ভারতের জলসম্পদ প্রশ্ন উত্তর // দশম শ্রেণী ভূগোল // Class 10 Geography Chapter 5 Question Answer // WBBSE
ভারতের জলসম্পদ প্রশ্ন উত্তর
ভারত ( প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ )
Class 10 Geography Chapter 5 Question Answer
MCQ প্রশ্ন উত্তর
১. গঙ্গানদীর উৎস হল – [ ME-2019 ]
(ক) যমুনোত্রী হিমবাহ
(খ) জেমু হিমবাহ
(গ) সিয়াচেন হিমবাহ
(ঘ) গঙ্গোত্রী হিমবাহ
উত্তর – (ঘ) গঙ্গোত্রী হিমবাহ
২. গঙ্গানদীর মোট দৈর্ঘ্য হল –
(ক) 7,600 কিমি
(খ) 6,500 কিমি
(গ) 4,500 কিমি
(ঘ) 2,525 কিমি
উত্তর – (ঘ) 2,525 কিমি
৩. ভারতের সর্বাধিক জলবহনকারী নদী –
(ক) গঙ্গা
(খ) সিন্ধু
(গ) ব্রহ্মপুত্র
(ঘ) নর্মদা
উত্তর – (ক) গঙ্গা
৪. গঙ্গার ডানতীরের একটি উপনদী হল –
(ক) গোমতী
(খ) ঘর্ঘরা
(গ) গণ্ডক
(ঘ) যমুনা
উত্তর – (ঘ) যমুনা
৫. গঙ্গানদীর সঙ্গে যমুনা নদীর সঙ্গম নিম্নলিখিত যে স্থানে অবস্থিত – [ ME-2023 ]
(ক) কানপুর
(খ) এলাহাবাদ
(গ) দেবপ্রয়াগ
(ঘ) বারাণসী
উত্তর – (খ) এলাহাবাদ
৬. অলকানন্দা ও মন্দাকিনী পরস্পর মিলিত হয়েছে –
(ক) রুদ্রপ্রয়াগে
(খ) দেবপ্রয়াগে
(গ) হরিদ্বারে
(ঘ) নৈনিতালে
উত্তর – (ক) রুদ্রপ্রয়াগে
৭. সিন্ধুনদের উৎপত্তি স্থল –
(ক) গঙ্গোত্রী
(খ) সিন-কা-বাব
(গ) চেমায়ুং-দুং-হিমবাহ
(ঘ) অমরকণ্টক
উত্তর – (খ) সিন-কা-বাব
৮. চেমায়ুং দুং হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে –
(ক) ব্রহ্মপুত্র
(খ) সিন্ধু
(গ) গঙ্গা
(ঘ) দামোদর
উত্তর – (ক) ব্রহ্মপুত্র
৯. তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদ কী নামে পরিচিত ?
(ক) ডিহং
(খ) দিবং
(গ) লোহিত
(ঘ) সাংপো
উত্তর – (ঘ) সাংপো
১০. মাজুলি নদীদ্বীপটি ভারতের যে রাজ্যে অবস্থিত –
(ক) অসম
(খ) কেরল
(গ) মেঘালয়
(ঘ) পশ্চিমবঙ্গ
উত্তর – (ক) অসম
১১. ব্রহ্মপুত্র অসমে প্রবেশ করেছে –
(ক) সাদিয়ার কাছে
(খ) ধুলিয়ানের কাছে
(গ) ধুবড়ির কাছে
(ঘ) গোয়ালন্দের কাছে
উত্তর – (ক) সাদিয়ার কাছে
১২. সুবনসিরি, ধানসিরি যে ভারতীয় নদীর উপনদী, তা হল –
(ক) কৃষ্ণা
(খ) কাবেরী
(গ) ব্রহ্মপুত্র
(ঘ) গোদাবরী
উত্তর – (গ) ব্রহ্মপুত্র
১৩. উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যবর্তী জলবিভাজিকাটি হল –
(ক) বিন্ধ্য পর্বত
(খ) সাতপুরা পর্বত
(গ) নাঙ্গা পর্বত
(ঘ) ধূপগড় পর্বত
উত্তর – (ক) বিন্ধ্য পর্বত
১৪. শতদ্রু ও বিপাশা নদীর মধ্যবর্তী দোয়াব হল –
(ক) বারি দোয়াব
(খ) চেজ দোয়াব
(গ) বিস্ত-জলন্ধর দোয়াব
(ঘ) রেচনা দোয়াব
উত্তর – (গ) বিস্ত-জলন্ধর দোয়াব
১৫. ইরাবতী ও চন্দ্রভাগা নদীর মধ্যবর্তী দোয়াব কী নামে পরিচিত ?
(ক) বারি দোয়াব
(খ) বিস্ত-জলন্ধর দোয়াব
(গ) রেচনা দোয়াব
(ঘ) চাজ দোয়াব
উত্তর – (গ) রেচনা দোয়াব
১৬. নর্মদার উৎসস্থল হল –
(ক) মহাদেব পর্বত
(খ) পশ্চিমঘাট পর্বত
(গ) অমরকণ্টক শৃঙ্গ
(ঘ) ত্রিম্বক উচ্চভূমি
উত্তর – (গ) অমরকণ্টক শৃঙ্গ
১৭. নীচের কোন নদীর মোহানায় বদ্বীপ নেই ?
