ভারতের জলবায়ু প্রশ্ন উত্তর // দশম শ্রেণী ভূগোল // Class 10 Geography Question Answer // WBBSE

ভারতের জলবায়ু প্রশ্ন উত্তর // দশম শ্রেণী ভূগোল // Class 10 Geography Question Answer // WBBSE

ভারতের জলবায়ু প্রশ্ন উত্তর

Class 10 Geography Question Answer

MCQ প্রশ্ন উত্তর

১. ভারতের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য –

(ক) ঋতুপরিবর্তন

(খ) অত্যধিক

(গ) বৃষ্টিপাতাশ্রয়ী

(ঘ) অত্যধিক গরম

উত্তর (ক) ঋতুপরিবর্তন

২. ভারতের জলবায়ু কোন বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সর্বাধিক প্রভাবিত ?

(ক) মৌসুমি বায়ু

(খ) মেরু বায়ু

(গ) পশ্চিমা বায়ু

(ঘ) আয়ন বায়ু

উত্তর (ক) মৌসুমি বায়ু

৩.ভারতের দুটি সমভাবাপন্ন জলবায়ুযুক্ত শহরের নাম হল –

(ক) দিল্লি ও গুয়াহাটি

(খ) মুম্বাই ও কলকাতা

(গ) রায়পুর ও বিলাসপুর

(ঘ)পুরী ও চেন্নাই

 ওর (ঘ)পুরী ও চেন্নাই

৪. এল-নিনোর প্রভাব পরিলক্ষিত হয় –

(ক) পেরু উপকূলে

(খ) ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে

(গ) জাপান উপকূলে

(ঘ) মালাবার উপকূলে

ত্তর (ক) পেরু উপকূলে

৫.এল-নিনো দেখা যায় –

(ক) ডিসেম্বর মাসে

(খ) মার্চ মাসে

(গ) জুলাই মাসে

(ঘ) সেপ্টেম্বর মাসে

উত্তর (ক) ডিসেম্বর মাসে

৭. এল-নিনোর বছরগুলিতে ভারতে হয় –

(ক) বন্যা

(খ) খরা

(গ) ভূমিকম্প

(ঘ) অগ্ন্যুদ্গম

ত্তর (খ) খরা

৭. শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে মাঝে মাঝে একনাগাড়ে 2-3 দিন হালকা বৃষ্টিপাত ও জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলে হালকা তুষারপাত হতে দেখা যায়, এটির কারণ প্রধানত –

(ক) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু

(খ) আশ্বিনের ঝড়

(গ) পশ্চিমি ঝঞ্ঝা

(ঘ) কালবৈশাখী

উত্তর (গ) পশ্চিমি ঝঞ্ঝা

৮. ভারতীয় উপমহাদেশে বন্যা পরিস্থিতি যে ঘটনার আবির্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত তা হল –

(ক) এল-নিনো

(খ) লা-নিনা

(গ) লা-নাদা

(ঘ) এল-নিনা

ত্তর (খ) লা-নিনা

৯. ভারতে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা দেখা যায় –

(ক) গ্রীষ্মকালে

(খ) শরৎকালে

(গ) বর্ষাকালে

(ঘ) শীতকালে

উত্তর (ঘ) শীতকালে

১০. পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয় যে অঞ্চলে তা হল –

(ক) জম্মু ও কাশ্মীর

(খ) তামিলনাড়ু

(গ) কেরল

(ঘ) মেঘালয়

উত্তর (ক) জম্মু ও কাশ্মীর

১১. উত্তর ভারতে ‘পশ্চিমি ঝঞ্ঝার’ প্রভাবে শীতকালে তুষারপাত হয়, যার উৎস হল –

(ক) আরব সাগর

(খ) কাস্পিয়ান সাগর

(গ) ভূমধ্যসাগর

(ঘ) সাইবেরিয়া

উত্তর (গ) ভূমধ্যসাগর

১২. ভারতের একটি খরাপ্রবণ রাজ্য হল –

(ক) ছত্তিশগড়

(খ) কেরল

(গ) উত্তরাখণ্ড

(ঘ) উত্তরপ্রদেশ

উত্তর (ক) ছত্তিশগড়

১৩. দক্ষিণ ভারতে আম্রবৃষ্টি হয় –

(ক) বর্ষাকালে

(খ) শীতকালে

(গ) শরৎকালে

(ঘ) গ্রীষ্মকালে

উত্তর (ঘ) গ্রীষ্মকালে

ভারতের জলবায়ু প্রশ্ন উত্তর

১৪. ভারতে গ্রীষ্মকালের অপরাহ্নে মাঝে মাঝে ‘কালবৈশাখী’ হতে দেখা যায়, এটি প্রবাহিত হয় প্রধানত –

(ক) উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে

(খ) উত্তর-পূর্ব দিক থেকে

(গ) দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে

(ঘ) দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে

উত্তর (ক) উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে

১৫. অসমের প্রাক্ মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে বলে – [ ME-2017 ]

