সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর (সৈয়দ আলাওল) // Class 10 Sindhu Tire Question Answer
সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর
Class 10 Sindhu Tire Question Answer
প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, এই পোস্টটিতে আমি তোমাদের দেখিয়েছি পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) মাধ্যমিক / দশম শ্রেণীর বাংলা সৈয়দ আলাওলের লেখা সিন্ধুতীরে কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষায় কমন পাওয়ার মতো প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন । আর হ্যাঁ, একটা কথা মনে রাখবে যে প্রশ্নগুলির পাশে বেশি স্টার মার্ক (*) সেই প্রশ্নগুলির খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সাজেশনের অন্তর্ভুক্ত । এতো সব প্রশ্নের উত্তর যদি তোমরা না পড়তে পারো , তবে স্টার মার্ক (*) প্রশ্ন উত্তরগুলি পড়লেই হবে । কিন্তু সবচেয়ে বেশি স্টার মার্ক (*) প্রশ্ন উত্তরগুলি আগে পড়বে ।
মার্ক – 1 ( MCQ )
১. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন –
(ক) দৌলত কাজী
(খ) বাহরাম খান
(গ) সৈয়দ আলাওল
(ঘ) মাগন ঠাকুর
উত্তর – (গ) সৈয়দ আলাওল
২. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি যে কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে, সেটি হল –
(ক) পদ্মাবতী
(খ) তোহফা
(গ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী
(ঘ) সেকেন্দারনামা
উত্তর – (ক) পদ্মাবতী
[ অথবা], ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ? – [MP’17]
(ক) লোরচন্দ্রাণী
(খ) পদ্মাবতী
(গ) সতীময়না
(ঘ) তোহফা
উত্তর – (খ) পদ্মাবতী
৩. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি ‘পদ্মাবতী’ কাব্যগ্রন্থের কোন খণ্ডের অংশ ? –
(ক) সিংহল-দ্বীপ খণ্ড
(খ) দেশ যাত্রা খণ্ড
(গ) পদ্মা-সমুদ্র খন্ড
(ঘ) পদ্মাবতী-বিয়োগ খন্ড
উত্তর – (গ) পদ্মা-সমুদ্র খন্ড
৪. ‘কন্যারে ফেলিল যথা’-কন্যার নাম কী ? –
(ক) পদ্মাবতী
(খ) ময়না
(গ) চন্দ্রাবতী
(ঘ) চন্দ্রাণী
উত্তর – (ক) পদ্মাবতী
৫. “জলের মাঝারে তথা”-জলের মধ্যে যা রয়েছে, তা হল –
(ক) পাহাড়
(খ) সাপ
(গ) প্রাসাদ
(ঘ) নগরী
উত্তর – (ঘ) নগরী
৬. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’-‘সুতা’শব্দের অর্থ –
(ক) বস্ত্র
(খ) সুতো
(গ) পুত্র
(ঘ) কন্যা
উত্তর – (ঘ) কন্যা
৭. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’–কে ?
(ক) লক্ষ্মী
(খ) পদ্মা
(গ) উমা
(ঘ) বারুণী
উত্তর – (খ) পদ্মা
৮. ‘নাহি তথা’- সেখানে কী নেই ? [MP’18]
(ক) সুখ-দুঃখ
(খ) আনন্দ-বেদনা
(গ) দুঃখক্লেশ
(ঘ) হাসিকান্না
উত্তর – (গ) দুঃখক্লেশ
৯. “অতি মনোহর দেশ”- ‘মনোহর’দেশটি অবস্থিত –
(ক) সিন্ধুতীরে
(খ) সিংহলে
(গ) পুরীতে
(ঘ) নদীতীরে
উত্তর – (ক) সিন্ধুতীরে
১০. “উপরে______________এক ফল ফুলে অতিরেক” – শূন্যস্থান পূরণ করো।
(ক) পাহাড়
(খ) পর্বত
(গ) গিরি
(ঘ) উপত্যকা
উত্তর – (খ) পর্বত
১১. আলাওলের কাব্যের পদ্মা কার কন্যা বলে বিবেচিত ?
(ক) দেবকন্যা
(খ) হিমালয়কন্যা
(গ) সিংহলকন্যা
(ঘ) সমুদ্রকন্যা
উত্তর – (ঘ) সমুদ্রকন্যা
১২. ‘টঙ্গি’শব্দের অর্থ হল –
(ক) টাঙানো
(খ) প্রাসাদ
(গ) ধ্বজা
(ঘ) রথ
উত্তর – (খ) প্রাসাদ
১৩. “তার পাশে রচিল উদ্যান।।” – যিনি সমুদ্রতীরে উদ্যান রচনা করেছেন, তিনি হলেন –
(ক) বিজয়া
(খ) পদ্মা
(গ) পদ্মাবতী
(ঘ) লক্ষ্মী
উত্তর – (খ) পদ্মা
১৪. ‘টঙ্গিটি কীরূপে সজ্জিত ?
(ক) বনফুলে
(খ) আলোকসজ্জায়
(গ) সোনা দ্বারা
(ঘ) ব্রোঞ্জ দ্বারা
উত্তর – (গ) সোনা দ্বারা
১৫. কোন সময় সমুদ্রকন্যা পদ্মা পিত্রালয়ে থাকেন ?
(ক) দিবাকালে
(খ) প্রত্যুষকালে
(গ) গোধূলিবেলায়
(ঘ) নিশিকালে
উত্তর – (ঘ) নিশিকালে
Click Here – জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর
Click Here – অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
Click Here – আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
১৬. সিন্ধুতীরের উপরের পর্বত ছিল –
(ক) ঘরবাড়িতে পূর্ণ
(খ) ফল-ফুলে সজ্জিত
(গ) পশুপাখিতে ভরা
(ঘ) জল-মানুষে পূর্ণ
উত্তর – (খ) ফল-ফুলে সজ্জিত
১৭. “তার পাশে রচিল উদ্যান।” – কার পাশে ?
(ক) সমুদ্রের
(খ) দিব্যপুরীর
(গ) পর্বতের
(ঘ) টঙ্গির
উত্তর – (গ) পর্বতের
১৮. “দেখি দিব্যস্থান”- কোথায় দিব্যস্থান দেখতে পেয়েছিলেন ?
(ক) সমুদ্র মাঝারে
(খ) পর্বতের ভিতরে
(গ) জলের মাঝারে
(ঘ) সিন্ধুতীরে
উত্তর – (ঘ) সিন্ধুতীরে
১৯. “হেমরত্বে নানা রঙ্গি”-‘হেম’শব্দের অর্থ হল –
(ক) উজ্জ্বল
(খ) রঙিন
(গ) সোনা
(ঘ) নকল
উত্তর – (গ) সোনা
২০. ‘মাঞ্জস’ শব্দের অর্থ –
(ক) ভেলা
(খ) জাহাজ
(গ) বজরা
(ঘ) লহর
উত্তর – (ক) ভেলা
২১. ‘প্রত্যুষ’শব্দের অর্থ –
(ক) রাত্রি
(খ) দ্বিপ্রহর
(গ) অপরাহু
(ঘ) ভোর
উত্তর – (ঘ) ভোর
২২. ‘মাঞ্জস’-টি কোথায় দাঁড়িয়েছিল ?