(ক) মহানদী
(খ) গোদাবরী
(গ) নর্মদা
(ঘ) কৃষ্ণা
উত্তর – (গ) নর্মদা
১৮. বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে –
(ক) তাপ্তী
(খ) নর্মদা
(গ) মাহী
(ঘ) সরাবতী
উত্তর – (খ) নর্মদা
১৯. ধুঁয়াধার জলপ্রপাতটি রয়েছে যে নদীতে, সেটি হল –
(ক) মহানদী
(খ) গোদাবরী
(গ) নর্মদা
(ঘ) তাপ্তী
উত্তর – (গ) নর্মদা
২০. সর্দার সরোবর প্রকল্প যে নদীর ওপর অবস্থিত, তা হল –
(ক) নর্মদা
(খ) কৃষ্ণা
(গ) গোদাবরী
(ঘ) কাবেরী
উত্তর – (ক) নর্মদা
২১. হিরাকুঁদ নদী পরিকল্পনা যে নদীর ওপর অবস্থিত তা হল –
(ক) গোদাবরী
(খ) কৃষ্ণা
(গ) কাবেরী
(ঘ) মহানদী
উত্তর – (ঘ) মহানদী
২২. ‘দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা’ বলা হয় যে নদীকে –
(ক) কৃষ্ণা
(খ) গোদাবরী
(গ) কাবেরী
(ঘ) মহানদী
উত্তর – (খ) গোদাবরী
২৩. ইন্দ্রাবতী হল যে নদীর উপনদী –
(ক) গঙ্গা
(খ) ব্রহ্মপুত্র
(গ) কাবেরী
(ঘ) গোদাবরী
উত্তর – (ঘ) গোদাবরী
২৪. গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদীর বদ্বীপের মাঝে অবস্থিত হ্রদের নাম হল – [ ME-2020 ]
(ক) পুলিকট
(খ) চিলকা
(গ) ভেম্বানাদ
(ঘ) কোলেরু
উত্তর – (ঘ) কোলেরু
২৫. নাগার্জুন সাগর জলাশয়টি নির্মিত হয়েছে –
(ক) গোদাবরী নদীতে
(খ) যমুনা নদীতে
(গ) গঙ্গানদীতে
(ঘ) কৃষ্ণা নদীতে
উত্তর – (ঘ) কৃষ্ণা নদীতে
২৬. শিবসমুদ্রম জলপ্রপাতটি রয়েছে –
(ক) কাবেরী নদীর ওপর
(খ) গোদাবরী নদীর ওপর
(গ) সিন্ধু নদীর ওপর
(ঘ) নর্মদা নদীর ওপর
উত্তর – (ক) কাবেরী নদীর ওপর
২৭. দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী –
(ক) পূর্ববাহিনী
(খ) পশ্চিমবাহিনী
(গ) দক্ষিণবাহিনী
(ঘ) উত্তরবাহিনী
উত্তর – (ক) পূর্ববাহিনী
২৮. পশ্চিম ভারতের একটি দক্ষিণ অভিমুখী নদী হল –
(ক) তাপ্তী
(খ) মহানদী
(গ) সবরমতী
(ঘ) নর্মদা
উত্তর – (গ) সবরমতী
২৯. ভারতের একটি অন্তর্বাহিনী নদী হল –
(ক) কাবেরী
(খ) গোদাবরী
(গ) ব্রহ্মপুত্র
(ঘ) লুনি
উত্তর – (ঘ) লুনি
৩০. হুডু জলপ্রপাতটি যে নদীর ওপর অবস্থিত –
(ক) সুবর্ণরেখা
(খ) সরাবতী
(গ) দামোদর
(ঘ) কাবেরী
উত্তর – (ক) সুবর্ণরেখা
৩১. এশিয়ার বৃহত্তম উপহ্রদ হল –
(ক) কোলেরু
(খ) পুলিকট
(গ) ভেম্বানাদ
(ঘ) চিল্কা
উত্তর – (ঘ) চিল্কা
৩২. সম্বর হ্রদ অবস্থিত –
(ক) রাজস্থানে
(খ) মহারাষ্ট্রে
(গ) কেরলে
(ঘ) হরিয়ানাতে
উত্তর – (ক) রাজস্থানে
৩৩. ভারতের উচ্চতম লবণাক্ত হ্রদের নাম –
(ক) পুলিকট
(খ) ডাল
(গ) উলার
(ঘ) প্যাংগং
উত্তর – (ঘ) প্যাংগং
৩৪. একটি হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ হল –
(ক) সম্বর
(খ) পুষ্কর
(গ) পচপদ্র
(ঘ) সথপন্থ
উত্তর – (ঘ) সথপন্থ
৩৫. ভারতের একটি লবণাক্ত হ্রদের উদাহরণ হল – [ ME-2018 ]
(ক) প্যাংগং হ্রদ
(খ) ভীমতাল
(গ) ডাল হ্রদ
(ঘ) লোকটাক হ্রদ
উত্তর – (ক) প্যাংগং হ্রদ
৩৬. ভারতের উপকূলীয় হ্রদগুলির মধ্যে একটি মিষ্টি জলের হ্রদ হল –
(ক) কোলেরু
(খ) চিল্কা
(গ) পুলিকট
(ঘ) অষ্টমুদি
উত্তর – (ক) কোলেরু
৩৭. ভারতের বৃহত্তম লেগুন হল –
(ক) কোলেরু
(খ) সম্বর
(গ) পুলিকট
(ঘ) চিল্কা
উত্তর – (ঘ) চিল্কা
৩৮. কয়ালের অবস্থান রয়েছে –
(ক) করমণ্ডল উপকূলে
(খ) মালাবার উপকূলে
(গ) কোঙ্কন উপকূলে
(ঘ) উত্তর সরকার উপকূলে
উত্তর – (খ) মালাবার উপকূলে
৩৯. ভারতের বৃহত্তম কয়াল হল –
(ক) ভেম্বানাদ
(খ) অষ্টমুদি
(গ) চিল্কা
(ঘ) কোলেরু
উত্তর – (ক) ভেম্বানাদ
৪০. খাল দ্বারা জলসেচে প্রথম রাজ্যটি হল –
(ক) উত্তরপ্রদেশ
(খ) বিহার
(গ) পশ্চিমবঙ্গ
(ঘ) পাঞ্জাব
উত্তর – (ক) উত্তরপ্রদেশ
৪১. পেরিয়ার সেচখাল অবস্থিত –
(ক) কেরলে
(খ) তামিলনাডুতে
