ইতিহাসের ধারণা: দশম শ্রেণী প্রথম অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর ও সাজেশন 2026 // Class 10 History Chapter 1 Question Answer
Class 10 History Chapter 1 Question Answer
প্রথম অধ্যায় – ইতিহাসের ধারণা
MCQ প্রশ্ন উত্তর
১. ভারতে ‘নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চার জনক’ হলেন –
(ক) রণজিৎ গুহ
(খ) অমলেশ ত্রিপাঠী
(গ) রামচন্দ্র গুহ
(ঘ) সুমিত সরকার
উত্তর – (গ) রামচন্দ্র গুহ
২. ‘ইন্ডিয়া টুডে’ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন –
(ক) রজনীপাম দত্ত
(খ) নরহরি কবিরাজ
(গ) শশীভূষণ রায়চৌধুরী
(ঘ) রণজিৎ গুহ
উত্তর – (ক) রজনীপাম দত্ত
৩. বাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলনের ইতিহাস –
(ক) পরিবেশ ইতিহাসচর্চার বিষয়
(খ) শহরের ইতিহাসচর্চার বিষয়
(গ) সামাজিক ইতিহাসচর্চার বিষয়
(ঘ) সামরিক ইতিহাসচর্চার বিষয়
উত্তর – (গ) সামাজিক ইতিহাসচর্চার বিষয়
৪. প্রথম ক্রিকেট খেলার সূচনা হয় –
(ক) ইংল্যান্ডে
(খ) ফ্রান্সে
(গ) গ্রিসে
(ঘ) পোর্তুগালে
উত্তর – (ক) ইংল্যান্ডে
৫. প্রথম মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হয় –
(ক) ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (ঘ) ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে
৬. ভারতে খেলার ইতিহাস নিয়ে প্রথম গবেষণা করেন –
(ক) সৌমেন মিত্র
(খ) মিহির বোস
(গ) আশিষ নন্দী
(ঘ) রামচন্দ্র গুহ
উত্তর – (ক) সৌমেন মিত্র
৭. ভারতে ফুটবল খেলা প্রবর্তন করেন – [ Madhyamik ’17 ]
(ক) ইংরেজরা
(খ) ওলন্দাজরা
(গ) ফরাসিরা
(ঘ) পোর্তুগিজরা
উত্তর – (ক) ইংরেজরা
৮. মোহনবাগান ক্লাব আই এফ এ শিল্ড জয় করেছিল – [ Madhyamik ’19 ]
(ক) ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (গ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
৯. ভারতীয়রা আলুর ব্যবহার শিখেছিল যাদের কাছ থেকে – [ Madhyamik ’20 ]
(ক) পোর্তুগিজ
(খ) ইংরেজ
(গ) মুঘল
(ঘ) ওলন্দাজ
উত্তর – (ক) পোর্তুগিজ
১০. ভরতনাট্যম ভারতের কোন অঞ্চলের নৃত্যরীতি ?
(ক) দক্ষিণ ভারত
(খ) পূর্ব ভারত
(গ) উত্তর ভারত
(ঘ) পশ্চিম ভারত
উত্তর – (ক) দক্ষিণ ভারত
১১. ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক’বলা হয় –
(ক) দাদাসাহেব ফালকে-কে
(খ) সত্যজিৎ রায়কে
(গ) হীরালাল সেনকে
(ঘ) মৃণাল সেনকে
উত্তর – (গ) হীরালাল সেনকে
১২. দাদাসাহেব ফালকে যুক্ত ছিলেন – [ Madhyamik ’19 ]
(ক) চলচ্চিত্রের সঙ্গে
(খ) ক্রীড়া জগতের সঙ্গে
(গ) স্থানীয় ইতিহাসচর্চার সঙ্গে
(ঘ) পরিবেশের ইতিহাসচর্চার সঙ্গে
উত্তর – (ক) চলচ্চিত্রের সঙ্গে
১৩. ভারতবর্ষের প্রথম সবাক চলচ্চিত্রটির নাম ছিল –
(ক) আলম আরা
(খ) মেলোডি অফ লাভ
(গ) রাজা হরিশচন্দ্র
(ঘ) বিল্বমঙ্গল
উত্তর – (ক) আলম আরা
১৪. সত্যজিৎ রায় যুক্ত ছিলেন – [ Madhyamik ’22 ]
(ক) খেলার ইতিহাসে
(খ) শহরের ইতিহাসে
(গ) নারী ইতিহাসে
(ঘ) শিল্পচর্চার ইতিহাসে
উত্তর – (ঘ) শিল্পচর্চার ইতিহাসে
১৫. রেশম আবিষ্কৃত হয় প্রাচীন – [ Madhyamik ’22 ]
(ক) ভারতে
(খ) রোমে
(গ) পারস্যে
(ঘ) চিনদেশে
উত্তর – (ঘ) চিনদেশে
১৬. ‘ভারতের রেলপথের জনক’ বলা হয় –
(ক) লর্ড ক্যানিংকে
(খ) লর্ড বেন্টিঙ্ককে
(গ) লর্ড ডালহৌসিকে
(ঘ) লর্ড মেয়োকে
উত্তর – (গ) লর্ড ডালহৌসিকে
১৭. কলকাতায় প্রথম ক্যামেরা এসেছিল –
(ক) ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (গ) ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে
১৮. রামকিঙ্কর বেইজ যে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন –
(ক) সাহিত্য
(খ) চিত্রকলা
(গ) চলচ্চিত্র
(ঘ) সংগীতচর্চা
উত্তর – (খ) চিত্রকলা
১৯. ভারতের প্রথম লিখিত ইতিহাস গ্রন্থের নাম হল –
(ক) রাজতরঙ্গিনী
(খ) বেদ