(ক) সিন্ধুতীরে
(খ) যমুনাতীরে
(গ) পদ্মাতীরে
(ঘ) ব্রহ্মপুত্র তীরে
উত্তর – (ক) সিন্ধুতীরে
২৩. “তার পাশে রচিল উদ্যান।” – কোন উদ্যানের কথা বলা হয়েছে ?
(ক) দেবপুরীর উদ্যান
(খ) সিন্ধুতীরের উদ্যান
(গ) রত্নসেনের উদ্যান
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর – (খ) সিন্ধুতীরের উদ্যান
সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর
২৪. ‘তুরিত’কথার অর্থ কী ?
(ক) সত্বর
(খ) ধীর
(গ) তড়িৎ
(ঘ) তুরঙ্গ
উত্তর – (ক) সত্বর
২৫. সিন্ধুতীরে কতজন সখীসহ পদ্মাবতীকে উদ্ধার করা হয় ?
(ক) দুজন
(খ) তিনজন
(গ) চারজন
(ঘ) পাঁচজন
উত্তর – (গ) চারজন
২৬. “বিস্মিত হইল বালা”- ‘বালা’শব্দের অর্থ –
(ক) সঙ্গিনী
(খ) সখী
(গ) কন্যা
(ঘ) দুখিনী
উত্তর – (গ) কন্যা
২৭. সমুদ্রতীরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা পদ্মাবতী কার রূপকেও জয় করতে পারে ?
(ক) রম্ভার
(খ) মেনকার
(গ) লক্ষ্মীর
(ঘ) গান্ধারীর
উত্তর – (ক) রম্ভার
২৮. পদ্মা বিস্মিত হলেন –
(ক) উদ্যানের রূপ দেখে
(খ) পদ্মাবতীর রূপ দেখে
(গ) বৃক্ষের রূপ দেখে
(ঘ) সমুদ্রের রূপ দেখে
উত্তর – (খ) পদ্মাবতীর রূপ দেখে
২৯. বিদ্যাধরি স্বর্গভ্রষ্ট হয়েছিল –
(ক) স্বেচ্ছায়
(খ) মুনির অভিশাপে
(গ) ইন্দ্রের অভিশাপে
(ঘ) অসাবধানতায়
উত্তর – (গ) ইন্দ্রের অভিশাপে
৩০. “বেথানিত হৈছে কেশ বেশ।” – ‘বেথানিত’কথাটির অর্থ –
(ক) দৃষ্টিগোচর
(খ) বেদনাযুক্ত
(গ) ব্যথায় নত
(ঘ) অসংবৃত
উত্তর – (ঘ) অসংবৃত
৩১. “বাহুরক কন্যার জীবন।” – এক্ষেত্রে ‘কন্যা’হল –
(ক) বিদ্যাধরি
(খ) পদ্মা
(গ) পদ্মাবতী
(ঘ) অপ্সরা
উত্তর – (গ) পদ্মাবতী
৩২. অচেতন পঞ্চকন্যাকে যা দিয়ে সারিয়ে তোলা হল –
(ক) তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধি
(খ) ফল-মূল
(গ) কন্দ-শিকড়
(ঘ) ভেষজ ঔষধ
উত্তর – (ক) তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধি
৩৩. “তুরিত গমনে আসি”-তুরিত গমনে এসেছে –
(ক) রত্নসেন
(খ) পদ্মাবতী
(গ) হীরামন
(ঘ) পদ্মা
উত্তর – (ঘ) পদ্মা
৩৪. ‘সিন্ধুতীরে’কবিতায় কন্যার শ্বাস পড়ছিল –
(ক) অতি দ্রুত
(খ) অতি কষ্টে
(গ) ধীর লয়ে
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর – (খ) অতি কষ্টে
৩৫. চেতনাহীন কন্যাকে দেখে পদ্মার মনে কীসের উদয় হয়েছিল ? –
(ক) দ্বেষ
(খ) মমতা
(গ) স্নেহ
(ঘ) করুণা
উত্তর – (গ) স্নেহ
৩৬. “ভাঙ্গিল প্রবল বাও”-‘বাও’শব্দের অর্থ হল –
(ক) বায়ু
(খ) প্রণাম
(গ) বজ্র
(ঘ) আঘাত
উত্তর – (ক) বায়ু
৩৭. ‘ অনুমান করেনিজচিতে’ – ‘চিতে’কথার অর্থ হল –
(ক) জীবনে
(খ) অন্তরে
(গ) শরীরে
(ঘ) নির্জনে
উত্তর – (খ) অন্তরে
৩৮. দেবী পদ্মার কল্পনায় পদ্মাবতীর হতচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা কোন ঘটনার সমতুল্য বলে মনে হয়েছে ?
(ক) দুর্বাসা কর্তৃক শকুন্তলাকে অভিশাপ প্রদান
(খ) বিদ্যাধরিকে ইন্দ্রের অভিশাপ প্রদান
(গ) কন্যাকে পিতার অভিশাপ প্রদান
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর – (খ) বিদ্যাধরিকে ইন্দ্রের অভিশাপ প্রদান
৩৯. “চিত্রের পোতলি সমা”- ‘পোতলি’শব্দের অর্থ কী ? –
(ক) পুত্র
(খ) পোটলা
(গ) পুতুল
(ঘ) ছবি
উত্তর – (গ) পুতুল
৪০. “দুখিনীরে করিয়া স্মরণ।।” – ‘দুখিনী’হলেন –
(ক) রাজার কন্যা
(খ) পদ্মা
(গ) সখী
(ঘ) চন্দ্রাণী
উত্তর – (খ) পদ্মা
সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর
৪১. “বিধি মোরে না কর নৈরাশ।” -পদ্মা এমন প্রার্থনা জানিয়েছিল কারণ –
(ক) তিনি পদ্মাবতীর প্রাণরক্ষা করতে চান
(খ) তিনি চান না সমুদ্রে কেউ কষ্ট পাক
(গ) তিনি আর সামুদ্রিক ঝড় চান না
(ঘ) তিনি চান না তার সখীরা দ্রুত প্রাসাদে ফিরে যাক
উত্তর – (ক) তিনি পদ্মাবতীর প্রাণরক্ষা করতে চান
৪২. ক-টি দন্ডের মধ্যে পঞ্চকন্যা চেতন পেয়েছিল ?
(ক) তিন
(খ) চার
(গ) পাঁচ
(ঘ) সাত
উত্তর – (খ) চার
৪৩. “অগ্নি জ্বালি ছেকে গাও”- ‘ছেকে’শব্দের গদ্যরূপটি কী ?
(ক) সেঁকে
(খ) শেকে
(গ) ছকে
(ঘ) ছ্যাঁকা দিয়ে
উত্তর – (ক) সেঁকে
৪৪. ‘কৃপা কর’-পদ্মা যাঁর কৃপা চাইছেন-তিনি কে ?
(ক) ইন্দ্র
(খ) সমুদ্রপতি
(গ) মাগন গুণী
(ঘ) নিরঞ্জন
উত্তর – (ঘ) নিরঞ্জন
৪৫. “সখী সবে আজ্ঞা দিল”-সখীদের যিনি আজ্ঞা দিলেন তিনি –
(ক) পদ্মা
(খ) বিদ্যাধরি
(গ) পদ্মাবতী
(ঘ) আলাওল
উত্তর – (ক) পদ্মা
৪৬. ‘শ্রীযুক্ত মাগন’হলেন –
(ক) ইন্দ্র
(খ) পদ্মার পিতা
(গ) আলাওলের পৃষ্ঠপোষক
(ঘ) মোহন্ত
উত্তর – (গ) আলাওলের পৃষ্ঠপোষক
৪৭. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতার শেষে যাঁকে স্মরণ করা হয়েছে তিনি হলেন –
(ক) ধর্মদেবতা
(খ) ঈশ্বর
(গ) মাগন গুণী
(ঘ) আল্লাহ
উত্তর – (গ) মাগন গুণী
৪৮. সমুদ্রতীরে অচৈতন্য পদ্মাবতী জীবন ফিরে পেতে সক্ষম হবেন –
(ক) পদ্মাবতীর কর্মফলে
(খ) পিতার পুণ্যফলে
(গ) রত্নসেনের বিচক্ষণতায়
(ঘ) পদ্মার চিন্তায়
উত্তর – (খ) পিতার পুণ্যফলে
৪৯.‘দণ্ড’বলতে বোঝায় –
(ক) ২৪ মিনিট
(খ) ২৫ মিনিট
(গ) ১৫ মিনিট
(ঘ) ১০ মিনিট
উত্তর – (ক) ২৪ মিনিট
৫০. “কিঞ্চিৎ আছয় মাত্র শ্বাস।” -‘আছয়’শব্দের গদ্যরূপ হল –
(ক) আশ্রয়
(খ) আছে
(গ) ছত্র
(ঘ) ছড়াছড়ি
উত্তর – (খ) আছে
৫১. তন্ত্রে-মন্ত্রে মহৌষধি দিয়ে কাকে বাঁচানো হল ?
(ক) লক্ষ্মীকে
(খ) ভদ্রাবতীকে
(গ) পদ্মাবতীসহ তার চার সখীকে
(ঘ) লীলাবতীকে
উত্তর – (গ) পদ্মাবতীসহ তার চার সখীকে
৫২. “হীন ________ সুরচন।”-শূন্যস্থান পূরণ করো।
(ক) কাজী
(খ) আলাওল
(গ) জয়দেব
(ঘ) গোবিন্দদাস
উত্তর – (খ) আলাওল
৫৩. “বেকত দেখিয়ে আঁখি”-‘বেকত’শব্দের অর্থ –
(ক) ব্যপ্তি
(খ) ব্যক্ত
(গ) বক্তা
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর – (খ) ব্যক্ত
মার্ক – 1 ( SAQ )
১. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটির রচয়িতা কে ?
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন আরাকান রাজসভার বিশিষ্ট কবি সৈয়দ আলাওল ।
২. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি ‘ পদ্মাবতী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ।
৩. “কন্যারে ফেলিল যথা”- কন্যাকে কোথায় ফেলা হল ? [MP’18]
উত্তর – কন্যা অর্থাৎ পদ্মাবতীকে সমুদ্রের মাঝখানের একটি দ্বীপে ফেলা হয়েছিল, যেখানে একটি দিব্যপুরীর অবস্থান সেটি ছিল সমুদ্রকন্যা পদ্মার আবাসস্থল ।
৪. “অতি মনোহর দেশ”- দেশটি কেমন ?
উত্তর – ‘অতি মনোহর দেশ’টি অপূর্ব প্রাকৃতিক শোভা সমন্বিত এবং এখানকার মানুষেরা সদাচারী, সত্যনিষ্ঠ এবং দুঃখক্লেশহীন ।
৫. “সমুদ্রনৃপতি সুতা” – উদ্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় দাও ।
উত্তর – সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্যে ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ হলেন সমুদ্ররাজার কন্যা পদ্মা ।
৬. “সিন্ধুতীরে দেখি দিব্যস্থান”- দিব্যস্থানটি কেমন ছিল ?
উত্তর – ‘দিব্য’ কথার অর্থ উৎকৃষ্ট, মনোহর। ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের সমুদ্র পরিবেষ্টিত পদ্মার আবাসস্থলটি স্বর্গভূমির মতো মনোহর ও উৎকৃষ্ট হওয়ার কারণে একে দিব্যস্থান বলা হয়েছে।
৭. “দিব্য পুরী সমুদ্র মাঝার” – দিব্যপুরীর বর্ণনা দাও।
উত্তর – আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রবেষ্টিত সমুদ্রকন্যা পদ্মার আবাসস্থলটিতে সর্বদা সত্যধর্ম আচরণ করা হয় এবং এখানে দুঃখক্লেশ না থাকায় স্থানটিকে দিব্যপুরী বা স্বর্গীয় নগরী বলা হয়েছে।
৮. “তার পাশে রচিল উদ্যান” – কার পাশে, কে উদ্যান রচনা করেছে ?
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সিন্ধুতীরের দেবস্থানোপম এলাকায় অবস্থিত সুউচ্চ পর্বতের পাশে সমুদ্রকন্যা পদ্মা উদ্যান রচনা করেছেন ।
৯. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।” -‘তথা ’বলতে কোন স্থানের কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে ‘তথা’ বলতে ফল-ফুল সুশোভিত সুউচ্চ পর্বত পাশ্ববর্তী উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত রত্নখচিত উচ্চ টঙ্গি বা রাজপ্রাসাদের কথা বলা হয়েছে।
১০. ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে টঙ্গিতে কে অবস্থান করেন ?
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে উল্লিখিত ‘টঙ্গি’ অর্থাৎ সুরম্য প্রাসাদে সমুদ্রকন্যা পদ্মা অবস্থান করেন ।
১১. “সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস।” – ‘মাঞ্জস’ শব্দের অর্থ কী ?[MP’20]
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের ‘মাঞ্জুস’ শব্দের অর্থ ‘নৌকা’ বা ‘ভেলা’ বা ‘মান্দাস’।
১২. “সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস”- কে এই মাঞ্জস দেখেছিলেন ?
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা এই মাঞ্জুস দেখেছিলেন ।
১৩. “সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস”- কে, কোন অবস্থায় এই মাঞ্জস দেখেছিলেন ?
উত্তর – সিন্ধুতীরবর্তী মনোহর উদ্যানে সখীসহ পরিভ্রমণকালে সমুদ্রকন্যা পদ্মা নির্জন বেলাভূমিতে এই মাঞ্জস দেখেছিলেন।
১৪. “মনেতে কৌতুক বাসি”- এই কৌতুকের কারণ কী ?
উত্তর – সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা সকালবেলায় সখীসহ সিন্ধু-তীরবর্তী দ্বীপটির মনোহর উদ্যানে পরিভ্রমণকালে জনশূন্য বেলাভূমিতে একটি মাঞ্জুস দেখতে পেয়ে কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন।
১৫. “তুরিত গমনে আসি”- তুরিত গমনে এসে পদ্মা কী দেখলেন ?
উত্তর – আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতানুসারে সমুদ্রকন্যা পদ্মা প্রত্যুষকালে সখীসহ মনোহর উদ্যানে পরিভ্রমণের সময় পাণ্ডববর্জিত বেলাভূমিতে একটি মাঞ্জস (ভেলা) দেখতে পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে ভেলায় অচৈতন্য পঞ্চকন্যাকে দেখতে পেয়েছিলেন।
১৬. “দেখে চারি সখী চারিভিত।” – এই চার সখী কারা ? তাদের পরিচয় দাও।
উত্তর – চার সখী হল সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতীর চার সখী – চন্দ্রপ্রভা, বিজয়া, রোহিণী এবং বিধুন্নলা ।
১৭. “বিস্মিত হইল বালা”-কে, কেন বিস্মিত হয়ে পড়েন ?
উত্তর – সমুদ্রকন্যা পদ্মা সমুদ্রতীরে অচেতন পদ্মাবতীর রূপ দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন ।
১৮. “রূপে অতি রম্ভা জিনি”- রম্ভা কে ?
উত্তর – রম্ভা হলেন অপরূপ সৌন্দর্যবর্তী, অনন্তযৌবনা, সংগীতে পারদর্শী স্বর্গের অপ্সরা ।
১৯. “মধ্যেতে যে কন্যাখানি”- মধ্যের কন্যার বিশেষত্ব কী ?
উত্তর – চার সখীর মাঝখানে অচেতন পদ্মাবতীর বিশেষত্ব হল তিনি রূপে স্বর্গের অপ্সরা রম্ভাকেও হারাতে পারেন।
২০. “ইন্দ্রশাপে বিদ্যাধরি/কিবা স্বর্গভ্রষ্ট করি”- অংশটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর – সিন্ধুতীরে অচৈতন্য অপরূপ রূপবতী পদ্মাবতীকে দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মা মনে করেছিলেন তিনি কোনো ইন্দ্রশাপগ্রস্ত স্বর্গভ্রষ্ট বিদ্যাধরি ।
২১. “অচৈতন্য পড়িছে ভূমিতে”- অচৈতন্য হওয়ার কারণ কী ?
সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর
উত্তর – সমুদ্রকন্যা পদ্মার অনুমানে ইন্দ্রশাপগ্রস্ত হয়ে পদ্মাবতী অচৈতন্য হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সামুদ্রিক বিপর্যয়গ্রস্ত হয়েই রানি পদ্মাবতী চেতনাহীন অবস্থায় ভেলায় করে ভাসতে ভাসতে সিন্ধুতীরে পৌঁছেছিলেন।
২২. “অনুমান করে নিজ চিতে।” -পদ্মা কী অনুমান করলেন ? [ অথবা], “দেখিয়া রূপের কলা/বিস্মিত হইল বালা/অনুমান করে নিজ চিতে।” – ‘বালা’কী অনুমান করেছিল ? [MP’17]
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতার সংজ্ঞাহীন অপরূপা পদ্মাবতীকে দেখে সমুদ্রসুতা পদ্মা অনুমান করলেন, ইন্দ্রের শাপগ্রস্ত স্বর্গের অপ্সরা বিদ্যাধরি স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে অচেতন অবস্থায় সিন্ধুতীরে পড়ে আছেন ।
২৩. “বেথানিত হৈছে কেশ বেশ।” – ‘বেথানিত’ শব্দের অর্থ কী ?
উত্তর – ‘বেথানিত’ শব্দের অর্থ অসংবৃত বা আলুথালু ।
২৪. “বুঝি সমুদ্রের নাও/ভাঙ্গিল প্রবল বাও”- এখানে ‘নাও’ও ‘বাও’ শব্দ দুটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ?
উত্তর – আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় ‘নাও’ শব্দটি নৌকা অর্থে এবং ‘বাও’ শব্দটি বাতাস অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। পদ্মাবতীর নৌকা উত্তাল সামুদ্রিক বাতাসে ভেঙে গিয়েছিল, প্রসঙ্গে সেই শব্দ দুটি প্রযুক্ত হয়েছে ।
২৫. “চিত্রের পোতলি সমা”- এমন বলার কারণ কী ?
উত্তর – আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় পদ্মাবতীর রূপলাবণ্যে মোহিত সমুদ্রকন্যা পদ্মা পদ্মাবতীর সৌন্দর্য যে চিত্রের পুতুলের মতো তা বোঝাতেই ‘চিত্রের পোতলি সমা’ বাক্যাংশের অবতারণা করেছেন ।
২৬. “কিঞ্চিৎ আছয় মাত্র শ্বাস।” -শ্বাস কিঞ্চিৎ থাকার কারণ কী ?
উত্তর – আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতানুসারে দীর্ঘ সময় সামুদ্রিক ঝঞ্ঝা কবলিত হয়ে প্রাণ হারানোর সম্ভাবনার সঙ্গে সংগ্রামের ফলে পদ্মাবতীসহ তাঁর চার সখীর প্রচুর প্রাণশক্তি ক্ষয় হওয়ায় কিঞ্চিৎ শ্বাসই অবশিষ্ট ছিল।
২৭. “বিধি মোরে না কর নৈরাশ।” -উক্তিটি কার ? [ অথবা], “বিধি মোরে না কর নৈরাশ।।” -কে নিরাশ হতে চান না ?
উত্তর – আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা উক্তিটি করেছেন। অর্থাৎ, তিনিই নিরাশ হতে চান না।
২৮. “বিধি মোরে না কর নৈরাশ।।” – বক্তা কোন বিষয়ে নিরাশ হতে চান না ?
উত্তর – আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতানুসারে সামুদ্রিক বিপর্যয়ে মূর্ছিতা পদ্মাবতী ও তাঁর সখীদের প্রাণ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সমুদ্রসুতা পদ্মা নিরাশ হতে চান না।
২৯. “বাহুরক কন্যার জীবন।”- ‘বাহুরক’ কথাটির অর্থ কী ?
উত্তর – ‘বাহুরক’ কথাটির অর্থ হল ‘ফিরে আসুক’ ।
৩০. “চিকিৎসিমু প্রাণপণ/কৃপা কর নিরঞ্জন”- ‘নিরঞ্জন’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর – ‘নিরঞ্জন’ বলতে পরম আরাধ্য কৃপাময় ঈশ্বরকে বোঝানো হয়েছে, যিনি পদ্মাবতীর জীবনরক্ষা করতে পারেন।
৩১. “সখী সবে আজ্ঞা দিল”- বক্তা তার সখীদের কী আজ্ঞা দিয়েছিলেন ? [MP’19]
উত্তর – আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সখীদের সঙ্গে প্রাতভ্রমণ তথা উদ্যান পরিভ্রমণকালে নির্জন সমুদ্রতটে সংজ্ঞাহীন পঞ্চকন্যাকে দেখে পদ্মা তাঁর সখীদের সেই পঞ্চকন্যাকে বসনে ঢেকে উদ্যানে এনে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
৩২. “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।” – পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেল ?
উত্তর – ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা ও তাঁর সখীদের পরম সেবায় আগুনের সেঁক, তন্ত্রমন্ত্র-মহৌষধ সহযোগে চারদণ্ডব্যাপী চিকিৎসায় পঞ্চকন্যা অর্থাৎ পদ্মাবতী ও তাঁর সখীগণ চেতনা ফিরে পেল।
৩৩. “হীন আলাওল সুরচন।” – আলাওল নিজেকে হীন বলেছেন কেন ?
উত্তর – সৈয়দ আলাওল মোহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যানুসারে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেছিলেন-তাই বারবার জায়সিকে কবিশ্রেষ্ঠ বলে মেনে নিয়ে নিজেকে ‘হীন’ বলে উল্লেখ করে তিনি সৌজন্য প্রকাশ করেছেন।
মার্ক – 3 প্রশ্ন উত্তর
১. “কন্যারে ফেলিল যথা”- কন্যাটি কে ? তাকে কোথায় ফেলা হয়েছিল ? ১+২
উত্তর – কন্যার পরিচয়: সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ‘পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড’-র অন্তর্গত ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের কন্যাটি হলেন সিংহলরাজ গন্ধর্বসেনের কন্যা এবং চিতোররাজ রত্নসেনের দ্বিতীয়া স্ত্রী পদ্মাবতী।
কন্যাকে যেখানে ফেলা হয়েছিল: রত্নসেনের সঙ্গে পরিণয়ের পর চিতোর প্রত্যাবর্তনকালে দৈবদুর্বিপাকে এক ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত হয়ে চার সখীসহ অচৈতন্য পদ্মাবতীর ভগ্ন মান্দাস সমুদ্রবেষ্টিত, সুরভিত বর্ণোজ্জ্বল পুষ্পরাজি ও সুলক্ষণযুক্ত বৃক্ষ সমন্বিত, সত্যনিষ্ঠ-ধার্মিক-সদাচারী মানুষের বাসযুক্ত এক দিব্যভূমি তুল্য দ্বীপে এসে আছড়ে পড়েছিল। প্রকৃত অর্থে ফেলা হয়েছিল বলতে এই ঘটনাকেই বোঝানো হয়েছে। এই দ্বীপটিই ছিল সমুদ্রকন্যা পদ্মার আবাসস্থল।
২. “দিব্য পুরী সমুদ্র মাঝার”- কোন পুরীকে ‘দিব্য পুরী’বলাহয়েছে ? ‘দিব্য পুরী’বলার কারণ কী ? ১+২
উত্তর – দিব্য পুরীর পরিচয়: সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের কাহিনি অনুযায়ী, প্রবল সামুদ্রিক ঝড়ের সম্মুখীন হয়ে চিতোররাজ রত্নসেনের দ্বিতীয়া পত্নী পদ্মাবতীর ভগ্ন মান্দাস সমুদ্র মধ্যবর্তী, মনোরম শোভাবিশিষ্ট যে দ্বীপটিতে এসে আছড়ে পড়েছিল সেখানে অবস্থিত সমুদ্রসুতা পদ্মার পুরীকেই ‘দিব্য পুরী’ বলা হয়েছে।
দিব্য পুরী বলার কারণ: সুনীল সমুদ্রবেষ্টিত পুরীটিকে ‘দিব্য’ বলার কারণ সেখানকার সুউচ্চ পর্বত, পর্বত-পার্শ্ববর্তী অপূর্ব সৌরভ বিশিষ্ট পুষ্পরাজি ও সুলক্ষণযুক্ত বৃক্ষের দ্বারা সজ্জিত উদ্যানটির মনোহরণকারী শোভা এবং সর্বোপরি সেখানকার অধিবাসীদের সত্য-ধর্ম-সদাচার পরায়ণ আচরণ যা দেশটিকে স্বর্গতুল্য করে তুলেছিল।
৩. “অতি মনোহর দেশ”- এই ‘মনোহর দেশ’-এর সৌন্দর্যের পরিচয় দাও। [MP’19]
[অথবা], “অতি মনোহর দেশ”- ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতার অনুসরণে মনোহর দেশটির বর্ণনা দাও।
উত্তর – মনোহর দেশ বলার কারণ: সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে বর্ণিত সমুদ্রবেষ্টিত, সমুদ্রকন্যা পদ্মার প্রাসাদ ও প্রমোদ-উদ্যান সংবলিত দ্বীপটি ছিল মনোহর (মনোহরণকারী)। সর্বদা সত্য-ন্যায়ধর্ম ও সদাচার দ্বারা প্রতিপালিত এই দেশে দুঃখকষ্টের চিহ্নমাত্র না থাকায় নৈতিক আদর্শের দিক থেকে এটি স্বর্গীয় মহিমা হয়েছে। এ ছাড়া এখানকার সুউচ্চ পর্বত, ফল-ফুলে পরিপূর্ণ সুরম্য উদ্যান, পুষ্পরাজির অপূর্ব সৌরভ প্রাকৃতিক দিক থেকেও একে যে দিব্যমহিমা দান করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
৪. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।” -মন্তব্যটির প্রসঙ্গ নির্দেশ করো। কন্যাটি কে ? কোথায় সে সর্বক্ষণ থাকে ?
উত্তর – প্রসঙ্গ: সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে চিতোররাজ রত্নসেনের দ্বিতীয়া স্ত্রী পদ্মাবতী চিতোর অভিমুখে যাত্রাকালে ভয়ংকর সামুদ্রিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে চার সখীসহ অচৈতন্য অবস্থায় ভগ্ন মান্দাসে করে ভাসতে ভাসতে এক ‘দিব্য পুরী’-সম দ্বীপটিতে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। সেখানেই এক মনোহর উদ্যান মধ্যস্থিত রত্নখচিত প্রাসাদে পদ্মার থাকা প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে।
কন্যার পরিচয়: কন্যাটি হলেন সমুদ্রকন্যা পদ্মা মুহম্মদ জায়সীর কাব্যে তিনি ‘লক্ষ্মী’ নামে পরিচিতা।
কন্যার বাসস্থান : সুউচ্চ পর্বতের পার্শ্বে অবস্থিত, নানান সুগন্ধি পুষ্পরাজি ও সুলক্ষণযুক্ত বৃক্ষ শোভিত উদ্যানের মাঝে স্থাপিত রত্নসজ্জিত প্রাসাদে পদ্মা সর্বক্ষণ থাকতেন।
Click Here – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন 2026
Click Here – বাংলা ব্যাকরণ: সমাস
Click Here – প্রতিবেদন ও সংলাপ রচনা সাজেশন 2026
Click Here – রচনা লেখার নিয়ম
৫. “নিপতিতা চেতন রহিত।” – চেতন রহিত অবস্থায় কে, কেন নিপতিতা ছিল ? ১+২
উত্তর – অচেতন অবস্থায় নিপতিতা হওয়ার ব্যাখ্যা: সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ‘পদ্মা-সমুদ্র খন্ড’-র অন্তর্গত ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে আলোচ্য অংশটি গৃহীত। সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতীর সঙ্গে চিতোররাজ রত্নসেনের পরিণয়ের পর চিতোর প্রত্যাবর্তনকালে ছদ্মবেশী সমুদ্রকে চিনতে না পেরে রত্নসেন দান দিতে অসম্মত হলে সমুদ্রের রোষে প্রচন্ড ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে তাঁদের সঙ্গীসাথি-সম্পদ-জলযান সব ধ্বংস হয়ে যায়। রত্নসেন-পদ্মাবতী এবং চার সখী চন্দ্রপ্রভা, বিজয়া, রোহিণী, বিধুন্নলা একটি ভেলায় আশ্রয় নিলেও ভাগ্যবিড়ম্বনায় ভেলাটি দ্বিখণ্ডিত হলে স্বামীবিচ্ছিন্না পদ্মাবতী চার সখীসহ অচেতন অবস্থায় ভাসতে ভাসতে সিন্ধুতীরে নিপতিতা হন।
৬. “বিস্মিত হইল বালা”- বালা কে ? তার বিস্ময়ের কারণ কী ? ১+২
উত্তর – বালার পরিচয়: সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশটিতে ‘বালা’ বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে।
বিস্ময়ের কারণ: চিতোররাজ রত্নসেনের সঙ্গে বিবাহের পর চিতোর প্রত্যাবর্তনকালে সমুদ্রের রোষে রত্নসেন ও তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী ভয়ংকর সামুদ্রিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। তখন স্বামীবিচ্ছিন্না, ভাগ্যবিড়ম্বিতা অচেতন পদ্মাবতী চার সখীসহ প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় ভগ্ন মান্দাসে ভাসতে ভাসতে সিন্ধুতীরে এসে পৌঁছোলে, প্রত্যুষকালে সুরম্য উদ্যানে সখীসহ পরিভ্রমণরত সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাকে উদ্ধার করেন। চার সখীর মধ্যবর্তী পদ্মাবতীর অসামান্য রূপলাবণ্য দেখেই পদ্মা বিস্মিত হয়েছিলেন।
৭. “অনুমান করে নিজ চিতে।” – কে, কী অনুমান করেন ? ১+২
[ অথবা ], “অনুমান করে নিজ চিতে।” – কার, কোন অনুমানের কথা বলা হয়েছে আলোচনা করো । ১+২
উত্তর – উদ্দিষ্ট জন: আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশটিতে সমুদ্রকন্যা পদ্মা অনুমান করেছেন।
অনুমানের বিষয়: পিতৃপুরে হেসেখেলে নিশিযাপনের পর প্রত্যুষকালে সিন্ধুতীরের মনোরম উদ্যানে সখীসহ ভ্রমণকালে জনমানবশূন্য বেলাভূমিতে একটি মান্দাস সমুদ্রতনয়া পদ্মার দৃষ্টিগোচর হয়, কৌতূহলী পদ্মা সেখানে উপস্থিত হল অচেতন পঞ্চকন্যাকে উদ্ধার করেন। অপ্সরা রম্ভার রূপকেও ম্লান করে দেওয়া মাঝের কন্যাটির রূপলাবণ্যে বিস্মিত পদ্মা অনুমান করেন যে, ইনি কোনো মানবী নন, ইন্দ্রের শাপগ্রস্ত বিদ্যাধরি হয়তো স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে পৃথিবীতে পতিত হয়েছেন।
৮. “ইন্দ্রশাপে বিদ্যাধরি”- কে, কাকে ‘বিদ্যাধরি ’বলে অনুমান করেন ? কেন এই অনুমান ? ২+১
উত্তর – ‘বিদ্যাধরি’ বলে অনুমান: আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশটিতে চিতোর প্রত্যাবর্তনকালে সামুদ্রিক বিপর্যয়গ্রস্ত হয়ে স্বামীবিচ্ছিন্না, অচেতন, প্রায় অর্ধমৃত পদ্মাবতী চার সখীসহ সিন্ধুতীরে ভেসে এলে পদ্মাবতীর অসামান্য রূপে মুগ্ধ সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাকে ‘বিদ্যাধরি’ বলে অনুমান করেছেন।
অনুমানের কারণ: সমুদ্রকন্যা জানতেন দেবলোকে বসবাসকারী বিদ্যাধরি, অপ্সরা, কিন্নর, গন্ধর্ব প্রমুখদের কোনো কর্মচ্যুতি ঘটলে তাঁরা ইন্দ্রের শাপগ্রস্ত হয়ে স্বর্গভ্রষ্ট হন। তাই অচেতন রূপবতী পদ্মাবতীকে দেখে পদ্মা তাকে ইন্দ্রশাপগ্রস্ত, স্বর্গভ্রষ্ট কোনো বিদ্যাধরি বলেই মনে করেছেন।
৯. “চিত্রের পোতলি সমা”- ‘পোতলি’শব্দের অর্থ কী ? কাকে, কেন চিত্রের পোতলির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ? ১+২
উত্তর– ‘পোতলি’ শব্দের অর্থ: আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশটিতে ‘পোতলি’ শব্দের অর্থ ‘পুতুল’।
চিত্রের পোতলির সঙ্গে তুলনার কারণ: ভাগ্যবিড়ম্বনায় সামুদ্রিক ঝঞ্ঝাকবলিত হয়ে নিদারুণ দুঃখকষ্ট ভোগ করে শেষ পর্যন্ত প্রায় অর্ধমৃতাবস্থায় চার সখীসহ পদ্মাবতী ভাসতে ভাসতে সিন্ধুতীরে এসে পৌঁছোলে সমুদ্রকন্যা পদ্মার দ্বারা উদ্ধার পান। পদ্মার দৃষ্টিতে অপ্সরা রম্ভার সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেওয়া অপার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারিণী রানি পদ্মাবতী ছবির পুতুলের মতোই সুন্দর। তাঁর রূপলাবণ্যের বর্ণনা প্রসঙ্গেই ‘চিত্রের পোতলি সমা’ শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হয়েছে।
১০. “বিধি মোরে না কর নৈরাশ।” – কার প্রার্থনা ? এমন প্রার্থনার কারণ কী ? ১+২
[ অথবা], “কৃপা কর নিরঞ্জন”- কে প্রার্থনা করেছেন? কেন বক্তা এরূপ আবেদন করেছেন ?১+২
উত্তর – প্রার্থনাকারী: আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশটিতে প্রার্থনাটি করেছেন সমুদ্রসুতা পদ্মা।
প্রার্থনার কারণ: সকালবেলা সিন্ধুতীরের ফল-ফুলে শোভিত সুরম্য উদ্যানে সখীসহ ভ্রমণকালে পদ্মা একটি ভেলায় অচেতন, প্রায় অর্ধমৃত, কিঞ্চিৎ শ্বাস অবশিষ্ট থাকা চার সখীসহ পদ্মাবতীকে দেখতে পান এবং তাদের এই বিধ্বস্ত অবস্থার জন্য কাতর হয়ে পড়েন। স্নেহময়ী পদ্মা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উপযুক্ত চিকিৎসার দ্বারা তাদের সুস্থ করার উদ্যোগ নিয়ে দয়াময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন পঞ্চকন্যার প্রাণরক্ষার বিষয়ে পদ্মাকে নিরাশ না করেন।
১১. “পিতার পুণ্যের ফলে/মোহর ভাগ্যের বলে/বাহুরক কন্যার জীবন।”- বক্তা কে ? তিনি কন্যার জীবন ফেরানোর জন্য কী ব্যবস্থা করলেন ? ১+২
উত্তর – বক্তা: আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশটিতে বক্তা হলেন সমুদ্রকন্যা পদ্মা।
কন্যার জীবনরক্ষার ব্যবস্থাবলি: নিয়তির পরিহাসে সদ্যবিবাহিতা অভূতপূর্ব সৌন্দর্যের অধিকারিণী পদ্মাবতী সামুদ্রিক ঝঞ্ঝাকবলিত হয়ে অচেতন অবস্থায় চার সখীসহ সিন্ধুতীরে নিক্ষিপ্ত হলে কোমলপ্রাণা পদ্মা তাদের উদ্ধার করেন। দুর্যোগে বিধ্বস্ত পঞ্চকন্যার প্রাণশক্তি ক্ষীণ হলেও তখনও তারা জীবিত, এ কথা উপলব্ধি করে ধর্মপ্রাণা-স্নেহশীলা পদ্মা সখীদের নির্দেশ দেন পঞ্চকন্যাকে বসনাবৃত করে উদ্যানে নিয়ে যেতে। তারপর আগুনের সেঁক দিয়ে, তন্ত্রমন্ত্র-মহৌষধ সহযোগে চারদণ্ডব্যাপী সেবাযত্নের দ্বারা তাদের জীবনরক্ষা করেন।
১২. “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।” – পঞ্চকন্যা কারা ? তারা কেন অচেতন ছিলেন ? ১+২
উত্তর – পঞ্চকন্যার পরিচয়: আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশটিতে পঞ্চকন্যা বলতে চিতোরের রানি পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখী চন্দ্রপ্রভা, বিজয়া, রোহিণী এবং বিধুন্নলাকে বোঝানো হয়েছে।
অচেতন হওয়ার কারণ: চিতোররাজ রত্নসেনের সঙ্গে পদ্মাবতীর বিবাহের পর ছদ্মবেশী সমুদ্রকে চিনতে না পেরে রত্নসেন দান দিতে অসম্মত হলে সমুদ্রের অভিশাপগ্রস্ত হয়ে তাঁরা সামুদ্রিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। রত্নসেন-পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী কোনোক্রমে একটি ভেলায় আশ্রয় পেলেও ভাগ্যবিড়ম্বনায় ভেলাটি দ্বিখণ্ডিত হলে স্বামীবিচ্ছিন্না ঝঞ্ঝাবিধ্বস্ত পদ্মাবতী সখীসহ অচেতন অবস্থায় সিন্ধুতীরে নিক্ষিপ্ত হন।
সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর
মার্ক – 5 প্রশ্ন উত্তর
১. “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।”- পঞ্চকন্যা কে, কে ? তাদের অচৈতন্যের কারণ কী ? কীভাবে তারা চেতনা ফিরে পেয়েছিল ? ১+২+২
উত্তর – পঞ্চকন্যার পরিচয়: ‘পঞ্চকন্যা’ হলেন সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী চন্দ্রপ্রভা, বিজয়া, রোহিণী ও বিধুন্নলা।
পঞ্চকন্যার অচৈতন্য হওয়ার কারণ: সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর সঙ্গে বিবাহের পর সপত্নী রত্নসেন স্বরাজ্য চিতোরে প্রত্যাবর্তনকালে সমুদ্রপথে নিয়তি তাড়িত হয়ে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। নিয়তির অমোঘ বিধানে রত্নসেন-পদ্মাবতী পরস্পর বিচ্ছিন্ন হন এবং চার সখীসহ ভাগ্যবিড়ম্বিতা অচেতন পদ্মাবতী সিন্ধুতীরে নিক্ষিপ্ত হন। বস্তুত সামুদ্রিক বিপর্যয় অর্থাৎ সিন্ধুক্লেশের কারণেই তাঁরা অচৈতন্য হয়ে পড়েন।
পঞ্চকন্যার চেতনা ফিরে পাওয়া: পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী যেখানে নিপতিতা হন সেই দ্বীপভূমি ছিল সমুদ্রকন্যা পদ্মার বিচরণভূমি ও আবাসস্থল। প্রত্যুষকালে সখীসহ প্রাতভ্রমণকালে নির্জন বেলাভূমিতে পদ্মা এই অচৈতন্য পঞ্চকন্যাকে দেখতে পান এবং চিত্রের পুতুলের মতো সুন্দরী পদ্মাবতীকে দেখে স্নেহার্দ্র হয়ে পড়েন। দুর্যোগে বিধ্বস্ত পঞ্চকন্যার প্রাণশক্তি ক্ষীণ হলেও তাঁরা তখনও জীবিত রয়েছেন এ কথা উপলব্ধি করে পদ্মা সখীদের পঞ্চকন্যাকে বসনাবৃত করে উদ্যানের মাঝে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বিধাতার ওপর বিশ্বাস রেখে মমতাময়ী পদ্মা সংজ্ঞাহীন পঞ্চকন্যার জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন। সমুদ্রদুহিতার নির্দেশে আহত কন্যাদের শীতের কঠোরতা থেকে রক্ষার জন্য আগুন জ্বালিয়ে গায়ে-মাথায় সেঁক দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তন্ত্রমন্ত্র-মহৌষধ সবকিছুর প্রয়োগে চারদণ্ডব্যাপী আন্তরিক চিকিৎসার দ্বারা পঞ্চকন্যার চেতনা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন পদ্মা ও তাঁর সখীরা।
২. “সমুদ্রনৃপতি সুতা/পদ্মা নামে গুণযুতা/সিন্ধুতীরে দেখি দিব্যস্থান।”- ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’কে ? ‘পদ্মা’বলতে কার কথা বলা হয়েছে ? সিন্ধুতীরের দিব্যস্থানটির পরিচয় দাও। ১+১+৩
উত্তর- সমুদ্রপতি সুতার পরিচয়: ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ হলেন পদ্মা।
পদ্মার প্রকৃত পরিচয়: ‘পদ্মা’ বলতে কবি আলাওল সমুদ্রকন্যা লক্ষ্মীকে চিহ্নিত করেছেন। জায়সীর কাব্যে যিনি লক্ষ্মী, তিনিই আলাওলের কাব্যে পদ্মা।
দিব্যস্থানের পরিচয়: ভাগ্যবিড়ম্বিতা সিংহল রাজকন্যা রত্নসেনের দ্বিতীয়া পত্নী পদ্মাবতী অচেতন অবস্থায় চারসখীসহ ভেলায় ভাসতে ভাসতে ঢেউয়ের ধাক্কায় যে দ্বীপভূমিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সেটি ছিল সমুদ্রতনয়া পদ্মার অতিপ্রিয় স্থান। এই দ্বীপটির সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে পদ্মা ফল-ফুলের প্রাচুর্যযুক্ত একটি সুউচ্চ পর্বত পার্শ্বে রচনা করেছিলেন এক সুরম্য নয়নাভিরাম উদ্যান। বিচিত্র পুষ্পরাজিতে রঞ্জিত এবং পুষ্পসৌরভে সুরভিত উদ্যানটির অন্যতম সম্পদ ছিল এখানকার সুলক্ষণযুক্ত উপকারী বৃক্ষরাজি যা ছিল ঔষধি গুণান্বিত ও সু-উৎপাদনশীল। এই মনোমুগ্ধকর উদ্যানের মাঝেই স্থাপিত হয়েছিল স্বর্ণনির্মিত-রত্নখচিত পদ্মার প্রাসাদ যার ছটায় চারিদিক ছিল উদ্ভাসিত। পিতৃপুরীতে নানাসুখে হেসেখেলে নিশিযাপনের পর ভোর হতেই পদ্মা সখীদের সঙ্গে তাঁর এই বিচরণভূমি ও আবাসস্থলটিতে চলে আসতেন কিছুটা সময় আনন্দপূর্ণভাবে অতিবাহিত করার জন্য। সমুদ্রকন্যা এই প্রাসাদেই সর্বক্ষণ অবস্থান করতেন। এই স্থান শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই মনোহর ছিল তাই নয়, সত্য-ধর্ম-ন্যায়-সদাচারের সহাবস্থানে এই দেশ ছিল অতি মনোহর এবং দুঃখক্লেশহীন।
৩. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।” – কন্যাটি কে ? সে কোথায় থাকে ? সেই পরিবেশের বর্ণনা দাও। ১+১+৩
[ অথবা ], “অতি মনোহর দেশ” -‘সিন্ধুতীরে ’কবিতা অবলম্বনে মনোহর দেশটির বর্ণনা দাও। ৫
উত্তর – কন্যার পরিচয়: ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে কন্যাটি হলেন সমুদ্রনৃপতি তনয়া পদ্মা।
কন্যার অবস্থান: মনোহর দেশটিতে অবস্থিত ফল-ফুল পরিপূর্ণ পর্বত পার্শ্বের উদ্যান মধ্যস্থিত রত্নখচিত প্রাসাদেই পদ্মা সর্বক্ষণ থাকতেন।
দিব্যস্থানের পরিচয়: ভাগ্যবিড়ম্বিতা সিংহল রাজকন্যা রত্নসেনের দ্বিতীয়া পত্নী পদ্মাবতী অচেতন অবস্থায় চারসখীসহ ভেলায় ভাসতে ভাসতে ঢেউয়ের ধাক্কায় যে দ্বীপভূমিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সেটি ছিল সমুদ্রতনয়া পদ্মার অতিপ্রিয় স্থান। এই দ্বীপটির সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে পদ্মা ফল-ফুলের প্রাচুর্যযুক্ত একটি সুউচ্চ পর্বত পার্শ্বে রচনা করেছিলেন এক সুরম্য নয়নাভিরাম উদ্যান। বিচিত্র পুষ্পরাজিতে রঞ্জিত এবং পুষ্পসৌরভে সুরভিত উদ্যানটির অন্যতম সম্পদ ছিল এখানকার সুলক্ষণযুক্ত উপকারী বৃক্ষরাজি যা ছিল ঔষধি গুণান্বিত ও সু-উৎপাদনশীল। এই মনোমুগ্ধকর উদ্যানের মাঝেই স্থাপিত হয়েছিল স্বর্ণনির্মিত-রত্নখচিত পদ্মার প্রাসাদ যার ছটায় চারিদিক ছিল উদ্ভাসিত। পিতৃপুরীতে নানাসুখে হেসেখেলে নিশিযাপনের পর ভোর হতেই পদ্মা সখীদের সঙ্গে তাঁর এই বিচরণভূমি ও আবাসস্থলটিতে চলে আসতেন কিছুটা সময় আনন্দপূর্ণভাবে অতিবাহিত করার জন্য। সমুদ্রকন্যা এই প্রাসাদেই সর্বক্ষণ অবস্থান করতেন। এই স্থান শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই মনোহর ছিল তাই নয়, সত্য-ধর্ম-ন্যায়-সদাচারের সহাবস্থানে এই দেশ ছিল অতি মনোহর এবং দুঃখক্লেশহীন।