(ক) আম্রবৃষ্টি

(খ) কালবৈশাখী

(গ) বরদৈছিলা

(ঘ) পশ্চিমি ঝঞ্ঝা

উত্তর (গ) বরদৈছিলা

১৬. উত্তর-পশ্চিম ভারতে গ্রীষ্মকালে যে ধূলিঝড় দেখা যায় তা হল –

(ক) ধূলিঝড়

(খ) পশ্চিমি ঝঞ্ঝা

(গ) আঁধি

(ঘ) আম্রবৃষ্টি

উত্তর (গ) আঁধি

১৭. গ্রীষ্মকালে ‘বরদৈছিলা’ দেখা যায় –

(ক) পশ্চিমবঙ্গে

(খ) অসমে

(গ) কর্ণাটকে

(গ) কেরলে

উত্তর (খ) অসমে

১৮. গ্রীষ্মকালে দুপুরে উত্তর ভারতে প্রবাহিত উষ্ণও শুষ্ক বায়ুকে বলে –

(ক) কালবৈশাখী

(খ) লু

(গ) আঁধি

(ঘ) বরদৈছিলা

উত্তর (খ) লু

১৯. আম্রবৃষ্টি দেখা যায় –

(ক) উত্তর ভারতে

(খ) দক্ষিণ ভারতে

(গ) পূর্ব ভারতে

(ঘ) পশ্চিম ভারতে

উত্তর (খ) দক্ষিণ ভারতে

২০. আঁধি দেখা যায় যে রাজ্যে –

(ক) পশ্চিমবঙ্গ

(খ) কেরল

(গ) রাজস্থান

(ঘ) ঝাড়খণ্ড

উত্তর (গ) রাজস্থান

২১. ভারতের একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হল –

(ক) চেরাপুঞ্জি

(খ) শিলং

(গ) মৌসিনরাম

(ঘ) মুন্নার

উত্তর (খ) শিলং

২২. অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়কে পশ্চিমবঙ্গে বলা হয় –

(ক) পশ্চিমি ঝঞ্ঝা

(খ) আশ্বিনের ঝড়

(গ) কালবৈশাখী

(ঘ) আঁধি

উত্তর (খ) আশ্বিনের ঝড়

২৩. দক্ষিণ ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হল –

(ক) শিলং

(খ) মালনাদ

(গ) সিমলা

(ঘ) চেরাপুঞ্জি

উত্তর (খ) মালনাদ

২৪. ভারতে অধিকাংশ বৃষ্টিপাত যে পদ্ধতিতে হয় –

(ক) পরিচলন

(খ) শৈলোৎক্ষেপ

(গ) ঘূর্ণবাত

(ঘ) সংঘর্ষ

উত্তর (খ) শৈলোৎক্ষেপ

২৫. ভারতকে শৈত্যপ্রবাহের হাত থেকে রক্ষা করে –

(ক) বিন্ধ্য পর্বত

(খ) কারাকোরাম পর্বত

(গ) হিমালয় পর্বত

(ঘ) আরাবল্লি পর্বত

উত্তর (গ) হিমালয় পর্বত

২৬. ‘মৌসিম’ কথাটি একটি –

(ক) আরবি শব্দ

(খ) ফারসি শব্দ

(গ) ইংরেজি শব্দ

(ঘ) বাংলা শব্দ

উত্তর (ক) আরবি শব্দ

২৭. মৌসুমি বায়ুর স্থায়িত্ব সবচেয়ে কম যেখানে –

(ক) উত্তর-পূর্ব ভারতে

(খ) উত্তর-পশ্চিম ভারতে

(গ) পশ্চিম ভারতে

(ঘ) দক্ষিণ ভারতে

উত্তর (খ) উত্তর-পশ্চিম ভারতে

২৮. ভারতে কৃষিকাজে সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করে –

(ক) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু

(খ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

(গ) উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু

(ঘ) দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু

উত্তর (খ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

২৯. ভারতে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের সময় যে ঋতু বিরাজ করে –

(ক) গ্রীষ্ম

(খ) বর্ষা

(গ) শরৎ

(ঘ) বসন্ত

ত্তর (গ) শরৎ

৩০. প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ুর দ্বারা বৃষ্টিপাত হয় –

(ক) কোঙ্কন উপকূলে

(খ) করমণ্ডল উপকূলে

(গ) মালাবার উপকূলে

(ঘ) কাথিয়াবাড় উপকূলে

উত্তর (খ) করমণ্ডল উপকূলে

৩১. ভারতে শীতকালে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তা হল –

(ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

(খ) মেরু বায়ু

(গ) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু

(ঘ) লু বায়ু

ত্তর (গ) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু

৩২. বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় –

(ক) করমণ্ডল উপকূলে

(খ) উত্তর সরকার উপকূলে

(গ) কোঙ্কন উপকূলে

(ঘ) মালাবার উপকূলে

উত্তর (ক) করমণ্ডল উপকূলে

৩৩. আরব সাগরীয় মৌসুমি বায়ু যে উপকূলে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায় –

(ক) কোঙ্কন

(খ) করমণ্ডল

(গ) উত্তর সরকার

(ঘ) মালাবার

উত্তর (ঘ) মালাবার

৩৪. ‘মৌসুমি বিস্ফোরণ’ প্রথমে দেখা যায় – [ ME-2022 ]

(ক) কেরলে

(খ) কর্ণাটকে

(গ) মেঘালয়ে

(ঘ) পশ্চিমবঙ্গে

উত্তর (ক) কেরলে

৩৫. ‘মৌসম ভবন’ অবস্থিত –

(ক) কলকাতায়

(খ) মুম্বাইতে

(গ) নতুন দিল্লিতে

(ঘ) বেঙ্গালুরুতে

ত্তর (গ) নতুন দিল্লিতে

SAQ ্রশ্ন উত্তর

১. প্রধানত কোন বায়ুপ্রবাহ ভারতের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে ? [পর্যদ নমুনা প্রশ্ন]

উত্তর মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ

২. বনভূমি কীভাবে জলবায়ুকে প্রভাবিত করে ?

উত্তর বাষ্পীয় প্রস্বেদন ঘটিয়ে

. ভারতে যে-কোনো দুটি সমভাবাপন্ন জলবায়ুযুক্ত শহরের নাম লেখো

উত্তর পুরী, কোচিন

. পশ্চিমবঙ্গের একটি খরাপ্রবণ অঞ্চলের নাম লেখো

উত্তর পুরুলিয়া

৫. ভারতে গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা কত থাকে ?

