বই কেনা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর // Class 11 2nd Semester Bengali Boi Kena Question Answer is displayed here . Hope that it will be very helpful .
বই কেনা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর
5 মার্ক প্রশ্ন উত্তর
(১) “মার্ক টুয়েনের লাইব্রেরিখানা নাকি দেখবার মত ছিল।”- মার্ক টুয়েন কে ছিলেন ? তাঁর লাইব্রেরির বিশেষত্ব কী ছিল ? [ সংসদ প্রদত্ত নমুনা প্রশ্ন ] ৫
উত্তর –
মার্ক টুয়েন : মার্ক টুয়েন ছিলেন একজন বিখ্যাত মার্কিন সাহিত্যিক ও গবেষক । তাঁকে আমেরিকান সাহিত্যের জনক বলা হয় ।
লাইব্রেরির বিশেষত্ব : মার্ক টুয়েনের নিজস্ব যে লাইব্রেরির কথা বলা আছে তা অন্যান্য লাইব্রেরির চাইতে একটু আলাদা। এই লাইব্রেরির মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ছিল বই আর বই। কার্পেটের উপরও বই গাদা হয়ে পড়ে থাকত। কারণ অন্যান্য লাইব্রেরির মতো এখানে কোনো শেল্ফ ছিল না। আসলে এই লাইব্রেরির অধিকাংশ বই সংগৃহীত হয়েছিল বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার চেয়ে বা তাদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়ে। কিন্তু একটা আস্ত শেল্ফ তো আর ধার করা যায় না! তাই ঘরের মেঝেতে স্তূপীকৃত বই নিয়েই এই লাইব্রেরি ছিল বিশিষ্ট। আসলে দুনিয়ার অধিকাংশ লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য হল-সমস্ত বই বুকশেলফে বই-এর আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকে। সুন্দরভাবে সাজানো-গোছানো রাখাটাও ভালো লাইব্রেরির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সেই তুলনায় আমেরিকার কিংবদন্তি সাহিত্যিক মার্ক টুয়েনের লাইব্রেরি অনেকটাই আলাদা। কারণ সেখানে কোনো বুকশেলফ ছিল না। তাই স্বাভাবিকভাবেই তিনি বই স্তূপাকৃতি করে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ কোনো সহৃদয় বন্ধু বইয়ের মতো বুকশেলফ দান করেননি তাঁকে। বিশ্বের অন্যান্য ব্যক্তিগত লাইব্রেরি যেভাবে গড়ে উঠেছে, তাঁর লাইব্রেরিও সেটির ব্যতিক্রম নয়। বন্ধুবান্ধবের কাছে ধার চেয়ে আর ফেরত না দিয়ে।
(২) “তিনি স্থির করলেন, এদের একটা শিক্ষা দিতে হবে।”— কে, কাদের শিক্ষা স্থির করলেন ? তিনি কী শিক্ষা দিয়েছিলেন ? [সংসদ প্রদত্ত নমুনা প্রশ্ন] ২+৩=৫
উত্তর – বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক গ্রন্থের অন্তর্গত ‘বই কেনা’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে ‘তিনি’ হলেন বিখ্যাত ফরাসি সাহিত্যিক আঁদ্রে জিদ তাঁর নিজের বন্ধুদের শিক্ষা দেওয়ার কথা মনস্থির করেছিলেন।
জিদ রাশিয়া থেকে ফিরে এসে সোভিয়েট রাজ্যের বিরুদ্ধে একটি প্রাণঘাতী লেখা ছাড়েন। প্যারিসের স্থালিনীয়ারা তখন গালিগালাজ আর কটুকাটব্য করে জিদের প্রাণ অতিষ্ঠ করে তুললেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল এই সময় তাঁর বন্ধুরা অধিকাংশই চুপ করে থাকলেন, জিদের হয়ে কথা বললেন না। বিষয়টি আঁদ্রে জিদের ‘জিগরে’ লাগল অর্থাৎ মনে লাগল। তিনি মানসিকভাবে আহত হলেন। আর তখনই তিনি মনস্থির করলেন যে এই সমস্ত চুপ করে থাকা বন্ধুদের শিক্ষা দিতে হবে। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। কাগজে বিজ্ঞাপন দিলেন, তাঁর নিজের লাইব্রেরিখানা তিনি নিলামে বেচে দেবেন। প্রথমে সমগ্র প্যারিসবাসী খবরটি শোনামাত্র বিশ্বাস করেনি। কিন্তু পরে সবাই নিলামখানার দিকে দৌড়ে গিয়ে যারপরনাই বিস্মিত হল। দেখা গেল, সেইসব বই-ই জিদ নিলামে চড়িয়েছেন, যেগুলি তাঁর চুপ থাকা বন্ধুরা জিদকে স্বাক্ষরসহ উপহার দিয়েছিলেন। জিদের মতে তিনি জঞ্জাল বেচে ফেলেছেন। অপমানিত বন্ধুরা দ্বিগুণ-তিনগুণ দাম দিয়ে তড়িঘড়ি লোক পাঠিয়ে সেগুলিকে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এরকম শিক্ষা পেয়ে জিদকে তাঁদের ক্ষমা করার কথা নয়।
(৩) “সেটা আমি ভূমধ্যসাগরের মধ্যিখানে বসে শুনতে পেয়েছিলুম।” – সেটা কী ভূমধ্যসাগরের মধ্যে বসে শুনতে পেয়েছিলেন কেন ? খবরটির গুরুত্ব কোথায় ? ৩+২=৫
উত্তর –
প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘বই কেনা’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে ‘সেটা’ বলতে একটি বিশেষ খবরের কথা বলেছেন। সেটি হল বিখ্যাত ফরাসি লেখক আঁদ্রে জিদ বন্ধুদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন যে, তিনি নিজের লাইব্রেরিখানা নিলামে বিক্রি করে দেবেন। কথামতো সবাই নিলামখানায় এসে অবাক হয়ে দেখেন যে, তিনি কেবল সেই বইগুলিই নিলামে বিক্রি করছেন, যেগুলি তাঁর বন্ধুরা তাঁকে স্বাক্ষর করে উপহার দিয়েছিলেন। এই খবরটা লেখক ভূমধ্যসাগরের মধ্যে বসে শুনতে পেয়েছিলেন, কারণ খবরটার গুরুত্ব বিচার করে রয়টার সেটা বেতারে সম্প্রচার করেছিল। আবার জাহাজের টাইপ-করা একশো লাইনি দৈনিক কাগজ সেটা সাড়ম্বরে প্রকাশ করেছিল।
খবরটির গুরুত্ব: বিখ্যাত ফরাসি সাহিত্যিক আঁদ্রে জিদ রাশিয়া থেকে ফিরে এসে সোভিয়েট রাজ্যের বিরুদ্ধে একখানা প্রাণঘাতী লেখা ছাড়লে প্যারিসের স্তালিনীয়ারা গালিগালাজ কটুকাটব্য করলে তাঁর বন্ধুরা আশ্চর্যজনকভাবে চুপ করে থাকেন প্রতিবাদহীন অবস্থায়। তাই তাঁদের শিক্ষা দিতেই তিনি কেবল তাঁদেরই সই করা বইগুলি নিলামে তুলেছিলেন। বেশি লোক জানাজানির আগে সেই লেখক বন্ধুরা তড়িঘড়ি দ্বিগুণ তিনগুণ দামে বইগুলি কিনে নিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা জিদকে সারাজীবন ক্ষমা করেনি। এভাবেও প্রতিবাদ করা যায়-এই অভিনবত্বের গুরুত্ব প্রশংসনীয়।
(৪) “আমার জনৈক বন্ধু একটি গল্প বললেন।“– গল্পটি সংক্ষেপে উল্লেখ করো । গল্পটি বলার উদ্দেশ্য কী ছিল ? ৩+২
উত্তর – ‘বই কেনা’ প্রবন্ধের লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী বাঙালিদের ‘বই কেনার’ ক্ষেত্রে প্রবল অনীহা লক্ষ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর বন্ধুর বলা একটি গল্পের কথা বলেছেন। এক ড্রইংরুম-বিহারিণী গৃহবধূ বাজারে স্বামীর জন্য জন্মদিনের উপহার কিনতে গেলেন। প্রায় সমস্ত রকম জিনিস নাড়াচাড়া করে দেখলেন, সবই তাঁর স্বামীর সংগ্রহে আছে। তখন দোকানদার একটি ভালো বই নেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি বলেন যে, তাও একটি আছে তাঁর। আসলে ধনীলোকের বিলাসিনি গৃহবধূর কাছে প্রতি বছর নতুন নতুন উপহার দেওয়াটাই প্রাধান্য পায়। বাহ্য চোখের সুখদানকারী মনোরঞ্জক নানা উপাদানের কাছে তাদের বই হল একটি গৌণ বিষয়মাত্র। তাই দোকানদার একটি ভালো বই উপহার দেওয়ার কথা বললে ওই ড্রইংরুম বিহারিণীর নাক কুঁচকে যায়।
উদ্দেশ্য : এই গল্প উল্লেখের উদ্দেশ্য হল-প্রকৃত মানুষ যেখানে জ্ঞানের বাহন পুস্তক জোগাড় করার জন্য অকাতরে অর্থব্যয় করে সেখানে বাঙালির ঘরে অন্যান্য সামগ্রী অনেক থাকলেও বইমাত্র একটি এবং তা-ই তাদের কাছে যথেষ্ট। এটি বাঙালির বইকেনার আগ্রহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্যই বলা। তারা পারতপক্ষে জ্ঞানার্জনের জন্য অথবা ভালো লাগার জন্যও বই কেনে না। অথচ বই পড়লে যে মনের চোখ বাড়ানো যায় বা মনের মধ্যে জ্বালা-যন্ত্রণা উপশমকারী অসংখ্য ভুবন সৃষ্টি করা যায়, তা তারা আসলে জানেই না।
(৫) গল্পটা সকলেই জানেন।”- গল্পটি কী ? গল্পটি উল্লেখের কারণ কী ? ৩+২=৫
উত্তর – বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক গ্রন্থের অন্তর্গত ‘বই কেনা’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে উল্লেখিত গল্পটি একজন হেকিম আর এক রাজার গল্প। হেকিমের একখানা বই রাজা কিছুতেই বাগাতে পারছিলেন না বলে হেকিমকে খুন করে বই হস্তগত করে পড়তে থাকলেন। রাজা বারবার থুতু দিয়ে পাতা উলটে পড়ছেন। গল্পের শেষ পাতায় যখন তিনি জানতে পারলেন যে, হেকিম আগাম হত্যার কথা আশঙ্কা করে প্রতিশোধস্পৃহায় প্রত্যেক পাতার কোনায় বিষ মাখিয়ে রেখেছেন, তখন রাজা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।
কারণ : গল্পটি উল্লেখের কারণ হল – প্রাবন্ধিক ব্যঙ্গ করে বলেছেন যে, বাঙালি বোধহয় গল্পটা জানে। তাই ভয়ে বই কিনে আর বই পড়ে না। হয়তো কেবলই ভাবে, কেউ যদি ওই হেকিমের মতো বইয়ের পাতার কোনায় কোনায় বিষ মিশিয়ে রাখে! মৃত্যুভয় বড়ো ভয়। জীবন বড়ো বলাই। এমনিতেই বাঙালি বই কিনে পড়তে প্রচণ্ড রকমের অপরাগ। তাই লেখক বিদ্রুপের কশাঘাতে জর্জরিত করে বাঙালিকে বইমুখী করার চেষ্টা করছেন আপ্রাণ। আসলে গল্পটি একটি প্রতীকী। হেকিম মারা গিয়েছেন এবং মেরে দিয়েছেন রাজাকে। ভরকেন্দ্রে আছে বই। বিষ প্রয়োগে মৃত্যুর কথা বাঙালিকে যেমন বইবিমুখ করবে না, তেমনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা হল স্বাভাবিকভাবে বাঙালিকে বইপ্রেমী হয়ে উঠতে হবে।
(৬) “অতএব সপ্রমাণ হল জ্ঞানার্জন ধনার্জনের চেয়ে মহত্তর।”- কে প্রমাণ করলেন ? কীভাবে এই চিরসত্য প্রমাণিত হল ? ২+৩=৫
উত্তর – প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক গ্রন্থের অন্তর্গত ‘বই কেনা’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে এক আরব পণ্ডিত প্রমাণ করলেন যে, জ্ঞানার্জন ধনার্জনের চেয়ে মহত্তর।
পণ্ডিত বলছেন যে, ধনীরা মনে করে ধন-সম্পদ উপার্জন করা তথা পয়সা কামানো এই দুনিয়াতে সবচেয়ে কঠিন কর্ম। আবার অন্যদিকে, জ্ঞানীরা বলছেন, জ্ঞানার্জনই দুনিয়াতে সবচেয়ে কঠিন কাজ। আরব পণ্ডিতের মতে ধনীর প্রচুর মেহনতের ফসল হল ধন-সম্পদ-টাকাকড়ি। এই টাকাপয়সা যদি কেউ জ্ঞানীর হাতে তুলে দেয়, তাহলে তিনি ধনীদের চেয়ে ঢের উত্তম পদ্ধতিতে খরচ করতে পারেন।
ধনীরা কেবলই কোথা থেকে কীভাবে দু-পয়সা উপার্জন করবে সেই চিন্তায় মশগুল থাকে। আর অন্যপক্ষে জ্ঞানীরা বিভোর থাকেন জ্ঞান অর্জন তথা বই-পড়ার মধ্যে ধনীরা যদি তাদের কষ্ট করে উপার্জিত টাকা এই জ্ঞানী মানুষদের হাতে তুলে দেয় ভালো কাজে লিপ্ত থাকার জন্য, তাহলে জ্ঞানীরা বিশ্ববিখ্যাত ভালো ভালো নির্বাচিত বই কেনা ও বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন তো বটেই, তার মাধ্যমে সমাজকল্যাণের উৎকৃষ্ট ভাবনা ভাববার শক্তিটুকুও অর্জন করতে পারেন। এর ফল ধনী, জ্ঞানী, দরিদ্র, মূর্খ- সবাই ভোগ করতে পারেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাতেও জ্ঞানের বাহক হিসেবে বই কেনার হিড়িক পড়বে।
(৭) “তাই ভেবেই হয়ত ওমর খৈয়াম বলেছিলেন,” – ওমর খৈয়াম কী ভেবে, কী বলেছিলেন ? ৫
উত্তর – বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক গ্রন্থের অন্তর্গত ‘বই কেনা’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে কবি ওমর খৈয়াম এটা ভেবেছিলেন হয়তো, মানুষের মনের মধ্যে অসংখ্য ভুবন সৃষ্টি করা যায় দুটি পথে। তার মধ্যে দেশভ্রমণ স্বাস্থ্য ও আর্থিক সংকুলানের প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও বই পড়াটা অপেক্ষাকৃত সহজ।
তাই তিনি বলেছিলেন, রুটি ও মদ একদিন ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কাজল কালো সুন্দর চোখ একসময় ঘোলাটে হয়ে যাবে, কিন্তু বই থেকে যাবে চিরযৌবনা অনন্ত সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে। কেবল তা-ই নয়, তিনি বেহেস্তে সরঞ্জামের ফিরিস্তি বা লিস্ট তথা তালিকা বানাতে গিয়ে বইয়ের কথা ভোলেননি। অর্থাৎ বই স্বর্গীয় সুখের সন্ধান দিতে পারে। আর এর কারণ হিসেবে মুসলমান হিসেবে ওমর খৈয়াম আরও বলেছিলেন যে, মুসলমানদের প্রথম গ্রন্থ কোরানের যে বাণী মহম্মদ সাহেব শুনতে পেয়েছিলেন তাতে আছে ‘আল্লামা বিল কলমি’ অর্থাৎ আল্লা মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন ‘কলমের মাধ্যমে’ আর কলমের আশ্রয় পুস্তকে। অর্থাৎ পুস্তক রচিত হচ্ছে কলমের দ্বারাই। সুতরাং মনের বেহেস্তে বা স্বর্গ বানানোর জন্য বইপড়া আবশ্যক।
(৮) “এক আরব পণ্ডিতের লেখাতে সমস্যাটার সমাধান পেলুম।” – সমস্যাটা কী ? এর সমাধানই-বা পণ্ডিত কী লিখে গেছেন ? ২+৩=৫
উত্তর – প্রখ্যাত ভ্রমণসাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক গ্রন্থের অন্তর্গত ‘বই কেনা’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত সমস্যাটি হল- মাঝে মাঝে দেখা যায়, যে মানুষ পরের জিনিস গলা কেটে ফেললেও ছোঁয় না, সেই লোকই আবার বইয়ের ক্ষেত্রে বিবেকবর্জিত হয়ে যায়। এই রকম সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী আচরণের কারণ সকলের অজানা।
এই সমস্যার সমাধান হিসেবে এক আরব পণ্ডিত লিখেছেন যে, ধনীদের বক্তব্য হল-দুনিয়াতে পয়সা কামানো হল সবচেয়ে কঠিন কাজ। কিন্তু এর বিপরীতে জ্ঞানীদের বক্তব্য হল- না, ধনার্জন নয়, এই পৃথিবীতে জ্ঞানার্জনই হল সবচেয়ে কঠিন কাজ। এখন জনতার দরবারে প্রশ্ন হল কার দাবিটা ঠিক? ধনীর না জ্ঞানীর? এই প্রসঙ্গে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী সমাধান সূত্র হিসেব বলেছেন যে-ধনী বহু মেহনতের ফলে যে টাকাপয়সা উপার্জন করল সেই অর্থ যদি সে কোনো জ্ঞানীর হাতে তুলে দেয়, তাহলে দেখা যাবে সেই জ্ঞানী সর্বোত্তম পথে সেই পয়সা খরচ করে। ধনীদের চাইতে ঢের ভালো পথে, সমাজকল্যাণকর পথে, মানবতার পথে এবং সর্বোপরি জ্ঞানচর্চার পথে খরচ করতে পারবে জ্ঞানীরা। ধনীরা বই পড়তে না জানলেও তাদের উপার্জিত পয়সা জ্ঞানার্জনের মতো পুণ্যকর্মে ব্যবহৃত হতে পারে।
আরও পড়ুন –
লালন শাহ ফকিরের গান প্রশ্ন উত্তর
ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্প প্রশ্ন উত্তর
YouTube – Samim Sir