(গ) মহাভারত
(ঘ) রামায়ণ
উত্তর – (ক) রাজতরঙ্গিনী
২০. ‘বাঙ্গালার ইতিহাস’ বইটি রচনা করেন –
(ক) কেদারেশ্বর চক্রবর্তী
(খ) রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
(গ) দীননাথ সেন
(ঘ) প্রণিলাল চক্রবর্তী
উত্তর – (খ) রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
২১. ‘নিষিদ্ধ শহর’বলা হয় – [ Madhyamik ’22 ]
(ক) লাসাকে
(খ) বেজিং-কে
(গ) রোমকে
(ঘ) কনস্ট্যান্টিনোপলকে
উত্তর – (ক) লাসাকে
২২. ’নদীয়া কাহিনী’ গ্রন্থের লেখক হলেন – [Madhyamik ’24 ]
(ক) নিখিলনাথ রায়
(খ) কুমুদনাথ মল্লিক
(গ) সতীশচন্দ্র মিত্র
(ঘ) কুমুদরঞ্জন মল্লিক
উত্তর – (খ) কুমুদনাথ মল্লিক
২৩. ‘বাণিজ্য শহর’ বলা হয় –
(ক) মুম্বাইকে
(খ) গুজরাটকে
(গ) কলকাতাকে
(ঘ) বিহারকে
উত্তর – (ক) মুম্বাইকে
২৪. ‘সংস্কৃতির শহর’ বলা হয় –
(ক) কলকাতাকে
(খ) লখনউকে
(গ) সুরাটকে
(ঘ) মুম্বাইকে
উত্তর – (ক) কলকাতাকে
২৫. সামরিক ইতিহাসচর্চা প্রথম শুরু হয় –
(ক) রোমান সাম্রাজ্যে
(খ) ফ্রান্সে
(গ) ইংল্যান্ডে
(ঘ) জার্মানিতে
উত্তর – (গ) ইংল্যান্ডে
২৬. র্যাচেল কারসন যুক্ত ছিলেন – [ Madhyamik ’23 ]
(ক) আঞ্চলিক ইতিহাসে
(খ) নারী ইতিহাসে
(গ) পরিবেশের ইতিহাসে
(ঘ) শহরের ইতিহাসে
উত্তর – (গ) পরিবেশের ইতিহাসে
২৭. ‘অশান্ত অরণ্য জীবন’ গ্রন্থটি রচনা করেন –
(ক) রণজিৎ গুহ
(খ) দীপেশ চক্রবর্তী
(গ) শমিতা সেন
(ঘ) রামচন্দ্র গুহ
উত্তর – (ঘ) রামচন্দ্র গুহ
২৮. ‘মানুষ ও পরিবেশ’ বইটির লেখক হলেন –
(ক) ইরফান হাবিব
(খ) র্যাচেল কারসন
(গ) রামচন্দ্র গুহ
(ঘ) মহেশ রঙ্গরাজন
উত্তর – (ক) ইরফান হাবিব
২৯. ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ পালিত হয় – [ Madhyamik 24, ’20 ]
(ক) ৮ জানুয়ারি
(খ) ২৪ ফেব্রুয়ারি
(গ) ৮ মার্চ
(ঘ) ৫ জুন
উত্তর – (ঘ) ৫ জুন
৩০. ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ প্রথম পালিত হয়েছিল –
(ক) ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (খ) ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে
৩১. কলকাতা বিজ্ঞান কলেজের ইতিহাস অন্তর্গত হবে –
(ক) ফোটোগ্রাফির ইতিহাসের
(খ) খেলাধুলার ইতিহাসের
(গ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ইতিহাসের
(ঘ) পরিবেশের ইতিহাসের
উত্তর – (গ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ইতিহাসের
৩২. উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী যুক্ত ছিলেন – [ Madhyamik ’24 ]
(ক) শহরের ইতিহাসে
(খ) স্থানীয় ইতিহাসে
(গ) শিল্পচর্চার ইতিহাসে
(ঘ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে
উত্তর – (ঘ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে
৩৩. ‘আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ’প্রথম পালিত হয় –
(ক) ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (খ) ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে
৩৪. ‘বিশ্ব নারী দিবস’ পালিত হয় –
(ক) ৫ জানুয়ারি
(খ) ৮ মার্চ
(গ) ৮ এপ্রিল
(ঘ) ৯ মে
উত্তর – (খ) ৮ মার্চ
৩৫. ঔপনিবেশিক প্রশাসনের মনোভাব জানার জন্য প্রধান ঐতিহাসিক উপাদান –
(ক) সাময়িকপত্র
(খ) সরকারি নথি
(গ) সংবাদপত্র
(ঘ) স্মৃতিকথা
উত্তর – (খ) সরকারি নথি
৩৬. ভারতের জাতীয় মহাফেজখানা কোথায় অবস্থিত ?
(ক) কলকাতাতে
(খ) দিল্লিতে
(গ) পুনাতে
(ঘ) নাগপুরে
উত্তর – (খ) দিল্লিতে
৩৭. সরকারি মহাফেজখানায় পাওয়া যাবে –
(ক) সরকারি আধিকারিকদের প্রতিবেদন
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনস্মৃতি
(গ) সরলাদেবী চৌধুরাণীর জীবনের ঝরাপাতা
(ঘ) ইন্দিরাকে লেখা জওহরলাল নেহরুর চিঠির সংকলন
উত্তর – (ক) সরকারি আধিকারিকদের প্রতিবেদন
৩৮. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীর নাম কী ?
(ক) জীবনস্মৃতি
(খ) আত্মচরিত
(গ) জীবনের জলসাঘরে
(ঘ) জীবনের ঝরাপাতা
উত্তর – (খ) আত্মচরিত
৩৯. ‘এ নেশন ইন মেকিং’ হল –
(ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী
(গ) বল্লভভাই প্যাটেলের আত্মজীবনী
(ঘ) রবি ভার্মার আত্মজীবনী
উত্তর – (ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী
৪০. বিপিনচন্দ্র পাল লিখেছেন – [ Madhyamik ’17 ]
(ক) সত্তর বৎসর
(খ) জীবনস্মৃতি
(গ) এ নেশন ইন মেকিং
(ঘ) আনন্দমঠ
উত্তর – (ক) সত্তর বৎসর
৪১. ‘জীবনের ঝরাপাতা’ গ্রন্থটি হল একটি – [ Madhyamik ’18 ]
(ক) উপন্যাস
(খ) কাব্যগ্রন্থ
(গ) জীবনীগ্রন্থ
(ঘ) আত্মজীবনী
উত্তর – (ঘ) আত্মজীবনী
৪২. ইন্দিরা গান্ধির উদ্দেশে জওহরলাল নেহরুর লেখা চিঠিগুলি গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয় –
(ক) ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (খ) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে
৪৩. ‘বঙ্গদর্শন’ সাময়িক পত্রটি ছিল একটি – [ Madhyamik ’22 ]
(ক) সাপ্তাহিক পত্রিকা
(খ) পাক্ষিক পত্রিকা
(গ) মাসিক পত্রিকা
(ঘ) বাৎসরিক পত্রিকা
উত্তর – (গ) মাসিক পত্রিকা
৪৪. ‘বঙ্গদর্শন’ প্রথম প্রকাশিত হয় – [ Madhyamik ’25 ]
(ক) ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (ঘ) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে
৪৫. বঙ্কিমচন্দ্র ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদনা করেছিলেন – [ Madhyamik ’23 ]
(ক) তিন বছর
(খ) চার বছর
(গ) দশ বছর
(ঘ) বারো বছর
উত্তর – (খ) চার বছর
৪৬. ‘বন্দেমাতরম’ সংগীতটি প্রথম প্রকাশিত হয় –
(ক) হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায়
(খ) সোমপ্রকাশ পত্রিকায়
(গ) বঙ্গদর্শন পত্রিকায়
(ঘ) দিগদর্শন পত্রিকায়
উত্তর – (গ) বঙ্গদর্শন পত্রিকায়
৪৭. ‘সোমপ্রকাশ’ ছিল একটি – [ Madhyamik ’18 ]
(ক) দৈনিক পত্রিকা
(খ) সাপ্তাহিক পত্রিকা
(গ) পাক্ষিক পত্রিকা
(ঘ) মাসিক পত্রিকা
উত্তর – (খ) সাপ্তাহিক পত্রিকা
৪৮. ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের পর কবে ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা পুনঃপ্রকাশিত হয় ?
(ক) ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (গ) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে
৪৯. ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা যে সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, সেটি হল –
(ক) বিধবাবিবাহ আন্দোলন
(খ) সতীদাহপ্রথা-বিরোধী আন্দোলন
(গ) বহুবিবাহ রোধ আন্দোলন
(ঘ) মন্দিরে প্রবেশ সংক্রান্ত আন্দোলন
উত্তর – (ক) বিধবাবিবাহ আন্দোলন
৫০. ইন্টারনেট শুরু হয় –
(ক) ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর – (গ) ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে
SAQ প্রশ্ন উত্তর
১. ‘দি অ্যানালস’ পত্রিকাটি কবে প্রকাশিত হয় ?
উত্তর – ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে
২. পৃথিবীর প্রাচীন খেলার নাম কী ?
উত্তর – মানাকালা
৩. ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে আই এফ এ শিল্ডজয়ী মোহনবাগান ক্লাবের অধিনায়ক কে ছিলেন ?
উত্তর – শিবদাস ভাদুড়ি
৪. বাংলায় ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’ কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তর – ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
৫. ‘হকির জাদুকর’ কাকে বলা হয় ?
উত্তর – ধ্যানচাঁদকে
৬. গোবর গুহ (যতীন্দ্রচরণ গৃহ) কোন খেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ?
উত্তর – কুস্তি বা মল্লযুদ্ধ ।
৭. প্রথম কে ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’ তৈরি করেন ?
উত্তর – নবীনচন্দ্র দাস
৮. ‘রসগোল্লা: বাংলার জগৎমাতানো আবিষ্কার’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন ?
উত্তর – হরিপদ ভৌমিক
৯. ‘আমিষ ও নিরামিষ আহার’ বইটি কে লিখেছিলেন ?
উত্তর – প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী
১০. ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটির রচয়িতা কে ?
উত্তর – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১১. টপ্পা গানকে কে বাংলায় জনপ্রিয় করেছিলেন ?
উত্তর – রামনিধি গুপ্ত
১২. প্রথম বাংলা নির্বাক চলচ্চিত্রের নাম কী ?
উত্তর – বিল্বমঙ্গল
১৩. প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্রের নাম কী ?
উত্তর – জামাইষষ্ঠী (১৯৩১ খ্রি.)
১৪. সত্যজিৎ রায়ের প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি ?
উত্তর – পথের পাঁচালী (১৯৫৫ খ্রি.)
১৫. ‘পথের পাঁচালী’ ছবির পরিচালক কে ?
উত্তর – সত্যজিৎ রায়
১৬. আধুনিক ভারতীয় চিত্ররীতির জনক কে ? [ অথবা ], কাকে ‘নব্যবাংলা চিত্রকলা রীতির অগ্রদূত’ বলা হয় ?
উত্তর – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
১৭. ‘বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী’ কার রচনা ?
উত্তর – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।
১৮. কলকাতার ঔপনিবেশিক স্থাপত্যগুলির যে-কোনো একটি উল্লেখ করো । [ Madhyamik 22 ]
উত্তর – ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
১৯. ‘বাংলার বিশ্বকর্মা’ নামে কে পরিচিত ?
উত্তর – রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জী
২০. ভারতের সামরিক ইতিহাসের উপর কে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ লিখেছেন ?
উত্তর – যদুনাথ সরকার
২১. চিপকো আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন কে ?
উত্তর – সুন্দরলাল বহুগুণা
২২. নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন কবে হয় ?
উত্তর – ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে
২৩. নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন ভারতবর্ষের কোন অংশে সংঘটিত হয় ?
উত্তর – ভারতবর্ষের দাক্ষিণাত্যে
২৪. নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন-এর নেত্রী কে ছিলেন ?
উত্তর – মেধা পাটেকর
২৫. বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আন্দোলন কোন ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত হবে ?
উত্তর – পরিবেশের ইতিহাসের
২৬. আধুনিক ইতিহাস লেখার যে-কোনো দুটি উপাদানের নাম লেখো । [ শিখনসেতু ]
উত্তর – আধুনিক ইতিহাস লেখার যে-কোনো দুটি উপাদানের নাম হল – সংবাদপত্র এবং চিঠি।
২৭. সরকারি নথিপত্র কোথায় সংরক্ষণ করা হয় ? [ Madhyamik 24, ’17 ]
উত্তর – সরকারি মহাফেজখানায়
২৮. বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম কী ? [ Madhyamik 20 ]
উত্তর – ‘সত্তর বৎসর’
২৯. বিপিনচন্দ্র পাল কার অনুরোধে ‘সত্তর বৎসর’ আত্মজীবনীটি লিখেছিলেন ?
উত্তর – রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
৩০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা স্মৃতিকথা কোনটি ? এটি প্রকাশিত হয় কবে ?
উত্তর – ‘জীবনস্মৃতি’, ১৩১৯ বঙ্গাব্দে।
৩১. ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থের ছবিগুলি কে এঁকেছিলেন ?
উত্তর – গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩২. সরলাদেবী চৌধুরাণীর আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম কী ?
উত্তর – ‘জীবনের ঝরাপাতা’
৩৩. ‘জীবনের ঝরাপাতা’ কোন সাময়িকপত্রে প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ?
উত্তর – দেশ পত্রিকায়
৩৪. ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ কে গড়ে তোলেন ?
উত্তর – সরলাদেবী চৌধুরাণী
৩৫. ‘একাত্তরের ডায়েরী’ বইটি কে লিখেছেন ?
উত্তর – বেগম সুফিয়া কামাল।
৩৬. ‘Letters from a Father to His Daughter’- কবে লেখা হয়েছিল এবং পিতা ও কন্যার নাম কী ?
উত্তর – ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে, জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধি।
৩৭. ‘Letters from a Father to His Daughter’ গ্রন্থে কতগুলি চিঠি আছে ?
উত্তর – ৩০টি
৩৮. ইন্দিরাকে লেখা জওহরলালের চিঠিপত্রের হিন্দি অনুবাদের নাম কী ?
উত্তর – মুনশি প্রেমচন্দ।
৩৯. ইন্দিরাকে লেখা জওহরলালের চিঠিপত্রের হিন্দি অনুবাদ কে করেন ?
উত্তর – মুনশি প্রেমচন্দ।
৪০. ইন্দিরা গান্ধিকে লেখা জওহরলাল নেহরুর চিঠিগুলি বাংলাতে কী নামে পরিচিত ?
উত্তর – কল্যাণীয়াসু ইন্দু
৪১. ভারতে প্রথম বাণিজ্য বিষয়ক বাংলা ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্রের নাম কী ?
উত্তর – ‘মহাজন দর্পণ’
৪২. কোন বছর ‘বঙ্গদর্শন’ প্রকাশিত হয় ? [ Madhyamik ’22 ]
উত্তর – ১৮৭২ খিস্টাব্দে
৪৩. ‘বঙ্গদর্শন’ সাময়িকপত্র কে প্রবর্তন করেন ?
উত্তর – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
৪৪. ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন ?
উত্তর – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
৪৫. ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকাটি কার দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত হয়েছিল ?
উত্তর – সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
৪৬. ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা প্রথম কবে প্রকাশিত হয় ?
উত্তর – ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ নভেম্বর
৪৭. ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন ? [ Madhyamik 20, ’17 ]
উত্তর – দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ
৪৮. কার অনুপ্রেরণায় দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ সোমপ্রকাশ পত্রিকার সম্পাদনা করেছিলেন ?
উত্তর – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
৪৯. ‘দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন’ কে প্রণয়ন করেন ? [ অথবা ], কোন বড়োলাট ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন ?
উত্তর – লর্ড লিটন
৫০. কোন বছর ‘সোমপ্রকাশ’-এর প্রকাশনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয় ? [ Madhyamik ’22 ]
উত্তর – ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ।
৫১. ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন ?
উত্তর – অরবিন্দ ঘোষ
৫২. ‘সংবাদপত্রে সেকালের কথা’ গ্রন্থটি কে লেখেন ?
উত্তর – ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।
Mark – 2
১. নতুন সামাজিক ইতিহাস বলতে কী বোঝো ?
উত্তর – নতুন সামাজিক ইতিহাস: ইতিহাস বলতে আগে শুধু রাজা ও রাজবংশের কীর্তি-কাহিনীকে বোঝাত। কিন্তু বিংশ শতকের ৬০-এর দশক থেকে এই ধারণার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। ইতিহাসের একটি অন্যতম শাখারূপে নতুন সামাজিক ইতিহাসচর্চার সূচনা ঘটে-যা গতানুগতিক শাসন ও শাসককেন্দ্রিক ইতিহাসের সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা, তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিবর্তন নিয়ে চর্চা শুরু করে।
২. নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চা বলতে কী বোঝো ?
উত্তর – নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চা: ১৯৮০-এর দশকে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-লিঙ্গ নির্বিশেষে নিম্নবর্গের প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে যে ইতিহাসচর্চা শুরু হয়, তাকে নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চা বলা হয়।
বিষয় : সমাজে যারা তথাকথিত অন্ত্যজ ও দলিত নামে পরিচিত, সেইসব শ্রেণির মানুষদের কথা ও কাহিনি এই ধরনের ইতিহাসচর্চার বিষয়বস্তু। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এইসব মানুষদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, নবাগত সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের বিরোধ এবং পরিণামে বিক্ষোভ-বিদ্রোহ নিয়ে একশ্রেণির ঐতিহাসিকরা গবেষণা করেন।
৩. সামাজিক ইতিহাসচর্চা গুরুত্বপূর্ণ কেন ?
উত্তর – সমাজবদ্ধ মানব প্রজাতির বিশ্লেষণ হল ইতিহাস। তাই সামাজিক বিষয়গুলিও ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্ব :
(ক) সামাজিক ইতিহাসচর্চা সামগ্রিকভাবে ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্র ও জ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েছে। গৃহভিত্তিক বিষয়, গণসংস্কৃতি, নিপীড়িত জনগোষ্ঠী, নারীসমাজের কথা এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
(খ) শ্রেণি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ, সামাজিক চলমানতা প্রভৃতির উপর সামাজিক ইতিহাস আলোকপাত করে।
(গ) আধুনিক ইতিহাসচর্চায় নানা বিষয়ের ইতিহাস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক ইতিহাসচর্চার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত বিষয়গুলিকে আলোকিত করে তোলা হয়।
৪. ‘সামাজিক ইতিহাস’কী ? [Madhyamik ’17] [ অথবা], ‘নতুন সামাজিক ইতিহাসের’ বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী ছিল ?
উত্তর – নতুন সামাজিক ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য: গতানুগতিক শাসককেন্দ্রিক ইতিহাসচর্চার বাইরে মানুষের সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি নিয়ে নতুন সামাজিক ইতিহাসচর্চা আবর্তিত হয়। এর বৈশিষ্ট্য হল-
(ক) সমাজ: এই ইতিহাসে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ইতিহাস থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষের ইতিহাস রচনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
(খ) সংস্কৃতি: মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিনোদন, শিক্ষা, ধর্মবিশ্বাস প্রভৃতির উপর গুরুত্ব দেয়।
(গ) অর্থনীতি: মানুষের বিভিন্ন ধরনের পেশা সম্বন্ধে এখানে আলোচনা করা হয়।
৫. আধুনিক ইতিহাসচর্চায় খেলার ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ কেন ?
উত্তর – আধুনিক ইতিহাসচর্চায় খেলার ইতিহাসের গুরুত্ব:
(ক) সমাজ সম্পর্কিত তথ্য খেলার ইতিহাস থেকে একটি সমাজের মানুষের মানসিকতা, শারীরিক সক্ষমতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, নারীর মর্যাদা প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
(খ) জাতীয়তাবোধ সম্পর্কিত তথ্য খেলার দর্শক ও শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া থেকে জাতীয়তাবোধ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে মোহনবাগান ইংরেজ ফুটবল দলকে পরাজিত করে আই এফ এ (IFA) শিল্ড জয় করলে বাঙালি তথা ভারতীয়দের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
৬. ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ গুরুত্বপূর্ণ কেন ? [Madhyamik 23]
উত্তর – বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিতে ইংরেজ বিরোধিতা প্রবল আকার ধারণ করে। এই পরিস্থিতিতে ফুটবল খেলা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের গুরুত্ব: ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি হওয়া মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের ফুটবল দল ইংরেজ সৈন্যদের নিয়ে তৈরি ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্ট দলের বিরুদ্ধে খেলায় অবতীর্ণ হয়। সম্পূর্ণ খালি পায়ে খেলে আই এফ এ শিল্ড জয় করে মোহনবাগান।
কয়েকজন বাঙালি বিপ্লবী এবং কলকাতা পৌরসভার কর্মী এই দলের খেলোয়াড় ছিলেন। মোহনবাগান দলের এই শিহরণ জাগানো সাফল্য ভারতে জাতীয়তাবাদের জাগরণে অনুঘটকের কাজ করেছিল।
৭. আধুনিক ইতিহাসচর্চায় খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ কেন ?
উত্তর – আধুনিক ইতিহাসচর্চায় খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
(খ) জনগোষ্ঠী সম্পার্ক ধারণা: খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে কোনো জনগোষ্ঠী বা জাতির ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্মীয় বিশ্বাস, নারীর মর্যাদা প্রভৃতি বিষয়ে নানান তথ্য পাওয়া যায়।
(খ) বৈদেশিক যোগাযোগ সম্পর্কে ধারণা: খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস থেকে একটি নির্দিষ্ট এলাকার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিদেশের যোগাযোগ সম্পর্কে ধারণা করা যায়। ভারতীয়দের খাদ্যাভ্যাসে মুঘল, পোর্তুগিজ ও ব্রিটিশদের প্রভাবে নতুন নতুন খাবারের সংযোজন হয়।
৮. শিল্পচর্চার ইতিহাস বলতে কী বোঝো ?
উত্তর – শিল্পচর্চার ইতিহাস: আদিম মানুষের নাচ, করতালি, বিভিন্ন শব্দ করার মধ্য দিয়ে শিল্পচর্চার সূচনা হয়েছে। ক্রমশ শিল্পকলা ও তার বিভিন্ন বিভাগগুলির বিকাশ ঘটে। এই শিল্পগুলির মধ্যে প্রধান হল- সংগীত, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র। এগুলির মধ্য দিয়ে অতীত জেগে ওঠে, ঐতিহ্যের এবং লোকশিল্পের সংরক্ষণ হয়।
এই ধরনের শিল্পকলাচর্চার মাধ্যমে সমাজ-সংস্কৃতির একটি বিশেষ যুগের চিত্র পাওয়া যায়। মানুষের জীবনধারার নানান পরিবর্তন সম্পর্কেও জানতে পারা যায়। একে শিল্পচর্চার ইতিহাস বলা যেতে পারে।
৯. ইতিহাসচর্চায় নাটকের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ কেন ?
উত্তর – দৃশ্য ও প্রদর্শনমূলক শিল্পকলা, যার মধ্যে কথাবার্তা, শিল্প প্রদর্শন, সংগীত ও নৃত্য সব কিছুর সমন্বয় ঘটে, সেইরকম একটি মাধ্যম হল নাটক।
ইতিহাসচর্চায় নাটকের ইতিহাসের গুরুত্ব: ইতিহাসচর্চায় নাটকের ইতিহাসের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা বা কাহিনি অবলম্বনে নাটক রচিত হয়। তাই সমসাময়িককালের বিভিন্ন দিক নাটকের মধ্য দিয়ে উপস্থাপিত করা যায়। নাটকের মাধ্যমে লোকশিক্ষা হয়। এ ছাড়া ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তনের দিকগুলিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও নাটকের ইতিহাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
১০. আধুনিক ইতিহাসচর্চায় পোশাক-পরিচ্ছদের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ কেন ?
উত্তর – আধুনিক ইতিহাসচর্চার একটি শাখা হল সামাজিক ইতিহাস। পোশাক-পরিচ্ছদ যেহেতু সামাজিক ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত, তাই এই বিষয়টি আধুনিক ইতিহাসচর্চার অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
গুরুত্ব: আধুনিক ইতিহাসচর্চায় পোশাক-পরিচ্ছদের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-
(ক) সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা : পোশাক-পরিচ্ছদের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে একটি সমাজের রক্ষণশীলতা, প্রগতিশীলতা, নারীর মর্যাদা, নারী-পুরুষ বৈষম্য প্রভৃতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
(খ) রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা সম্পার্ক ধারণা : পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। উদাহরণ হিসেবে জহর কোট ও গান্ধি টুপি-র কথা বলা যেতে পারে।
১১. ইতিহাসচর্চায় ফোটোগ্রাফির গুরুত্ব লেখো ।
উত্তর – আধুনিক ইতিহাসচর্চায় বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ফোটোগ্রাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ।
ইতিহাসচর্চায় ফোটোগ্রাফির গুরুত্ব :
(ক) ফোটোগ্রাফির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ছবিকে ক্যামেরাবন্দি করা যায়। এগুলি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কোনো মহান ব্যক্তি, কোনো হত্যাকাণ্ড বা অন্য কিছু হতে পারে। গৃহীত আলোকচিত্র তাই প্রামাণ্য তথ্য হয়ে ওঠে।
(খ) ফোটোগ্রাফি থেকে অতীতের কোনো বিষয়ের আলোকচিত্র ইতিহাসের উপাদান হিসেবে তথ্য জোগায়।
(গ) তবে ফোটোগ্রাফকে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য উপাদান বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন না ।
১২. স্থাপত্যের ইতিহাসের গুরুত্ব কী ?
উত্তর – মানবসভ্যতার অগ্রগতির প্রতীক হল স্থাপত্য নিদর্শন ।
গুরুত্ব : (ক) স্থাপত্য নিদর্শন থেকে পৃষ্ঠপোষকতা, সমকালীন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার কথা জানা যায়।
(খ) স্থাপত্যরীতির মধ্যে সাংস্কৃতিক সমন্বয় ফুটে ওঠে। শিল্পরুচির পরিচয় পাওয়া যায়।
(গ) স্থাপত্যের প্রয়োজন ও উপযোগিতার পরিচয় পাওয়া যায় ।
১৩. ‘স্থানীয় ইতিহাসচর্চা’বলতে কী বোঝো ? [ Madhyamik ’17 ]
উত্তর – স্থানীয় ইতিহাসচর্চা: আধুনিক ইতিহাসচর্চায় স্থানীয় ইতিহাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এর বিশেষত্বগুলি হল-
(ক) স্থানীয় গুরুত্ব: এই ধরনের ইতিহাসচর্চায় স্থানীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন, স্থানীয় গল্পকাহিনিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
(খ) সংস্কৃতি: স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কথা, তাদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি এক্ষেত্রে প্রাধান্য লাভ করে। এভাবে বৃহত্তর বা জাতীয় ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে স্থানীয় ইতিহাস উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
১৪. আধুনিক ইতিহাসচর্চায় শহরের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ কেন ?
উত্তর – আধুনিক ইতিহাসচর্চায় শহরের ইতিহাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ।
গুরুত্ব:
(ক) শহরের জীবনযাত্রা সম্পার্ক ধারণা: শহরের ইতিহাসচর্চার ফলে শহরের পতনের কারণ, শহরের অধিবাসীদের জীবনযাত্রা, ব্যাবসাবাণিজ্য প্রভৃতি বিষয়ে জানা যায়।
(খ) পৌর শাসনব্যবস্থা সম্পার্ক ধারণা: শহরের ইতিহাসচর্চার ফলে পৌরশাসন, রাজনৈতিক অবস্থা, স্থাপত্য, শিল্প-সংস্কৃতি, উন্নয়নের ধারা, বিবর্তন প্রভৃতি বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়।
১৫. সামরিক ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব কী ? [ Madhyamik ’22 ]
উত্তর – আধুনিক ইতিহাসচর্চায় সামরিক ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্ব:
(ক) সৈনিকদের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা: সামরিক ইতিহাসচর্চায় যোদ্ধা বা সৈনিকদের অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। এ ছাড়া সেনাদের পোশাক, অস্ত্রশস্ত্র, খাবার, বেতন, রণকৌশল প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায়।
(খ) যুদ্ধের খুঁটিনাটি ও আদর্শ সম্পার্ক ধারণা: সামরিক ইতিহাসচর্চার ফলে যুদ্ধের নীতি, কৌশল, খুঁটিনাটি বিষয়, প্রকৃত কারণ, আদর্শ প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তৃত জানা যায়।
১৬. পরিবেশের ইতিহাস বলতে কী বোঝায় ? [ Madhyamik 25, ’24 ]
উত্তর – পরিবেশের ইতিহাস: সাম্প্রতিক ইতিহাসচর্চার ধারায় পরিবেশের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ কীভাবে মানুষের জীবনধারণ প্রণালী, রীতিনীতি, সভ্যতাকে প্রভাবিত করে, তার আলোচনাকে বলা হয় পরিবেশের ইতিহাসচর্চা। পরিবেশ সংক্রান্ত ইতিহাসচর্চা প্রথম উত্তর আমেরিকায় ও তারপর ইউরোপে শুরু হয়। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন পরিবেশবিদ র্যাচেল কারসন-এর লেখা দ্য সি অ্যারাউন্ড আস (The Sea Around Us) গ্রন্থটি এক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
১৭. আধুনিক ইতিহাসচর্চায় পরিবেশের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ কেন ? [ অথবা ], পরিবেশের ইতিহাসের গুরুত্ব কী ? [Madhyamik ’18 ]
উত্তর – আধুনিক ইতিহাসচর্চায় পরিবেশের ইতিহাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ।
(ক) মানবসভ্যতার উপর পরিবেশের প্রভাব: পরিবেশের ইতিহাসচর্চার ফলে মানবসভ্যতার উপর পরিবেশের প্রভাব ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে মানুষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়।
(খ) পরিবেশ রক্ষার জন্য আন্দোলন সম্পার্ক ধারণা: ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাদের নিজেদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।
১৮. নারী ইতিহাসের উপর একটি টীকা লেখো । [ Madhyamik ’17 ]
উত্তর – নারী ইতিহাস: ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে নারীসমাজের ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইতিহাসচর্চার যে মূলধারা সেখানে পুরুষদের প্রাধান্য দেখা গেলেও নারীদের ভূমিকা উপেক্ষিত। এমনকি রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে নারীরা তাদের যথাযথ মর্যাদা পায়নি। তাই এর প্রতিবাদ নারী ইতিহাসের অন্যতম বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নারী ক্ষমতায়নের বিষয় (শিক্ষা, কর্ম, ভোটদান প্রভৃতি বিষয়ে সম অধিকার) নিয়েও এই ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
১৯. নারী ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব লেখো ।
উত্তর – সামাজিক ইতিহাসের বিভিন্ন শাখার মতো নারী ইতিহাসচর্চা বর্তমানে প্রাধান্য লাভ করেছে।
গুরুত্ব:
(ক) অধিকার প্রতিষ্ঠা: বিভিন্ন নারী আন্দোলনের মাধ্যমে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়।
(খ) উপেক্ষার প্রতিবাদ: পুরুষের প্রাধান্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ইতিহাস তুলে ধরে।
(গ) পারিবারিক সম্পর্ক: পরিবারে নারীর আচরণ, লিঙ্গবৈষম্য, নারীনির্যাতন সম্পর্কে সচেতন করে।
২০. আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চার উপাদানরূপে ‘সরকারি নথিপত্র’-এর গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা কী ? [ Madhyamik 20 ]
উত্তর – আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চায় সরকারি নথিপত্রের ভূমিকা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
গুরুত্ব:
(ক) তথ্যভান্ডার: দেশের শাসন, আইন ও বিচার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরকারি মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারে সংরক্ষিত থাকে।
(খ) গোয়েন্দা তথ্য: পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের নথিপত্র থেকে গণ আন্দোলন, বিপ্লবীদের গতিবিধি ও তৎপরতা, জনগণের ক্ষোভ-বিদ্রোহের নানান তথ্য পাওয়া যায়।
সীমাবদ্ধতা: এইসব তথ্য ব্যবহারে সতর্কতা দরকার। কারণ –
(ক) আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন: সরকারি নথিপত্র যথা- পুলিশ, গোয়েন্দা, সরকারি আধিকারিকদের বিবরণে ব্রিটিশ শাসকের ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি, শাসন ও দমনমূলক চরিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে এর ঐতিহাসিক সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দেয়।
(খ) বিকৃত তথ্য : সরকারি দলিল দস্তাবেজগুলিতে অনেক ক্ষেত্রে ভুল ও বিকৃত তথ্য থাকে। তাই এগুলি সমকালীন ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।
২১. ‘আত্মজীবনী’ এবং ‘স্মৃতিকথা’ বলতে কী বোঝায় ? [ Madhyamik 20 ]
উত্তর – আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা ইতিহাসের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
আত্মজীবনী: আত্মজীবনী হল এক ধরনের অ-উপন্যাসধর্মী সাহিত্য, যেখানে রচয়িতা নিজের জীবন ও সমকালীন বিভিন্ন ঘটনাবলির বিবরণী পেশ করেন। বিভিন্ন আত্মজীবনীগুলির মধ্যে বিপ্লবী বিপিনচন্দ্র পালের সত্তর বৎসর, সরলাদেবী চৌধুরাণীর জীবনের ঝরাপাতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
স্মৃতিকথা: অতীতের কোনো ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত কোনো ব্যক্তি পরবর্তীকালে তার স্মৃতি থেকে প্রাপ্ত অতীত ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ করে অথবা মৌখিকভাবে প্রকাশ করলে, তাকে বলা হয় স্মৃতিকথা। যেমন- দক্ষিণারঞ্জন বসুর ছেড়ে আসা গ্রাম, এলিজার হুইসেল-এর নাইট প্রভৃতি।
২২. ‘আত্মজীবনী’ ও ‘স্মৃতিকথা’-র মধ্যে পার্থক্য কী ?
উত্তর – ‘আত্মজীবনী’ ও ‘স্মৃতিকথা’-র মধ্যে পার্থক্য : আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা সম্পূর্ণ এক জিনিস নয়। দুইয়ের মধ্যে অতি সূক্ষ্ম পার্থক্য বিদ্যমান।
আত্মজীবনী হল লেখকের সম্পূর্ণ জীবনেতিহাস। আত্মজীবনী লেখার সময়ে তিনি তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি কালানুক্রমিকভাবে পরপর লিখে থাকেন।
অপরদিকে, স্মৃতিকথায় সময়ানুক্রমিক বিবরণ সবসময় নাও থাকতে পারে। অনেকসময়ই লেখক নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিবরণ দিয়ে থাকেন। এর থেকে লেখকের জীবনের সকল দিকের কথা জানা নাও যেতে পারে।
২৩. স্মৃতিকথা অথবা আত্মজীবনীকে কীভাবে আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় ? [ Madhyamik ’18 ]
[ অথবা ], আত্মজীবনী কীভাবে ইতিহাসের উপাদান হয়ে ওঠে ? কয়েকটি ইতিহাস সহায়ক আত্মজীবনীর উদাহরণ দাও ।
উত্তর – ইতিহাসের উপাদানরূপে স্মৃতিকথা ও আত্মজীবনী:
অতীতের কোনো ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত কোনো ব্যক্তি পরবর্তীকালে তার স্মৃতি থেকে প্রাপ্ত অতীত ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ করে অথবা মৌখিকভাবে প্রকাশ করলে, তাকে বলা হয় স্মৃতিকথা । অপরদিকে আত্মজীবনী হল এক ধরনের অ-উপন্যাসধর্মী সাহিত্য, যেখানে রচয়িতা নিজের জীবন ও সমকালীন বিভিন্ন ঘটনাবলির বিবরণী পেশ করেন। যে-কোনো স্মৃতিকথা কিংবা আত্মজীবনীতেই ব্যক্তিজীবনের আখ্যানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশেষ এক সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঘটনা ও রাষ্ট্রের আখ্যান। এই কারণেই সেগুলি হয়ে ওঠে ইতিহাসের উপাদান।
২৪. আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে আত্মজীবনীর গুরুত্ব কী ? [ Madhyamik 24 ]
উত্তর – আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে আত্মজীবনীর গুরুত্ব অপরিসীম ।
ইতিহাসের উপাদানরূপে আত্মজীবনীর গুরুত্ব : লেখক প্রত্যক্ষদর্শীরূপে বিবরণী ও স্মৃতি রোমন্থন করেন। এই ধরনের লেখায় একটি বিশেষ সময়কালের সমাজ-সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার আখ্যান ফুটে ওঠে।
সীমাবদ্ধতা: তবে এই উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ-লেখকের ব্যক্তিগত মতামত এখানে প্রাধান্য লাভ করে ।
২৫. আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদানরূপে বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘সত্তর বৎসর’-এর গুরুত্ব কী ? [ Madhyamik 25 ]
উত্তর – বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ সত্তর বৎসর আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত মূল্যবান দলিল, যা ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনগুলির প্রামাণ্য তথ্য প্রদান করে।
আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদানরূপে ‘সত্তর বৎসর’ গ্রন্থের গুরুত্ব:
(ক) ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: সত্তর বৎসর গ্রন্থে বিপিনচন্দ্র পাল নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা থেকে ওই সময়ের সমাজসংস্কার, স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাঙালি সংস্কৃতির বিবর্তন সম্পর্কে নানান তথ্য পাওয়া যায়।
(খ) আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারণা: সত্তর বৎসর গ্রন্থে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উত্থান, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বিপিনচন্দ্র পালের সম্পর্ক প্রভৃতি জানা যায়, যা আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনায় বিশেষ সহায়ক।
২৬. ইতিহাসের উপাদানরূপে সংবাদপত্রের গুরুত্ব কী ? [ Madhyamik ’17 ]
উত্তর – আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
তৎকালীন সমাজচিত্র: সংবাদপত্র ও সাময়িক পত্রপত্রিকার মাধ্যমে তৎকালীন দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে জানা যায়। যেমন- সোমপ্রকাশ পত্রিকায় নীলচাষিদের প্রতি ব্রিটিশ নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের কথা প্রকাশ করা হত। বিধবাবিবাহ আন্দোলন সম্পর্কেও সোমপ্রকাশ পত্রিকা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।
জনমত গঠন: দেশে ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনার সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠন করতে সংবাদপত্র অদ্বিতীয়।
২৭. সংবাদপত্র এবং সাময়িকপত্রের মধ্যে পার্থক্য কী ? [ Madhyamik ’19 ]
উত্তর – সংবাদপত্র এবং সাময়িকপত্রের মধ্যে পার্থক্য :
(ক) সময়কালগত পার্থক্য: সংবাদপত্রের সময়কাল সাময়িকপত্রের প্রকাশের অনেক আগে বলে মনে করা হয়।
(খ) আকার-আকৃতিগত পার্থক্য: সংবাদপত্রগুলি আকারে বড়ো হয় ও এর পৃষ্ঠাগুলি সাধারণত খোলাই থাকে। অন্যদিকে সাময়িকপত্রগুলির আয়তন তুলনামূলকভাবে ছোটো হয় এবং বহুক্ষেত্রে তা বইয়ের মতো বাঁধাই করা থাকে।
(গ) বিষয়বস্তুগত পার্থক্য: সংবাদপত্র সাধারণত সমাজে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ সরবরাহ করে। আর সাময়িকপত্র হল সামাজিক সমস্যা ও জীবনকথার সাহিত্যধর্মী বিবরণী।
২৮. আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চায় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ কেন ? [ অথবা ], ইতিহাসের উপাদান হিসেবে বঙ্গদর্শনের গুরুত্ব নির্ণয় করো ।
উত্তর – আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চায় বঙ্গদর্শন পত্রিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ।
(ক) সমকালীন ঘটনা: বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে সমকালীন বাংলার জনগণের উপর ব্রিটিশ সরকার ও জমিদারের শোষণ, সাধারণ মানুষের অবস্থা, বিক্ষোভ, আন্দোলন প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
(খ) স্বাদশপ্রেমের প্রসার: বঙ্গদর্শন পত্রিকা বাঙালি জাতির মধ্যে স্বদেশচেতনার সঞ্চার করে। এই পত্রিকায় প্রকাশিত আনন্দমঠ – এবং বন্দেমাতরম সংগীত পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সমার্থক হয়ে উঠেছিল। চাকায়াক
২৯. ব্রিটিশ সরকার কেন ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের প্রকাশ বন্ধ করে দেয় ?
উত্তর – সংবাদ পরিবেশন, জনমত গঠন এবং জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশে সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। সোমপ্রকাশ পত্রিকাও অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
প্রকাশনা স্থগিত হওয়ার কারণ: ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড লিটন দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন পাস করেন। এর দ্বারা সরকারের সমালোচনা প্রকাশ করে এমন দেশীয় সংবাদপত্রগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়। এই কারণে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সোমপ্রকাশ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ থাকে। পরে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ থেকে এটি পুনরায় প্রকাশিত হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে এবং অবশেষে ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
৩০. ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকা থেকে কী ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায় ?
উত্তর – সোমপ্রকাশ পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের লেখা প্রকাশিত হত। তা থেকে বেশ কিছু ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়।
তথ্যসমূহ: সোমপ্রকাশ পত্রিকা থেকে পাওয়া তথ্যগুলি হল-
(ক) সামাজিক: বিধবাবিবাহ, নারীশিক্ষা বিষয়ক সংবাদ এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
(খ) রাজনৈতিক : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, মহারানির ঘোষণা, ইলবার্ট বিল আন্দোলন, দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন, জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সংবাদ প্রচারিত হয়।
(গ) আর্থিক: জমিদারি শোষণ ও ভূমিরাজস্ব, শিল্পায়ন বিষয়ে নানা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
৩১. ইতিহাসের তথ্যসংগ্রহের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সুবিধাগুলি উল্লেখ করো ।
উত্তর – ইন্টারনেটের সুবিধা: ইতিহাসের তথ্যসংগ্রহের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সুবিধাগুলি হল –
(ক) যাবতীয় বিষয়, ঘটনা, ব্যাখ্যা, ছবি, আওয়াজ ঐতিহাসিকের কাছে মুহূর্তের মধ্যে এনে হাজির করে ইন্টারনেট।
(খ) বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরি, মিউজিয়াম, লেখ্যাগার বা আর্কাইভ, মহাফেজখানার তথ্য সহজেই ঘরে বসে পাওয়ার সুযোগসুবিধা প্রদান করে।
(গ) ই-বুক-এর সহজলভ্যতা ও ব্যাপক ব্যবহার ইতিহাসের তথ্যসংগ্রহের বিষয়টিকে সহজতর করে তুলেছে।
৩২. ইতিহাসের তথ্যসংগ্রহের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহারের অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো ।
উত্তর – ইন্টারনেটের অসুবিধা: ইতিহাসের তথ্য ও ছবি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহারের অসুবিধাগুলি হল –
(ক) সকল সময়ে সকল বিষয়ে তথ্য ও চিত্র পাওয়া যায় না।
(খ) প্রশিক্ষণের অভাব বা আর্থিক কারণেও অনেকে ইন্টারনেটের ব্যবহার করতে পারে না।
(গ) কিছু নকল ও প্রতারণামূলক তথ্যভান্ডার থাকে, যা ব্যবহার করে ইতিহাস লেখা উচিত নয়।
আরও পড়ুন –
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রশ্ন উত্তর
অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর