অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর (জয় গোস্বামী) // Class 10 Ostrer Biruddhe Gaan Kobita Question Answer // WBBSE
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর
Ostrer Biruddhe Gaan Kobita Question Answer
মার্ক – 1 ( MCQ )
১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির কবি হলেন –
(ক) শঙ্খ ঘোষ
(খ) বিষ্ণু দে
(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) জয় গোস্বামী
উত্তর – (ঘ) জয় গোস্বামী
২. “অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?
(ক) পাগলী, তোমার সঙ্গে
(খ) ভূতুমভগবান
(গ) পাতার পোশাক
(ঘ) সূর্য-পোড়া ছাই
উত্তর – (গ) পাতার পোশাক
৩. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ‘অস্ত্র’ কথাটি আছে –
(ক) ছয়বার
(খ) সাতবার
(গ) আটবার
(ঘ) নয়বার
উত্তর – (ক) ছয়বার
৪. ‘অস্ত্র ফ্যালো’- এই শব্দবন্ধটি কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে –
(ক) তিনবার
(খ) দু-বার
(গ) চারবার
(ঘ) পাঁচবার
উত্তর – (ক) তিনবার
৫. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ‘গান’ কথাটি আছে –
(ক) ছয়বার
(খ) সাতবার
(গ) আটবার
(ঘ) নয়বার
উত্তর – (খ) সাতবার
৬. অস্ত্র রাখতে হবে –
(ক) বুকে
(খ) হাতে
(গ) পায়ে
(ঘ) মাথায়
উত্তর – (গ) পায়ে
৭. “আমি এখন হাজার হাতে পায়ে/এগিয়ে আসি,”- এখানে ‘আমি’ বলতে বোঝানো হয়েছে –
(ক) কবিকে
(খ) রাখাল বালককে
(গ) গানকে
(ঘ) অস্ত্রকে
উত্তর – (ক) কবিকে
৮. হাত নাড়িয়ে কবি কী তাড়ান ? –
(ক) বুলেট
(খ) মশা
(গ) মাছি
(ঘ) লাঠি
উত্তর – (ক) বুলেট
৯. কবি গানের বর্ম পরেছেন –
(ক) অস্ত্র প্রতিরোধ করতে
(খ) শব্দ প্রতিরোধ করতে
(গ) আঘাত থেকে বাঁচতে
(ঘ) মৃত্যু থেকে বাঁচতে
উত্তর – (ক) অস্ত্র প্রতিরোধ করতে
১০. কবি গায়ে কী পরেছেন ?
(ক) সুরের চাদর
(খ) গানের বর্ম
(গ) ভাষার পিরান
(ঘ) কথার জামা
উত্তর – (খ) গানের বর্ম
১১. কী প্রতিরোধ করতে কবি ‘গানের বর্ম’ পরেছেন ?
(ক) অস্ত্র
(খ) ধ্বনি
(গ) পদ
(ঘ) কথা
উত্তর – (ক) অস্ত্র
১২. কবি গান জানেন –
(ক) একটা-দুটো
(খ) দুটো-তিনটে
(গ) তিনটে-চারটে
(ঘ) চারটে-পাঁচটা
উত্তর – (ক) একটা-দুটো
১৩. কবি জয় গোস্বামী তাঁর জানা গানকে যার সঙ্গে তুলনা করেছেন, তা হল –
(ক) ইট কাঠ
(খ) খড়কুটো
(গ) গাছ-পাথর
(ঘ) সোনা-দানা
উত্তর – (খ) খড়কুটো
১৪. “আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো”- ‘খড়কুটো’ বলতে বোঝানো হয়েছে –
(ক) প্রাণের কথাকে
(খ) হাতিয়ারকে
(গ) একটা-দুটো গানকে
(ঘ) দু-চারটে গানকে
উত্তর – (গ) একটা-দুটো গানকে
১৫. কবি গানের গায়ে মোছেন –
(ক) অশ্রু
(খ) রক্ত
(গ) কান্না
(ঘ) ঘাম
উত্তর – (খ) রক্ত
১৬. ‘বর্ম’ শব্দের অর্থ হল –
(ক) বোমা
(খ) মর্ম
(গ) দেহাবরণ
(ঘ) আভরণ
উত্তর – (গ) দেহাবরণ
১৭. ‘কবি ‘শকুন বা চিল’ বলতে বুঝিয়েছেন –
(ক) শিকারি পাখিকে
(খ) সমাজের কল্যাণকামী দলকে
(গ) সভ্যতা ধ্বংসকারী শক্তিকে
(ঘ) সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে
উত্তর – (গ) সভ্যতা ধ্বংসকারী শক্তিকে
১৮. কোনটি জয় গোস্বামীর লেখা কাব্যগ্রন্থ ?
(ক) বাবরের প্রার্থনা
(খ) অগ্নিবীণা
(গ) রূপসী বাংলা
(ঘ) পাতার পোশাক
উত্তর – (ঘ) পাতার পোশাক
১৯. “গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে”- কে গান বাঁধবে ? [MP ‘20]
(ক) চিল
(খ) কোকিল
(গ) শকুন
(ঘ) ময়ূর
উত্তর – (খ) কোকিল
২০. “বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে”- বর্ম খুলে আদুড় গায়ে দাঁড়িয়ে থাকে –
(ক) ঋষিবালক
(খ) শিশু
(গ) ভিখিরি
(ঘ) মুনি
উত্তর – (ক) ঋষিবালক
Click Here – অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
২১. ‘আদুড়’ কথার অর্থ –
(ক) দেহাবরণ
(খ) অনাবৃত
(গ) বাদুড়
(ঘ) আদর
উত্তর – (খ) অনাবৃত
২২. “বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে” – কী দেখতে বলা হয়েছে ?
(ক) গান ধরেছে ঋষিবালক
(খ) গান দাঁড়াল ঋষিবালক
(গ) গান ভরাল ঋষিবালক
(ঘ) গান করাল ঋষিবালক
উত্তর – (খ) গান দাঁড়াল ঋষিবালক
২৩. গান দাঁড়াল –
(ক) বীরের মতো
(খ) ঋষিবালকের মতো
(গ) জ্ঞানীর মতো
(ঘ ফুলের মতো
উত্তর – (খ) ঋষিবালকের মতো
২৪. ঋষিবালকের মাথায় কী গোঁজা ছিল ?
(ক) ফুল
(খ) মুকুট
(গ) কলম
(ঘ) ময়ূরপালক
উত্তর – (ঘ) ময়ূরপালক
২৫. “তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান” –
(ক) নদীতে, হাটে
(খ) নদীতে, দেশগাঁয়ে
(গ) সাগর, জলাশয়ে
(ঘ) নদীতে, পুকুরে
উত্তর – (খ) নদীতে, দেশগাঁয়ে
২৬. অস্ত্র কার পায়ে রাখতে বলা হয়েছে ?
(ক) গানের
(খ) শত্রুর
(গ) বন্ধুর
(ঘ) দেবতার
উত্তর – (ক) গানের
SAQ ( 1 Mark )
১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির রচয়িতা কে ?
উত্তর – ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন জয় গোস্বামী ।
২. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?
উত্তর – ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটি ‘পাতার পোশাক’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ।
৩. ‘অস্ত্র’ও ‘গান’শব্দ দুটি ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় মোট কতবার করে আছে ?
উত্তর – ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ‘অস্ত্র’ শব্দটি মোট ছয়বার আছে আর ‘গান’ শব্দটি আছে মোট সাতবার ।
৪. ‘অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো’- কোথায় অস্ত্র ফেলার কথা বলা হয়েছে ? [MP ’17]
উত্তর – যুদ্ধবিরোধী ভাবনায় উদ্বুদ্ধ কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় অস্ত্রকে নামিয়ে পায়ে রাখার আবেদন জানিয়েছেন ।
৫. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ‘অস্ত্র রাখো’বলার অর্থ কী ?
উত্তর – ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ‘অস্ত্র রাখো’-র অর্থ হল অস্ত্র পরিহার করো বা পরিত্যাগ করো। অর্থাৎ, হানাহানি মারামারি থেকে বিরত থাকার কথাই বলেছেন কবি জয় গোস্বামী ।
৬. কবি জয় গোস্বামী কোন প্রেক্ষিতে অস্ত্র ফেলার আবেদন জানান ? [অথবা], কোন অবস্থায় কবি অস্ত্র ফেলার আবেদন জানান ?
উত্তর – অস্ত্রের অবাধ ব্যবহারে পৃথিবী আজ বিপন্ন, হিংসা-হানাহানি দাঙ্গায় বিপর্যস্ত। এই বারুদের স্তূপে শান্তির আবহ সৃষ্টি করতেই কবির অস্ত্র সংবরণের আবেদন।
৭. “আমি এখন হাজার হাতে পায়ে/এগিয়ে আসি”,- এ কথা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তর – ‘হাজার হাতে পায়ে’ বলতে কবি ঐক্যবদ্ধতা ও গণশক্তির সম্মিলনের কথা বলেছেন। প্রতিবাদী ও বিরোধী শান্তিকামী শক্তির এই ঐক্যবদ্ধ অগ্রসরণই যুদ্ধবাজদের আগ্রাসী মনোভাবকে প্রশমিত করতে পারে।
৮. “এগিয়ে আসি, উঠে দাঁড়াই”- কে এগিয়ে আসেন ও কীভাবে ?
উত্তর – কবি জয় গোস্বামী অস্ত্রের বিরুদ্ধে সহস্র মানুষকে সংগঠিত করতে এগিয়ে আসেন। ঘৃণার মাধ্যমে নয়, গানের মাধ্যমে নান্দনিক, শৈল্পিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান কবি।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর
৯. ‘উঠে দাঁড়াই’- উঠে দাঁড়িয়ে কে, কী করেন ?
উত্তর – মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যে অস্ত্র, কবি স্বয়ং উঠে দাঁড়িয়ে শান্তিকামী মানুষদের একত্র করে হাত নাড়িয়ে সেই উদ্যত অস্ত্রের প্রতীক স্বরূপ বুলেটকে প্রতিহত করেন।
১০. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি হাত নাড়িয়ে কী তাড়ান ?
উত্তর – ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ান ।
১১. “হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই”- কথাটির অর্থ কী ?
উত্তর – বুলেট আর গান যথাক্রমে বিনাশ আর সৃষ্টির প্রতীক। মানুষের জাগরিত বিবেকবোধ আর শুভবুদ্ধির কাছে বুলেটও হার মানে যা পরীক্ষিত সত্য। তাই গানের মাধ্যমে যুদ্ধবিরোধী ভাবনার প্রচার ও প্রসার ঘটাবেন কবি।
১২. “গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে”- ‘আজ’ কথাটি ব্যবহারের কারণ কী ?
উত্তর – যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা বর্তমান সংকটকালে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাই কবি এখনই সেই কাজ করতে মগ্ন।
১৩. “গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে”- এ কথা বলার কারণ কী ? [অথবা], “গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে”- ‘গানের বর্ম বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তর – ‘গানের বর্ম’ আসলে যুদ্ধবিরোধী রক্ষাকবচ। কবি আশাবাদী যে, গানই মানুষের মনের সুকুমার বৃত্তির জাগরণ ও পাশব বৃত্তির অপসারণ ঘটাবে এবং বিশ্বজনীন যুদ্ধভাবনার অবসান ঘটাবে।
১৪. “গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে”- গানের বর্ম পরিধান করে কবি কোন কাজ করতে পারেন ?
উত্তর – অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানকেই ঢাল বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করে কবি জয় গোস্বামী চান বিশ্বব্যাপী হিংসার বাতাবরণকে প্রতিরোধ করবেন ও মানুষের চেতনায় শুভবুদ্ধির সঞ্চার ঘটাবেন।
১৫. “গান তো জানি একটা দুটো”- ‘একটা দুটো’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর – কবি প্রশ্নোক্ত অংশে ‘একটা দুটো’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তাঁর সীমিত ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি আশাবাদী, এই সীমিত ক্ষমতাই সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় ফলপ্রসূ হবে।
১৬. “গান তো জানি একটা দুটো”- এই ‘একটা দুটো’ গানের প্রকৃতি কেমন বলে তোমার মনে হয় ? [ অথবা], “গান তো জানি একটা দুটো”- এই গানের বিশেষত্ব কী ?
Click Here – জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর
উত্তর – কবির জানা ‘একটা দুটো’ গান সংখ্যায় সীমিত হলেও তা মানবিকতার তথা চিরন্তন মানবপ্রেমের বার্তাবাহী হওয়ায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও ফলদায়ক।
১৭. “আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো”- কবি ‘খড়কুটো’ বলতে কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তর – ‘খড়কুটো’ শব্দের সাধারণ অর্থ শুকনো ঘাস, বিচালি ও ডালপালার টুকরো। তবে কবিতায় কবি শেষ ও সামান্য অবলম্বন অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছেন ।
১৮. “রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে”- কথাটির অর্থ কী ? [MP’18]
উত্তর – হিংসা, আগ্রাসনের অস্ত্রের আঘাতে মানবতা আজ রক্তাক্ত। মনুষ্যত্বের এই রক্তক্ষয়ী অপচয়কে গানের মতো সৃষ্টিশীলতা দিয়েই প্রতিরোধ বা প্রশমিত করা সম্ভব।
১৯. “আমার শুধু একটা কোকিল”- কোকিলটি কী করবে ?
উত্তর – কোকিল এখানে শুভবুদ্ধি তথা শুদ্ধ বাতাবরণের প্রতীক। তার গানের সুমধুর সুর সহস্র উপায়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেবে ও যুদ্ধভাবনার অবসান ঘটাবে।
২০. “আমার শুধু একটা কোকিল”- কোকিল কীসের প্রতীক ? [অথবা], “আমার শুধু একটা কোকিল”- কোকিল-এর দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর – আলোচ্য অংশে কোকিল কবির সংবেদনশীল মনের অনুভূতির জীবন্ত রূপ। শুভবুদ্ধি, যুদ্ধ-হাঙ্গামাহীন শুদ্ধ বাতাবরণ প্রতিষ্ঠা ও তার প্রসারের ক্ষেত্রে এই সত্তা সহায়ক।
২১. “গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে”- কে, কেন সহস্র উপায়ে গান বাঁধবে ?
উত্তর – কোকিল সহস্র উপায়ে গান বাঁধবে। প্রকৃত অর্থে যুদ্ধের ও আগ্রাসনের অবসান সহজসাধ্য নয়। তাই এক উপায়ে নয় বহু কৌশল অবলম্বন করেই অনাবিল চেতনাসম্পন্ন মানুষ যুদ্ধকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।
২২. “অস্ত্র রাখো, অস্ত্র ফ্যালো পায়ে”- বারবার অস্ত্র রাখা ও ফ্যালার কথা বলা হয়েছে কেন ?
উত্তর – কবি জয় গোস্বামী নানান সুরে ও কৌশলে মানুষকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখতে চান। তাই বারবার অস্ত্র ফেলে দেওয়া বা রেখে দেওয়ার কথা বলে তিনি যুদ্ধবিহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছেন।
২৩.‘বর্ম খুলে দ্যাখো’- কবি বর্ম খুলতে বলেছেন কেন ?
উত্তর – বর্ম হল দেহাবরক। বর্মের প্রয়োজন হয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য। পৃথিবীতে নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে, যুদ্ধের আবহ দূর হলে বর্ম নিষ্প্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। তাই কবি বর্ম খুলতে বলেছেন।
২৪. “বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে”- ‘আদুড় গায়ে’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?
উত্তর – ‘আদুড়’ কথার অর্থ হল আবরণহীন অর্থাৎ ‘আদুড় গায়ে’ মানে খালি গায়ে। আর এই আদুড় গায়ে থাকা এক ঋষিবালকের অবয়ব বর্ণনা করেছেন কবি। তাই ‘আদুড় গায়ে’ কথাটির মধ্য দিয়ে তিনি ঋষিবালকের অপাপবিদ্ধ প্রতিমূর্তিটিকে বোঝাতে চেয়েছেন।
২৫. “গান দাঁড়াল ঋষিবালক”- গানের সঙ্গে ঋষিবালকের সম্পর্ক কোথায় ?
উত্তর – আক্ষরিক অর্থে ‘ঋষিবালক’ শব্দের অর্থ ‘ঋষিপুত্র’ হলেও কবি অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া গানের ওপর জীবন্ত সত্তা আরোপ করে তাকে অপাপবিদ্ধ ঋষিবালকের প্রতিমূর্তি হিসেবে দেখতে চেয়েছেন যা যুদ্ধহীন শান্ত পরিবেশের প্রতীক।
২৬. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’কবিতায় ‘ঋষিবালক’ কীসের প্রতীক ?
উত্তর – ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ‘ঋষিবালক’ গানের তথা শান্তির বার্তার প্রতীক।
২৭. “মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক”- কার মাথায়, কেন ময়ূরপালক গোঁজা ?
উত্তর – ঋষিবালকের মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা। আসলে কবি তাকে ‘শিষ্টের পালক ও দুষ্টের দমনকারী’ শ্রীকৃয় রূপে দেখতে চেয়েছেন বলেই এই সাজে তাকে সজ্জিত করেছেন।
২৮. “গান দাঁড়াল ঋষিবালক/মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক”- কবির কাছে ‘ময়ূরপালক’ গুরুত্বপূর্ণ কেন ?
উত্তর – ময়ূরপালক যার মুকুটে শোভা পায় তিনি হলেন ‘শিষ্টের পালক ও দুষ্টের দমনকারী’ শ্রীকৃয়। আর সেই ময়ূরপালকই কবি ঋষিবালকের মাথায় গোঁজা বলে বর্ণনা করে তাকে শ্রীকৃষ্ণের প্রতিরূপ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। তাই ‘ময়ূরপালক’ কবির কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২৯. “তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান”-গান কোথায় বেড়াবে ? [MP ’20]
উত্তর – কবি জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় গান মানুষকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে নদীতে, দেশে ও গাঁয়ে। অর্থাৎ শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়বে চারিদিকে।
৩০. ‘গানের দুটি পায়ে’ – গানের দুটি পায়ে কবি কী সমর্পণ করতে ?
উত্তর – গানের দুটি পায়ে কবি জয় গোস্বামী অস্ত্র সমর্পণ করতে চান ।
Mark – 3
১. “অস্ত্র ক্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে – কবি কোন প্রেক্ষাপটে এমন কথা বলোছেন ?
উত্তর – কবির রচনার লাক্ষ্য: যুদ্ধের বিরুদ্ধে নান্দনিকতার করজা ধারণ কবি জয় গোস্বামী চিরন্তন শান্তির আবেদন নিয়ে ‘আস্ত্রের বিরদ্ধে প্যান’ কবিতাটি রচনা করেন।
প্রেক্ষাপট: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির আবহ, স্বাদ্দেশো মান্দির-মসাজিদ দ্বন্দ্ব ও স্যাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদের মতো নানান শান্তি বিঘ্নকারী ঘাটনা কবির মনে গাভীর রেখাপাত করেছিল। তাই কবি মানুষের মনের কলুষতা নির্মূল করে সেখানে মানবতার মন্ত্র ও বীজবপন করতে চেয়েছেন। এই প্রেক্ষাপার্টেই সংবেদনশীলা কবি রচনা করেছেন আলোচ্য কবিতাটি যার মাধ্যমে প্রচার করেছেন শান্তির বার্তা আর আবেদন জানিয়েছেন যুদ্ধ-হিংসা-আগ্রাসন থেকে বিরত থ্যাকার।
২. “হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই” -কে, কীভাবে হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ানোর কথা বলেছেন ?
উত্তর – হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াবেন যিনি: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি স্বয়ং হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ানোর কথা বলেছেন।
হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ানোর পদ্মতি: হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ানো কোনো জাদুবিদ্যার প্রয়োগ নয়। মানবতাবাদী কবি হাত নাড়িয়ে থামাতে চান সমাজের নিরীহ মানুষের ওপর ‘বুলেট’ তথা অস্ত্রের প্রয়োগকে। রাজায় রাজায় যুদ্ধে উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। তাই কবি, হাত নাড়িয়ে যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিত প্রদর্শন করে, যুদ্ধবাজ মানুষদের মনে মানবিকতার বীজ বুনে তাদের যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করতে চান কবি।
Click Here – বাংলা ব্যাকরণ: সমাস
৩. “রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে- পত্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – উৎস: কবি জয় গোস্বামীর লোখা ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি ‘রক্ত’ ও ‘গান’ শব্দ দুটিকে প্রতীকায়িত করেছেন।
রক্তের তাৎপর্য : “রক্ত” এখানে মানবতার অপমৃত্যুর প্রতীক। এই অপচয় করি বন্ধ করতে উদ্দ্যোগী।
গানের তাৎপর্য: ‘গান’ মানুষের সৃজনশীলতা তথা শুভচেতনার প্রতীক। কবি চান এই সৃষ্টিশীলতা ও শুভচেতনার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের অবক্ষয় রুখতে, যুদ্ধের সংকট কাটিয়ে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। তাই গানকে আশ্রয় করে হিংসাকে দূর করার অভিপ্রায়েই তিনি গানের গায়ে রক্ত মোছার। কথা বলোছেন।
৪. “মাথায় কত শকুন বা চিল”- কবি কাদের শকুন বা চিল বলেছেন এবং কেন ? ১+২
উত্তর – যাদের বলেছেন: কবি জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি সমাজের সুযোগসন্ধানী, লোভী ও হীন কুচক্রী মানুষদের শকুন বা চিল বলেছেন।
শকুন বা চিল বলার কারণ: এদের শকুন বা চিল বলার কারণ হল-শকুন বা চিল আকাশে অনেক উঁচুতে উড়তে থাকলেও এদের নজর থাকে ভাগাড়ের দিকে। কবির উল্লেখিত সুযোগসন্ধানী এই সমস্ত মানুষেরাও সমাজের উচ্চকোটিতে অবস্থান করে কিন্তু তাদের নজর হয় নীচু। তারা সমাজের নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের সর্বনাশ করে। তাদের আগ্রাসী শক্তির আগ্রাসনের শিকার হয় দুর্বল নিরীহ মানুষেরা। কবি এ ধরনের মানুষদের এড়িয়ে চলতে বা এদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে ও সাবধানে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।
৫. “আমার শুধু একটা কোকিল”– উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য লেখো।
উত্তর – তাৎপর্য: কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ব্যক্ত করেছেন যে, কোকিল শুভচিন্তা ও শুদ্ধ বাতাবরণের প্রতীক। কবির বিশ্বাস যুদ্ধোন্মত্ত পৃথিবীতে শান্তির বার্তা আনবে তার মধুর স্বর। কোকিল বসন্তের দূত। শীতের অবসানে যেমন প্রকৃতি তার বুক্ষতা কাটিয়ে আবার পত্রে-পুষ্পে সঞ্জীবিত হয়ে ওঠে তেমনি যুদ্ধের ধ্বংসলীলার শেষে নতুন করে প্রাণোন্মাদনা জাগাবে বা উজ্জীবনের গান গাইবে কোকিলের পবিত্র প্রাণশক্তি। চিল-শকুনের উদ্ধৃত চিৎকারকে মুছে ফেলে প্রাণে প্রাণে তা ছড়িয়ে দেবে মানবতার তথা ভালোবাসার গান।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর
৬. “গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে”- কে সহস্র উপায়ে গান বাঁধবে ? এতে কী উপকার হবে ? ১+২
উত্তর – যিনি গান বাঁধবেন: কবি জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ‘কোকিল’ সহস্র উপায়ে গান বাঁধবে।
উপকারের নমুনা: কোকিল কবির সংবেদনশীল মনের অনুভূতির জীবন্ত রূপ। কবিরও সংবেদনশীল, মননশীল স্রষ্টা হৃদয় ও কোকিল যেন একই সত্তা। প্রতিটি হৃদয়কে যদি মানবিক করে তোলা যায় তাহলেই পৃথিবী থেকে হিংসা, রক্তপাত, হানাহানি নির্মূল হবে। হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়বে মানবতার সুর। জগৎ ও জীবন সুন্দর হবে অস্ত্রের বিরুদ্ধে এরূপ প্রতিরোধের মাধ্যমে।
৭. “গান দাঁড়াল ঋষিবালক”- কৰি জয় গোস্বামী গানের সঙ্গে কেন ঋষিবালকের অভেদ কল্পনা করেছেন ?
উত্তর – ঋষিবালক আর গান যেন অভিন্ন: কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় গানকে ঋষিবালকের থেকে অভিন্ন কল্পনা করেছেন। ঋষিবালক যেমন শান্ত-সরল-নিষ্পাপ এবং তেজোদীপ্ত তেমনি গানও হবে ‘সত্যম্-শিবম্-সুন্দরম্’-এর প্রচারক। সত্যসুন্দরের নির্ভয় প্রকাশ ও প্রচারে গান এ পৃথিবীতে এক সুন্দর বাতাবরণ রচনা করবে। পৃথিবীতে যুদ্ধ, হিংসা, উন্মত্ততা কাটিয়ে তুলতে গানই হবে ঋষিবালক তুল্য শুদ্ধ মানবমনের উৎসারিত আলো।
৮. “মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক”- কার মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা ? এমন রূপের কল্পনা কবি কেন করেছেন ? ১+২
অথবা, “মাখায় গোঁজা ময়ূরপালক”- এখানে কার কথা বলা হয়েছে ? প্রসঙ্গটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ১+২
উত্তর – ময়ূরপালক পরিধায়ী ব্যক্তি: কবি জয় গোস্বামীর লেখা ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় মানবতা ও উজ্জীবনের গানকে ঋষিবালকের সত্তার সঙ্গে একাত্ম করে কবি তুলনা করেছেন। এই ঋষিবালকের মাখাতেই ময়ূরপালক গোঁজা।
এমন রূপে কল্পনার কারণ: মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা ঋষিবালক সরল-নিষ্পাপ-তেজোদীপ্ত সৌন্দর্যের প্রতীক। এই তেজোদীপ্ততার সঞ্চার ঘটুক সবার মনে-এটাই কবির একান্ত কামনা। মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা মূর্তিটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সুকোমল রূপকে আমাদের সামনে উপস্থিত করে। যুগে যুগে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করতে আবির্ভূত হন যুগাবতার। তাই এমন রূপের কল্পনা কবি করেছেন। সেই যুগাবতারের অংশ রূপে গান হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করে মানুষের মানসিকতারা বদল আনবে আর তার শান্তিবৃদ্ধি করবে।
৯. “… অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে”- কবি অস্ত্রকেগানের পায়ে রাখার কথা বলেছেন কেন?
[ অথবা], ‘অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো’ – কবি কোথায় অস্ত্র রাখতে বলেছেন ? তার এ কথা বলার কারণ কী ? [MP – 19]
উত্তর – স্থান: সমাজসচেতন কবি জয় গোস্বামী ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় গানের দুটি পায়ে অস্ত্র রাখতে বলেছেন।
অস্ত্রকে গানের পায়ে রাখার কারণ: কবি চান শান্তিময় পৃথিবী। তাই তিনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সংঘাতে অবতীর্ণ। মানুষের মন থেকে হিংসাকে দূরে সরাতে তিনি বদ্ধপরিকর। কবি চান সমাজ অস্ত্রমুক্ত হোক। তাই তিনি অস্ত্র হাতে তুলতে নিষেধ করছেন। অস্ত্র হাতে তুলে নিলে হিংসাকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়। এটা কবির কাঙ্ক্ষিত নয়। অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানকেই তিনি জয়ী দেখতে চান। তাই কবিতায় ‘অস্ত্র’ শব্দটি ছয়বার ও ‘গান’ শব্দটি সাতবার ব্যবহৃত হয়েছে। আসলে অস্ত্রের কাছে মানবিকতার বিসর্জন নয় বরং মনুষ্যত্বের চরণে অস্ত্রের বিসর্জনই কবির একান্ত কাম্য। এ জন্যই কবি অস্ত্রকে গানের পায়ে রাখার কথা বলেছেন।
Mark – 5
১. “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে”- ‘অস্ত্র’বলতে কী বোঝায় ? অস্ত্র ফেলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে কেন ? অস্ত্র পায়ে রাখার তাৎপর্য কী ? ১+২+২
[ অথবা], ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’কবিতায় কবি অস্ত্র ফেলতে বলেছেন কেন ? অস্ত্র পায়ে রাখার তাৎপর্য কী ?
উত্তর- অস্ত্র কী ?: কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি অস্ত্র বলতে যে বস্তু দিয়ে অন্যকে আঘাত করা হয় অর্থাৎ আয়ুধ বা হাতিয়ারকে বুঝিয়েছেন।
অস্ত্র বর্জনীয় হওয়ার কারণ: অস্ত্র মানুষকে হিংস্র করে তোলে, মানবিক ধর্ম ভুলিয়ে দেয়। অস্ত্র মানুষকে অন্য মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে ও তা বজায় রাখতে শেখায়। এই কারণেই কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার প্রথমাংশে অস্ত্র ফেলার কথা বলেছেন। কবি চেয়েছেন জগৎ অস্ত্রমুক্ত হোক। সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ হলে তবেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, যুদ্ধের পরিবেশও গড়ে উঠবে না। সভ্য মানবসমাজে অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। পৃথিবীতে শান্তির স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কবি অস্ত্র বর্জন করতে বলেছেন। সেই পৃথিবীতে সবাই শান্তিতে নির্ভয়ে বসবাস করতে পারবে।
অস্ত্র পায়ে রাখার তাৎপর্য: তুচ্ছ, গুরুত্বহীন জিনিসকেই মানুষ তাচ্ছিল্যে অবহেলায় নীচে ফেলে। অস্ত্রকেও সেইরকম গুরুত্বহীন ভেবে অবহেলায় ও ঘৃণায় পায়ের নীচে রাখতে বা ফেলতে বলেছেন কবি। নিজের বিবেকবোধের চরণে, মানবতার চরণে উদ্ধত উদ্যত অস্ত্রকে সমর্পণ করে দিতে বলেছেন, কবি। মানুষের পবিত্র হাত অস্ত্রের দ্বারা অন্যের রক্তপাতে অশুচি হোক এমনটা চান না কবি।
Click Here – আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
২. “গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে”- কে, কেন গানের বর্ম গায়ে পরেছেন ? ১+৪
উত্তর – গানের বর্ম পরিধানকারী ব্যক্তি: কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় স্বয়ং গানের বর্ম গায়ে পরেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
গানের বর্ম পরিধানের কারণ: কবি জয় গোস্বামী অস্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্রহীন বিপ্লব ঘোষণা করেছেন। তাই তিনি সৃজনশীলতার প্রতীক গানের বর্ম পরিধান করেছেন-ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি সৃষ্টিকেই অবলম্বন করেছেন। গানের জাদুমন্ত্রে তিনি সঞ্জীবিত করেছেন হাজার হাজার মানুষকে। তাদের এই শুভ কর্মপথে তিনি পাশেও পেয়েছেন। মুষ্টিমেয় যুদ্ধবাজ মানুষদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার শান্তিকামী মানুষদের পেয়ে তিনি অর্জন করেছেন অসীম সাহস আর মনোবল। এই গানকে আশ্রয় করেই তাই তিনি নির্ভয়ে মারণাস্ত্রের সামনে দাঁড়াতে পারেন। যুদ্ধের বিরুদ্ধে, অস্ত্রের মুখোমুখি নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে তিনি ‘হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ান’। কবি তাই নান্দনিক প্রতিরোধেই জোর দিয়েছেন। গান তথা নান্দনিক সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবাজ, স্বার্থান্বেষী, লোভী, হিংস্র মানুষদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের মধ্যে শুভবোধের জাগরণ ঘটাতে চান। শিল্পী-সাহিত্যিকদের সচেতন কর্তব্য সাধনে তিনি ব্রতী হয়েছেন। সুতরাং অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানই তাঁর হাতিয়ার, আবার গানই তাঁর অভেদ বর্ম। বিশ্বজুড়ে হিংসার হানাহানি আর যুদ্ধবাজদের রক্তচক্ষুকে প্রশমিত করতে, মানবতার শক্তির কাছে তাদের নতজানু করতে কবি খড়কুটোর মতো শেষ অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরেছেন গানকে। এই গানের মাধ্যমে বারুদের গন্ধময় ভারী বাতাসকে সরিয়ে মানুষের বাঁচার মতো সুস্থ পরিমণ্ডল সৃষ্টিতে তিনি বদ্ধপরিকর।
৩. “রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে”- উৎস ও প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর – উৎস: উদ্ধৃতাংশটি কবি জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতা থেকে গৃহীত।
প্রসঙ্গ: অস্ত্রের ঝনঝনানি যুগ যুগ ধরে মানুষের মনুষ্যত্বকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। অস্ত্র তাই ধ্বংসের সহায়ক, হিংসা-লোভ-মৃত্যুর প্রতীক। মানবতার পরিবর্তে পাশবিকতার প্রতিষ্ঠা ঘটে অস্ত্রের মাধ্যমে। অস্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে দাঁড়ালে রক্তস্নান অবশ্যম্ভাবী। তাই মানুষের মনের এই পশুশক্তিকে, তার রিপুকে দমন করতে কবি গানের আশ্রয় নিয়েছেন। ‘The Pen is mightier than the sword’- ‘অসির চেয়ে মসী বড়ো’-তাই সৃজনশীলতা, শিল্পসৃষ্টিকে কবি ব্যবহার করেছেন যুদ্ধবাজ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে। মানুষের অন্তর থেকে ‘বিদ্বেষবিষ নাশ’ করতে অস্ত্র নয় গানই সহায়ক।
তাৎপর্য: কবি অত্যন্ত সচেতনভাবে সারা বিশ্বে অস্ত্রের আঘাতে ঘটে যাওয়া রক্তপাত, প্রাণহানি, ক্ষয়, অপচয়কে গানের বিশুদ্ধতা দিয়ে শোধন করতে চান। গান দিয়েই মুছে দিতে চান মানুষের মনের কালিমা। যেখানে সব কথা শেষ হয়ে যায় সেখানে গানের কথা শুরু হয়, আর গান তখন যেন মর্মে বাজে। মানুষেরও মানসিকতার পরিবর্তন হয়, তার চিত্তশুদ্ধি ঘটে। তাই গানের মাধ্যমেই মানুষের আত্মজাগরণের মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায়গুলি মুছে ফেলতে চান কবি।
৪. “মাথায় কত শকুন বা চিল/আমার শুধু একটা কোকিল”- কবি ‘শকুন’বা ‘চিল’বলতে কাদের বুঝিয়েছেন ? কোকিলের উল্লেখ কবি কেন করেছেন ? ২+৩
উত্তর – ‘শকুন’ বা ‘চিল’: ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি জয় গোস্বামী ‘শকুন’ বা ‘চিল’ বলতে লোভী, সুযোগসন্ধানী, যুদ্ধবাজ মানুষদের বুঝিয়েছেন। শকুন ও চিল অনেক উঁচু দিয়ে উড়তে পারে। তবে আকাশে অনেক উঁচুতে উঠলেও এদের নজর থাকে ভাগাড়ের দিকে। ঠিক সেরকমই প্রতিপত্তি, ক্ষমতা থাকলেও রুচি, নজর যে সর্বদা উঁচুতে থাকবে এমন নয়। যার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি যত বেশি, তাদের লালসার পরিমাণও ততই মাত্রাধিক। তাই কবি সমাজের হিংস্র, লোভী, গৃধু মানুষদের প্রতীকায়িত করেছেন ‘শকুন’, ‘চিল’ শব্দ দুটি প্রয়োগের মাধ্যমে।
কোকিলের প্রসঙ্গ: কবি-কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধমুক্ত শান্তিময় বাতাবরণ প্রতিষ্ঠায় কোকিল প্রসঙ্গ এসেছে। হিংসাকে জয় করতে পারে মানবিকতার গান যা হৃদয় থেকে স্বতোৎসারিত। কোকিল বসন্তের দূত, তারুণ্য ও মাধুর্যের প্রতীক। কবির হৃদয় যেন তাই কোকিল হয়ে গান গেয়ে যুদ্ধের শৈত্য আবহকে দূরীভূত করতে চায়। শান্তির বসন্ত নিয়ে এসে বিশ্বকে কুসুমিত মনোহরা করতে কার্যকরী হয়। কোকিলের কণ্ঠে যেমন এক সম্মোহনী জাদুমন্ত্র রয়েছে, শান্তির স্পর্শ রয়েছে, তেমনি মানবতার গানে রয়েছে হিংসা জয়কারী অমোঘ মন্ত্র যা মানুষের চিত্তশুদ্ধি ঘটায়। তাই সংখ্যায় সীমিত হলেও তা অসীম ক্ষমতায় পরিপূর্ণ। একটা ‘কোকিল’-এর মতো মানুষ সমাজে থাকলে ‘শকুন বা চিল’ সমাজকে বিপর্যস্ত করতে পারবে না।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর
৫. “বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে”- ‘আদুড়’শব্দটির অর্থ কী ? কে বর্ম পরে আছে ? কবি তাকে বর্ম খুলে আদুড় গায়ে দেখতে বলেছেন কেন ? ১+১+৩
উত্তর – আদুড়: ‘আদুড়’ শব্দের অর্থ অনাবৃত। দেশজ উচ্চারণে একে ‘আদুল’ও বলা হয়ে থাকে।
বর্ম পরিধান: ‘বর্ম’ শব্দের অর্থ অস্ত্ররোধক বা তনুত্রাণ। অস্ত্রের আঘাত থেকে দেহকে রক্ষা করতেই বর্ম পরিধান করেন যোদ্ধারা। তবে এখানে যুদ্ধবাজ সাধারণ মানুষের বর্ম পরে থাকার কথা বলা হয়েছে।
বর্ম ত্যাগ করতে বলার কারণ: কবি জয় গোস্বামী বর্ম ত্যাগ করতে বলেছেন, কারণ এখানে বর্ম মোহ-আবরণের প্রতীক, অহংবোধের প্রতীক। নিজের যাবতীয় ‘অহংবোধ’ বা ‘আমিত্ব’ ঘুচিয়েই সহজে সকলের সঙ্গে মিশে যাওয়া সম্ভব। যুদ্ধের বাতাবরণ না থাকলে অথবা মানুষের মনের কালিমাকে মানবতার গানের মাধ্যমে মুছে দিতে পারলেই খোলা মনে জীবন কাটানো সম্ভব হবে। তখন আর বর্মের প্রয়োজন হবে না। সৃষ্টিশীল মানুষ মাত্রেই আশাবাদী। কবিও তার ব্যতিক্রম নন। মানুষ হিংসা, অহংবোধ, স্বার্থান্বেষিতার বর্ম ধারণ করে এই সুন্দর পৃথিবীর রূপ-রং-রসের আস্বাদন থেকে বঞ্চিত হয়। তাই কবি বর্ম খুলতে বলেছেন।
৬. “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে…” -উদ্ধৃতাংশটির মধ্য দিয়ে কবির মানসিকতা ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর – উৎস: উদ্ধৃতাংশটি শিল্পসচেতন ও সমাজমনস্ক কবি জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতা থেকে গৃহীত।
প্রথম চরণের অনুরণন: কবিতাটির মূল সুর যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ। অস্ত্র পরিহার বা বর্জনের আহ্বান কবি জানিয়েছেন বারংবার। গানের ভুয়োর মতো কবিতার বেশ কয়েকটি পঙ্ক্তিতে তা ফিরে ফিরে এসেছে। আলোচ্য অংশটি কবিতার শেষতম পঙ্ক্তি। সমগ্র কবিতার মূল সুরের সঙ্গে পঙ্ক্তিটি অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানকেই কবি জয়যুক্ত দেখতে চান। গানের শক্তি, মানবতার শক্তি, মূল্যবোধের শক্তি হিংসা, অশান্তি ও অমানবিকতাকে পরাজিত করবেই। কবিতায় হয়তো সচেতনভাবেই কবি ‘গান’ শব্দটি (সাতবার) ‘অস্ত্র’ শব্দটির (ছয়বার) থেকে বেশিবার ব্যবহার করেছেন।
কবির বক্তব্য ও মনোভাব: পৃথিবীর যুদ্ধবাজ দেশগুলির নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে কবি মানুষকে একত্রিত করেছেন গানের ভাষায়-মানবিকতার বাণীতে। গানের বর্ম পরে তিনি অস্ত্রের সম্মুখে দাঁড়িয়েছেন, নির্ভয়ে হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়িয়েছেন। তিনি জানেন এ পৃথিবীকে যুদ্ধমুক্ত করতে হলে, শান্তির পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অস্ত্র বিসর্জন দিতে হবে। মানবিকতার মন্ত্রে, গানের সুরে মানুষের চিত্তশুদ্ধির মাধ্যমে অস্ত্রকে ভোঁতা বা নিষ্ফলা করে তুলতে হবে। মানবতার চরণে অস্ত্রের সমর্পণই কাম্য, মনুষ্যত্বের সমর্পণ নয়। যুদ্ধমুক্ত শান্তিময় পৃথিবীতে কাব্য-গীত-সৌন্দর্যের স্বর্গরাজ্যের প্রতিষ্ঠা কবির স্বপ্ন-বাসনা।
৭. কবি জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’কবিতায় যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের যে প্রকাশ ঘটেছে, তা নিজের ভাষায় বিবৃতকরো। [ অথবা], ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো। [MP’19]
উত্তর – অস্ত্রের ধ্বংসকারী ক্ষমতা: সমাজসচেতন ও কঠোর যুক্তিনিষ্ঠ কবি জয় গোস্বামী ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গানকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। গানের বর্ম পরেই তিনি বুলেটকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন। দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধে মানুষ অস্ত্রের ধ্বংসকারী ক্ষমতাকে প্রত্যক্ষ করেছে। তবু অস্ত্র প্রতিযোগিতা তাদের থামেনি। বন্ধ হয়নি আগ্রাসন, আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষও পুরোদমে চলেছে। অস্ত্র মানুষের মান ও হুঁশ ঘুচিয়ে তাকে পশুতুল্য করে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কবির যুদ্ধবিরোধী মনোভাব : অস্ত্র মানুষকে যুদ্ধে প্রবৃত্ত করে। কারণ অস্ত্রের দম্ভেই মানুষ অন্যের প্রতি আগ্রাসী হয় বা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। তাই কবি জয় গোস্বামীর আবেদন- “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে” ।
গানের ভূমিকা: অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান হতে পারে সেরা অস্ত্র। কবি তাই গানের মাধ্যমে যুদ্ধবাজদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে চান। মানবতার গান ঋষিবালকের মতো নিষ্পাপ কিন্তু তেজোদীপ্ত।
শেষ কথা: কবি জয় গোস্বামী দেশ-কাল-ভাষার বাধা পেরিয়ে সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে একত্রিত করে অস্ত্রের বিরুদ্ধে মজবুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আলোচ্য কবিতার ছত্রে ছত্রে এই যুদ্ধবিরোধী মনোভাবই প্রকাশিত।