(গ) অন্ধ্রপ্রদেশে
(ঘ) কর্ণাটকে
উত্তর – (ক) কেরলে
৪২. রাজস্থানের উল্লেখযোগ্য সেচখাল হল –
(ক) বেতোয়া খাল
(খ) ইন্দিরা খাল
(গ) জওহর খাল
(ঘ) গোবিন্দ খাল
উত্তর – (খ) ইন্দিরা খাল
৪৩. বিহার রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য খাল হল –
(ক) তিলপাড়া
(খ) শোন
(গ) ভাকরা
(ঘ) নাঙ্গাল
উত্তর – (খ) শোন
৪৪. ভাকরা নাঙ্গাল খালটি নির্মিত হয়েছে –
(ক) সিন্ধু নদীর ওপর
(খ) শতদ্রু নদীর ওপর
(গ) চন্দ্রভাগা নদীর ওপর
(ঘ) বিপাশা নদীর ওপর
উত্তর – (খ) শতদ্রু নদীর ওপর
৪৫. ভারতে খাল দ্বারা জলসেচ সবচেয়ে বেশি হয় –
(ক) উত্তর ভারতে
(খ) মধ্য ভারতে
(গ) দক্ষিণ ভারতে
(ঘ) পূর্ব ভারতে
উত্তর – (গ) দক্ষিণ ভারতে
৪৬. ভারতের সর্বাধিক জলসেচ করা হয় যে পদ্ধতিতে, সেটি হল – [ ME-2020; পর্ষদ নমুনা প্রশ্ন ]
(ক) কূপ ও নলকূপ
(খ) খাল
(গ) জলাশয়
(ঘ) ফোয়ারা
উত্তর – (ক) কূপ ও নলকূপ
৪৭. নীচের কোনটি বহুমুখী নদী পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য নয় ?
(ক) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন
(খ) সেচ
(গ) জলদূষণ নিয়ন্ত্রণ
(ঘ) বন্যা নিয়ন্ত্রণ
উত্তর – (গ) জলদূষণ নিয়ন্ত্রণ
48. সবরমতী নদীর তীরে অবস্থিত শহরটি হল –
(ক) সুরাট
(খ) পোরবন্দর
(গ) গান্ধিনগর
(ঘ) আহমেদাবাদ
উত্তর – (ঘ) আহমেদাবাদ
৪৯. দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা গঠিত হয় –
(ক) 1948 খ্রিস্টাব্দে
(খ) 1985 খ্রিস্টাব্দে
(গ) 1943 খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) 1934 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (ক) 1948 খ্রিস্টাব্দে
৫০. দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনার অন্তর্গত মোট ক-টি বাঁধ আছে ?
(ক) 4টি
(খ) 5টি
(গ) 6টি
(ঘ) 3টি
উত্তর – (ক) 4টি
৫১. পাঞ্চেত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে –
(ক) গঙ্গানদীতে
(খ) গোদাবরী নদীতে
(গ) সুবর্ণরেখা নদীতে
(ঘ) দামোদর নদীতে
উত্তর – (ঘ) দামোদর নদীতে
৫২. মাইথন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে –
(ক) দামোদর নদে
(খ) বরাকর নদীতে
(গ) কোনার নদীতে
(ঘ) কংসাবতী নদীতে
উত্তর – (খ) বরাকর নদীতে
৫৩. ভারতের সর্ববৃহৎ নদী পরিকল্পনাটি হল – [ ME-2022 ]
(ক) হিরাকুঁদ
(খ) ভাকরা-নাঙ্গাল
(গ) নাগার্জুন সাগর
(ঘ) রানাপ্রতাপ সাগর
উত্তর – (খ) ভাকরা-নাঙ্গাল
৫৪. উকাই প্রকল্প অবস্থিত –
(ক) তামিলনাডুতে
(খ) গুজরাটে
(গ) মহারাষ্ট্রতে
(ঘ) মধ্যপ্রদেশে
উত্তর – (খ) গুজরাটে
৫৫. বৃষ্টির জল সংরক্ষণে একটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হল –
(ক) জল ধরো জল ভরো
(খ) জল ভরো জল ধরো
(গ) জল ধরো ও ভরো
(ঘ) জল ভরো ও ধরো
উত্তর – (ক) জল ধরো জল ভরো
SAQ প্রশ্ন উত্তর
১. ভারতের কোন রাজ্যে গঙ্গানদীর নিম্নগতি দেখা যায় ? [ ME-2022 ]
উত্তর – পশ্চিমবঙ্গে
২. গঙ্গার ডানতীরের উপনদীগুলির নাম লেখো ।
উত্তর – যমুনা ও শোন
৩. গঙ্গার বামতীরের দুটি উপনদীর নাম লেখো ।
উত্তর – রামগঙ্গা, গোমতী প্রভৃতি
৪. মেঘনা কোন দুটি নদীর মিলিত প্রবাহ ?
উত্তর – পদ্মা ও যমুনা
৫. গঙ্গানদীর প্রবাহের কোন অংশে সর্বাধিক দূষণ দেখা যায় ? [ ME-2019 ]
উত্তর – নিম্নপ্রবাহে
৬. সিন্ধুনদের দুটি উপনদীর নাম লেখো ।
উত্তর – শতদ্রু ও বিপাশা
৭. ভারতে ব্রহ্মপুত্র নদীর দৈর্ঘ্য কত ?
উত্তর – 885 কিমি
৮. ব্রহ্মপুত্র কোন কোন নদীর মিলিত প্রবাহ ?
উত্তর – ডিহং, ডিবং এবং লোহিত
৯. ভারতের একটি অন্তঃসলিলা নদীর উদাহরণ দাও ।
উত্তর – ফল্গু
১০. মহাত্মা গান্ধি জলপ্রপাতটি কোন নদীর ওপর অবস্থিত ?
উত্তর – সরাবতী নদী
১১. দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদীর নাম কী ? [ ME-2018 ]
উত্তর – গোদাবরী
১২. গোদাবরী নদী কোথায় উৎপত্তি লাভ করেছে ?
উত্তর – ত্রিম্বক উচ্চভূমি
১৩. শিবসমুদ্রম জলপ্রপাত কোন নদীতে সৃষ্টি হয়েছে ?
উত্তর – কাবেরী নদী
১৪. ভারতের উচ্চতম জলপ্রপাতটির নাম লেখো। [ ME-2020 ]
উত্তর – যোগ ( মতান্তরে কুঞ্চিকল )
১৫. নর্মদা নদীতে সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য জলপ্রপাতটির নাম লেখো। [পর্ষদ নমুনা প্রশ্ন]
উত্তর – ধুঁয়াধার জলপ্রপাত
১৬. ভারতের নায়াগ্রা কাকে বলা হয় ?
উত্তর – চিত্রকূট জলপ্রপাতকে
১৭. লখনউ শহরটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত ?
উত্তর – গোমতী
১৮. প্যাংগং হ্রদ কোন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অন্তর্গত ?
উত্তর – লাদাখ
১৯. পশ্চিম ভারতে অবস্থিত একটি লবণাক্ত জলের হ্রদের নাম লেখো ।
উত্তর – সম্বর
২০. কেরলের উপকূলের উপহ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে ? [ ME-2020 ]
উত্তর – কয়াল
২১. গ্র্যান্ড অ্যানিকট কোন রাজ্যের খাল ?
উত্তর – তামিলনাডু
২২. বাকিংহাম খালটি কোন রাজ্যে অবস্থিত ?
উত্তর – তামিলনাডু
২৩. ভাকরা খালটি কোন রাজ্যে অবস্থিত ?
উত্তর – হিমাচল প্রদেশ
২৪. কোন কোন নদীর সংযোগস্থলে ভারতের দীর্ঘতম ক্যানেল অবস্থিত ?
উত্তর – শতদ্রু ও বিপাশা
২৫. হায়দরাবাদ শহরটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত ?
উত্তর – মুসি
২৬. পৃথিবীর উচ্চতম বাঁধটির নাম লেখো ।
উত্তর – উচ্চ আসোয়ান বাঁধ
২৭. ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ কোন নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে ?
উত্তর – শতদ্রু
২৮. ভারতের দীর্ঘতম নদী বাঁধটির নাম কী ?
উত্তর – হিরাকুঁদ
২৯. ভারতের প্রথম বহুমুখী পরিকল্পনা কোনটি ?
উত্তর – দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা ( DVC )
৩০. ডিভিসি কোন নদী পরিকল্পনা অনুসরণে নির্মিত হয় ?
উত্তর – টেনেসি ( আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র )
৩১. ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের যৌথ বহুমুখী নদী পরিকল্পনার নাম লেখো ।
উত্তর – দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা ( DVC )
৩২. রামগঙ্গা বহুমুখী নদী-পরিকল্পনা কোন রাজ্যে আছে ?
উত্তর – উত্তরপ্রদেশ
৩৩. ভারতের কোন রাজ্য বৃষ্টির জল সংরক্ষণে সর্বাধিক অগ্রণী ? [ ME-2019 ]
উত্তর – তামিলনাডু
৩৪. জলসম্পদ সংরক্ষণের একটি উপায় কী ?
উত্তর – মাটির নীচে জলের ট্যাংক তৈরি
৩৫. উত্তর ভারতের একটি বহুমুখী নদী পরিকল্পনার নাম করো ।
উত্তর – ভাকরা – নাঙ্গাল
শূন্যস্থান পূরণ করো :
১. দেবপ্রয়াগে ভাগীরথী ও ___________ নদীর মিলনে গঙ্গানদীর সৃষ্টিহয়েছে। [ ME-2017 ]
উত্তর – অলকানন্দা
২. অরুণাচল প্রদেশে ব্রহ্মপুত্র ____________ নামে পরিচিত। [ ME-2022 ]
উত্তর – ডিহং
৩. লুনি নদী _____________ হ্রদ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে ।
উত্তর – আনাসাগর
৪. লুনি নদীটি ____________ এ পতিত হয়েছে।
উত্তর – কচ্ছর রান
৫. ভারতের একটি পশ্চিমবাহিনী নদীর নাম ______________ ।
উত্তর – নর্মদা
৬. নর্মদা নদীর মোহানা হল ________________ ।
উত্তর – খাম্বাত উপসাগর
৭. ছত্তিশগড়ের ___________ উচ্চভূমি হল মহানদীর উৎসস্থল ।
উত্তর – সিহাওয়ার
৮. গোদাবরী নদীর দৈর্ঘ্য হল __________ কিমি ।
উত্তর – 1465 কিমি
৯. তুঙ্গভদ্রা হল ____________ নদীর উপনদী ।
উত্তর – কৃষ্ণা
১০. কাবেরী নদীর ওপর বিখ্যাত বাঁধ হল ________________ ।
উত্তর – মেত্তুর
১১. ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের যোগ জলপ্রপাতটি _____________ নদীর ওপর অবস্থিত ।
উত্তর – সরাবতী
১২. সবরমতী নদী ___________ উপসাগরে পড়েছে ।
উত্তর – খাম্বাত
১৩. ভারতের একটি কৃত্রিম হ্রদ হল ______________ ।
উত্তর – ওসমান সাগর
১৪. ______________ হল ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ ।
উত্তর – উলার
১৫. ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ হল ____________ হ্রদ ।
উত্তর – চিল্কা
১৬. মণিপুরের ____________ হ্রদ বিখ্যাত ।
উত্তর – লোকটাক
১৭. ______________হল বর্ষার জলে পুষ্ট নদী থেকে কাটা খাল ।
উত্তর – প্লাবন
১৮. ______________ হল ভারতের দীর্ঘতম সেচখাল ।
উত্তর – ইন্দিরা গান্ধি খাল
১৯. দক্ষিণ ভারতে_____________এর মাধ্যমে জলসেচ বেশি হয়।
উত্তর – প্লাবন খাল
২০. সারদা খাল _____________ রাজ্যে অবস্থিত ।
উত্তর – উত্তরপ্রদেশ
২১. মাইথন জলাধার ____________ নদীর ওপর অবস্থিত ।
উত্তর – বরাকর
২২. তিলাইয়া বাঁধটি ____________ রাজ্যে অবস্থিত ।
উত্তর – ঝাড়খন্ড
শুদ্ধ হলে পাশে ‘শু’ এবং অশুদ্ধ হলে পাশে ‘অ’ লেখো :
১. গঙ্গানদীর প্রধান শাখানদী যমুনা ।
উত্তর – অ
২. ভারতের দীর্ঘতম উপনদী হল যমুনা ।
উত্তর – শু
৩. আগ্রা শহরটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ।
উত্তর – শু
৪. নর্মদা নদী উপত্যকা একটি গ্রস্ত উপত্যকা ।
উত্তর – শু
৫. তাপ্তী নদী গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ।
উত্তর – শু
৬. পবিত্রতার কারণে গোদাবরীকে ‘দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা’ বলে।
উত্তর – অ
৭. দক্ষিণ ভারতের পূর্ববাহিনী নদী হল কৃষ্ণা নদী ।
উত্তর – অ
৮. যোগ জলপ্রপাত কর্ণাটক রাজ্যে অবস্থিত ।
উত্তর – শু
৯. শিবসমুদ্রম জলপ্রপাতটি নর্মদা নদীতে সৃষ্টি হয়েছে ।
উত্তর – অ
১০. লোকটাক ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ। [ ME-2022 ]
উত্তর – অ
১১. করমণ্ডল উপকূলের উপহ্রদকে কয়াল বলে ।
উত্তর – অ
১২. ভারতের একটি হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ হল পুষ্কর ।
উত্তর – অ
১৩. কুমায়ন হিমালয়ের একটি হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ হল রূপকুণ্ড, যেটি হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত ।
উত্তর – অ
১৪. হিমাচল হিমালয়ে সৃষ্ট বরফগলা জলের হ্রদকে তাল বলা হয় ।
উত্তর – অ
১৫. উত্তরপ্রদেশে জলাশয় থেকে কৃষিকার্যে সেচের প্রচলন সবথেকে বেশি হয় ।
উত্তর – অ
১৬. ভারতে 23% কৃষিজমিতে খালের মাধ্যমে জলসেচ করা হয় ।
উত্তর – শু
১৭. ইন্দিরা গান্ধি খাল রাজস্থানে অবস্থিত ।
উত্তর – শু
১৮. ক্যারেজ প্রথা পার্বত্য অঞ্চলে লক্ষ করা যায় ।
উত্তর – অ
১৯. দক্ষিণ ভারতের তুলনায় উত্তর ভারতে নিত্যবহ খালের সংখ্যা বেশি ।
উত্তর – শু
২০. মাইথন বাঁধ দামোদর নদে অবস্থিত ।
উত্তর – অ
২১. পাঞ্চেত বাঁধ ময়ূরাক্ষী প্রকল্পের আওতায় পড়ে ।
উত্তর – অ
২২. উকাই ড্যাম তাপ্তী নদীতে অবস্থিত ।
উত্তর – শু
২৩. নাগার্জুন সাগর পরিকল্পনা কাবেরী নদীতে অবস্থিত ।
উত্তর – অ
২৪. ছোটোনাগপুর মালভূমির খামারপাত পাহাড় থেকে দামোদর নদ উৎপত্তি লাভ করেছে ।
উত্তর – শু
২৫. ভারতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণে অগ্রণী রাজ্য হল কেরল। [ ME-2023 ]
উত্তর– অ
Mark – 2 প্রশ্ন উত্তর
১. অন্তর্বাহিনী নদী বলতে কী বোঝায় ?[ অথবা], অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে ?
উত্তর – অন্তর্বাহিনী নদী: যে-সমস্ত নদীর প্রবাহপথ কোনো দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে অর্থাৎ, যেসব নদী কোনো দেশের মধ্যেকার উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে ওই দেশেরই কোনো হ্রদ, সাগর বা জলভাগে পতিত হয়, তাদের অন্তর্বাহিনী নদী বলে। যেমন-ভারতের ক্ষেত্রে লুনি, মেধা, রূপনগর প্রভৃতি অন্তর্বাহিনী নদীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
২. ভারতের দুটি জলবিভাজিকা অঞ্চলের নাম লেখো। [ ME-2019 ]
উত্তর – জলবিভাজিকা অঞ্চল : ভারতের দুটি জলবিভাজিকা অঞ্চলের নাম হল – বিন্ধ্য পর্বত, হিমালয় পর্বত ।
৩. জলবিভাজিকা উন্নয়ন কী ?
উত্তর – জলবিভাজিকা উন্নয়ন: যে বিজ্ঞানসম্মত উন্নয়নের মাধ্যমে জলবিভাজিকা দ্বারা পৃথকীকৃত নদীর ধারণ অববাহিকার প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ঘটানো হয়, তাকে জলবিভাজিকা উন্নয়ন বলে। বৃক্ষরোপণ, ধাপচাষ, বাঁধ ও জলাধার নির্মাণ এবং সংস্কার প্রভৃতি – ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবিভাজিকা উন্নয়ন ঘটানো হয়।
৪. দক্ষিণ ভারতেরঅধিকাংশ নদীপূর্ব বাহিনী হলেওনর্মদাও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী হওয়ার কারণ লেখো। [ অথবা], নর্মদা ও তাপ্তী পশ্চিমবাহিনী কেন ?
উত্তর – নর্মদা ও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী হওয়ার কারণ: টার্সিয়ারি যুগে হিমালয়ের উত্থানের সময় উপদ্বীপীয় মালভূমি অংশটি আরবীয় পাতের চাপে পূর্বদিকে হেলে অবস্থান করে। অর্থাৎ, উপদ্বীপীয় মালভূমির সামগ্রিক ঢাল হয় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে। ফলে এখানকার বেশিরভাগ নদীই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের মাঝবরাবর সৃষ্ট পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশে গ্রস্ত উপত্যকার অবস্থান লক্ষ করা যায়। যেমন বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মধ্যবর্তী অংশের গ্রস্ত উপত্যকা এবং সাতপুরা ও অজন্তা পর্বতের মধ্যবর্তী অংশের গ্রস্থ উপত্যকা। এদের ঢাল পূর্ব থেকে পশ্চিমে। নর্মদা ও তাপ্তী এই দুটি নদী গ্রস্ত উপত্যকার ঢাল বরাবর পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে। তাই বলা যায় নর্মদা ও তাপ্তী নদী দুটি দাক্ষিণাত্য মালভূমির সামগ্রিক ঢালের বিপরীতে প্রবাহিত হয়েছে, অর্থাৎ পশ্চিমবাহিনী হয়েছে। আলাপ
৫. উপহ্রদ কাকে বলে ?
উত্তর – উপহ্রদ: উপকূল অঞ্চলে তিনদিক স্থলবেষ্টিত ও একদিক সমুদ্রে উন্মুক্ত লবণাক্ত জলাভূমিকে উপহ্রদ বা লেগুন বলে। যেমন-ওড়িশার উত্তর সরকার উপকূলে চিল্কা ভারত তথা এশিয়ার বৃহত্তম উপহ্রদ।
বৈশিষ্ট্যসমূহ: উপহ্রদের বৈশিষ্ট্যগুলি হল – (ক) ভূ-আলোড়ন ও সামুদ্রিক সঞ্চয়কার্যের দ্বারা উপহ্রদ গঠিত হয়। (খ) উপহ্রদগুলি উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে সংকীর্ণ অংশের মাধ্যমে যুক্ত । (গ) সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থানের কারণে উপহ্রদের জল লবণাক্ত হয় ।
৬. কয়াল বলতে কী বোঝো ?
উত্তর – কয়াল: ভূ-আলোড়নের সময় ভূমিরূপের উত্থান ও নিমজ্জনের ফলে মালাবার উপকূল বরাবর সৃষ্ট স্থলবেষ্টিত আবদ্ধ জলাভূমিগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কয়াল বলে। যেমন-ভেম্বানাদ (বৃহত্তম), পরাভুর, অষ্টমুদি প্রভৃতি।
বৈশিষ্ট্যসমূহ : কয়ালের বৈশিষ্ট্যগুলি হল – (ক) সমুদ্রের জল থেকে সৃষ্ট হওয়ায় কয়ালের জল লবণাক্ত হয় । (খ) কয়ালগুলি মৎস্য আহরণের উল্লেখযোগ্য স্থান । (গ) পর্যটন কেন্দ্র এবং জলপথ হিসেবে কয়াল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
৭. শুষ্ক অঞ্চলে জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনার দুটি পদ্ধতি লেখো ।
উত্তর – শুষ্ক অঞ্চলে জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনার পদদ্ধতিসমূহ: শুষ্ক অঞ্চলে জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনার দুটি পদ্ধতি হল –
(ক) জলাধার খনন: শুষ্ক অঞ্চলে বর্ষাকালের স্বল্প বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য প্রচুর সংখ্যক জলাধার খনন করে সেগুলির তলদেশ সিমেন্ট দ্বারা ঢালাই করতে হবে।
(খ) শুষ্ক অঞ্চলের ফসল চাষ: যেসব ফসল চাষে কম পরিমাণ জল প্রয়োজন হয় সেই সমস্ত ফসল চাষ বেশি পরিমাণ করতে হবে। যেমন-ভুট্টা, মিলেট প্রভৃতি ।
৮. দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা (DVC) কাকে বলে ?
উত্তর – দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা: 1948 খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি ভ্যালি অথরিটির অনুকরণে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় 24,235 বর্গকিমি স্থানে বিভিন্ন উন্নয়নের উদ্দেশ্যে দামোদর ও তার উপনদীর ওপর যে বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা গড়ে তোলা হয়, তাকে দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা বলে। তিলাইয়া, মাইথন, কোনার, পাঞ্চেত এবং দুর্গাপুর ব্যারেজের মাধ্যমে জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে; যা বন্যার প্রকোপ কমানো, জলসেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রভৃতি উদ্দেশ্যসাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৯. বহুমুখী নদী পরিকল্পনার তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য লেখো। ( মার্ক – ৩)
উত্তর – বহুমুখী নদী পরিকল্পনার উদ্দেশ্যসমূহ: বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা একাধিক জনহিতকর উদ্দেশ্যে বাস্তবায়িত করা হয়। তার মধ্যে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য হল –
(ক) বন্যা নিয়ন্ত্রণ: যেহেতু নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর জল আটকে বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা করা হয়, সেহেতু বর্ষার অতিরিক্ত জল নদীর নিম্নপ্রবাহে দু-কুল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
(খ) জলসেচ: জলাধারে সঞ্চিত জলকে বিভিন্ন খালের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে পাঠানো হয়। এর ফলে নদীর নিম্নপ্রবাহের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষিজমিতে সেই জল শুষ্ক ঋতুতে বা মৌসুমি বৃষ্টির অনিশ্চয়তার সময় সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়।
(গ) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: বাঁধের পশ্চাতে নির্মিত জলাধারের জল ছাড়ার সময় সেই পতিত জলকে টারবাইনের সাহায্যে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় ।
(ঘ) মৃত্তিকা ক্ষয়রোধ: নদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে বাঁধের পরবর্তী অংশে জলের গতিবেগ কমে যায় বলে মৃত্তিকা ক্ষয় কমে যায়।
(ঙ) মৎস্য চাষ: বাঁধের পশ্চাতের জলাধারের জলে মৎস্য চাষ করা হয়।
(চ) নাব্যতা সংরক্ষণ: নদীতে বাঁধ তৈরির ফলে মৃত্তিকা ক্ষয় কম হওয়ায় এবং জলপ্রবাহ সারাবছর বজায় থাকায় নদীর নাব্যতা সংরক্ষিত হয়।
(ছ) পানীয় জল সরবরাহ: জলাধারের জলকে পরিসুত করে আঞ্চলিক পানীয় জলের চাহিদা মেটানো হয়।
১০. বৃষ্টির জল সংরক্ষণের দুটি উদ্দেশ্য কী কী ? [ ME-2018 ]
উত্তর – বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যসমূহ: বৃষ্টির জল সংরক্ষণের দুটি উদ্দেশ্য হল –
(ক) ভৌমজলের সঞ্চয়: ভৌমজল উত্তোলন না করে এবং জোগানের সরবরাহ বজায় রেখে বর্তমানে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মাধ্যমে ভৌমজলের ভান্ডার বৃদ্ধি করা ।
(খ) জলাশয়ের জল সংরক্ষণ: বর্ষাকালে জলাশয় বা পুকুরের জল শুষ্ক ঋতুতে নানান প্রয়োজনে ব্যবহার করা ।
১১. বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বা রেন ওয়াটার হারভেস্টিং কী ?
উত্তর – বৃষ্টির জল সংরক্ষণ: বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন উপায়ে সংগ্রহ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানান কাজে ব্যবহার করাকে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বা রেনওয়াটার হারভেস্টিং বলে। এই সংগৃহীত বৃষ্টির জল পরিস্তুত করে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আবার এই বৃষ্টির জল চুঁইয়ে মাটিতে প্রবেশ করে ভৌমজলের সঞ্চয় বৃদ্ধি করে। যেমন-তামিলনাডুতে এই ধরনের জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা বহুল প্রচলিত।
Mark – 3 প্রশ্ন উত্তর
১. ভারতের পশ্চিমবাহিনী নদী মোহানায় বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি কেন ব্যাখ্যা করো। [ ME-2022 ][ অথবা], ভারতের পশ্চিমবাহিনী নদীগুলির মোহানায়বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি কেন ? [পর্ষদ নমুনা প্রশ্ন] [ অথবা], নর্মদা ও তাপ্তী নদীর মোহানায় বদ্বীপ গড়েওঠেনি কেন ?
উত্তর – দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমবাহিনী নদীর মোহানায় বদ্বীপ গড়ে না ওঠার কারণসমূহ: ভারতের পশ্চিমবাহিনী নদী (নর্মদা ও তাপ্তী)-র মোহানায় বদ্বীপ গড়ে না ওঠার কারণগুলি হল –
(ক) নদীর দৈর্ঘ্য: পশ্চিমবাহিনী নদীগুলির দৈর্ঘ্য ছোটো হওয়ায় বাহিত পলির পরিমাণ কম ।
(খ) খরস্রোতা: নদীগুলির বেশিরভাগই গ্রস্ত উপত্যকা বা সংকীর্ণ খাতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দ্রুতগামী হয়। এর ফলে মোহানায় পলি জমতে পারে না।
(গ) জলধারার পরিমাণ: নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় সারাবছর জলের পরিমাণ এক থাকে না, ফলে পরিবাহিত পলির পরিমাণও ফি কম হয়।
(ঘ) উপনদীর সংখ্যা: উপনদীর সংখ্যা কম হওয়ায় মোট জলধারার পরিমাণ কম হয়, ফলে নদীর বহনক্ষমতাও কম।
(ঙ) গভীর উপকূল: নদীগুলির মোহানার কাছে উপকূলের গভীরতা বেশি হওয়ায় বাহিত পলিসমূহ গভীর সমুদ্রে থিতিয়ে পড়ে।
(চ) কঠিন শিলাস্তর: নদীগুলি কঠিন শিলাস্তরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ক্ষয়কার্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়। ফলে পলির পরিমাণও কমে যায় ।
(ছ) প্রবল বর্ষণ: আগমনশীল মৌসুমি বায়ুর দ্বারা প্রবল বর্ষণে উপকূলভাগ খুবই আন্দোলিত হওয়ায় বদ্বীপ গঠনের পক্ষে অনুকূল হয় না।
২. উত্তর ভারতে খালসেচ ব্যবস্থা অধিক প্রচলিত কেন ?
উত্তর – উত্তর ভারতে খালসেচ ব্যবস্থা অধিক প্রচলিত হওয়ার কারণসমূহ: দক্ষিণ ভারত থেকে উত্তর ভারতে খালসেচ বেশি প্রচলিত হওয়ার কারণগুলি হল –
(ক) চিরপ্রবাহী নদী: উত্তর ভারতের নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট হওয়ায় নদীতে সারাবছরই জলের জোগান থাকে। তাই এই সমস্ত নদীগুলি থেকে কাটা খালের সাহায্যে সারাবছরব্যাপী জলসেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করার সুযোগ থাকে।
(খ) নরম পলিমাটি: উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চল নদীবিধৌত পলি গঠিত হওয়ায় সহজেই খাল খনন করা যায়।
(গ) সমতল ভূপ্রকৃতি: উত্তর ভারতের ভূমিভাগ সমতল প্রকৃতির হওয়ায় অধিক খাল খনন করার সুযোগ থাকে ।
(ঘ) অধিক সংখ্যক বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা: উত্তর ভারতের বহু নদীতে নদী উপত্যকা পরিকল্পনা গড়ে উঠেছে। এর ফলে শুষ্ক ঋতুতে ফসল উৎপাদনের জন্য নদী উপত্যকা পরিকল্পনার পিছনের জলাধারের জল অধিক সংখ্যক খালের মাধ্যমে সেচকার্য সম্পাদন করা হয় ।
৩. দক্ষিণ ভারতে জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচ পদ্ধতি অধিক প্রচলিত কেন ?
উত্তর – দক্ষিণ ভারতে জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচ প্রচলন পদ্ধতির কারণসমূহ: দক্ষিণ ভারতে জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচ পদ্ধতি অধিক প্রচলিত হওয়ার কারণগুলি হল –
(ক) অপ্রবেশ্য শিলা: দক্ষিণ ভারতের মাটি সচ্ছিদ্র না হওয়ার কারণে জলাশয়ের জল ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে না, ফলে জলাশয়ে সারাবছর জল থাকে।
(খ) অনিত্যবহ নদী: নদীগুলি নিত্যবহ না হওয়ায় জলসেচের বিকল্প হিসেবে জলাশয়গুলির গুরুত্ব বেড়েছে।
(গ) খাল খনন ব্যয়সাধ্য: কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হওয়ায় নদী থেকে খাল কেটে এনে কৃষিক্ষেত্রে জলসেচ করা খুব ব্যয়সাধ্য ও কঠিন কাজ।
(ঘ) কূপ ও নলকূপের মাধ্যমে জলসেচে অসুবিধা: দক্ষিণ ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে ভৌমজলের সঞ্চয় কম থাকায় কূপ ও নলকূপের মাধ্যমে জলসেচে অসুবিধা লক্ষ করা যায়। তাই জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচ পদ্ধতি অধিক প্রচলিত।
৪. দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা রূপায়ণের সুফলগুলি লেখো । [ অথবা ], দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা গড়ে তোলার দুটি সুবিধা উল্লেখ করো।
উত্তর – দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনার সুফল : DVC পরিকল্পনা রূপায়ণের ফলাফলগুলি হল –
(ক) বন্যা নিয়ন্ত্রণ: দামোদরকে আগে দুঃখের নদী বলা হত। কিন্তু দামোদর ও তার শাখানদীর ওপর তিলাইয়া, মাইথন, পাঞ্চেত, কোনার বাঁধ নির্মাণের ফলে বন্যার প্রকোপ রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
(খ) জলসেচ: 1955 খ্রিস্টাব্দে দুর্গাপুর সেচবাঁধ (ব্যারেজ) নির্মাণ করা হয়েছে, যার ডানতটে এবং বামতটে দুটি সুদীর্ঘ খাল নির্মাণ করা হয়। এগুলি থেকে আবার বহু শাখা খাল খনন করা হয়েছে। এই সমস্ত খালের সাহায্যে প্রায় 5.15 লক্ষ হেক্টর জমিতে জলসেচ করা সম্ভব হয়েছে।
(গ) বিদ্যুৎ উৎপাদন: দামোদর পরিকল্পনার অধীনে মাইথন, তিলাইয়া, পাঞ্চেতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ একটি বড়ো অংশের চাহিদা মেটায়।
(ঘ) নৌপরিবহণ: দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনায় খননকৃত নানান খালের মাধ্যমে নৌপরিবহণ করা হচ্ছে ।
(ঙ) মৎস্যচাষ: দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনায় নির্মিত বাঁধের পিছনের জলাধারে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্যচাষ করা হচ্ছে।
৫. তামিলনাড়ু রাজ্যে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ সম্পর্কে যা জান লেখো। [ অথবা] , জল সংরক্ষণে তামিলনাড়ু রাজ্যের ভূমিকা লেখো।
উত্তর – তামিলনাড়ু রাজ্যে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ: বৃষ্টির জল সংরক্ষণে তামিলনাড়ু রাজ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজ্যে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ একটি জরুরি ও বাধ্যতামূলক বিষয়।
2001 খ্রিস্টাব্দে তামিলনাডুতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যাপারে যে কাজ শুরু হয়েছিল, আজ তা সারাদেশে একটি Role Model হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। তামিলনাড়ু রাজ্যে বৃষ্টির জল সংরক্ষণে গৃহীত পদক্ষেপগুলি হল –
(ক) তামিলনাডু ডিস্ট্রিক্ট মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট (1920) আইনটি পরিমার্জন করে সমস্ত নতুন পাকাবাড়ির কাঠামোকে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উপযুক্তভাবে তৈরি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
(খ) এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র বাসগৃহের জন্য নয়, বিভিন্ন অফিস বাড়ির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
(গ) এই রাজ্য 243টি জলাশয় পুনরুদ্ধার করে জল সংরক্ষণের জন্য 2013-14 খ্রিস্টাব্দে 561টি প্রকল্পে পলি অপসারণ, বাঁধ দৃঢ় করা, সুইস গেটের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি মোট 22,94,342টি ভবনের ইতিমধ্যেই বৃষ্টি জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয়েছে ।
৬. বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা বলতে কী বোঝো ? [ অথবা], বহুমুখী নদী পরিকল্পনা কাকে বলে ? [ অথবা], টীকা লেখো – বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা।
উত্তর – বহুমুখী নদী পরিকল্পনা: নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন উদ্দেশ্য সাধন যেমন-বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলসেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, মৎস্য চাষ প্রভৃতি এবং নদী অববাহিকার অধিবাসীদের আর্থসামাজিক উন্নতির জন্যে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা বলে। যেমন-দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ভারতের সর্বপ্রথম), ভাকরা-নাঙ্গাল পরিকল্পনা (ভারতের বৃহত্তম), মহানদী উপত্যকা পরিকল্পনা, কংসাবতী প্রকল্প, ময়ূরাক্ষী পরিকল্পনা প্রভৃতি।
আরও পড়ুন –
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রশ্ন উত্তর
বারিমন্ডল অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রশ্ন উত্তর
বায়ুমন্ডল অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর