বায়ুমণ্ডল অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (দশম শ্রেণী) ।। Class 10 geography Chapter 2 Question Answer ।। মাধ্যমিক ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর 2027
MCQ প্রশ্ন উত্তর
১. বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের শতকরা পরিমাণ হল –
(ক) 0.003%
(খ) 0.02%
(গ) 0.04%
(ঘ) 0.05%
উত্তর – (ক) 0.003%
২. বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত গ্যাসগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি পরিমাণে যে গ্যাস আছে, সেটি হল –
(ক) অক্সিজেন
(খ) নাইট্রোজেন
(গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
(ঘ) আর্গন
উত্তর – (খ) নাইট্রোজেন
৩. বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনশীল আবহাওয়া সূচিত করে কোন স্তরটি ?
(ক) ট্রপোস্ফিয়ার
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
(গ) আয়নোস্ফিয়ার
(ঘ) মেসোস্ফিয়ার
উত্তর – (ক) ট্রপোস্ফিয়ার
৪. কোন স্তরকে ক্ষুদ্ধমণ্ডল বলা হয় ?
(ক) ট্রপোস্ফিয়ারকে
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে
(গ) মেসোস্ফিয়ারকে
(ঘ) আয়নোস্ফিয়ারকে
উত্তর – (ক) ট্রপোস্ফিয়ারকে
৫. কোন স্তরে বায়ুমন্ডলের ঘনত্ব সর্বাধিক হয় ?
(ক) ট্রপোস্ফিয়ারে
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
(গ) মেসোস্ফিয়ারে
(ঘ) এক্সোস্ফিয়ারে
উত্তর – (ক) ট্রপোস্ফিয়ারে
৬. মেরু অঞ্চলের ট্রপোস্ফিয়ারের বিস্তার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় –
(ক) 6 কিমি
(খ) 22 কিমি
(গ) 18 কিমি
(ঘ) 9 কিমি
উত্তর – (ঘ) 9 কিমি
৭. ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি হাজার মিটার উচ্চতায় যে-হারে উষ্ণতা কমে তা হল –
(ক) 6.4° সে
(খ) 4.6° সে
(গ) 8.6° সে
(ঘ) 3.6° সে
উত্তর – (ক) 6.4° সে
৮. বায়ুমণ্ডলের যে স্তরটি শান্তমন্ডল নামে পরিচিত, সেটি হল –
(ক) ট্রপোস্ফিয়ার
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
(গ) মেসোস্ফিয়ার
(ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
উত্তর – (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
৯. জেট বায়ু প্রবাহিত হয় –
(ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
(খ) উচ্চ ট্রপোস্ফিয়ারে
(গ) নিম্ন স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
(ঘ) উচ্চ মেসোস্ফিয়ারে
উত্তর – (খ) উচ্চ ট্রপোস্ফিয়ারে
১০. ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব পরিমাপ করা হয় যে এককে –
(ক) মিলিবার
(খ) ডবসন
(গ) কিলোগ্রাম
(ঘ) নট
উত্তর – (খ) ডবসন
১১. সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে –
(ক) নাইট্রোজেন গ্যাস
(খ) অক্সিজেন গ্যাস
(গ) ওজোন গ্যাস
(ঘ) হাইড্রোজেন গ্যাস
উত্তর – (গ) ওজোন গ্যাস
১২. ওজোনস্তরের প্রাধান্য লক্ষ করা যায় –
(ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
(খ) ট্রপোস্ফিয়ারে
(গ) মেসোস্ফিয়ারে
(ঘ) থার্মোস্ফিয়ারে
উত্তর – (ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
১৩. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর হল –
(ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
(খ) মেসোস্ফিয়ার
(গ) এক্সোস্ফিয়ার
(ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর – (খ) মেসোস্ফিয়ার
১৪. উল্কাপিন্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায় নিম্নলিখিত যে স্তরে – [ ME-2018 ]
(ক) আয়নোস্ফিয়ার
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
(গ) মেসোস্ফিয়ার
(ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর – (গ) মেসোস্ফিয়ার
১৫. নৈশদ্যুতি মেঘ দেখা যায় বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে, সেটি হল –
(ক) ট্রপোস্ফিয়ারে
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
(গ) মেসোস্ফিয়ারে
(ঘ) আয়নোস্ফিয়ারে
উত্তর – (গ) মেসোস্ফিয়ারে
১৬. হেটেরোস্ফিয়ারের উচ্চতম স্তরটি হল – [ ME-2017 ]
(ক) হাইড্রোজেন স্তর
(খ) হিলিয়াম স্তর
(গ) পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর
(ঘ) নাইট্রোজেন স্তর
উত্তর – (ক) হাইড্রোজেন স্তর
১৭. হেটেরোস্ফিয়ারের নিম্নতম স্তরটি হল –
(ক) হিলিয়াম স্তর
(খ) হাইড্রোজেন স্তর
(গ) আণবিক নাইট্রোজেন স্তর
(ঘ) পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর
উত্তর – (গ) আণবিক নাইট্রোজেন স্তর
১৮. বায়ুমণ্ডলের যে স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে, সেটির নাম –
(ক) আয়নোস্ফিয়ার
(খ) এক্সোস্ফিয়ার
(গ) ট্রপোস্ফিয়ার
(ঘ) মেসোস্ফিয়ার
উত্তর – (ক) আয়নোস্ফিয়ার
১৯. ‘ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়’ দেখা যায় –
(ক) এক্সোস্ফিয়ারে
(খ) থার্মোস্ফিয়ারে
(গ) মেসোস্ফিয়ারে
(ঘ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে
উত্তর – (ঘ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে
২০. বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বতম স্তর কোনটি ?
(ক) মেসোস্ফিয়ার
(খ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
(গ) ট্রপোস্ফিয়ার
(ঘ) আয়নোস্ফিয়ার
উত্তর – (খ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
বায়ুমণ্ডল অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
২১. মেরুজ্যোতি সৃষ্টি হয় কোন বায়ুমণ্ডলীয় স্তরে ?
(ক) ওজোনোস্ফিয়ারে
(খ) আয়নোস্ফিয়ারে
(গ) থার্মোস্ফিয়ারে
(ঘ) এক্সোস্ফিয়ারে
উত্তর – (গ) থার্মোস্ফিয়ারে
২২. ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের কততম স্তরে এক্সোস্ফিয়ার স্তরটি অবস্থিত ?
(ক) দ্বিতীয়
(খ) তৃতীয়
(গ) চতুর্থ
(ঘ) পঞ্চম
উত্তর – (ঘ) পঞ্চম
২৩. ওজোন গহ্বরের অস্তিত্ব প্রথম ধরা পড়ে –
(ক) অস্ট্রেলিয়ায়
(খ) রাশিয়ায়
(গ) অ্যান্টার্কটিকায়
(ঘ) আফ্রিকায়
উত্তর – (গ) অ্যান্টার্কটিকায়
২৪. ওজোন গহ্বর লক্ষ করা যায় –
(ক) সুমেরুতে
(খ) কুমেরুতে
(গ) নরওয়েতে
(ঘ) ফিনল্যান্ডে
উত্তর – (খ) কুমেরুতে
২৫. ওজোন গহ্বর সৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাসটি হল –
(ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
(খ) ফ্রেয়ন গ্যাস
(গ) নাইট্রোজেন
(ঘ) কার্বন
উত্তর – (খ) ফ্রেয়ন গ্যাস বা ক্লোরোফ্লুরো কার্বন ( CFC )
২৬. ‘প্রাকৃতিক সৌরপর্দা’ বলা হয় –
(ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে
(খ) আয়নোস্ফিয়ারকে
(গ) ওজোনোস্ফিয়ারকে
(ঘ) ট্রপোস্ফিয়ারকে
উত্তর – (গ) ওজোনোস্ফিয়ারকে
২৭. অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে ওজোন গহ্বর প্রথম লক্ষ করেন –
(ক) অ্যাভোগাড্রো
(খ) নিউটন
(গ) ফারমেন
(ঘ) নরম্যান
উত্তর – (গ) ফারমেন
২৮. আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সুরক্ষা দিবস পালিত হয় –
(ক) 15 সেপ্টেম্বর
(খ) 16 সেপ্টেম্বর
(গ) 17 সেপ্টেম্বর
(ঘ) 18 সেপ্টেম্বর
উত্তর – (খ) 16 সেপ্টেম্বর
২৯. বৈপরীত্য উত্তাপ লক্ষ করা যায় –
(ক) পার্বত্য উপত্যকায়
(খ) সমভূমিতে
(গ) মালভূমিতে
(ঘ) পর্বতের চূড়ায়
উত্তর – (ক) পার্বত্য উপত্যকায়
৩০. ইনসোলেশনে তাপের প্রভাব সবথেকে বেশি পড়ে –
(ক) উপক্রান্তীয় অঞ্চলে
(খ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
(গ) মধ্য অক্ষাংশীয় অঞ্চলে
(ঘ) সুমেরু অঞ্চলে
উত্তর – (খ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
৩১. যে উষ্ণতায় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘনীভূত হয়, তা হল –
(ক) হিমাঙ্ক
(খ) শিশিরাঙ্ক
(গ) অধঃক্ষেপণ
উত্তর – (খ) শিশিরাঙ্ক
৩২. দিনরাতের তাপমাত্রার পার্থক্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় –
(ক) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে
(খ) উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে
(গ) ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে
(ঘ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে
উত্তর – (খ) উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে
৩৩. পৃথিবীতে অ্যালবেডোর পরিমাণ হল –
(ক) 66%
(খ) 34%
(গ) 19%
(ঘ) 2%
উত্তর – (খ) 34%
৩৪. যে পদ্ধতিতে বায়ু ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়ে কোনো স্থানকে উত্তপ্ত করে, তাকে বলে –
(ক) বিকিরণ
(খ) তাপশোষণ
(গ) পরিচলন
(ঘ) অ্যাডভেকশন
উত্তর – (ঘ) অ্যাডভেকশন
৩৫. কার্যকরী সৌর বিকিরণের মোট পরিমাণ –
(ক) 47%
(খ) 34%
(গ) 66%
(ঘ) 19%
উত্তর – (গ) 66%
৩৫. বায়ুমণ্ডলকে সর্বাধিক উত্তপ্ত করার পদ্ধতি হল –
(ক) পরিচলন
(খ) পরিবহণ
(গ) বিকিরণ
(ঘ) তাপশোষণ
উত্তর – (গ) বিকিরণ
৩৬. ভূপৃষ্ঠে প্রতি 1° অক্ষাংশভেদে বায়ুর উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক হার –
(ক) 0.28° সে
(খ) 0.76° সে
(গ) 1.6° সে
(ঘ) 6.4° সে
উত্তর – (ক) 0.28° সে
৩৭. বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর সবচেয়ে কম থাকে – [ ME-2019 ]
(ক) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে
(খ) মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে
(গ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে
(ঘ) স্তেপ জলবায়ু অঞ্চলে
উত্তর – (ক) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে
৩৮. সূর্যকিরণের যে অংশ পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে না, তাকে বলে –
(ক) ইনসোলেশন
(খ) অ্যালবেডো
(গ) বৈপরীত্য উত্তাপ
(ঘ) তাপীয় বাজেট
উত্তর – (খ) অ্যালবেডো
৩৯. বিশ্ব উষ্ণায়নে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মধ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করে –
(ক) CFC
(খ) CO2
(গ) CH4
(ঘ) NO2
উত্তর – (খ) CO2 ( কার্বন ডাইঅক্সাইড )
৪০. পৃথিবীতে উত্তাপের বৈষম্যের জন্য প্রধান দায়ী হল –
(ক) ওজোনস্তর ধ্বংস
(খ)এল-নিনোর প্রভাব
(গ) পরমাণু বোমা পরীক্ষা
(ঘ) ক্রান্তীয় ঝড়ের প্রভাব
উত্তর – (ক)ওজোনস্তর ধ্বংস
৪১. জমিতে ধান চাষের ফলে উৎপন্ন হয় –
(ক) মিথেন
(খ) ক্লোরিন
(গ) ফ্লোরিন
(ঘ) মিথাইল
উত্তর –(ক) মিথেন
৪২. ভূপৃষ্ঠ সূর্য থেকে সর্বাধিক তাপ শোষণ করে –
(ক) বিকেলে
(খ)দুপুরে
(গ)সকালে
(ঘ) সন্ধ্যায়
উত্তর –(খ) দুপুরে
৪৩. এল-নিনোর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় যে মরুভূমিতে –
(ক) থর
(খ) সাহারা
(গ)আটাকামা
(ঘ)গোবি
উত্তর –(গ) আটাকামা
৪৪. এল-নিনোর সর্বাধিক প্রভাব পরিলক্ষিত হয় –
(ক) উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে
(খ) দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে
(গ)উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে
(ঘ) দক্ষিণ কুমেরু মহাসাগরে
উত্তর – (খ) দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে
৪৫. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর গড় চাপ হল – [ ME-2023 ]
(ক) 1012.2 মিলিবার
(খ) 1013.2 মিলিবার
(গ) 1014.2 মিলিবার
(ঘ) 1015.2 মিলিবার
উত্তর – (খ) 1013.2 মিলিবার
৪৬. ভূপৃষ্ঠে গড় 1000 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর চাপ কমে –
(ক) 12.6 মিলিবার
(খ) 6.4 মিলিবার
(গ) 1013.25 মিলিবার
(ঘ) 996 মিলিবার
উত্তর – (ক) 12.6 মিলিবার
৪৭. বায়ুচাপের দ্রুত পরিবর্তন যে যন্ত্রে ধরা পড়ে –
(ক) ব্যারোমিটার
(খ) ব্যারোগ্রাম
(গ) অল্টিমিটার
(ঘ) ব্যারোগ্রাফ
উত্তর – (খ) ব্যারোগ্রাম
৪৮. পৃথিবীতে সমবায়ুচাপ মানের স্থানগুলিকে যে কাল্পনিক রেখার দ্বারা যোগ করা হয়, তাকে বলে –
(ক) সমচাপরেখা
(খ) সমোন্নরেখা
(গ) সমবর্ষণরেখা
(ঘ) সমোন্নতিরেখা
উত্তর – (ক) সমচাপরেখা
৪৯. পৃথিবীতে স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়ের সংখ্যা –
(ক) 3টি
(খ) 4টি
(গ) 7টি
(ঘ) 5টি
উত্তর – (খ) 4টি
৫০. নিম্নচাপ বলয় লক্ষ করা যায় –
(ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
(খ) মেরু অঞ্চলে
(গ) নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
(ঘ) তুন্দ্রা অঞ্চলে
উত্তর – (ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
৫১. উত্তর গোলার্ধে আয়ন বায়ু কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয় ?
(ক) উত্তর-পশ্চিম দিক
(খ) উত্তর-পূর্ব দিক
(গ) দক্ষিণ-পূর্ব দিক
(ঘ) দক্ষিণ-পশ্চিম দিক
উত্তর – (খ) উত্তর-পূর্ব দিক
৫২. বাণিজ্য বায়ু বলে –
(ক) আয়ন বায়ুকে
(খ) মেরু বায়ুকে
(গ) প্রত্যয়ন বায়ুকে
(ঘ) সাময়িক বায়ুকে
উত্তর – (ক) আয়ন বায়ুকে
৫৩. অশ্ব অক্ষাংশ অবস্থিত -[ ME-2020 ]
(ক) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে
(খ) উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ে
(গ) মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ে
(ঘ) মেরু উচ্চচাপ বলয়ে আসে
উত্তর – (খ) উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ে
৫৪. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় যে বায়ুর প্রভাবে –
(ক) আয়ন বায়ু
(খ) পশ্চিমা বায়ু
(গ) মেরু বায়ু
(ঘ) স্থানীয় বায়ু
উত্তর – (খ) পশ্চিমা বায়ু
৫৫. বায়ুর গতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম –
(ক) অ্যানিমোমিটার
(খ) থার্মোমিটার
(গ) ব্যারোমিটার
(ঘ) রেনগজ
উত্তর – (ক) অ্যানিমোমিটার
৫৬. ডোলড্রাম অবস্থিত –
(ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
(খ) মকরীয় অঞ্চলে
(গ) কর্কটীয় অঞ্চলে
(ঘ) সুমেরুবৃত্ত অঞ্চলে
উত্তর – (ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
৫৭. বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যাওয়ার কারণ –
(ক) ফেরেল-এর সূত্র
(খ) বিউফোর্ট-এর সূত্র
(গ) ফোর্টিন-এর সূত্র
(ঘ) বাইস ব্যালট-এর সূত্র
উত্তর – (ক) ফেরেল-এর সূত্র
৫৮. ফ্রান্সের রোন নদীর উপত্যকায় প্রবাহিত শীতল স্থানীয় বায়ুকে বলে – [ ME-2019 ]
(ক) চিনুক
(খ) সিরোক্কো
(গ) মিস্ট্রাল
(ঘ) বোরো
উত্তর – (গ) মিস্ট্রাল
৫৯. একটি সাময়িক বায়ু হল –
(ক) আয়ন বায়ু
(খ) ক্যাটাবেটিক বায়ু
(গ) মৌসুমি বায়ু
(ঘ) আকস্মিক বায়ু
উত্তর – (গ) মৌসুমি বায়ু
৬০. আল্পস পর্বতের উত্তর ঢালে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ু হল –
(ক) খামসিন
(খ) বোরা
(গ) চিনুক
(ঘ) ফন
উত্তর – (ঘ) ফন
৬১. চিনুক বায়ু প্রবাহিত হয় যে পার্বত্য অঞ্চলে –
(ক) রকি
(খ) আন্দিজ
(গ) অ্যাটলাস
(ঘ) কুইন্সল্যান্ড
উত্তর – (ক) রকি
৬২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় টর্নেডোকে এই নামেও ডাকা হয় – [ME-2018]
(ক) সাইক্লোন
(খ) টুইস্টার
(গ) টাইফুন
(ঘ) হ্যারিকেন
উত্তর – (খ) টুইস্টার
৬৩. চিনসাগরে বিধ্বংসী ঝড়কে বলে –
(ক) হ্যারিকেন
(খ) সাইক্লোন
(গ) টাইফুন
(ঘ) উইলি-উইলি
উত্তর – (গ) টাইফুন
৬৪. যে স্থানীয় বায়ু ‘Doctor’s Wind’ নামে পরিচিত –
(ক) হারমাট্টান
(খ) চিনুক
(গ) সিরক্কো
(ঘ) ফন
উত্তর – (ক) হারমাট্টান
৬৫. বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় যে নামে পরিচিত –
(ক) টর্নেডো
(খ) টাইফুন
(গ) সাইক্লোন
(ঘ) হ্যারিকেন
উত্তর – (গ) সাইক্লোন
৬৬. ক্যারিবিয়ান উপসাগরে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত যে নামে পরিচিত তা হল –
(ক) হ্যারিকেন
(খ) টর্নেডো
(গ) টাইফুন
(ঘ) সাইক্লোন
উত্তর – (ক) হ্যারিকেন
৬৭. জেট বায়ুপ্রবাহের তরঙ্গের নাম হল –
(ক) রসবি
(খ) জেমস
(গ) ডালটন
(ঘ) ফলেন ওয়েভ
উত্তর – (ক) রসবি
৬৮. অস্ট্রেলিয়ায় বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়কে বলে –
(ক) সাইক্লোন
(খ) উইলি-উইলি
(গ) টাইফুন
(ঘ) হ্যারিকেন
উত্তর – (খ) উইলি-উইলি
৬৯. আড্রিয়াটিক উপকূলে শীতল স্থানীয় বায়ুপ্রবাহকে বলে –
(ক) মিস্ট্রাল
(খ) ফন
(গ) বোরা
(ঘ) সিরোক্কো
উত্তর – (গ) বোরা
৭০. জিয়োস্ট্রপিক বায়ু হল –
(ক) আয়ন বায়ু
(খ) মেরু বায়ু
(গ) প্রত্যয়ন বায়ু
(ঘ) জেট বায়ু
উত্তর – (ঘ) জেট বায়ু
৭১. একটি নির্দিষ্ট ওজনের বায়ুতে জলীয় বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় –
(ক) আপেক্ষিক আর্দ্রতা
(খ) আর্দ্রতার গুণাঙ্ক
(গ) বিশেষ আর্দ্রতা
(ঘ) শিশিরাঙ্ক তাপমাত্রা
উত্তর – (গ) বিশেষ আর্দ্রতা
৭২. নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে, তাকে বলে –
(ক) চরম আর্দ্রতা
(খ) বিশেষ আর্দ্রতা
(গ) আপেক্ষিক আর্দ্রতা
(ঘ) নির্দিষ্ট আর্দ্রতা
উত্তর – (ক) চরম আর্দ্রতা
৭৩. বৃষ্টিপাতের সময় বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা হয় –
(ক) 0%
(খ) 50%
(গ) 75%
(ঘ) 100%
উত্তর – (ঘ) 100%
৭৪. আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রকাশ করা হয় –
(ক) গ্রাম
(খ) মিটার
(গ) লিটার
(ঘ) শতকরা এককে
উত্তর – (ঘ) শতকরা এককে
৭৫. যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয় – [ ME-2017 ]
(ক) থার্মোমিটার
(খ)হাইগ্রোমিটার
(গ) ব্যারোমিটার
(ঘ) অ্যানিমোমিটার
উত্তর – (খ) হাইগ্রোমিটার
৭৬. বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা পরিমাপ করার যন্ত্র হল –
(ক) অ্যাটমোমিটার
(খ) থার্মোমিটার
(গ) এভাপরিমিটার
(ঘ) সাইক্রোমিটার
উত্তর – (ঘ) সাইক্রোমিটার
৭৭. বায়ুর চরম আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা –
(ক) বাড়ে
(খ) একই থাকে
(গ) কমে
(ঘ) একেবারেই কমে যায়
উত্তর – (ক) বাড়ে
৭৮. যে উষ্ণতায় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘনীভূত হয়, তা হল –
(ক) হিমাঙ্ক
(খ) শিশিরাঙ্ক
(গ) অধঃক্ষেপণ
(ঘ) বাষ্পীভবন
উত্তর – (খ) শিশিরাঙ্ক
৭৯. Four O’ Clock Rain বলা হয় –
(ক) পরিচলন বৃষ্টিপাতকে
(খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতকে
(গ) ঘূর্ণ বৃষ্টিপাতকে
(ঘ) প্রতীপ ঘূর্ণ বৃষ্টিপাতকে
উত্তর – (ক) পরিচলন বৃষ্টিপাতকে
৮০. পর্বতের যে ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়, তাকে বলে –
(ক) মৃদু ঢাল
(খ) খাড়া ঢাল
(গ) প্রতিবাত ঢাল
(ঘ) অনুবাত ঢাল
উত্তর – (গ) প্রতিবাত ঢাল
৮১. চেরাপুঞ্জিতে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায় ?
(ক) শিলাবৃষ্টি
(খ) পরিচলন বৃষ্টি
(গ) ঘূর্ণিবৃষ্টি
(ঘ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
উত্তর – (ঘ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
৮২. ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হল –
(ক) শিলং
(খ) মৌসিনরাম
(গ) দেরাদুন
(ঘ) গোয়া
উত্তর – (ক) শিলং
৮৩. সীমান্ত বৃষ্টি বলা হয় –
(ক) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিকে
(খ) পরিচলন বৃষ্টিকে
(গ) ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বৃষ্টিকে
(ঘ) নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত বৃষ্টিকে
উত্তর – (ঘ) নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত বৃষ্টিকে
৮৪. জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগ করেন যে বিজ্ঞানী –
(ক) পিঁচো
(খ) চেম্বারলিন
(গ) কোপেন
(ঘ) চাপম্যান
উত্তর – (গ) কোপেন
৮৫. নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটে – [ ME-2023 ]
(ক) গ্রীষ্মকালে
(খ) বসন্তকালে
(গ) শীতকালে
(ঘ) সারাবছরব্যাপী
উত্তর – (ঘ) সারাবছরব্যাপী
৮৬. সারাবছর অধিক উষ্ণতা ও অধিক বৃষ্টিপাতের লেখচিত্র যে জলবায়ুকে নির্দেশ করে –
(ক) মৌসুমি
(খ) নিরক্ষীয়
(গ) ভূমধ্যসাগরীয়
(ঘ) তুন্দ্রা জলবায়ু
উত্তর – (খ) নিরক্ষীয়
৮৭. বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর সবচেয়ে কম থাকে – [ ME-2019 ]
(ক) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে
(খ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে
(গ) স্তেপ জলবায়ু অঞ্চলে
(ঘ) মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে
উত্তর – (ক) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে
৮৮. ঋতুপরিবর্তন দেখা যায় না – [ পর্ষদ নমুনা প্রশ্ন ]
(ক) ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুতে
(খ) নিরক্ষীয় জলবায়ুতে
(গ) উষ্ণ মরু জলবায়ুতে
(ঘ) চিনদেশীয় জলবায়ুতে
উত্তর – (খ) নিরক্ষীয় জলবায়ুতে
৮৯. শীতকালীন বৃষ্টিপাতের দেশ বলা হয় –
(ক) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে
(খ) ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলকে
(গ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলকে
(ঘ) তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলকে
উত্তর – (ক) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে
৯০. দিনরাতের তাপমাত্রার পার্থক্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় – [ ME-2020 ]
(ক) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে
(খ) উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে
(গ) ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে
(ঘ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে
উত্তর – (খ) উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে।
এক নজরে শর্টকাট প্রশ্ন উত্তর
🖋️ হেটেরোস্ফিয়ারের উচ্চতম স্তরটি হল হাইড্রোজেন স্তর।
🖋️ ওজোন স্তর প্রাকৃতিক সৌরপর্দা নামে খ্যাত।
🖋️ ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে শীতকালীন বৃষ্টিপাত হয়।
🖋️ বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার।
🖋️ সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা হবে ১০০ শতাংশ।
🖋️ উল্কাপিন্ড পুড়ে ছাই হয় মেসোস্ফিয়ার স্তরে।
🖋️ টর্নেডো ঘূর্ণিঝড়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টুইস্টার নামে ডাকা হয়।
🖋️ বায়ুর চাপ ফর্টিন ব্যারোমিটারের সাহায্যে মাপা হয়।
🖋️ নিরক্ষীয় জলবায়ুতে ঋতু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না।
🖋️ উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুমন্ডলে উন্নতা বৃদ্ধি পাওয়াকে বৈপরিত্য উত্তাপ বলা হয়।
🖋️ বায়ুমন্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে।
🖋️ বার্ষিক উয়তার প্রসর সবচেয়ে কম থাকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে।
🖋️ ফ্রান্সের রোন নদী উপত্যকার প্রবাহিত শীতল স্থানীয় বায়ু হল মিস্ট্রাল।
🖋️ বায়ুর গতিবেগ মাপক যন্ত্রের নাম অ্যানিমোমিটার।
🖋️ শীতকালে শিল্পাঞ্চলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ধূলিকণার সাথে মিশে কুয়াশা তৈরি হয়।
🖋️ নাতিশীতোর মন্ডলের বৃষ্টিপাতকে সীমান্তবৃষ্টি বলা হয়।
🖋️ অশ্ব অক্ষাংশ উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ে অবস্থিত।
🖋️ দিনরাতের তাপমাত্রার পার্থক্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় উয় মরু জলবায়ু অঞ্চলে।
🖋️ এল নিনো বছরগুলিতে ভারতে খরা পরিস্থিতি দেখা যায়।
🖋️ বায়ুচাপের ঢাল বৃদ্ধি পেলে বায়ুর গতিবেগ বৃদ্ধি পায়।
🖋️ দক্ষিণ মেরুর বায়ুমন্ডলে প্রথম ওজোন গহ্বর আবিস্কৃত হয়েছে।
🖋️ সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর গড় চাপ হল ১০১৩.২ মিলিবার।
🖋️ বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরেই আবহাওয়ার গোলযোগ দেখা যায়।
🖋️ সমুদ্রবায়ু দিনের বেলায় প্রবাহিত হয়।
🖋️ নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।
🖋️ বায়ুমন্ডলের আয়নোস্ফিয়ার স্তরে মেরুপ্রভা দেখা যায়।
🖋️ শ্লিট অধঃক্ষেপণের অন্তর্গত বিষয়।
🖋️ ক্যারিবিয়ান সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণবাত হল হ্যারিকেন।
🖋️ বিকিরণ পদ্ধতিতে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর সর্বাধিক উত্তপ্ত হয়।
🖋️ সমান বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলির সংযোজক কাল্পনিক রেখাকে আইসোহাইট বলা হয়।
SAQ প্রশ্ন উত্তর
১. বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে হালকা গ্যাসটির নাম কী ?
উত্তর – হাইড্রোজেন
২. এরোসল কী ?
উত্তর – বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ধূলিকনাকে এরোসল বলে ।
৩. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে জেট বিমান যাতায়াত করে ? [ ME-2018 ]
উত্তর – স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে
৪. হেটেরোস্ফিয়ারের সর্বোচ্চ স্তরের নাম কী ?
উত্তর – হাইড্রোজেন স্তর
৫. জেট বায়ু কোন স্তরের মধ্যে প্রবাহিত হয় ?
উত্তর – ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ার
৬. বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরটি কী নামে পরিচিত ?
উত্তর – ট্রপোস্ফিয়ার
৭. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে শান্তমণ্ডল বলে কেন?
উত্তর – স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে । তাই স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে শান্তমণ্ডল বলা হয় ।
৮. কোন বায়ুমণ্ডলীয় স্তরে মাদার অব পার্ল ক্লাউড সৃষ্টি হয় ?
উত্তর – স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
৯. মহাকাশ থেকে আগত উল্কাপিণ্ড কোন স্তরে এসে ভস্মীভূত হয় ?
উত্তর – মেসোস্ফিয়ার
১০. মেসোস্ফিয়ারের উপরের স্তব্ধ স্তরটির নাম কী ?
উত্তর – মেসোপজ
১১. ওজোনস্তরের আবিষ্কারকের নাম লেখো।
উত্তর – হেনরি বুশন ও চার্লস ফেব্রি
১২. কোন যন্ত্রের সাহায্যে দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমাপ করা হয় ?
উত্তর – সিক্সের গরিষ্ঠ ও লঘিষ্ঠ থার্মোমিটার
১৩. সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গরশ্মির তাপীয় ফলকে কী বলে ?
উত্তর – ইনসোলেশন
১৪. হিমমণ্ডলের গড় উষ্ণতা কত?
উত্তর – 0 ডিগ্রি এর কম
১৫. কোন বায়ুপ্রবাহের ফলে গ্রীষ্মকালে উত্তর ভারতের উষ্নতা বৃদ্ধি পায় ?
উত্তর – লু
১৬. উষ্ণণ্ডলের গড় উষ্ণতা কত?
উত্তর – গড়ে 27 ডিগ্রি সে
১৭. লা-নিনা কথার অর্থ কী ?
উত্তর – ছোট্ট বালিকা
১৮. এল-নিনোর প্রভাবে কোথায় তীব্র নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় ?
উত্তর – পেরু ও চিলির পশ্চিমাংশে
১৯. কোন সমুদ্রস্রোত দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলবায়ুর পবিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে ?
উত্তর – এল – নিনো
২০. কে প্রথম Green House Effect নামকরণ করেন ?
উত্তর – জোসেফ ফুরিয়ার
২১. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত মিলিবার ?
উত্তর – 1013.25 মিলিবার
২২. বায়ুচাপ মাপার যন্ত্রের নাম কী ?
উত্তর – ব্যারোমিটার
২৩. বায়ুর চাপ মাপার একক কী ? [ পর্যদ নমুনা প্রশ্ন ]
উত্তর – মিলিবার
5. বিউফোর্ট স্কেলে কী পরিমাপ করা যায় ? [ পর্যদ নমুনা প্রশ্ন ]
উত্তর – বায়ুর শক্তির মাত্রা
২৪. বাইস ব্যালট সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে বায়ুপ্রবাহের ডানদিকে কী ধরনের চাপ বিরাজ করে ?
উত্তর – বায়ুর উচ্চচাপ
২৫. কোন বায়ুপ্রবাহকে ‘স্থল বায়ু ও সমুদ্র বায়ুর বৃহৎ সংস্করণ’ বলা হয় ?
উত্তর – মৌসুমি
২৬. স্থলবায়ু কখন প্রবাহিত হয় ?
উত্তর – রাত্রি বেলা
২৭. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী ?
উত্তর – টর্নেডো
২৮. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডো কী নামে পরিচিত ?
উত্তর – টুইস্টার
২৯. ‘সাইক্লোন’ কথার অর্থ কী ?
উত্তর – সাপের কুন্ডলী
৩০. নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী আকস্মিক বায়ুপ্রবাহকে কী বলে ?
উত্তর – ঘূর্ণাবর্ত
৩১. কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম কী ?
উত্তর – নরওয়েস্টার
৩২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়কে কী বলে ?
উত্তর – টুইস্টার
৩৩. চিন সাগরে সৃষ্ট ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত কী নামে পরিচিত ?
উত্তর – টাইফুন
৩৪. কোন বায়ুকে তুষারভক্ষক বলা হয় ?
উত্তর – চিনুক বায়ু
৩৫. কোন ঘূর্ণবাতকে ‘টুইস্টার’ বলে ?
উত্তর – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টর্নেডোকে
৩৬. রকি পর্বতের পূর্বঢালে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ুর নাম কী ?
উত্তর – চিনুক
৩৭. ফন কোন পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায় ?
উত্তর – আল্পস পর্বতে
৩৮. রসবি তরঙ্গ কে আবিষ্কার করেন ?
উত্তর – 1930 খ্রিস্টাব্দে সি জি রসবি
৩৯. জেট বায়ু কোন স্তরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় ?
উত্তর – ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ার
৪০. কোন বায়ুকে পার্বত্য বায়ু বলে ?
উত্তর – ক্যাটাবেটিক
৪১. কোন বায়ুকে উপত্যকা বায়ু বলা হয় ?
উত্তর – অ্যানাবেটিক
৪২. কোন জেট বায়ু ভারতে বর্ষাকালের সূচনা করে ?
উত্তর – ক্রান্তীয় পুবালি জেট
৪৩. নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে কী বলে ?
উত্তর – চরম বা নিরপেক্ষ আর্দ্রতা
৪৪. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কোন এককে প্রকাশ করা হয় ? [ পর্ষদ নমুনা প্রশ্ন ]
উত্তর – শতকরা
৪৫. সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কত ? [ অথবা ] সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ উল্লেখ করো । [ ME-2017,23 ]
উত্তর – 100 %
৪৬. কোন মেঘে বজ্রপাত-সহ ভীষণ ঝড়বৃষ্টি হয় ?
উত্তর – কিউমুলোনিম্বাস
৪৭. কোন মেঘে একটানা বৃষ্টি হয় ?
উত্তর – নিম্বোস্ট্র্যাটাস
৪৮. কোন মেঘের অপর নাম ‘Bumpy Cloud’ ?
উত্তর – স্ট্র্যাটোকিউমুলাস
৪৯. পরিচলন বৃষ্টিপাতে বায়ু কোন পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয় ?
উত্তর – পরিচলন পদ্ধতিতে
৫০. পর্বতের কোন ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি হয় ?
উত্তর – অনুবাত ঢালে
৫১. নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত দেখা যায় ? [ ME-2019 ]
উত্তর – সীমান্ত বৃষ্টি বা নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবৃষ্টি
৫২. পৃথিবীর কোন অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাতের প্রাধান্য দেখা যায় ?
উত্তর – নিরক্ষীয় অঞ্চলে
৫৩. নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত হয় ?
উত্তর – কিউমুলোনিম্বাস
৫৪. নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন বৃষ্টিপাত হয় ?
উত্তর – পরিচলন বৃষ্টিপাত
৫৫. নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত কখন হয় ?
উত্তর – বিকাল ৩ টা থেকে ৪ টায় সময় ।
৫৬. ‘শীতকালীন বৃষ্টির দেশ’ কোন জলবায়ুকে বলা হয় ?
উত্তর – ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু
2 মার্ক প্রশ্ন উত্তর
(1) ‘অ্যারোসল কী ?
উত্তর – ‘অ্যারো’ শব্দের অর্থ বাতাস, ‘সল’ শব্দের অর্থ ভাসমান ধূলিকণা। বায়ুতে ভাসমান সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কঠিন উপাদানকে (ধূলিকণা, লবণকণা, কয়লার গুঁড়ো, কাঠের গুঁড়ো প্রভৃতি) বলা হয় ‘অ্যারোসল’।
(2) কাকে, কেন প্রাকৃতিক সৌরপর্দা বলা হয় ?
উত্তর – বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে 20-35 কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের যে আস্তরণ সৃষ্টি হয়েছে তাকে ওজোন স্তর বলে। এই ওজোন স্তরকে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা বলা হয়।
ওজোন স্তরকে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা বলার কারণ : (i) এই স্তর সূর্য থেকে আগত তিনটি ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি যথা- (UV A, B, C)-কে শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগৎকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, (ii) ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গের অবলোহিত রশ্মির বিকিরণে বাধা দিয়ে বায়ুমণ্ডলের উন্নতার ভারসাম্য বজায় রাখে, (iii) ওজোন স্তর থাকার জন্য মানুষ চর্ম ক্যানসার, চোখে ছানি পড়া, বন্ধাত্ব, প্রজনন ক্ষমতা প্রভৃতি দুরারোগ্য রোগের হাত থেকে রক্ষা পায়, (iv) জীবজগতের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, ফসলের উৎপাদন বজায় থাকে।
বায়ুমণ্ডল অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
(3) ট্রপোস্ফিয়ারকে কেন ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলা হয় কেন ?
উত্তর – ট্রপোস্ফিয়ারকে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলার কারণ: বায়ুমণ্ডলের সমস্ত গ্যাসীয় উপাদানের প্রায় 75 শতাংশ এবং জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা এই স্তরে থাকে। জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ, মেঘ থেকে বৃষ্টি, বজ্রপাত, তুষারপাত ইত্যাদি এই স্তরে ঘটে। এ ছাড়া বায়ুপ্রবাহ, ঝড়ঝঞ্ঝা, শিশির, কুয়াশাসহ সকল প্রকার বায়ুমণ্ডলীয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ট্রপোস্ফিয়ারে সংঘটিত হয় বলে এই স্তরকে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলা হয়।
(4) ট্রপোস্ফিয়ার বা ক্ষুব্ধমণ্ডল কাকে বলে ?
উত্তর – ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে 18 কিমি এবং মেরু অঞ্চলে ৪ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর এবং এখানে বায়ুমণ্ডলের যাবতীয় পরিবর্তন দেখা যায়।
(5) স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate) কী ?
উত্তর – ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি কিমি বা 1,000 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে 6.4°C হারে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উতা হ্রাসের এই হারকে স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার বা নর্মাল ল্যাপস রেট (Normal Lapse Rate) বলে।
(6) ইনসোলেশন কী ?
উত্তর – সূর্যের বহিঃপৃষ্ঠের উন্নতা প্রায় 6000° সে। সূর্যপৃষ্ঠের অগ্নিশিখার তাপতরঙ্গ আলোর গতিবেগে (2,97,000 কিমি/সে) মহাশূন্যের 930 লক্ষ মাইল ভিতর দিয়ে ছুটে এসে পৃথিবীতে পৌঁছোয়, একেই ‘ইনসোলেশন’ (Insolation) বলে। তবে সূর্য দেহের তাপমাত্রার অতি সামান্য অংশই (200 সেমি ভাগের 1 ভাগ) মাত্র পৃথিবীতে এসে পৌঁছোয়।
(7) অ্যালবেডো কী ?
উত্তর – পৃথিবীতে যে পরিমাণ সৌররশ্মি আসে তার প্রায় 34 শতাংশ মেঘ, ধূলিকণা, ভূপৃষ্ঠ প্রভৃতি দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। পৃথিবী থেকে সূর্যরশ্মির এই মহাশূন্যে প্রত্যাবর্তনকে পৃথিবীর অ্যালবেডো বলে।
(8) বাইস ব্যালট সূত্র কী ?
উত্তর – আবিষ্কার: ওলন্দাজ বিজ্ঞানী বাইস ব্যালট 1857 খ্রিস্টাব্দে বায়ুচাপের পার্থক্য ও বায়ুপ্রবাহের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করতে একটি সূত্র আবিষ্কার করেন। এই সূত্র তাঁর নামানুসারে বাইস ব্যালট সূত্র নামে পরিচিত।
সূত্রের ব্যাখ্যা: বাইস ব্যালটের মতানুসারে বা সূত্রানুসারে, বায়ু যেদিক থেকে আসে সেদিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে উত্তর গোলার্ধে বামদিক অপেক্ষা ডানদিকে অধিক বায়ুর চাপ অনুভূত হয়। অর্থাৎ ডানদিকে উচ্চচাপ ও বামদিকে নিম্নচাপ অনুভূত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থা লক্ষ করা যায়। অর্থাৎ বামদিকে অধিক বায়ুর চাপ অনুভূত হয়।
(9) ক্যাটাবেটিক বায়ু (পার্বত্য বায়ু) কাকে বলে ?
উত্তর – সংজ্ঞা: পার্বত্য উপত্যকায় রাতের বেলা পাহাড়ের ঢাল বরাবর উপর থেকে নীচে যে শীতল বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে ক্যাটাবেটিক বায়ু বা পার্বত্য বায়ু বলে। গ্রিক ‘Kata’ শব্দের অর্থ নীচের দিকে।
বৈশিষ্ট্য: (i) এই বায়ু শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির। (ii) এটি একটি নিম্নমুখী বায়ুপ্রবাহ। (iii) পর্বতের ঢাল বরাবর নিম্নগামী হয় বলে পার্বত্য বায়ুও বলা হয়।
প্রভাব: (i) এই ক্যাটাবেটিক বায়ুই পার্বত্য উপত্যকায় বৈপরীত্য উত্তাপ সৃষ্টি করে থাকে। (ii) এই বায়ুর প্রভাবে ঝিরঝিরে বৃষ্টিপাত হয়, যার ফলে পার্বত্য অঞ্চলে চাষবাস ভালো হয়।
(10) সমচাপ রেখা বা সমপ্রেষ রেখা কাকে বলে ?
উত্তর – বছরের নির্দিষ্ট সময়ে (জানুয়ারি ও জুলাই) ভূপৃষ্ঠের একই বায়ুচাপবিশিষ্ট স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় তাকে সমচাপ রেখা বলে। এই রেখাগুলিকে ‘মিলিবার’ এককে দেখানো হয়।
(11) প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে ?
উত্তর – হিমমণ্ডল বা নাতিশীতোয়ুমণ্ডলের কোনো স্থানে অধিক শীতলতার জন্য প্রবল উচ্চচাপের সৃষ্টি হলে তখন ওই উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু কুণ্ডলী আকারে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে।
(12) জেট বায়ু কী ? দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – জেট বায়ু হল একটি দ্রুতগামী বায়ুস্রোত।
বৈশিষ্ট্য: (i) এটি মূলত 30° উত্তর অক্ষাংশে পশ্চিমাবায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলের 7-13 কিমি ঊর্ধ্বে ট্রপোস্ফিয়ারে একটি সংকীর্ণ আঁকাবাঁকা পথে প্রবল বেগে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়। (ii) জেটবায়ুর গতিবেগ 160-450 কিমি/ঘণ্টা।
(13) ‘ফেরেলের সূত্র’ কী ?
উত্তর – পৃথিবীর আবর্তনজনিত বলের প্রভাবে বায়ু সরাসরি উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। বায়ুপ্রবাহের দিক সংক্রান্ত এই নিয়মটি আমেরিকার বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফেরেল আবিষ্কার করেন বলে তাঁর নামানুসারে এটি ‘ফেরেলের সূত্র’ নামে পরিচিত।
(14) ফন কী ?
উত্তর – ফন হল উষ্ণ (10°-20° সে) ও শুষ্ক প্রকৃতির স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ। শরৎকালের শুরুতে এবং শীতকালের শেষে ইউরোপ মহাদেশ ও আল্পস পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে উৎপন্ন হয়ে রাইন নদী উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
প্রভাব: (i) এই বায়ুর প্রভাবে সুইজারল্যান্ডে বরফ আংশিক গলে যায়। (ii) শরৎকালে এর প্রভাবে আঙুর ফল দ্রুত পাকে।
(15) চিনুক কী ? [MP ’18]
উত্তর – চিনুক হল একটি উষ্ণ স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ। শীত ঋতুর শেষে ও বসন্ত ঋতুর শুরুতে কানাডা ও উত্তর আমেরিকা রকি পর্বতের পূর্ব ঢাল থেকে উৎপন্ন হয়। শুষ্ক ও কম আর্দ্রতাযুক্ত এই বায়ুর উয়তার পরিমাণ 18°-21° সে।
প্রভাব: (i) এই বায়ুর প্রভাবে শীতকালে রকি পর্বতের পাদদেশীয় সমভূমি বরফমুক্ত থাকে। (ii) এর ফলে প্রেইরি অঞ্চলে তৃণভূমি সৃষ্টি ও গম চাষ সম্ভব হয়েছে।
(16) সিরোক্কো কী ?
উত্তর – সিরোক্কো হল একটি উষ্ণ স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ। গ্রীষ্মকালে সাহারা মরুভূমি, লিবিয়া, প্রায় সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করে ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে এসে পৌঁছোয়। উয় ও শুষ্ক এই বায়ু স্পেনে লেভেস, মিশরে খামসিন ও ইতালিতে সিরোক্কো নামে পরিচিত।
প্রভাব: এই বায়ুর প্রভাবে ইউরোপের দক্ষিণ প্রান্তে আর্দ্র শীতল ও মনোরম আবহাওয়া সৃষ্টি হয়।
(17) ‘লু’ কী ?
উত্তর – গ্রীষ্মকালে দিনের বেলা রাজস্থান, হরিয়ানা তথা উত্তর-পশ্চিম ভারতে সৃষ্ট প্রচণ্ড উষ্ণ (45°-48° সে) ও শুষ্ক যে বায়ু ভারতের স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে লু বলে।
প্রভাব: এই বায়ুর প্রভাবে বহু মানুষ ও পশু মারা যায় এবং ভারতীয় জনজীবনে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
(18) মিস্ট্রাল কী ?
উত্তর – মিস্ট্রাল একটি শীতল স্থানীয় বায়ু শীতকালে ফ্রান্সের রোন উপত্যকা থেকে উৎপন্ন হয়ে ভূমধ্যসাগরের উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয়। শীতল ও শুষ্ক এই স্থানীয় বায়ুর গতিবেগ 50-65 কিমি/ঘণ্টা।
প্রভাব: (i) এর প্রভাবে শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রতীপ ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়। (ii) তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নামায় প্রচণ্ড শীতলতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।
(19) ঘূর্ণবাতের চোখ বলতে কী বোঝো ?
উত্তর – ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রকে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলে। চক্ষুর ব্যাস 20-40 কিমি পর্যন্ত হয়। চক্ষুকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণবাতের বাতাস ঘুরতে থাকে এবং ঘূর্ণবাত প্রবাহিত এলাকায় ঝড়ঝঞ্ঝা ও বৃষ্টিপাত হলেও চক্ষু অঞ্চলটি শান্ত ও মেঘহীন হয়।
(20) অঙ্কুশন কী ?
উত্তর – নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের পঞ্চম পর্যায়ে শীতল সীমান্ত দ্রুত অগ্রসর হয়ে উয় সীমান্তে প্রবেশ করে এবং শীতল ও উষ্ণ উভয় সীমান্ত মিলিত হয়ে একটি সীমান্তে পরিণত হয়। নতুন গঠিত এই সীমান্তকে বলে অক্লুডেড ফ্রন্ট বা অন্তর্ভূত সীমান্ত। অক্লুডেড সীমান্ত সৃষ্টির সময় উষ্ণ -আর্দ্র বায়ুপুঞ্জের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে চক্রাকারে শীতল বায়ুপুঞ্জের মধ্যে অবস্থান করে। এই ঘটনাকে বলে অক্লুশন।
(21) প্রতীপ ঘূর্ণবাতে শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে কেন ?
উত্তর – প্রতীপ ঘূর্ণবাতে বায়ু উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে আশেপাশের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়। উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের মধ্যে পার্থক্য কম হওয়ায় বায়ুর গতিবেগ কম হয়। এই বায়ু নিম্নমুখী হলে উন্নতা বেড়ে যায় এবং জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঘনীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে না ফলে বৃষ্টিপাত হয় না। উপরোক্ত কারণে প্রতীপ ঘূর্ণবাতে শান্ত, মেঘমুক্ত ও রোদ ঝলমলে আবহাওয়া বিরাজমান।
(22) আপেক্ষিক আর্দ্রতা কাকে বলে ?
উত্তর – আপেক্ষিক আর্দ্রতা: কোনো নির্দিষ্ট উয়তায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে তাতে ওই বায়ু সম্পৃক্ত হয় না। তাই ওই একই উন্নতায় একই পরিমাণ বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পের প্রয়োজন হয় তার অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। একে সর্বদা শতকরা হিসাবে পূর্ণমানে প্রকাশ করা হয়।
পরিমাপক যন্ত্র: আপেক্ষিক আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়।
বৈশিষ্ট্য: (i) উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা হ্রাস পায়। (ii) বৃষ্টিপাত, তুষারপাত প্রভৃতি অধঃক্ষেপণের সংঘটন আপেক্ষিক আর্দ্রতার ওপর নির্ভরশীল। (iii) ভোরের বেলা আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি হয়।
(23) সমবর্ষণ রেখা কাকে বলে ?
উত্তর – সংজ্ঞা: পৃথিবীর মানচিত্রে একই পরিমাণ বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলগুলিকে যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
প্রকাশের একক (Unit): এটি সেমি, মিমি বা ইঞ্চিতে প্রকাশ করা হয়।
বৈশিষ্ট্য: (i) রেখাগুলি পরস্পরকে স্পর্শ বা ছেদ করে না। (ii) সমবর্ষণ রেখার মান মরু অঞ্চলে কম এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকে। (iii) এগুলি সমোয়রেখার মতো আঁকাবাঁকা হয়।
গুরুত্ব: (i) সমবর্ষণ রেখার আকৃতি, মান থেকে কোনো অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের আঞ্চলিক বণ্টন, জলবায়ুর প্রকৃতি বোঝা যায়। (ii) মানচিত্রে – সমবর্ষণ রেখার সাহায্যে উদ্ভিদের প্রকৃতি জানা যায়। (iii) এছাড়া কৃষিকার্যের ধরণ, মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা করা যায়।
(24) চরম আর্দ্রতা / পরম আর্দ্রতা / নিরপেক্ষ আর্দ্রতা কাকে বলে ?
উত্তর – সংজ্ঞা: কোনো নির্দিষ্ট উয়তায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে তাকে ওই বায়ুর চরম আর্দ্রতা বা নিরপেক্ষ আর্দ্রতা (Absolute Humidity) বলে।
প্রকাশের একক (Unit): এটি গ্রাম-এ প্রকাশিত হয় (যেমন 10 গ্রাম/ঘনসেমি)।
উদাহরণ: ধরা যাক 25°C উন্নতায় 10 ঘনমিটার বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ 100 গ্রাম। সুতরাং, ওই বায়ুর চরম আর্দ্রতা হল 10 গ্রাম/ঘনমিটার।
বিশেষত্ব: (i) চরম আর্দ্রতা বেশি হলে বায়ু আর্দ্র এবং কম হলে বায়ু শুষ্ক হয়। (ii) উয়তা বাড়লে চরম আর্দ্রতা বাড়ে। (iii) চরম আর্দ্রতার পরিবর্তন ধীরে হয়। (iv) সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় চরম আর্দ্রতা বা নিরপেক্ষ আর্দ্রতা বেশি হয়। (v) উচ্চ অক্ষাংশে চরম আর্দ্রতা কম হয়।
(25) অধঃক্ষেপণ কাকে বলে ?
উত্তর – জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ওপরে উঠে ঘনীভূত হয় এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা তুষারকণায় পরিণত হয়। মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে এই জলকণা বা তুষারকণার ভূপৃষ্ঠে পতনকেই অধঃক্ষেপণ বলে।
3 মার্ক প্রশ্ন উত্তর
(1) বৈপরীত্য উত্তাপ বলতে কী বোঝো ?
উত্তর – বৈপরীত্য উত্তাপ: বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তর ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে 6.5°C/ কিমি হারে উন্নতা হ্রাস পায়। তবে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে যদি উন্নতা বৃদ্ধি পায় তাহলে তাকে বৈপরীত্য উত্তাপ বলে।
বৈপরীত্য উত্তাপ তিন প্রকার। যথা- (1) স্থিতিশীল বৈপরীত্য, (2) গতিশীল বৈপরীত্য, (3) বায়ু নিকাশ।
ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন অঞ্চলে বৈপরীত্য উত্তাপ সৃষ্টির আদর্শ অবস্থাসমূহঃ
(i) দীর্ঘ রাত: রাত দীর্ঘ হলে আগত সূর্যরশ্মি থেকে বিকিরণের মাধ্যমে প্রত্যাগমনের পরিমাণ বেশি হয়। যেমন শীতকালে রাত দীর্ঘ হওয়ায় এইরকম ঘটনা ঘটে।
(ii) বায়ুর প্রকৃতি: অপেক্ষাকৃত শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হলে পৃথিবীর বিকিরিত উত্তাপ সামান্য পরিমাণ শোষিত হয়।
(iii) মেঘমুক্ত রাত: মেঘমুক্ত রাতে পৃথিবী থেকে তাপ বিকিরণ দ্রুত হয়।
(iv) বায়ুর গতিবেগ: বায়ুর গতিবেগ ধীর হলে ভূপৃষ্ঠ পরিবহণ ও বিকিরণ প্রণালীতে অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়।
(v) ভূমির প্রকৃতি: বরফাবৃত ভূমিভাগ সূর্যবিকিরণের দ্বারা কম উত্তপ্ত হয়। ফলে সংস্পর্শে আসা বায়ু শৈত্যপ্রবাহে দ্রুত শীতল হয়ে পড়ে। মরু অঞ্চলে গ্রীষ্ম ও শীতে উন্নতার বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়।
(2) প্রতীপ ঘূর্ণবাতের শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে কেন ?
উত্তর – প্রতীপ ঘূর্ণবাতে শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে। কারণ- (i) হিমমণ্ডল ও শীতল নাতিশীতোয় মণ্ডলে সুবিস্তৃত অঞ্চলে তীব্র শৈত্য, নিরক্ষীয় ও মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপের ঊর্ধ্বাকাশের শীতল মেরু বায়ুপুঞ্জের আগমনে অত্যধিক শীতলতায় উচ্চচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। (ii) উচ্চচাপের বায়ু পার্শ্ববর্তী নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে পাক খেতে খেতে বহির্গামী হয়। কিন্তু কেন্দ্রের উচ্চচাপ ও বহির্ভাগে নিম্নচাপ অঞ্চলের মধ্যে তাপ ও চাপের ঢাল খুবই কম হওয়ায় অতিধীরগতিতে বায়ু প্রবাহিত হয়। (iii) এই অঞ্চলে উঁচু স্তর থেকে শীতল ও ভারী বায়ুর নিমজ্জনের ফলে অ্যাডিয়াবেটিক প্রক্রিয়ায় ক্রমশ উন্নতর ও শুষ্কতর হয়। বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা হ্রাস পায় এবং আকাশ মেঘমুক্ত ও নির্মল শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে।
(3) জেট বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ভারতীয় মৌসুমিবায়ুর সম্পর্ক উল্লেখ করো। [MP ’20] (অথবা), মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে জেট বায়ুর সম্পর্ক কী ?
উত্তর – জেট বায়ুর সঙ্গে ভারতীয় মৌসুমিবায়ুর সম্পর্ক:
মৌসুমি বায়ুর আগমন, স্থায়িত্ব, প্রত্যাবর্তন, প্রাবল্য খুবই অনিশ্চিত, এই অনিশ্চয়তার জন্য দায়ী ক্রান্তীয় পূবালি জেট বায়ু। বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে সৃষ্ট ক্রান্তীয় পূবালি জেট বায়ু দ্বারা ভারতীয় মৌসুমি বায়ু প্রভাবিত হয়।
ভারত মৌসুমি জলবায়ু অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে জেট বায়ুর সম্পর্ক অধিক-পশ্চিম ভারতে শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে তার আকর্ষণে ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে শীতল উচ্চচাপযুক্ত বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হতে থাকে। একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে। বায়ুমণ্ডলের উঁচুতে প্রবাহিত জেটবায়ু এই সময় হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। এই জেট বায়ুর আকর্ষণে মৌসুমি বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয় অর্থাৎ জেট বায়ুর অবস্থান ও নিম্নচাপ কেন্দ্রের প্রকৃতি অনুযায়ী মৌসুমি বায়ুর আগমন ও তীব্রতা নির্ভর করে।
(4) জেট বায়ু কাকে বলে ? জেট বায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখো। [MP ’17]
উত্তর – জেট বায়ু: জেট বায়ু হল একটি দ্রুতগামী বায়ুস্রোত। যা মূলত 30° উত্তর অক্ষাংশে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলের 7-13 কিমি ঊর্ধ্বে ট্রপোস্ফিয়ারে একটি সংকীর্ণ আঁকাবাঁকা পথে প্রবল বেগে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়।
জেট বায়ুর বৈশিষ্ট্য: (i) এই বায়ু ভূপৃষ্ঠ থেকে 10-12 কিমি ঊর্ধ্বে সংকীর্ণ স্থানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। (ii) জেট বায়ুর গতিবেগ 350-450 কিমি/ঘণ্টা। (iii) শীতের প্রারম্ভে এই বায়ুপ্রবাহ শুরু হয়, চলে মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত।
(5) নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি হয় কেন ? [MP ’14]
উত্তর – নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাতের কারণ: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উয় ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এলে ওই বায়ু পরিচলন পদ্ধতিতে দ্রুত ওপরে ওঠে এবং ওপরে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পরিচলন বৃষ্টিপাত রূপে ঝরে পড়ে। সাধারণত নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই বৃষ্টি বেশি দেখা যায়, কারণ হল-(i) নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্যকিরণ লম্বভাবে পড়ার দরুণ প্রচুর উত্তাপের সৃষ্টি হয়। (ii) এই অঞ্চলে জলভাগ বেশি। তাই প্রচণ্ড উত্তাপে প্রচুর জলীয়বাষ্প উৎপন্ন হয়ে বাতাসে মেশে। (iii) উভয় গোলার্ধ থেকে আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলে এসে মিলিত হয়। উয়-আর্দ্র বায়ু ঊর্ধ্বগামী পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি করে। (iv) ঊর্ধ্বগামী উয়-আর্দ্র বায়ু ক্রমশ শীতল ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। (v) পরে এই মেঘ আরও ঘনীভূত হয়ে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে বৃষ্টিপাতরূপে ঝরে পড়ে। (vi) তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পরিচলন বৃষ্টি দেখা যায়। (vii) সাধারণত বিকেলের পর এই ধরনের বৃষ্টি সবচেয়ে বেশি হয় বলে এই অঞ্চলের বৃষ্টিকে 4’O Clock Rain বলা হয়।
বায়ুমণ্ডল অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
5 মার্ক প্রশ্ন উত্তর
(1) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উষুতার তারতম্যের কারণগুলি আলোচনা করো। [অথবা], বায়ুর উন্নতার নিয়ন্ত্রকসমূহের বিবরণ দাও।
উত্তর – বায়ুমণ্ডলের উন্নতার তারতম্যের কারণসমূহ :
(i) অক্ষাংশ: পৃথিবী কক্ষতলের সঙ্গে সর্বদা 66 1° 166 কোণে হেলে সূর্যের চারিদিকে পরিক্রমণ করে। এর ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং তাপীয় ফল বেশি থাকে। আবার মেরুর দিকে সূর্য ক্রমশ তির্যকভাবে পতিত হয়। ফলে সূর্যের তাপীয় ফল কম হয়। তাই উচ্চ অক্ষাংশ অপেক্ষা নিম্ন অক্ষাংশের গড় উষ্ণতা অধিক হয়।
(ii) ভূমির উচ্চতা: আমরা জানি ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি কিমিতে গড়ে প্রায় 6.5° সে হারে উষ্ণতা হ্রাস পায়। তাই সমুদ্রতল থেকে কোনো স্থান যত ওপরে অবস্থান করে সেই স্থানের বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা তত কম হয়
(iii) স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টন: জলভাগের তুলনায় স্থলভাগ দ্রুত উন্ন বা শীতল হয়। এই কারণে সমুদ্র থেকে কম দূরবর্তী স্থান গ্রীষ্মকালে অধিক উয় ও শীতকালে অধিক শীতল হয়।
(iv) বায়ুপ্রবাহ: সমুদ্রস্রোতের মতোই উদ্বু বায়ু প্রবাহিত অঞ্চল উষ্ণ এবং শীতল বায়ু প্রবাহিত অঞ্চল শীতল প্রকৃতির হয়। যেমন-উয় চিনুক বায়ুর প্রভাবে প্রেইরি অঞ্চল বরফমুক্ত হয়ে যায় কিন্তু শীতল সাইবেরীয় বায়ুর প্রভাবে চিনে শীতকালে তুষারপাত হয়।
(v) সমুদ্রস্রোত: সমুদ্রের যে উপকূলীয় অঞ্চল বরাবর উয় সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয় সে অঞ্চলের বায়ুমণ্ডল উষ্ণ এবং যে অঞ্চলে শীতল সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয় সেখানকার বায়ুমণ্ডল শীতল প্রকৃতির হয়।
(vi) ভূমির ঢাল: ভূমির ঢালের দিক অনুযায়ী সৌরশক্তি প্রাপ্তির তারতম্য ঘটে। উত্তর গোলার্ধে উত্তরমুখী ভূমির ঢাল অপেক্ষা দক্ষিণমুখী ভূমির ঢালে অধিক লম্বভাবে সৌরকিরণ পড়ে, ফলে বায়ুমণ্ডলের উন্নতা অধিক হয়।
(2) বিশ্ব উন্নায়নের প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো। [MP ’17]
উত্তর – পরিবেশের ওপর বিশ্ব উন্নায়নের প্রভাব : বিশ্ব উন্নায়ন বা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবজগৎ তথা পরিবেশের ওপর এক সুদূরপ্রসারি ক্ষতিকারক প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। যেমন-
(i) মেরু অঞ্চলে বরফের গলন ও পার্বত্য হিমবাহের গলন: বিশ্ব উন্নায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের (গ্রিনল্যান্ড, অ্যান্টার্কটিকা) সঞ্চিত বরফ স্তূপের গলন শুরু হয়েছে এবং পার্বত্য হিমাবাহগুলির বরফের আয়তন ক্রমশ কমছে। সমীক্ষাতে দেখা গেছে, 70-এর দশকে গঙ্গোত্রী হিমবাহের প্রতি বছর হ্রাসের পরিমাণ ছিল প্রায় 25 মিটার।
(ii) সমুদ্র জলের উচ্চতা বৃদ্ধি: গ্রিনহাউস প্রভাব বৃদ্ধি পেলে পৃথিবীর গড় উন্নতা বৃদ্ধিজনিত কারণে মেরু অঞ্চলে ও পার্বত্য অঞ্চলের বরফ বেশি মাত্রায় গলে গিয়ে সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি করছে। এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর গড় উন্নতা প্রায় 1.5° সে বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্র জলতলের উচ্চতা প্রায় 10-12 সেমি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই ভাবে পৃথিবীর উন্নতা বৃদ্ধি পেলে এই শতাব্দীর শেষে সমুদ্র জলতলের উচ্চতা 50-90 সেমি বৃদ্ধি পাবে।
(iii) অধঃক্ষেপণের প্রকৃতি পরিবর্তন: পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন উৎসের জল অধিকতর দ্রুত ও বেশি পরিমাণে বাষ্পীভূত হচ্ছে তার ফলে বৃষ্টিপাত বা অধঃক্ষেপণের পরিমাণ সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাষ্পীভবন বেশি হওয়ার ফলে কোথাও প্রবল বর্ষণ অন্যত্র খরা আবার উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
(iv) শস্য উৎপাদনে হ্রাসবৃদ্ধি: বিশ্ব উন্নায়নের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হ্রাস বা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা। তবে এক্ষেত্রে এই হ্রাসবৃদ্ধি বিষয় দুটি অনেকগুলি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যেমন-নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়ার পরিবর্তন, CO₂ বৃদ্ধির পরিমাণ, মৃত্তিকার আর্দ্রতা বা শুষ্কতা, ফসলের ধরন প্রভৃতি। যেমন-উত্তর গোলার্ধে গ্রিনহাউস এফেক্টের ফলে গ্রীষ্মকালে বারংবার খরা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে সেক্ষেত্রে উত্তর আমেরিকা, প্রাক্তন সোভিয়েত রাশিয়ার উৎপাদনশীল অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে।
(v) কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন: গ্রিনহাউস প্রভাবের জন্য পৃথিবীর উয়তা বৃদ্ধি পেলে কৃষিকাজের ওপর তার প্রভাব পড়বে। যেমন-কৃষি বলয়ের স্থান পরিবর্তিত হয়ে উচ্চ অক্ষাংশের দিকে বিস্তৃত হচ্ছে। আবার চাষযোগ্য জমিতে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, আগাছা ও রেশম পোকার উপদ্রব বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষিকাজের পরিবর্তে শিল্প, বসতি, ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হবে।
(3) বায়ুচাপের নিয়ন্ত্রকগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর – বায়ুচাপের তারতম্যের নিয়ন্ত্রক: বায়ুচাপের তারতম্যের প্রধান কারণ হল বায়ুর ঘনত্বের তারতম্য। বায়ুর ঘনত্ব বেশি বা কম হলে চাপের তারতম্য হয়। বায়ুচাপের তারতম্যের নিয়ন্ত্রকগুলি হল –
(i) উচ্চতা: ভূমিভাগের উচ্চতা, বায়ুচাপের তারতম্যের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ন্ত্রক। আমরা জানি, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং ওপরের বায়ুর স্তরের প্রবল চাপে বায়ুর অণুগুলি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অঞ্চলে (ভূপৃষ্ঠ থেকে 16 কিমি উচ্চতা) বেশি পরিমাণে থাকে। এ কারণেই সমুদ্রতল সংলগ্ন বায়ুস্তরে বায়ুর চাপ বেশি হয়। আবার ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ সমুদ্রতল থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, তত বায়ুর অণুগুলি পরস্পর থেকে দূরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বায়ুর ঘনত্ব ও ওজন কমতে থাকে বলে বায়ুর চাপও কমে যায়। পরীক্ষার সাহায্যে দেখা গেছে, সমুদ্রতল থেকে প্রতি 110 মিটার উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে 1 সেমি পারদ স্তম্ভের সমান বায়ুচাপ (1.34 মিলিবার হারে) কমতে থাকে।
(ii) উন্নতা: বায়ুর উয়তার পরিবর্তন হলে বায়ুর আয়তন ও ঘনত্বের পরিবর্তন হয় ফলস্বরূপ চাপেরও পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ বায়ু উত্তপ্ত হলে বায়ুর অণুগুলি গতিশীল হয়ে পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। ওই উন্ন বায়ু হালকা ও প্রসারিত হয়ে ওপরে উঠে যায় এবং এর চাপও কমে যায়। আবার উন্নতা কম হলে বা বায়ু শীতল হলে সংকুচিত হয় বলে বায়ুর ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং চাপও বেশি হয়।
(iii) জলীয় বাষ্প: বায়ুতে উপস্থিত অন্যান্য উপাদানের মধ্যে জলীয় বাষ্প হল অধিক হালকা উপাদান আর এই হালকা উপাদানের পরিমাণের ওপর বায়ুর চাপ নির্ভরশীল। বেশি জলীয় বাষ্পযুক্ত বায়ু নিম্নচাপবিশিষ্ট হয় এবং কম জলীয় বাষ্পযুক্ত বায়ু উচ্চচাপবিশিষ্ট হয়।
(iv) পৃথিবীর আবর্তন: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে অবিরাম আবর্তন করে চলেছে। কিন্তু এই আবর্তনের বেগ পৃথিবীপৃষ্ঠে সর্বত্র সমান হয় না। পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রবহির্মুখী বলের (Cen-trifugal force) প্রভাবে বায়ুর গতিবিক্ষেপ ঘটে। ফলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই হ্রাস পায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে আবর্তনের বেগ বেশি থাকায় বায়ুর বেশি গতিবিক্ষেপ ঘটে বলে স্থায়ী নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে।
(vi) স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টন: পৃথিবীপৃষ্ঠে জলভাগ ও স্থলভাগের বিন্যাস বা বণ্টন তথা উভয়ের মধ্যেকার তাপগ্রহীতা শক্তির পার্থক্যের জন্যও বায়ুচাপের তারতম্য ঘটে। জলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে বলে তা আর্দ্র ও হালকা হয় এবং চাপও কম হয়। কিন্তু স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করতে পারে না বলে তা শুষ্ক, ভারী হয় এবং চাপও অধিক হয়।
(4) পৃথিবীর নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলির উৎপত্তি ও গতিপথ চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – পৃথিবীর নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলির উৎপত্তি ও গতিপথ:
ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে সারাবছর ধরে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে, নির্দিষ্ট দিকে, নির্দিষ্ট সময় ও প্রায় একই গতিতে যেসব বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তরে উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য
অনুসারে নিয়ত বায়ু তিনপ্রকার। যথা- (1) আয়ন বায়ু, (2) পশ্চিমা বায়ু, (3) মেরু বায়ু।
(a) আয়ন বায়ু: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে সারাবছর ধরে প্রায় নিয়মিত নির্দিষ্ট পথে অর্থাৎ নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত বায়ু হল আয়ন বায়ু।
বিস্তার: এই বায়ু উভয় গোলার্ধে প্রায় 5°-35° অক্ষরেখার মধ্যে প্রবাহিত হয়।
গতিপথ: আয়ন বায়ু ফেরেলের সূত্র অনুসারে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ডানদিকে প্রবাহিত হয়। আর দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ুর গতিবেগ 16 কিমি/ঘণ্টা এবং দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর গতিবেগ 22-30 কিমি/ঘণ্টা।
(b) পশ্চিমা বায়ু: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যথাক্রমে সুমেরু ও কুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত বায়ু হল পশ্চিমা বায়ু।
বিস্তার: উত্তর গোলার্ধে 35°-60° অক্ষরেখার মধ্যে এই বায়ু প্রবাহিত হয়।
গতিপথ: ফেরেলের সূত্রানুসারে, উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয় উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের বিস্তার দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় বেশি থাকায় ঘর্ষণজনিত বাধার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুর তুলনায় কম হয়।
(5) পরিচলন বৃষ্টিপাত ও শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কীভাবে সৃষ্টি হয় তা চিত্রসহ আলোচনা করো ।
উত্তর – (a) পরিচলন বৃষ্টিপাত :
সংজ্ঞা: ভূপৃষ্ঠের জলরাশি সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হয়ে জলীয় বাষ্পরূপে ঊর্ধ্বাকাশে উঠে সম্পৃক্ত, শীতল ও ভারী হয়ে সেই স্থানেই বৃষ্টিপাত রূপে পতিত হলে তাকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে।
কারণ: ভূপৃষ্ঠের জলরাশি সূর্যের তাপে ক্রমাগত উত্তপ্ত হয় এবং জলীয়বাষ্প গঠন করে হালকা হয় এবং ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ঊর্ধ্বাকাশে উঠে যায়। এই বায়ু উপরে শীতল, ঘনীভূত ও ধীরে ধীরে সম্পৃক্ত হয়ে বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
উদাহরণ: সাধারণত নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় জলবায়ুর দেশগুলিতে উন্নতা বেশি থাকায় সেই সকল দেশে পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টিপাত হয়। যেমন-ভারত, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার।
(b) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
সংজ্ঞা: ‘শৈল’ শব্দের অর্থ পর্বত এবং ‘উৎক্ষেপ’-এর অর্থ ওপরে ওঠা। জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুর প্রবাহপথে পর্বতের অবস্থান থাকলে সেই বায়ু পর্বতের ঢাল বরাবর উপরে ওঠে এবং শীতলতার সংস্পর্শে এসে বৃষ্টিপাত ঘটায়, একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।
পদ্ধতি: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু তার গতিপথে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত কোনো পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের গা বরাবর উপরে উঠে যায়। এই জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ওপরে উঠে শীতল হয় এবং জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হয়। জলকণাগুলি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড়ো হতে থাকে এবং পর্বতের যে ঢাল বরাবর ওপরে ওঠে সেই ঢালেই (প্রতিবাত ঢাল) প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরপর পর্বত অতিক্রম করে যখন বিপরীত ঢালে (অনুবাত ঢাল) পৌঁছোয় তখন বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না। পর্বতের অনুবাত ঢালটি বৃষ্টিপাতের অভাবে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পরিণত হয়।
উদাহরণ: ভারতে মেঘালয়ে খাসি পাহাড়ের প্রতিবাত ঢালে অবস্থিত মৌসিনরামে জলীবাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাধা পেয়ে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায় (অনুবাত ঢালে অবস্থিত শিলং একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল)।
আরও পড়ুন : –
প্রথম অধ্যায় – বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
Click Here – প্রথম অধ্যায়
ভারতের প্রাকৃতিক ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর
YouTube – Samim Sir