনমূলক ও আনন্দদায়ক করে তোলে।

(৩৭) ব্যুৎপত্তিগতভাবে “Technology” শব্দের অর্থ কী ?

উত্তর Technology শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Technic থেকে। যার অর্থ হল শিল্প বা দক্ষতা এবং Logic-এর অর্থ হল বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। অর্থাৎ Technology বলতে বোঝায় কোনো শিল্প বা দক্ষতার অধ্যয়ন।

(৩৮) কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে শিক্ষাপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানটির নাম কী ও এর কাজ কী ?

উত্তর কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে শিক্ষাপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানটি হল সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন টেকনোলজি (CIET)। এর কাজ হল শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সফটওয়্যার তৈরি করা।

(৩৯) শিক্ষাপ্রযুক্তিকে বিজ্ঞানভিত্তিক বলা হয় কেন ?

উত্তর শিক্ষাপ্রযুক্তিতে শিক্ষার লক্ষ্য নির্দিষ্টকরণ, পাঠক্রম প্রণয়ন, শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি প্রয়োগ করা হয়। তাই একে বিজ্ঞানভিত্তিক বলা হয়।

(৪০) শিক্ষাপ্রযুক্তিতে ম্যাক্রো স্তরের ও মাইক্রো স্তরের দুটি উদ্দেশ্য লেখো

উত্তর শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে মানুষ, উপকরণ, সম্পদ ও কৌশল নির্ধারণ করা এবং শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার উন্নতিকল্পে শিক্ষণ মডেল প্রস্তুত করা। শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, আচরণের ভিত্তিতে ব্যক্ত করা ও শ্রেণি শিক্ষণকে আরও কার্যকরী করে তুলতে উপযুক্ত শিক্ষাপোকরণ ব্যবহার করা।

(৪১) বর্তমান ভারতবর্ষে শিক্ষাপ্রযুক্তির অবস্থা কী ?

উত্তর উন্নত দেশগুলিতে বিদ্যালয় স্তর থেকেই উচ্চমানের বৈদ্যুতিন শিক্ষাপ্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উন্নত দেশ হিসেবে দাবি করলেও আমাদের ভারতবর্ষে উচ্চমানের শিক্ষাপ্রযুক্তি দূরে থাক, বহু বিদ্যালয়ে প্রয়োজনমতো চক-বোর্ডের ব্যবস্থাও নেই।

() অর্থ ও উদ্যোগের অভাব: বর্তমানে প্রতিটি জেলায় জেলাভিত্তিক রিসোর্স কেন্দ্র আছে। কিন্তু রিসোর্স কেন্দ্র এবং বিদ্যালয়গুলির উদ্যোগের অভাবে শিক্ষাপোকরণ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় না। যোগ্য শিক্ষক ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব: শহর ও মফস্সলের

() শিক্ষাপোকরণ : বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষাপোকরণ থাকলেও শিক্ষকরা এগুলি যথাযথভাবে ব্যবহার করেন না ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শিক্ষাপোকরণগুলির কার্যকারিতা হ্রাস পায়। শিক্ষাপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয়ের কার্যকারিতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

(৪২) শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞানের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখো

উত্তর শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞান হল শিক্ষাক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক নীতিসমূহের শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে কার্যকর করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রয়োগ। রকম পদ্ধতি ও কৌশলের উন্নতিবিধানের উপর শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞান গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞান পরিবেশ, মাধ্যম, পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে শিখন প্রক্রিয়াকে সহজতর ও ত্বরান্বিত করে। এটি কেবলমাত্র শিক্ষায় ইলেকট্রনিক মাধ্যমের ব্যবহারেই আবদ্ধ নয়, সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গিও এর অন্তর্ভুক্ত।

(৪৩) ET, বলতে কী বোঝো ?

উত্তর ডেভিস ও হার্টলি (1972 সাল) এই ধারণার প্রবর্তক। এই ধারণায় ET, ও ET₂-এর সমন্বয় করে সিস্টেম দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে শিখন ও নির্দেশদান কাজে প্রয়োগ করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞানের অর্থ হল- শিক্ষাক্ষেত্রে একটি সিস্টেমের পরিকল্পনা করা। এখানে শিক্ষাও প্রশিক্ষণ তন্ত্র (System) হিসেবে বিবেচিত হয় যার চটি অংশ হল-যন্ত্র, উপকরণ, মাধ্যম, মানুষ ও পদ্মতি। এগুলির যথাযথ প্রয়োগ করা ও তার মূল্যায়ন।

(৪৪) ET, বলতে কী বোঝো ?

উত্তর শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যার অন্যতম অর্থ ET-এর ধারণায় অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে, খরচ সাশ্রয় করে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখাকে বোঝায়। এর ফলে মুক্ত শিক্ষা, দূরাগত শিক্ষা, পত্রযোগে শিক্ষা ইত্যাদির গুরুত্ব বাড়ছে।

(৪৫) শিক্ষা প্রযুক্তির তিনটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমের নাম লেখো। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তির নাম লেখো [ WBCHSE ’19 ]

উত্তর শিক্ষাপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে তিনটি বৈদ্যুতিন মাধ্যম যথাক্রমে-দূরদর্শন, কম্পিউটার, বেতার ইত্যাদি।

শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হল- কম্পিউটার, ওভারহেড প্রোজেক্টর ইত্যাদি।

(৪৬) শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞানে অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি মুদ্রিত দর্শন মাধ্যমের নাম লেখো

উত্তর শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত দর্শন মাধ্যমগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বই, ম্যাগাজিন প্রভৃতি।

(৪৭) শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞানে ব্যবহৃত কয়েকটি শ্রবণ মাধ্যমের নাম লেখো। শিক্ষাপ্রযুক্তির পরিধিকে কটি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

উত্তর শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞানে ব্যবহৃত শ্রবণ মাধ্যমগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল- রেডিয়ো, গ্রামোফোন, টেপরেকর্ডার প্রভৃতি।

শিক্ষাপ্রযুক্তির পরিধিকে ওটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-প্রযুক্তিভিত্তিক পাঠদান প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিভিত্তিক সাধারণ শিক্ষা প্রশাসন, প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা পরিমাপক।

(৪৮) শিক্ষায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রযুক্তি কীভাবে সাহায্য করে ? প্রযুক্তিবিদ্যা প্রসারের ক্ষেত্রে ভারতের একটি সমস্যা উল্লেখ করো

উত্তর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রযুক্তি বিভিন্নভাবে সাহায্য করে, যেমন- MCQ প্রশ্নের নম্বর প্রদান, মার্কশিট প্রস্তুত, ফল প্রকাশ প্রভৃতির দ্বারা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা সহজ হয়।

প্রযুক্তিবিদ্যা প্রসারের ক্ষেত্রে ভারতের একটি সমস্যা হল-অর্থনৈতিক দৈন্য।

(৪৯) মানবসম্পদের অপচয় রোধ-এর ক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদ্যার ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো। বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না, এমন দুটি শিক্ষা প্রযুক্তির উদাহরণ দাও [ WBCHSE 22 ]

উত্তর প্রযুক্তিবিদ্যায় মানবসম্পদের যথার্থ প্রয়োগে নব নব দিকের উন্মোচন ঘটে। অর্থাৎ মানবমনে তৃপ্তি আনে এবং মানবসম্পদের অপচয় রোধ হয়।

বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না এমন দুটি শিক্ষা প্রযুক্তি হল যথাক্রমে -চার্ট ও মডেল।

(৫০) শিক্ষায় প্রযুক্তিবিজ্ঞানের দুটি অবদান লেখো

উত্তর – () শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ: ব্যক্তি ও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে প্রযুক্তিবিদ্যা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

() ব্যক্তিভিত্তিক শিখন: শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজস্ব পছন্দ, ক্ষমতা, সামর্থ্য অনুযায়ী অগ্রসর হতে পারে।

আরও পড়ুন

এডুকেশন – সপ্তম অধ্যায় – প্রশ্ন উত্তর ( 5 Mark )

এডুকেশন – ষষ্ঠ অধ্যায় – প্রশ্ন উত্তর ( 2 Mark )

এডুকেশন – পঞ্চম অধ্যায় – প্রশ্ন উত্তর ( 5 Mark )

এডুকেশন – চতুর্থ অধ্যায় – প্রশ্ন উত্তর ( 5 Mark )

এডুকেশন – তৃতীয় অধ্যায় – প্রশ্ন উত্তর ( 10 Mark)

এডুকেশন – দ্বিতীয় অধ্যায় – প্রশ্ন উত্তর ( 2 Mark)

এডুকেশন – প্রথম অধ্যায় – প্রশ্ন উত্তর (2 mark)

এডুকেশন – প্রথম অধ্যায় – প্রশ্ন উত্তর ( 10 Mark )

YouTube – Samim Sir

Leave a Comment