উত্তর – 30° – 35 ° সে

৬. ভারতের আবহাওয়া অফিসের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত ?

উত্তর নিউ দিল্লি ( মৌসম ভবন )

৭. ভারতের ওপর লা-নিনার কীরূপ প্রভাব দেখা যায় ?

উত্তর বন্যা

৮. এল-নিনোর প্রভাবে ভারতে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় ?

উত্তর খরা

৯. পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয় কোথা থেকে ?

উত্তর ভূমধ্যসাগর

১০. কালবৈশাখী ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় কত থাকে ?

উত্তর ঘন্টায় 80 – 90 কিমি

১১. কর্ণাটকে আম্রবৃষ্টি কী নামে পরিচিত ?

উত্তর চেরি ব্লুসুম

১২. আশ্বিনের ঝড় কোন মাসে দেখা যায় ?

উত্তর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে

১৩. ভারতের সর্বনিম্ন বর্ষণসিক্ত অঞ্চলটির নাম লেখো

উত্তর রাজস্থানের মরু অঞ্চল

১৪. হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত মৌসুমি বায়ু কোন প্রকার বৃষ্টিপাত ঘটায় ?

উত্তর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত

১৫. যে-সকল অঞ্চলে 20 সেমির থেকেও কম বৃষ্টিপাত হয়, তাকে কী বলে ?

উত্তর শুষ্ক অঞ্চল

১৬. ভারতের শীতলতম স্থানটির নাম কী ?

ত্তর লাদাখের দ্রাস

১৭. NLM-এর পুরো নাম কী ?

ত্তর North Limit of Monsoon

১৮. MONEX কী ?

ত্তর MONEX হল Monsoon Experiment, যা মৌসুমি বায়ুর গতিবিধি নিয়ে গবেষণা করে।

১৯. ‘মৌসিম’ শব্দের অর্থ কী ?

ত্তর ঋতু

২০. নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু মৌসুমি বায়ুরূপেউত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে যায় কোন সূত্র অনুসারে ?

ত্তর ফেরেলের সূত্র

২১. করমণ্ডল উপকূলে শীতকালে কোন বায়ুর দ্বারা বৃষ্টিপাত হয় ?

ত্তর প্রত্যাবর্তনকারী বা উত্তর – পূর্ব মৌসুমি বায়ুর দ্বারা

 শূন্যস্থান পূরণ করো :

. ভারতের জলবায়ুর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক হল ____________

উত্তর মৌসুমি বায়ু

. ভারতে জলবায়ুতে ______________ পর্বতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি

উত্তর হিমালয়

. ভারতে স্তেপ জলবায়ু দেখা যায় _____________

উত্তর রাজস্থানের পূর্বে

৪. লা-লিনার সময় মৌসুমি বায়ু _____________ আচরণ করে।

উত্তর স্বাভাবিক

. কালবৈশাখী ঝড় দেখা যায় __________ মাসে

ত্তর মার্চ-এপ্রিল

. পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত প্রবল ঝড়কে _____________ বলে

উত্তর কালবৈশাখী

৭. উত্তর-পশ্চিম ভারতে গ্রীষ্মকালে সৃষ্ট ধূলিঝড়কে ____________ বলে [ ME-2022]

উত্তর আঁধি

. অসমে কালবৈশাখীর নাম _____________

উত্তর বরদৈছিলা

. ___________ পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান

উত্তর মেঘালয়ের মৌসিনরাম

১০. চেরাপুঞ্জি ____________মালভূমিতে অবস্থিত

উত্তর মেঘালয়

১১. ভারতে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হল _____________

উত্তর 150 – 200 কিমি

১২. ‘মৌসুমি’ কথাটি আরবি শব্দ ___________ থেকে নেওয়া হয়েছে।

উত্তর মৌসিম

১৩. মৌসুমি বায়ু একটি _____________ বায়ুর উদাহরণ

উত্তর সাময়িক

১৪. _____________ মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে শীতকাল প্রায় শুষ্ক প্রকৃতির হয়

উত্তর উত্তর – পূর্ব

১৫. ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু ____________ বায়ুকে ভারতে আসতে বাধ্য করে। [ ME-2019 ]

উত্তর দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি

১৬. ভারতের সর্বাধিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল হল ___________ উপত্যকা

উত্তর ব্রহ্মপুত্র

১৭. পশ্চিমবঙ্গে মৌসুমি বায়ুর ___________ শাখার দ্বারা বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে

উত্তর বঙ্গোপসাগরীয়

শুদ্ধ হলে পাশে ‘শু’ এবং অশুদ্ধ হলে পাশে ‘অ’ লেখো :

. ভারত হল মৌসুমি বায়ুর বিচরণক্ষেত্র

উত্তর শু

. ভারতের একটি চরমভাবাপন্ন জলবায়ু অঞ্চল হল চেন্নাই

উত্তর

. উচ্চতাগত পার্থক্যের জন্য কলকাতার থেকে দার্জিলিং শীতল

উত্তর শু

৪. এল-নিনোর বছরগুলিতে ভারতে বন্যার সৃষ্টি হয়। [ ME 2020 ]

উত্তর

. জম্মু ও কাশ্মীরে পার্বত্য জলবায়ু লক্ষ করা যায়

উত্তর শু

. পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে জম্মু ও কাশ্মীরে তুষারপাত হয়

উত্তর শু

. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে সারাবছর উয়-আর্দ্র গ্রীষ্মকাল থাকে

উত্তর শু

৮. ‘লু’ একটি আর্দ্র-শীতল প্রকৃতির বায়ু।

উত্তর

৯. রাজস্থানের মরুভূমিতে গ্রীষ্মকালে যে প্রবল ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় ‘লু’ বলে।

উত্তর

১০. আশ্বিনের ঝড়ের মতোই কালবৈশাখীও একটি ঘূর্ণিঝড়

উত্তর শু

১১. ভারতের দক্ষিণাংশের জলবায়ু শীতল প্রকৃতির হয়

উত্তর

১২. পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিমঢাল অপেক্ষা পূর্বঢালে বেশি বৃষ্টি হয়

উত্তর

১৩. মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনা বন্যার জন্য দায়ী নয়

উত্তর

১৪. মৌসিনরাম অঞ্চলটি নাগাল্যান্ডে অবস্থিত

উত্তর

১৫. উত্তর ভারতে প্রথম মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হয়

উত্তর

১৬. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু হল প্রকৃতপক্ষে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু

উত্তর শু

১৭. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ুই ভারতের বৃষ্টিপাতকে নিয়ন্ত্রণ করে

উত্তর

১৮. করমণ্ডল উপকূলে শীতকালীন বৃষ্টিপাতের জন্য দায়ী বায়ুপ্রবাহ হল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

উত্তর

১৯. আঁধির প্রভাবে উন্নতা কমে

উত্তর শু

২০. ক্রান্তীয় জেট বায়ুর অপর নাম হল পুবালি জেট বায়ু

উত্তর শু

২১. ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রথম ঘটে মালাবার উপকূলে

উত্তর শু

২২. মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের সময় ভারতে নিম্নচাপ বিরাজ করে

উত্তর

২৩. বর্ষাকালে ভারতে উপক্রান্তীয় জেট বায়ুর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়

ত্তর

Mark – 2 প্রশ্ন উত্তর

১. পশ্চিমি ঝঞ্ঝাবলতে কী বোঝো ? [ অথবা], পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সংজ্ঞা দাও। [ ME-2022 ]

উত্তর পশ্চিমি ঝঞ্ঝা: শীতকালে সুদূর ভূমধ্যসাগর থেকে আগত নাতিশীতোয় ঘূর্ণবাতের প্রভাবে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে শীতকালীন আবহাওয়া বিঘ্নিত হয়ে যে মেঘলা আকাশযুক্ত হালকা ঝড়বৃষ্টি হয় এবং পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাত ঘটে, তাকেই পশ্চিমি ঝঞ্ঝা বলে।

নামকরণ: পশ্চিম দিক থেকে আগত হালকা ঝড়বৃষ্টি ভারতে শীতকালীন আবহাওয়াকে বিঘ্নিত করে বলে একে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা বলা হয়।

প্রভাব: পশ্চিমি ঝঞ্ঝা শীতকালীন রবি ফসলের বৃদ্ধিতে বেশ উপযোগী হয়। পার্বত্য অঞ্চলে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার জন্য তুষারপাত সংঘটিত হয়। এর প্রভাবে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

২. এল-নিনো কাকে বলে ?

উত্তর অর্থ: স্পেনীয় শব্দ El-Nino কথাটির অর্থ হল ‘দুষ্টু বালক’ বা ‘খ্রিস্টপুত্র’ ।

ধারণা: পূর্ব ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য-হেতু পেরু ও ইকুয়েডর উপকূলে উয় স্রোত প্রবাহিত হয়। এর ফলে সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে বন্যার সৃষ্টির হয়। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে উন্নতা বৃদ্ধির এই ঘটনাকে এল-নিনো বলে।

প্রভাব: এল-নিনোর প্রভাবে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর-সহ ভারত মহাসাগরের নিকটবর্তী ভূমিভাগে (ভারতে) খরার সৃষ্টি হয়।

৩. লা-নিনা কাকে বলে ?

উত্তর অর্থ: স্পেনীয় শব্দ La-Nina-র অর্থ হল ‘ছোট্ট বালিকা’ বা ‘শিশু মেরি’।

ধারণা: এল-নিনোর বিপরীত অবস্থা হল লা-নিনা। প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুচাপের স্বাভাবিক অবস্থায় অর্থাৎ, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে উচ্চচাপের অবস্থানের জন্য পেরু ও ইকুয়েডর উপকূল বরাবর শীতল সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়। এর ফলে সেখানে উন্নতা হ্রাস পেয়ে বৃষ্টিহীন অবস্থা বা খরার সৃষ্টি হয়। শীতল সমুদ্রস্রোতজনিত কারণে উন্নতা হ্রাস পাওয়ার এই ঘটনাকে লা-নিনা বলা হয়।

প্রভাব: লা-নিনার প্রভাবে ভারতে বন্যার সৃষ্টি হয়।

. ভারতের জলবায়ুর ওপর এল-নিনোর প্রভাব লেখো

উত্তর – ভারতের জলবায়ুর ওপর এল-নিনোর প্রভাবসমূহ : ভারতের জলবায়ুর ওপর এল-নিনোর প্রভাবগুলি হল –

() এল-নিনোর বছরে মৌসুমি বায়ু দুর্বল থাকে।

() বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ, মৌসুমি বায়ুর আগমনে যেমন বিলম্ব হয় তেমনই নির্ধারিত সময়ে আগে প্রত্যাবর্তন করে।

() বৃষ্টিপাতের আঞ্চলিক বণ্টনেও বেশ তারতম্য লক্ষ করা যায়। বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়।

() একটানা বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকার জন্য খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় 2004 ও 2006 খ্রিস্টাব্দে মৌসুমি বায়ু দুর্বল ছিল।

৫. ‘লু’ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর- ‘লু’ বায়ু: গ্রীষ্মকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে যে অতি উয় এবং শুষ্ক বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তাকে লু বলে।

বৈশিষ্ট্যসমূহ: এটি একটি স্থানীয় বায়ু, বায়ু 30-40 কিমি/ঘণ্টা বেগে শোঁশোঁ শব্দে প্রবাহিত হয়, বায়ুর উন্নতা 45°-50° সে. হয়।

প্রভাব: প্রতিবছর বহু মানুষ ও গবাদিপশু মারা যায়।

৬. আঁধি বলতে কী বোঝো ? [ অথবা], আঁধি কাকে বলে ?

উত্তর ধারণা: গ্রীষ্মকালে রাজস্থানের পশ্চিমাংশের মরু অঞ্চলে বিকালের দিকে যে ধূলিঝড় প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় আঁধি বলে।

বৈশিষ্ট্যসমূহ: আঁধি এক প্রকারের উন্ন, শুষ্ক ও ধূলিপূর্ণ স্থানীয় বায়ু। এই বায়ুর গতিবেগ ঘণ্টায় 50-60 কিমি হয়।

প্রভাব: আঁধি ঝড়ের প্রভাবে বায়ুর উন্নতা কিছুটা কমে যায়।

৭. আম্রবৃষ্টি কী ?

উত্তর আম্রবৃষ্টি: দক্ষিণ ভারতে বিশেষ করে কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরলে মার্চ থেকে মে মাসে সংঘটিত বিশেষ ঝড়বৃষ্টি আম্রবৃষ্টি নামে পরিচিত।

প্রভাব: এই বৃষ্টির ফলে আমের ফলন বৃদ্ধি হয়।

বিভিন্ন নাম: এই প্রকার বৃষ্টি কেরলে আম্রবৃষ্টি, কর্ণাটকে চেরি ব্লুসম (কফি চাষে সহায়তা করে) নামে পরিচিত ।

৮. কালবৈশাখী  কী ?

উত্তর কালবৈশাখী: পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, অসম প্রভৃতি রাজ্যে মার্চ-এপ্রিল মাসে স্থানীয় নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে যে প্রবল ঝড়বৃষ্টি সংঘটিত হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে।

নামকরণ: সাধারণভাবে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়বৃষ্টি প্রকৃতি ও মানুষের প্রভূত ক্ষতিসাধন করে বলে একে কালবৈশাখী বলে। অন্যদিকে এই ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসে বলে একে Norwester বলা হয়।

বৈশিষ্ট্যসমূহ: কালবৈশাখীর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

() এই ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ থাকে 50-90 কিমি/ঘণ্টা। এই ঝড়ের পর বায়ুর তাপমাত্রা 5°-10° সে পর্যন্ত কমে যায়।

() অসমে কালবৈশাখীকে ‘বরদৈছিলা’ বলা হয় ।

৯. আশ্বিনের ঝড় কী ?

উত্তর আশ্বিনের ঝড়: অক্টোবর-নভেম্বর মাসে অর্থাৎ, শরৎকালে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে সামুদ্রিক বায়ুর সংঘর্ষের ফলে বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়, যা সাইক্লোন নামে পরিচিত। এই ঘূর্ণিঝড় যখন সংলগ্ন স্থলভাগে এসে পৌঁছোয় তখন যে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়, তাকেই আশ্বিনের ঝড় বলে।

নামকরণ: পশ্চিমবঙ্গে আশ্বিন মাসে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয় বলে একে আশ্বিনের ঝড় বলা হয়।

প্রভাব: এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি ও বন্যার সৃষ্টি হয়।

১০. ভারতের কোন কোন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হয় ?

উত্তর ভারতের অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলসমূহ: ভারতের যে-সমস্ত অঞ্চলে 250-300 সেমি বৃষ্টিপাত হয়, সেগুলি হল ভারত: অসম, মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর প্রভৃতি। উত্তর-পূর্ব পশ্চিম-ঘাটের পশ্চিম ঢাল: পশ্চিমঘাট পর্বতের প্রতিবাত ঢাল অর্থাৎ পশ্চিম ঢাল সংলগ্ন অঞ্চল, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।

১১. ভারতের খরাপ্রবণ অঞ্চলগুলির নাম লেখো

উত্তর ভারতের খরাপ্রবণ অঞ্চলসমূহ: ভারতের যে-সমস্ত অঞ্চলগুলি খরাপ্রবণ সেগুলি হল মরুস্থলী সংলগ্ন অঞ্চল, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশ, গুজরাট, পশ্চিম কর্ণাটকের মালনাদ ও ময়দান মালভূমি, মালভূমি অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া , মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়া অঞ্চল, ছোটোনাগপুর প্রভৃতি।

১২. ভারতের বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলির নাম লেখো

উত্তর ভারতের বন্যাপ্রবণ অঞ্চলসমূহ: ভারতের অধিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলি হল (ক) উত্তর-পূর্ব ভারতের অসমের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা, (খ) বিহারের কোশী নদী অববাহিকা, যমুনা, ঘর্ঘরা নদী অববাহিকা, (গ) অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু উপকূল প্রভৃতি।

১৩. তামিলনাড়ু উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় কেন ?  [ অথবা], ভারতের করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় কেন ?

উত্তর – তামিলনাড়ু উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণসমূহ :

(ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের সময় বঙ্গোপসাগরীয় শাখার প্রভাবে বর্ষা ঋতুতে তামিলনাডু উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটে।

() ভারত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রত্যাবর্তনের সময় স্থলভাগ অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এবং তামিলনাড়ু উপকূলে এসে পৌঁছোলে সেখানে পূর্বঘাট পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পুনরায় বৃষ্টিপাত ঘটায়। তাই বলা যায় যে তামিলনাড়ু উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত ঘটায়।

১৪. মৌসুমি বিস্ফোরণ (Burst of Monsoon) বলতে কী বোঝো ?  [ অথবা] , মৌসুমি বিস্ফোরণের সংজ্ঞা দাও। [ ME-2017 ]

উত্তর মৌসুমি বিস্ফোরণ: গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে অধিক উন্নতার জন্য সৃষ্ট প্রবল নিম্নচাপের আকর্ষণে আর্দ্র জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতীয় উপদ্বীপের পশ্চিমঘাট পর্বতে সর্বপ্রথম বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আকস্মিকভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বর্ষণ – ঘটায়, একেই মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে।

সময়কাল: জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মালাবার উপকূলে মৌসুমি বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রভাবসমূহ: মৌসুমি বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে ভারতে বর্ষাকালের সূচনা হয়। হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাতের জন্য আঞ্চলিক-ভাবে বন্যার সৃষ্টি হয়।

১৫. ‘বৃষ্টিপাতের ছেদ’ বা ‘Break of Monsoon’ কাকে বলে ?

উত্তর বৃষ্টিপাতের ছেদ: বর্ষাকালে (জুলাই-আগস্ট) ভারতে হিমালয় পর্বতের পাদদেশে মৌসুমি ট্রাফ অবস্থান করে। এর ফলে হিমালয়ের পাদদেশ অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হলেও ভারতের বাকি অংশ মেঘ ও বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে। একেই বৃষ্টিপাতের ছেদ বা ‘Break of Monsoon’ বলে ।

১৬. মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তা বলতে কী বোঝায় ?

উত্তর মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তা: জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মৌসুমি বায়ু ভারতে প্রবেশ করে এবং সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই বায়ু ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে প্রত্যাবর্তন শুরু করে। কিন্তু অনেকসময় নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে মৌসুমি বায়ু ভারতে প্রবেশ করে কিংবা ভারত থেকে প্রত্যাবর্তন করে। আবার মৌসুমি বায়ুর অধিক সক্রিয়তার জন্য একটানা বৃষ্টি বা দুর্বলতার জন্য বৃষ্টিহীন অবস্থা লক্ষ করা যায়। মৌসুমি বায়ুর এই অস্বাভাবিক আচরণকেই মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তা বা খামখেয়ালিপনা বলা হয়।

প্রভাব: মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তার জন্য অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা ও অনাবৃষ্টির ফলে খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

Mark – 3 প্রশ্ন উত্তর

১. ভারতের জলবায়ুতে এল-নিনো ও লা-নিনার প্রভাব আলোচনা করো ।

উত্তর – ভারতের জলবায়ুতে এল-নিনোর প্রভাবসমূহ: প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য হেতু পেরু ও ইকুয়েডর উপকূলে উচ্চচাপের পরিবর্তে উয় স্রোতের প্রভাবে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, যা বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক অবস্থাকে বিঘ্নিত করে। একে এল-নিনো বলে। এর প্রভাব ভারতের জলবায়ুর ওপর পড়ে যেমন –

ভারতের জলবায়ুর ওপর এল-নিনোর প্রভাবসমূহ : ভারতের জলবায়ুর ওপর এল-নিনোর প্রভাবগুলি হল –

() এল-নিনোর বছরে মৌসুমি বায়ু দুর্বল থাকে।

() বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ, মৌসুমি বায়ুর আগমনে যেমন বিলম্ব হয় তেমনই নির্ধারিত সময়ে আগে প্রত্যাবর্তন করে।

() বৃষ্টিপাতের আঞ্চলিক বণ্টনেও বেশ তারতম্য লক্ষ করা যায়। বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়।

() একটানা বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকার জন্য খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় 2004 ও 2006 খ্রিস্টাব্দে মৌসুমি বায়ু দুর্বল ছিল।

ভারতের জলবায়ুতে লা-নিনোর প্রভাবসমূহ: লা-নিনা হল এল-নিনোর ঠিক বিপরীত অবস্থা। ভারতের জলবায়ুতে লা-নিনার প্রভাবগুলি হল –

() লা-নিনার সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বে সৃষ্টি হয় উচ্চচাপ এবং পশ্চিমে সৃষ্টি হয় গভীর নিম্নচাপ। এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু অধিক সক্রিয় হয়। এর ফলে ওই দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে মৌসুমি বায়ুরূপে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে সেই মৌসুমি বায়ুও অধিক সক্রিয় থাকে। এই বায়ুর প্রভাবে ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

() লা-নিনার বছরগুলিতে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের সংখ্যাও বেশি থাকে ।

২. মৌসুমি বায়ুর ওপর জেট বায়ুর প্রভাব ব্যাখ্যা করো। [পর্ষদ নমুনা প্রশ্ন]

[ অথবা ], ভারতের জলবায়ুতে জেট বায়ুর প্রভাব লেখো

[ অথবা ], ভারতে মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে জেট বায়ুর ভূমিকা লেখো

উত্তর মৌসুমি বায়ুর ওপর জেট বায়ুর প্রভাব: ভূপৃষ্ঠ থেকে 9-12 কিমি উচ্চতায় ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারে একটি প্রবল গতিসম্পন্ন বায়ু সংকীর্ণ আঁকাবাঁকা পথে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুকে জেট বায়ু বলে। ভারতে মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ক্ষেত্রে উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু এবং ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, নীচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল-

(ক) মৌসুমি বায়ুর আগমন (বর্ষাকাল) ও জেট বায়ু: 21 মার্চের পর সূর্যের উত্তরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে তিব্বত মালভূমি উত্তপ্ত হতে থাকে। এর ফলে তিব্বত মালভূমিতে শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপ কেন্দ্রের আকর্ষণে উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে উত্তরে সরে গিয়ে তিব্বত মালভূমির ওপর অবস্থান করে। তখন ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু ভারতের প্রায় মাঝবরাবর অবস্থান করে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল – (ক) উপক্রান্তীয় জেট বায়ু হঠাৎ উত্তরে সরে গেলে মৌসুমি বিস্ফোরণ প্রবল আকার ধারণ করে। (খ) উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু দ্রুত উত্তরে সরে গেলে ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ুর আগমনও তাড়াতাড়ি হয়। তার ফলে ভারতে মৌসুমি বায়ুও তাড়াতাড়ি প্রবেশ করে। (গ) যে বছরগুলিতে ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু দক্ষিণ দিক থেকে কর্কটক্রান্তিরেখার কাছাকাছি অবস্থান করে এবং সক্রিয়তা বাড়ে সেই বছরগুলিতে বৃষ্টিপাত ভালো হয়। কিন্তু ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ুটি আরও উত্তরে সরে গেলে সে বছর বৃষ্টিপাতের ছেদ ঘটে।

() মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমন (শীতকাল) ও জেট বায়ু : 23 সেপ্টেম্বরের পর সূর্যের দক্ষিণায়নের সময় ভারতীয় উপমহাদেশের উন্নতা ক্রমশ কমতে থাকে, এর ফলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হতে থাকে। এই সময় ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানকারী ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু বিলীন হতে থাকে। অন্যদিকে এই সময় উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ুটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়, যার একটি শাখা হিমালয়ের দক্ষিণে ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর অবস্থান করে। এই উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ুটি যত দক্ষিণে সরতে থাকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু ততই সক্রিয় হয় এবং ভারতে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে।

৩. হিমালয় পর্বতমালা কীভাবে ভারতীয় জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে ?

উত্তর ভারতের জলবায়ুর ওপর হিমালয় পর্বতের প্রভাবসমূহ: হিমালয় পর্বতের সুদূর বিস্তৃতি সমগ্র ভারতের জলবায়ুতে বিশেষ প্রভাব ফেলে। যেমন –

() প্রবল শৈত্যের হাত থেকে রক্ষা: মধ্য-এশিয়া থেকে আগত প্রবল ‘শীতল সাইবেরিয়ান বায়ু হিমালয় পর্বতের উত্তর ঢালে বাধা পায়। ফলে দেশবাসী প্রবল শৈত্যের হাত থেকে রক্ষা পায় ।

() বৃষ্টিপাতে সাহায্য: ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাধা পেয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য -জিম্মান কর করে।

() উচ্চতার প্রভাব: একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলগুলির থেকে অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত স্থানগুলি অধিক শীতলতাযুক্ত হয়। অর্থাৎ, হিমালয়ের অধিক উচ্চতায় তুষারপাত ঘটে।

৪. ভারতকে মৌসুমি বায়ুর দেশ বলা হয় কেন ? [ অথবা], ভারতকে মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয় কেন ?

উত্তর ভারতকে মৌসুমি বায়ুর দেশ বলার কারণসমূহ: ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রক হল মৌসুমি বায়ু। ভারতের ঋতুপরিবর্তন, বৃষ্টিপাত, উয়তা, নানান আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড মৌসুমি বায়ু দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। সেগুলি হল –

() ঋতুবৈচিত্র্য: মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ভিত্তিতে 4টি ঋতু পর্যায়ক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। যেমন- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের পূর্ব সময় বা গ্রীষ্মকাল, আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন কাল বা বর্ষাকাল, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমনের শুরু বা শরৎকাল, শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমনকাল বা শীতকাল।

() বৃষ্টিপাত: ভারতে বেশিরভাগ বৃষ্টিপাত (বার্ষিক 75-85 শতাংশ) মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঘটে থাকে।

() বিপরীতধর্মী বায়ুপ্রবাহ: ভারতে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয়। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়, যা ভারতের জলবায়ুতে বিপরীত-ধর্মী দুটি প্রধান ঋতুর সৃষ্টি করে।

() কৃষি ও অর্থনীতি: ভারতের কৃষিকাজ মূলত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত দেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলির বিকাশও পরোক্ষভাবে মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল।

৫. থর মরুভূমি সৃষ্টির কারণগুলি আলোচনা করো ?

উত্তর থর মরুভূমি সৃষ্টির কারণসমূহ: পশ্চিম ভারতে অবস্থিত থর মরুভূমি সৃষ্টির পিছনে নানান কারণ বিদ্যমান। সেগুলি হল নিম্নরূপ –

() জলীয় বাষ্পের অভাব: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিমাংশে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে কাম্বে ও কাথিয়াবাড় উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে জলীয় বাষ্পহীন হয়ে পড়ে। এরপর যখন তা রাজস্থানের নিকট আসে তখন জলীয় বাষ্পের অভাবে বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না।

() অত্যধিক উষ্ণতা: বালিময় থর মরুভূমিতে লম্ব বা প্রায় লম্ব সূর্যরশ্মির কারণে অত্যধিক উষ্ণতা বিরাজ করে। তাই জুলাই-আগস্ট মাসে কিছু পরিমাণ জলীয় বাষ্প এই স্থানে এসে পৌঁছোলেও অধিক উষ্ণতার কারণে তাও বাষ্পীভূত হয়ে যায়। অর্থাৎ, ঘনীভবনের সুযোগ থাকে না।

() আরাবল্লি পর্বতের অবস্থান: রাজস্থানের পূর্বে আরাবল্লি পর্বতের অবস্থান মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখার সমান্তরালে থাকায় তা পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয় না। ফলে বৃষ্টিরও সম্ভাবনা থাকে না।

. থর মরু অঞ্চলে উষ্ণতার প্রসর বেশি হওয়ার কারণ কী  ?

উত্তর – থর মরু অঞ্চলে উষ্ণতার প্রসর বেশি হওয়ার কারণ: থর মরুভূমি অঞ্চলে দৈনিক (দিনরাত্রি) উষ্ণতার প্রসর এবং বার্ষিক (শীত ও গ্রীষ্ম) উন্নতার প্রসর খুবই বেশি। এর কারণগুলি হল –

() ভূমির আবরণের প্রকৃতি: থর মরুভূমি অঞ্চলের ভূমিভাগ বালি দ্বারা আবৃত। এই বালিগঠিত ভূমিভাগ যেমন দ্রুত তাপ ধারণ করে উত্তপ্ত হয়, তেমনই দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে পড়ে। এজন্য দিনের বেলা বিশেষত গ্রীষ্মকালে দিনের উত্তাপ বেশি থাকে এবং রাত্রিবেলায় বিশেষ করে শীতকালীন রাত্রিতে সর্বনিম্ন উন্নতা বিরাজ করে।

() শুষ্ক বাতাস: মরু অঞ্চলের বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুবই কম বা থাকে না বললেই চলে। যেহেতু জলীয় বাষ্প তাপ ধারণ করে, সেহেতু বায়ুর উন্নতা নিয়ন্ত্রণে জলীয় বাষ্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু মরু অঞ্চলের বাতাস শুষ্ক হওয়ায় উন্ন ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে দ্রুত শীতল হয়ে পড়ে।

() মেঘমুক্ত আকাশ: বছরের বেশিরভাগ সময় মরু অঞ্চলের আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় ভূপৃষ্ঠ দিনের বেলায় তাড়াতাড়ি উত্তপ্ত হলেও রাত্রিবেলায় দ্রুত সেই তাপ বিকিরিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়।

. ভারতে বন্যার কারণগুলি আলোচনা করো

উত্তর ভারতে বন্যা সৃষ্টি হওয়ার কারণসমূহ: মৌসুমি জলবায়ু অধ্যুষিত ভারতে বন্যার বিভিন্ন কারণগুলি হল –

() ভারী বৃষ্টি: বর্ষাকালে অধিক সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েক ঘণ্টা মুশলধারে বৃষ্টি হলে বন্যার সৃষ্টি হয়।

() একটানা বৃষ্টি: সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বেশ কিছুদিন যাবৎ একটানা মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত সংঘটনের ফলেও বন্যার সৃষ্টি হয়। সীমাখ্যাকে দিয়ে চাট।

() মৌসুমি বায়ুর অগ্রিম আগমন: যে-সমস্ত বছরে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারতে মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটে, সেই বছরগুলিতে বন্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

() বর্ষাকালের অধিক স্থায়িত্ব: যে-সমস্ত বছরে বর্ষাকালের সময়-সীমা বেশি হয় সেই বছরে বন্যার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

() নদীর গভীরতা হ্রাস: নদীগর্ভে পলি জমে নদীর ধারণক্ষমতা হ্রাস পেলে বর্ষাকালীন অধিক বা স্বল্প বৃষ্টিপাতেই বন্যার সৃষ্টি হয়।

() জলাধার থেকে জল ছাড়া: বর্ষাকালে নিম্নচাপের সময় একটানা বৃষ্টিপাত হলে নদীবাঁধের জল ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে হঠাৎ জলপ্রবাহ বেড়ে গিয়ে নদীর নিম্নপ্রবাহে বন্যার সৃষ্টি করে।

. ভারতের খরা সৃষ্টির কারণগুলি লেখো

উত্তর ভারতে খরা সৃষ্টির কারণসমূহ: ভারতে খরা সৃষ্টির বিভিন্ন কারণগুলি হল –

(ক) মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তা : আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনে বিলম্ব বা নির্ধারিত সময়ের আগেই তা যদি প্রত্যাবর্তন করে সেক্ষেত্রে খরা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

() বৃষ্টিপাতের বণ্টন: মৌসুমি বৃষ্টি সব জায়গায় সমান পরিমাণে না হলে খরা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে ।

() বিশ্ব উষ্ণায়ন: বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য বায়ুর উন্নতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যায়ক্রমিক ঋতুর স্থায়িত্বকালের হেরফের ঘটছে, যার ফলে অনাবৃষ্টির সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়েছে।

() জলধারণ ক্ষমতা: অঞ্চলভেদে মাটির জলধারণ ক্ষমতার তারতম্যের জন্যেও খরা লক্ষ করা যায় ।

() একটানা বৃষ্টিহীন সময়: বর্ষাকালের সময় একটানা কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টিপাত না হলে খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

() ভৌমজলস্তর হ্রাস: কৃষিকার্য, শিল্পকার্যে অধিক ভৌমজল ব্যবহারের ফলে ভৌমজলস্তর নেমে যাওয়ায় খরার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন –

ভারতের জলসম্পদ প্রশ্ন উত্তর

ভারতের ভূপ্রকৃতি প্রশ্ন উত্তর

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রশ্ন উত্তর

বারিমন্ডল অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রশ্ন উত্তর

বায়ুমন্ডল অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

জ্ঞানচক্ষু গল্প প্রশ্ন উত্তর

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment